গোলামের মানসিকতা আমাদের আজো যায়নি। এখনো ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসকে আমাদের পাঠ্যবইয়ে ব্রিটিশদের দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরা হয়। ১৮৫৭ সালের বিশাল সংগঠিত হিন্দু-মুসলিম মিলিত প্রতিরোধ যুদ্ধকে সীমাবদ্ধ রাখা হয় সিপাইদের চর্বিওয়ালা টোটাজনিত ক্ষোভে। সত্যেন সেনের এই বই ঠিক ইতিহাস গ্রন্থ নয়, দিনতারিখ মেনে সিপাহী বিদ্রোহের ঘটনাপঞ্জি এতে তুলে ধরা হয়নি। লেখক তাঁর বইয়ে এই বিদ্রোহের কিছু ঘটনা, কয়েকটি স্ফুলিঙ্গ, কয়েকজন সংগঠক, নেতা, ও যোদ্ধার কথা বলেছেন। আজিমুল্লাহ খাঁ, মঙ্গল পাণ্ডে, মৌলবী আহমদ শাহ, ঝাঁসীর রাণী লক্ষ্মীবাঈ, তাঁতীয়া টোপী, অযোধ্যার বেগম হযরত মহল, বেণী মাধ্যো, শাহজাদা ফিরোজ শাহ, প্রমুখ নায়ক-নায়িকাদের জন্য রেখেছেন আলাদা আলাদা অধ্যায়। নানা সাহেব, বাহাদুর শাহ, এদের স্মৃতিতে নিবেদিত কিন্তু কোনো অধ্যায় নেই, কারণ এরা ১৮৫৭-র যুদ্ধে ছিলেন প্রতীক হিসেবে, সত্যিকার নেতা হিসেবে নয়।