What do you think?


কাশবনের কন্যা
গ্রামীণ বাংলার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, হাসিকান্না, স্বপ্নকে উপজীব্য করে উপন্যাস।
224 pages, Hardcover
First published January 1, 1954
About the author
Shamsuddin Abul Kalam
8 books8 followersShamsuddin Abul Kalam, was a Bangladeshi Bengali author, newspaper editor, and actor. He is well-known for his novels depicting the lives of rural communities. Abul Kalam was born in 1926 in Kamdevpur village under Nolsiti Thana in Barisal district. He graduated from Calcutta university. He participated in the Indian liberation movement. Shamsuddin Abul Kalam was also an actor and filmmaker. Rome University awarded Abul Kalam the DLitt degree. He was also awarded a diploma on cinema from the Experimental Centre of Cinematography in Rome. From 1959, he made his home in Rome, and lived there until his death in 1997. He was honoured with the Bangla Academy award for his literary works in 1994.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 9 of 9 reviews
August 30, 2017
শামসুদ্দীন আবুল কালাম কাশবনের কন্যার গল্প বলতে গিয়ে কীসব শোনালেন তাই ভাবছি।
শেষটায় কেমন শূন্যতার সৃষ্টি করলেন পাঠকমনে।
হ্যা,আঞ্চলিকতার গন্ডির এই কথকথা গাতক কানু শিকদারের আর তার সুহৃদ হোসেন হাওলাদারের। কিন্তু দু'জনের কথা বলেই তো আর ২৫০ পৃষ্ঠার উপন্যাস শেষ করে দেন নি ঔপন্যাসিক।
গ্রামীণ নিম্নবর্গের মানুষদের ঘিরেই কাহিনী। শখের গাইয়ে কানু শিকদারের রক্তেই গানের সুর। তার বাবা জয়জামালী, দাদা করমআলী তো বাউল ছিলেন।দাদা করমআলীর স্মৃতিকে ভুলতে পারে না গৃহে থেকেও সন্ন্যাসী কানু। তার এই সংসারবিমুখতার কারণ স্রেফ গানের নেশা নাকী আরো কিছু?
কানুর পরমজন হোসেন। তার চালচুলো নেই। অন্নের সংস্থান জোটাতেও প্রাণান্ত। ঘাটের মাঝি হোসেন স্বভাবে শিকদারের ঠিক উল্টো। সে গৃহকাতর, সংসারধর্মে সদা মনোযোগী পুরুষ। তার মন টানে গঞ্জেআলীর ষোড়শী সখিনার প্রতি। সে স্বপ্ন দেখে সখিনাকে নিয়ে। কিন্তু স্বপ্নালু হোসেনকে ফাঁকি দিয়ে সখিনার বিয়ে হয়ে যায়।হতাশ হোসেনের ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় কী? এসময়ে তার জীবনে আসে ঘাটের মৃত মাঝি ছবদারের কন্যা মেহেরজান। সে কী পাবে বিবাহিত মেহেরজানকে?
কানু বিনে গীত নাই। গাতক কানুর গীতের সুরের প্রেরণা জোবেদা। এই জোবেদার জন্য কানু সংসারি হতে পারল না। এদিকে আসগরউল্লার ঘরেও শান্তিতে নেই জোবেদা। শাশুড়ি আর স্বামীর যন্ত্রণায় তার জীবন দুর্বিষহ। সে এই জীবন থেকে কিন্তু চায়, ফিরে পেতে চায় কানুকে।
আপাতদৃষ্টে, সুন্দর শান্তিময় গ্রামীণ জীবনের ছবি এঁকেছেন শামসুদ্দীন আবুল কালাম। এই ছবিতে চিরায়ত গ্রামের কথা আছে, গ্রাম বাংলার মানুষদের দুঃখ দারিদ্রের মাঝেই খুঁজতে চেয়েছেন দুই জুটির ভালোবাসার গল্পকে। আর শেষতক পাঠককে অপেক্ষা করিয়েছেন জানতে কে এই "কাশবনের কন্যা"।
বাড়তি প্রাপ্তি হিসেবে রয়েছে প্রাণজুড়ানো সব গ্রাম্য গীত।
আর হ্যা,এই বইয়ের কাহিনীকে যেন অনর্থক টেনে বাড়িয়েছেন ঔপন্যাসিক। অনেক সংলাপ,ঘটনা নিতান্তই অপ্রাসঙ্গিক লেগেছে আমার কাছে। কানুর জীবনবোধ কে উপস্থাপন ততটা গভীরভাবে অন্তরকে ছুঁয়ে দিতে পারেনি-পাঠক হিসেবে এটুকু আক্ষেপের কথা আমি বলতেই পারি।
শেষটায় কেমন শূন্যতার সৃষ্টি করলেন পাঠকমনে।
হ্যা,আঞ্চলিকতার গন্ডির এই কথকথা গাতক কানু শিকদারের আর তার সুহৃদ হোসেন হাওলাদারের। কিন্তু দু'জনের কথা বলেই তো আর ২৫০ পৃষ্ঠার উপন্যাস শেষ করে দেন নি ঔপন্যাসিক।
গ্রামীণ নিম্নবর্গের মানুষদের ঘিরেই কাহিনী। শখের গাইয়ে কানু শিকদারের রক্তেই গানের সুর। তার বাবা জয়জামালী, দাদা করমআলী তো বাউল ছিলেন।দাদা করমআলীর স্মৃতিকে ভুলতে পারে না গৃহে থেকেও সন্ন্যাসী কানু। তার এই সংসারবিমুখতার কারণ স্রেফ গানের নেশা নাকী আরো কিছু?
কানুর পরমজন হোসেন। তার চালচুলো নেই। অন্নের সংস্থান জোটাতেও প্রাণান্ত। ঘাটের মাঝি হোসেন স্বভাবে শিকদারের ঠিক উল্টো। সে গৃহকাতর, সংসারধর্মে সদা মনোযোগী পুরুষ। তার মন টানে গঞ্জেআলীর ষোড়শী সখিনার প্রতি। সে স্বপ্ন দেখে সখিনাকে নিয়ে। কিন্তু স্বপ্নালু হোসেনকে ফাঁকি দিয়ে সখিনার বিয়ে হয়ে যায়।হতাশ হোসেনের ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় কী? এসময়ে তার জীবনে আসে ঘাটের মৃত মাঝি ছবদারের কন্যা মেহেরজান। সে কী পাবে বিবাহিত মেহেরজানকে?
কানু বিনে গীত নাই। গাতক কানুর গীতের সুরের প্রেরণা জোবেদা। এই জোবেদার জন্য কানু সংসারি হতে পারল না। এদিকে আসগরউল্লার ঘরেও শান্তিতে নেই জোবেদা। শাশুড়ি আর স্বামীর যন্ত্রণায় তার জীবন দুর্বিষহ। সে এই জীবন থেকে কিন্তু চায়, ফিরে পেতে চায় কানুকে।
আপাতদৃষ্টে, সুন্দর শান্তিময় গ্রামীণ জীবনের ছবি এঁকেছেন শামসুদ্দীন আবুল কালাম। এই ছবিতে চিরায়ত গ্রামের কথা আছে, গ্রাম বাংলার মানুষদের দুঃখ দারিদ্রের মাঝেই খুঁজতে চেয়েছেন দুই জুটির ভালোবাসার গল্পকে। আর শেষতক পাঠককে অপেক্ষা করিয়েছেন জানতে কে এই "কাশবনের কন্যা"।
বাড়তি প্রাপ্তি হিসেবে রয়েছে প্রাণজুড়ানো সব গ্রাম্য গীত।
আর হ্যা,এই বইয়ের কাহিনীকে যেন অনর্থক টেনে বাড়িয়েছেন ঔপন্যাসিক। অনেক সংলাপ,ঘটনা নিতান্তই অপ্রাসঙ্গিক লেগেছে আমার কাছে। কানুর জীবনবোধ কে উপস্থাপন ততটা গভীরভাবে অন্তরকে ছুঁয়ে দিতে পারেনি-পাঠক হিসেবে এটুকু আক্ষেপের কথা আমি বলতেই পারি।
February 14, 2023
"শ্রীঅঙ্গ যেমন তাহার বিভূতিভূষণ
মৃদুভাষ অরণ্যের কথোপকথন
নিশা হইয়া ঢাকে সব দশ দিশা
আকুলি-ব্যাকুলি করে জীবন-অন্বেষা"
আবু জাফর শামসুদদীন, শামসুদদীন আবুল কালাম, আবুল কালাম শামসুদদীন তিনজন লেখককে নিয়ে সবসময়ই আমি উল্টাপাল্টা করে ফেলি। প্রথিতযশা লেখক হিসেবে তিনজনই নিজেদের প্রমাণ করেছেন। 'কাশবনের কন্যা' শামসুদদীন আবুল কালামের লিখিত প্রথম উপন্যাস। দক্ষিণে ভাটি অঞ্চলের ভাষা ও চরিত্রায়নের মাধ্যমে নর নারীর প্রেম এবং পারিপার্শ্বিক আবহ বাংলার লোকগীতি ও একজন গায়কের জীবনাচার ফুটে উঠেছে।
মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত গানগুলোই বাউল কিংবা কবিয়ালদের সুমধুর সুরের মাধ্যমে শ্রোতাদের মাঝে পৌঁছে যায়। কবিয়াল খ্যাতি পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় গানের আসরে নিজেদের প্রতিভার পরিচয় দেন তাঁরা। শুধু লোকগীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে নিজেদের উপস্থিত সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে মানুষের সুখ দু:খের আখ্যান তুলে ধরেন। তেমনই এক কবিয়াল কানু শিকদার। দাদা করমালী শিকদারও ছিলেন গানের ভক্ত। কিশোরকালেই দাদার সহবতের মাধ্যমে কানু শিকদার প্রশ্ন করা শিখে গিয়েছিল। গানের প্রতি ঝোঁক সেখান হতেই। বাবা জয়জামালী ছিলেন উদাস প্রকৃতির লোক। বিষয় আশয় নিয়ে ভাবনা ছিল না। মহামারী ও শরিকদের ষড়যন্ত্রে একে একে পরিবারের আপনজন ও জমিজমা হারানোর পর ক্ষুদ্র একটু ভিটেমাটিতে কোনোরকম ঘর তুলে বসবাস করে আসছে সে। ঘরে বউ আনার প্রতি সীমাহীন বৈরাগ্য তার। জোবেদা নামের এক তরুণীর প্রেমে মজেছিল সে। কিন্তু না পাওয়ার বেদনায় অন্য কাউকে নিজের মনে আশ্রয় দেওয়ার কথা চিন্তা করেনি।
কানু শিকদারের বন্ধু হোসেন হাওলাদার। বাড়ির পাশের জমিতে কৃষিকাজ ও নৌকা দিয়ে মাছ ধরে নলছিটি বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। পার্শ্ববর্তী গৃহস্থ গঞ্জে আলির মেয়ে সখিনার সাথে তার ভাব ছিল। কিন্তু দুই পরিবারে জমিজমা নিয়ে ঝামেলা হওয়াতে সখিনার পরিবার অন্য গ্রামে চলে গিয়েছে। তবুও মন যেন সখিনার কাছেই পড়ে থাকে। কানু শিকদারকে দিয়ে বিবাহের প্রস্তাব পাঠাতে চাইলে সে যেচেই এই কাজে আগ্রহী হয়। এদিকে নৌকা চালানোর সূত্রে ছবদার মাঝির মেয়ে মেহেরজানের সাথে পরিচয় হয় হোসেনের। তবে কি দোটানার মধ্যে পড়বে হোসেন?
কিছু কিছু লেখকের প্রথম বইগুলোই পাঠকের মনে গভীরভাবে জায়গা করে নিতে পারে; 'কাশবনের কন্যা' তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। উপন্যাসে সংলাপের ছড়াছড়ি নেই। নেই বাহুল্যতা। অল্প কিছু চরিত্র দিয়ে লেখক এমনভাবে কাহিনি ফেঁদেছেন যা পাঠককে আটকে রাখতে বাধ্য। সংলাপ কম হলেও, যে সংলাপগুলো দেখা যায় তার অধিকাংশই অনেকটা ব্যক্তি দর্শনের। প্রেম সবসময়ই তার চিরাচরিত রূপে ধরা নাও দিতে পারে। কিংবা মানব মনের বৈচিত্র্যতায় প্রেমের মাঝেও বৈচিত্র্য আসতে পারে।
উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ প্রতি পরিচ্ছেদের শুরুতে তার পূর্বের পরিচ্ছদের সারমর্ম স্বরূপ গানের অবতারণা। তাছাড়া কানু শিকদার কবিয়াল হওয়ায় সেই চরিত্রের মাধ্যমেই কিছু গানের সৃষ্টি করেছেন লেখক। যা আমরা দেখতে পাই তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'কবি' উপন্যাসে। উপন্যাসের শুরুর দিকে হোসেনকে কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে উপস্থাপিত হলেও, ঘটনাপ্রবাহ কানু শিকদার এবং তার কবিয়াল ও প্রেমিক সত্ত্বাকে প্রধান ভূমিকায় প্রকাশ করে। আবহমান গ্রাম বাংলার নারীদের একটি প্রধান অনুষঙ্গ হলো, যতটাই অত্যাচারিত হোক না কেন মুখ বুজে স্বামীর সংসার করে যাওয়া। এছাড়া যৌতুক প্রথার থাবা থেকে কোনো পরিবারই রক্ষা পেত না। সখিনা, মেহেরজান কিংবা জোবেদা সকলেই এই অন্যায় প্রথার শিকার হয়েছে। মানব মনের বিচিত্র খেয়াল হোসেন কিংবা কানু শিকদারকে দ্বিধার মধ্যে ফেলে দিয়েছে সবসময়। সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে জীবনের প্রতি বৈরাগ্যের আভাস দেখা যায়।
সংলাপ কিংবা বর্ননায় আঞ্চলিক শব্দের ব্যবহার আছে। তবে খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা না। বইটা পড়তে বোরিং হওয়ার সুযোগ নেই। এই ধরনের বইগুলোর প্রচার খুব কম। আশা করি পাঠকেরা এই অপূর্ব বইটির স্বাদ আস্বাদন করতে পারবেন। হ্যাপি রিডিং।
মৃদুভাষ অরণ্যের কথোপকথন
নিশা হইয়া ঢাকে সব দশ দিশা
আকুলি-ব্যাকুলি করে জীবন-অন্বেষা"
আবু জাফর শামসুদদীন, শামসুদদীন আবুল কালাম, আবুল কালাম শামসুদদীন তিনজন লেখককে নিয়ে সবসময়ই আমি উল্টাপাল্টা করে ফেলি। প্রথিতযশা লেখক হিসেবে তিনজনই নিজেদের প্রমাণ করেছেন। 'কাশবনের কন্যা' শামসুদদীন আবুল কালামের লিখিত প্রথম উপন্যাস। দক্ষিণে ভাটি অঞ্চলের ভাষা ও চরিত্রায়নের মাধ্যমে নর নারীর প্রেম এবং পারিপার্শ্বিক আবহ বাংলার লোকগীতি ও একজন গায়কের জীবনাচার ফুটে উঠেছে।
মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত গানগুলোই বাউল কিংবা কবিয়ালদের সুমধুর সুরের মাধ্যমে শ্রোতাদের মাঝে পৌঁছে যায়। কবিয়াল খ্যাতি পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় গানের আসরে নিজেদের প্রতিভার পরিচয় দেন তাঁরা। শুধু লোকগীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে নিজেদের উপস্থিত সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে মানুষের সুখ দু:খের আখ্যান তুলে ধরেন। তেমনই এক কবিয়াল কানু শিকদার। দাদা করমালী শিকদারও ছিলেন গানের ভক্ত। কিশোরকালেই দাদার সহবতের মাধ্যমে কানু শিকদার প্রশ্ন করা শিখে গিয়েছিল। গানের প্রতি ঝোঁক সেখান হতেই। বাবা জয়জামালী ছিলেন উদাস প্রকৃতির লোক। বিষয় আশয় নিয়ে ভাবনা ছিল না। মহামারী ও শরিকদের ষড়যন্ত্রে একে একে পরিবারের আপনজন ও জমিজমা হারানোর পর ক্ষুদ্র একটু ভিটেমাটিতে কোনোরকম ঘর তুলে বসবাস করে আসছে সে। ঘরে বউ আনার প্রতি সীমাহীন বৈরাগ্য তার। জোবেদা নামের এক তরুণীর প্রেমে মজেছিল সে। কিন্তু না পাওয়ার বেদনায় অন্য কাউকে নিজের মনে আশ্রয় দেওয়ার কথা চিন্তা করেনি।
কানু শিকদারের বন্ধু হোসেন হাওলাদার। বাড়ির পাশের জমিতে কৃষিকাজ ও নৌকা দিয়ে মাছ ধরে নলছিটি বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। পার্শ্ববর্তী গৃহস্থ গঞ্জে আলির মেয়ে সখিনার সাথে তার ভাব ছিল। কিন্তু দুই পরিবারে জমিজমা নিয়ে ঝামেলা হওয়াতে সখিনার পরিবার অন্য গ্রামে চলে গিয়েছে। তবুও মন যেন সখিনার কাছেই পড়ে থাকে। কানু শিকদারকে দিয়ে বিবাহের প্রস্তাব পাঠাতে চাইলে সে যেচেই এই কাজে আগ্রহী হয়। এদিকে নৌকা চালানোর সূত্রে ছবদার মাঝির মেয়ে মেহেরজানের সাথে পরিচয় হয় হোসেনের। তবে কি দোটানার মধ্যে পড়বে হোসেন?
কিছু কিছু লেখকের প্রথম বইগুলোই পাঠকের মনে গভীরভাবে জায়গা করে নিতে পারে; 'কাশবনের কন্যা' তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। উপন্যাসে সংলাপের ছড়াছড়ি নেই। নেই বাহুল্যতা। অল্প কিছু চরিত্র দিয়ে লেখক এমনভাবে কাহিনি ফেঁদেছেন যা পাঠককে আটকে রাখতে বাধ্য। সংলাপ কম হলেও, যে সংলাপগুলো দেখা যায় তার অধিকাংশই অনেকটা ব্যক্তি দর্শনের। প্রেম সবসময়ই তার চিরাচরিত রূপে ধরা নাও দিতে পারে। কিংবা মানব মনের বৈচিত্র্যতায় প্রেমের মাঝেও বৈচিত্র্য আসতে পারে।
উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ প্রতি পরিচ্ছেদের শুরুতে তার পূর্বের পরিচ্ছদের সারমর্ম স্বরূপ গানের অবতারণা। তাছাড়া কানু শিকদার কবিয়াল হওয়ায় সেই চরিত্রের মাধ্যমেই কিছু গানের সৃষ্টি করেছেন লেখক। যা আমরা দেখতে পাই তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'কবি' উপন্যাসে। উপন্যাসের শুরুর দিকে হোসেনকে কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে উপস্থাপিত হলেও, ঘটনাপ্রবাহ কানু শিকদার এবং তার কবিয়াল ও প্রেমিক সত্ত্বাকে প্রধান ভূমিকায় প্রকাশ করে। আবহমান গ্রাম বাংলার নারীদের একটি প্রধান অনুষঙ্গ হলো, যতটাই অত্যাচারিত হোক না কেন মুখ বুজে স্বামীর সংসার করে যাওয়া। এছাড়া যৌতুক প্রথার থাবা থেকে কোনো পরিবারই রক্ষা পেত না। সখিনা, মেহেরজান কিংবা জোবেদা সকলেই এই অন্যায় প্রথার শিকার হয়েছে। মানব মনের বিচিত্র খেয়াল হোসেন কিংবা কানু শিকদারকে দ্বিধার মধ্যে ফেলে দিয়েছে সবসময়। সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে জীবনের প্রতি বৈরাগ্যের আভাস দেখা যায়।
সংলাপ কিংবা বর্ননায় আঞ্চলিক শব্দের ব্যবহার আছে। তবে খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা না। বইটা পড়তে বোরিং হওয়ার সুযোগ নেই। এই ধরনের বইগুলোর প্রচার খুব কম। আশা করি পাঠকেরা এই অপূর্ব বইটির স্বাদ আস্বাদন করতে পারবেন। হ্যাপি রিডিং।
April 3, 2023
এ পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষই বেঁচে থাকার জন্য একটা শক্ত অবলম্বন চায় বা এমন কাউকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়, যার উপর চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস রেখে পুরো একটা জীবন পার করে দেওয়া যায়। বিশ্বাস করে হাতটা শক্ত করে ধরার প্রত্যাশা প্রতিটি মানুষ করে থাকে। তবে সকলের ক্ষেত্রে পুরোপুরি ভাবে শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস টা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয় না, বা যতটা আশ্বাস দেওয়া হয় অন্য পাশ থেকে হয়তো ততোটা বিশ্বাস রেখে পারে না।
তাই হয়তো জীবনের মাঝ পথে এসে ঘটে ছন্দ পতন। জীবনটা ঠিক যে ভাবে চলার কথা সে ভাবে চলে না।
এলোমেলো করে দিয়ে চলে যাওয়া সেই মানুষটা ছাড়া আর হয়তো জীবনটা গোছানই যায় না, কোথায় যেন একটা কাঁটা বিধে থাকে। চাইলেও উপড়ে ফেলা যায় না।
আর যে চলে গেলো সে হয়তো অনেক আশা ও সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের আশাতেই চলে গেলো। সে জীবনটাতে গিয়ে যদি সুখের দেখা না মেলে তা হলে হয়তো আগের মানুষটার গুরুত্বটা একটু বেশীই বুঝতে পারে। তখন মনে হয় এখনের এই না পাওয়া ও ব্যর্থতা টা হয়তো আগের মানুষটা পূরন করে দিতে পারতো।
শিকদার ও হোসেন অনেক ভালো বন্ধু। শিকদার গান ভালোবাসে। তার দাদা গান করতো। তাই সে উত্তরাধিকার সূত্রে একটা দোতারা পেয়েছে। গ্রামে আসা বয়াতিদের সাথে থেকে সে গান গাইতে শিখে যায় এবং নিজের আসল নামটা ভুলিয়ে দিয়ে সবাই তাকে কবি বলেই ডাকে। জোবেদা তার গ্রামেরই মেয়ে। তার টানেই সে প্রতিদিন তার সাথে দেখা করতে যায় এবং নিজে গান লিখে জোবেদাকে আগে না শুনালে মনে হয় শেষ হয় নাই। হঠাৎ করেই জোবেদা শিকদারকে এড়িয়ে চলতে থাকে এবং কিছুদিন পর তার বিয়ে ঠিক হয়ে যায়।
অন্যদিকে হোসেন মনে মনে ভালোবাসে পাশের বাড়ীর সখিনাকে, যার সাথে সে ছোট থেকে বড় হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করেই সখিনারা সপরিবারে কোথায় চলে যায়। অনেক খুজে হোসেন তাদের সন্ধান পায়।
সমাজ ব্যবস্থাটা সব সময়ই মুষ্টিমেয় কিছু বৃত্তবান লোকের হাতে থাকে, তারা যে ভাবে চালায় সমাজটা ঠিক সে ভাবেই চলে।
"কাশবনের কন্যা" শামসুদ্ দীন আবুল কালামের একটি জনপ্রিয় উপন্যাস। তবে এ উপন্যাস টি পাঠকের কাছ থেকে সাফল্য লাভ করলেও সমালোচকদের কাছ থেকে তেমন সংবর্ধনা পায় নি।
বাস্তবজীবন কেন্দ্রীক লেখা এ উপন্যাসে লেখক বাস্তবতার চেয়ে রোমান্টিকতাকে একটু বেশী স্থান দিয়েছেন। বইটা জুড়ে শুধু আবেগের ছড়াছড়ি, আমার মনে হয়েছে। যতোটা আগ্রহী ছিলাম বইটাতে ততোটাই হতাশ হলাম।
তাই হয়তো জীবনের মাঝ পথে এসে ঘটে ছন্দ পতন। জীবনটা ঠিক যে ভাবে চলার কথা সে ভাবে চলে না।
এলোমেলো করে দিয়ে চলে যাওয়া সেই মানুষটা ছাড়া আর হয়তো জীবনটা গোছানই যায় না, কোথায় যেন একটা কাঁটা বিধে থাকে। চাইলেও উপড়ে ফেলা যায় না।
আর যে চলে গেলো সে হয়তো অনেক আশা ও সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের আশাতেই চলে গেলো। সে জীবনটাতে গিয়ে যদি সুখের দেখা না মেলে তা হলে হয়তো আগের মানুষটার গুরুত্বটা একটু বেশীই বুঝতে পারে। তখন মনে হয় এখনের এই না পাওয়া ও ব্যর্থতা টা হয়তো আগের মানুষটা পূরন করে দিতে পারতো।
শিকদার ও হোসেন অনেক ভালো বন্ধু। শিকদার গান ভালোবাসে। তার দাদা গান করতো। তাই সে উত্তরাধিকার সূত্রে একটা দোতারা পেয়েছে। গ্রামে আসা বয়াতিদের সাথে থেকে সে গান গাইতে শিখে যায় এবং নিজের আসল নামটা ভুলিয়ে দিয়ে সবাই তাকে কবি বলেই ডাকে। জোবেদা তার গ্রামেরই মেয়ে। তার টানেই সে প্রতিদিন তার সাথে দেখা করতে যায় এবং নিজে গান লিখে জোবেদাকে আগে না শুনালে মনে হয় শেষ হয় নাই। হঠাৎ করেই জোবেদা শিকদারকে এড়িয়ে চলতে থাকে এবং কিছুদিন পর তার বিয়ে ঠিক হয়ে যায়।
অন্যদিকে হোসেন মনে মনে ভালোবাসে পাশের বাড়ীর সখিনাকে, যার সাথে সে ছোট থেকে বড় হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করেই সখিনারা সপরিবারে কোথায় চলে যায়। অনেক খুজে হোসেন তাদের সন্ধান পায়।
সমাজ ব্যবস্থাটা সব সময়ই মুষ্টিমেয় কিছু বৃত্তবান লোকের হাতে থাকে, তারা যে ভাবে চালায় সমাজটা ঠিক সে ভাবেই চলে।
"কাশবনের কন্যা" শামসুদ্ দীন আবুল কালামের একটি জনপ্রিয় উপন্যাস। তবে এ উপন্যাস টি পাঠকের কাছ থেকে সাফল্য লাভ করলেও সমালোচকদের কাছ থেকে তেমন সংবর্ধনা পায় নি।
বাস্তবজীবন কেন্দ্রীক লেখা এ উপন্যাসে লেখক বাস্তবতার চেয়ে রোমান্টিকতাকে একটু বেশী স্থান দিয়েছেন। বইটা জুড়ে শুধু আবেগের ছড়াছড়ি, আমার মনে হয়েছে। যতোটা আগ্রহী ছিলাম বইটাতে ততোটাই হতাশ হলাম।
September 19, 2025
খুব সম্ভবত বহুদিন পরে এমন একটু ভারিক্কি বই পড়বার কারণে কিংবা নিতান্তই গবেট হবার কারণে বিশেষ ভালো লাগে নি
July 14, 2025
লেখক সাধু ভাষায় পুরো কাহিনী লিখেছেন সেটা মন্দ নয়। আবার সংলাপ ব্যবহার করেছেন আঞ্চলিক ভাষায়। এই দুই সাধু-চলিতের বিশ্রি মিক্সিংয়ে বইটা কোনোভাবেই মন দিয়ে পড়া যাচ্ছিল না। শেষে এসে দেখি, কাহিনী মাত্র উত্তুঙ্গ অবস্থায় এসেছে তখনই সমাপ্তি টেনে দিলেন। এর কোনো মানে হয়?
September 6, 2021
এক কথায় অসাধারণ ও সুখপাঠ্য একটা বই
March 30, 2023
বই: কাশবনের কন্যা
লেখক: শামসুদ্দীন আবুল কালাম
বাংলা সাহিত্যে শামসুদ্দীন আবুল কালাম একজন পরিচিত মুখ। গ্রাম বাংলার পরিবেশ-পরিস্থিতি তার লেখায় চমৎকার ভাবে ফুঁটে উঠে। শামসুদ্দীন আবুল কালামের শিল্পমানসের উপর আধুনিক শিল্প-মতবাদের মানে-অস্তিত্ববাদ-পরাবাস্তববাদ ইত্যাদির কোনো প্রভাব নেই।সমাজ ও ব্যক্তিজীবনের বাইরের দিকটিই তার লেখায় প্রাধান্য পেয়েছে।
গ্রামীণ বাংলার মাটি-মানুষের কাহিনী নিয়ে তার এ উপন্যাস। মূলত, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের বরিশাল জেলাকে কেন্দ্র করে এ আঞ্চলিক উপন্যাসের সৃষ্টি। বরিশালের উপকূলীয় অঞ্চলের কথা,সেখানকার খেটে খাওয়া জেলে-কৃষকদের কথা উঠে এসেছে। একদিন রাতে নদীতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে কানু শিকদার ও হোসেনের পরিচয়।কানু শিকদার কবিয়াল প্রকৃতির লোক। সে পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ে গান তুলে গলায়, অন্যদিকে হোসেন তাকে সঙ্গ দেয়। কানু শিকদার ভালোবাসতো জোবেদাকে। কিন্তু, গা ছাড়া ভাব চলাফেরার কারণে জোবেদার বিয়ে হয়ে যায় অন্যত্র আর তাতে শিকদার আরো একাকী আর বাউন্ডুলে হয়ে উঠে। এই একমাত্র গানই যেনো তার সর্বক্ষণের সাথী।
অন্যদিকে, শৈশব সাথী হিসেবে হোসেন সখিনাকে ভালোবাসতো। কিন্তু, হুট করেই যেনো সখিনার বিয়ে হয়ে যায় আর হোসেন সেটা মানতে পারে নি। তাই কর্মে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে নৌকা নিয়ে ভিনদেশে পাড়ি জমায়। সেখানে পরিচয় হয় বৃদ্ধ সবদারের সাথে। এ পথে জীবিকা অর্জনের নানা পথ তাকে বুঝিয়ে দেয় সবদার এবং কিছুদিনের মাঝে দুজনের ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠে ।এভাবে কিছুদিন কাটার পর হঠাৎ একদিন সবদার অসুস্থ হয়ে নৌকার ভিতর পরে থাকলে হোসেন তাকে উদ্ধার করে বহুদূরে তার নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা নেয়। সবদারের বাড়িতে যেয়ে দিন কয়েকের জন্য আটকা পরে যায় হোসেন আর তখনি সবদারের মেয়ে মেহেরজানের প্রতি আকৃষ্ট হয় সে। এভাবে কিছুদিন কেটে যাবার পর হোসেন তার নিজ গায়ে ফিরে আসে। অন্যদিকে,
কোন এক কারণে, জোবেদা স্বামীর ঘর ফেলে ছুটে এসে আশ্রয় নেয় কানু শিকদারের ঘরে। শিকদার তাকে আশ্রয় দিলেও আটকে রাখার ক্ষমতা কি তার ছিলো! সমাজভয়,সামাজিকতা সকল কিছুর পরিপ্রেক্ষিতে শিকদার ও জোবেদার পরণতি কি হয়! আসলেই কি শিকদার জোবেদাকে পেয়েছিলো? হোসেন কি পেয়েছিল সখিনাকে হারিয়ে ফিরে পাওয়া মেহেরজানের সাথে ঘর বাঁধতে?
এমনি প্রেমের কতকথার আড়ালে শামসুদ্দীন আবুল কালাম সৃষ্টি করেছেন তার বহুল আলোচিত উপন্যাস "কাশবনের কন্যা"। যেখানে আগেকার দিনের পরিবেশ-পরিস্থিতি,সমাজ-সামাজিকতা,সংস্কার-কুসংস্কার,গীত-পালাগান,জীবন-জীবিকা আর প্রেমের এক মহামিলন ঘটিয়েছেন।
লেখক: শামসুদ্দীন আবুল কালাম
বাংলা সাহিত্যে শামসুদ্দীন আবুল কালাম একজন পরিচিত মুখ। গ্রাম বাংলার পরিবেশ-পরিস্থিতি তার লেখায় চমৎকার ভাবে ফুঁটে উঠে। শামসুদ্দীন আবুল কালামের শিল্পমানসের উপর আধুনিক শিল্প-মতবাদের মানে-অস্তিত্ববাদ-পরাবাস্তববাদ ইত্যাদির কোনো প্রভাব নেই।সমাজ ও ব্যক্তিজীবনের বাইরের দিকটিই তার লেখায় প্রাধান্য পেয়েছে।
গ্রামীণ বাংলার মাটি-মানুষের কাহিনী নিয়ে তার এ উপন্যাস। মূলত, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের বরিশাল জেলাকে কেন্দ্র করে এ আঞ্চলিক উপন্যাসের সৃষ্টি। বরিশালের উপকূলীয় অঞ্চলের কথা,সেখানকার খেটে খাওয়া জেলে-কৃষকদের কথা উঠে এসেছে। একদিন রাতে নদীতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে কানু শিকদার ও হোসেনের পরিচয়।কানু শিকদার কবিয়াল প্রকৃতির লোক। সে পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ে গান তুলে গলায়, অন্যদিকে হোসেন তাকে সঙ্গ দেয়। কানু শিকদার ভালোবাসতো জোবেদাকে। কিন্তু, গা ছাড়া ভাব চলাফেরার কারণে জোবেদার বিয়ে হয়ে যায় অন্যত্র আর তাতে শিকদার আরো একাকী আর বাউন্ডুলে হয়ে উঠে। এই একমাত্র গানই যেনো তার সর্বক্ষণের সাথী।
অন্যদিকে, শৈশব সাথী হিসেবে হোসেন সখিনাকে ভালোবাসতো। কিন্তু, হুট করেই যেনো সখিনার বিয়ে হয়ে যায় আর হোসেন সেটা মানতে পারে নি। তাই কর্মে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে নৌকা নিয়ে ভিনদেশে পাড়ি জমায়। সেখানে পরিচয় হয় বৃদ্ধ সবদারের সাথে। এ পথে জীবিকা অর্জনের নানা পথ তাকে বুঝিয়ে দেয় সবদার এবং কিছুদিনের মাঝে দুজনের ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠে ।এভাবে কিছুদিন কাটার পর হঠাৎ একদিন সবদার অসুস্থ হয়ে নৌকার ভিতর পরে থাকলে হোসেন তাকে উদ্ধার করে বহুদূরে তার নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা নেয়। সবদারের বাড়িতে যেয়ে দিন কয়েকের জন্য আটকা পরে যায় হোসেন আর তখনি সবদারের মেয়ে মেহেরজানের প্রতি আকৃষ্ট হয় সে। এভাবে কিছুদিন কেটে যাবার পর হোসেন তার নিজ গায়ে ফিরে আসে। অন্যদিকে,
কোন এক কারণে, জোবেদা স্বামীর ঘর ফেলে ছুটে এসে আশ্রয় নেয় কানু শিকদারের ঘরে। শিকদার তাকে আশ্রয় দিলেও আটকে রাখার ক্ষমতা কি তার ছিলো! সমাজভয়,সামাজিকতা সকল কিছুর পরিপ্রেক্ষিতে শিকদার ও জোবেদার পরণতি কি হয়! আসলেই কি শিকদার জোবেদাকে পেয়েছিলো? হোসেন কি পেয়েছিল সখিনাকে হারিয়ে ফিরে পাওয়া মেহেরজানের সাথে ঘর বাঁধতে?
এমনি প্রেমের কতকথার আড়ালে শামসুদ্দীন আবুল কালাম সৃষ্টি করেছেন তার বহুল আলোচিত উপন্যাস "কাশবনের কন্যা"। যেখানে আগেকার দিনের পরিবেশ-পরিস্থিতি,সমাজ-সামাজিকতা,সংস্কার-কুসংস্কার,গীত-পালাগান,জীবন-জীবিকা আর প্রেমের এক মহামিলন ঘটিয়েছেন।
This entire review has been hidden because of spoilers.
July 9, 2026
কাশবনের কন্যা পড়ে সবচেয়ে বেশি যেটা ভালো লেগেছে, সেটা হলো এর পরিবেশ। নদী, চর আর কাশবনের বর্ণনা এত সুন্দর যে পড়তে পড়তে মনে হয়েছে যেন সবকিছু চোখের সামনে ঘটছে। লেখক একসাথে প্রেম, গ্রামবাংলার জীবন, মানুষের সুখ-দুঃখ আর সংগ্রামকে খুব আন্তরিকভাবে তুলে ধরেছেন।
চরিত্রগুলো নিখুঁত নয়, আর সেই কারণেই তারা বাস্তব মনে হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্ত, সম্পর্ক আর আবেগ অনেক জায়গায় ভাবতে বাধ্য করেছে। বইটির গতি কিছু অংশে ধীর লাগতে পারে, কিন্তু গল্পের আবহ সেটাকে মানিয়ে দেয়।
যারা প্রকৃতিনির্ভর, আবেগঘন এবং ক্লাসিক বাংলা সাহিত্য পড়তে পছন্দ করেন, তাদের জন্য কাশবনের কন্যা অবশ্যই পড়ার মতো একটি উপন্যাস।
বইটার সবচেয়ে ভালো দিক হলো, এটি কোনো কিছু জোর করে বোঝানোর চেষ্টা করে না। মানুষের জীবন যেমন, তেমনভাবেই দেখায়। সুখ আছে, কষ্ট আছে, আশা আছে, আবার হারিয়ে যাওয়ার বেদনাও আছে।
সব মিলিয়ে, অসাধারণ!
চরিত্রগুলো নিখুঁত নয়, আর সেই কারণেই তারা বাস্তব মনে হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্ত, সম্পর্ক আর আবেগ অনেক জায়গায় ভাবতে বাধ্য করেছে। বইটির গতি কিছু অংশে ধীর লাগতে পারে, কিন্তু গল্পের আবহ সেটাকে মানিয়ে দেয়।
যারা প্রকৃতিনির্ভর, আবেগঘন এবং ক্লাসিক বাংলা সাহিত্য পড়তে পছন্দ করেন, তাদের জন্য কাশবনের কন্যা অবশ্যই পড়ার মতো একটি উপন্যাস।
বইটার সবচেয়ে ভালো দিক হলো, এটি কোনো কিছু জোর করে বোঝানোর চেষ্টা করে না। মানুষের জীবন যেমন, তেমনভাবেই দেখায়। সুখ আছে, কষ্ট আছে, আশা আছে, আবার হারিয়ে যাওয়ার বেদনাও আছে।
সব মিলিয়ে, অসাধারণ!
March 6, 2024
অনেক আগে পড়েছিলাম, তাজা তাজা রিভিউ লিখতে হত! এখন শুধু একটি কথাই মনে পড়ে যে এখানে প্রটাগনিস্ট নায়িকা এন্টাগনিস্টদের কামের ফাঁদে জর্জরিত করে মারে। রিপিটেডলি, ১০-২০-৩০ বা তারো বেশি চক্র। এরকম যে উপন্যাস লেখা যেতে পারে তা কখনো ভাবিনি
Displaying 1 - 9 of 9 reviews










