The writing was published in 10 parts on the newspaper 'Bangladesh Pratidin'. There has been many misconceptions and unclear information about the Rakkhibahini regarding its creation, activity and specially role during August 15, 1975. Motivated by a historical obligation, this attempt was taken to present the correct image of the then situation and reality. (from the preface of the book)
'রক্ষীবাহিনীর অজানা অধ্যায়' বইয়ের লেখাগুলো দশটি পর্বে 'বাংলাদেশ প্রতিদিন' পত্রিকায় ছাপা হয়। প্রায় পাঁচ দশক আগে বিলুপ্ত অথচ আলোচিত-সমালোচিত এই সংগঠনের ডেপুটি লিডার (অপারেশন) ছিলেন সরোয়ার হোসেন মোল্লা। জাতীয় রক্ষীবাহিনী গঠনের পূর্বাপর, কার্যকলাপের পক্ষে 'সাফাই' এবং বিলীয়মান হয়ে সেনাবাহিনীতে আত্মীকরণের ঘটনার সংক্ষিপ্ত অথচ গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ দিয়েছেন সরোয়ার হোসেন মোল্লা। রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে আগ্রহী পাঠকের জন্য আকর্ষণীয় একখানা কেতাব এটি।
মাদারীপুরের নাজিমউদ্দীন সরকারি কলেজের ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন সরোয়ার মোল্লা। তোফায়েল আহমেদ ও আমির হোসেন আমুর অধীনে রাজনীতি করতেন। তাই সিরাজুল আলম খান গ্রুপের সাথে নৈকট্য কিছুটা কম ছিল। এমন পরিস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। ফণীভূষণ মজুমদার ( পরবর্তীতে খাদ্য ও আইনমন্ত্রী) একাত্তরে খুলনার দিকে সরোয়ার মোল্লাকে নিয়ে অস্ত্রের খোঁজে গিয়েছিলেন। কিন্তু সাড়া পাননি। পরবর্তীতে সরোয়ার মোল্লা ভারতে চলে যান।
ফণীবাবু আগেই কলকাতায় চলে গিয়েছিলেন। সেখানেই ওঠেন সরোয়ার মোল্লা। পরবর্তীতে মুক্তিবাহিনীর সমান্তরালে গড়ে ওঠা মুজিববাহিনীতে যোগ দেন। সরোয়ার মোল্লার মুজিববাহিনী নিয়ে বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তিনি এই বাহিনীর পহেলা ব্যাচের রিক্রুট ছিলেন। সরোয়ার মোল্লার বক্তব্য পরিষ্কার। মুজিববাহিনী প্রথাগত যুদ্ধ করার মানসিকতা নিয়ে গড়ে ওঠেনি। অন্তত এই বাহিনীর কর্তাব্যক্তিরা বুঝতে পারেনি হুট করে নয় মাসের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ সমাপ্ত হয়ে যাবে। তারা ভেবেছিল যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে এবং তখন সামরিক ফ্রন্টে লড়াই করার চাইতে বেশি দরকারি হয়ে উঠতে পারে রাজনৈতিক ফ্রন্টে লড়াই করা। কেননা যুদ্ধের নেতৃত্ব বামপন্থিদের হাতে চলে যেতে পারে - এই আশঙ্কা মুজিববাহিনীর কর্তাদের ছিল।
যাহোক, প্রশিক্ষণ নিয়ে মাদারীপুরে যুদ্ধ করতে এসে বিশৃঙ্খলা দেখে হতভম্ব হলেন লেখক। মুজিববাহিনীর সাথে মুক্তিবাহিনীসহ অন্যান্য মুক্তিকামী যোদ্ধাদের কোনো মিল-মহব্বত নেই, নেই কোনো একতা। বরং কোথাও কোথাও দুশমন নিধন বাদ দিয়ে মুক্তিবাহিনীর একাধিক গ্রুপ নিজেরাই নিজেদের ভেতর সংঘাত আরম্ভ করে দেয়। বড় গ্রুপ অস্ত্র কেড়ে নেয় ছোট গ্রুপের। এসব লজ্জাজনক কথা সরোয়ার মোল্লা লিখেছেন। যা আমরা লুকিয়ে রাখতে চাই।
তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে একটি আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা করেছিল। বঙ্গবন্ধু দেশে ফেরার পর ইপিআরের ( বর্তমান বিজিবি) সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের যুক্ত করে একটি বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মাঠে মারা যায়। ইপিআর বনাম মুজিববাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে মারামারি হয়। সেই মারামারিতে সম্ভাব্য বাহিনির প্রধান নুরুজ্জামানকে লাঞ্ছিত পর্যন্ত করা হয়। খোদ বঙ্গবন্ধু পিলখানাতে এসে এই ঝগড়া থামান এবং সিদ্ধান্ত নেন মুজিববাহিনীর ছেলেদের নিয়ে আলাদা একটি বাহিনী তৈরি করা হবে। ১৯৭২ সালে সিংহভাগ মুজিববাহিনী, কিছু কাদেরিয়া বাহিনী এবং অল্পসংখ্যক মুক্তিফৌজ নিয়ে গঠন করা হয় জাতীয় রক্ষীবাহিনী ( জেআরবি)। বঙ্গবন্ধুর এটিকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মধ্যবর্তী একটি বাহিনী হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন এবং এই বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনেই রাখেন।
তখন দেশে আর্থিক সংকট চরমে। একটি বাহিনী গঠনের মতো আর্থিক সচ্ছলতা আমাদের ছিল না। উপরন্তু, লেখক মনে করেন ভারতের মনঃপূত হতো না আমাদের একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী। তাই ভারতের আর্থিক, প্রশাসনিক এবং প্রশিক্ষণগত সহায়তায় একটি বাহিনী তৈরি করা হলে ভারত খুশি থাকবে এবং বঙ্গবন্ধু তার অনুগত একটি বাহিনী পাবেন - এই চিন্তা থেকেই ভারতের সাহায্যে রক্ষীবাহিনী গঠন করা হয় বলে মনে করেন একসময় বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড সরোয়ার মোল্লা।
সরোয়ার মোল্লা রক্ষীবাহিনীর পক্ষে লিখেছেন। তিনি মনে করেন, এই বাহিনী কিছু 'বাড়াবাড়ি' করলেও তা যত বাড়িয়ে বলা হয় তত নয়। বরং তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণেই রক্ষীবাহিনীকে 'কঠোর' হতে হয়েছে বলে দাবি সরোয়ার মোল্লার। এই মতামতের সপক্ষে তিনি একাধিক ঘটনা উল্লেখ করেছেন।
কমরেড সিরাজ সিকদারকে তার দলের লোকেরাই ধরিয়ে দিয়েছিল। রক্ষীবাহিনীকে তথ্য দেয় সর্বহারা দলের কর্মীরাই। এদের তথ্যেই চাটগাঁ থেকে ধরা পড়েন সিরাজ সিকদার। লেখকের দাবি, দেশের অবস্থা বেগতিক দেখে সিরাজ সিকদার চীনে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। সরোয়ার মোল্লা লিখেছেন, যারা সিরাজ সিকদারকে ধরতে তথ্যে দেয়, তাদের সকলেই দেশের বাইরে নিরাপদ প্রস্থানের ব্যবস্থা করে দেয় সরকার।
সরোয়ার মোল্লা দাবি করেছেন রক্ষীবাহিনীর সদর দপ্তরে সিরাজ সিকদারকে ধরে আনা হলেও রক্ষীবাহিনী তাঁকে হত্যা করেনি। তারা বঙ্গবন্ধুর সাথে সিরাজ সিকদারের একটি আলোচনার ব্যবস্থা করতে চাইছিল। বঙ্গবন্ধু প্রথমে রাজি হলেও শেষমুহূর্তে সিরাজ সিকদারের সাথে সাক্ষাৎ করতে অসম্মতি জানান। পরে সিরাজ সিকদারকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরেরদিন সকালে জানতে পারেন সাভারের গকুলে ( বর্তমানে যেখানে সাভার সেনানিবাস) সিরাজ সিকদারকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অর্থাৎ, রক্ষীবাহিনীর প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের কাছে সিরাজ সিকদারকে মারা হলেও এই হত্যাকাণ্ডে রক্ষীবাহিনীর কোনো হাত নেই। কারণ তারা আগেই সিরাজ সিকদারকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছিল।সত্য কী তা আল্লাই ভালো জানেন!
বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পর রক্ষীবাহিনী একটা গুলিও ছুঁড়তে পারেনি - এই অভিযোগ নতুন নয়। কেন সেনাবাহিনীর চাইতে সামরিক সরঞ্জামে অধিক সজ্জিত রক্ষীবাহিনী সেদিন কিছু করতে সফল হয়নি তার দীর্ঘ ব্যাখা সরোয়ার মোল্লা দিয়েছেন। সেই ব্যাখা অনেকটাই সত্যের নিকটবর্তী মনে হয়েছে। তবে বাহিনীর মনোবলে ভেঙে গিয়েছিল বলেই কিছু করতে পারেনি - এটাই চূড়ান্ত সত্য মনে হয়। অন্তত এই বাহিনীর কর্তাব্যক্তিদের পরবর্তী কার্যকলাপ তো তা-ই ইঙ্গিত করে।
রক্ষীবাহিনীর 'কলঙ্ক' মোচন করতে প্রথম কলম ধরেছেন সরোয়ার মোল্লার সাবেক সহকর্মী রক্ষীবাহিনীর ডেপুটি লিডার আনোয়ার উল আলম শহীদ। তিনি 'রক্ষীবাহিনীর সত্য-মিথ্যা' শিরোনামে একটি চমৎকার বই লিখেছেন। সেখানে বড় পরিসরে বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে বাহিনীর পক্ষে জোর গলায় সাফাই গেয়েছেন। সেই তুলনায় সরোয়ার মোল্লার বইখানা তত মজবুত নয়। মনে হলো রক্ষীবাহিনীকে রক্ষায় আনোয়ার উল আলম শহীদের চাইতে তিনি কম উৎসুক ও বাহিনীর কার্যকলাপ নিয়ে ইমানি জজবা তুলনামূলক কমজোরি।
মাত্র ৬০ পাতার বইখানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আলম সাহেব যা বলতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট করে বলেছেন। কিন্তু সরোয়ার মোল্লার ক্ষেত্রে এই কথা খাটে না। কারণ এই বইতে লেখার মাঝে অনেক লেখা ও ইঙ্গিত আছে বলে মনে হয়েছে। তাই সরোয়ার মোল্লার বইটি একবার পড়ে সবটা বোঝা যাবে না। রিড বিটুইন দ্য লাইনস বুঝতে একাধিকবার পড়তে হবে।
An interesting book but way too short. Written from the recollections of the author who was a deputy director of the, often, 'infamous' Rokkhi Bahini. Still, it contains a part of our history that is shrouded in so much mystery, rumors, and hearsays. A more exhaustive edition with further research, and maybe, contributions from others would make this a valuable historical document. It needs to incorporate explanations of many alleged 'atrocities' committed by the Rokkhi Bahini.
কর্নেল সরোয়ার হোসেন মোল্লার "রক্ষীবাহিনীর অজানা অধ্যায়" বইটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে উন্মোচন করে। এই বইটি রক্ষীবাহিনীর গঠন, কার্যকলাপ এবং বিলুপ্তির পেছনের ঘটনাপ্রবাহকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে। মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে গড়ে ওঠা এই বাহিনীকে কেন্দ্র করে যেসব বিতর্ক এবং অন্ধকার ছিল, সেগুলোকে আলোকিত করার চেষ্টা করেছেন লেখক।
বইটি মাত্র ৬০ পৃষ্ঠার, তবে এর মধ্যেই লেখক রক্ষীবাহিনীর জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে এর বিলুপ্তি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন। বইটির ভাষা সাবলীল, যা পাঠকদের জন্য সহজপাঠ্য করে তুলেছে।
লেখক মুজিববাহিনী থেকে শুরু করে রক্ষীবাহিনীর গঠন প্রক্রিয়া বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই বাহিনীকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মধ্যবর্তী একটি মিডিয়েটর হিসেবে কল্পনা করেছিলেন। তবে দেশের আর্থিক সংকটের কারণে এবং ভারতের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার কথা বিবেচনা করে, ভারতের সহায়তায় এই বাহিনী গঠন করা হয়।
বইটিতে রক্ষীবাহিনীর বিতর্কিত কার্যক্রম সম্পর্কে লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে বাহিনী কিছু 'বাড়াবাড়ি' করেছিল, তবে তিনি মনে করেন এটি তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ঘটেছিল। লেখক কমরেড সিরাজ সিকদারের মৃত্যুর ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন, যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে রক্ষীবাহিনী সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল না। তবে তিনি এইটার এক লাইনে দায় সেরেছেন। তথ্যের অপ্রলুতায় বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনায় রক্ষীবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে লেখক বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন কেন বাহিনী সেদিন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি, যদিও তিনি স্বীকার করেছেন যে বাহিনীর মনোবল ভেঙে পড়েছিল।
যদিও বইটি রক্ষীবাহিনীর পক্ষে লেখা হয়েছে, এটি কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্য প্রদান করে। তবে, বইটিতে রক্ষীবাহিনীর দোষত্রুটি পর্যাপ্তভাবে স্বীকার করা হয়নি। এটি লক্ষণীয় যে লেখক শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি অনুগত থাকলেও, তিনি শেখ মুজিবের কিছু সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, তিনি জিয়াউর রহমানের কিছু ইতিবাচক অবদানও স্বীকার করেছেন, যা আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে বিরল।
সামগ্রিকভাবে, 'রক্ষীবাহিনীর অজানা অধ্যায়' বাংলাদেশের একটি জটিল ও বিতর্কিত সময়ের উপর আলোকপাত করে। এটি পাঠকদের রক্ষীবাহিনী সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যদিও এর বিষয়বস্তু নিয়ে তর্ক-বিতর্ক থেকে যাবে। ইতিহাস ও রাজনীতির গবেষকদের জন্য এটি একটি মূল্যবান সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বই হিসেবে সংকলনের আগে বাংলাদেশ প্রতিদিন সংবাদপত্রে ১০ পর্বে ছাপা হয়েছিল এই বর্ণনা।তাই তথ্যের অপ্রতুলতা ও ঘটনার বিষদ ব্যাখার অভাব বলে মনে হলো আমার নিকট।
১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয়েছিল আলোচিত-সমালোচিত জাতীয় রক্ষীবাহিনী।সদ্য জন্ম নেওয়া একটা রাষ্ট্রে সেনাবাহিনীর সমান্তরালে একটা প্যারা-মিলিশিয়া ফোর্স গঠন একটু দৃষ্টিকটু লাগলো।ইন্টারেস্টিং পয়েন্ট হচ্ছে বাহিনীর ট্রেনিং এর দায়িত্বে ছিলেন ভারত থেকে আনা একজন ইন্সট্রাক্টর। বাহিনীর পোশাকও ভারতীয় বাহিনীর সদৃশ ছিল।
লেখক ছিলেন এই বাহিনীর উপ-পরিচালক। তার কণ্ঠে রক্ষিবাহিনীর পক্ষে সাফাই ধ্বনিত হয়েছে। সাভারে রক্ষিবাহিনীর অফিসের অদূরে যখন সিরাজ সিকদার নিহত হয়(?), সেখানে রক্ষিবাহিনীর কোনো ভূমিকা নেই বলে লেখক সাফাই গেয়েছেন।কিন্তু তার সাফাইয়ের পক্ষে কোনো যুক্তি দেখাতে পারেননি। কেবল ২/৩ লাইনে তুমুল আলোচিত এই ঘটনার ইতি টেনে দেন।তথ্যের সংকট মারাত্মকভাবে এই জায়গায় ধরা পড়েছে।
দেশের স্বার্থে গঠিত হওয়া বললেও এই বাহিনী ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ঠিকঠাক ফাংশন করেনি।মোশতাক সরকারের নিকট আনুগত্য প্রকাশ করলেও তার আর আগের মতোন ফাংশন করা হয়ে উঠেনি।শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত বাহিনী--বলে যে দুর্নাম আছে, সেই পালে হাওয়াও পাওয়া যায় তার মাধ্যমেশেষাংশে লেখক কীভাবে আলোচিত এই বাহিনীর ইতি ঘটেছিল সেনাবাহিনীতে আত্তীকরণের মাধ্যমে,তা ব্যাখা করেছেন।
বইটায় প্রোপাগান্ডার গন্ধ আছে। কারণ রক্ষীবাহিনীর কোনো দোষ স্বীকার করা হয় নি। যাদের নামে এতগুলো হত্যার অভিযোগ আছে, তারা একটা হত্যাও করেনি - ব্যাপারটা হজম হয় না। শেখ মুজিবের অনুগত হিসেবে তাঁর অনেক প্রশংসা আছে। তবে শাসক হিসেবে শেখ মুজিবের দূরদর্ষিতার অভাবগুলো উদাহরণ দিয়ে বুঝানো হয়েছে। মুজিব আদর্শের অনুগত হলেও জিয়াউর রহমান তাদের যে উপকার করেছেন সেটা স্বীকার করেছেন। সাধারণত আওয়ামীপন্থীদের জিয়াউর রহমানের প্রশংসা দেখা যায় না।
বইটা একটু বেশিই ছোট। মাত্র ৫৬ পেজ। যে ব্যাক্তি মুজিববাহিনী, রক্ষীবাহিনী, সেনাবাহিনী ৩ টাইতেই উপরের র্যাংকের অফিসার ছিলেন তার ইতিহাস বইতে লেখার মত আরো অনেক কিছুই থাকতে পারতো। রক্ষীবাহিনীর কর্মক্ষেত্র আর উদ্দেশ্য বইতে ক্লিয়ারলি বলা হয় নি।
বইটার ভাষা সাবলীল। মোটামুটি এক বসায় শেষ করা গিয়েছে।