মাসুদ আনোয়ারের জন্ম ১ জানুয়ারি, ১৯৫৯ সালে (সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম)। বর্তমানে সাংবাদিকতার ও বার্তা বিভাগের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি আমাদের জন্য লিখে যাচ্ছেন ওয়েস্টার্ন বই। সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত তার বই এর সংখ্যা ১৫ ছাড়িয়ে গেছে বেশ আগে।
মার্ক স্টুয়ার্ট পিতৃমাতৃহীন তরুণ। আঠারো বছর বয়সে ঝামেলায় পড়ে অনিচ্ছাতেই একটা খুন করে বসে। ৯ বছরের জেল হয় মার্কের। যখন জেল থেকে বেরোল, তখন আইনের চোখে সে নিজের পাওনা চুকিয়ে দিয়েছে, কিন্তু সমাজের চোখে সে চিরকাল দাগী আসামী, জেলঘুঘু। কোথাও কাজ না পেয়ে তিনদিন না খাওয়া অবস্থায় টমসেন ম্যানসফিল্ডের র্যাঞ্চ স্টিক-টি-তে এসে পৌঁছালো মার্ক। এই প্রথম জীবনে কিছু মানুষের স্নেহময় সান্নিধ্য পেলো সে। টমসেন আদর্শবাদী লোক, জীবনে একবার যারা ভুল করেছে তাদের ঠিক পথে ফিরে আসতে সাহায্য করতে চায় সে। র্যাঞ্চমালিকের পারতপক্ষে পুত্রসন্তান থাকে না (থাকলেও অপদার্থ হয়), কিন্তু সুন্দরী কন্যা থাকবেই। এখানেও তার ব্যতিক্রম হলো না, সুন্দরী মায়াবতী জেন ম্যান্সফিল্ডকে ভালো লেগে গেলো মার্কের। কিন্তু জেনের বিয়ে ঠিক হয়ে আছে সুপাত্র ব্রেন্টের সাথে, মার্কের মত নিঃস্ব জেলঘুঘুর তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখার কি অধিকার আছে! এর মধ্যে বার-এম র্যাঞ্চের ওটস ক্ল্যাঙ্কারের লোভী নজর পড়েছে স্টিক-টির ওপর, পানি বন্ধ করে টমসেনকে এলাকাছাড়া করতে চায় সে। দুই র্যাঞ্চের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল মার্ক। জীবনে এই প্রথম নিজেকে প্রয়োজনীয় মনে হচ্ছে ওর...।
টমসেন, মার্ক, জেন, সেপ, চরিত্রগুলো ভালো লেগেছে। টমসেন অন্যরকম একজন মানুষ। বেটি ক্ল্যাঙ্কার আরেকটু গুরুত্ব পেলে ভালো হত। তবে মার্কের কাজকর্ম ও নৈপুণ্য পুরোপুরি বিশ্বাস যোগ্য না। বলা আছে সে পিতৃমাতৃহীন কাউহ্যান্ড ছিল, কাজেই তেমন শিক্ষার সুযোগ পাওয়ার কথা না। তার ইঞ্জিনিয়ারিং জ্ঞান থাকা সম্ভব কিনা সেটা একটা প্রশ্ন। আবার সে ১৮ বছর বয়স থেকে থেকে জেলে ছিল, কাজেই পশ্চিমের আর দশজন কাউবয়ের মত দক্ষতা অর্জন করতে পারারও কথা না।