সমসাময়িক গল্পকারদের মধ্যে যেসব গল্পকার নিজস্ব গদ্যশৈলী সৃষ্টি করতে পেরেছেন সার্থকভাবে ইমতিয়ার শামীম তাদের অন্যতম। ইমতিয়ার শামীম মানেই গতানুগতিকতার বাইরে ভিন্ন ধাঁচের কিছু। গল্পকার হিসেবে ইমতিয়ার শামীমের অনন্যতা আজ আর আলাদা করে বলতে হয়না। ইমতিয়ার শামীমের গল্পপাঠ বরাবরেই মতোই এক চমৎকার অভিজ্ঞতা।
'পাখিরা নাচবে না আর' গ্রন্থে পাঁচটি গল্প রয়েছে। বইটি প্রকাশিত হয়েছে ২০১২ সালে। গল্পগুলোর রচনা সন গল্পের শেষে দেওয়া আছে বলে আমরা জানতে পারি যে গল্পগুলো বেশিরভাগ ২০০৫ সাল বা এর আশেপাশে লেখা। এই রচনা সনের উল্লেখের একটা বিশেষ মাত্রা আছে। প্রথম যে গল্প ' ঘাসফুল, কিশোরী ও জানালাউপাখ্যান' যা আমার সহ অনেকের মতেই গ্রন্থটির সেরা গল্প, এটি শহীদুল জহির দ্বারা বেশ প্রভাবিত। শহীদুল জহিরের যে একটানা দ্ব্যর্থবোধক গতিময় গল্পকথন তা ইমতিয়ার শামীম অত্যন্ত চমৎকারভাবে নিজ গল্পে খাটাতে পেরেছেন। ফলে পড়তে পড়তে জহিরের কথা মনে আসলেও ইমতিয়ার শামীমের গল্প বলার দক্ষতায় পাঠককে বেশ মুগ্ধ হতে হয়। বাকি গল্পগুলো তে ও কমবেশি জহিরের প্রভাব রয়েছে।এবং সেই প্রভাব বেশ ইতিবাচক ভাবেই ফুটে উঠেছে।শেষ গল্পটির নাম ' তোতাকাহিনী কেন্দ্র'।বিশেষ প্রেক্ষিতে এই গল্পটির অন্তর্নিহিত শ্লেষ, মুখোশ উন্মোচন আর বিশেষ কৌতুকাবহ আমার কাছে চমৎকার লেগেছে।
সব মিলিয়ে আমার মনে হচ্ছে, ইমতিয়ার শামীম সব পড়ে ফেলা উচিত এবং তা করতে হবে অতি সত্বর।
রিভিউকাল - এপ্রিল, ২০২২