হলিউডের নামকরা এক স্পেশাল-ইফেক্ট স্টুডিওর কম্পিউটারে ভাইরাস ঢুকিয়ে দিয়েছে লোভী প্রোগ্রামার। ভীষণ বেকায়দায় পড়ে গেছে কোম্পানিটা। বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। একমাত্র তিন গোয়েন্দা পারে অপরাধীকে ধরে দিয়ে কোম্পানিটাকে বাঁচাতে। রহস্য পেলে আর কিছু চায় না কিশোর পাশা, সুতরাং তাকে কাজে লাগাতে অসুবিধে হলো না। তদন্ত করতে গিয়ে বুঝল গোয়েন্দারা, কি কঠিন কাজে হাত দিয়েছে। খেপে উঠলো রোবটরা। প্রমাদ গুণল তিন গোয়েন্দা। মরতে হবে নাকি এবার!
রকিব হাসান বাংলাদেশের একজন গোয়েন্দা কাহিনী লেখক। তিনি সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত তিন গোয়েন্দা নামক গোয়েন্দা কাহিনীর স্রষ্টা। তিনি মূলত মূল নামে লেখালেখি করলেও জাফর চৌধুরী ছদ্মনামেও সেবা প্রকাশনীর রোমহর্ষক সিরিজ লিখে থাকেন। থ্রিলার এবং গোয়েন্দা গল্প লেখার পূর্বে তিনি অন্যান্য কাজে যুক্ত ছিলেন। তিনি রহস্যপত্রিকার একজন সহকারী সম্পাদক ছিলেন।রকিব হাসান শুধুমাত্র তিন গোয়েন্দারই ১৬০টি বই লিখেছেন। এছাড়া কমপক্ষে ৩০টি বই অনুবাদ করেছেন। তিনি টারজান সিরিজ এবং পুরো আরব্য রজনী অনুবাদ করেছেন। তাঁর প্রথম অনুবাদ গ্রন্থ ড্রাকুলা। রকিব হাসান লিখেছেন নাটকও। তিনি "হিমঘরে হানিমুন" নামে একটি নাটক রচনা করেন, যা টিভিতে সম্প্রচারিত হয়।
৯৫ এর গ্রীষ্মের শেষ দিনে জন্মদিনের উপহার স্বরূপ পেলাম ২ খানা গল্পের বই। একটা ছিলো হুমায়ূন আহমেদের কালো জাদুকর, আরেকটা তিন গোয়েন্দার মারাত্মক ভুল। আমার পড়া তিন গোয়েন্দার প্রথম বই ছিলো দুই ভাই রিয়াজ এবং মুজাহীদের কাছ থেকে পাওয়া এই মারাত্মক ভুল, আর প্রথম বই হিসেবে মারাত্মক ভুল পড়াটা ছিলো ব্যক্তিগত ভাবে আমার এক মারাত্মক ভুল। সফটওয়্যার, সিস্টেম, সিকিউরিটি, ভাইরাস, নেটওয়ার্ক কি কি কঠিন কঠিন সব শব্দ পড়তে গেলেই দাঁতের গোঁড়ায় ব্যথা শুরু হয়ে যেতো! তখনো তো জানতাম না কর্মজীবনে এসে আমার দিনের ঘুম আর রাতের জেগে থাকা নষ্ট হবে এই সফটওয়্যার আর সিস্টেমের বেড়াজালে থেকে।
তো মারাত্মক ভুল করে যেটা হলো তিন গোয়েন্দার প্রতি উৎসাহ হারিয়ে ফেললাম। প্রায় ৫/৬ মাস পরে এসে পড়লাম অথৈ সাগর-১,২; পড়ে মনে হল বাহ! বেশ তো, আরো কয়েকটা বই পড়া যাক। সেই থেকে তিন গোয়েন্দা পড়া শুরু।
মারত্মক ভুল বইটা এখনো সংগ্রহে আছে সংগ্রহের সবচেয়ে বয়সী বইয়ের একটা হিসেবে। বইয়ের জন্য তিন তারা, বাকি দুই তারা বইয়ের ভিতরের জন্মদিনের শুভেচ্ছা আর কিছু স্মৃতির জন্য।