প্রচ্ছদপট ছবি – বিবেক দাস ডিজাইন – ব্রতীন রায় অলংকরণ – সুদীপ্ত মণ্ডল
সুজাতা মুখার্জির মৃতদেহ ঘরের মেঝেতে একটা বেয়াড়া ভঙ্গিতে পড়ে আছে।একটা পা হাঁটু অবধি তোলা, অন্য পা অনেকটা পিছিয়ে স্প্রিন্টারদের দৌড়ের ভঙ্গির মতো। ভদ্রমহিলার পরনে শুধু একটা পিঙ্ক রঙের নাইটি। একটা দিক উরু পর্যন্ত উঠে এসেছে। মাথাটা নীচের দিকে নামানো। শরীরে বেশ কয়েকটা জায়গায় ধ্বস্তাধ্বস্তির চিহ্ন। মাঝবয়েসি ভদ্রমহিলার মৃতদেহ। পাওয়া গেল কলকাতার বুকে। একদিন সকালে। পুলিশের ধারণা। স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। খুন!
সিনিয়র ডিটেকটিভ অফিসার অবিনাশ রায় তদন্তে নামলেন। তার অনুসন্ধানী চোখে পরপর ধরা পড়তে থাকে খুনের সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা। সুজাতার স্বামী, মেয়ে, বিজনেশ পার্টনার, বাড়িওয়ালা, প্রেমোটার এমনকী কাজের জমাদার পর্যন্ত ।
এর মধ্যে আসল খুনি কে ?...
‘সাপের ঝাঁপি’ তারই উন্মোচন। অবিনাশ রায় এক অভিনব চরিত্র। রক্তমাংসের মানুষ । ব্যোমকেশ-কিরীটি বা শার্লক হোমসের মতো নিমেষে খুনের মীমাংসা করার ক্ষমতা তার নেই। আছে শুধু অন্যরকম অনুসন্ধানী চোখ।
বরুণ চন্দের লেখা আগে পড়ার অভিজ্ঞতা ছিল। একাধারে সুদক্ষ অভিনেতা ও অন্যদিকে সুলেখক বরুণ চন্দ ভীষণ ভালো থ্রিলার লিখতে পারেন । ছোট্ট ছোট্ট কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে কাহিনীর গভীরতায় এমন দ্রুত ঢুকে পড়েন যে বোঝাই যায়না কখন গল্প অন্যদিকে মোড় নিয়েছে। সাপের ঝাঁপি একটি আদ্যন্ত উচ্চমানের থ্রিলার। ব্যাবসায়ী সুজাতা চৌধুরীর অকস্মাৎ মৃত্যু ও তার হত্যারহস্যের কিনারা করতে আসা CID -র সিনিয়র অফিসার অবিনাশ রায় ও তাঁর সহকারী প্রদোৎ এর mind game এবং পুলিশি তদন্তের ধারাবিবরণী। গল্পের 90% conversation; এবং এটি খুব চিত্তাকর্ষক। বরুণ চন্দ ভীষণরকম detailing এ বিশ্বাসী। মাঝেমধ্যে মনে হয় কোনো বিদেশি থ্রিলার সিরিজ দেখছি, যেখানে প্রতিটা conversation এ পোটেনশিয়াল আসামীর তুচ্ছ থেকে তুচ্ছতর ইশারা- ইঙ্গিত ও লেখকের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়নি। সুজাতার মৃত্যুতে তার স্বামী শতদল, মেয়ে রিমি, সুজাতার বিজনেস পার্টনার থেকে বাড়িওয়ালা থেকে জমাদার অবধি -কেউই সন্দেহের উর্ধ্বে নয়। আর তার ফলে একদম শেষ পৃষ্ঠা অবধি সেই টানটান ভাব বজায় থাকে। যে জিনিসটি মনোমত হয়নি সেটা হল মৃতের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট জানতে এত দেরি হওয়ার কারণটা। Personal rating : 4.5/5