ইনকা শব্দটি শুনলেই আমাদের মনে এক আবেগ হয়। ইনকা মানে অজস্র সোনার অলংকার, তীর-ধনুক-বর্শা হাতে সারা শরীরে উল্কি পরা বিশাল দেহী পুরুষ যোধৃজাতি যারা নাকি জ্যোতির্বিজ্ঞানেও প্রাগ্রসর। নানা মায়া কাহিনী, তাদের দেশের পথের ধূলো সোনার গুঁড়ো,কত কি । বাস্তব কল্পনা মিশিয়ে কত না আধিদৈবিক তত্ত্ব, কত ব্যাখ্যা। কিন্তু প্রাথমিক পরিচয় না থাকলে, এই কল্পকাহিনী ভেদ করে কোনও সত্যে পৌঁছনো সম্ভব হয় না। এই বইটি সাধারণ পাঠককে মূল তথ্য জানানোর অভিপ্রায়ে লিখিত। প্রতিটি তথ্যই বিনা আড়ম্বরে সংকলিত।
ইনকা সভ্যতা প্রায় দশ হাজার বছরের। বেরিং প্রণালী হেঁটে পার হয়ে পুরো উত্তর আমেরিকা পেরিয়ে পানামা যোজক দিয়ে পা রেখেছিল দক্ষিণ আমেরিকায় এক আদিম মানবগোষ্ঠী। এরা ছিল ইনকাদের পূর্বপুরুষ। ধীরে-বীরে তারা ছড়িয়ে পড়ে দক্ষিণ আমেরিকার এই প্রাস্তে। আদিজের পশ্চিমাংশে। প্রায় দশ হাজার বছর ধরে। সাম্রাজ্যের ইতিহাস তুলনায় সামানাই। মাত্র একশ বা দেড়শ বছরের। ভাবা যায় ইনকদের রাজত্বে না-খেয়ে মরতো না কেউই। প্রত্যেককে কাজ দেওয়া হত তার সাধ্যমত। ভাবা যায় এক ইনকা সম্রাট তার রাজ্যে ঘোষণা করেছিলেন যে চুরি করলে পরে তার শাস্তি সাধারণ নিয়মে হবে না। তদন্ত করে দেখতে হবে যে তার চুরিটা কোন পর্যায়ের—স্বভাবগত না অভাবের দরুণ। স্বভাবগত হলে তাকে রোদে শুকিয়ে মারতে হবে, অভাবের দরুণ হলে সে যে এলাকার মানুষ সেই এলাকার শাসন কর্তাকে রোদে শুকিয়ে মারতে হবে—কেননা তার শাসনেই এই অভাববোধের জন্ম। পৃথিবীতে এমন দৃষ্টান্ত অন্য কোথাও আছে কি? ইনকা সভ্যতার সন্ধানে বইটিতে ভূগোল, শাসনপ্রণালী। সাধারণ মানুষের অবস্থা ইত্যাদি নিয়ে বিশদ আলোচনা রয়েছে। রয়েছে ইতিহাস নিয়েও ঘাটাঘাটি। অর্থাৎ ইনকারা কে? কোথা থেকে আবির্ভাব তাদের? তাদের সঙ্গে এতো মিল কেন মঙ্গেলয়েড মানুষের? এইসব নিয়েই এই গ্রন্থ