মানুষ সামগ্রিকতায় বিশ্বাস করে। বিশ্বাস করে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকায়, জড়িয়ে রাখায়। সময়ের সাথে বাজি রেখে মানুষ তাই বেঁচে থাকে আশায়, ভাবনায়। কিন্তু নিরন্তর সেই ছুটে বেড়ানোর শেষ কোথায়? কোন রাস্তার মোড়ে এসে কি কখনও তারও দম আটকে আসে? নিস্তব্ধ কোন রাত্রে বারান্দায় নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকা কেউ ফুঁপিয়ে কেদে ওঠে না? যখন আনমনা সেই সময়েই আর কেউ স্বপ্ন বোনে, অজানা ভবিষ্যতের?
মানুষের নিজস্ব একাকী সেই সময়ের অনুভূতিগুলোই নিপুণ তুলিতে যেন এঁকেছেন গল্পকার তার এই ২য় গল্প সংকলনে। শহরের বুনো ব্যস্ততার নিরেট বাস্তবতায় যে গল্প শুধুই বন্ধুত্বের, জীবনের, হতাশার কিংবা জ্যোৎস্নার। আমাদের আটপৌরে সম্পর্কেই যেন নতুন কোন মায়ার জাল বুনে চলে এই গল্পগুলোর মাঝ দিয়ে। যেখানে বহু যত্নে আগলে রাখা ভালোবাসাটুকু এক ভোরবেলা খুব অচেনা হয়ে ওঠে। যেখানে আবেগের অন্ধকার রূপ সৃষ্টি করে শূণ্যতা কিংবা তীব্রতার। ফিরে দেখা সময়ের মাঝ দিয়ে যেখানে কখনো যেনা সম্পর্ক হয়ে ওঠে অচেনা, আর অচেনা বহু শতাব্দী দূরের কেউ ছুঁয়ে দিয়ে যায় মনোগ্রাফঃ চেনা সুরেই...
আমার ব্লগ নিক একুয়া রেজিয়া। মূল নাম, মাহরীন ফেরদৌস। ২০১৩ সাল থেকে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে, বর্তমানে একটা ডিজিটাল ক্রিয়েটিভ ফার্মে কাজ করছি। ২০১০ সাল থেকে ব্লগিংয়ের মাধ্যমে লেখালেখির জগতে আসা হলেও, জীবনে প্রথম গল্প লিখেছিলাম মাত্র ক্লাস ফোরে পড়ার সময়। সাহিত্য নিয়ে জুড়ে ছিলাম স্কুল ও কলেজ ম্যাগাজিন, মহাকাশ বার্তা, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র এবং ছায়ানটে। আমি স্বাধীনচেতা, অন্যমনা। ভালোবাসি স্বপ্ন দেখতে, মানুষকে নিয়ে ভাবতে। আবুল হাসান আর জীবনানন্দ দাশের কবিতায় জীবন খুঁজে পাই। আর রবিঠাকুরের কবিতাই পাই প্রেম ও প্রার্থনা। বিদেশি লেখকদের মধ্যে প্রিয়র তালিকায় আছেন মাক্সিম গোর্কি, ও হেনরি এবং পাওলো কোয়েলহো। বইয়ের জগতে আত্মপ্রকাশ একুশের বইমেলা ২০১৩ তে, ছোটগল্প সংকলন “নগরের বিস্মৃত আঁধার” এর মাধ্যমে। ২০১৪ তে প্রকাশিত হয় আমার দ্বিতীয় বই এবং প্রথম উপন্যাস “কিছু বিষাদ হোক পাখি”। সেই উপন্যাসটি অনেক পাঠকপ্রিয় হবার পর ২০১৫ সালে বইমেলায় প্রকাশিত হয় আমার তৃতীয় বই ও দ্বিতীয় উপন্যাস “এই শহরে মেঘেরা একা”। যা কিনা আরও বেশি জয় করে নেয় পাঠকদের মন। চার সপ্তাহ জুড়ে টানা বইমেলায় টপলিস্টে থাকে এই উপন্যাসটি। আমার তিনটি বই-ই প্রকাশিত হয়েছে অন্যপ্রকাশ থেকে। এছাড়াও ঢাকা এবং কলকাতা মিলিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও সংকলনে লেখা প্রকাশিত হয়েছে আশিটির মতো।
আমার জীবনে কিছু 'কোটেশন' আমাকে শক্তি এবং আশা দিয়ে যায়। যেমন-
আকাশ তো ছুঁইনি, তবু আকাশের মাঝে তো মেঘ হয়ে ভেসে আছি। বেঁচে আছি, দিব্যি জেগে আছি। রোদকে আমায় ভেদ করে স্পর্শ করতে দিচ্ছি। এই তো আমি...
'If a writer falls in love with you, you can never die'- Mik Everett
“And, when you want something, all the universe conspires in helping you to achieve it.”
-Paulo Coelho, The Alchemist
Writing means sharing. It's part of the human condition to want to share things - thoughts, ideas, opinions.
-Paulo Coelho
The most important thing is to enjoy your life - to be happy - it's all that matters.
-Audrey Hepburn
“This life is yours. Take the power to choose what you want to do and do it well. Take the power to love what you want in life and love it honestly. Take the power to walk in the forest and be a part of nature. Take the power to control your own life. No one else can do it for you. Take the power to make your life happy.”
এই বইটা পড়তে গিয়ে বারবার আমার মনে হচ্ছিলো এই লেখিকার লেখনশৈলীর সাথে আমি আগে থেকে পরিচিত। নাম দেখতে গিয়ে দেখলাম-একুয়া রেজিয়া। ওদিকে দুই-তিনটা গল্প পড়ার পর ফ্লাপের লেখাটা পড়তে গিয়ে দেখি লেখিকার নাম এবার 'মাহরীন ফেরদৌস'। পরবর্তীতে বুঝতে পারলাম ছদ্মনাম এর বিষয়টা।
তো কাকতাড়ুয়ার আকাশ বইটাতে মোট ১৪ টা ছোট গল্প আছে। একেবারেই ছোট ছোট গল্প। একাকিত্ব, হতাশা, বন্ধুত্ব, প্রেম সামগ্রিক বিষয়বস্তুগুলোকে কেন্দ্র করে লেখা। এ বিষয়গুলোকে খুব সাবলীল ভাষায়, সূক্ষ্ম অনুভূতিতে ফুঁটিয়ে তোলা হয়েছে।
সবচেয়ে ভালো লাগার ব্যাপার হচ্ছে-লেখিকার গল্প বলার মাঝে কখনো ছন্দপতন হয় না। আরামসে গড়গড় করে বিঞ্জ রিড দেওয়া যায়। সব গল্পগুলোর মধ্যে কয়েকটা গল্প খুবই ভালো লেগেছে, কয়েকটা একটু মেলোড্রামাটিক লেগেছে আমার কাছে। তবে সাজেশন থাকবে এই লেখিকার 'অরিগামির গোলকধাঁধা' বইটা পড়ার জন্য।
ছোট গল্প সবসময়কার ভাললাগার জিনিস। একটা লিমিটেশনের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের 'শেষ হইয়াও হইলনা শেষ' কে মাথায় রেখে ছোট গল্প লেখাটা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং লাগে আমার। একুয়া রেজিয়ার লেখার সাথে পরিচয় ও আমার তার ছোট গল্পের মাধ্যমেই। সত্য কথা বলতে গেলে খুব অপেক্ষায় ছিলাম গত দুইবছর কারণ তার উপন্যাস বের হলেও ছোট গল্প পাচ্ছিলাম না। এবার সে দুঃখ মিটলো। যদিও বইয়ের দুই তিনটা গল্প মুখ বইয়ে আগেই পড়েছি কিন্তু মন ছুঁয়ে গেছে একদম প্রথম গল্পটি। বরাবরের মতই সহজ এবং সুন্দর!
সমাজ, পরিবার, মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক, সেই সম্পর্কের টানাপোড়েনের গল্প। আমরা কি আধুনিক হতে পেরেছি ? সম্পর্কের ক্ষেত্রে সব বাধাকে উপেক্ষা করতে পেরেছি কি ? 'মুক্তি' নামের শেষ গল্পটা সবচাইতে মন কেড়েছে...প্রেম তো হয় যুক্তিহীনভাবে, কিন্তু বিয়ে হয় যুক্তি দিয়ে। তবে মুখে আমরা যতোই প্রগতিশীলতার কথা বলি না কেন, বাস্তবে তার প্রায়োগিক দিক কতটুকু, তা ভাবনার বিষয়।
ফেসবুকে লেখিকার অনেকগুলো ছোটগল্প পড়ে থাকলেও এটি লেখিকার পড়া আমার প্রথম বই। কয়েকটি ছোটগল্পের সম্মেলন কাকতাড়ুয়ার আকাশ বইটিতে। সমাজ, সংসার, জীবন, আনন্দ কিংবা দুঃখ এসব নিয়ে এক একটি গল্প। লেখিকার লিখার ভিতরে হারয়ে গিয়েছিলাম কিছুক্ষণের জন্য। ছোটগল্প পড়া হলো এবার ওনার উপন্যাস পড়ার ইচ্ছে আছে। অনেক সুন্দর করে হৃদয়ে দাগ লাগার মত করে লিখতে জানেন একুয়া রেজিয়া আপু।
***( সপ্নকান্না তারাই কাঁদে যাদের সপ্ন ভেঙে গেছে। এই কান্নার হয়তো কোন পরিসমাপ্তি নেই।তাই তাদের জন্য ছোট একটি Quote-"Nobody can go back and start a new beginning, but anyone can start today and make a new ending."
*** "কালো যদি মন্দ তবে কেশ পাকিলে কান্দো ক্যানে?কালো কেশে রাঙা কুসুম হেরেছ কি নয়নে।"
*** রবি ঠাকুরের ভাষায়, " জগতে সকলেই মিথ্যা,সব মায়াময়, সপ্ন শুধু সত্য আর সত্য কিছু নয়।"
***ছাইরঙা পোশাকের মানুষটা ভাবলেশহীন-নীরব দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকে।যেনবা তার জন্মই হয়েছে শুধু নীরব থাকার জন্য।
বাহ! আমার পড়া একুয়া রেজিয়ার লিখা প্রথম বই ছিল এটা। প্রথম বইয়ের পরই উনি আমার প্রিয় লেখকের খাতায় নাম লিখিয়ে নিলেন। প্রতিটা গল্প এতটা সুন্দর আর বাস্তবধর্মী ছিল যে পড়ার সময় মনে হচ্ছিল যে প্রতিটি চরিত্রই হয়তো আমি, বা আমার পাশের মেয়েটি/ছেলেটি। আর সাথে উনার লিখার ধরণ এতটা অসাধারণ যে, ডুবে গিয়েছি পুরো।