Jump to ratings and reviews
Rate this book

শাইলকের বানিজ্য বিস্তার

Rate this book
মানুষের স্মৃতির কারবারি শাইলক আর তার শিকার সিকান্দারের কাহিনীর আড়ালে শাহযাদ ফিরদাউস ঠিক এই সময়ের সমাজে ব্যাক্তি মানুষের জীবনের সর্বক্ষেত্রে পুঁজির আগ্রাসনের গল্পই আমাদের শুনিয়েছেন এই অভিনব উপন্যাসে। স্মৃতি যে শুধু স্মৃতি নয়, ইতিহাস যে কেবল অর্থহীন ভাবালুতা নয়, অনুভুতির পন্যায়নের এই যুগে খাঁচাবন্দী সিকান্দারের মতো আর অনেক চরিত্রের চুরান্ত অসহায়ত্ব আমাদের সে কথাই স্মরন করিয়ে দেয়।

95 pages, Hardcover

First published January 1, 1999

2 people are currently reading
113 people want to read

About the author

Shahzad Firdaus

13 books23 followers
জন্ম ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৫০। প্রথম জীবনে কবিতা লিখতেন। উভয় বাংলার শ্রেষ্ঠ পত্রপত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। তারপর সিনেমার বিষয়ে উৎসাহী হয়ে উঠলেন এবং এপর্যন্ত বেশ কিছু তথ্যচিত্রসহ ‘তথাগত’ নামে গৌতম বুদ্ধের জীবনের উপর ভিত্তি করে একটি হিন্দি কাহিনিচিত্র তৈরি করেছেন। তাঁর রচনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যতালিকার অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষকরা তাঁর সাহিত্যকর্ম নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং করছেন। ‘ব্যাস’ উপন্যাসের মাধ্যমে নতুন করে সাহিত্যযাত্রা শুরু হয়। তাঁর উপন্যাস নিয়ে প্রখ্যাত সমালোচক পার্থপ্রতিম বন্দ্যোপাধ্যায় ‘শাহ্‌যাদ ফিরদাউসঃ উপন্যাসের সন্দর্ভ’ নামে একটি গ্রন্থ লিখেছেন। স্বপ্না পালিত ও স্বপন ভট্টাচার্য ‘মুখোমুখি শাহ্‌যাদ ফিরদাউস’ নামে একটি সাক্ষাৎকার ভিত্তিক গ্রন্থ তৈরি করেছেন। ‘অ-য়ে অজগর’ পত্রিকা তাঁর প্রথম নয়টি উপন্যাস নিয়ে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে। সাহিত্য এবং চলচ্চিত্র ছাড়াও তিনি সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। কলকাতার রুশ দূতাবাসের সংস্কৃতি দপ্তরের সহযোগিতায় পরিচালিত সাহিত্য সংস্থা ‘প্রগতি সাহিত্য সংবাস’-এর সম্পাদক। শান্তি সংগঠন ‘কলকাতা পিস মুভমেন্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক এবং শান্তিপূর্ণ জীবনের শিক্ষা দেওয়া ও নেওয়ার প্রতিষ্ঠান ‘পিস স্কুল’-এর প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
24 (27%)
4 stars
46 (52%)
3 stars
14 (16%)
2 stars
1 (1%)
1 star
2 (2%)
Displaying 1 - 23 of 23 reviews
Profile Image for Farzana Raisa.
531 reviews238 followers
February 3, 2021
মার্ভেলাস!
প্রচন্ড রকমের মুগ্ধ হয়ে পড়ে গেছি বইটার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।

বইটার অন্যতম যে চরিত্র তার নাম সেকান্দর। বাবা বড় আশা করে এই নাম রেখেছিল, ভেবেছিল মস্ত বড় কিছু একটা হবে সে। কিন্তু না, নুন আনতে পান্তা ফুরায় তার। ছেঁড়াফাটা জামা পড়ে স্কুলে যায় তার বাচ্চারা, খাওয়া দাওয়ার কিছু ঠিক নেই। হাতের শেষ সম্বল একটা জমি বিক্রি করার জন্য মরিয়া হয়ে আছে সে। এমতাবস্থায় দেখা হয় তার নতুন পৃথিবীর অধীশ্বর শাইলকের সাথে। শাইলক! কে সে? সে কি কোন নাম নাকি উপাধি নাকি কোন কোম্পানি না আর কিছু! শাইলকের পরিচয় যাই হোক না কেন সেকান্দর অদ্ভুত এক প্রস্তাব পায়। সে প্রস্তাব গ্রহণ করলে আপাতপদৃষ্টিতে কোন ক্ষতি তো নেই-ই বরং ফোকাটে কল্পনারও অধীক 'মাল্লু' (টাকা, মুদ্রা, ডলার, ভগবান যা-ই বলি না কেন) কামিয়ে নিতে পারবে সে।

আহারে মাল্লু! আহারে টাকা! আহারে ডলার! এ এক অদ্ভুত জিনিস। এই ডলার কিংবা টাকার মুলো দেখিয়ে পুঁজিবাদী বিশ্ব ধীরে ধীরে অক্টোপাসের মতো আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিচ্ছে বোকা মানুষগুলোকে। পুঁজিবাদ এই সমাজে সমাজ, সংস্কৃতি, শিল্প, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, গবেষণা, অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ-সব যেন পণ্য। লেখকের ভাষায়, বিক্রি হবার আগে বিকৃত হব, বিক্রি হবার পর আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত হব। আগে যেমন হাট বাজারে দাস কেনাবেচা হতো, বর্তমানেও হয় তবে সেটা ভিন্নরূপে, ভিন্নভাবে, আরও অনেকখানি আধুনিকভাবে।

শেক্সপীয়ারের শাইলকের কথা মনে আছে? নতুন যুগের শাইলকেরা আরও বেশি ভয়ংকর! আরও বেশি নির্মম।

আপনি যদি টাকার জন্য নিজের জীবন বাজি না রাখেন কিংবা আপনি যদি কেবল টাকার জন্য জীবন বাজি রাখেন তবে হ্যা উভয় পক্ষকেই বলছি শাইলকের ভয়ংকর দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম। :)
Profile Image for Harun Ahmed.
1,662 reviews422 followers
October 14, 2021
৩.৫/৫

উপাখ্যানের মূল চরিত্র সিকান্দার শাইলকের কাছে তার অতীত বিক্রি করে দেয় এক কোটি টাকার বিনিময়ে।শুরু থেকে লেখকের উদ্দেশ্য বোঝা যাচ্ছিলো স্পষ্টভাবে। কী হবে জানার পরেও সেই লেখা শেষ পর্যন্ত আগ্রহ নিয়ে পড়া দুরূহ ব্যাপার কিন্তু বক্তব্যপ্রধান লেখা হওয়া সত্ত্বেও এই বইটা পড়তে ভালো লেগেছে।সম্পূর্ণ কৃতিত্ব লেখকের।

পুঁজিবাদের নির্মম আগ্রাসন নিয়ে লেখা এই উপন্যাসের সুর বড় বেশি চড়া সুরে বাঁধা।একটুও আড়াল নেই।একই বিষয়ে লেখা আহমাদ মোস্তফা কামালের "বিজ্ঞাপন ও মানুষের গল্প" কিংবা উদয় ভাদুড়ীর গল্প যেভাবে আন্দোলিত করে,এই বইটি সেই পর্যায়ে আন্দোলিত করতে পারে না অতিরিক্ত স্পষ্টবাদিতার জন্য।এছাড়া বইটি উপন্যাস না হয়ে নাটক হলে সবদিক দিয়ে মানানসই হতো বলে মনে হয়।উপন্যাসের সেট,সংলাপ,চরিত্র,কাহিনি সবই বারবার নাটকের কথা মনে করিয়ে দেয়।
তারপরেও নিওন আলোয় যখন সবকিছু পণ্য হয়ে যাচ্ছে,আত্মা বিক্রি করা ছাড়া যখন পথ নেই,শে গাভারা যখন মানুষের অন্তর্বাসে ঠাঁই পাচ্ছে,আমরা হয়ে যাচ্ছি বিকৃত ও বিক্রীত-তখন এ ধরনের উপন্যাস লেখা ও পাঠ করা উভয়ই জরুরি।
Profile Image for Amit Das.
179 reviews117 followers
June 18, 2021
যে একা একা অন্যের মাল গোপনে আত্মসাৎ করে তাকে বলে চোর, যে সদলবলে অন্যের মাল জোর করে আত্মসাৎ করে তাকে বলে ডাকাত। আর যে ডাকাত একটা দেশ লুট করে তাকে বলে বীর!


টাকার বিনিময়ে কীভাবে মানুষের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, ক্ষোভ, ক্রোধ, বিপ্লব, আত্মা, আশা, আকাঙ্ক্ষা, কামনা, বাসনাসহ সমগ্র জীবন বাজারের পণ্যের মতো বিশ্বায়নের বিশ্বহাটে বিক্রি হয়ে যায় তার নির্মম রূপই মূলত শাইলকের বাণিজ্য বিস্তার উপন্যাসের প্রধান উপজীব্য। এখানকার শাইলক যেন শেক্সপীয়রের শাইলকের চেয়েও আরো বেশি ভয়ংকর, আরো বেশি বীভৎস!

...এক কথায় বলা চলে, তিনি হচ্ছেন শাইলক দ্য গ্রেট। আপনারা অদূর ভবিষ্যতে আর ভগবান খোদা বা বিধাতার ভরসা করবেন না, তখন বলবেন- শাইলক আমায় রক্ষা করো! শাইলক যারে দেয় ছাপ্পড় ফুঁড়ে দেয়! শাইলক মেঘ দে পানি দে, শাইলক মেঘ দে! রাখে শাইলক মারে কে! এমনি সব নতুন প্রবচনে আপনার ভাষা সমৃদ্ধ হবে৷ অর্থাৎ শাইলক অমনিপ্রেজেন্ট, অমনিসায়েন্ট, অমনিপোটেন্ট! তার হাত থেকে কারো নিস্তার নেই!


উপন্যাসটি লেখার সময় বিশ্বায়নের প্রকোপ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েনি। তখনই লেখকের মনে হয়েছিল, স্বল্পকালের ভেতর আমরা এমন এক বণিক সভ্যতার গহ্বরে প্রবেশ করতে বাধ্য হব যা আমাদের নিয়ে যাবে গভীরতর অন্ধকারের দিকে। আমরা বিক্রি হওয়ার আগে বিকৃত হব এবং বিক্রিত হওয়ার পর চিন্তাচেতনাহীন দাসানুদাসে রূপান্তরিত হব!
যারা মুদ্রার জন্য নিজের মূল্যবান জীবন বাজি রাখতে কিংবা মনুষ্যত্ব বিসর্জন দিতে অস্বীকার করে; এবং একইসাথে শুধুমাত্র মুদ্রালাভের জন্য জীবনপণ করতে যারা পিছুপা হয়না উভয় দলকেই যেন এক অঘোষিত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়া হয়েছে এই উপন্যাসে।

শাইলকের সাম্রাজ্যে কোনো মানুষ জীবিত নয় মৃতও নয়, বিক্রিত। কোনো বিক্রিত মানুষ বাঁচতেও পারে না, মরতেও পারে না।


শাহযাদ ফিরদাউসের লেখা পড়া হলো এই প্রথমবার। তাঁর গদ্য এত সুখপাঠ্য, এত ঝরঝরে যে একশো দশ পৃষ্ঠার বই এক বসায় শেষ করে ফেলতে বেগ পেতে হয়নি খুব একটা।
Profile Image for Daina Chakma.
440 reviews773 followers
June 29, 2018
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা লাভের আশায় আমরা প্রতিদিন একটু একটু করে নিজেকে বিক্রি করছি। বিকিয়ে দিচ্ছি নিজের অতীত, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভাষা, স্বপ্ন আর ইচ্ছে। খুন করছি নিজের স্বত্বাকে।

বইটা পড়ে আমার একটা কথায় মনে হয়েছে - কি ভয়ংকর! পুঁজিবাদের আগ্রাসন এতোটা ভয়াবহ!!
Profile Image for Musharrat Zahin.
404 reviews490 followers
September 6, 2025
এই বইটা আমাদেরকে বাণিজ্য, অর্থনীতি আর মানব-চরিত্রের এক সূক্ষ্ম সংযোগ দেখায়।

শেক্সপিয়ারের"মার্চেন্ট অব ভেনিস" নাটকটা পড়ে থাকলে শাইলক নামটা আপনার পরিচিত ঠেকার কথা। নাটকটিতে শাইলককে এক বিশেষ শ্রেণির প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়। নাটকে শাইলককে আমরা দেখি এক জন ঋণদাতা হিসেবে, যে অর্থের বিনিময়ে সম্পর্ক, বিশ্বাস আর মানবিকতার সীমা পর্যন্ত ঠেলে যায়। তার ব্যবসায়িক যুক্তি বেশ সহজ– টাকা নিবা মানে টাকা ফেরতও দিবা, লেনদেনের সম্পর্কে মানবিক আবেগের জায়গা নেই। তার বাণিজ্যিক যুক্তি ছিল নির্মম, কিন্তু সেই নির্মমতাই তাকে যুগে যুগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

"শাইলকের বানিজ্য বিস্তার" বইতে লেখক শাইলকের সেই বাণিজ্যিক মানসিকতাকে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় মিলিয়ে দেখিয়েছেন। কেবল অর্থ নয়, কিভাবে বাণিজ্য মানুষের চরিত্র, নৈতিকতা ও সামাজিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করে— সেটিই এই বইয়ের আলোচনার মূল জায়গা। এখানে শাইলক শুধু কোনো বস্তুর কেনাবেচা করে না, এখানে শাইলক মানুষের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত সবই টাকার বিনিময়ে কিনে নেয়। ক্ষনিকের জন্য আপনার মনে হতে পারে যে আমার অতীত তো চলেই গেছে, এটার আর কাজ কী? বরং মোট�� অংকের বিনিময়ে বেঁচেই দিই৷ 

অতীতের কি আসলেই কোনো কাজ নেই? আমাদের অতীত জুড়ে আছে মা-বাবার সাথে ছোটবেলার স্মৃতি, ভাইবোনের সম্পর্ক, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে প্রথম পরিচয়সহ আরো কত কিছু! এসব স্মৃতি বিকিয়ে দিতে কী আপনার হাত কাঁপবে না?

বইয়ের শাইলক আজকের বাজার অর্থনীতির প্রতীক, যেখানে লাভ-ক্ষতির হিসেব মানবিকতাকে প্রায়শই ছাপিয়ে যায়। বইটি ছোট হলেও এর চিন্তার পরিসর অনেক বড়। এটি পাঠকের মনে প্রশ্ন তোলে, বাণিজ্য কি শুধুই মুনাফার হিসাব, নাকি এর ভেতরেও লুকিয়ে থাকে মানবিকতার পরীক্ষা?
Profile Image for Onu Tareq.
29 reviews210 followers
June 29, 2022
“আমার ধর্ম নেই, সংস্কার নেই, নিরাপত্তার সংকট নেই, লোকবলের অভাব নেই, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমার কোনো প্রতিপক্ষ নেই। আমার সমস্ত প্রতিপক্ষকে ডলার ধার নিয়ে তাদের কোমর ভেঙে দিয়েছি। তাদের বিরোধিতা করার ক্ষমতাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছি। তাই কখনো আমার পরাজয় ঘটবে না। ঘটতে পারে না। অবশ্যম্ভাবী আমার বিজয়। আপনারা যাকে খোদা, বিধাতা বা ঈশ্বর বলেন- আমি তাই! অমনিপ্রেজেন্ট, অমনিসায়েন্ট,অমনিপোটেন্ট!”

এই হচ্ছে শাইলক, পুঁজি, পুঁজিবাদ নয় কিন্তু আবার, পুঁজি! যাকে নিয়ে লেখা এই অসাধারণ অভিনব বইটি।
‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্যে আর সব জায়গায় দাসত্ব করবো সেও ভালো। টাকার বান্ডিল হাতে এলে সমস্ত দাসত্বই মধুর, মনোরম, উপভোগ্য!’- তাই কী? হয়তো তাই আমাদের সময়ের সভ্যতায়, তাই শাইলকের ভৃত্য মুখের উপরে বলে,
“ আমার কোন দেশ নেই। পৃথিবীর সর্বত্র আমার দেশ। অন্যভাবে বলা যায় আমরা কোন দেশের অস্তিত্ব মানি না। যেখানে লাভের সম্ভাবনা আছে, যেখানে টাকা আছে সেখানেই আমরা আছি। সেটাই আমাদের দেশ।“

কিন্তু টাকার জন্য তোঁ সব বিক্রি করে দিতে মুখিয়েই আছি আমরা- অতীত ভবিষ্যৎ বর্তমান এমনকি অস্তিত্ব বা আত্মা। ! তাহলে -, আবেগপ্রবণ প্রবীণেরা বলে উঠে,
“ অতীত! তার মানে তোমার ঐতিহ্য, তোমার সংস্কৃতি, তোমার ইতিহাস, তোমার পূর্বপুরুষের আশা আকাঙ্খা, তোমার স্মৃতি, তোমার সমস্ত সত্ত্বার তিন ভাগের এক ভাগ!”

পুঁজির মারাত্নক লোভ, কৃত্রিম চাহিদার প্রবল আয়োজন ও আমাদের অন্ধ সমাজ নিয়ে অভিনব ভাবে বলে যাওয়া এই প্রফেটিক ৮৫ পাতার বইটি অবশ্য অবশ্য পাঠ্য।

১৯৯৯ সালে কোলকাতায় প্রথম প্রকাশিত হলেও বাংলাদেশে ২০১১ সালে প্রকাশ করেছিল ‘সংহতি’। গায়ের দাম ১৬০ টাকা।

বর্তমান সভ্যতার সংকটকে আত্মস্থ করতে চাইলে এই চেতনার সাথে পরিচিত হওয়া জরুরী। বইটি পড়ে অনেক আগে দেখা অ্যাল প্যাচিনো ও কিয়ানু রিভস অভিনীত বিখ্যাত ‘ডেভিল’স অ্যাডভোকেট’ চলচ্চিত্রের কথা মনে পড়ে গেল।


Profile Image for Shuk Pakhi.
512 reviews311 followers
May 1, 2020
কোথায় আছি আমরা? কি করছি নিজেকে নিয়ে? নিজের আর পরের অতীত বর্তমান ভবিষ্য়ত সব বিকিয়ে দিচ্ছি কি পাওয়ার স্বার্থে?
ছোট্ট বইতে বিশাল শক্তিশালী মেসেজ।
অসামমমমম লাগলো।
Profile Image for Swajon .
134 reviews76 followers
March 1, 2018
ভালোই লেগেছিল প্রথম দিকে, বেশ ভালো। কিন্তু কয়েক পৃষ্ঠার পরই আন্দাজ করেছিলাম উপন্যাসটা একটা মেসেজ দিতে চায়, শেষ অবধি দেখলাম সেটাই এবং যেরকম ভেবেছিলাম মেসেজটা সে রকমই।
ভালো মেসেজ। অর্থই অনর্থের মূল। চরম বস্তুগত টাকা এবং বর্তমানে তার বহুজাতিক ভার্সন ডলালের কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে ব্যক্তির যা কিছু স্থাবর, অস্থাবর সব। ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভাষা ধূলোয় লুণ্ঠিত ।
সবই ঠিক আছে। কিন্তু as a work of fiction, ভালো লাগে নি তেমন।
Profile Image for Shuvo.
84 reviews3 followers
March 3, 2024
★৩.৫/৫

যথাযথ আবহ তৈরি করা গেলে মঞ্চনাটক হিসেবে দারুণ উপভোগ্য হবে। স্পষ্ট, ঝরঝরে লেখা। লেখক যা বলতে চেয়েছেন সরাসরি বলেছেন, কোথাও কোনো ভণিতার আশ্রয় নেন নি।
বইটা আয়তনে অনেক ছোট।
অনেক আগেই সফটকপি ডাউনলোড করে রেখেছিলাম। আজকে বোরিং একটা ক্লাশের মাঝে স্বল্পসময়েই চুপেচুপে পড়ে ফেললাম।
Profile Image for Mosharaf Hossain.
128 reviews99 followers
May 24, 2017
প্রিয় বন্ধুর মুখ থেকে যেদিন বইটির নাম শুনেছিলাম, সেইদিন থেকে হন্য হয়ে খুঁজছিলাম। প্রায় দেড় বছর পর গত সপ্তাহে যখন সংহতিতে ঝকঝকা প্রিন্টের বইখানা দেখলাম, কেনার লোভ আর সামলাতে পারিনি। এক বুক আশা নিয়ে শুরু করি, আহ! অদ্ভুত এক ভালো লাগার মধ্যে দিয়ে পড়া শেষ হয়ে যায়।

লেখক শাহযাদ ফিরদাউসের অভিনব এক কাহিনীর বই 'শাইলকের বানিজ্য বিস্তার।' মানব জীবনের সর্বক্ষেত্রে পুঁজির যে ভয়াবহ আগ্রাসন আমাদের পঙ্গু করে দিচ্ছে, লেখক সেই গল্প শুনিয়েছেন। আমাদের স্মৃতি, আমাদের ইতিহাস যে শুধুই অর্থহীন ভাবালুতা নয়, লেখক তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। লেখক তুলে ধরেছেন সেই চিত্র, যেখানে আমরা বিক্রি করে দিচ্ছি প্রতিদিন আমাদের।

গল্পের মূল চরিত্র সিকান্দার। দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত সিকান্দারের ভাগ্য একদিন আচমকাই বদলে যায়। শাইলক নামক এক ব্যবসায়ী তার কাছে সিকান্দারের অতীত, বর্তমান সব কিনে নেয় কোটি টাকার বিনিময়ে। সিকান্দার বলেন, "আমার হৃদয় বন্ধক দিয়ে আমি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করেছি। যেমন আপনি আপনার অতীত অর্থাৎ ঐতিহ্য বিক্রি করে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করেছেন।"

কিন্তু শাইলকের স্বপ্ন শুধু অতীত কেনাবেচায় সীমাবদ্ধ না। শাইলক স্বপ্ন দেখে, এমন একটা দুনিয়ার যেখানে মানুষের নিজস্ব ভাবনা বলে আর কিছু থাকবে। সবাই কথা বলবে একটা ভাষায়। ভিন্ন সংস্কৃতি বলে আর কোনো কিছু অবশিষ্ট থাকবে না। নিজের নীতি সম্পর্কে শাইলক বলেন, "পৃথিবীকে একটা ভাষাভাষী দেশ করে তোলা, পৃথিবীকে একটা সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে ফেলা। পৃথিবীকে একটা বড় বাজারে রূপান্তরিত করা। পৃথিবীর সমস্ত অনুন্নত এবং বিচ্ছিন্ন সংস্কৃতি ধ্বংস করে একটামাত্র সংস্কৃতির আয়ত্তাধীন করা।"

অতীত বেঁচে সিকান্দার অর্থনৈতিক মুক্তি পেলেও আত্নার মুক্তি পায় না। সিকান্দারের বাবা এবং ছেলেরা সিকান্দারের কাছ থেকে দূরে সরে যায়। সিকান্দারের বাবা বলেন, "কার জন্যে সিকান্দার, কার জন্যে তোমার এই অর্থনৈতিক স্বাধীনতা? নিজের বিক্রিত অস্তিত্বের জন্যে?"

সিকান্দার ভাবতে থাকে, "সামনে অনন্ত দাসত্বের যুগ। সেই অন্তহীন দাসত্বের জন্যে এখন প্রস্তুত হতে হবে। পরস্পরের চোখের দিকে তাকিয়ে জীবনের শেষ, সর্বশেষ শক্তিটুকু সঞ্চয় করে নিতে হবে।" সিকান্দার যতক্ষনে নিজের অপরাধ বুঝতে পারে, ততক্ষনে অনেক দেরি হয়ে যায়।

শাহযাদ ফিরদাউস খুব কম কথায় তুলে ধরেছেন আমাদের বর্তমান সমাজটাকে সেই ৯০ এর দশকে। তিনি বুঝিয়েছেন, আমরা কোন ভয়াবহতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, পুঁজিবাদের হাত ধরে। লেখক বলেন, "যে একা একা অন্যের মাল গোপনে আত্মসাৎ করে তাকে বলে চোর। যে সদলবলে অন্যের মাল জোর করে দখল করে তাকে বলে ডাকাত। আর যে ডাকাত একটা দেশ লুট করে তাকে বলে বীর"।

সবার জন্য অবশ্য পাঠ্য একটা বই, খুব ��োট্ট কিন্তু রেশ থেকে যায় অনেক্ষন।
Profile Image for Md Khalid Rahman.
137 reviews38 followers
April 21, 2020
নিজের অতীত বিক্রি করে দেওয়ার বই । অভিনব!
Profile Image for Shaid Zaman.
290 reviews47 followers
December 12, 2015
"শাইলকের বানিজ্য বিস্তার" বইটি যখন হাতে পেলাম তখন এই বইয়ের প্রতি আমার আগহ চরমে। কারন আমার এক বন্ধু যে একজন দারুণ পাঠক ও বলা চলে বইটার অনেক প্রশংসা করেছে অনেকদিন ধরেই এবং বইটা আমি তার কাছ থেকে ধার করেই পড়েছি। সাধারনত দেখা যায় প্রচন্ড আগ্রহ নিয়ে যখন কোন বই পড়ি বা মুভি দেখি তখন আশা পুরোটা পূরণ হয়না। তবে এ বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠা থেকে শেষ পৃষ্ঠা আমাকে আঠা�� মতোই আটকে রেখেছে বললে খুব একটা ভুল বলা হবে না।

লেখক শাহযাদ ফিরদাউস একটা অভিনব কাহিনী গঠন করেছেন। শাইলক নামক একজন প্রচুর টাকা নিয়ে বাজারে নেমেছে সবকিছু কিনতে। সে এমনকি মানুষের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন, কামনা, বাসনা ও কিনে নেয় টাকার বিনিময়ে। আর এই টাকার লোভে দরিদ্র সিকান্দার তার অতীত বেচে দেয় অনেক টাকার বিনিময়ে শাইলকের কাছে। সিকান্দার বেঁচে দেয় তার সোনালি অতীত যেখানে সে তার বাবার হাত ধরে স্কুলে গিয়েছে, বাবার ঘারে চরে ঘুরে বেরিয়েছে, মা এর আচলের তলে পৃথিবীর সুখ খুজে পেয়েছে, এমনকি নিজের ছেলে হাত ধরে মেলায় ঘুরতে নিয়ে গিয়েছে। টাকার লোভ তাকে বুঝতে দেয়নি সে কি বেঁচে দিয়েছে। তার সমস্ত অতীত অর্থাৎ তার সমস্ত অস্তিত্ব সে বেঁচে দিয়েছে শাইলক এর কাছে। তার দেখাদেখি তার এক বন্ধু তার পুরো পরিবারের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সব বিক্রি করে দেয়। কিন্তু সিকান্দার এর টনক নড়ে তার ছোট্ট ছেলেটা চিৎকার করে কাঁদতে থাকে তার বাবা তার হাত ধরে ঘুরে বেড়ানো কে বেঁচে দিয়েছে শুনে। ধীরে ধীরে সিকান্দার বুঝতে পারে সে কি ভুল করেছে। তার অস্তিত্ব কিভাবে সে বিলীন করে দিয়েছে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

এভাবেই লেখক রুপকের মাধ্যমে পুজিবাদের আগ্রাসনের ভয়াবহতা দেখাতে চেয়েছেন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে। তিনি আমাদের টনক নাড়াতে চেয়েছেন। বোঝাতে চেয়েছেন কি ভয়াবহতার দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। কিভাবে আমরা আমাদের স্বকীয়তা বেঁচে দিচ্ছি। আমাদের সমাজ ব্যাবস্থাকে বিদ্রুপ করতে গিয়ে লেখক এক জায়গায় বলেছেন- "যে একা একা অন্যের মাল গোপনে আত্মসাৎ করে তাকে বলে চোর। যে সদলবলে অন্যের মাল জোর করে দখল করে তাকে বলে ডাকাত। আর যে ডাকাত একটা দেশ লুট করে তাকে বলে বীর"। তাই নয় কি? আলেকজেন্ডার, নেবুচাদ, চেঙ্গিস খান এদের কি আমরা বীর বলি না?

বইটার ব্যাপারে সংক্ষেপে বলা যায় অসাধারন। তবে বইটা বেশ ছোট। প্রত্যেকের একবার হলেও পড়া উচিৎ বলে আমি মনে করি।
Profile Image for Naziur Rahman.
Author 1 book68 followers
April 29, 2022
উপন্যাসটা আজকের দিনের কথা নিয়ে আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে (১৯৯৯) সালে লেখা বলা চলে। ক্যাপিটালিজমের চূড়ান্ত রূপ, সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দৈন্যতা, সারভাইবাল ইন্সটিংক্ট এবং আধুনিক ক্যাপিটালিস্টদের প্রতিষ্ঠা করা নিয়ম অনুযায়ী 'অর্থনৈতিক স্বাধীনতা' নামের অলিক চিলের পিছনে দৌড়াতে গিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলার কাহিনী।
উপন্যাসটা গঠনে যতটা উপন্যাস হয়ে উঠেছে তার চেয়ে বেশি এটা পড়তে গেলে এটাকে একটা মঞ্চনাটক বলেই মনে হয়। এবং আসলেও এই বই নিয়ে ওপার এবং এপার বাংলায় মঞ্চনাটক হয়েছে এবং হচ্ছে।
বইয়ের ভিতরের কাহিনী বা কন্টেন্ট নিয়ে বেশি কিছু বলার নাই। খুব ছোট বই। টানা পড়লে দুই থেকে তিন ঘন্টার বেশি কারো লাগবার কথা না। তবে শাহযা্‌দ ফিরদাউসের দুটো উপন্যাস খুব কম সময়ের ব্যবধানে পড়ার সুযোগ হবার ফলে যেটা মনে হল যে লেখক হিসাবে উপন্যাসের ন্যারেটিভকে তাড়ায়ে তাড়ায়ে জাল বিস্তার করার চেয়ে লেখক বেশি পছন্দ করেন পাঠককে একটা স্বল্প সময়ের ঘোরের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে চরিত্রের মাধ্যমে পাঠকের মনে বেশ কিছু প্রশ্ন ঢুকিয়ে দিয়ে একটা ধাক্কার সৃষ্টি করতে। ব্যসও যেমন যতটা না ছিল ইতিহাস আশ্রয়ী, তার থেকে অনেক বেশি আমার মনে হয়েছে দর্শন আশ্রয়ী।
তবে এই উপন্যাস পড়ে, উপন্যাসের বাইরে গিয়ে কিছু প্রশ্ন আমার মাথায় এসেছে। ক্যাপিটালিজম বা কনজিউমারিজম নিয়ে আমরা ভীত, কিন্তু এই জনরার আগে আমাদের হাতে কি ছিল? বিশ্বব্যাপি বিশ্বায়ণের জাল বিস্তার পুরোদমে শুরু হয় সম্ভবত আশির দশকে। কলোনিয়ালিজমের শেষ আর ক্যাপিটালিজমের বিস্তার এর মাঝে কিছুটা সময় কোন অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক তত্ত্বের উপর দুনিয়া চলত? কলোনিয়াল সময়েও তো মানুষ আসলে দাসই ছিল। কেউ সীল দেয়া দাস আর কেউ খাজনা দেয়া দাস। কিন্তু মৌলিক পার্থক্য হয়ত এই যে তখন শারীরিক দাসত্ব ছিল আর এখন আমরা ভিতর থেকে স্বেচ্ছায় অবচেতনে মানসিক ভাবে দাস হয়ে যাচ্ছি। আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, চিন্তা ভাবনা সবই স্বেচ্ছায় বিকোয়ে দিচ্ছি। কিন্তু এর পরবর্তীতেই বা কি আসবে? একসময় ব্যক্তি সবার উর্ধ্বে ছিল (রাজা, সম্রাট, কিং আর তার পরিবার।) কিন্তু সেটা ছিল অঞ্চল ভিত্তিক। তারপর গেল ন্যাশনালিজমের যুগ, ব্যক্তির থেকে দেশ বড় অথবা জাতি বড়। সীমানাভেদ আসল, কাঁটাতার আসল। তারপর গণতন্ত্র আসল, যেখানে মানুষকে শেখানোর চেষ্টা করা হল যে সবাই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ হিসাবে সবার মতামতের দাম আছে। এখন আবার ধীরে ধীরে, দেশ-জাতি-মানুষ থেকে ব্যক্তি অনেক অনেক বড় হয়ে উঠছে। এবং সেটা গ্লোবাল স্কেলে। এবং সেটা আরো ভয়ংকর। মানুষকে এখনো বোঝানো হচ্ছে যে সে-ই গুরুত্বপূর্ণ, তার চিন্তার, কথার এবং চয়েসের দাম আছে। কিন্তু প্রতিদিন অল্প অল্প করে আমাদের চিন্তা-কথা-চয়েসকেও ম্যানিপুলেট করা হচ্ছে। এবং ধীরে ধীরে মানুষ হিসাবে আমাদের মধ্যে ব্যক্তিগত, জাতিগত বা ভৌগলিক সব পার্থক্য বা স্বাতন্ত্রকে ইকটু ইকটু করে মুছে দেয়া হচ্ছে। এর ভবিষ্যত কি?
Profile Image for Edward Rony.
90 reviews9 followers
July 8, 2025
শাইলকের বাণিজ্য বিস্তার: বিশ্বায়নের শৈথিল্যে স্বত্বাহীন মানুষের প্রতিচিত্র

শাইলক—এক নাম, যা সাহিত্যের পাঠকমাত্রই চেনেন শেক্সপীয়রের The Merchant of Venice নাটক থেকে। সেই শাইলক ছিলেন অর্থলোলুপ, প্রতিহিংসাপরায়ণ এক মহাজন, যিনি সুদের নামে মানুষের রক্ত চেয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান পৃথিবীর শাইলক আরও ভয়ংকর, আরও পরিপার্শ্বগত। এই শাইলক আর কেবল ব্যক্তিমানস নয়—এ এক পরিপূর্ণ পুঁজিবাদী ব্যবস্থার প্রতীক, যার নাম বিশ্বায়ন।

‘শাইলকের বাণিজ্য বিস্তার’ উপন্যাসে এই আধুনিক শাইলক বাণিজ্য করে মানুষের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ—মানুষের সময়চক্রের তিনটি স্তম্ভ নিয়েই।

অতীত কেবল ইতিহাস নয়, সেটি মানুষের অস্তিত্বের শিকড়। এখানে নিহিত থাকে এক জাতির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, পূর্বপুরুষের সংগ্রাম ও স্বপ্ন। কিন্তু সেই অতীতকেও আজকের শাইলক কিনে নিচ্ছে, বিক্রি করছে প্যাকেজড সংস্কৃতির মোড়কে।
বর্তমান আর ভবিষ্যৎ? তা-ও বাদ যায় না। এই শাইলক কিনে নেয় মানুষের হৃদয়, কামনা, ক্রোধ, ভরসা ও স্বপ্ন। মানুষ আজ নিজেদের চেতনাগত সত্তা হারিয়ে হয়ে যাচ্ছে এক ভোগবাদী ব্যবস্থার যন্ত্রাংশ।

‘অর্থনৈতিক মুক্তি’র মোহে আমরা ডলারের বিনিময়ে বিকিয়ে দিচ্ছি নিজেদের—শুধু শ্রম নয়, আমাদের বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতিও। বস্তুগত সম্পদের পেছনে ছুটতে গিয়ে হারিয়ে ফেলছি অবস্তুগত সেইসব অমূল্য উপাদান, যা আমাদের মানুষ করে তোলে।

‘শাইলকের বাণিজ্য বিস্তার’ সেই ভয়ংকর শাইলকের প্রতিচিত্র তুলে ধরে, যে বিশ্বায়নের নামে ধীরে ধীরে গিলে ফেলছে মানুষকে। শাইলক হয়ে উঠছে অমনিপ্রেজেন্ট, অমনিসাইয়েন্ট, অমনিপোটেন্ট। এই উপন্যাস একটি সতর্কবার্তা—এক আত্মজিজ্ঞাসা, আমরা আদৌ কতটা স্বাধীন?
Profile Image for প্রিয়াক্ষী ঘোষ.
364 reviews34 followers
April 14, 2023
হাঠাৎই একদিন এক কোটি টাকার বিনিময়ে নিজের অতীতটা বিক্রি করে দিয়ে সিকান্দার রাতারাতি বড়লোক হয়ে গেল। টাকা হাতে পাবার সাথেসাথে তার চারপাশটা আমুল বদলে গেল। চাইলেই সে এখন সব কিছু ই পেতে পারে। সুখ এখন হাতের মুঠোয়। টাকা মানে সম্পদ, নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি, সুখ, আনন্দ। টাকায় হাত বুলাতেই এক প্রকার প্রশান্তি পায় সে, আত্মপ্রত্যয় বাড়ে ।
তবে অতীত! সে তো নিজেরই ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস।
পূর্বপুরুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, কামনা-বাসনা, স্মৃতি, সমস্ত সত্তার তিন ভাগের এক ভাগ। সেই অতীত বিক্রি করে সুখে- সাচ্ছন্দ্যে থাকবে সিকান্দার?

মানুষের অতীত স্মৃতি নিয়ে কেনাবেচা শাইলক আর তারই শিকার সিকান্দারের কাহিনি নিয়েই "শাইলকের বানিজ্য বিস্তার "।
উপন্যাসের শুরুতেই সিকান্দারের অতীত বিক্রি হয়ে গেল। এখানে স্পষ্ট হয়ে গেল লেখকের উদ্দেশ্য তবু পড়ার আগ্রহ একটুও হারিয়ে গেলো না। পুরো কৃতিত্ব টা লেখকেরই।

পুঁজিবাদী এই সমাজে মানুষ না চাইতেই কিভাবে কৃত্রিম চাহিদার জালে জড়িয়ে পড়ছে, পুঁজিবাদের সেই আগ্রাসন নিয়ে লেখা এই উপন্যাস যা রুপকের মাধ্যমে লেখক বোঝাতে চেয়েছেন।
স্মৃতি যে কেবলই স্মৃতি নয়, ইতিহাস যে কেবল অর্থহীন ভাবালুতা নয়, অনুভূতির পণ্যায়নের এই যুগে লেখক সিকান্দারের চরিত্রের মধ্যে দিয়ে মনে করিয়ে দিলেন।
Profile Image for Mahmudur Rahman.
Author 13 books357 followers
Read
May 7, 2020
মানুষ একটু একটু করে নিজেকে বিকিয়ে দেয় অর্থের কাছে। ব্যবসার জন্য কিছু মানুষ কিনে নেয় অন্য মানুষকে। দাস ব্যবসা এখন না থাকলেও আমরা আটকা পড়ে গেছি এমন এক চক্রে যেখানে অর্থের কাছে নিজেকে বিকিয়ে দেই আমরা।
শাহযাদ ফিরদাউস সেই গল্পই বলেছেন। শেক্সপিয়রের শাইলকের চেয়েও ভয়ানক মানুষেরা আমাদের চারপাশে রয়েছে। যারা খুব চতুরতার সাথে আমাদের সত্তা নিয়ে ব্যবসা করে আর আমরা না বুঝেই বিকিয়ে যাই।
এ গল্প গ্রহণ করার ক্ষমতা খুব কম পাঠকেরই আছে। আমার মনে হয় ছোট এইটা বইটা পড়তে পড়তে একজন পাঠক প্রতি মুহূর্তে নিজেকে, নিজের সমাজকে নিজের অস্তিত্বকে প্রশ্ন করতে বাধ্য হবেন। যদি না করেন, তাহলে তার সত্ত্বা বিক্রি হয়ে গেছে বলে ধরে নেওয়া যায়।
Profile Image for Inja  mam.
1 review1 follower
December 31, 2019
যে নিজের অতীত বেচে দেয় সে জারজ সন্তান। আসলেই তাই। এই বইটি দেখানে হয়েছে কিভাবে আমাদের সংস্কৃতি পাশ্চাত্য সভ্যতার আদলে হারিয়ে গিয়েছে।একটা জাতি তার সাহিত্য সংস্কৃতি নিয়ে বেঁচে থাকে। কিন্তু আমরা সেগুলো বিকিয়ে দিয়েছি। নিজস্বতা বলতে আমাদের কিছুই থাকে না৷ এই বইটিতে শাহজাদ ফিরদউস সেগুলোই দেখিয়েছেন। প্রতিটি মানুষের একবার হলেও এই বইটি পড়া উচিৎ। <3
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Shotabdi.
819 reviews199 followers
November 12, 2024
শাহযাদ ফিরদাউস প্রথম পড়া হল। বাংলাতে যে এমন অভিনব, সাহসী একটা উপন্যাস রয়েছে না জানার গ্লানিতে এক বসাতে বইটা পড়ে শেষ করলাম। বিষয়টা ভাবনায় থাকলেও বইটা পড়তে গিয়ে শিউরে শিউরে উঠছিলাম। পুঁজিবাদী আগ্রাসন থামানোর কোন উপায় আর নেই। আমরা প্রত্যেকেই কম বেশি নিজেদের বিক্রি করেই টিকে আছি। কীই বা উপায় আছে এ ছাড়া? একটি পুঁজিবাদী পৃথিবীতে?
Profile Image for Nasrin Shila.
266 reviews88 followers
March 27, 2020
সচরাচর পড়া উপন্যাস থেকে ভিন্ন।

প্রথমদিকে বেশি ভালো লাগছিল। শেষ পর্যন্ত সেটা বজায় না থাকলেও সব মিলিয়ে ভালো।

৯৯ সালে লেখা বই দেখে আরও অবাক হয়েছি, ভেবেছিলাম সম্প্রতি লেখা। লেখকের দূরদৃষ্টির প্রশংসা করতে হয়।
Profile Image for হাসান মাহবুব.
Author 15 books91 followers
November 8, 2021
বইটার বক্তব্য ভালো। তবে কিছুটা প্রেডিক্টেবল লাগতে পারে। বইটি শুরু করার সময় যা ভেবে এগুবেন, শেষ করে দেখবেন যে তাই। সংলাপগুলি মঞ্চ নাটকের মত, তবে উপভোগ্য। শেষদিকে কবরস্থানের দৃশ্যকল্প ভালো লেগেছে।
Profile Image for Abu khan.
51 reviews6 followers
October 7, 2018
বর্তমান পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই প্রতিনিয়ত ছুটছে অর্থ উপার্জনের পেছনে। কেউ হয়তো শ্রম ও মেধা ব্যয় করে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে, আর কেউ সুযোগ নিচ্ছে চতুরতার। কেউ অনেক পরিশ্রম করে বিপুল অঙ্কের মালিক হচ্ছে, বিপরীতে কেউ রাতারাতি সেই সম্পত্তি হাতিয়ে নিচ্ছে। নীতিগত দিক থেকে এই দুই শ্রেণী দ্বিমুখী হলেও উদ্দেশ্যগত দিক থেকে উভয়ই কিন্তু এক! কেননা, উভয়ের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন। আর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করতে গিয়ে আমরা প্রত্যেকেই নিজের অজান্তে হয়ে যাচ্ছি পুঁজিবাদের দাস। লেখক শাহ্‌যাদ ফিরদাউসের উপন্যাস ‘শাইলকের বাণিজ্য বিস্তার’ পাঠককে পুঁজিবাদের এই ভয়ঙ্কর আগ্রাসন সম্পর্কে ভাবাতে বাধ্য করেছে। চোখে আঙ্গুল দিয়ে পাঠকের ঘুমন্ত সত্ত্বাকে দেখিয়েছে, কীভাবে আমরা হারাচ্ছি আমাদের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ।
Profile Image for ইমরান.
Author 1 book19 followers
January 16, 2018
শুরুর সময় বেশি মাস্টারপিস মনে হচ্ছিল। শেষে এসে কমে গেল। কারন লেখক একটা মাস্টারপিস বানানোর চাইতে তার কথাগুলোই বলে দিতে চেয়েছেন টুক করে। এবং এটা বেঁচে থাকবে। আলাদা একটা পিস হয়ে।
Profile Image for Bikash Kalp.
3 reviews1 follower
January 3, 2019
বিশ্বায়নের এক ভয়ঙ্করতম পরিণতি। ভয়ঙ্কর সুন্দর এই গ্রন্থের বর্ণনা।
Displaying 1 - 23 of 23 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.