রওশন জামিল বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন লেখালেখির করার অনুপ্রেরণা। জীবনে প্রথম লেখা ক্লাস ফাইভে। স্কুল ম্যাগাজিনে। এর পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আবার শুরু পত্রিকায় রিপোর্ট/ফিচার লেখার মধ্যদিয়ে, যখন তিনি মাস্টার্সে পড়েন। লেখালেখির পাশাপাশি তার আরো একটা পেশা আছে সেটা হলো সাংবাদিকতা। স্ত্রী গৃহিণী, দুই সন্তানের জনক তিনি। বড় ছেলে ও ছোট মেয়ে নিয়ে তার পরিবার।
সেবা প্রকাশনীতে তার প্রথম বই বই প্রকাশিত হয় কাজীদার সাথে যৌথ ভাবে ১৯৮৫ সালের জুন মাসে দাগী আসামী-১ দিয়ে। পরবর্তিতে দুইটি কিশোর ক্লাসিক হাকলবেরি ফিন প্রকাশিত হয় ফেব্রয়ারী ১৯৮৬ এবং দ্বিতীয়টি দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সী নভেম্বর ১৯৮৭তে প্রকাশিত হয়। এছাড়া শিশু ক্লাসিক পিটারপ্যান-ও তিনি লিখেন ১৯৮৯ সালে।
তিনি ছিলেন ওয়েস্টার্ন সিরিজে একজন সফল লেখক। প্রথম ওয়েস্টার্ন বই "ফেরা" প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। ওসমান পরিবার এবং সাবাডিয়া নামের সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। সেবা প্রকাশনীতে তার একক ভাবে ৩৫টিরও বেশি ওয়েস্টার্ন বই বের হয়।
১৯৯৪ সাল পর্যন্ত নিয়মিত লিখলেও সে বছর আমেরিকায় প্রবাসী হলে বিরতিতে চলে যান তিনি। তবে সাবাডিয়ার ফেরা, না-ফেরা বই এর মধ্য দিয়ে তিনি আবার লেখায় ফিরেন ২৪ বছর পর ২০১৮ সালে। আর এর আগে ২০১২ সালের ঈদসংখ্যা ইত্তেফাকে ওসমান পরিবারকে ফিরিয়ে আনেন "সেই ওরিন ওসমান" নামে একটি উপন্যাসিকার মাধ্যমে।
মন একদমই ভরেনি। মূল বইয়ের নাম 'দ্য ডার্টি ডজেন'। সেখানে কী অবস্থা জানি না, তবে দাগী আসামীতে যে ১২ জন কয়েদী, তাদের কারো সাথেই মানসিক যোগাযোগ গড়ে ওঠেনি। আসল বই থেকে সংক্ষেপিত করার কারণেই কিনা, তা বলা যাচ্ছে না।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। বিভিন্ন রণাঙ্গনে ভয়ঙ্কর সব অ্যাসাইনমেন্টে অসামান্য কৃতিত্বের পরিচয় দিচ্ছে দুর্ধর্ষ এক বাঙ্গালী যুবক। একের পর এক ছিনিয়ে আনছে সাফল্য। এ যুদ্ধ শেষ হবে, ভারত ছাড়বে ইংরেজ, তারপর মনপ্রাণ ঢেলে দেশ গড়বে, এই আশায়। হঠাৎ একদিন হাতে একটি দ্বায়িত্ব পেলেন। কোর্টমার্শালে সাজা পাওয়া বারোজন দাগী আসামীকে স্যাবোটাজে দক্ষ করে তুলতে হবে। জার্মান এলাকায় ঢুকবে তারা, ইনভেশনের ঠিক আগ মুহুর্তে পেছন থেকে হামলা চালিয়ে নাজি বাহিনীকে হকচকিয়ে দেবে। এতে করে আসল কাজটা পানির মতো সোজা হয়ে যাবে। কাজটা খুবই বিপজ্জনক, অথচ ইনভেশনের স্বার্থে জরুরি।
এ রকম দাগী আসামীদের নিয়ে কাজ করা মোটেও সহজ না। আর তারা যদি এ কাজে রাজি না হয়। অবশেষে মেজর রাহাত সবাইকে রাজি করাল। বলা হল এ কাজে অংশ নিলে ওদের ক্ষমা করা দেওয়া হবে। বিভিন্ন ভাবে তাদেরকে ট্রেনিং করানো হল। সেখানে রয়েছে নানান রোমাঞ্চ। কেউ কেউ পালিয়ে যেতে চাইল। এমন কাহিনী নিয়েই এ গল্পের শুরু।