Jump to ratings and reviews
Rate this book

মানিকদার সঙ্গে

Rate this book
Most faithful student and one of his closest friends. Soumitra Chatterjee tells the stories of his life with Satyajit Ray, recounting his experiences on and off the sets, revealing unknown facts, and offering intimate glimpses into his relationship with the film-maker he revers. As much about Ray as it is about Chatterjee, this is a unique artistic as well as personal journey along the path walked by the director and his most beloved actor. Soumitra Chatterjee was originally rejected for the role of Apu in Apur Sansar by Satyajit Ray. How did he get it back? Did Soumitra Chatterjee advise Satyajit Ray to change the ending of Charulata? How did Satyajit Ray influence Soumitra Chatterjees career on the stage? For 35 years, Bengals most accomplished actor Soumitra Chatterjee was a constant presence in the artistic and personal life of Indias foremost film director Satyajit Ray. Not only did he act in 14 of the maestros films, he was also the film- makers most faithful student and one of his closest friends. Soumitra Chatterjee tells the stories of his life with Satyajit Ray, recounting his experiences on and off the sets, revealing unknown facts, and offering intimate glimpses into his relationship with the film-maker he revers. As much about Ray as it is about Chatterjee, this is a unique artistic as well as personal journey along the path walked by the director and his most beloved actor. My life would never be the same again. It wasnt just that he had given me the chance to act in so many of his films, but also the fact that what I had got from my relationship of thirty-five years with him was no different from what I got from my parents or my wife. It was woven into my life, into the development of my character, and will remain with me till I die

116 pages, Hardcover

First published January 1, 2014

5 people are currently reading
251 people want to read

About the author

Soumitra Chattopadhyay

26 books26 followers
Soumitra Chatterjee or Soumitra Chattopadhyay (in Bengali: সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়) is an Indian film and stage actor and poet. He is best known for his collaborations with film director Satyajit Ray, with whom he worked in fourteen films, and his constant comparison with the Bengali cinema screen idol Uttam Kumar, his contemporary leading man of the 1960s and 1970s. Besides this, he is also a writer.

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়-এর জন্ম ১৯ জানুয়ারি, ১৯৩৫ কৃষ্ণনগরে। বাবা মোহিতকুমার চট্টোপাধ্যায়, মা আশালতা চট্টোপাধ্যায়। পিতার কর্মসূত্রে ছোটবেলা কেটেছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায়। স্মৃতির মধ্যে মন্বন্তর, স্বাধীনতা। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ে আগ্রহ। সঙ্গে বই-এর প্রতি টান। কলেজ জীবনে শিশিরকুমার ভাদুড়ির সান্নিধ্যলাভ। ১৯৫৯-এ প্রথম ছবি, ‘অপুর সংসার’। অতঃপর, সত্যজিৎ রায়ের চোদ্দোটি ছবিতে অভিনয়। সঙ্গে আরও অজস্র ছবি। ‘পদ্মভূষণ’, ‘সঙ্গীত নাটক আকাদেমি’, এবং সম্প্রতি ‘দাদাসাহেব ফালকে’-সহ একাধিক পুরস্কারে ভূষিত কিংবদন্তি অভিনেতা। মঞ্চেও সমান সক্রিয়। সাম্প্রতিক কালে ‘রাজা লিয়ার’-এর নামভূমিকায় তাঁর অভিনয় সমাদৃত। বাচিক শিল্পেও অপ্রতিম। কবিতা লেখার সূচনা কৈশোরে। যৌবনে নির্মাল্য আচার্যের সঙ্গে ‘এক্ষণ’ সাহিত্যপত্র সম্পাদনা। নানা কাজের ফাঁকে কবিতা রচনা করেন নিয়মিত।

প্রয়াণ ১৫ নভেম্বর, ২০২০।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
73 (51%)
4 stars
46 (32%)
3 stars
19 (13%)
2 stars
1 (<1%)
1 star
2 (1%)
Displaying 1 - 30 of 39 reviews
Profile Image for Tiyas.
473 reviews128 followers
May 20, 2025
কথায়, কলমে, স্মৃতিচারণে, সৌমিত্রের হাত ধরে বারংবার ফিরে এসেছেন সত্যজিৎ। বাঙালির প্রিয় আইকনের অন্যতম লেগাসি বাহক হওয়াটা চাট্টিখানি কথা নয়। অনেক শিল্পীমনেই এহেন তকমা অ্যালবাত্রস স্বরূপ চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে, সৌমিত্র ছিলেন অনড়। ন্যায্য কারণেই, বলা চলে। টলি ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হয়েও দিনের শেষে স্রেফ মানিকের মিউজ হয়ে থেকে যাওয়াতে ওনার গুরুতর আপত্তি ছিল না। এ যেন নিবেদনের সুরে, পিতৃসম গুরুর কাছে শিষ্যের চিরকালীন বন্দনা। যার আন্তরিক আকুতি এই বইয়ের পাতায় ঠিকরে ওঠে প্রতিমুহূর্তে।

বইটি পুরোনো। আধুনিক সমস্ত ম্যাটেরিয়ালের তুলনায় এর স্বতন্ত্রতা এর টাইমলাইনে। লেখাগুলো নব্বইয়ের দশকে রচিত। সত্যজিৎ রায়ের মৃত্যুর ঠিক পর পর আজকালের পাতায় সৌমিত্রের, তাৎক্ষণিক টাটকা স্মৃতিকথন। যা সংক্ষিপ্ত ও সহজ। দ্রুতলয়ে সম্ভ্রমের বিনিময়। অগত্যা, হাইন্ডসাইট নামক বস্তুটিতে এখানে খোঁজা বৃথা। যা পাওয়া যায়, তা হলো আদ্রতা। শ্রদ্ধাশীল বয়ানে ভালোবাসার ট্রিবিউট। সংযত কলমে, একজন ক্ষণজন্মা লেজেন্ডের মানবিক প্রতিরূপ। যা অল্প হলেও ভগবানকে নামিয়ে আনে মর্ত্যের বুকে। সাময়িক ভাবে মিটিয়ে দেয় দৈবী হ্যালো।

মানুষটির চোদ্দটি ছবিতে অভিনয় করার বাইরেও, সত্যজিতের ব্যক্তি-জীবনটিকে বেশ কাছ থেকে দেখবার সৌভাগ্য হয়েছিল সৌমিত্রের। ফলস্বরুপ, বাৎসল্য ও অ্যাডমিরেশনের মিশেলে, সময়ের সাথে, তৈরি হয় এক চমৎকার বন্ধুত্ব। বইতে তাই স্রেফ ছবি তৈরির নেপথ্য-কাহিনীর বাইরেও পাওয়া যায় ছোটখাট সব স্মরণীয় অ্যানেকডোট। ভালো লাগে, দুজনে মিলে সিনেমা দেখতে যাওয়ার গল্প। ট্রেনের কামরায় রাতের বেলায় সিনেমা সংক্রান্ত আলোচনা। বা নবীন সৌমিত্রের ক্যারিয়ার নিয়ে সত্যজিতের ক্রুশিয়াল গার্জেনগিরি। সাথে সময়োচিত ঠাট্টা তামাশার স্মৃতি তো রইলোই।

এদের ডিউরেশন প্রায় সবই ক্যামিও-সম। সংক্ষিপ্ত। মন ভরে না, শেষমেশ। তবুও এই সত্যজিৎবাবু থেকে মানিকদা হয়ে ওঠার জার্নিটা আনন্দের। এক ভীষন ব্যক্তিগত ও মূল্যবান সময়রেখা। যার মাঝে আমরা পাঠকেরা কতকটা অযাচিত অথিতি ন্যায় নাক গলাই। জানতে চাই, অশেষ কৌতূহলে, তারপর? তারপর কী হলো?

শান্ত, ধৈর্যশীল লেখক আমাদের আধ-ঘণ্টার জন্য খুলে দেন দরজার পাল্লা। বলেন, কী দেখবে, দেখো দেখি। হাতে সময় কম। এসব সবাইকে হেলায় বিলিয়ে দেওয়ার জিনিস নয় হে। তোমরা নাহয় ফেসবুক টুইটার জুড়ে মানিকদা মানিকদা করে পাড়া মাথায় করো। কিন্তু প্রকৃত অর্থে ওনাকে ওই নামে ডাকবার তাৎপর্য? সে তোমরা বুঝবে না। তোমরা তাই দেখো। দেখে খুশ রাহো...

আচ্ছা, ঠিক আছে। মানছি, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বেচে থাকলে অমন প্যাসিভ অ্যাগ্রেসিভ স্বরে কথা বলতেন না কোনোদিনই। ওনার ধরন, এই বইতেও, সেই চিরপরিচিত সান্টা-ক্লজ মাফিক। আর তাই মে মাসের কোনো ফাঁকা সন্ধ্যায়, চটজলদি সত্যজিৎ-চর্চার শখ মেটাতে এই পুঁচকে বইটির বিকল্প খোঁজা দায়। পড়া না থাকলে, পড়ে ফেলুন শিগগির। ব্যস্ত জীবনের ঘূর্ণিঝড়ে (এক সিলিন্ডার না হলেও) এক নিশ্বাস অক্সিজেন মিলবে ইমিডিয়েটলি। বিশপ লেফ্রয় রোডের দিব্যি!

(৩.৫/৫ || মে, ২০২৫)
Profile Image for Nusrat Mahmood.
594 reviews736 followers
January 19, 2016
এ ভীষণ অন্যায়, ভীষণ! একজন মানুষ , কেন সে সবদিকে চৌকস হবে? সাহিত্য, সঙ্গীত, সিনেমা,ছবি আঁকা মায় কথা বলা সব দিকেই। গর্ব করবো নাকি হিংসা করবো আজ পর্যন্ত বুঝলামনা জ্ঞান হবার পর থেকে। হাতে গোনা এমন যে কয়টা মানুষ আছে তার লিস্টি করতে বসলেও সবার প্রথমে সত্যজিত রায়ের নামই আগে আসবে। আমাদের বাসার বুড়ি থেকে ছুড়ি সবার দুটি সিনেমার ডায়ালগ পুরো মুখস্ত। একটা হিন্দি 'শোলে' আরেকটা 'হীরক রাজার দেশে'। পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের সাথে জ্ঞানগম্যির পরিচয় হয়েছে যথেষ্ট দেরীতে। আগে চিনেছি লেখক সত্যজিৎ রায়কে। তা সেই মহার্ঘ ভদ্রলোকটির জীবনের কথা জানার অদম্য কৌতূহলটা খানিকটা পরিবার থেকেই এসেছে। কারণ নিজের পরে আরও যে ৬ জন শিশু আমাদের বাসায় এসেছে তাদেরও দেখেছি ছোট থেকে গুপীগাইন বাঘা বাইনের জ্ঞান গেয়ে বড় হতে।

তা সত্যজিৎ রায় সম্পর্কে জানতে হলে কি আর যার তার বই পড়লে হবে? কথাগুলো তো জানতে হবে এমন একজনের কাছ থেকেই যে সত্যজিৎ বাবু থেকে মানিকদা সম্বোধন করবার অধিকার পেয়েছে। এভাবে ভাবলে সৌমিত্র ছাড়া আর কে আছে ? আগেও পড়েছি তার হাতের লেখা। ঝকঝকে। সে আরেক আবিষ্কার। গুছানো পরিপাটি এবং আন্তরিক লেখার ধরণটা শিখতে হলে যারা লেখে তাদের উচিত নিয়মিত অনার লেখা পড়া।অনাড়ম্বর কিন্তু কি স্বকীয় !

মানিকবাবুর সিনেমা তৈরির গল্পই উঠে এসেছে বেশি। সে সাথে আরও টুকরোটাকরা খুচরো গল্প। প্রতিটা জানার পর আরও জানতে ইচ্ছে করে। এ বড় ভাল বই।
Profile Image for Farzana Raisa.
533 reviews240 followers
June 16, 2020
না! বইটা কেন এতো তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেলো? সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় মহারাজকে নিয়ে কেন মাত্র ১১৬ পেজের বই লিখলেন? আরও একটু বড় যদি হতো ক্ষতি কি ছিল? :/

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, বাংলা চলচ্চিত্রে কিংবদন্তি স্বরূপ৷ সেই ১৯৫৯ সালের কথা, অচেনা একজন নতুন মুখ কি না অভিনয় করছেন বিখ্যাত পরিচালক সত্যজিতের সিনেমাতে! দুরুদুরু বুকে অভিনয় করতে আসা এরপর তো রীতিমতো ইতিহাস! যোগ্য পরিচালকের হাতে যোগ্য অভিনেতা পড়লে যা হয়৷ একের পর এক মাস্টারপিস।
পুরোটা বই জুড়ে মানিকদার স্মৃতি। ৩৫ বছরের সম্পর্ক, স্মৃতিকথা লেখার জন্য সময়টা নেহায়েত কম নয়। বইটায় রয়েছে বিভিন্ন সিনেমার গল্প, শ্যুটিং-এর গল্প, টুকরো-খুচরো নানান গল্প। সর্বোপরি, মহারাজা গল্প। কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্রের চোখে তার মানিকদা। বইটায় যুক্ত রয়েছে বেশ কিছু দুর্লভ ছবি। আফসোস হচ্ছিল, আরেকটু বড়সড় করে লিখলে কি হতো। সত্যজিৎ কেন সত্যজিৎ, কেন বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তি বইটা পড়লে বোঝা যায় খুব স্পষ্টভাবেই। আজকের এই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় হয়ে উঠবার পিছনের কারিগরটি যে এই মহান মানুষটি-বার বার লিখতে কুন্ঠাবোধ করেননি এই বরেণ্য অভিনেতা। আর এতোটাই নিবিড় ছিল তাদের সম্পর্ক, সত্যজিৎ রায় মারা যাবার পর শোক সন্তপ্ত সৌমিত্রকে তার এক বিদেশী বন্ধু স্বান্তনা দিচ্ছিলেন এই বলে, 'Don't cry Soumitra, Manikda has given youba heritage. সত্যিই তো! নিজেকে মাঝে মাঝে খুব ভাগ্যবান বলে মনে হয়, যে ভাষায় তারাশংকর, মানিক, বিভূতি, জীবনানন্দ, রবি ঠাকুর, সুকুমার, সত্যজিতেরা লিখে গেছেন সেই ভাষায় আমি কথা বলি, তাদের বই পড়ি, হাসি, কাঁদি, ভাবি। ভাগ্যবান বলে মনে হয় এই কারণে ছেলেবেলায় সুকুমারের পাগলা দাশু আর আবোলতাবোলের সাথে কেটেছে আর একটু বড় হয়ে ফেলুদা, প্রফেসর শঙ্কু, তারিনীখুড়োদের সাথে কল্পনার অভিযানে কিংবা চোখের সামনে দেখতে পেয়েছি গুপী-বাঘা কিংবা ফেলুদার আজব আজব সব এডভেঞ্চারগুলো। রায় বাবুর কাছে কৃতজ্ঞ সত্যি। বিভূতির অপু-দূর্গা তো জীবন্ত হয়ে উঠল এই সত্যজিৎ রায়ের কল্যাণেই৷

আমি ব্যক্তিগতভাবে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন বই পড়িনি, (জানতামও না উনি সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে এতো সুন্দর বই লিখেছেন। সেজন্য ইশরাক অর্ণবকে ধন্যবাদ) কিন্তু পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল এতো সুন্দর সাবলীলভাবে লেখেন সৌমিত্র? নাকি সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে লেখার কারণে বইটা পড়তে এতো বেশি ভালো ���াগছিল, এতো জীবন্ত মনে হচ্ছিল? জানি না ঠিক। এক লেজেন্ডের কলমে যখন আরেক লেজেন্ড জীবন্ত হয়ে উঠেন হোক না সেটা স্মৃতিকথা, পাঠকের তখন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। ❤



#বই_হোক_অক্সিজেন
#happy_reading
Profile Image for হাঁটুপানির জলদস্যু.
302 reviews227 followers
July 8, 2020
রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে সৈয়দ মুজতবা আলী যেমন সমর্পিতচিত্তের ভালোবাসা নিয়ে লিখেছেন, সত্যজিৎকে নিয়ে সৌমিত্রও তেমনই লিখেছেন।
Profile Image for Rashik Reza Nahiyen.
106 reviews14 followers
January 2, 2016
“Don’t cry Soumitra, Manikda has given you a heritage.”

সত্যজিৎ রায়ের মৃতদেহের পাশে সন্তপ্ত ও বিপর্যস্ত সৌমিত্র চট্টোপ্যাধায়কে দেখে তার এক বিদেশনী বন্ধুর করা উক্তি এটা। শুধুমাত্র এই একটা লাইন দিয়েই হয়ত সত্যজিৎ রায় আর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে একডোরে বাঁধা যায়। চিনতেন ছেলেবেলা থেকেই, একসাথে কাজ করেছেন প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর। বিশ্বখ্যাত পরিচালকের সাথে একই সাথে থাকার আর শেখার সৌভাগ্য আর ক’জনের জুটে?

তিনি একজনই! তিনি ‘অপুর সংসারের’ সেই কাজলকে ঘাড়ে নিয়ে হেঁটে যাওয়া অপু, আবার তিনিই সোনার কেল্লার উটের পিঠে চড়া ফেলুদা। এবং অবশ্যই অবশ্যই সত্যজিৎ রায়ের খুব কাছের একজন। যার মুগ্ধ করা অভিনয়ে মিশে থাকে পরিচালকের শিল্প-সত্তা এবং সেই সাথে পরিচালক-অভিনেতার চমৎকার বোঝাপড়া।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের এই স্মৃতিচারণামূলক লেখাটায় আমরা যেমন পেয়ে যাবো তার থিয়েটারকর্মী থেকে অপু হওয়ার কাহিনী, তেমনি দেখতে পাবো সত্যজিৎ রায়ের ক্যামেরার পেছনের অক্লান্ত পরিশ্রম। তার চলচিত্র দর্শন সম্পর্কেও একটা স্বচ্ছ ধারণা এটায় পাওয়া যাবে।

ব্যক্তিগতভাবে আমি শুধু অপুই না, সৌমিত্রের ফেলুদা হওয়ার এবং এর পেছনের ঘটনাগুলো সম্পর্কে জানতেও প্রবল আগ্রহী ছিলাম। এই লেখায় যেন সেটার পুরোটাই পেয়ে গেলাম। আমরা পাঠকরা অনেক সময় ফেলুদার ইলাস্ট্রেশনগুলো দেখে বলি, “আরে এর সাথে তো লেখকেরই মিল পাওয়া যায়!” এরকম প্রশ্ন সৌমিত্র সত্যজিৎ রায়কেও করেছিলেন, উনি হেসে বলেছিলেন, “তবে লোকে যে বলে ওর সাথে নাকি তোমারই মিল!”

সৌমিত্র শুধু পরিচালক সত্যজিৎই নয়, লেখক সত্যজিতেরও নানান তথ্য এই লেখায় দিয়েছেন। এবং সত্যি বলতে প্রায় পুরো লেখাটা জুড়েই তিনি ব্যক্ত করেছেন তার মানিকদার কাছে তিনি কতটা ঋণী! এই লেখাটি আমি ভেবেছিলাম হয়ত সত্যজিতের স্তুতিটাইপ কিছু হবে, কিন্তু লেখার পড়ার সময় পদে পদে আমি বুঝেছি আমি কতটা ভুল!

বইয়ের সাথে বেশ কিছু দুর্লভ ছবিও রয়েছে এই বইয়ে। সত্যজিৎভক্তদের অবশ্যপাঠ্য এই লেখাটি। আমি আগে কেন পড়ি নি তাই ভাবছি!
Profile Image for Farhana Sufi.
495 reviews
January 20, 2019
এইটায় পাঁচে/পাঁচ!

বিজয়া রায়ের 'আমাদের কথা' পড়ে দুইদিন নষ্ট করা বড় ভুল হয়েছিলো। কাজের, মানে আসলেই সিনেমা তৈরি বা লেখালেখির কাজের কথা সেখানে একেবারেই ছিলো না যত না অসুখের আর বিভিন্ন সময়ে বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভাল আর লন্ডন যাবার কাহিনি ছিলো!

এই বইতে সৌমিত্র কাছ থেকে দেখা শুটিং-এর গল্প, কেমন করে 'অপুর সংসার' থেকে 'শাখাপ্রশাখা' পর্যন্ত ধাপে ধাপে নিজে কাজ শিখেছেন সত্যজিতের কাছে, শুটিং এর মাঝের গল্প, সত্যজিৎ কী করতেন, কীভাবে ডায়ালোগ নিয়ে সৌমিত্রের সাথে আলাপ হয়েছিলো, বা কীভাবে শট নিতেন তার অনেক কথা পাওয়া গেল। আরও থাকলে আরও ভালো লাগতো, কিন্তু এই নাতিদীর্ঘ আলাপই হয়তো ভালো।

আর বইটা নি:সন্দেহে সুখ-পাঠ্য। 'আমাদের কথা' এত বিক্ষিপ্তভাবে লেখা যে মাঝে মাঝে খুবই বোরিং লেগেছে, অথচ সৌমিত্রের 'মানিকদার সঙ্গে' যথেষ্ট গোছানো, ভাষা আর বর্ণণাও ঝরঝরে। সাথে শুটিং-এর ছবি আছে, কোন ছবি কার তোলা, তা উল্লেখ করে। আর আছে বইয়ের শেষে সৌমিত্র অভিনীত ছবিগুলোর চিত্রগ্রাহক, শিল্পনির্দেশক সহ (যদিও সবই আসলে সত্যজিতেরই নিজে হাতে এঁকে, দেখিয়ে দেয়া) সংক্ষেপে কলাকুশলীর নাম, ছবি মুক্তির তারিখ।

সত্যজিৎ রায় আমার প্রিয় লেখক, মূলত কারণ তার স্টাইলের সাথে, আমার নিজের ভাবনার মিল পাই - এই বইতে কয়েকবার সৌমিত্র লিখেছেন, সত্যজিৎ ছোটদের সাথে সহজেই মিশতে পারতেন, কারণ তিনি তাদেরকে ছোট হিসেবে ট্রিট করতেন না। এইটুকু বাড়তি জানা, পাওয়া এই বই থেকে।
Profile Image for Mitul Rahman Ontor.
161 reviews59 followers
March 23, 2021
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা সুপাঠ্য।
তবে সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে লেখা বইয়ের বড় অংশ সৌমিত্র কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। আমিত্ব ত্যাগ করে মানিকদাকে নিয়ে লেখা বই বরং তার কেন্দ্রিক হইলেই বেশি উপভোগ্য হতো।
Profile Image for SH Sanowar.
118 reviews29 followers
January 28, 2024
এককথায় অসাধারণ!

পছন্দের দুজন মানুষ। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও সত্যজিৎ রায়। সত্যজিৎ রায়কে আমি প্রথম চিনি সুকুমার রায়ের সন্তান হিসেবে, সিনেমার মাধ্যমে। "পথের পাঁচালী" দেখেছিলাম আপুর ডেস্কটপে। আপু বলেছিলেন ওনি অনেক বিখ্যাত একজন মানুষ। অনেক ভালো ভালো ছবি বানিয়েছেন আর বইটইও লিখেছেন অনেক। তার অনেক পরে ফেলুদা পড়েছিলাম। তারপর থেকে তো মুগ্ধতা ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। পরে পরিচিত হলাম ওনার চরিত্রের আরো বিভিন্ন দিকের সাথে। অন্যদিকে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে চিনতাম অভিনেতা ও আবৃত্তিকার হিসেবে। এখন ওনার চরিত্রের নতুন একটা দিক উন্মোচন হল আমার কাছে, বলা যায় মুগ্ধ করল। একজন লেখক। দারুণ লেখেন। কিন্তু সৌমিত্র বাবু একটা দোষ করে ফেলেছেন। বইটা বড্ড ছোট। ধরতে না ধরতেই শেষ। এমন মায়াময় লেখনী - অথচ এত্তো ছোট! এ ভীষণ অন্যায়। ভীষণ!
Profile Image for Ishraque Aornob.
Author 29 books404 followers
May 28, 2018
মানিকদার সঙ্গে
সৌমিত্র চট্টপাধ্যায়

সত্যজিৎ রায়ের ডাকনাম মানিক। আজকের পাশের দেশের অভিনেতা সৌমিত্র চট্টপাধ্যায়ের অভিনয় দেখে আমরা প্রশংসা করি। কিন্তু তার এ ধ্রুপদী অভিনয়ের পেছনের মানুষটার কথা হয়তো অনেকেই জানিনা। আজকের কিংবদন্তিতুল্য অভিনেতা সৌমিত্র এর জন্ম সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরেই। অনেক কাছে থেকে তিনি সত্যজিৎ রায়কে দেখেছেন। সে অভিজ্ঞতা থেকেই তার এই বইটা লেখা। বইটা পড়লে বুঝা যায় কত সহস্র প্রতিভা ছিল সত্যজিৎ রায়ের। ছবি আঁকা, গল্প লেখা, চিত্রনাট্য তৈরি আরও কত কি!!!! কিভাবে একটা আনকোরা অভিনেতার সেরাটা বের করে আনতে হয় এ ব্যাপারে তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়। তার ব্যক্তিজীবনেরও অনেক কিছু আলোচনা করা হয়েছে এ বইটিতে। বিখ্যাত সিনেমাগুলোর শুটিং এর পিছনের গল্প আর কিছু ছবি উঠে এসেছে এ বইয়ে। প্রিয় ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে এত কিছু জানলাম যে বই পড়ে,সে বইকে রেটিং করার মত ব্যাপার দিয়ে আটকানো যায়না আসলে। তবে সর্বকালের অন্যতম সেরা বাঙালিকে নিয়ে আলোচনা করতে ১১৬ পৃষ্ঠা একটু কমই।
Profile Image for Injamamul  Haque  Joy.
100 reviews113 followers
January 24, 2023
অপুর পাঁচালি আর এই বইটা একটা আরেকটার পরিপূরক। পাঁচালি লেখা হইছে সত্যজিৎ রায়ের পার্সপেক্টিভ থেকে, এটা সৌমিত্র চ্যাটার্জির পার্সপেক্টিভ থেকে। আর দারুণ হিউমারাস এবং সুন্দর লেখতেন সৌমিত্র। ওনার বই এতদিন পড়ি নাই কেন, তা ভেবে একটু ইয়েও লাগছে।
Profile Image for Amlan Hossain.
Author 1 book67 followers
October 19, 2014
এক কথায় অনবদ্য। ���ৌমিত্রের দেখার চোখ ছিল, সত্যজিৎ তাই কখনোই তাঁর কাছে পুরনো হননি। সত্যজিতের সঙ্গে নানান মিঠেকড়া স্মৃতি, তাঁর অন্তদৃষ্টি, ভূয়োদর্শন সবকিছুই সৌমিত্র তুলে এনেছেন পরানের গহীন থেকে। মাঝে মাঝে অবশ্য মনে হয়েছে, গুরুভক্তি বেশিই হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সৌমিত্র তাঁর বর্ণনায় এতোটাই অমায়িক, সেটাকেই সত্যি বলে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে।
Profile Image for Chinmoy Biswas.
175 reviews64 followers
December 22, 2021
সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা দেখেন নি এমন মানুষ বোধহয় খুব কম। যারা তাঁর সিনেমা দেখেন, তারা জানবেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় মানিক বাবুর অনেক সিনেমাতে অভিনয় করেছেন। ফলে তিনি সত্যজিৎ রায়কে খুব কাছের থেকে দীর্ঘ দিন দেখেছেন। এই বইতে সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে কাটানো সময়ের এবং মুহূর্তের কথা বর্ননা করেছেন লেখক।

বলা হয়ে থাকে, রবীন্দ্রনাথের পর বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তান সত্যজিৎ রায়। সেটার প্রমান ও সবাই পেয়েছেন। সত্যজিৎ রায় শুধু তার কাজে বড় ছিলেন না,মানুষ হিসেবেও ছিলেন মহান। এই মানুষটা সিনেমাকে অন্তর দিয়ে ভালোবাসতেন। তাই তো তিনি বলতে পেরেছিলেন-- " যদি ছবিই না করতে পারি তাহলে তো বেঁচে থাকারও কোনো মানে হয় না। "
Profile Image for জাহিদ হোসেন.
Author 20 books477 followers
November 25, 2020
ঝরঝরে, সাবলীল লেখনী। এক বসায় শেষ করে ফেলার মতো। তবে ব্যক্তি সত্যজিৎকে নিয়ে আরো কিছু আশা করছিলাম। সৌমিত্রের লেখা বড় বেশী আমিময়। সত্যজিৎকে লিখতে গিয়ে নিজেকে ছাড়তে পারেননি তিনি। আমার মতো পাঁড় সত্যজিৎ ভক্তের জন্য বিষয়টা কিছুটা হলেও পীড়াদায়ক ছিল।
Profile Image for Farhan.
727 reviews12 followers
December 17, 2019
একজন গুণমুগ্ধ ভক্তের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ। সত্যজিৎ ভক্তদের বেশ ভাল লাগবে।
Profile Image for Saumen.
255 reviews
January 24, 2024
বই রিভিউঃ মানিকদার সঙ্গে
লেখক ঃ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

আচ্ছা, একটা বইয়ের প্রথম ত্রিশপাতা পড়েই কেন ১০-২০ স্টার দেয়া যায় না! আফসোস, বড্ড আফসোস!
আহা কি বই!, কি সৌমিত্রের লেখনী! ১১৬ পাতার বইটা বড্ড তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল!!

মহৎ দেখে যে মুগ্ধ হতে পারে, সেই নাকি গুণী শিল্পী হয়। এই যে মুগ্ধতা, এটা কিন্তু অভিনেতা ও পরিচালকের বিরাট চাহিদা।

সৌমিত্রের লেখা আমি আগে পড়িনি। তিনি বিরটমাপের অভিনেতা,তুখোড় আবৃত্তি করেন, এসবের বাইরেও যে তার এত সুন্দর একটা লেখক সত্তা আছে, সে খবর পাইনি আগে।

লেখক স্মৃতিচারণ করেছেন তার মানিকদার, সত্যজিৎ রায়ের। সত্যজিৎ রায় ঠিক কত বড় পরিচালক ছিলেন, সেটার পাশাপাশি তিনি যে কত চমৎকার একজন মানুষ ছিলেন, জেনে মুগ্ধ হতে হয়। বইটিতে কিছু দুর্লভ ছবিরও সংযোজন করা হয়েছে, বিভিন্ন সেটে, ছবি তৈরীর বিভিন্ন অজানা ইতিহাস।

আজকেও যে হীরক রাজার দেশে সিনেমাটি পুরোনো হয়নি, ফেলু মিত্তিরের ছবি হলে আমরা হামলে পড়ি, তার পেছনে একজন সত্যজিৎ রায়ের কত শ্রম, কত নিষ্ঠা, কতটা দূরদর্শিতা ছিল!

সৌমিত্রের সাথে সত্যজিৎ এর জানাশোনা ৩৫ বছর। স্মৃতিচারণ করার জন্য সময়টা খুব অল্প নয়। এই বইয়ে পরিচালক সত্যজিৎ এর কথাই বেশী উঠে এসেছে। ছোট ছোট দৃশ্য, বর্ণনায় মানিকদার সাথে ফুটে উঠেছে নবীন অভিনেতাদের জন্য একজন গুণী অভিনেতার সাথে একজন বিশ্বখ্যাত পরিচালক এর টিপস ও।থিয়েটার বা ছবি তৈরীর কত খুটিঁনাটি বিষয়ই না থাকে!

সর্বোপরিভাবে সত্যজিৎ আছেন বইটির পাতায় পাতায়।তার বিরাট সত্তা নিয়ে। আর সৌমিত্রের আটপৌরে স্বাভাবিক আত্মকথন এ আছে তার মানিকদার প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা,ভালবাসা।

গুণীজন বলেন, মহৎ মানুষই অপরের মহত্ত্ব দেখতে পারে। তার বাংলা সিনেমার প্রবাদপ্রতিম দুজন মানুষের একজন যখন আরেকজনকে নিয়ে লেখেন, পাঠকের জন্য মুগ্ধতা ছাড়া কিছুই থাকে না।

সৌমিত্রের কথাতেই মানিকদার চলে যাওয়ায় তার শূন্যতা বোঝা যায়, মানিকদার মৃত্যুর পরে শোকসন্তপ্ত সৌমিত্রকে এক বিদেশিনী বলছেন, Dont cry Soumitra, Manikda has given you a heritage.

মানুষ চলে যায়। কিন্তু ওইকথা শোনার পর সৌমিত্র ভাবলেন,তার মানিকদার কাছে তিনি চৌত্রিশ বছর যা পেয়েছেন,তার জন্যেই আরো একটা জীবন বাচাঁ যায়।মৃত্যুতে মানিকদার শেষ হয়নি।

অন্যের কথা জানি না,আমি ব্যাক্তিগত ভাবে সৌমিত্রকে বাংলা ধ্রুপদী সিনেমার অভিভাবক মনে করি। আর আমি জানি, এরপর যতবার আমি ওঁনাকে দেখব, তার আড়ালে আরেকজন বিরাট পুরুষের ছায়া দেখব, যিনি বাংলা লাইট ক্যামেরা,একশনের জগতই নয়, শংকু, ফেলু আর গল্প ১০১ দিয়ে রাঙিয়ে দিয়েছেন আমাদের ছোটবেলাটিও, সেই ছ'ফুট লম্বা মানুষটি, যিনি বলেছেন,সিনেমা না করতে পারলে,বেঁচে থেকে আর লাভ কি!

বইটির সাজেশনের জন্য ছোট্ট বন্ধু রাইসাকে অসংখ্য এবং অসংখ্য ধন্যবাদ। তার বিনা অনুমতিতেই তার গুডরিডস রিভিউয়ের কিছু কথা এখানে ব্যাবহার করেছি। কি লিখব ভেবে পাচ্ছিলাম না। ঘোরে আছি, বড্ড ঘোরে আছি!
Profile Image for Abhishek Saha Joy.
191 reviews56 followers
August 24, 2020
সত্যজিৎ রায়,এই মানুষটার বানানো সিনেমা দেখে,লেখা বই পড়ে তার সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রতিনিয়ত বেড়েই যাচ্ছিলো।তার কর্মপদ্ধতির কেমন ছিলো বা তিনি আসলে কিভাবে চিন্তা করতেন - এসব নিয়ে ভেবেছিও অনেক।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে চৌদ্দটি সিনেমায় কাজ করেছেন।সুতরাং,সত্যজিৎ রায়ের কর্মপদ্ধতি তিনি জানতেন খুব ভালো করে আর বর্ণনাও করেছেন অসাধারণভাবে।তাছাড়া সত্যজিৎ রায়ের সাথে লেখকের ব্যক্তিগতভাবে যে হৃদ্যতার সম্পর্ক ছিলো তা থেকে আমরা লেখক সত্যজিৎকে দেখতে পাই।
বইতে একটা ইন্টারেস্টিং তথ্য পেলাম - সত্যজিৎ রায় 'মহাভারত' নিয়ে সিনেমা করার কথা ভেবেছিলেন।আফসোস থেকে গেলো যে,সত্যজিতের বানানো মহাভারত দেখা হলো না।
সবশেষে প্রিয় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কাছে একটাই অনুরোধ - আপনি প্লিজ সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে আরও বিশদ আকারে লিখুন।উনাকে জানার তৃষ্ণা এখনো মেটে নি।
Profile Image for সন্ধ্যাশশী বন্ধু .
370 reviews12 followers
February 8, 2024
একটা ছোট্ট ক্ষীণ ঝর্ণার মতো জলধারা এসে বিরাট জলধারার সঙ্গে মিশে গিয়ে গত পঁয়ত্রিশ বছর ধরে বয়ে চলেছে। সত্যজিৎ রায়ের সাথে নিজের সম্পর্কের উপমা দিতে গিয়ে কথাগুলো বলেছেন বিখ্যাত অভিনেতা "সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়"। 


সৌমিত্র বাবু কে বলা হয় সত্যজিৎতের মানসপুত্র। সত্যজিৎ রায় সেই যে অপুর পাঁচালি দিয়ে সৌমিত্র কে সঙ্গে রাখা শুরু করেছিলেন,সেটা শেষ অব্দি ছিল। এই দীর্ঘ পথ যাত্রায় সত্যজিৎকে কাছ থেকে দেখে,তাঁর সাথে কাজ করেছেন,হয়ে গিয়েছিলেন সত্যজিৎ পরিবারের একজন। কাজেই,অসংখ্য স্মৃতি জমা হয়ে ছিল সৌমিত্র বাবুর। সেই স্মৃতির ঝুলি উপরে দিলেন " মানিকদার সঙ্গে" বইয়ে। 


সত্যজিৎ কে কেন মহিরুহ বলা হয়,কেন তিনি অনন্য তার পরিষ্কার একটা ধারণা পাওয়া যায় এই বইয়ে। আর সেসব ঘটনা এত সুন্দর করে লিখেছেন সৌমিত্র, পড়তেই অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করে। অনবদ্য একখানা বই। আমার মতো সত্যজিৎ ভক্তদের জন্য, বইটা  " অমৃত "।
Profile Image for Mazharul Islam Fahim.
98 reviews7 followers
June 1, 2022
সত্যজিৎ রায়ের কাছের মানুষদের একজন ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। সত্যজিৎকে তিনি ডাকতেন মানিকদা নামে। এই বইয়ের মাধ্যমে তিনি তাঁর চলচিত্র জীবনে সত্যজিৎ রায়ের চলচিত্রের প্রতি নিবেদন, ছবি পরিচালনা ও অভিনয় নিয়ে তাঁকে দেয়া নানাবিধ দিকনির্দেশনা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন।

সত্যজিৎ রায় আমার পছন্দের মানুষদের একজন। বইটা পড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল সত্যজিৎকে ভিন্ন এক দৃষ্টিকোণ থেকে জানা। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় তা পুরোপুরি তুলে আনতে পেরেছেন তা বোধহয় বলা যায় না। তবে উনি যতটুকুই লিখেছেন তা দারুণ আগ্রহ নিয়ে পড়েছি এবং বেশ ভালো লেগেছে।
Profile Image for Arup.
13 reviews13 followers
October 13, 2019
ভক্তির মিশেলে সুহৃদের স্মরণ,সৌমিত্রের অভিনয়জীবনের মেন্টর সত্যজিতের প্রতি পরতে পরতে শ্রদ্ধার অর্ঘ্য। মাঝে মাঝে চিটচিটে লাগল।
Profile Image for Anirban.
46 reviews3 followers
February 22, 2014
A lovely account the memories of how the relationship of admiration and trust grew up between Satyajit Ray and Soumitra Chatterjee, and how his professional life changed forever under the guidance of the stalwart film director
Profile Image for Mick.
132 reviews14 followers
April 30, 2014
Short book. Could have worked even more had it been more comprehensive.
Profile Image for Munem Shahriar Borno.
203 reviews10 followers
July 1, 2024
মহানায়ক সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় স্মৃতিচারণ করছেন তাঁর অভিনয়সত্ত্বার আবিষ্কারক ও গুরু, সর্বকালের সেরা বাঙালী পরিচালক, সাহিত্যিক ও আঁকিয়ে, শ্রী সত্যজিৎ রায় চৌধুরী (তাঁর মানিকদা)'কে নিয়ে! ব্যাস, এই একটা লাইনই যথেষ্ট বইটা পড়ার আগ্রহ গড়ে তোলার জন্য। টানা ২৫ বছরে সত্যজিৎ রায়ের ১৪ টা সিনেমায় কাজ করার দরুন মানুষ সত্যজিৎ এর সবচেয়ে কাছাকাছি যিনি থেকেছেন তিঁনি হচ্ছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। বইজুড়ে তিঁনি তাঁর গুরুকে নিয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। তবে একটা বিষয় এখানে না উল্লেখ করলেই নয়; নায়ক সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এর পাশাপাশি তিঁনি যে একজন ভালো লিখিয়ে তা জানা ছিলোনা আগে। কি অসাধারণ শব্দচয়ন, যেন রেগুলার লিখেন! একে তাঁর গুরুর প্রতি মুগ্ধতা অপরদিকে তাঁর লেখার ছন্দ, যেন শিউলি ঝরছে বইয়ের পাতায়! এবার লেখকের স্মৃতিচারণায় আসি-

একটা একপেশে, প্রাণহীন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে সত্যজিৎ রায় পরবর্তীতে কোন পথে পরিচালিত করেছেন তা কারো অজানা নয়। রীতিমতো পড়াশোনা করেছেন তিঁনি ফিল্ম নিয়ে। এ বইটিতেও লেখক সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মাধ্যমে কিছু ফিল্ম সংক্রান্ত বইয়ের নাম জানা যায় যার নাম আগে কখনো শুনিনি।পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের ফিল্মের পথ যে খুব মসৃণ ছিলো তাও নয়। তাঁর একটা বই পড়েছিলাম 'একেই বলে শুটিং', মনে আছে, বইটিতে তিনি 'পথের পাঁচালী', 'সোনার কেল্লা' সিনেমা শুট এর অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন - পয়সার অভাবে শুটিং বন্ধ থাকতো মাসের পর মাস। অন্য সব স্ট্রাগল এর কথা নাহয় বাদই দিলাম, শুধু একটা ঘটনা টানলেই বিষয়টা কিছুটা হলেও উপলব্ধি করা যাবে। ঐ যে - অপু দূর্গার কাশবনের মধ্যে দিয়ে ট্রেন দেখার শট টা? মনে আছে? মিঃপারফেকশনিস্ট তখন এই শট টায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি জন্য পরবর্তী সিজনে কাশফুল ফোটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন রিটেক এর! আর সবসময় নতুন নতুন আর্টিস্ট নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করাটা চাট্টিখানি কথা না। শুধু স্ক্রিপ্ট দিয়েই খালাশ হওয়ার পরিচালক ছিলেন না তিঁনি। স্ক্রিপ্ট এর বাইরেও তাঁর প্রত্যেকটা শট নিয়ে আলাদা সাব-স্ক্রিপ্ট থাকতো! আর তা পৃথকদৃষ্টিতে এক একটা সাহিত্যকর্মের সমান। আবার একটা উদাহরণ টানা যাক -

"অপুর সংসার" সিনেমার সেই দৃশ্য যেখানে অপু পাহাড়ের উপর থেকে তার প্রাণের চেয়ে প্রিয় উপন্যাসের পাতাগুলো উড়িয়ে দিচ্ছে, মানিকদা তখন সাবস্ক্রিপ্ট এ দৃশ্যের বর্ণনা দিয়ে লিখছেন-
"Then Apu lets the whole manuscript go, and they seem like an enormous flock of some strange migratory birds disappearing into the depths of the mountains"

আহা!
Profile Image for Tisha.
205 reviews1,119 followers
April 14, 2025
আমার এই লেখাকে ঠিক রিভিউ বললে ঠিক হবে না। এটাকে আমার অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ বলাটা হয়তো বেশি যুক্তিযুক্ত হবে। সত্যজিৎ আমার কাছে মুগ্ধতার আরেক নাম। আর তাঁরই গল্প যখন আমি আমার খুব প্রিয় একজন অভিনেতার কাছ থেকে শুনছি, সেটা তো খুব বিশেষ হবেই! সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে আমি ছোটবেলা থেকে দেখছি। বাসায় পুরনো দিনের কলকাতার মুভিগুলো বেশ দেখা হত বলেই হয়তো খুব অল্প বয়সে তাঁর সাথে পরিচয়। কিন্তু তাঁর অভিনয় বুঝেছি অনেক পরে! ঐ যে, অপুর সংসার দেখলাম বড়বেলায়! কি ভীষণ যে ভালো লেগেছিল মানুষটাকে! এরপর আর কি থামা যায়! ফেলুদা দেখলাম, দেখলাম চারুলতা! মজার বিষয় হল, সব সিনেমায় পরিচালকের নাম সেই একই! কি অদ্ভুত! সত্যজিৎ রায়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মানিকদা! এই বইটি পড়ে বুঝলাম, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সেই ধারালো অভিনয়ের পিছনে আসলে ঠিক কার অবদান ছিল। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় আসলেই ভাগ্যবান ছিলেন। এতো কাছে থেকে সত্যজিৎ রায়কে দেখেছেন, তাঁর কাছ থেকে দীক্ষা নিয়েছেন, আহা, কি ভাগ্য! একজন মানুষ এতো ট্যালেন্টেড কিভাবে হয়? হ্যাঁ, সত্যজিৎ রায়ের কথাই বলছি! মানুষটা নিজে বসে থেকে স্কেচ করতেন যে একজন অভিনয়শিল্পীর মেকআপ কিরকম হওয়া উচিৎ! নিজে বাজারে গিয়ে কাপড় কিনতেন তাঁর ছবির কলাকুশলীদের জন্য! নির্দিষ্ট কোন অঞ্চলভিত্তিক সিনেমা করতে গেলে অনেকদিন আগে থেকে ঐ এলাকার মানুষদের হাঁটাচলা থেকে ঘুমানোর ঢং-টা পর্যন্ত তাঁর নিখুঁতভাবে জানতে হত! চারুলতার জন্য সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে আলাদা করে ক্যালিগ্রাফি স্টাইলে লেখা পর্যন্ত শিখিয়েছেন উনি! উফ! আরও কত কি যে আছে! এতো ডেডিকেশন! কেউ কি এখন আর এতোটা ভাবে একটা সিনেমা বানানোর আগে? জানি না! এমনকি ম্যানুস্ক্রিপ্টের লেখাটাও এতো মায়া নিয়ে লিখতেন তিনি! এই যেমন অপুর সংসারের স্ক্রিপ্টের কিছু লাইন নাকি এরকম ছিল- "Then Apu lets the whole manuscript go, And they seem like an enormous flock of some strange migratory birds disappearing into the depths of the mountain…" কি সুন্দর! সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা নিয়ে কিছুই বলবো না। তিনি যে এই বইখানা লিখেছেন কষ্ট করে, সেটাই আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার। না হলে আমি এতো কিছু কিভাবেই বা জানতাম! বইয়ের আরও আকর্ষণীয় বিষয় হল, অনেক মুভির রেফারেন্স রয়েছে লেখার ভেতর এবং একদম শেষে। মুভি দেখা মানুষদের জন্য নিঃসন্দেহে এটি একটি দারুণ ব্যাপার! এছাড়াও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় নিজের সংগ্রহ থেকে কিছু ছবিও জুড়ে দিয়েছেন বইয়ের ব���ভিন্ন পাতায়। এই বইকে পাঁচের কম দেবো! অসম্ভব!
Profile Image for Koushik Ahammed.
150 reviews12 followers
July 16, 2020
সৃজনশীল মানুষ জনকে নিয়ে লিখতে গিয়ে সবাই কেমন যেন একপেশে আচরণ করে। একটা চেষ্টাই যেন থাকে লেখকদের কীভাবে মানুষটাকে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করবে, কে কতটা বেশি ভাল বলতে পারবে এইসব।

এই বইতেও তার বাইরে কিছু নেই।

সত্যজিৎ রায় যে বঙ্গ দেশের আলাদা প্রতিভা এতো জানা বিষয়ই। ওনার কাজের প্যাটার্ন তো আলাদাই হবে। লেখক সেইসব বলে বলেই বিরক্ত করে ফেলেছে।

তবে আলাদা করে নতুন কিছু না খুঁজে লেখকের সাথে সত্যজিৎ রায় এর কাটানো সময়ের স্মৃতিকথা পড়তে আগ্রহী পাঠকের ভালো লাগবে।
3 reviews2 followers
December 13, 2022
চৌত্রিশ বছর; লম্বা সময়। এই দীর্ঘ্য সময় বিশ্ববরেণ্য চলচিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের নিকট সান্নিধ্যে থেকে প্রখ্যাত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় জমা করেছিলেন অনেক 'মণিমাণিক্য'। এই বইতে সেই স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি। সাহিত্যের ছাত্র সুলেখক শ্রী চট্টোপাধ্যায়ের লেখনীর গুণে এক সিটিংয়েই এই বই শেষ করে ফেলা যাবে। জানা যাবে অনেক সিনেমার না জানা কথা। জানা যাবে বাংলা চলচিত্রে 'মানিকদা'র হাত ধরে সৌমিত্রর উঠে আসার কাহিনী।

শুধু একটাই দুঃখ, বইটা যদি আরো একটু হৃষ্টপুষ্ট হত।
Profile Image for Shaon Arafat.
131 reviews32 followers
November 4, 2023
সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সত্যজিৎ রায়ের দক্ষতা ও অবদান যে আক্ষরিকঅর্থেই তুলনাহীন, সেটা তো নিঃসন্দেহ! তবে এই বইটায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখনীও পাঠক হিসেবে আমাকে কম মুগ্ধ করেনি। বইটা পড়ার পর মনে হলো, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় যদি অভিনয় না করে, পুরোদস্তুর লেখক বনে যেতেন, তাতে তার আজকের অবস্থান অভিনেতা সৌমিত্রের চেয়ে এক লাইনও নিচে থাকত না।

উনি বেঁচে থাকলে, সত্যজিৎ রায়ের 'সৃজনশীল কর্মকাণ্ড' নিয়ে আরও বড় পরিসরে একটা বই লিখতে গায়েবী অনুরোধ করতাম!
Profile Image for Shaon Arafat.
81 reviews5 followers
January 11, 2024
সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সত্যজিৎ রায়ের দক্ষতা ও অবদান যে আক্ষরিকঅর্থেই তুলনাহীন, সেটা তো নিঃসন্দেহ! তবে এই বইটায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখনীও পাঠক হিসেবে আমাকে কম মুগ্ধ করেনি। বইটা পড়ার পর মনে হলো, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় যদি অভিনয় না করে, পুরোদস্তুর লেখক বনে যেতেন, তাতে তার আজকের অবস্থান অভিনেতা সৌমিত্রের চেয়ে এক লাইনও নিচে থাকত না।

উনি বেঁচে থাকলে, সত্যজিৎ রায়ের 'সৃজনশীল কর্মকাণ্ড' নিয়ে আরও বড় পরিসরে একটা বই লিখতে গায়েবী অনুরোধ করতাম!
Profile Image for Rubaiat.
30 reviews3 followers
January 1, 2021
I'm thankful this was written, but surely could have been written better. The anecdotes are light and move fast with a summary of the great traits of Satyajit Ray. By the end I was thinking an attempt could have been made to have compiled writings from other artists of their experiences of working with this great renaissance man.
Profile Image for Debashish Chakrabarty.
108 reviews93 followers
June 10, 2019
স্বভাবতই মানিকদা তথা সত্যজিতের প্রতি প্রবল আগ্রহের কারণেই এই গ্রন্থ পাঠ । যদিও প্রিয় নায়ক সৌমিত্রের আমিত্বের ঠ্যালাও পোহাতে হয়েছে ঢের । তবুও মাত্রা ছাড়িয়ে বিরক্তির উদ্রেক করেননি । পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল ওঁদের সম্পর্কটা বুঝিবা ঠিক ফেলু আর তোপসের মতই । গল্পের তোপসের মতই সৌমিত্র ভালবেসে গেছে মানিকদাকে, সময় অসময়ে খুঁজেছে আশ্রয়, অবাক শ্রদ্ধায় কখনোবা খুঁজেছে খানিক আশকারা আর একটু তারিফের পিঠ চাপড়ানি পেলে তো কথাই নেই ।
Displaying 1 - 30 of 39 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.