❛....𝙤𝙣 𝙗𝙚𝙝𝙖𝙡𝙛 𝙤𝙛 𝙤𝙪𝙧 𝙜𝙧𝙚𝙖𝙩 𝙣𝙖𝙩𝙞𝙤𝙣𝙖𝙡 𝙡𝙚𝙖𝙙𝙚𝙧, 𝙩𝙝𝙚 𝙨𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 𝙘𝙤𝙢𝙢𝙖𝙣𝙙𝙚𝙧 𝙤𝙛 𝘽𝙖𝙣𝙜𝙡𝙖𝙙𝙚𝙨𝙝, 𝙎𝙝𝙚𝙞𝙠𝙝 𝙈𝙪𝙟𝙞𝙗𝙪𝙧 𝙍𝙖𝙝𝙢𝙖𝙣 𝙙𝙤 𝙝𝙚𝙧𝙚𝙗𝙮 𝙥𝙧𝙤𝙘𝙡𝙖𝙞𝙢 𝙩𝙝𝙚 𝙄𝙣𝙙𝙚𝙥𝙚𝙣𝙙𝙚𝙣𝙘𝙚 𝙤𝙛 𝘽𝙖𝙣𝙜𝙡𝙖𝙙𝙚𝙨𝙝....❜
ঠিক এই ঘোষণাটির আগে পূর্ব পাকিস্তান নামক ভূখণ্ডটি প্রত্যক্ষ করেছিল নারকীয় এক হ ত্যাযজ্ঞ। ঘোষণাটির মাধ্যমে নি র্যাতিত আর র ক্ত খুঁইয়ে দেয়া পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশ হিসেবে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার এক সূচনা করলো।
সেলিম মোঃ কামরুল হাসান এবং জহির রায়হান, ৭১ এর উত্তাল সময়ের দুই ভিন্ন নির্ভীক যো দ্ধা। একজন অংশ নিয়েছেন সম্মুখ সমরে, আরেকজন অংশ নিয়েছেন পরোক্ষভাবে। দেশের বাইরে থেকে প্রমাণ জোগাড় করেছেন সরষের মধ্যে থাকা ভূতেদের বিরুদ্ধে।
১৯৭১ সালের ১৭ই ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা দিয়ে নির্মাতা সাংবাদিক জানতে পারলেন ১৪ই ডিসেম্বরের ঘটনা। এও জানতে পারলেন একইসাথে নিখোঁজ তার প্রাণপ্রিয় সহোদর শহীদুল্লাহ কায়সার। ভাইকে খুঁজে পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে গেলেন তিনি। বুদ্ধিজীবী হ ত্যার পিছে শুধু পাক বাহিনী ছাড়াও আর কাদের লাভ আছে সে বিষয়ে তদন্ত করতে নিজ উদ্যোগে তদন্ত কমিটি খুলেছিলেন। যু দ্ধের পুরোটা সময় কলকাতায় অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘা তকদের মুখোশ খুলতে প্রমাণ জোগাড় করেছিলেন তিনি। এবার সেসব প্রকাশের পালা। দেশটা পরদেশী শ ত্রুমুক্ত হলেও পুরোপুরি কি শ ত্রুমুক্ত হয়েছিল?
সেলিম প্রত্যক্ষ যু দ্ধের ভয়াবহতা দেখেছেন। দেখেছেন সহযো দ্ধাদের চোখের নিমিষে হারিয়ে যেতে। সতর্কতা আর নিজস্ব গুণে যু দ্ধে গাজী হয়ে ফিরেছেন তিনি। তবে দেশটা স্বাধীন হলেও অনেক প্রশ্ন কুড়ে খাচ্ছে তাকে। ১৪ই ডিসেম্বরের ঘটনা কি শুধুই দেশকে বুদ্ধিহীন করে দেয়ার জন্য পাকিদের একটা চাল, না এর শিকড় আরো গভীরে? এই নিয়ে তদন্ত করছেন তিনি।
আপাতদৃষ্টিতে জহির এবং সেলিমের মধ্যে কোনো যোগ না থাকলেও তারা মিলেছেন এই একটা কাজে। দুজনেই ১৪ই ডিসেম্বরের ঘটনার পিছনের আসল ঘটনা জানতে বদ্ধ পরিকর। একজন সরকারিভাবে, আরেকজন নিজ উদ্যোগে।
ভাইকে খুঁজে পেতে কী না করেছেন জহির! সাথে মুজিববাহিনীর ভেতরে থাকা সুখের মৌমাছিদের মুখোশ উন্মোচনের কাজও অনেকটাই গুছিয়ে এনেছেন। আসছে ৩০শে জানুয়ারি, ১৯৭২ প্রকাশ হবে তার বই।
ঠিক একইদিনে বঙ্গভবনে সেলিম জরুরি ফোন পেলেন মিরপুর ১২-তে রেই ড দেয়ার। ওদিকে জহির ফোন পেলেন একই স্থানে শহীদুল্লাহ কায়সারের অবস্থান নিয়ে। ভাইকে ফিরে পেতে তাই ছুট দিলেন। হয়তো কোথাও রান্না হচ্ছে বিশাল কোনো ষ ড়যন্ত্রের।
এরপর কী হলো? সত্যটা জানা সবারই। ৩০ তারিখে ববিতা, সুচন্দার অপেক্ষা আর শেষ হলো না। পান্নার ফিরে পাওয়া হলোনা স্বামী আর দেবরকে। হারিয়ে গেলেন জহির, হারিয়ে গেলেন সেলিম। সাথে উধাও হয়ে গেল কিছু দলিল দস্তাবেজ। চাপা পরে গেলো সত্য।
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
❛আগুনের দিন শেষ হয়নি❜- এটি লেখকের প্রথম লেখা উপন্যাসিকা। রুয়েটিয়ান এই লেখক শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আরেক রুয়েটিয়ান মুক্তিযো দ্ধা সেলিমকে। সাথে তুলে এনেছেন ইতিহাসের গভীরে চাপা পড়া জহির রায়হানের অন্তর্ধানকে। জহির রায়হান আমার খুব প্রিয় লেখক এবং চলচ্চিত্রকার হওয়ায় এই গল্পটা নিয়ে আশা এবং আগ্রহ দুই-ই বেশি ছিল।
উপন্যাসিকার মূল প্রেক্ষাপট জহির রায়হানের অন্তর্ধান। লেখক অনেক রিসার্চ করে, অনেক তথ্য যাচাই করে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ঘটনাগুলোকে নিয়েই কল্পনার মিশেলে লিখেছেন লেখাটি। জহির রায়হানের পাশাপাশি গল্প এগিয়েছে সেলিম মোঃ কামরুল হাসানকে নিয়েও। তরুণ এই যো দ্ধার মনোবল, দৃঢ়তা আর সাহসিকতার অনন্য এক চিত্র এঁকেছেন লেখক।
স্বাধীনতার এত বছর পরেও দেশটা কতটা স্বাধীন, কতটা নিরপেক্ষ তাই লেখক শেষে আক্ষেপ করে গেছেন। জহির কিংবা সেলিমের হ ত্যাকারীরা স্বাধীন দেশে খোলা হাওয়ায় বিচরণ করে বেড়ায় কিন্তু সত্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে এসে জহির বা সেলিমেরা অতলে হারিয়ে যায়।
সব পাখি ঘরে আসে—
সব নদী—ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন;
গল্পটা শেষ করে বারবার এই লাইনটাই কেন জানি মনে পড়ছিল। ২৫শে মার্চের ভয়াল রাতের পরেও বাংলাদেশ পরবর্তী ৯ টা মাস কতো কঠিন সময় পার করেছে, কোনরকম একটা ট্রেনিং নিয়ে লড়েছে তখনকার পৃথিবীর এক নাম্বার সেনাবাহিনীর সাথে, হারিয়েছে তাদের, ছিনিয়ে এনেছে স্বাধীনতার সূর্য- এই ঘটনাগুলো গল্পে প্রাধান্য পেয়েছে কিছু বাস্তব আর কাল্পনিক চরিত্রের মাধ্যমে।
❛আগুনের দিন শেষ হয়নি❜ কে এক বাক্যে অসাধারণ হিসেবেই আখ্যা দেয়া যায়। ঘটনার পিছনেও ঘটনা থাকে, রহস্য থাকে। আর কিছু রহস্য মিথের মতো নানাভাবে চর্চা হতে থাকে। এই লেখাটিও তেমন রহস্যগুলোর মাঝে একটা রহস্যের আদলে গল্প। উপন্যাসিকার সত্যতা যাচাই বিজ্ঞ মহল আরো ভালো করতে পারবেন। তবে ইতিহাসের আশ্রয়ে লেখা ফিকশন হিসেবে আমার মতে লেখকের অন্যান্য লেখা এটি। এই উপন্যাসিকা নিয়ে অনায়েসেই একটা শর্টফিল্ম তৈরি করা যায়। হলে বরং খুশিই হবো।
স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন - এই প্রবাদের সমার্থক ই মনে হয়েছে আগুনের দিন শেষ হয়নি কে।