পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ মিনিমালিস্ট
-----------------
রচনা, প্রচ্ছদ এবং স্বত্ত্বঃ মাশুদুল হক
প্রকাশনাঃ বাতিঘর প্রকাশনী
১ম প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ২০১৬
পাঠ-প্রতিক্রিয়া, ঋভ্যু (Review এবং বাংলা বানানটি Shariful Hasan ভাই এর “ঋভু” উপন্যাস এর শিরোনাম দেখে মাথায় আসা) এবং পাঠ-পর্যালোচনার চাইতে অনেক শিথিল বা উদার। পাঠ-প্রতিক্রিয়ায় বইয়ের বাইরের অনেক কিছু যোগ করার যেমন সুযোগ থাকে, কিছু বাদ দেয়ারও স্বাধীনতা আছে। ব্যাপারটা তো, প্রতিক্রিয়া। আর প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে পাঠকের মনো-দৈহিক, আর্থিক, স্থানিক, এমন আরও অনেক বিষয় জুড়ে যায়। পাঠ-পর্যালোচনায় সে সুযোগ কম, ঋভ্যুতে একেবারেই নেই।শেষের দুটো অনেকটাই ফর্মাল ফিল দেয় আমাকে আর ব্যক্তিগতভাবে আমি ফর্মাল ব্যাপার-স্যাপার এড়িয়ে চলতে পছন্দ করি খুব। সেজন্যই “পাঠ-প্রতিক্রিয়া” টার্মটি বেছে নেয়া। ব্যাপারটা এমন, “আসেন তেঁতুল তলে পাটি পেতে গল্প করি বইটা নিয়ে।বিল্লাল, দু’কাপ চা আর ম্যাচটা দিয়ে যাস”।
লেখকের আগের বই “ভেন্ট্রিলোকুইস্ট” এর সিক্যুয়েল “মিনিমালিস্ট”। সে শুধু শুরুতে আর শেষ পাতায়। বাকী পুরো বইটাতে গরমা-গরম নতুন গল্প, নতুন প্লট, নতুন সব চরিত্র এবং নতুন করে কিছু জানাশোনা। না ভুল হলো, জানা-শোনার আগ্রহ জাগিয়ে তোলা।
“ভেন্ট্রিলোকুইস্ট” এও এই ব্যাপারটা ছিল পুরোদমে। বই পড়তে পড়তে বারবার নেট ঘাঁটতে হয়েছে।একবার তো বই রেখে পুরো দিন শুধু বই এ উল্লেখিত ব্যাপার-স্যাপার নিয়েই কাটিয়েছি গুগল, উইকি আর ইউটিউবে।মাশুদুল হকের সিগনেচার স্টাইল এটাই। নিজে জানে, পাঠকের জানার আগ্রহ তৈরি করে দেয়। মারহাবা ভাইডি। এই স্টাইলের কারণেই মাশুদুলের লেখা আমার কাছে আর্কাইভাল ভ্যালু পায়।
মিনিমালিস্ট
নিছক কোন থৃলার নয়।
(নাজিম ভাই এর “১৯৫২” থেকে লাইনটি ধার করে, মডিফাই করা)
অপ্রচলিত (আমাদের দেশে) ধর্ম-বিশ্বাস এবং ধর্মের ইতিহাসে লেখকের ঝোঁক আছে বোঝা যায়।“মিনিমালিস্ট” এ এমন কয়েকটি ধর্মের (বা মতবাদের) আনা-গোণা আছে প্রকটভাবে এবং এসব ধর্মের প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে ব্যাক্তিমানুষের চরিত্রের ভাল-খারাপ দিকের যে মিথষ্ক্রিয়া ঘটানো হয়েছে, বইয়ের নাড়ী পোঁতা সেখানে।শাখা-প্রশাখা গল্পের হাত ধরে যখন কেন্দ্রে অাপনি পৌঁছুবেন, তখন গোড়া থেকে গল্পটা আবার দেখতে বাধ্য আপনি। এই মুন্সীয়ানা, গল্প বলার।
নন-লিনিয়ার স্টোরীটেলিং এ শুরুতে থই পাবেননা।খাপছাড়া লাগতে পারে। আমার লেগেছিলও কিন্তু আমার মতোই ভরসা রাখুন লেখকের ওপর। সময়মতো ঠিকই আপনার সব প্রশ্নের ব্যাখ্যা সে হাজির করেছে, সব চরিত্রের পরিচয় এবং মোটিভ। ও, লেখক আমার ভার্সতো (ভার্সিটির) ছোট ভাই তাই আপনি করে না বলা। এ ব্যাপারে, তারও প্রবল নিষেধ আছে।
থৃলারের নিয়মে খুন, ক্রাইম দিয়ে গল্প শুরু। এ্যাকশান, চেজিংও আছে কিন্তু আপনি ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারবেন না, এসব কেবলই স্টার্টার। মেইনকোর্সটা খুন, চুরি, চেজিং এর চাইতে আরও ব্যাপক, আরও অনেক গভীর। গল্পের পরিধি সুবিস্তৃত। লেখনীতে সাবলীলতা আছে এবং কিছুক্ষণ পর পর হুক দিয়ে আর প্রিভিয়াস টুইস্ট রিভিল করে পাঠককে আটকে রাখার ক্ষমতা আছে। নিজের সৃষ্ট চরিত্র কে (নাকি নিজেকেই?) অন্য একটি চরিত্র দিয়ে ব্যাঙ্গ করার মতো রসবোধও আছে লেখকের। সব ব্যাপারে, রুমি’র শেষ মূহুর্তে রহস্যটা ফাঁস করার অভ্যাসকে মারুফ একসময় বলেই ফেললো, “গল্প-উপন্যাসের গোয়েন্দাদের মতো স্বভাব”
হা হা হা।
বইয়ের প্রিভ্যিউ তে আপনি কাহিনীর কিছু পাবেন না, আমি সে স্বাধীনতা কি করে নিই? পাঠ-প্রতিক্রিয়া লিখবার সময়, স্পয়লার এড়াতে ব্যাক-ফ্ল্যাপের বাইরে কোন তথ্য আমি ব্যবাহার করিনা, কখনোই। “মিনিমালিস্ট” এর ব্যাক-ফ্ল্যাপে গল্পের ছিঁটে-ফোঁটা প্রকাশও নেই, তাই অামাকেও লিখতে হয়েছে খুব সাবধানে। তবে যদি “ভেন্ট্রিলোকুইস্ট” পড়ে থাকেন, “মিনিমালিস্ট” ও পড়েন। পাঠকের আস্থা অর্জন করেছে মাশুদুল হক কিন্তু শুধু সে কারণেই পড়তে বলছিনা, একদম শুরুতে বলে এসছিলাম- “লেখকের আগের বই “ভেন্ট্রিলোকুইস্ট” এর সিক্যুয়েল “মিনিমালিস্ট”। সে শুধু শুরুতে আর শেষ পাতায়।”
ভেন্ট্রিলোকুইস্ট এর শেষটাও তো জানতে হবে, তাইনা?