মাসুদ আনোয়ারের জন্ম ১ জানুয়ারি, ১৯৫৯ সালে (সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম)। বর্তমানে সাংবাদিকতার ও বার্তা বিভাগের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি আমাদের জন্য লিখে যাচ্ছেন ওয়েস্টার্ন বই। সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত তার বই এর সংখ্যা ১৫ ছাড়িয়ে গেছে বেশ আগে।
জুলি হাইট। কি একজন জবরদস্ত মহিলা রে বাপ! আমার অন্যতম প্রিয় ওয়েস্টার্ন চরিত্র হয়ে গেছে মিসেস হাইট। নিজের সম্পর্কে তার ধারণা খুবই উঁচু। সে নিশ্চিত, হারিকেন দিয়ে খুঁজলেও তার মত কাজ করতে পারে, তার মত মদ গিলে খাড়া থাকতে পারে, তার মত ঝগড়া করতে পারে, এমন আরেকটা চীজ পাওয়া যাবে না। কথা মিথ্যে না। জুলি হাইটের সাত্থে ঝগড়া করে জিতবে সে সাধ্য কার আছে? এমনকি হাতাহাতিতেও কম না জুলি। ইয়া গর্দান মহিলার। দুচারজনকে ধোলাই দেয়ার ক্ষমতা রাখে। কলোরো নামে এক ইনজানকে বিস্কুট চুরির অপরাধে ঝাঁটার বাড়ি দিয়ে তল্লাট ছাড়া করেছিল। জুলি হাইটের ধাক্কা খেলে তিনজন জোয়ান মর্দ লোক তিনদিকে ছিটকে পড়ে। মিসেস হাইট একমাত্র নাতি টনি-কে নিয়ে নিজের খামারে থাকে। জুলি নিজের বয়স বলে, পঁয়ত্রিশ। পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে একজনের চোদ্দ বছরের নাতি কিভাবে থাকে, সেই প্রশ্ন তোলার সাহস কারো নেই। একমাত্র প্রতিবেশী শেন অস্টিন-ই জুলির সাথে মুখেমুখে তর্ক করার বুকের পাটা রাখে। পারষ্পরিক শ্রদ্ধা থাকলেও খিটিমিটি লেগে থাকে দুজনের। শেন ইচ্ছা করেই বুড়িকে খেপিয়ে দেয়, তারপর মজা দেখে। টনি বেচারা এহেন মারদাঙ্গা দাদীর ধমক আর কানমলা খেয়েই বেঁচে আছে। কিন্তু দাদী আর নাতি একে অন্যকে ছাড়াও থাকতে পারে না।
স্বাধীনচেতা উতে ইন্ডিয়ানরা রিজার্ভেশনের বদ্ধ গন্ডির ভেতর বাধ্য থাকবে সেটা আশা করাই বৃথা। তাও হয়ত আশা করা যেত যদি রিজার্ভেশন এজেন্ট ন্যাট স্লিকার খারাপ ব্যবহার আর প্রয়োজনীয় জিনিস দেয়াতে না ঠকাতো। তাই যখন তারা রিজার্ভেশন ছেড়ে বেরিয়ে এসে হত্যা আর লুটতরাজ শুরু করল তখন ক্ষুদ্র সেটলার হিসেবে কঠোর পরিশ্রমে গুছিয়ে নেয়া স্প্রেডকে ছেড়ে জান বাচানোর জন্য পালিয়ে যেতে মন সায় দেয় না শেন অস্টিনের। প্রতিবেশী আর দুই স্প্রেডের মানুষদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে অস্টিন। পালালে ভাল করেই জানে অস্টিন, আর ফিরতে পারবে না তিলে তিলে গড়ে তোলা স্বপ্নের ছোট্ট আবাসে। আসলে আসুক উতে নেতা নোশুয়া। শেষ অবধি নোশুয়া একা এলো না, এলো কুখ্যাত কোমাঞ্চি দলছুট নেতা সার্জেন্টকে নিয়ে। কি হল শেষ পর্যন্ত?