How to study effectively and learn anything quickly.
ভূমিকা পড়াশোনায় ভালো করতে কে না চায়? আর পড়াশোনা করা কেবল আমাদের শিক্ষাজীবনেরই অংশ নয়; বরং সারাজীবনই আমরা কাজের প্রয়োজনে অথবা অন্য কোনো দরকারে কিছু না কিছু শিখে থাকি বা শেখার চেষ্টা করি। এই চেষ্টায় কেউ সফল হয়, কেউ আবার পারে না। কারও জন্য পড়াশোনা করা, ভালো ফলাফল করা, ভালো করে কিছু শেখা খুব সহজ কাজ। আবার কারও জন্য এটা খুবই কঠিন একটা কাজ। কিন্তু কেন? মেধা? মেধা একটা ব্যাপার বটে, কিন্তু একমাত্র ব্যাপার না। পড়াশোনা করতে গেলে, কিছু শিখতে গেলে কেবল মেধা নয়, এর সাথে সাথে লাগে কিছু কৌশল জানা। ভালো করে শেখার, মনে রাখার এবং বুঝে-শুনে সেটা কাজে লাগানোর কায়দাকৌশল। এটা যারা জানে, তারা ভালো ছাত্রছাত্রী, অল্প সময়েই পড়া শেষ করে ও শিখে ফেলে তারা পরে পরীক্ষাতেও তা লিখে আসতে পারে, ভালো ফল করে। আর যারা জানে না, তারা অনেক চেষ্টা করেও সে রকম ভালো ফলাফল পায় না। মেধা জন্মগত বটে, কিন্তু গোপন কথাটা বলে দিই, মেধা কিন্তু কারও ভালো শিক্ষার্থী হওয়ার প্রধান নিয়ামক না। অনেকগুলো ফ্যাক্টরের মধ্যে মেধা একটি মাত্র ফ্যাক্টর। এবং সুখবরটা হলো চেষ্টা দিয়ে, কায়দাকৌশল শিখে মেধার কমতিটা পুষিয়ে নেওয়া অবশ্যই সম্ভব।
এই বইটাতে আসলে ভালো করে সঠিক নিয়মে পড়াশোনা করা, কোনো কিছু শেখার কায়দাকৌশল নিয়েই আলোচনা করেছি, আর এই কায়দাগুলোর নাম দিয়েছি বিদ্যাকৌশল। ভালো ছাত্ররা এই বিদ্যাকৌশল জানে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা এই কৌশলগুলো অন্যদের জানাতে চায় না, অথবা মেধার চেয়ে এই বিদ্যাকৌশলের জোরেই যে তারা ভালো ফলাফল করছে, পাচ্ছে সাফল্য, সেটা তারা জানে না। বইটি লেখার উদ্দেশ্যই হলো সবার জন্য এই পড়ালেখায় ভালো করার কৌশলগুলো গুছিয়ে তুলে ধরা। আমি নিজে শিক্ষাবিশেষজ্ঞ নই। তবে বিনয়ের সাথে বলতে চাই, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আমি নিজে ভালো ফলাফল করার সাথে সাথে প্রচুর ভালো ছাত্রছাত্রীর সাথে পড়েছি। এখন শিক্ষক হিসেবে অনেক সময়েই ভালো শিক্ষার্থীদের খুব কাছ থেকে দেখছি। এ বইটি তার ভিত্তিতেই লেখা।
বইটা কাদের জন্য? বিদ্যাকৌশল বইটি আসলে সব রকমের শিক্ষার্থীর জন্যই লেখা। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়— সব পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাই এ বইটি পড়ে উপকৃত হবেন বলে আমার বিশ্বাস। শুধু তা-ই নয়, যারা এখন শিক্ষার্থী নন, কিন্তু চাকরি বা অন্য দরকারে কিছু শিখতে চান দ্রুত এবং কার্যকরভাবে, তাদের জন্যও এ বইটিতে আলোচিত বিদ্যাকৌশল কাজে আসবে। এই বইটা কীভাবে পড়বেন?
বইটির শুরুতে আলোচনা করা হয়েছে পড়াশোনার মোটিভেশন আনা এবং সঠিক নিয়মে পড়ালেখা করার গুরুত্ব নিয়ে একনজরে কিছু পরামর্শ দিয়ে। এরপর পড়াশোনা করার প্রস্তুতি পর্বে বলা হয়েছে পড়ার পরিবেশ ও মোক্ষম সময় নিয়ে। শ্রেণিকক্ষে বা লেকচার শুনতে গিয়ে কীভাবে ক্লাসনোট তুলবেন ও এ থেকে উপকৃত হবেন, তা আলোচনা করার পরে শেখার নানা কায়দা, দ্রুত লিখন ও পঠন এবং দ্রুত কোনো কিছু পড়ে বোঝার ওপরে এবং পড়া মনে রাখার ওপরে বেশ কিছু কৌশল উপস্থাপন করেছি। পড়াশোনায় ভালো করতে গেলে মানসিক স্থিরতা এবং মনোযোগ বাড়ানোর বিকল্প নাই, পরের কয়েকটি অধ্যায়ে তা-ই আলোচিত হয়েছে। পরীক্ষার প্রস্তুতির ওপরে বেশ কয়েকটি অধ্যায়ে পরীক্ষার জন্য গুছিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া এবং পরীক্ষার আগে, পরীক্ষার দিনে ও পরে কী করতে হবে, তা বলেছি। সবশেষে বলা হয়েছে আলসেমি থেকে বাঁচা এবং হতাশা কাটিয়ে পরীক্ষা-ভীতিকে জয় করে এগিয়ে যাওয়ার কিছু পরামর্শ। বইটি শেষ করেছি অভিভাবকদের জন্য কিছু পরামর্শ দিয়ে।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষক হিসেবে নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত আছি সেই পাঁচ বছর বয়স থেকে। আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাই, তাদের কাজে আমার অপরিসীম ঋণ, যা কখনোই শোধ হবে না। আশা করি এই বইটির মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন, পড়াশোনা করতে, নতুন কিছু জানতে ও শিখতে পারবেন সাফল্যের সাথে। সব শিক্ষার্থীর প্রতি রইল শুভকামনা। বিদ্যাকৌশলের প্রয়োগ সফল হোক আপনাদের জীবনে।
সূ চি * ভূমিকা * বিদ্যাকৌশল: পড়ালেখায় ভালো করা কি শেখার বিষয় * পড়ার মোটিভেশন * ভালো ছাত্র হবার পরিকল্পনা * ভালো করে পড়া ও বোঝা * সঠিক নিয়মে লেখাপড়া * পড়ার প্রস্তুতি: পরিবেশ ও সময় * পড়ার পরিবেশ * পড়ার মোক্ষম সময় কোনটা * শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা লাভ * শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা: কীভাবে লেকচার শুনবেন ও অংশ নিবেন * ক্লাসনোট লেখার গুরুত্ব * কী করে ফাটাফাটি ক্লাস নোট তুলবেন * বিদ্যাকৌশল: পড়ার ও শেখার নানা কার্যকর কায়দা * শেখার নানা কায়দা * গ্রুপ স্টাডি * নানারকমের বিষয় পড়ার মোক্ষম উপায় * দ্রুতপঠন: কী করে দ্রুত পড়বেন * দ্রুতলিখন: কী করে লিখবেন দ্রুত * দ্রুত পড়ে বোঝা ও শেখার উপায়: তিনটি কার্যকর পদ্ধতি * মনে রাখার সহজ উপায় * মনে রাখার কিছু সহজ পরামর্শ * মন বসানো মনোযোগ বাড়ানো এবং গুছিয়ে পরিকল্পনা করা * পড়ায় মন বসানো * মানসিক স্থিরতা, আবেগকে বশে আনা * পড়া ভালো লাগানোর উপায় * মনোযোগ বাড়ানোর কৌশল * পরিকল্পনার পরি, দিশাহারার দিশা আর ঘুম আনয়ক নাকেতেলগরিদম * পোমডরো টেকনিক * পরিকল্পনা, নয় শুধু কল্পনা: পরিকল্পনা করার কার্যকর পদ্ধতি * পরীক্ষা পরীক্ষা পরীক্ষা * পরীক্ষা পরীক্ষা পরীক্ষা * পরীক্ষায় ভালো করার উপায় * পরীক্ষার প্রস্তুতি * মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতি * পরীক্ষা প্রস্তুতির পাঁচ দিনের পরিকল্পনা * পরীক্ষা প্রস্তুতির এক দিনের পরিকল্পনা * পরীক্ষার পূর্বরাত্রি * পরীক্ষার দিন * ‘দেখায়া দিব’ সিনড্রোম থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় * পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে কী করবেন * ছুটির সময়কে কাজে মোক্ষমভাবে লাগানো * পড়ার আনুষঙ্গিক বিষয় * পড়ালেখা ও পার্টটাইম কাজ বা টিউশনি একসাথে চালানো * আলসেমি হতে বাঁচবেন কীভাবে? * হতাশা কাটানো বা আত্মবিশ্বাস বাড়ানো * পরীক্ষাভীতি বা নার্ভাসনেস কাটানো * পড়াশোনায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার * অভিভা...
সত্যি বলতে কি খুব একটা ভাল লাগে নি। এত কিছু চিন্তা করে কিংবা এত হিসাব নিকাশ করে কি ভাল স্টুডেন্ট হতে হয়? হয়তোবা। আর এই কারনেই আমি সারা জীবন খারাপ স্টুডেন্টের তালিকার উপরের দিকে থেকে যাব। যে বইটা চোখে আংগুল দিয়ে দেখায় দিল আমি খারাপ স্টুডেন্ট ,শুধু যে খারাপ সেটাই না ভাল হইতে হইলে কত্ত কিছু করতে হয় সেটাকে কিভাবে পছন্দ করি? :P
Ata sob chintashil student der jonno kaje dibe. Kolpona ke kaje lagia biggan joy korte ar bikolpo nai. Sathe interesting bisoy holo ovibhabok der jonno upodesh . Sob sese bolbo darun hoyche sob school porua der ai boi deya uchit.
Fantastic book with lots of helpful advice. The writer does not waste time with unnecessary information. He writes everything in a straightforward and blunt fashion, which sometimes result in humour. The chapters are very concise, with a maximum of four pages. The information provided is sound and logical. The author treats the reader with respect and provides words of encouragement. One should apply the information from the book for proper results, it is not magic. Nothing will be achieved without hard work. Success will follow those who work for it iA.
During his student life Ragib Hasan happened to be a star student. In his book, Bidyakoushol he wrote about some of the popular and helpful techniques to do well as a student. In fact, what I found more interesting is he shared some of his own experiences. And students can take note from those events. However, I think students are in class 6- 10 might reap the most from this book. Saying that anyone can read this book. It is written very lucidly.
ভালো ছাত্র হতে আমরা কে না চায়? সবাই ভালো ছাত্র হতে চাই। গঁদ বাধা নিয়ম বা অনেক Rule's এর মধ্য দিয়ে কেউ ভালো ছাত্র হয়ে উঠে কি না, বা ভালো ছাত্র রা সবাই ভালো ছাত্র হবার নিয়ম মেনে ভালো ছাত্র হয়েছেন কি না, এটা নিয়ে অবশ্য পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি তর্ক করা যেতে পারে কিন্তু যদি সত্যিই কিছু কৌশল ভালো ছাত্র হবার পথকে সুগম করে তাহলে তা মন্দের ভালো নয়, আসলেই বেপার টা ভালো।
আমার কাছে বিদ্যাকৌশল এমনই একটা বই মনে হয়েছে। পড়লে হয়তো রাতারাতি সবাই ভালো ছাত্র হয়ে যাবেন না, তবে কিছু উপকার তো পাবেনই, এটা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়।
লেখক, কিভাবে ক্লাসের জন্য প্রস্তুত হবেন? ক্লাসের নোট কেমন হওয়া উচিৎ? বাসায় পড়াশোনা কিভাবে বেশি করা যায়? লেখায় দক্ষ হবার জন্য কি করা যেতে পারে? দ্রুত কোনোকিছু শেখা ফেলার জন্য করণীয় কি? পরীক্ষা ও ভাইবা ইত্যাদি পড়াশোনা ও পড়াশোনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে ভালো করার দারুণ সব কার্যকর পন্থা আলোচনা করেছেন।
উদাহরণস্বরূপ দুটি টেকনিক বলা যাকঃ
♥ দ্রুত পড়া পড়ে ফেলার কৌশল হলো #SQ3R
S = Survey (চোখ বুলানো) Q = Question (প্রশ্ন বের করা) R = Reading (পড়া পড়া এবং পড়া) R = Recite ( মুখে বলা, বই বন্ধ করে পড়া দেওয়া) R = Review (সামারি লিখে ফেলা)
পড়া, পড়ে ফেলার পর, নিজের পড়া নিজে ধরার জন্য মোবাইলে রেকর্ড করে শুনা খুব উপকারী। তারপর তা লিখে ফেলতে হবে। কথায় আছে না ১০ বার পড়া ১ বার লিখার সমান।
♥ ৫ দিনের প্রস্তুতিঃ
১. কতটুকু সিলেবাস বা কতটুকু অংশ পড়বেন তা ভালোভাবে দেখে, সম্পূর্ণ অংশ কে ৪ ভাগে ভাগ করুন।
২. নিয়ম মেনে অবশ্যই প্রথম দিনের অংশ পড়ে শেষ করুন, পড়ুন, না দেখে বলুন, লিখুন, নোট করুন। পরীক্ষার আগের পাঁচ দিন হলে পড়ার পর রিভিউ লিখে প্রস্তুতি নিন।
৩. দ্বিতীয় দিনের পড়া শেষ হবার পর, প্রথম দিনের পড়া ১ ঘন্টা রিভিশন করুন।
৪. তৃতীয় দিনের পড়া শেষে, দ্বিতীয় দিনের পড়া ১ ঘন্টা ও প্রথম দিনের পড়া ৪৫ মিনিট রিভিশন করুন।
৫. চতুর্থ দিনের পড়া শেষে, তৃতীয় দিনের পড়া ১ঘন্টা, ২য় দিনের পড়া ৪৫ মিনিট ও ১ম দিনের পড়া ৩০ মিনিট রিভিশন করুন।
৬. পঞ্চম দিন সম্পূর্ণ টা রিভিশন করে লিখে প্রস্তুতি শেষ করুন।
এই ভাবে পড়লে পড়া দীর্ঘস্থায়ী হয়। পরীক্ষার আগের পাঁচ দিন হলেও খুব কাজে আসে।
এমনই অসাধারণ কিছু কৌশল এবং ভালো কিছু কার্যকর পন্থা সত্যি কাজে লাগবার মত। বইটিতে দারুণ সব ট্রিকস এর পাশাপাশি বেশ কার্যকরী কিছু চেকলিস্ট দেয়া আছে, চেকলিস্ট গুলো আমার বেশ দরকারি মনে হয়েছে।
রাগিব হাসান,লেখক হিসেবে সেরা। একাডেমিক পড়াশোনায় উন্নতির বিভিন্ন টপিক নিয়ে আলোচনা করেছে এই বইতে। তার বইতেই প্রথম পমোডোরো কৌশল এর সাথে পরিচয় হয়েছিলাম। অল-অভার সেরা একটা বই।
বইটা সেলফ-হেল্প টাইপের। পড়াশোনায় ভালো করার টিপস এন্ড ট্রিকস নিয়ে লেখা। লেখক বুয়েটে ছিলেন, বুয়েটের শিক্ষক হয়েছিলেন সম্ভবত। এখন আমেরিকা প্রবাসী। নিজের ছাত্রজীবনে কী কী নিয়ম ফলো করতেন সেগুলাও উঠে আসছে।
পড়াশোনার কিছু থিওরি/টেকনিক , PQRST , KWL, Pomodoro সম্পর্কে জানলাম। এই অংশটুকু ভালো ছিলো। আর বাকি টেকনিক গুলা যেমনঃ নোট করা, বিরতি নিয়ে পড়া এগুলা আসলে চর্বিতচর্বণ।
আহারে, এই বই আগে পাইলে আজ রেজাল্ট কতই না ভালো থাকত! :p
আমার ভিতরের Ravenclaw এই টাইপের বই দেখলে বেশ অফেন্ডেড ফিল করে। এরকম 'উদ্দেশ্যযুক্ত' পড়াশোনার ব্যাপারটা কখনোই ভালো লাগেনাই। আর পড়াশোনা করতে সেলফ হেল্প বই এর দ্বারস্থ হওয়া সিস্টেমের এক বিশাল গলদের দিকেই নির্দেশ করে। -_-
বাংলিশের ব্যবহার, কিছু জায়গায় প্রিন্টিং মিস্টেক খুব বিরক্ত লাগসে।
বইটি পড়ছিলাম আর আফসোস করছিলাম আরও পাঁচটা বছর আগে যদি বইটা পড়তে পারতাম। অনেক উপকারে আসত। যাই হোক, পড়ুয়া ভাইবোনদেরকে বলবো, আপনাদের ছোট ভাইবোনদের হাতে বইটি তুলে দিন সময় থাকতেই।
বিদ্যাকৌশল(লেখাপড়ায় সাফল্যের সহজ ফরমুলা)" কেমন ধারার বই বলবো বুঝতে পারছি না। মোটিভেশনাল বই তো হেডিং দেখেই বোঝা যায় কিন্তু চিরাচরিত শিক্ষাব্যবস্থা আমরা যা করি কিংবা ইচ্ছাকৃত ভাবে যা করি না তা নিয়ে তিনি লিখেছেন বইটি। একটা বিরাজ সত্য হচ্ছে, বই পড়েও কেউ তা অনুসরণ করবে না! কারণ এগুলো সবার জানা কিন্তু পালন করার সময় ব্যবস্থা নেই।
তিনি অনেক কৌশল উল্লেখ্য করেছেন, যা শুনতে ভালো লাগে; আয়ত্ত করা কঠিন ব্যাপার। ছাত্রজীবনে নিজ���কে সুসংগঠিত করার বিভিন্ন দিক ও উপায় তিনি উল্লেখ করেছেন। পড়ালেখা কারোই ভালো লাগে না, হয়তো এই কৌশল যদি কেউ প্রয়োগ করতে পারে তাদের উপকার��ই আসবে। কিন্তু আমাদের সমস্যা হচ্ছে, এক কাঁন দিয়ে শুনে অন্য কাঁন দিয়ে বের করে দেওয়া। এই বইয়ের উপদেশ গুলো তেমনি!
তিনি পড়ালেখার বিভিন্ন ধাপ ভেঙ্গে ভেঙ্গে কীভাবে উন্নতি করা যায়, তার বিষয়বস্তু তুলে ধরেছেন। এই বিষয় গুলো আমাদের কমবেশ সবার জানা গন্ডির মধ্যে পড়ে তবে পালন করার তাগিদটা মানুষ সহজে নিজের মাঝে নিতে পারে না। পড়ার প্রস্তুতি, শ্রেণীকক্ষ শিক্ষা লাভ, পড়ার টেবিলে মন বসানো, পরীক্ষার সময়ে করণীয়, পড়ার সাথে আনুষঙ্গিক বিষয় গুলো খুব কৌশলে তিনি বর্ণনা করেছেন।
কিছু জায়গায় নতুনত্ব খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ধান ভানতে শিবের গান গাওয়ার মতো। যেমন, পড়ালেখার মাঝে গ্যাপ, দ্রতু লেখার কৌশল কিংবা পড়ার জন্য করণীয় কাজ গুলো অতি ছিঁছকাদুনে লাগে। তবে তিনি যে ঢং এ বলেছেন তা অসাধারণ।
বিদ্যাকৌশলঃলেখাপড়ায় সাফল্যের সহজ ফরমুলা বুক মিভিউঃ আদর্শ প্রকাশনী থেকে রাগিব আহসানের লিখিত এই বইটি ছাত্র ছাত্রী গবেষক যারা পড়তে চান , পড়া শুরু করতে চান তাদের জন্য পাথেয়। বইতে অনেকগুলো কৌশল ও অনেকগুলো চালাকি বলা চলে লেখক উল্লেখ করেছেন। যেমন আমি যেটা আগে থেকেই প্রয়োগ করি সেটা হলো পোমোডোরো টেকনিক। আগে তেমন নামটা জানতাম না আরকি। এই তত্ত্ব অনুযায়ী মানুষের মস্তিষ্ক ১৫-২৫ মিনিটের বেশি অপ্রিয় জিনিসের প্রতি মনোযোগ দিয়ে রাখতে পারেনা। পেইন দিতে শুরু করে। সেক্ষেত্রে মস্তিষ্কের সাথে চালাকি করার বুদ্ধি হল পড়ার সময়কেই ১৫-২৫ মিনিটে নিয়ে আসা, পরে ৫ মিনিট ব্রেক। এতে যেমন সময়ের সঠিক ব্যবহার হয়, সাথে সাথে তাড়াতাড়ি পড়া হয়ে যাবার কারনে পরে খেলার সময় পাওয়া যায়। আর আরেকটি পদ্ধতি হল সামনে একটা পুরস্কার ঝুলিয়ে রাখা পদ্ধতি-যে SSC তে ভালো করলে কম্পিউটার, HSC তে ভালো করলে মোবাইল সেট। যেটা আমার ক্ষেত্রে ছিল আরকি। এরচেয়েও ভালো আজকে ভালোমত পড়লে চিপস খাব, ২০ মিনিটে পড়লে চুইংগাম খাব। এরকম পুরস্কার দিতে শিখা। এরকম আরো অসাম অসাম আইডিয়া, মনোযোগের পদ্ধতি, পরীক্ষার আগের রাত্রে কি করব, কি করবনা দুর্দান্ত পরামর্শ দিয়েছেন লেখক। আর অনলাইনে শিক্ষক ডট কমে এই লেখকেরই কিছু লেকচার আছে, বুক টিউবিং পড়তে পারেন ইউটিউবে তাতে বইটি সম্পর্কে আরো আইডিয়া পাবেন। মোটকথায় যারা আগ্রহী তাদের পড়াকে আরো কার্যকরী করবার জন্য তাদের জন্য অবশ্য অবশ্য পাঠ্য।;
বইটির লেখক রাগিব হাসান ছাত্রজীবনে সাফল্য লাভ করে এবং তার শিক্ষকতার জীবনের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে বইটা লেখা। স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি সকল শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের বইটি কাজে লাগবে।
পড়াশুনার মোটিভেশন, পরীক্ষার প্রস্তুতি, শ্রেনীকক্ষে শিক্ষালাভ, পড়ার পাশাপাশি কিভাবে বাড়তি কাজগুলো ঠিকভাবে করা যায়... আরো অনেক বিষয় বইটা থেকে শিখেছি। 'মুখস্তবিদ্যা'কে না বলে, কিভাবে বিষয়বস্তু বুঝে এবং কল্পনা করে মাথায় রাখা যায়, তা এই বই থেকে শিখেছি।
লেখকের মতে, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ট্যালেন্টের মধ্যে আলাদা থাকে না। বরং তাদেরকে আলাদা করে শিক্ষালাভের কৌশল, যা হলো 'বিদ্যাকৌশল'। একজন ছাত্র ভালো হবার মূল কারন হচ্ছে, সে বিদ্যাকৌশলগুলো আয়ত্তে এনে ফেলেছে, হোক সেটা জেনে শুনে অথবা অজান্তেই।
কৌশলগুলো প্রয়োগ করে আমিও পরিবর্তন দেখতে পেয়েছি। বইটা সব ছাত্রছাত্রীদের পড়া উচিত।