তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতি-সচেতন সমাজমনস্ক লেখক। জনজীবনের প্রতি তাঁর গভীর মনোযোগ। জীবনকে তিনি পর্যবেক্ষণ করেন ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে মনে রেখে।এজন্যই নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চল বা ভৌগোলিক পরিসীমা বিশেষ তাৎপর্য পায় তাঁর লেখায়। অঞ্চলকে কেন্দ্র করেই মানুষ আঞ্চলিকতাকে অতিক্রম করে। বিশেষকে ধারণ করেই হয়ে ওঠে নির্বিশেষ। ভিন্ন ভিন্ন ভৌগোলিক বাস্তবতায় বেড়ে উঠলেও মানুষ হিসেবে সব জনগোষ্ঠীর মধ্যেই সাধারণ কিছু মনোবৃত্তি অনুভব অনুভূতি থাকে যাকে কোনো ভৌগোলিক সাংস্কৃতিক আবেষ্টনী দিয়েই পৃথক করা যায় না। রক্ত-মাংসের মানুষের নারী-পুরুষের পারস্পরিক প্রেমানুভূতি তেমনি একটি দেশ-কাল-সংস্কৃতি নিরপেক্ষ শাশ্বত বিষয়। এই প্রেম শিল্প-সাহিত্যে যুগে যুগে নানাভাবে রূপায়িত হয়েছে আজো হচ্ছে চিরদিন হবে। মানুষ যতদিন থাকবে। মানুষের বহির্গত সামাজিক সত্য পরিবর্তিত হয় হৃদয়গত সত্য অন্তর্গতভাবেই ধ্রুব। তাই যত পুরোনো হোক কানু বিনা গীত নাই। ব্যতিক্রমী বেদে সম্প্রদায়ের বিরল জীবনের কথা হলেও শেষ পর্যন্ত 'নাগিনী কন্যার কাহিনী' প্রেমের উপন্যাস।নাগু ঠাকুরের মধ্য দিয়ে এক বীর প্রেমিককেই অঙ্কন করেছেন তারাশঙ্কর। বেদে জীবনের আচার, ব্যবহার, বিশ্বাস, ধর্ম প্রভৃতিসহ সম্পূর্ণ জীবনকেই তুলে ধরেছেন তারাশঙ্কর তাঁর উপন্যাসে। যেখানে মুখ্য হয়ে দেখা দিয়েছে গোষ্ঠীপতি শিরবেদের শাসন ও বিষহরির সেবায় উৎসর্গিতা নাগিনী কন্যার দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে প্রেমকে কেন্দ্র করে। নর-নারীর চিরন্তন জৈবিক আকাঙ্ক্ষায় আবদ্ধ যে প্রেম। শিরবেদে মহাদেব ও গঙ্গারাম, নাগিনী কন্যা শবলা ও পিঙলা, নাগু ঠাকুর প্রমুখকে কেন্দ্র করে প্রেমময় এক অন্য রকম দুঃখের গল্প তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় শুনিয়েছেন 'নাগিনী কন্যার কাহিনী' উপন্যাসে।
Tarashankar Bandyopadhyay (Bangla: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়) was born at his ancestral home at Labhpur village in Birbhum district, Bengal Province, British India (now West Bengal, India). He wrote 65 novels, 53 story-books, 12 plays, 4 essay-books, 4 autobiographies and 2 travel stories. For his novel Arogyaniketan, he received the Rabindra Puraskar in 1955 and the Sahitya Akademi Award in 1956. In 1966, he received the Jnanpith Award for his novel গণদেবতা. He was honoured with the Padma Shri in 1962 and the Padma Bhushan in 1969.
Tarasankar is one of those writers of the third decades of the twentieth centuries who broke the poetic tradition in novels but took to writing prose with the world around them adding romance to human relationship breaking the indifference of the so called conservative people of the society who dare to call a spade a spade. Tarasankar’s novels, so to say, do not look back to the realism in rejection, but accepted it in a new way allowing the reader to breathe the truth of human relationship restricted so far by the conservative and hypocrisy of the then society.
He learned to see the world from various angles. He seldom rose above the matter soil and his Birbhum exists only in time and place. He had never been a worshipper of eternity. Tarasankar’s chief contribution to Bengal literature is that he dared writing unbiased. He wrote what he believed. He wrote what he observed.
His novels are rich in material and potentials. He preferred sensation to thought. He was ceaselessly productive and his novels are long, seemed unending and characters belonged to the various classes of people from zaminder down to pauper. Tarasankar experimented in his novels with the relationships, even so called illegal, of either sexes. He proved that sexual relation between man and women sometimes dominate to such an extent that it can take an upperhand over the prevailing laws and instructions of society. His novel ‘Radha’ can be set for an example in this context.
His historical novel ‘Ganna Begum’ is an attempt worth mentioning for its traditional values. Tarasankar ventured into all walks of Bengali life and it’s experience with the happenings of socio-political milieu. Tarasankar will be remembered for his potential to work with the vast panorama of life where life is observed with care and the judgment is offered to the reader. and long ones, then any other author. He is a region novelist, his country being the same Birbhum. He mainly flourished during the war years, having produced in that period a large number of novels and short stories.
উপন্যাসটা মূলত বিষ-বৈদ্যদের জীবনযাত্রা নিয়ে লেখা। তার সাথে আছে লিজেন্ডারি বেহুলা, মনসা আর চাঁদ বেনের কাহিনী, যার অভিশাপের কারণে এই বিষবেদেদের সাঁতালীর গ্রামে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। কাহিনী কিংবা চরিত্রায়নের থেকে বইটি পারিপার্শ্বিক বর্ণনা নির্ভর বলা চলে। শুরুটা বেশ ধীরগতির। মাঝের দিকে একটু চঞ্চলতা লক্ষ্য করা গেলেও শেষের দিকে এসে তা আবার গতি হারায়। মূলত তেমন কাহিনী নির্ভর না হওয়ায় এই অবস্থা। ব্যস এটুকুই। যাদের এসব ব্যাপারে আই মিন বিষবেদেদের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতির ব্যাপারে জানার আগ্রহ আছে বইটা মূলত তাদের জন্য। তাছাড়া তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর লেখা নেহাত মন্দ নয়। আমার এদিকে আগ্রহ কম থাকায় ২ তারা।
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ বইটির এখানেও সাপ, ওখানেও সাপ, উপরে সাপ, নিচে সাপ, মাটিতে সাপ, পানিতে সাপ, হাওয়াতেও সাপ -_- সুতরাং, হে মানব যদি থাকে সর্পতে ভয় নাগিনী কন্যার কাহিনী আপনার জন্য নয়🐸
ভাগীরথির কোল ঘেষে হিজলের বিল।আক্ষরিক অর্থেই সেটি শ্বাপদসংকুল, সেখানে জলে কুমীর, ডাঙায় বাঘ। কিন্তু সেখানে বাঘ-কুমিরও এক ঘাটে জল খায় আরেকটি জিনিসের ভয়ে-সাপ। কালকেউটে, গোখরা, শঙ্খচূড় থেকে শুরু করে হেন কোনো সাপ নেই সেখানে পাওয়া যায় না।
এই সাপের অভয়ারণ্যেই বুক চিতিয়ে চলে একদল লোক। তারা জাতে বেদে- আরেকটু নির্দিষ্ট করে বললে বিষবৈদ্য। সাপের বিষ বিক্রি করাটাই তাদের পেশা, সেই বিষ থেকে তৈরি হয় অমৃতসঞ্জীবনী সূচিকাভরণ। কিন্তু এই পান্ডববর্জিত বনে এই বৈদ্যরা এলো কোত্থেকে? লখিন্দরের বাবা চাঁদ সওদাগরের অভিশাপেই তাদের এই নির্বাসন, সেও আরেক চমক লাগানো কাহিনি।
তারাশঙ্করের নাগিনী কন্যার কাহিনি সেই বিষবৈদ্যদের নিয়েই লেখা। হাঁসুলি বাঁকের উপকথায় যেমন কাহারদের এঁকেছেন পরম মমতায়, তেমনি এই উপন্যাসে বিষবৈদ্যরা যেন হিজলের বিল থেকে উঠে এসেছে রক্তমাংসের মানুষ হয়ে। তাদের জীবন এই রঙিন চশমা চোখে পরাবাস্তব কোনো কাহিনি বলে ভ্রম হয়।
সবকিছু মিলিয়েই উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের ধ্রুপদী উপন্যাসগুলোর একদম শুরুতে ঠাঁই করে নেওয়া উচিত ছিল। যেমন রহু চণ্ডালের হাড়ে অভিজিৎ সেন লিখেছেন বাজিকরদের নিয়ে। অতদূর যেতে হচ্ছে কেন, হাঁসুলি বাঁকের উপকথায় যে অপার মমতা, সেটা বোধহয় এখানে একটু কম। লেখক পারিপার্শ্বিকতা চিত্রায়নে যতটা সফল, চরিত্রগুলোকে যেন একটু অবহেলাই করেছেন। ইতিহাস বা পুরান যেভাবে এসেছে, বেদেদের আনন্দ-বেদনা যেন ঠিক ততটা বিমূর্ত হয়নি।
আমি যে সমগ্রের মধ্যে পড়েছি উপন্যাসটা সেখানে নাম "নাগিনী কন্যা"! আমার কাছে এ নামটাই বেশি ভাল লেগেছে কারণ বইতে একজন নয়, দুইজন নাগিনী কন্যার কথা বলা হয়েছে। আমি সাপ একেবারেই সহ্য করতে পারিনা। এই শব্দ পড়লে, এদের ছবি দেখলেই গা শিরশির করে, তাই আমার জন্য এ উপন্যাসটা পড়া একপ্রকার চ্যালেঞ্জ ছিল। যেভাবে বলেছে গাছের উপর থেকে সাপ গায়ে পরে তেমন মনে হচ্ছিল আমার জানলার গ্রিলে সাপ ঝুলছে! (আসলে ব্রডব্যান্ড এর তার)। বেদেদের মধ্যেও অনেক প্রকারভেদ আছে, উঁচুনিচু ভাল খারাপ আছে, অথচ অন্যদের কাছে তারা সবাই ই অচ্ছুত! প্রথমদিকে খুব একটা আগ্রহ পাচ্ছিলাম না পড়তে, কাহিনীর খেই হারিয়ে ফেলছিলাম কিন্ত পড়ার পর বুঝলাম কেন এটা শ্রেষ্ঠ উপন্যাস সমগ্রে স্থান পেয়েছে!
লাচো লাচো আমার কালনাগিনী কন্যে গ! অ–গ! দুষ্কু আমার সোনা হইল তু মানিকের জন্যে গ! অ–গ! কদমতলায় বাজে বাঁশি রাধার মন উদাসী গ! অ–গ! কালীদহে কালনাগিনী উঠল জলে ভাসি গ! অ–গ! মোহন বংশীধারীর আমার লয়ন মন ভোলে গ! অ–গ! ঝাঁপ দিল কালো কানাই রাধা রাধা বলে গ! অ–গ!
সাঁতালি গাঁয়ের বিষ-বেদেরা এমনই সব উপাখ্যান বলে। শুধু কি বলে? নাকি সুঁচ সুতায় মালা গাঁথার মতো তাঁদের জীবনও এমন এক উপাখ্যানের সঙ্গে গেঁথে দেওয়া? সেই সাঁতালি গাঁয়ের বিষ-বেদেরা যাঁরা নাকি চাঁদ সওদাগরের অভিশাপে অভিশপ্ত হয়ে বসতি স্থাপন করেছিলো হিজলবিলের পাশেই সাঁতালী গাঁয়ে।
সাঁতালীতে কিভাবে বিষ-বেদেরা এসে বসতি স্থাপন করেছিলো সেই কথাই পৌরাণিক কাহিনীর সঙ্গে গেঁথে দিয়ে রচনা হয় গল্পের আখ্যানভাগ৷ সারা বইয়েই বেদেদের কথা, তাঁদের জীবনকে যাপনের কথা, আচার-অনুষ্ঠানের কথা—সবই পৌরাণিক কাহিনীর সাথে মিশে একাকার হয়ে গেছে। তা আলাদা করার কোনো উপায় নেই। আলাদা করার চেষ্টা করলে হয়তো বেদেদের জীবনটাই অস্বীকার করা হবে।
সাঁতালীর বিষ-বেদেদের বেঁচে থাকার পিছনের কথা যেন অজানা সঙ্গীতের আবহের মতো; যা এক ক্ষীণ আওয়াজে মধুর সুরে সারা বই জুড়েই কানে গুনগুনিয়ে সুর তুলে। এছাড়াও গল্পের প্রথমে আছে হিজলবিলের বর্ণনা; যে বর্ণনা কখনো গা শিউরানো, কখনো প্রাকৃতিক চিত্রে মনমুগ্ধ করা আবার কখনো বা ছবির মতো চোখের সামনে চিত্রপটে ভেসে উঠা পরিচিত কোনো জায়গা।
ভাগরথীর কূলে হিজল বিলের পাশে মা-মনসার আটনের পাট অঙ্গনে সাঁতালী গাঁয়ের চারিপাশেই কালনাগিনীর বাসভূমি৷ সেই বাসভূমিতেই বিষ-বেদেরা বসবাস করে। এই বিষ-বেদেদের দুইজন নাগিন কন্যার কাহিনিই কখনো শিবরাম, কখনো প্রথম নাগিন কন্যা শবলা আবার কখনো বিষ-বেদেদের দ্বিতীয় নাগিন কন্যা পিঙলার মাধ্যমেই বলা হয়েছে৷ লেখকও তার মধ্যে তৃতীয় পক্ষের কাজ চালিয়েছেন।
গল্পটা সুন্দর। তারপরেও বারবার মনে হয় কি যেন নেই, কি যেন নেই! সেই "নেই" এর অভাব কখনো খুব চোখে লাগে, আবার কখনো মনে হয়, সবই ঠিকঠাক আছে, কোনো কিছুর অভাবটা যেন চোখে ভ্রান্ত ধারণার মতো। কিন্তু—তারাশঙ্করের অন্য মাস্টারপিস পড়লে আমার মতো নগন্যজনের ঠিকই মনে হতে পারে যে, অন্য বইয়ের সাথে তফাত আছে বটে। কিন্তু— সেই তফাতটা যে কি সেটা আমি চিনেপুঁটি আর কিবাই বুঝি। জ্ঞানিগুণিরা হয়তো ভালো জানেন। আমার চোখে যেটুকু ভালো লাগেনি তাই বলব: সমলোচনা করার মতো ধৃষ্টতা বা জ্ঞান আমার কোনোটাই নেই।
লেখক বর্ণনাকে বোধহয় মূখ্যভাবে দেখেছেন; কাহিনি তাই কখনো ছুটে গিয়েছে কলম থেকে। কাহিনি পরিবেশনে কেমন ছাড়াছাড়া ভাব লেগেছে; যার দরুণ চরিত্রগুলো কেমন পরিপূর্ণ হয়ে ফুঠে উঠতে পারেনি৷ বেদেদের জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-আনন্দ আর বেদনার কথা তারাশঙ্করের কলম থেকে আরো বেশিই আশা করেছিলাম। কিন্তু—সেটা হয়নি। শেষমেষ কাহিনির কলমটা একটু থমকে দাঁড়ালেও চরিত্রগুলোর পরিণতি ভিতরে এত ধাক্কা দেয় না। নাগিনী কন্যার শেষ পরিণতির কারণটা আরো জোড়ালো হতো যদি কাহিনির বাঁধনটা আরেকটু শক্ত করে বাঁধা যেত; এবং বই শেষ করার পর ভিতরে হয়তো একটা আফসোসের মতো কাজ করত। কিন্তু— সেটাও ���য়নি৷ সেটার কারণ হয়তো, উপরে ওই একটু বেশি চাওয়াই৷
"নাগিনী কন্যা আর আসবে না, মুক্তি পেয়েছে, আর তো সাঁতালীতে থাকবার অধিকার নাই। সাঁতালীর কথা শেষ, নাগিনী কন্যার কাহিনী শেষ। —যে শুনিবা সি যেন দু ফোঁটা চোখের জল ফেলিও! "
প্রতিটি মানবাত্মা মুক্তি অভিলাষী। তাই তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের "নাগিনী কন্যার কাহিনী" তে নাগিনী কন্যাদের মুক্তি অভিলাষ মনকে উতলা করে। উপকথা, ব্রতকথা, সংস্কার যে কন্যাদের জীবনকে বেড়ার মধ্যে বেঁধে রাখার চেষ্টায় রত, সেই বেড়া ভাঙ্গার আকুল আর্তি হৃদয়ে জ্বালা ধরায়।
বইয়ের ভিত্তি কিংবদন্তী। লেখনী আর কাহিনীতে মিস্টিসিজম মিশে একাকার হয়ে গেছে, অতি বাস্তব ঘটনাগুলোও অলৌকিক-অসম্ভব বলে মনে হয়। নাগিনী কন্যা পরিপূর্ণতা পেয়েছে প্রায় পৌরাণিক প্রেম কাহিনীর মাঝে।
নাগিনী কন্যার কাহিনী সুন্দর একটি বই। কিন্তু আমি কিছু বুঝিনি। বুঝিনি বলতে, সাপ, বৈদ্য, তাদের জীবন ব্যবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞতার ধরুন আমি কিছু ব্যাপার বুঝে উঠতে পারিনি। বেদেদের প্রধান ধর্ম সাপ ধরা এবং বিষ বের করে বিক্রি করা শুধু এই টুকু জ্ঞান নিয়ে এই বই বোঝা মুশকিল। শ্বাপদসংকুল বিপদে মোড়ানো সৌন্দর্য দিয়ে ঘেরা বইটি।
এর মাঝে বেদেদের জীবন ব্যবস্থা, তাদের মাঝে থাকা দেব-দেবীর পূর্জা, অর্ন্ত-কোন্দল, অন্ধ বিশ্বাস ফুটে তোলার চেষ্টা করেছেন তারাশঙ্কর। তাদের মাঝে থাকা মা মনসার মনোনীত নাগিনী কন্যা থাকে। যার কাছে সব সাপ মাথা নত করে। সমাজব্যবস্থায় নারীর অবস্থান, তাদের সাথে পুরুষের চির শত্রুতা, তাদের ভোগ করার আকাঙ্খা ও প্রকাশ পায়।
এছাড়া, বিষ বিক্রি করে তারা যে পয়সা আয় করছে তাও যেন বিরাট ধাঁধা বইটিতে। কবিরাজ মশায়ের চরিত্রে যেন বাঙলার প্রেমিকের রূপ মাঝে মাঝে প্রত্যক্ষ হয়। তিনি যেন নাগিনী কন্যার প্রেমে পড়েছেন, আবার মনে হয় তিনি কিছুই বুঝতে দিতে চান না। তাদের কুসংস্কার গুলো জানেন কিন্তু প্রকাশ করতে ভয় পান।
চরিত্রের মাঝে যে দ্বন্দ্ব তারাশঙ্কর সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। কাহিনী বিস্তার এতটা চমকপ্রদ না হলে বেদে জাতির একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা তুলে ধরতে তিনি সক্ষম হয়েছেন। যেমনটি তিনি হাঁসুলি বাঁকের উপকথায় তুলে ধরেছেন। তিনি বেদে জাতির জীবনটা দেখেন নি শুধু উপলব্ধি করে লিখেছেন নিজের ভাষার প্রখরতায়।