আমাদের স্কুলের লাইব্রেরি বেশ সমৃদ্ধ হওয়ায় আর ইচ্ছেমত বই পড়ার স্বাধীনতা পাওয়ায় সেই স্কুলে থাকাবস্থায়ই হঠাৎ বইটা সামনে এসেছিলো। পুরো বইটা পড়ে শেষ করার সাহস করে উঠতে পারিনি। তবে অনেক গল্প, উপন্যাস আর চলচ্চিত্র যেভাবে বুকের ভেতরে কাঁপন ধরাতে পারেনি সেই কাঁপনটা ধরিয়ে দিয়েছিলো এই বইটা। এখনো যখন কেউ মুক্তিযুদ্ধের নৃশংসতা, অত্যাচার, ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে কথায় কথায় অবাক হয় বা প্রশ্ন তোলে, আমি তাদের সাথে খুব বেশি তর্কে না গিয়ে বইটা পড়তে বলি। কিছু দূর পড়ার পর যদি কেউ মানসিকভাবে স্বাভাবিক থাকতে পারে তাহলে তার শক্ত মনের প্রশংসা আপনাকে করতেই হবে।
কী অবলীলায় পড়ে গেছি চিনিকলে ফেলে রাখা মৃতদেহের কথা যেগুলোকে পিঁপড়ে খাওয়ার জন্য রেখে দেয়া হয়েছিলো। পড়ে গেছি বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে মারা শিশুদের কথা। আকাশের দিকে ছুঁড়ে গেঁথে ফেলা হতো। অবাক বিস্ময়ে পড়েছি বস্তা বস্তা চোখ পাওয়ার কথা! কতোটা অবিশ্বাস্য পৈশাচিক হৃদয় নিয়ে এসেছিলো সেইসব দোপেয়ে মানুষেরা, ভাবতেই যেন পিলে চমকে যায় আজো, বইটা পড়ার এতো বছর পরেও।