Awarded the Nobel Prize in Literature in 1913 "because of his profoundly sensitive, fresh and beautiful verse, by which, with consummate skill, he has made his poetic thought, expressed in his own English words, a part of the literature of the West."
Tagore modernised Bengali art by spurning rigid classical forms and resisting linguistic strictures. His novels, stories, songs, dance-dramas, and essays spoke to topics political and personal. Gitanjali (Song Offerings), Gora (Fair-Faced), and Ghare-Baire (The Home and the World) are his best-known works, and his verse, short stories, and novels were acclaimed—or panned—for their lyricism, colloquialism, naturalism, and unnatural contemplation. His compositions were chosen by two nations as national anthems: India's Jana Gana Mana and Bangladesh's Amar Shonar Bangla.
যশোরের প্রতাপশালী রাজা প্রতাপাদিত্যের পরিবারের কাহিনি নিয়েই 'বউ-ঠাকুরানীর হাট'। একে ইতিহাসের মিশেলে ট্র্যাজিক রোমান্টিক উপন্যাস বলা যায়।
রাজা প্রতাপাদিত্য তলোয়ারকেই শাসনের মূল চাবিকাঠি মনে করেন। অপরদিকে তারই জ্যেষ্ঠপুত্র যুবরাজ উদয়াদিত্য মনের শাসনে বিশ্বাসী। প্রজাদের সাথে বেশি মেলামেশা করেন বলে যুবরাজকে অকর্মার ঢেঁকি জ্ঞান করেন রাজা। একই কারণে ঘৃণা করেন রায়গড়ের শাসক বসন্ত রায়কেও। মোঘলদের সঙ্গে হৃদ্যতা থাকায় চাচা বসন্ত রায়কে পারলে তো দুনিয়া থেকেই সরিয়ে দেন। প্রতাপাদিত্যের রোষ আছে পুত্রবধূ সুরমার প্রতিও। তার ধারণা যুবরাজকে সুরমাই ফুঁসলিয়ে কঠোর শাসক হওয়ার পথে বাঁধা দিচ্ছে।
উদয়াদিত্যের ছোট বোন বিভা। চন্দ্রদ্বীপের রাজা রামচন্দ্রের স্ত্রী বিভা। ভাই উদয় এবং ভাবী সুরমার খুবই ভালো সম্পর্ক তার।
মেয়ের স্বামী রামচন্দ্রকে খুব একটা পছন্দ করেন না প্রতাপাদিত্য।তবুও দাওয়াত দিলেন তাকে। রামচন্দ্র শ্বশুরবাড়ি যশোরে আসেন দরবারের ভাঁড়সহ। প্রিয় ভাঁড়কে নারী সাজিয়ে অন্তঃপুরে নিয়ে যান। এই গর্হিত কাজের খবর রাজার কাছে চলে যায়। তিনি রামচন্দ্রের প্রাণদণ্ডের আদেশ দেন। চাচা বসন্ত রায় এবং ভাই উদয়াদিত্যের সহায়তায় পালিয়ে প্রাণ রক্ষা পায় রামচন্দ্রের। বিভা ভেঙে পড়ে স্বামীশোকে। রাজা প্রতাপাদিত্য ক্ষুব্ধ হন। বসন্ত রায়কে রায়গড় থেকে যশোরে আসা নিষিদ্ধ করা হয়। সুরমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বিভা কী ফিরে যেতে পারবে স্বামীর কাছে? উদয়াদিত্যই বা সুরমাকে ছাড়া থাকবে কীভাবে? আর আলাভোলা বসন্ত রায় কেমন করে রক্ষা পাবে প্রতাপাদিত্যের রোষ থেকে? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে পড়ুন রবীন্দ্রনাথের 'বউ-ঠাকুরানীর হাট'।
রবীন্দ্রনাথের প্রথম উপন্যাসে তাঁকে শতভাগ পাওয়া যায় না। কোথায় যেন সুর-লয়-তায় মিলছিল না। তবুও বলব অনেক বিখ্যাত লেখকের শ্রেষ্ঠ উপন্যাসের চে' রবীন্দ্রনাথের তুলনামূলক অনালোকিত উপন্যাস অনেকাংশেই শ্রেষ্ঠতর। যেখানে কমেডি, ট্র্যাজেডি, রোমান্সের অপূর্ব মেলবন্ধনের দেখা পাওয়া যায়।
অনেক দু:খ, অনেক কান্না, অনেক প্যাঁচপ্যাচে, অনেক নারীজাতির মাথা কুটে মরা, অনেক মিনসে সমাজের হম্বি তম্বি আর অনেক খানি মেরুদণ্ড হীন অথচ এএকগুঁয়ে বাঙালি .... ! বউ ঠাকুরানীর হাট ! বউ মরেছে, হাট তো রয়েছে :/
রবীন্দ্রনাথের প্রথম উপন্যাস (প্রকাশকাল হিসেবে) বউ ঠাকুরাণীর হাট প্রকাশ পায় ১৮৮৩ তে। এটি ঐতিহাসিক চরিত্রের উপর নির্মিত ট্রাজিক উপন্যাস৷ ভূমিকাতে লেখক নিজেই সমালোচনা করেছেন এই উপন্যাসের। তুলনা করেছেন কাঁচা আঙুলের আঁকার সাথে। উপন্যাসের চরিত্রগুলোতে প্রাণের অভাবের কথা স্বীকার করেছেন নিজেই। বারো ভূইয়াদের মোটামুটি সবাই চেনেন। বাংলার বেশ কয়েকজন জমিদার একটা লম্বা সময় (২০-২৫ বছর) পর্যন্ত মুঘল শাসন মেনে নেন নি। অস্ত্রের দ্বারা পরাভূত হওয়ার আগ পর্যন্ত সমুন্নত রেখেছিলেন স্বাধীনতার ধব্জা। যশোহর এলাকায় রাজত্ব করতেন তেমনি একজন, রাজা প্রতাপাদিত্য। রাজা প্রতাপাদিত্য ও তার পরিবারকে কেন্দ্র করেই বউ ঠাকুরাণীর হাট। প্রতাপাদিত্য এ উপন্যাসের নায়ক নন বরং প্রতিনায়ক৷ প্রতাপাদিত্য প্রতীকান্বিত হোন স্বাধীনতার প্রতিভূ হিসেবে। কিন্তু ব্যক্তি প্রতাপাদিত্য কেমন তা নিয়ে বেশ বিতর্ক। যাই হোক উপন্যাসে প্রতাপ নির্ভেজাল খারাপ মানুষ। উগ্র মেজাজী, নিষ্ঠুরভাবে চিত্রিত এই চরিত্র। উদায়াদিত্যকে বলা যেতে উপন্যাসের নায়ক। সে যেন দৈত্যকুলের প্রহ্লাদ। যাবতীয় সদগুণ আর মায়া-মমতায় বলীয়ান চরিত্রটিকে স্বভাবতই প্রতাপ ঘৃণার চোখেই দেখতেন। বসন্ত রায় সম্পর্কে প্রতাপের খুড়া। তিনি রায়গড়ের জমিদার। এই পিতৃব্য বেশ সঙ্গীতপ্রিয়, শান্ত, ও দূরদর্শী। একসময় মাতৃহারা প্রতাপ ও পরবর্তীতে উদয়কে তিনিই কোলেপিঠে মানুষ করেন। ভবিষ্যতে কাজের পরিণাম সম্পর্কে বারবার সতর্ক করে দেয়ায় তিনিও প্রতাপের কোপানলে পড়েন। উপন্যাসের নারী চরিত্রগুলোর মধ্যে বিভা চরিত্রটিই কিছুটা ডেভেলপড। উপন্যাসের মধ্যে তিনি প্রতাপের কন্যা (অবশ্য ইন্টারনেট ঘেঁটে প্রতাপাদিত্য এর এই নামে কোন কন্যা দেখিনি)। তিনি চন্দ্রদ্বীপের (অধুনা বরিশাল) বারো ভূইয়ার অন্তর্ভুক্ত আরেক জমিদার রামচন্দ্র রায়ের স্ত্রী৷ উপন্যাসের নামকরণের সাথে বিভার সম্পর্ক থাকলেও উপন্যাসের দিক আর গতির ওপর তাঁর প্রভাব অল্পই। তবে নারী চরিত্রগুলোর মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল মঙ্গলা। সে উপন্যাসের প্রতিনায়িকা এবং লেখকের কল্পনায় জন্ম নেয়া চরিত্র। কুটিলতা তাঁর ভূষণ। তার আছে হিংসার আগুন কিন্তু নেই তা চরিতার্থ করার ক্ষমতা। তাঁর ব্যাপ্তি অল্প, চরিত্রটিও বেশ অপরিণত। তবে উপন্যাস চূড়ান্ত পরিণতিতে মোড় নিয়েছে তার উপর ভর করেই। উপন্যাসে রাজা প্রতাপাদিত্য ককর্তৃত্ববাদী শাসনে বিশ্বাসী। রাজা বেশ রুষ্ট ছিলেন তাঁর পুত্র উদয়াদিত্যের ওপর। হেতু উদয়ের মন প্রজাদের প্রতি সহানুভূতিশীল। একই কারণে প্রতাপ তাঁর পিতৃব্য বসন্ত রায়কে বিবেচনা করেন বংশের ক্ষত। পিতৃব্যকে হত্যার মাধ্যমে তিনি খুঁজতে চান ক্ষত নিরাময়ের উপায়। কিন্তু উদয়, প্রতাপ কর্তৃক বসন্ত রায়কে গুপ্ত হত্যার চেষ্টা নস্যাৎ করে দেয়ার পর, পিতা-পুত্রের দুরত্ব আরো বেড়ে যায়। প্রতাপাদিত্য ভাবেন পুত্রবধূ সুরমা এসবের ইন্ধনদাত্রী। প্রতাপের মনোমালিন্য ছিল জামাতা চন্দ্রদ্বীপের রাজা রামচন্দ্র রায়ের সাথেও, সেটি ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। তারপরও জামাতা হিসেবে রামচন্দ্র কে তাঁর বাড়িতে আমন্ত্রণ করতে বাধ্য হোন। রামচন্দ্র লঘুচিত্তের মানুষ। তাঁর শ্বশুরকে টক্কর দেয়ার ক্ষমতা না থাকলেও ইচ্ছা ছিল শতভাগ। তিনি রাজসভার ভাঁড়কে নারী সাজিয়ে অন্তঃপুরে পাঠান মহিলাদের বিদ্রুপ করার জন্য। উগ্র প্রতাপাদিত্য তা জানতে পারলে রামচন্দ্র কে মৃত্যুদন্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন৷ কিন্তু উদয়াদিত্য, বসন্ত রায়, সুরমা, ও বিভার চেষ্টায় রামচন্দ্র এ যাত্রায় জীবন পালিয়ে যান। প্রতাপের রাগ মাত্রা ছাড়ায়। একের পর এক শাস্তি নেমে আসতে থাকে রামচন্দ্র রায়ের সাহায্যকারীদের। এরই মধ্যে মঙ্গলাও তাঁর স্বার্থ উদ্ধারের জন্য আশ্রয় নেন কুটিলতার। প্রতাপাদিত্য এর হাতে পড়ে উদয়াদিত্যের রাজদ্রোহিতার প্রামাণ্য। রাজা রামচন্দ্র রায় প্রতিহিংসার বশীভূত হয়ে সিদ্ধান্ত নেন আরেকটি বিবাহের। উপন্যাসের দ্বন্দ্বমুখরতা পোঁছে তার সর্বোচ্চ ���াত্রায়। বউ ঠাকুরাণীর হাটের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য দ্বন্দ্ব মুখরতা। প্রতিটা প্রধান চরিত্রই দ্বন্দ্বে লিপ্ত৷ প্রথম উপন্যাস তাই কিছুটা খাপছাড়া থাকাই সঙ্গত, তবে নামটা রবীন্দ্রনাথ বলেই খাপছাড়ামোর মাত্রা স্বল্প। লেখায় আভাস ছিল রবীন্দ্রসাহিত্য প্রতিভার, সেই সাথে বঙ্কিমের রোমান্টিসিজমের। উপন্যাসের গতি একমুখী। এন্টিক্লাইম্যাক্স যৎসামান্য। যদিও ঐতিহাসিক উপন্যাস আর ইতিহাস এক নয়। তবে পরিণতিতে ঐতিহাসিক ঘটনার ব্যত্যয় ইতিহাস সচেতন পাঠকের অসন্তোষের কারণ হতে পারে। তবে উপন্যাসের সবচাইতে ভালো দিক হলো দর্শনের ভারে গল্পের গতি বাধাগ্রস্ত হয় নি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম লেখা উপন্যাস 'বউ ঠাকুরাণীর হাট'। উপন্যাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ' এ যেন অশিক্ষিত আঙ্গুলের আঁকা ছবি, সুনিশ্চিত মনের পাকা হাতের চিহ্ন পড়ে নি তাতে।' তবুও কতো সুন্দর! এটি একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস। পারিবারিক এবং ব্যক্তি দ্বন্দ বিষয়ক কাহিনী নিয়ে রচিত এই উপন্যাসের শুরু হয় যশোহরের রাজা প্রতাপাদিত্য এবং তার জেষ্ঠ্যপুত্র উদয়াদিত্যর মধ্য দিয়ে। প্রতাপাদিত্য, তার মতো অন্যায় অত্যাচার, তলোয়ারের শাসনে দক্ষ না হওয়ায় তার জেষ্ঠ্যপুত্র কে পছন্দ করতে পারেনা।এবং তার প্রভাব গিয়ে পড়ে যারা উদয়াদিত্য কে ভালোবাসে তাদের উপর। শেষ পর্যন্ত উদায়াদিত্যও ছাড়া পায় না। তার ভালোবাসার মানুষ, কাছের মানুষ গুলোর, তার স্ত্রী সুরমা , তার বোন বিভা এবং তার প্রিয় দাদামহাশয়, সকলেরই এক করুণ পরিণতি দেখিয়েন রবীন্দ্রনাথ তার 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' বইটিতে। 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাস টি লেখার প্রায় ত্রিশ বছর পর লেখক এই উপন্যাসের কাহিনী অবলম্বন করে 'প্রায়শ্চিত্ত' নামে একটি নাটক রচনা করেন। এরও প্রায় বিশ বছর পরে একই কাহিনী অবলম্বন করে 'পরিত্রাণ' নাটক রচনা করেন। যেখানে আরও বিস্তর ভাবে সবকিছুর বর্ণনা রয়েছে। বইটা শেষ করে মনে হলো, দুঃখগুলোকেও এতো সুন্দর করে বর্ণনা করা যায়! বেশ কয়েকদিনের মন খারাপ, ডিপ্রেশন সব মিলিয়ে কোনো কাজ ই হচ্ছে নাহ! এই ছোট বইটাও বেশ ধীরে গতিতে শেষ হলো। বউ ঠাকুরণীর হাট'এ সুরমার কষ্ট, উদয়াদিত্যের কষ্ট, বিভার কষ্ট সবগুলো কষ্টের মাঝে যেন বার বার নিজেই চলে যাচ্ছি। কষ্টের বর্ণনাও এতো মুগ্ধ হয়ে পড়া যায়! বই পড়ার সাথে নিজের মানসিক অবস্থাটাও একটা দৃষ্টান্তমূলক বিষয়। দুঃখের বর্ণনাগুলোর সাথে আমার বর্তমান মানসিক অবস্থার মিল রয়েছে বলেই হয়তো বা এই বইটা আমার মধ্যে একটা দাগ কেটে রইল ।আমার যে অব্যক্ত অনুভূতি গুলো আমি প্রকাশ করতে পারছিলাম না সব গুলো যেন রবীন্দ্রনাথ অনেক আগেই প্রকাশ করে রেখেছিল! "আমিই শুধু রইনু বাকি। যা ছিল তা গেল চলে, রইল যা তা কেবল ফাঁকি! "
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত 'বউ ঠাকুরানীর হাট' রবীন্দ্রনাথের প্রথম উপন্যাস।পিতা-পুত্রের মনোমালিন্য,পেতে পেতেও হারিয়ে ফেলা ভালোবাসা,তৎকালীন রাজাদের অত্যাচারী প্রজা শোষণের মনোভাব সবই উঠে এসেছে গল্পের বাঁকে বাঁকে।প্রথম উপন্যাস হিসেবে লেখার জড়তা চোখে পড়লেও উপন্যাস হিসেবে বেশ ভালো!
বইয়ের নামঃ বউ-ঠাকুরাণীর হাট লেখকঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বইয়ের ধরণঃ ঐতিহাসিক উপন্যাস প্রচ্ছদঃ জাহাঙ্গীর আলম প্রকাশনাঃ আফসার ব্রাদার্স প্রথম প্রকাশঃ ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দ (পৌষ, ১২৮৯ বঙ্গাব্দ) মূল্যঃ ১০০ টাকা
কথায় আছে, "রাজায় রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত।" অর্থাৎ লড়াই দুই রাজার মধ্যে বাঁধলেও তাতে মূল ভুক্তভোগী হয় আমজনতা। একসময় লড়াই থেমে যায় বটে; কিন্তু আজীবন তার জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ জনতাকে। এটাই যেন রাজতন্ত্রের এক অমোঘ পরিণতি!
রাজপরিবারের এমনই এক গল্প নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাসের নাম "বউ-ঠাকুরাণীর হাট"। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস হলেও তার রচিত প্রথম উপন্যাসের নাম "করুণা"। বাংলার বারভূঁইয়াদের মধ্যে অন্যতম প্রতাপশালী এক শাসকের নাম রাজা প্রতাপাদিত্য। তৎকালীন যশোহরের শাসক রাজা প্রতাপাদিত্য শৌর্য-বীর্যের দিক থেকে নিজের নামের মর্যাদা রক্ষা করতে পেরেছিলেন বৈকি! অন্তত তৎকালীন শক্তিশালী মুঘল সম্রাটদের কাছে মাথা নত করবার ব্যাপারে নিজের অনমনীয় স্বভাব তেমনটাই সাক্ষ্য দিয়ে থাকে। ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নেওয়া এসব গল্প নিয়ে রচিত হয়েছে "বউ-ঠাকুরাণীর হাট"। বস্তুত রাজা প্রতাপাদিত্যের পারিবারিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরাই এ উপন্যাসের মুখ্য বিষয়।
উপন্যাসের গল্পের সূচনা হয় রাজ-জামাতা রামচন্দ্র রায়ের সভাসদদের হাস্য-কৌতুক দিয়ে। রাজা প্রতাপাদিত্যের দুই ছেলের মধ্যে জ্যেষ্ঠ পুত্র উদয়াদিত্যের প্রতি তিনি বিশেষ বিরাগভাজন হয়ে পড়েন। সঠিকভাবে রাজ্য চালনার ক্ষেত্রে তার অযোগ্যতা রাজার চোখে বিশেষ ভাবে ধরা পড়ে। এছাড়া উদয়াদিত্য প্রজাদের প্রতি বেশি নমনীয় হয়ে পড়েন। এ নিয়ে শুরু হয় এক বিরাট পারিবারিক দ্বন্দ্ব। এ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দুই বিবাদী পক্ষের সৃষ্টি হয় এ পরিবারের মধ্যে। ফলে বিভাজন সৃষ্টি হয় নিজেদের মধ্যে। উপরন্তু, পারিবারিক বিবাদের সূত্র ধরে রাজা প্রতাপাদিত্য তার জামাই রামচন্দ্র রায়ের প্রতি অসন্তুষ্ট থাকেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের সূত্র ধরে রায়গড়ের রাজপরিবারের সাথে যশোরের রাজপরিবারের বিরাট দ্বন্দ্বের জন্ম হয়। পারিবারিক দ্বন্দ্বের এ দুইটি ভিন্ন দিক নিয়ে এগোতে থাকে উপন্যাসের গল্প। একে একে ঘটতে থাকে নানা অনভিপ্রেত ঘটনা! ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কাছে হার মেনে যায় রক্তের সম্পর্ক। এভাবেই এগিয়ে যায় উপন্যাসের গল্প।
এবার আসি উক্ত উপন্যাসের চরিত্র বিষয়ক আলোচনায়। শুরুতেই বলে রাখি, পারিবারিক দ্বন্দ্বের গল্প এ উপন্যাসের মুখ্য বিষয়বস্তু হবার সুবাদে এ উপন্যাসের কোনো প্রধানতম চরিত্র নেই। কতিপয় চরিত্র গল্পে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে থাকলেও উপন্যাসের নায়ক/নায়িকা নামক কোনো একক কেন্দ্রীয় চরিত্র নেই এ গল্পে। এ উপন্যাসে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তন্মধ্যে অন্যতম প্রধান চরিত্রে রয়েছে প্রতাপাদিত্য-পুত্র উদয়াদিত্য। রাজার শাসনামলে বস্তুত তার কোনো ক্ষমতা বা প্রধান শাসনভার না থাকলেও উপন্যাসের গল্পে একটা গুরুত্বপূর্ণ স্থান তার দখলে রয়েছে। প্রজাবৎসল যুবরাজ উদয়াদিত্য তার দিনের বেশিরভাগ সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাটাতেই ভালবাসেন। রাজতন্ত্রের আড়ম্বরপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা তার মোটেও পছন্দের নয়। পাশাপাশি, তার মত আরো যারা এসব আড়ম্বরতা এড়িয়ে চলেন, তাদের সাথে সদ্ভাব রয়েছে এ যুবরাজের। এ কারণে মহারাজের দুচোখের শূল হয়ে উঠতে খুব বেশি সময় লাগেনা তার। আলো ও আঁধার যেমন যুগপৎভাবে সহাবস্থান করে, ঠিক তেমনি প্রতাপশালী রাজতন্ত্রের আড়ালে এমন মানসিকতার মানুষ জন্ম নিতে দেখা যায় এ উপন্যাসের গল্পে। একই সমান্তরালে বৈপরীত্যের সমন্বয় বেশ দারুণভাবে করেছেন কবিগুরু। এ বিষয়টি সত্যিকার অর্থেই প্রশংসার দাবিদার। এ বিরোধিতার জের ধরে এগোতে থাকে উপন্যাসের গল্প। পরিশেষে কী হয়, তা কেবল বইটি শেষ পর্যন্ত পড়লেই জানা সম্ভব।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছে সুরমা। গল্পের শেষাবধি এ চরিত্রের উপস্থিতি না থাকলেও এ গল্পে চরিত্রটির অবদান অনস্বীকার্য। উদয়াদিত্যের সহধর্মিণী হলেও তার যোগ্য সম্মান তার কপালে কখনোই জোটে না। পারিবারিক প্রভাব-প্রতিপত্তির অভাব থাকার দরুন পদে পদে হেনস্তার স্বীকার হতে হয় তাকে। কবির ভাষায় বলতে গেলে বলতে হয়, "হাতেও যদি না মারিত তারে,/ শত যে মারিত ঠোঁটে! " এত অন্যায় অবিচার মুখ বুজে সহ্য করেও শেষ রক্ষা হয় না তার। সকল অত্যাচার থেকে নিজেকে চিরজীবনের মত মুক্তি দিতে ইহজগতের মায়া কাটিয়ে একসময় পরপারের পথে পা বাড়ায় সুরমা। এ ঘটনায় আর কারো উপর তেমন উল্লেখযোগ্য প্রভাব না পড়লেও সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে তার সখীতুল্য ননদিনী বিভার উপরে। সবসময় দুজনে একসাথে দিনাতিপাতকারীর মধ্যে একজন চলে গেলে আরেকজন মানসিক ও শারীরিক দিক থেকে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এভাবেই গল্পের ধারা প্রবাহিত হতে থাকে।
উপর্যুক্ত দুইটি প্রধান চরিত্রের পাশাপাশি আরো কিছু চরিত্র দেখা যায় এ উপন্যাসে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য চরিত্রসমূহ হচ্ছে- রাজা প্রতাপাদিত্য, মহিষী, মঙ্গলা, বিভা, সীতারাম সিং, সমরাদিত্য, বসন্ত রায়, খান সাহেব, ভাগাবত, রমাই ভাঁড়, ফর্নান্ডিজ, রামচন্দ্র রায়, রামমোহন প্রমুখ। ইতিহাসের বাস্তব চরিত্রগুলো অবিকৃত রেখে সাহিত্যের খাতিরে আরো কিছু চরিত্র সৃষ্টির প্রয়াস চালিয়েছেন ঔপন্যাসিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এসব চরিত্র চিত্রণের ফলে কোথাও ইতিহাসের কোনো বিকৃতি ঘটেনি; বরং মূল ইতিহাসের সাথে কল্পনার মিশ্রণে গল্পে এক নতুন ধারার সৃষ্টি হয়েছে। ঐতিহাসিক উপন্যাস যে ইতিহাসের কোনো প্রামাণ্য গ্রন্থ নয়, সে বক্তব্যের সপক্ষে জোরালো সমর্থনের আরেক অনবদ্য দলিলের নাম "বউ-ঠাকুরাণীর হাট"। এ কাজে জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারের এ উত্তরাধিকারী যে নিজস্ব মুন্সিয়ানার ছাপ রাখলেন বাংলা সাহিত্য অঙ্গনে, সে কথা আলাদা বলা আজ অদরকারী হয়ে পড়েছে। .
এবার উক্ত উপন্যাসের ভাষারীতি সংক্রান্ত বিষয়াদি ও নিজস্ব মতামতের ব্যাপারে কিছু বলবার পালা। বইটির ভাষারীতি হিসেবে সাধুভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এরূপ ভাষারীতি ব্যবহারের ফলে কোথাও কোথাও বুঝতে কষ্ট হয়েছে। তবে তা গল্পের বর্ণনায় তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। এছাড়া অনেক পাঠকের ন্যায় আমার-ও একই অভিযোগ রয়েছে যে উক্ত উপন্যাসে বঙ্কিমের ছাপ অত্যন্ত সুস্পষ্ট মনে হয়েছে আমার। উল্লেখ্য যে, বঙ্কিমচন্দ্র নিজের লিখা একটা প্রবন্ধে প্রাঞ্জলতা ও সহজবোধ্যতা বজায় রাখবার ব্যাপারে বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেললেও তার লিখনীতে এ জিনিসটা যেন এক কথায় ডুমুরের ফুল! সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, উক্ত প্রবন্ধের মধ্যেও কোথাও তেমন সহজবোধ্যতা চোখে পড়েনি আমার। যা হোক, ক্ষেত্রবিশেষে এমন জটিল শব্দচয়ন ও ভাষার ব্যবহার ব্যক্তিগতভাবে খুব একটা ভালো লাগেনি আমার। উপন্যাসের গল্প নিয়ে বা তার মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন না থাকলেও এসব ব্যাপার চোখে বেঁধেছে খুব বেশি করেই। বিশেষত অন্য লেখকের পক্ষপাতদুষ্ট হবার কারণে এটা স্বভাবতই খারাপ লাগবার মতই ব্যাপার আমার কাছে। কেননা, এতে কারো বলয় থেকে বেরিয়ে এসে সাহিত্যে নিজের আলাদা ধারা সৃষ্টি করা সম্ভব হয়না। বলা বাহুল্য, অন্যান্য সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে রবি ঠাকুর তার নিজের যোগ্যতার প্রমাণ সবখানে রাখলেও এ বইতে তার ব্যতিক্রম অবশ্যই পাঠকের দৃষ্টিতে ধরা পড়ে যায়। .
পরিশেষে বলতে চাই, জগতের সকলের লিখনি একরকম হবার নয়। আমি বলছি না, রবি ঠাকুরের লেখা ভালো নাহ! তবে এ কথা অস্বীকার করবার উপায় নেই যে, বেলাশেষে তার অন্যান্য রচনার সাহিত্য মানের কাছে এ উপন্যাসের সাহিত্য মান কিছুটা হলেও ম্লান হয়ে যায়। এ ব্যাপারে অন্য পাঠকেরা আমার সাথে একমত হবেন বলে আমার বিশ্বাস। যা হোক! উপর্যুক্ত ভালো ও মন্দ দিকগুলো মাথায় রেখে পড়লে কেউ আশাহত হবেন না বলে মনে করি আমি।
রবীন্দ্রনাথের একদম প্রথমদিকের উপন্যাস, তাই কাঁচা হাতের লক্ষণ সুস্পষ্ট। কিন্তু একই সাথে রাবীন্দ্রিক কাব্যময়তায় ভরপুর। বঙ্কিমের রোমাঞ্চ-কাহিনীর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল বারবার।
রবীন্দ্রনাথের প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস আর আমার পড়া প্রথম উপন্যাস। ক্লাস সিক্সে পড়েছিলাম। কাহিনী আর এখন মনে নেই। তবে উৎসর্গের দুটি লাইন আজো মনে পড়ে---- দিদি, তোমার স্নেহের কোলে, আমার স্নেহের ধন, করিনু অর্পণ।
এই উপন্যাসে আমরা তিনটা রাজ্য এবং তিনজন রাজাকে পাব। রাজকাহিনী পড়তে আমার ভালো লাগে। এটাও তেমনই। নিম্নে --
** স্পয়লার এলার্ট
[১] যশোহরের মহারাজ প্রতাপাদিত্য, মহারাণী মহিষী, তাদের জ্যেষ্ঠপুত্র যুবরাজ উদয়াদিত্য, ছোটপুত্র সমরাদিত্য এবং বিভা একমাত্র কন্যা। উদয়াদিত্যের স্ত্রী সুরমা। যুবরাজ উদয়াদিত্য রাজ্য পরিচালনা করার যোগ্য ছিল না, তা ছোটবেলা থেকেই প্রকাশ পাচ্ছিল। এ কারণে রাজার অবহেলার স্বীকারও হয়েছেন উদয়াদিত্য। প্রতাপাদিত্যের সম্পর্ক কারো সাথেই ভালো ছিল না। নিজপুত্রকে কারাগারে বন্ধি করেছিল। অভিযোগ প্রমান হওয়া ছাড়ায়। মেয়ে জামাই রামচন্দ্রকে হত্যার আদেশ দিয়েছিল৷ যদিও শেষ পর্যন্ত পালিয়ে বাঁচে৷ বইটা পড়লে তার উদ্ভট সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানা যাবে...
[২] প্রতাপাদিত্যের চাচা বসন্ত রায় রায়গড়ের রাজা। উদয় প্রায়শই বসন্ত রায়ের কাছে এসে থাকতেন। প্রতাপের তুচ্ছতাচ্ছিল্য হাত থেকে বাঁচতেন ৷ বসন্ত রায় উদয় এবং বিভাকে খুব স্নেহ করতেন। প্রতাপাদিত্য বসন্ত রায়কে খুন করার পরিকল্পনা করেছিলেন। শেষে প্রতাপাদিত্যর আদেশে বসন্ত রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়৷
[৩] চন্দ্রদ্বীপের রাজা রামচন্দ্র। প্রতাপাদিত্যের কন্যা বিভার স্বামী৷ নিজের স্বকীয়তা নাই বললেই চলে। মন্ত্রী, কর্মচারীদের পরামর্শ এবং কৌতুক শুনে হাসাহাসি করে। শ্বশুরের সাথে সম্পর্ক ভালো না৷ শ্বশুরকে শিক্ষা দিতে। শেষে বিভাকে ত্যাগ করল।
বইয়ের এক পর্যায়ে সুরমা মারা যায়। বিভা তার দাদা উদয়ের প্রতি যে ভালোবাসার প্রকাশ পেয়েছে। তা দুর্দান্ত। আমার কাছে ভালো লেগেছে
___
বউ ঠাকুরানীর হাট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পার্সোনাল রেটিং : ৮/১০
'বউঠাকুরানীর হাট' নান্দনিক আর সুধাময় বর্ণনায় ভালবাসা আর দুঃখের ইতিহাস।
সুরমা যখন মারা যায় আমার কাছে মনে হয়েছে পৃথিবী খুব নিষ্ঠুর। কেউ কারো ভালবাসা দেখতে পারে না যেন। হাসি মুখে মলিনতা ছড়িয়ে দিতে এই পৃথিবী প্রস্তুত। উদয়াদিত্যের কষ্ট যেন মর্মে আঘাত লাগে। মাটির পরশ যার ভালোলাগে সে কখন রাজা হতে পারে 'বউঠাকুরানীর হাট' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন।
বিভা যে নারী নিজের সর্বস্ব হারিয়ে ভাইয়ের দুঃখ লাগবের জন্য। নিজের সিঁথির সিঁদুর ধূলাই লুটায় তার। রামমোহন, যে তার মায়ের আসনে বিভাকে স্থাপন করেছে তার জগতের মা রূপে। সে মায়ের নৌকা বেঁড়িয়েছিল তাদের স্বর্গের মত রাজ্যে রাজা রামচন্দ্র তার সৌন্দর্য ভরা সুকোমল পদ্মাবতী রাণীকে বরণ করতে পারে নি। তার সেই নোঙর করা, সেই স্থান আজ,' বউঠাকুরানীর হাট'।
প্রতাপদিত্যকে এক রুঢ রাজা রুপেই আমি দেখি। বসন্ত রায়কে যখন হত্যা করা হয়, তখন আমার কান্না এসে পড়ে। কেন, বৃদ্ধকে হত্যা করা? সে তো নিজেই মরে যেত। যার মৃত্যু শিয়রে দাঁড়িয়ে তাকে কেন ছুরিঘাত মৃত দেওয়া হলো। তাকে বাঁচতে দিলে তো তার রাজ্য বেঁচে যেত।
এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য হলো, উদয় যে জনগণের বন্ধু । সে রাজার কঠোরতা মানতে নারাজ। তার অবাধ্যতার জন্য রাজা তাকে পীড়ন করে। তার স্ত্রী সুরমা লাঞ্ছিত হয়ই সর্বদা। তার বোন বিভা যার দুঃখ আদিগন্ত দিগন্তহীন। এই দুই ভা��বোনের দুঃখ নিয়ে রচিত 'বউঠাকুরানীর হাট' ।আবার সীতারাম ছিল সততার প্রতীক। রাজা বসন্ত রায় ছিল, ভালবাসার স্বর্ণ দিয়ে মোড়ানো সুন্তর।
যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য এবং তার ছেলে উদয়াদিত্য। প্রতাপাদিত্য মনে করেন ক্ষমতার জোড়ে সব করা যায়, কিন্তু উদয়াদিত্য হয়েছেন তার দাদু বিজয় রায়ের মত। তিনি মনে করেন ভালবাসাই সব ক্ষমতার মূল। ছেলের এমন ব্যবহারে রাজা বিরক্ত। এদিকে নিজের খুড়ো বিজয় রায়ের মোগল রাজাদের সাথে মিল-মহব্বত তার ভাল লাগেনা। খুড়োর রাজ্য শাসনে কোন সৈন্য দরকার পড়েনা জেনে তিনি হতবাক। তার মেয়ে বিভার স্বামী চন্দ্রদ্বীপের রাজা রামচন্দ্রকে তিনি তার রাজ্যে নিমন্ত্রন করেন না এই ভেবে যে, আগ বাড়িয়ে নিমন্ত্রণ করলে সম্মান কমে যাবে। ছেলের চরিত্রের জন্য পুত্রবধু সুরমাকে দোষারোপ করেন। এত সমস্যার সমাধান রাজা কিভাবে করবেন সেটা নিয়েই কাহিনী।
আমি যখন একটা বই পড়ি আমি যেটা লক্ষ করি সেটা হল যে, আমি কাহিনীর মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছি কিনা। সাধারণত বড় বড় উপন্যাসগুলোর (আনন্দনগরী, মা, ) এই শক্তি থাকে। তাদের ঘটনার ব্যাপকতা থাকে, একটা জগৎ তৈরি হয়, কিছু চরিত্রের সাথে পরিচয় হয়, এভাবে নিজেকেই ঘটনার একটা অংশ মনে হয়। কৃত্রিমতায় ভরপুর পরিবেশ, পরিবেশের প্রয়োজন অনুযায়ী চরিত্র সৃষ্টি, ঘটনার বাঁকে বাঁকে নাটকীয়তা প্রভৃতি অনেক চোখে পড়লেও কাহিনী ঠিকই আকৃষ্ট করে। আপনাকে বয়ে নিয়ে যাবেই।
সব মিলিয়ে অনেক ভাল একটা বই। তবে যদি মনে করেন যে অনেক বছরের জন্য দাগ কেটে যাবে মনে, তাহলে রবি ঠাকুরের আরও বই আছে। এটা অন্তত না।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা প্রথম উপন্যাস এবং আমার পড়া রবি ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস। কাহিনীর ন্যারিটিভে যেতে চাচ্ছি না, যেমনঃ রাজায় রাজায় দ্বন্দ্ব, প্রজাদের দুর্দশা ইত্যাদি। বলতে চাই কাহিনীর সবচেয়ে বিরক্তিকর চরিত্র উদয়াদিত্যকে নিয়ে, একজন রাজার ছেলে হিসেবে তার যেসব গুনাবলী থাকা উচিত তা বিন্দুমাত্র তো নাই, প্রত্যেকটা অপ্রীতিকর ঘটনার জন্যেও এই বিরক্তিকর চরিত্রটি দায়ী। রাজা প্রতাপাদিত্য যতই নির্দয় হোক তার একটি কথা আসলেই যৌক্তিক, উদয়াদিত্য আসলেই রাজার ছেলে হওয়ার কোনো যোগ্যতাই রাখে না।
প্রথমে মনে হচ্ছিল সুরমার কারণে বইটার এমন নাম। কিন্তু মাঝ পথে সুরমাকে রবিবাবু বিদায় করে দিলেন, খুব দৃষ্টিকটু লেগেছে এই ব্যাপার। সমস্ত নজর সুরমা থেকে সরিয়ে বিভার উপরে ফেললেন রবিবাবু।এখানেই এক্টু কেমন জানি লেগেছে।