মুকুট আর মৌলির পরিচয় ফেসবুকে। দু’জনেই কবিতা ভালবাসে। তার মতে, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জায়গা কালিম্পং। এখান থেকে সে কোথাও যাবে না। মুকুটের বিবাহিত দিদি নূপুর বাপের বাড়িতেই থাকে। তার স্বামী হিমাদ্রি সমকামী। নূপুর ফিরে আসায় মায়ের মনে রোজ অশান্তি। এদিকে তাপসের প্রতি নূপুরের তৃষ্ণা জমছে রোজ। পরিতোষদা মুকুট-সহ আরও কয়েকজন উৎসাহীকে নিয়ে জলাভূমি বোজানোর বিরুদ্ধে অরাজনৈতিক আন্দোলনে নামতে চায়। শুরু হয় সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কাজ। কেউ কাউকে দেখেনি, কিন্তু প্রবল ভালবাসা গ্রাস করে দুজনকেই। মাঝেমাঝেই মুকুট কষ্ট পায় যখন মৌলি ফেসবুক থেকে হঠাৎ-হঠাৎ উধাও। সে তো জানে না, মৌলি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। মৌলির মা-বাবা সর্বস্ব দিয়ে চিকিৎসা করছে মেয়ের। সেরে উঠবে মৌলি? নুপুরেরই বা কী পরিণতি? ‘ঝিল বাঁচাও’ আন্দোলন সার্থক হবে আদৌ? শেষ পর্যন্ত মুকুটের কী হল? ‘প্রাণের পরে’ উপন্যাসে ভালবাসা অতল খাদের সামনে দাড়িয়ে চোখের জলে ভাসে।
বিনোদ ঘোষাল-এর জন্ম ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ হুগলি জেলার কোন্নগরে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্যে স্নাতক। মফস্সলের মাঠঘাট, পুকুর জঙ্গল আর বন্ধুদের সঙ্গে বড় হয়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকা আর অভিনয়ের দিকে ঝোঁক। গ্রুপ থিয়েটারের কর্মী হিসেবেও কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। কর্মজীবন বিচিত্র। কখনও চায়ের গোডাউনের সুপারভাইজার, শিল্পপতির বাড়ির বাজারসরকার, কেয়ারটেকার বা বড়বাজারের গদিতে বসে হিসাবরক্ষক। কখনও প্রাইভেট টিউটর। বর্তমানে একটি সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত। নিয়মিত লেখালেখি করেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়। ২০০৩ সালে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর প্রথম গল্প। বৃহত্তর পাঠকের নজর কেড়েছিল। বাংলা ভাষায় প্রথম সাহিত্য অকাদেমি যুব পুরস্কার প্রাপক। ২০১৪ সালে পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বাংলা অকাদেমির সোমেন চন্দ স্মৃতি পুরস্কার। তাঁর একাধিক ছোটগল্পের নাট্যরূপ মঞ্চস্থ হয়েছে।
A family of four : A father, dreamy in his youth, now facing the hardships in upbringing his family, stuck between a daughter for whom he feels responsible and a son in whom he sees his younger self.
A demure mother, fed-up with all the domestic and societal hurdles of life, struggling with the indifference of her divorced daughter, vagabondism of his adolescent son and maintain the daily household.
A daughter, her marriage gone awry, shell-shocked and enraged, criticizing and holding responsible every male she comes across for the fate meted out to her, finding solace in a younger family-friend, but afraid of the outcome.
A son, recent pass out graduate in commerce, unemployed, lost in the wandering of his poems, and a facebook-friend : turning to a beloved, taking up a stand against societal evils along with his friends and mentor, trying to live and stand to the ideals, and hopeful about visiting his beloved and surprising her.
Also there is this character : the beloved girl of the son, bed-ridden with a deadly disease, and her increasing downward spiral to her end. Unable to convey her deepest fears, and hoping for her dilemma to end soon, to relieve her parents and dear-ones, yet longing for life and being hopeful and coming to life for the poems of the boy, she loves, longs and waits for.
This novel is a glimpse of our times, contemporary and real. The characters are sketched from our daily lives. Talking, walking out and in, eloping, hiding, betraying, scheming, loving, hating, angry and being at loss, you step into a world that is familiar and touches a chord within you. Swept into their tale, this indeed is a story about “praan” : LIFE. A great read!
◆ প্রাণের পরে ◆ বিনোদ ঘোষাল ◆ প্রথম সংস্করণ ২০১৫ ◆ আনন্দ পাবলিশার্স ◆ ২০০ টাকা
সদ্য শেষ করলাম শ্রদ্ধেয় লেখক বিনোদ ঘোষালের লেখা উপন্যাস "প্রাণের পরে"৷প্রথমে ভেবেছিলাম কিছুই লিখবো না। কিন্তু পরে ভাবলাম এমন সুন্দর সৃষ্টি সম্পর্কে নিজের কিছু কথা লেখাই যায়।
উপন্যাসের মূল বিষয় প্রেম হলেও ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা,সমাজের বাস্তব চিত্র এবং রাজনীতি এইসমস্ত কিছুই ফুটে উঠেছে বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে।প্রধান দুই চরিত্র মুকুট আর মৌলি। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দুজনের আলাপ। দুজনেই কবিতা পড়তে ও লিখতে ভালোবাসে। তারপর এই কবিতার মাধ্যমে সুন্দর একটা সম্পর্ক বয়ে চলে। একে অপরকে না দেখলেও ধীরে ধীরে এই সম্পর্ক বদলে যায় এক নিবীড় ভালোবাসায় যা তাদের ভৌগোলিক দুরত্বকে একেবারেই কমিয়ে দেয়।খুবই সুন্দর লেগেছে এই দুই চরিত্রের মধ্যে কথোপকথন কিন্ত মুকুটের কাছে মৌলি কিছু লুকিয়ে রাখে।বলেও যেনো বলেনা। কখনও একেবারে বেপাত্তা হয়ে যায়। যা ভাবায় মুকুটকে। মুকুটের দিদি নূপুর দুর্ভাগ্যবশত ব্যর্থ বিবাহিত জীবনের ফলে সে নিজে ভীষণভাবে অস্থির ও ছন্নছাড়া। শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে সে এখন বাপের বাড়িতেই থাকে। একই বাড়িতে থাকা বয়সে ছোট গ্ৰাম থেকে শহরে পড়তে আসা তাপসকে এক প্রকার জোর করেই আকড়ে ধড়ে বাঁচতে চায়।অন্যদিকে এক জলাভূমি বোজানোকে কেন্দ্র করে এক অরাজনৈতিক আন্দোলন যার মধ্যে জড়িয়ে যায় মুকুট কিন্তু সেই আন্দোলনের মধ্যেও নোংরা রাজনীতি অনুপ্রবেশ ঘটে যায়।এই ভাবেই ছোট বড় বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহ ও চরিত্রগুলির নিজস্ব চাওয়া পাওয়ার মাধ্যমে উপন্যাস এগিয়ে চলে।
ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়েছে উপন্যাসে উপস্থিত প্রায় প্রত্যেক চরিত্রের জীবনে সমস্যাগুলি লেখক অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে নুপূরের তার মা বাবার ও ভাই এর প্রতি রাগ ও দুঃখের তিব্র বহিঃপ্রকাশ , নূপুর ও মুকুটের বাবা নরেন্দ্র এর জীবনের প্রতি চাপা হতাশা, মৌলির মা বাবার অসহায় অবস্থা এই সমস্ত পরিস্থিতি কঠিন বাস্তবের ছবিকেই নির্দেশ করে। ভালো লাগে সাহসী মুকুট যখন জোর গলায় প্রতিবাদ করে দাদাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন কে অন্যায় ভাবে বন্ধ করা দেওয়ার সময়।তবে আমার কাছে সেরা মূহুর্ত উপন্যাসের শেষ অংশে যখন মৌলি চোখ বন্ধ করে মুকুট কে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানায় সেই সময়ের যে চিত্র লেখক নিজের লেখার মাধ্যমে এঁকেছেন তা এককথায় অসাধারণ।
বইটা পড়ার শেষে যে নীরবতাকে অনুভব করলাম সেটাই উপন্যাসের শেষ দৃশ্যের সাথে কোথাও যেনও মিশে গেলো। ধন্যবাদ জানবেন লেখক।মুকুট মৌলির গল্প অনেকদিন মনে থেকে যাবে।
🍁🍂``সেই গভীর খাদের মধ্যে ভেসে যাওয়া মেঘের মধ্যে ডুবে গেল ফুলগুলো। বৃষ্টির মতো মিশে গেল। আর মিশলো এক বাইশ বছরের মেয়ের চিবুক-ধোয়া নোনা জলের ফোঁটা। ভাসতে-ভাসতে কত দূরে চলে গেল সেই মেঘ। দাঁড়িয়ে রইলো মৌলি। দু'চোখ বুজে আরও অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। পৃথিবীর আকাশে তখন নরম আগুন ধরেছে, সন্ধের আয়োজনে।"🍂🍁
এই উপন্যাসের ভিত্তি মূলত প্রেম হলেও রাজনীতি, সমাজ এবং কঠোর বাস্তব এর অন্যতম পরাকাষ্ঠা। উপন্যাসের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র মুকুট হাওড়া জেলার অধিবাসী। কমার্স নিয়ে পড়াশুনা করলেও সে কবিতা লিখতে ভালোবাসে। স্বপ্ন দেখে তার কবিতারা একদিন ফেসবুক ছেড়ে পাড়ি দেবে সমকাল পত্রিকার পাতায়। ফেসবুকে কবিতা লেখার সূত্রেই তার আলাপ সুদূর কালিম্পং এর চন্দ্রমৌলির সঙ্গে; যে নিজেও কবিতা লিখতে ও পড়তে ভালোবাসে। সময়ের প্রভাবে এই সীমিত আলাপী সম্পর্কে নেমে আসে প্রেমের প্রজাপতি। ভালোবাসার কাছে নস্যাৎ হয়ে যায় দূরত্ব। মুকুট বারবার ইচ্ছা প্রকাশ করে একবার মৌলি কে সামনে থেকে দেখবার। তবে মৌলি যেনো সবসময় কিছু একটা লুকাতে চায় মুকুটের কাছ থেকে। কি সেটা? এমন কিছু যা মুকুট আর মৌলির সম্পর্ককে ভেঙে দিতে পারে? এমতাবস্থায় শিক্ষক মানসদার কথায় মুকুট জড়িয়ে পরে একটি জলাশয় কে কেন্দ্র করে এক অরাজনৈতিক আন্দোলনে। কিন্তু এই অরাজনৈতিক আন্দোলনেও একসময় নোংরা রাজনীতির ছোঁয়া লাগে। কি হবে এই আন্দোলনের পরিণতি? মুকুটের জীবন কোনদিকে মোড় নেবে? মুকুট আর মৌলির সম্পর্কের পরিণতি ই বা কি?
অন্যদিকে আমরা দেখতে পাই মুকুটের দিদি নুপূর কে যে বিয়ে ভেঙে বাপের বাড়ি ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু কেনো? এরপর সে ভালোবেসে ফেলে তাদের বাড়ির আশ্রিত তাপস কে। কি হয়েছিল নুপূরের এই প্রেমের পরিণতি? তার জীবনের পরিণতি? এছাড়াও এই উপন্যাসে উঠে এসেছে মুকুট ও মৌলির বাবা মায়ের জীবনের জটিলতা।
এসমস্ত কিছু জানতে গেলে পড়ে ফেলতে হবে এই মন কেমন করা প্রেমের উপন্যাসটি।
✨📖উপন্যাসের নাম - প্রানের পরে📖✨ ✍️লেখক - বিনোদ ঘোষাল 🎉প্রথম প্রকাশিত - আনন্দ বাজার পত্রিকা পূজাবার্ষিকী 1421
💫📚মুকুট আর মৌলির পরিচয় ফেসবুকে। সেই পরিচয় থেকে জন্ম হয় এক গভীর ভালোবাসার। কিন্তু মৌলি কিছুতেই দেখা দিতে চায় না মুকুটকে। কেন? ‘প্রানের পরে’ উপন্যাসে ভালবাসা অতল খাদের সামনে দাঁড়িয়ে চোখের জলে ভাসে।��💫