অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ থেকে উনবিংশ শাতাব্দীর শুরুর ভারতবর্ষ। অন্ধকারাচ্ছন্ন এক দেশ। দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তেযাতায়াত করে মানুষ। তাদের বড় অংশই আর ঘরে ফেরে না! কারা এই অদৃশ্য ঘাতক?...রহস্য উন্মোচনে এলেন ব্রিটিশ রাজপুরুষ স্লিম্যান। তারপর ?... দ্বাদশ শতাব্দীর নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়।ভারতের। ধর্ম,শিক্ষা,জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার প্রাণকেন্দ্র। হাজারে- হাজারে ছাত্ররা দেশ-বিদেশ থেকে আসত অধ্যয়নের জন্য। শিক্ষার প্রাণকেন্দ্রকে ধ্বংস করার জন্য হানা দিল বক্তিয়ার খলজি্র তুর্কি বাহিনি। তা৬র হাত থেকে পুঁথি বাঁচাবার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা শুরু করলেন শ্রমণরা! কীভাবে?
ইতিহাসনির্ভর দুই রোমাঞ্চকর কাহিনি--- ফিরিঙ্গি ঠগি এবং কত কক্ষে কাগজ পোড়ে।
এই বইতে ফিরিঙ্গি ঠগী এবং কত কক্ষে কাগজ পোড়ে- এই দুটো গল্প প্রকাশিত হয়েছে। প্রথমে আসি ফিরিঙ্গি ঠগীর কথায়। শ্রীপান্থের ঠগী যারা পড়েছেন, তাদের কাছে এই গল্পটা খুব আলাদা কিছু লাগবে না। ফ্যাক্টস আর ফিকশনের মিশেলে মেদবিহীন একটা গল্প। একটানে পড়ে শেষ করা যায়। হেনরি উইলিয়াম স্লিম্যান লোকটার প্রতি আরেকবার মুগ্ধ হই। শ্রীপান্থের ঠগী পড়ে তাদের খুন করবার নানা কর্মপদ্ধতি, টার্মস সম্পর্কে আগেই বেশ ধারণা হয়েছে। হিমাদ্রিকিশোরের ফিরিঙ্গি ঠগী পড়ে সেটা আরও একবার ঝালিয়ে নেয়া হলো। সময়টা একদমই খারাপ কাটেনি।
এবার আসি কত কক্ষে কাগজ পোড়ে গল্পটি নিয়ে। গল্পটা শেষ করবার পর নিশ্চিতভাবেই পাঠকের মন খারাপ হবে। বাংলায় মুসলমান শাসনামলের সূচনা হবার সাথে সাথে হয়ত আমরা তৎকালীন সময়ের ঐতিহাসিক নানা গুরুত্বপূর্ণ দলিল হারালাম। হয়ত সেগুলো ইতিহাসের অনেক কিছুই নতুন করে ভাবতে শেখাত, জানাতো। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিরত্ন- রত্নদধি, রত্নসাগর, রত্নরঞ্জক। ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসছে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে, উদ্দেশ্য রত্নভাণ্ডার হাতিয়ে নেয়া। সাথে পথ দেখিয়ে আনছে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই বিতাড়িত হওয়া এক তন্ত্রসাধক। শাক্যশ্রীভদ্র, রাহুলশ্রীভদ্র, তব্বত থেকে আগত খ্রোথুলোতসা- এরা এই গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলেও গল্পের প্রাণ হচ্ছে কঙ্ক। গল্পে কঙ্কের আগমনের পর থেকেই আপনি ছেলেটাকে ভালোবেসে ফেলতে বাধ্য। হরিণের মতো চপলতার সাথে যে দৌড়োয়, তাকে রুখবে কে? নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সাথে অন্তরটাও যেন দগ্ধ করে দিচ্ছিল ইখতিয়ারউদ্দিন।
দুইটি ঐতিহাসিক কাহিনি৷ ১ — ফিরিঙ্গি ঠগী — ভারতবর্ষ স্ল্যাশ ইতিহাসের দুর্ধর্ষতম খুনী সম্প্রদায় ঠগী নিয়ে ইতিহাসের সাথে কল্পনার মিশেলে উপন্যাস৷ শ্রীপান্থের " ঠগী '' পড়া থাকলে এইখান থেকে বোনাস কিছু আশা করবেন না, তবে ইতিহাসআশ্রিত ফিকশন হিসাবে সহজ লেখার ধরনে একটানে পড়তে পারেন৷
২ — কত কক্ষে কাগজ পোড়ে — বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠাকালে ১১৯৩ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খিলজির ক্রোধে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন মাস ধরে আগুনে পুড়েছিল রত্নদধি, রত্নসাগর, রত্নরঞ্জকের দশ লক্ষাধিক ধর্ম, দর্শন, ইতিহাস, সাহিত্য-বিজ্ঞানচর্চার কিতাব — মস্তক কর্তন করা হয়েছিল হাজার হাজার বৌদ্ধ পুরোহিতের৷ আফসোস! খিলজির কল্যাণে জাতি হাজার বছর পিছিয়ে গেলো৷ ঐতিহাসিক ব্যাক্তিত্ব শাক্যশ্রীভদ্র এবং রাহুলশ্রীভদ্রের উপস্থিতিতে খানিক ইতিহাসের সাথে ফিকশনের সমন্বয়ে এই উপন্যাসটি সুখপাঠ্য!
এই বইয়ে স্থান পেয়েছে দুটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত দুটি রোমাঞ্চকর গল্প। সাধারণত আমি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত গল্প পছন্দ করি না, তাও এই বইএর গল্পগুলো খুবইইই ভালো লেগেছে ।
১) ফিরিঙ্গি ঠগি : অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ, ও ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভের সময়কালের ঘটনা।কিছুটা সত্যি কিছুটা কল্পনার রঙে মেশানো এই গল্প।তখনকার দিনে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হয়নি।অধিকাংশ মানুষ তখন পায়ে হেঁটেই দূরদেশে যাত্রা করতো। কিন্তু এদের অনেকেই আর ঘরে ফিরতো না, পথেই উধাও হয়ে যেত। আসলে তারা পথে খুনি ঠগিদের পাল্লায় পড়ে প্রাণ হারাতো। এই কুখ্যাত ঠগীদের নিষ্কারের জন্য নামেন ক্যাপ্টেন উইলিয়াম হেনরি স্লিম্যান।
🔺পড়তে বেশ লাগে। ঠগীদের নিয়ে নানান তথ্য আছে,তাদের উৎপত্তি, তাদের খুনের পদ্ধতি, তাদের সাংকেতিক ভাষা ( সংকেত দেওয়া - ঝিরনী তোলা, ঝিরনী তোলার সংকেত - তামাকু লাও/ পান লাও, তারা এক দল ওপর দলকে চিনতে সম্বোধন করে - "আউলে ভাই রাম রাম" বলে) ,তাদের আচার কুসংস্কার (যাত্রাপথে ঘুঘু শুভ ইত্যাদি)। এছাড়াও আছে জলের ঠগী বা ভাঙ্গুদের প্রসঙ্গও। এককথায় অনবদ্য।
২) কত কক্ষে কাগজ পোড়ে : পৃথিবীর সেরা শিক্ষাকেন্দ্র নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়। হাজার হাজার ছাত্র সেখানে জ্ঞান চর্চার জন্য আসতো। এই নালন্দা বিশ্ব বিদ্যালয়ের গর্ব তিন গ্রন্থাগার - রত্নদধি, রত্নসাগর, রত্নরঞ্জক।বখতিয়ার খিলজীর তুর্কি বাহিনীরা আক্রমণ করে এই শ্রেষ্ঠ জ্ঞানচর্চা কেন্দ্রে। আশানুরূপ রত্নরাজি না পেয়ে জ্বালিয়ে দেয় তিন গ্রন্থাগার। মঠের শ্রমনরা নিজেদের প্রাণের তোয়াক্কা না করে পুঁথি বাঁচাবার আপ্রাণ চেষ্টা করে।এক্ষেত্রে সাহায্য করে কঙ্ক নামের এক বালক,যার পায়ে হরিণের মতো দ্রুততা। শেষপর্যন্ত কি পরিণতি হয় ?
🔺মঠাধ্যক্ষ শাক্যশ্রীভদ্র, অধ্যাপক রাহুলশ্রীভদ্র, তিব্বতী অনুবাদক শ্রমণ খ্রোথুলোৎসা, তুর্কি সেনাপতি বখতিয়ার - ইতিহাসের এই চরিত্র দের নিয়েই এই কাহিনী। যদিও নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা কারোরই অজানা নয়, তাও পড়তে মন্দ লাগে না। কঙ্কর জন্য শেষে মনটা খুব খারাপ লাগছিল। এখানে একটা কথা জানিয়ে রাখি, "কক্ষ" শব্দটি গৃহ অর্থে ব্যবহৃত হলেও এখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
বহুদিন পর বাংলায় দুটি ঐতিহাসিক উপন্যাস পড়ে বেশ ভালো লাগলো। ঝরঝরে ভাষায় সুন্দর শব্দমালার বুনোটে হিমাদ্রিকিশোরের ফিরিঙ্গি ঠগি এককথায় অনবদ্য। দুটি গল্প। এরমধ্যে ফিরিঙ্গি ঠগির বিষয়বস্তু নাম থেকেই পরিষ্কার। অষ্টাদশ শতকে বাংলা তথা সারা ভারত জুড়ে ঘটে চলা অদৃশ্য আতঙ্ক ঠগিরা এই গল্পের মূল চরিত্র। আর আছেন উইলিয়াম হেনরি স্লিমান। ভারতের এদিক থেকে ওদিক ঘুরে এই ঠগিদের যিনি সর্বসমক্ষে এনে ফেলেছিলেন। সরল গ্রামীণ মানুষের জীবনের ঘটে যাওয়া কাহিনী , সতীদাহ প্রথা নিয়ে লেখা গল্পটি এক ধাক্কায় পাঠককে নিয়ে যেতে পারে সেই যুগে । লেখক ঠগিদের উৎপত্তি, আরাধ্য দেবী , তাদের চলাফেরার স্থান সুন্দর করে উপস্থাপিত করেছেন। তবে বাংলায় ঠগিদের ইতিহাস নিয়ে শ্রীপান্থ এর লেখনী এখনও সর্বোৎকৃষ্ট।
দ্বিতীয় গল্প "কত কক্ষে কাগজ পোড়ে" বক্তিয়ার খিলজীর আক্রমণে নালন্দা ধ্বংসের কাহিনী। প্রায় দশ হাজার ছাত্র সমৃদ্ধ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস করো অজানা নয়। কিন্তু দশ লক্ষ বই বাঁচানোর লড়াইতে অংশগ্রহণকারী কজনের কথা আমরা জানতে পারি !ইতিহাস নির্ভর এই কাহিনীতে বিভিন্ন ঐতিহাসিক চরিত্র কে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য লেখক অনেকটা প্রশংসা দাবি রাখেন। রত্নসাগর, রত্নদধি ও রত্নরঞ্জক নামে তিনটি গ্রন্থাগারের সামনে দাঁড়িয়ে যখন তুর্কী সেনাপতি গর্জন করেন "রত্ন কোথায় রত্ন? এতো খালি কিতাব " তখন অজান্তেই মুখ থেকে বেরিয়ে আসে " মূর্খ " ।
শোনা যায় মাসের পর মাস সেই গ্রন্থাগারে আগুন জ্বলেছিল। এসব ইতিহাস হয়ত বহুবার পড়া তাও বিভিন্ন চরিত্রের সংমিশ্রণে রচিত এই গল্প পুনরায় পাঠকের আগ্রহ ধরে সক্ষম বলেই ধারণা ।
:: গল্পদুটি কিশোর ভারতী তে প্রকাশিত । ২০১৫তে পুনরায় বই হিসেবে প্রকাশ পায়।
শারদীয়া কিশোর ভারতী-তে পরপর দু'বছরে প্রকাশিত দুটি উপন্যাস "ফিরিংগি ঠগী" এবং "কত কক্ষে কাগজ পোড়ে" দু'মলাটের মধ্যে নিয়ে এসেছে এই সুমুদ্রিত ছিমছাম বইটি।
প্রথম উপন্যাসটির বিষয় হল উইলিয়াম হেনরি স্লিম্যান-এর উদ্যোগে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দক্ষ খুনিদের সমূল বিনাশের এক কাল্পনিক আখ্যান। গতিময় প্লট এবং নির্মেদ ন্যারেটিভের সৌজন্যে লেখাটা পড়া হয়ে যায় একেবারে হুশ করে। কিন্তু তারপর একরাশ খচখচানি তৈরি হয় মনে, ইতিহাস এবং শ্রীপান্থের লেখার কথা ভেবে। তবে সেটা গৌন, মুখ্য হল বহু যুগ পরে একটি সুখপাঠ্য ঐতিহাসিক উপন্যাস পড়ার সুযোগ পাওয়া।
দ্বিতীয় উপন্যাসটি গড়ে উঠেছে বাংলা তথা ভারতের ইতিহাসের এক রক্তক্ষয়ী অধ্যায় নিয়ে, যখন বখতিয়ার খলজির নেতৃত্বে বাংলার দিকে এগিয়ে আসছে তুর্কি বাহিনী, আর তারই সমান্তরাল এক অমোঘ প্রক্রিয়ায় সময় নামক অপ্রতিরোধ্য ঘূণপোকার আক্রমণে সর্বনাশের পথে এগোচ্ছে শিক্ষা ও সংস্কৃতির অতুল বাহক নালন্দা মহাবিহার। রোমাঞ্চকর ঘটনাক্রম, কলমের হালকা আঁচড়ে কিছু অবিস্মরণীয় চরিত্র সৃজন, এবং এক বিশাল বিপর্যয় ও সেই ট্র্যাজেডির ব্যথাকে ইতিহাসের গন্ধমাখা এক কাহিনির মাধ্যমে তুলে ধরে লেখক আমাদের কৃতজ্ঞতাভাজন হয়েছেন।
তবে, ঐতিহাসিক উপন্যাসে ভাষা একটি অতি বিশিষ্ট স্থান করে থাকে। এই বইয়ের দুটি উপন্যাস-এর ক্ষেত্রেই এদের ভাষার হালকা ভাব কিঞ্চিৎ ছন্দপতন ঘটিয়েছে, এই দুঃখেই একটি তারা খসল রেটিং থেকে।
দুটি নভেলা নিয়ে এই বই, ১) ফিরিঙ্গি ঠগী এবং ২) কত কক্ষে কাগজ পোড়ে। প্রথম কাহিনীটি শ্রীপান্থের নন ফিকশন বই 'ঠগী'র অপগ্রেডেড ভার্শন। তবে লেখক এখান সেখান থেকে এক খাবলা করে কাহিনী থুতু দিয়ে চিটিয়ে একটা গল্পের মতো খাড়া করেছেন, যারা ইতিপূর্বে 'ঠগী' পড়েছেন তাদের এই লেখা পড়া পণ্ডশ্রম হবে একথা বলেই দেওয়া যায়। দ্বিতীয় কাহিনীটি বরং ভালো। মূলত বখতিয়ার খিলজির নালন্দা ধ্বংস ও লাইব্রেরি তে অগ্নিসংযোগ এই কাহিনীর মূল উপজীব্য। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে গল্পকে অতিরঞ্জিত বলে মনে হয়েছে তবুও অন্ততঃ জেরক্স কপি না হওয়ার জন্য তিনটি তারা দিলাম।
প্রথমটা ঠিক আছে, মজার ব্যাপার হল... পরের গল্পে, টুকটাক ঐতিহাসিক শব্দ ও পিওর বাংলার মধ্যে 145 পাতা নাগাদ, একটা জায়গায় দেখি হঠাৎ লেখা, "প্রমাণ সাইজের"...
এক কথায় আনপুটডাউনেবেল দুটি ঐতিহাসিক উপন্যাস স্থান পেয়েছে এই বইতে । প্রথম গল্প 'ফিরিঙ্গি ঠগি '। নাম থেকেই প্রকাশ পায় ভারতবর্ষের কুখ্যাত ঠগি সম্প্রদায়কে নিয়ে এ উপন্যাস লিখিত । শ্রীপান্থ রচিত 'ঠগি ' বইটি যাঁরা পড়েছেন তাদের কাছে এই উপন্যাসের শেষটুকু একটু অতিরিক্ত কল্পনাদুষ্ট মনে হতে পারে কিন্তু এ কথা অনস্বীকার্য যে গল্পবুনন এতটাই সুন্দর যে একনিঃস্বাশে পড়ে ফেলা যায়। আর স্বীকারোক্তিতে স্বয়ং লেখক মহাশয়ই বলেছেন যে এ গল্প ইতিহাস আশ্রিত হলেও এতে কল্পনা মিশে রয়েছে , চরিত্ররা ঐতিহাসিক হলেও তাঁদের কথোপকথন এবং কার্যকলাপ কল্পিত , অতএব দ্বিধা দূরে সরিয়ে নির্দ্বিধায় উপভোগ করতে পারেন উপন্যাসটি । দ্বিতীয় গল্প কতকক্ষে কাগজ পোড়ে। বখতিয়ার কর্তৃক নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের পটভূমিতে রচিত এই গল্পটিও মন ছুঁয়ে যায় চরিত্র চয়ন আর লেখনীর গুণে । এই দ্বিতীয় গল্পটির কতিপয় অংশে শব্দ চয়ন নিয়ে একটু অনুযোগ আছে , যেমন লিপিকারের লিপি (ব্রাম্হি বা সংস্কৃত সম্ভবত) দেখে বখতিয়ার বলছেন উল্টো লেখা , অতএব বখতিয়ার ফার্সি লিপির সাথে পরিচিত যা ডান দিক থেকে বামদিকে লেখা হয় , সেই বখতিয়ারই আবার বলছেন 'আগ লাগা দো '। তবে ভাষা নিয়ে আমার জ্ঞান অতি অতি সীমিত , তাই সমালোচনা করার দুঃসাহস দেখলাম না । পাঠ পরবর্তী সুখানুভূতিতে একটু যেন কানে বাজছিল ওই লাইনটা তাই প্রসঙ্গ অবতারণা করেই ক্ষান্তি দিলাম । সব শেষে বলি সামান্য এই ত্রূটি , লেখনীর গুণে হেলায় ফিকে হয়ে গেছে এই বইয়ের দুটি গল্পতেই আর তার জন্য লেখক মহাশয়কে শত কুর্ণিশ ।
ঠগী, এই শব্দটির সাথে আজকের বাঙালি পাঠকদের শিরোভাগ পরিচিতির কারণ Sunday Suspense এ সম্প্রচারিত অভিক সরকারের লেখা ভোগ গল্পটি থেকে। সেখানে যেমন তন্ত্রসাধনা কে আধার করে ভারতের ইতিহাসের এই দুধর্ষ দলের কথা তুলে ধরা হয়েছে, হিমাদ্রি বাবুর এই বইতে তেমন এ ঠগী সম্পর্কে আরো তথ্য, আরো ইতিহাস আর তাদের বীভৎসতা সম্পর্কে আমরা জানতে পারি। স্লিম্যান সাহেবের ভূমিকা আর সমসাময়িক হিন্দু সমাজের কুসংস্কার মিলিয়ে এই বইটি ইতিহাস এবং রোমাঞ্চের একটি আদর্শ সমন্বয়।
আউ ভাই রাম রাম!! অষ্টাদশ শতাব্দির ঠগী ও দ্বাদশ শতাব্দির বখতিয়ার খিলজির নালন্দা বিদ্যাপিঠ ধ্বংস এই দুই প্রেক্ষাপট নিয়ে দুটি উপন্যাস এর সংকলন এই বইয়ে। ধারুন একটু বই!