বিশ্বের প্রথম গোয়েন্দা গল্প লেখক এডগার অ্যালান পোর সাতটি গল্প নিয়ে সাজানো একটি সংকলন। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সম্পাদনায় এ সংকলনটি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত হয়। এ সংকলনে স্থান পাওয়া গল্পগুলো হল— ১. ভ্যালডিমারের মৃত্যু ২. লাল মড়ক ৩. আশার বংশের পতন ৪. কালো বিড়াল ৫. শব্দ ৬. মোরেলা ৭. চোরাই চিঠি
The name Poe brings to mind images of murderers and madmen, premature burials, and mysterious women who return from the dead. His works have been in print since 1827 and include such literary classics as The Tell-Tale Heart, The Raven, and The Fall of the House of Usher. This versatile writer’s oeuvre includes short stories, poetry, a novel, a textbook, a book of scientific theory, and hundreds of essays and book reviews. He is widely acknowledged as the inventor of the modern detective story and an innovator in the science fiction genre, but he made his living as America’s first great literary critic and theoretician. Poe’s reputation today rests primarily on his tales of terror as well as on his haunting lyric poetry.
Just as the bizarre characters in Poe’s stories have captured the public imagination so too has Poe himself. He is seen as a morbid, mysterious figure lurking in the shadows of moonlit cemeteries or crumbling castles. This is the Poe of legend. But much of what we know about Poe is wrong, the product of a biography written by one of his enemies in an attempt to defame the author’s name.
The real Poe was born to traveling actors in Boston on January 19, 1809. Edgar was the second of three children. His other brother William Henry Leonard Poe would also become a poet before his early death, and Poe’s sister Rosalie Poe would grow up to teach penmanship at a Richmond girls’ school. Within three years of Poe’s birth both of his parents had died, and he was taken in by the wealthy tobacco merchant John Allan and his wife Frances Valentine Allan in Richmond, Virginia while Poe’s siblings went to live with other families. Mr. Allan would rear Poe to be a businessman and a Virginia gentleman, but Poe had dreams of being a writer in emulation of his childhood hero the British poet Lord Byron. Early poetic verses found written in a young Poe’s handwriting on the backs of Allan’s ledger sheets reveal how little interest Poe had in the tobacco business.
মোট সাতটি গল্প আছে বইটাতে।এর মধ্যে প্রথম ছয়টা গল্পে দেখা যায় বীভৎস এবং নৃশংস সব কাহিনী। আর শেষেরটাতো রীতিমতো গোয়েন্দা গল্প (লেখকই পৃথিবীর প্রথম গোয়েন্দা গল্পকার)।গোয়েন্দা গল্পটাই সবচেয়ে ভালো ছিলো।
সাতটি গল্প নিয়ে বইটি সম্পাদনা করা হয়েছে। সম্পাদনা করেছেন শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের সম্পাদনার খুঁত ধরার মত স্পর্ধা আমার নেই। এক কথায় বলতে গেলে সংকলিত গল্পগুলোর অনুবাদ অসম্ভব ভাল লেগেছে আমার কাছে। এই সংকলনের গল্পগুলো একটু অন্যরকম স্বাদের। রহস্য গল্প বলে কথা! তবে আমার নিজের পাঠক মনের ভিন্ন স্বাদের জন্য কিনা জানিনা এক-দুইটি গল্প ছাড়া এত ভাল লাগেনি। সবচেয়ে বেশি ভাল লেগেছে 'চোরাই চিঠি' গল্পটি। এই গল্পের কাহিনী প্রবাহিত হয়েছে একটি চোরাই চিঠিকে নিয়ে। আগাগোড়া ডিটেকটিভ ধাঁচের গল্প এটি। চোরাই চিঠিটি উদ্ধারের কাহিনী বিস্তৃতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে এই গল্পে। এই গল্প সবচেয়ে ভাল লাগার কারণ হল হিউম্যান সাইকোলজির প্রভাব। যার কিছু বর্ণনা পাওয়া যায় 'স্কুল ছাত্রের জোড়-বিজোড় নির্ণয়ের পদ্ধতিতে' আর 'ম্যাপের মধ্যে চিহ্নিত জায়গা খোঁজায়'। এই গল্পের কাহিনী অনেকটা যৌক্তিক এবং বাস্তবিক। তারপর যে গল্পটি ভাল লেগেছে সেটা হল-'কালো বিড়াল'। গল্পটা উত্তম পুরুষে লেখা। 'প্লুটো' নামের এক কালো বিড়ালকে দিয়ে কাহিনীর সূত্রপাত এবং সমাপ্তি। প্রথমে প্লুটোর উপর তার গভীর স্নেহ-ভালবাসা-মমত্ববোধ কাজ করত কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার সেই স্নেহশীল মনোভাব উধাও হতে শুরু করে। মমত্ববোধের জায়গাটুকু দখল করে নেয় প্রবল বিরক্তি আর ঘৃণা এবং সেটার পরিপূর্ণ প্রকাশ পায় নিষ্ঠুরতা আর নির্মমতায়। সেটা এত প্রকট হয়ে উঠে যে প্লুটোর এক চোখ উপড়ে দিতেও কথকের হাত কাঁপেনি। কিন্তু পরক্ষণেই তার মন অনুতাপে দগ্ধ হতে থাকে। আবার কিছুদিনের মধ্যেই যখন প্লুটো স্বাভাবিক হতে শুরু করল তখন সেই পুরনো বর্বরতাগুলো আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত প্লুটোকে গাছের সাথে ঝুলিয়ে মেরে ফেলে কিন্তু তার অভিব্যক্তিতে কোন পরিবর্তনই ফেলে না সেই মৃত্যু। মানবমনের এমন রূপান্তরের মুহূর্তগুলো মানুষের সবচেয়ে অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যের বহিঃপ্রকাশ। যে এই বৈশিষ্ট্যগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সে ততই নিখুঁত শিল্পী। বাকি গল্পগুলো হল- 'ভ্যালডিমারের মৃত্যু', 'লাল মড়ক', 'আশার বংশের পতন', 'শব্দ' ও 'মোরেলা'। এই গল্পগুলোর কাহিনীর প্রত্যেকটিই অতিপ্রাকৃত শক্তির উপস্থিতিকে টেনে আনা হয়েছে রহস্য হিসেবে। যার অনেকটাই ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়া যাবে এখনকার সময়। কিন্তু এই গল্পগুলো যখন লেখা হয়েছিল সেই সময়কার সামাজিক আবহাওয়া চিন্তা করলে গল্পগুলো অনেকটা মানানসই বলা চলে। তবে 'প্রথম গোয়েন্দা গল্পের স্রষ্টা' হিসেবে অ্যাডগার অ্যালান পো'র অবদান অনস্বীকার্য।
পড়লাম বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত মহীউদ্দীন আহমেদ অনূদিত ও আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ সম্পাদিত এডগার অ্যালান পো'র 'শ্রেষ্ঠ গল্প' বইটি। মোট সাতটি গল্প নিয়ে মাত্র আশি পৃষ্ঠার ছোট পরিসরের একটা বই।
বিশ্ব সাহিত্যে বেশ কয়েকটি কারণে এডগার অ্যালান পো স্মরণীয় হয়ে আছেন। ইংরেজি সাহিত্যে প্রথম বিজ্ঞান কল্পকাহিনী বা সাই-ফাই এবং গোয়েন্দা গল্পের স্রষ্টা বলা হয় তাকে। এছাড়াও একজন কবি, ছোটগল্প লেখক, সাহিত্যতাত্ত্বিক ও সমালোচক হিসেবে তাকে মার্কিন সাহিত্যের ইতিহাসে এক অনন্যসাধারণ প্রতিভা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
১৮০৯এ বস্টনে তাঁর জন্ম। এক বছর বয়েসে বাবা পরিবারকে পরিত্যাগ করেন, মা মারা যান দু’বছর বয়েসে। জন অ্যালান নামে ধনাঢ্য এক ভদ্রলোকের পরিবারে পালকপুত্র হিসাবে বড় হন, তাঁর নামে অ্যালান শব্দটি এখান থেকেই যুক্ত।
মাত্র চল্লিশ বছরের স্বল্প পরিসরের জীবন নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন তিনি, যার পুরোটাই ছিল দারিদ্র, শোক, দুঃখ, বঞ্চনা আর ব্যর্থ প্রেমের বেদনায় পরিকীর্ণ। যার প্রচ্ছন্ন প্রভাব তার সৃষ্ট কর্মেও কিছুটা লক্ষ্য করা যায়।
তাঁর মৃত্যু নিয়েও রয়েছে কিছুটা রহস্য। কিছু অদ্ভূত কাহিনিরও জন্ম দেয় তাঁর মৃত্যু। অ্যালান পো'র একটি প্রিয় পোষা বিড়াল ছিল, যেটিকে তিনি প্রায় সময়ই তার কাঁধের উপর রেখে লিখতেন। তাঁর মৃত্যুর পর যখন তাঁর শাশুড়িকে মৃত্যু সংবাদটি দেওয়া হয় তখন তিনি বিড়ালটিকে মৃত অবস্থায় খুঁজে পান। পো'কে নিয়ে সবচেয়ে অদ্ভুতুড়ে ব্যপারটি হলো মৃত্যুও তাঁর লেখালেখি থামাতে পারেনি! ১৮৬০ সালে লিজ্জি ডোটেন নামের একজন মহিলা কবি বেশ কিছু কবিতা প্রকাশ করেন এবং তিনি দাবি করেন পোর প্রেতাত্মা তাকে কবিতাগুলো বলে গিয়েছেন। এ কথা শোনার পর পো'র বাগদত্তা সারাহ ওই মহিলার সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাঁর সাথে থাকতে চলে যান এই ভেবে যে, হয়ত সেই প্রেতাত্মা তাঁর সাথেও যোগাযোগ করবে!
বইয়ের কথায় ফিরে আসি! যে সাতটি গল্প এই বইয়ে স্থান পেয়েছে সেগুলো হল- 'ভ্যালডিমারের মৃত্যু', 'লাল মড়ক', 'আশার বংশের পতন', 'কালো বিড়াল', 'শব্দ', 'মোরেলা' ও 'চোরাই চিঠি'।
অ্যালার পো'র সাহিত্য কর্মে রোমান্টিসিজমের অতিপ্রাকৃত ও অশুভত্বের যে সংমিশ্রণ দেখা যায় তা থেকে এ গল্পগুলোও ব্যতিক্রম নয়। তাঁর শিল্পের উপজীব্য হিসেবে কাজ করেছে তাঁর একান্ত নিজস্ব উত্তেজনাকর স্বপ্ন, বিরল দৃশ্য ও অতীন্দ্রিয় এক জগৎ।
নাট্যসৃজনপ্রবণতা তাঁর ছোটগল্পে স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত বৈশিষ্ট্য দান করেছিল। অ্যালান পো'র গল্পগুলো বিভীষিকাময়, উদ্ভট, ভৌতিক কিংবা রহস্যে ঘেরা। যে কারণে অনেকে অ্যালান পো'র নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে খুন, রহস্যময় কোনো কাক, জীবন্ত কবর এবং মৃত্যুর পর ফিরে আসা অদ্ভুত কোনো মহিলার ছবি।
তবে যতই অদ্ভূত কিংবা উদ্ভট (এবং অনেকের মতে তাঁর লেখনী দুর্বোধ্য) হোক না কেন, তা���র প্রতিটি গল্পেই মানুষের মনস্তাত্ত্বিক এবং নৈতিক বাস্তবতার তীব্র প্রতিক্রিয়ার প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। চিন্তার জগতে আলোড়নের উদ্রে��� করে তাঁর গল্পগুলো। মননশীলতার উপর গভীর দাগ কাঁটতে সক্ষম তাঁর এই গল্পগুলো।
এই গল্পগুলোর একটা সাধারণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- তারঁ গল্পগুলোতে তিনি মানুষের সবচে’ নীচ স্বভাবের মনোবৃত্তিগুলি তুলে ধরেছেন খুবই সাবলীলভাবে, কোনটা শারীরিক-মানসিক নিপীড়ন নিয়ে, আবার কোনটা তার সাথে ডার্ক হিউমার মিলিয়ে একটু কৌতুকপ্রদ। সবগুলিই ফিরে ফিরে মৃত্যু বিষয়টাকে টেনে নিয়ে এসেছে। আর প্রতিটা ভিলেইনই মানবিক - তাদের প্রতি যতটা না ঘৃণা জাগে, তার থেকে বেশি হয় করুণা।
'ভ্যালডিমারের মৃত্যু' গল্পে দেখতে পাই- জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা একজন মানুষকে সম্মোহন করা ও তাঁর প্রভাব। মৃতপ্রায় একজন মানুষকে সম্মোহনের প্রভাবে কতদিন পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব? কিংবা আদৌ সম্ভব কিনা। সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে এ গল্পে।
দ্বিতীয় গল্পটির নাম 'লাল মড়ক'। মধ্যযুগীয় ইউরোপে প্লেগের সময় যখন রাজ্যের প্রজারা রোগাক্রান্ত, মৃত্যুপথযাত্রী, প্রিয়জনের বিয়োগবেদনায় শোকাতুর। তখন প্রিন্স প্রস্পেরো নামে এক রাজকুমার তাঁর বন্ধুবান্ধব, পরিবার, আর সমশ্রেণীর অভিজাতদের নিয়ে বহু বছরের রসদসমেত চলে গেলেন দূরের এক দুর্গে। যেন এই রোগ তাদের আক্রান্ত না করতে পারে। বিরাট উচু ও মজবুত একটা দেয়াল দুর্গটিকে ঘিরে রেখেছে। দেয়ালের মধ্যে বিরাট সব লোহার দরজা। সে দুর্গে অতন্দ্র প্রহরা, কাকপক্ষীরও সাধ্য নেই সেখানে প্লেগের জীবাণু নিয়ে ঢোকে। বহির্বিশ্বের মৃত্যুর বাস্তবতাকে ভুলতে আর দৈনন্দিন জীবনের একঘেঁয়েমি কাটানোর জন্যে প্রস্পেরো একটা পার্টি দিলেন।
কিন্তু সে পার্টিতে অদ্ভূত ভাবে এক নবাগতের আগমন ঘটলো। সে আসলো কাফনের মত লাল কাপড়ে আপাদমস্তক আবৃত হয়ে, মুখে মৃতের মুখোশ। দৌড়াতে লাগলেন রাজকুমার কে। এ ঘর থেকে ও ঘরে। শেষে রাজকুমার কে ছোঁয়া মাত্র ভয়ে-বিভীষিকায় সাদা হয়ে প্রস্পেরোর আত্মা দেহত্যাগ করলো! প্রস্পেরোকে রক্ষা করতে তাঁর পারিষদবর্গ ছুটে এলেন, আক্রমণ করলেন রক্তিম আগন্তুককে। তার আলখেল্লা ধরে টান দিতেই তাঁরা দেখলেন প্রহেলিকা- পোশাকের নিচে নেই কেউ! তারপর একে একে সকলে রক্তিম ত্বক নিয়ে প্লেগের আক্রমণে ঢলে পড়লেন মৃত্যুর কোলে। দুর্গের প্রাচীরের ভেতরে চলল লাল মৃত্যুর রাজত্ব! এ গল্পের সেই আগন্তুক যেন অসহায় প্রজাদের প্রতিরূপ হয়ে এসেছে। আর জানান দিয়েছে মৃত্যুর উর্ধ্বে কেউ নয়। মৃত্যুর করাল গ্রাস কাউকে ছাড়ে না।
'আশার বংশের পতন' গল্পটি রোডেরিক ও ম্যাডেলিন আশার নাম দুই যমজ ভাই-বোনের গল্প। বোন ম্যাডেলিন অসুস্থতার চরম অবস্থায় অচেতন হয়ে পড়বার পর ভাই রোডেরিক তাকে মৃত ভেবে অন্ধকার এক কুঠুরিতে রেখে আসেন। মানুষের জীবসত্তা ও বুদ্ধিসত্তার দ্রবণই হচ্ছে মানবজীবন- এ কথায় লেখক বলতে চেয়েছেন এখানে।
পরের 'কালো বিড়াল' ও 'শব্দ' নামক দুটি গল্পে আমরা দু'জন খুনিকে দেখতে পাই। যারা প্রথমে খুন করেও পরে তা স্বীকার করেছে এবং অনুশোচনায় ভুগেছে। মৃত আত্মা তাদের স্বস্তিতে থাকতে দেয় নি। ক্রোধ মানুষের জীবনটাকে কীভাবে তছনছ করে দিতে পারে তারই প্রতিচ্ছবি যেন 'কালো বিড়াল' গল্পটি।
'শব্দ' গল্পটি ঠান্ডা মাথায় এক বৃদ্ধকে খুন করে তার দেহাবশেষকে টুকরো টুকরো করে বাড়ির মেঝের নিচে গুম করে ফেলার কাহিনী- যার শেষ খুনীর পাপবোধের ফলস্বরূপ তার মনস্তত্ত্বে মেঝের ফ্লোরবোর্ডের নিচ থেকে আসা বুড়োর চলমান হৃদপিন্ডের ধকধক আওয়াজ। আর কেউ শুনতে না পেলেও সে আওয়াজ তাকে পাগল করে ফেলে। আর যার পরিণতিতে অবশেষে পুলিশের সামনে সে মেঝে খুঁড়ে বের করে ফেলে নিজের কীর্তিকলাপের প্রমাণ!
'মোরেলা' গল্পের সারসংক্ষেপ এর বদলে একটু অংশ তুলে দিচ্ছি-
"হ্যাঁ আমি মরে যাচ্ছি। আমার ভেতরে রয়েছে সেই স্নেহবীজ- সেই ছোট্ট মোরেলাকে রেখে যাচ্ছি, তুমি তাকে ভালোবাসো। যখন আমার প্রাণ চলে যাবে তখন সে শিশু বাঁচবে- সে হবে তোমার এবং মোরেলার সন্তান। কিন্তু সেই দিন হবে দুঃখের দিন, যেমন সাইপ্রাস দীর্ঘদিন ধরে বাঁচে, তেমনি এ দুঃখ হবে দীর্ঘস্থায়ী। কেননা তোমার সুখের দিন বিগত প্রায়। গোলাপ হয়ত বছরে দু'বার ফোটে কিন্তু জীবনে সুখের দিন দু'বার আসেনা।"
কথাগুলো অদ্ভূত, সুন্দর। না?
শেষ গল্প হচ্ছে 'চোরাই চিঠি'। এই গল্পে অন্যান্য গল্পের মত মৃত্যু নেই। বিভীষিকা নেই। নেই অতিপ্রাকৃত কোন ঘটনা। বরং গোয়েন্দা গল্প এটি। রাজপ্রাসাদ এর এক সম্মানিত মহিলার একটি চিঠি খোয়া যায়, যা প্রকাশ পেলে সেই মহিলার সম্মান হানি ঘটবে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে- চিঠিটি চুরি হয়েছে সেই মহিলাটির সামনে। এবং তিনি চোরকে চিনেন। তাঁর কিছু করার ছিল না এমন এক পরিস্থিতিতে চুরি হয় এটি। এবং চিঠিটি চুরি করেছে এক মন্ত্রী। অবশেষে সে চিঠি উদ্ধাদের দায়িত্ব এসে পড়ে প্যারির পুলিশের উপর। তবে তা অবশ্যই অতি গোপনীয়তার সাথে উদ্ধার করতে হবে। উদ্ধার করতে পারলে রয়েছে মোটা অংকের পুরস্কার।
যারা রোমহর্ষক ছোটগল্প পড়তে পছন্দ করেন, তাঁরা নিশ্চিন্তে পড়তে পারেন বইটি। অনুবাদ বেশ সাবলীল ছিল। অবশ্য 'বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র' ও 'সেবা'র অনুবাদের মান নিয়েও তেমন প্রশ্ন নেই। ধ্রুব এষ এর প্রচ্ছদে বইটির মুদ্রিত মূল্য একশত টাকা মাত্র।
এডগার এলান পোর সাতটি গল্প নিয়ে সংকলনটি করা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত। সংকলনে পোএর স্পেশালিটি যেটা রহস্য এবং হরর গল্প তার একটা সুন্দর সম্মিলন ছিল। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অনুবাদ বরাবরই ভাল হয়। ব্যাতিক্রম ঘটে নি এক্ষেত্রেও। সহজ সাবলীল ভাষার উপস্থাপন ছিল গল্পগুলিতে।
এডপগার এলান পো কদম প্রথমদিককার রহস্য উপন্যাস লেখক। তাকেতো গোয়েন্দা গল্পের জনকই বলা হয়। তার সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র "দুপ্যো" শারলক, ফেলুদাদের পূর্বসূরি। সেই দুপ্যোকে নিয়ে একটা গল্প (চোরাই চিঠি) সংকলনটিতে আছে। এবং এটা থেকেই পো এর গোয়েন্দা মাইন্ডের একটা পরিচয় পাওয়া যায়। সংকলনের বাকি গল্প গুলোর প্রায় সবগুলোই হরর সাস্পেন্স জনরার। প্রতিটা গল্প শেষ করার পর একটা গা ছম ছমে অনূভুতি হয়। আমার হরর পছন্দ না হওয়া সত্ত্বেও গল্পগুলো ভাল লেগেছে। হয়তো এর মধ্যে অতিপ্রাকৃত সত্বার অস্তিত্বের প্রভাব একটু কম বলেই সেরকম খারাপ লাগে নি। আরেকটা জিনিস পো এর লেখাতে দেখা যায় যে, যে গল্পগুলো মানবমনের নৈতিক বাস্তবতার তীব্র প্রতিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে লেখা। গভীর নৈতিক দায়িত্ববোধ তার লেখায় ফুটে উঠে।
গল্পগুলোর মধ্যে "ভালডিমারের মৃত্যু" অসাধারণ! একজন মৃত্যু পথযাত্রীকে হিপনোটাইজ করাকে কেন্দ্র করে গল্পটি গড়ে উঠেছে। পড়ার পর আমার হিপনোটিজম শেখার আগ্রহ আরো বেড়ে গেছে! :P বাকিগুলোর মধ্যে আশার বংশের পতন আর লাল মড়ক গল্প দুটোও বেশ উপভোগ্য।
পো এর শ্রেষ্ঠ গল্প সংকলন পড়ে তার আরো লেখা পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এটাই হয়তো কোন সংকলনের মূল কাজ, সেই লেখকের অন্য আরো লেখার প্রতি আগ্রহ তৈরি করা। যা এই বইটি খুব ভালভাবে করতেই সমর্থ হয়েছে। আর রহস্যপ্রেমীদের জন্য ইহা পড়া অত্যাবশ্যকীয় :D ।
বইটিতে পো-র কিছু ছোট গল্পের অনুবাদ করা হয়েছে। অনুবাদ মান সম্মত ও সাবলীল। গল্প লেখার সময়কাল বিবেচনা করলে বলতে হয়, লেখকের চিন্তাভা��না তার সময়ের থেকে অনেক এগিয়ে ছিল। তিনি কেন এত বিখ্যাত সেটা তাই বলার অপেক্ষা রাখে না। গল্প গুলোতে একটা প্যাটার্ন লক্ষ্য করলাম, কেমন একটা পরাবাস্তবধর্মী ছাপ লেখা গুলোতে। লেখক তার চিন্তাকে দূর থেকে দুরান্তরে ছড়িয়ে দিয়েছেন সেই সাথে পাঠকেও তার চিন্তার জগতে নিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছেন। ছোট গল্পে এত ডিটেইলস বর্ননা আমি আগে দেখি নাই। এই ধরনের লেখার ক্ষেত্রে, অনুবাদ না পড়ে, মূল লেখাটাই পড়া উচিত বলে আমি মনে করি।
অনুবাদের ভাষায় অনেক অনুভূতি হারিয়ে গিয়েছে বলে মনে হল। তবে এর মাঝে ভাল্ডিমেরার মৃত্যু, কাল বিড়াল, চোরাই চিঠি ভাল লেগেছে। অগাস্ট দ্যুপ কে নিয়ে লেখা অন্যান্য গল্প পড়ার ইচ্ছে হচ্ছে এখন।
বইটা ভীতিকর। খুবই, খুবই ভীতিকর। যতটা না এ্যালান পোর গল্পের কারণে—তার চেয়েও বেশি অনুবাদকের ফুটো হয়ে যাওয়া বিশেষণের ঝুড়ির জন্য। যেই বাজনা শুনে গল্পের চরিত্রগুলো আতঙ্কে অধীর হয়ে যাচ্ছে সেটাকে বেচারা লিখে ফেললেন ‘অদ্ভুত, হৃদয়গ্রাহী’! মুজতবা আলী সাহেব আজ বেঁচে থাকলে নির্ঘাত দাঁতমুখ খিঁচিয়ে তলোয়ার হাতে তেড়ে আসতেন।
হতাশ হয়ে মূল ভাষায় পোর গল্পগুলো ঘেঁটে দেখছিলাম। সুন্দরতম না হলেও, সুন্দরতর। উনিশ শতকের প্রথমার্ধের রোমান্টিসিজমের প্রভাবেই সম্ভবত, গল্পগুলোর বর্ণনায় চিত্রময়তা খুব বেশি। হয়তো গল্পের নায়ক ঘুরতে ঘুরতে ভুলে একটা ঘরে ঢুকে পড়লো—লেখক তৎক্ষণাৎ সেই ঘরের দরজা-জানালা থেকে শুরু করে মেঝের নকশা পর্যন্ত একটা নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে ছাড়বেন। বর্ণনায় চিত্রময়তার এই ব্যাপারটুকু একটা খ্যাপা ঘোড়ার মতই—নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে অসামান্য সৌন্দর্য নিয়ে দৌঁড়াবে, আর না রাখতে পারলে লাফ-ঝাঁপ-চিৎকার ছেড়ে সবাইকে অতিষ্ঠ করে তুলবে। হয়তো কবি দেখেই এ্যালান পোর হাতে এই নিয়ন্ত্রণটুকু ছিল।
ছিল কি? মূল ভাষায় অনেকগুলো গল্প পড়ার আগে এ ব্যাপারে স্পষ্ট মন্তব্য করা কঠিন। তবে এটুকু নিশ্চিত, এ্যালান পোর ঘোড়াটা অনুবাদকের হাতে এসে পড়ার পর দু পা তুলে প্রবল উল্লাসে হ্রেষাধ্বনি ছেড়ে ছুটে গেছে। ও ঘোড়ার লাগাম ধরার ক্ষমতাই বা আছে ক’জনের!
গল্পগুলো ভালোই লেগেছে। ভ্যালডেমারের মৃত্যু আর আশারের পতনের গল্প দুটো বেশি চমৎকার লেগেছে। অগাস্ত দ্যুপোঁকে শার্লক হোম্সের আব্বু এবং সেই অর্থে ফেলুদার দাদু ধরা হলেও, গোয়েন্দাগিরিতে তিনি পৌত্রকে ছাড়িয়ে যেতে পারেননি—এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত। অবশ্য এ কথা স্বীকার করে নিতেই হবে যে, দ্যুপোঁ-হোম্স না থাকলে ফেলুদাই বা কী পড়ে মাথা শানিয়ে নিতো!
এবং অপ্রসঙ্গত, বইয়ের শুরুতে আহমাদ মাযহার সুন্দর ছিপছিপে একটা ভূমিকা লিখেছেন এ্যালান পো সম্পর্কে। এই ভূমিকাগুলো বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের চিরায়ত গ্রন্থমালার সাহিত্যের সাথে যে কতখানি সম্পূরক—তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ভয়ংকর সুন্দর। আসলে প্রতিটা গল্পই ভৌতিক বা অলোকিক হওয়ায় এবং সবগুলো গল্পই সুন্দর হওয়ায় সংক্ষেপে এটাই বলতে হলো। মাত্র ৬৩ পৃষ্ঠার একটা বইয়ে স্থান পেয়েছে লেখকের ৭ টি গল্প। ব্যক্তিগত জীবনে ভীষণ আত্মঃস্নায়বিক পীড়ায় ভোগা লেখকের প্রতিটা গল্পেই সেই উত্তেজনাকর স্বপ্ন, অতিন্দ্রীয় জগত এসেছে ঘুরেফিরেই।
প্রথম ছয়টি গল্প বলতে গেলে একই আবহের আর তাহলো ভৌতিক ও অলৌকিক বিষয়। প্রথম গল্প ‘ভ্যালডিমারের মৃত্যু'র কথাই ধরা যাকা। যক্ষ্মায় আক্রান্ত ভ্যালডিমার যখন অন্তিম শয্যায় তখনই পূর্ব ঘোষণা মতে তাকে হিপনোটাইজ করার সিদ্ধান্ত এক নামকরা হিপনোটাইজার। ফলাফলও পাওয়া গেল অদ্ভূত, ডাক্তাররা যেখানে ঘোষণা দিয়েছিল বরিবার মধ্যরাতে মারা যাবে ভ্যালডিমার সেখানে দেখা গেল মৃত্যুকে আটকে দিয়েছে হিপনোটিজম! আচমকায় অদ্ভূত আচরণ শুরু করল ভ্যালডিমার তখন। কিন্তু হঠাৎ...
প্রথম ছয়টি গল্পেই পাবেন এক অলৌকিক আবহ।মৃতের ফিরে আসা, প্রাণীর প্রতিশোধ নেওয়া,পুনর্জন্ম, মানসিক অস্থিরতা থেকে সৃষ্ট ভয়ের স্বরূপ এসবের মাধ্যমে লেখক আপনাকে ভয় পাইয়ে দেবেন, শিহরে উঠতে বাধ্য করবেন।
আর শেষ গল্প ‘চোরাই চিঠি' তো যুগান্তকারী গল্প। কেননা এই গল্প এবং আরও গোটা কয়েক গল্পের মাধ্যমেই সৃষ্টি হয়েছে সাহিত্যের নতুন একটি ধারা – গোয়েন্দা/ রহস্য গল্প। সৃষ্ট হলো দ্যাঁপো চরিত্রটি যা থেকেই অনুপ্রাণিত হয়েই সৃষ্টি হয়েছে শার্লক হোমস থেকে ফেলুদার মতো চরিত্রগুলো। অসাধারণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা আর মনোবিজ্ঞানের জ্ঞানের সাহায্যে অপরাধী সনাক্তকরণের ধারাটি সৃষ্টি করে তাইতো লেখক হয়ে আছেন চিরস্মরণীয়।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অনুবাদ সাধারণত ভালোই হয়। কিন্তু এই বইয়ের অনুমাদটা ঠিক সেই স্ট্যান্ডার্ডের হয় নি। তাছাড়া বেশ বানান ভুলও লক্ষ্যণীয়। আর স্বল্প আয়তনের ভেতরে বই শেষ করে দামকে সব পাঠকের সাধ্যের মধ্যে রাখার যে চেষ্টা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের তার জন্য বইটা পড়তেও বেশ ঝামেলা হয়েছে। তবে একটা আক্ষেপও থেকে যায়, এত তাড়াতাড়ি কেন বইটা শেষ হলো! তো যারা রহস্য বা ভৌতিক গল্প পছন্দ করেন তারা আর দেরি না করে পড়তে পারেন এই সুন্দর সংকলনটি।
বইটিতে আছে সাতটি গল্প - ভ্যালডিমারের মৃত্যু লাল মড়ক আশার বংশের পতন কালো বিড়াল শব্দ মোরেলা চোরাই চিঠি
প্রতিটি গল্পে গা ছমছম করা উপাদান আছে,আছে গল্পের চরিত্রদের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, মানসিক বৈকল্য, বিবেকের দংশন। শেষের গল্পটি অন্যরকম। গোয়েন্দা জনরার। শব্দ ও চোরাই চিঠি গল্প দুটি ভালো লেগেছে।
গত ১৯ তারিখ ছিল,আমেরিকান কবি,লেখক,সম্পাদক এবং সাহিত্য সমালোচক এডগার অ্যালান পো এর জন্মদিন। তবে তার কিছুদিন আগে এই বইটির পিডিএফ পাই এবং পড়ি। ৭টি ছোটগল্পের সমন্বয়ে বইটি কম সময়ে একবারেই পড়ে ফেলতে পারবেন।
পড়ার পর অনুভূতি ছিল অদ্ভুদ!উনার লেখায় সুপারন্যাচারাল ভৌতিক,রহস্যময় ভাব ফুঠে উঠেছে এবং যেকোনো মুহুর্তের পরিবেশের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বর্ণনা রয়েছে।যা,অনেকের কিছুটা বিরক্তিকর লাগতে পারে। তাছাড়া গল্পের ধরন বলার ক্ষেত্রে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি খুব অসাধারণ লেগেছে। তবে এই সংকলনের কয়েকটি গল্প পড়ার সময় মনে হচ্ছিল যেন তিনি তার জীবনে সে ঘটনার সরাসরি সম্মুখীন হয়েছেন। সংকলনের প্রথম ৬টি ছোটগল্পের বিষয়বস্তু ছিল রহস্য, হরোর এবং অলৌকিক। এবং শেষেরটা গোয়েন্দা ভিত্তিক কাহিনি।
সবাই জানেন তিনি ছোটগল্পের জনক এবং প্রথম গোয়েন্দা ভিত্তিক গল্পের স্রষ্ঠাও তিনি।তার তৈরি " দুপ্যো " চরিত্র শারলক,ফেলুদাদের পূর্বসূরি। যার গল���প রয়েছে শেষের " চোরাই চিঠি " গল্পে। আর অন্যান্য গল্প গুলোর মধ্যে "কালো বিড়াল", "লাল মোড়ক", "ড্যালডিমারের মৃত্যু", এগুলো খুব ভালো লেগেছিল। ৭টি ছোটগল্প হলোঃ 🔰ড্যালডিমারের মৃত্যু 🔰লাল মোড়ক 🔰হাউজ অব আশার 🔰কালো বিড়াল 🔰শব্দ 🔰মোরেলা 🔰চোরাই চিঠি
গল্পগুলোর ব্যাখা,বর্ণনায় না যাই। গল্পগুলো প্রায় ২০০বছর আগে লেখা তা বুঝা অসম্ভব। অনুবাদ ও ছিল অসাধারণ।
সংকলনের ৭ম গল্পটি গোয়েন্দা চরিত্র দুপ্যো এর সম্ভবত ৩য় গল্প! তবে এর আগের গুলোর সাথে কানেকশন নেই। তবে যদি আগের দুটোও থাকতো,তাহলে ভালো হত।বইটি পড়ে থাকলে মতামত জানাতে ভুলবেন না, ধন্যবাদ🖤
" All that we see or seem is but a dream within a dream. "
এডগার অ্যালন পো হচ্ছেন সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম গোয়েন্দা চারিত্রের স্রষ্টা।শার্ল বোদলেয়ার, ফিওদর দস্তোয়েভস্কি, স্যার আর্থার কোনান ডয়েল সহ বহু লেখকদের ওপর রয়েছে ওনার রচনা ও শিল্পচিন্তার গভীর প্রাভাব। অঅমাদের বাংলা সাহিত্যের কবি জীবনানন্দের লেখাতেও রয়েছে ওনার লেখার সাদৃশ্য।
তার সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র "দুপ্যো" শার্লক হোমসের পূর্বসূরি। সেই দুপ্যোকে নিয়ে লিখা একটা গল্প (চোরাই চিঠি) সংকলনটিতে আছে। এই গল্পটা পড়ার সময় একবারও মনে হয়নি এটা আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে লেখা। জগৎ এর কিছু জিনিস মনে হয় সবসময় একই থাকে।
মোট সাতটি গল্প অঅছে সংকলনটিতে। চোরাই চিঠি ছাড়াও ভ্যালডিমারের মৃত্যু গল্পটি বেশি ভালো লেগেছে।