‘দুর্দিনের যাত্রী’ কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধগ্রন্থ। ১৯২১ সালে অর্ধসাপ্তাহিক ‘ধূমকেতু’র প্রথম সংখ্যা বের হয়। ধূমকেতুতে নজরুল যেসব সম্পাদকীয় লেখেন তার কতগুলো নিয়ে ‘দুর্দিনের যাত্রী’ প্রকাশিত হয়। ‘আমরা লক্ষ্মীছাড়ার দল’, ‘তুবড়ী বাঁশীর ডাক’, ‘মোরা সবাই স্বাধীন : মোরা সবাই রাজা’, ‘স্বাগত’, ‘পথিক! তুমি পথ হারাইয়াছ?’ শিরোনামে সম্পাদকীয় লেখা হয়। প্রবন্ধগুলোয় নজরুল তরুণদের মঙ্গল অভিশাপ আর শনির জ্বালানো রুদ্র-চুল্লির মধ্যে বসে নবসৃষ্টির সাধনা করতে বলেছেন। মিথ্যা ত্যাগ করে আত্মাকে চেনার কথা বলেছেন। নজরুল পথিককে পথ না হারানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ‘বল মাভৈঃ! আমরা পথ হারাই না!’
Kazi Nazrul Islam (Bengali: কাজী নজরুল ইসলাম) was a Bengali poet, musician and revolutionary who pioneered poetic works espousing intense spiritual rebellion against fascism and oppression. His poetry and nationalist activism earned him the popular title of Bidrohi Kobi (Rebel Poet). Accomplishing a large body of acclaimed works through his life, Nazrul is officially recognised as the national poet of Bangladesh and commemorated in India.
আমি হাসি হাসি পরব ফাঁসি দেখবে জগৎবাসী - সুরটাই বাজছে মাথায়। নজরুল যেভাবে দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গের আহবান করেছেন তাতে আজ, এত বছর পরেও দেশের জন্য ফাসির দড়িতে মাথা দিতে পিছপা হবোনা
"দুর্দিনের যাত্রী" আমার খুব খুব ভালো লাগা একটি বই। হাতে যখন বইটি নিলাম, ঝড় বয়ে গেছে এক প্রকার! আমি জানি নজরুলের প্রবন্ধ মানে আমাকে বাঁচাতে শিখাবে, প্রতিবাদ করার বুলি শিখাবে। মৃত্যু শিয়রে এসে দাঁড়ালেও আমাকে শক্তি জোগাবে তা মোকাবেলা করার। তার বলা প্রতিটি শব্দ প্রেমিকার জন্য হিন্দোল। তিনি প্রেমিককে সবচেয়ে বড় বিদ্রোহী বলেছেন। যে পুরুষ ভালোবাসতে জানে না, সে জানে না বিপ্লব কী প্রকারে আনবে। বুকের মাঝে দামামা বাজিয়ে আমিও যুদ্ধে যাব। হয়তো দেশ উদ্ধারে, নয়তো নিজের অধিকার আদায়ে।
কবির কথা কী বলবো। প্রবন্ধ বোঝার মত যে সক্ষমতা আদ্যো আমার হয়েছে কি না সন্দেহ। তবুও প্রতিটি অক্ষর কবি আমাকে বলছে। নুহাশ, বের হও যুদ্ধে যাও। অবহেলিত, কুসংস্কার সমাজকে বাঁচাতে লড়তে যাও। "আমার লক্ষ্মীছাড়ার দল' প্রবন্ধে তুলোধুনো করেছেন সূর্য সন্তানদের। তাদের জন্য গৃহ নয়, তাদের জন্য দয়া নেই, করুণা নেই। তোমাদের ঘরে ডেকে আনার কেউ নেই। ঝড় বাদল, সিক্ত মাটি তোমাদের আশ্রয়। তিনি বলেন,
"যে ঘরে ঘরে মায়ের মমতা, বোনের স্নেহ, প্রেয়সীর ভালোবাসা ঐ ঘরে তোমার স্থান নয়! রণক্ষেত্র তোমার জন্য মানবশিশু।"
"মোরা সবাই স্বাধীন, মোরা সবাই রাজা" প্রবন্ধে সবাইকে নিজের অধিকার সচেতন হতে আহবান করেছেন। একটিবারের জন্য শির উঁচু করে দাঁড়াতে বলেছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে। তোমার চোখে সমাজ যে পর্দা এটে রেখেছে তা টান দিয়ে খুলে ফেলার আহবান তিনি জানিয়েছে। স্বরাজ মানে কি? এই প্রশ্ন তিনি সবার কাছে জানতে চান। তিনি বলেন,
"নিজেই রাজা বা সবাই রাজা।"
সাহসের বুলি না বলে এগিয়ে যেতে বলেছেন। যে বলতে পারবে আমার রাজা আমি তিনি তেমন সাহসী বীরকে আহবান করেছেন রাস্তায় নামার। যে বীর কারুর অদীন নয়, বাহিরে ভিতরে যে কারো দাস নয়। যে হবে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত।
বুঝতে পারবো না এই ভয়ে নজরুল ধরা হয়নি অনেক দিন। তারপর একটা উপন্যাস আর একটা গল্প গ্রন্থ পড়ে ভুল ভেঙ্গেছিলো৷ সেই সাহস থেকেই প্রবন্ধ ধরেছিলাম। একে তো এটাই প্রথম আমার প্রবন্ধ পড়া তার উপর আগের ভয়টাই এবার সত্যি হলো৷ যদিও মূল বক্তব্য কিছুটা বুঝা গিয়েছে।বাকিটা অনেক কষ্ট হয়েছে যদিও মাত্র ১২ পেজের বই।
ছোট বইটিতে ছোট ছোট ৭ টা হেড লাইনে যে লেখাগুলো আছে সবগুলোই ছিলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুবসমাজের প্রতি এগিয়ে আসার আহবান। ঔপনিবেশিক প্রভু ইংরেজের বিরুদ্ধে ঘৃণাবোধ থেকে পরাধীনতার বিরুদ্ধে জেগে ওঠার জন্য, সোচ্চার হবার জন্য সাধারণ জনগণ বিশেষ করে যুবসমাজকে এগিয়ে আসতে বলেছে। জাতির দুর্দিনের যাত্রী হবার অনুরোধ করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে লেখক অনেক বেশি উপমার ব্যবহার করেছেন
মহামারি, মারিভয়, ধ্বংস আমাদের উল্লাস। রক্ত আমাদের তিলক, রৌদ্র আমাদের করুনা। এরই মাঝে আমাদের নবসৃষ্টির অভিনব তপস্যা সৃষ্টি হবে। এইরকম কথাই এই মুহূর্তে দরকার ছিল। নতুন করে আর কি বলব। যুগবাণীর মতই প্রায়।