টেনিদা, ঘনাদা, পিন্ডিদা গোত্রের চরিত্র পটলা। তবে দাদাদের বয়স বেশি আর পটলার কম, ১৬ হয়েছে কি হয়নি। পঞ্চপাণ্ডব ক্লাবের কাণ্ডারি পটলা। আর ক্লাবের সবাই স্কুলপড়ুয়া। তাদের নানা কীর্তিকলাপ নিয়েই শক্তিপদ রাজগুরুর পটলার গল্প। এবং অনেকগুলো গল্পের সমষ্টি এই দুই খণ্ডের বই।
পটলা ও পঞ্চপাণ্ডব ক্লাব নিয়ে রচিত এই গল্পগুলো লঘু। টেনিদা নানা বয়সের পাঠকের জন্য হলেও পটলা কিশোরপাঠ্য। কিন্তু উপভোগ্য। পাড়ার দুই ক্লাবের মধ্যে গণ্ডগোল থেকে আরম্ভ করে বহু দূর বরযাত্রী হয়ে গিয়ে রাতের অন্ধকারে জায়গা চিনতে ভুল করার বিপত্তির গল্প আছে। তারপর আছে পাহাড়, জঙ্গলে গিয়ে চোরাকারবারিদের সঙ্গে লড়াই হওয়ার গল্প। কাকাবাবুর ভাইবও দেয়।
দীর্ঘ জীবন পেয়েছিলেন শক্তিপদ রাজগুরু। লিখেছেনও অনেক। পটলার অনেক গল্প এই গত দশকে লেখা। ফলে ইন্টারনেট রেভলুশন হয়ে যাওয়ার পরও পটলাদের পাড়ার কীর্তিতে ভাঁটা পড়তে দেননি রাজগুরু। তবে গল্পগুলো আগের মতো আর জমছিল না। সেই সঙ্গে আরেকটা সমস্যা গুরুতর, প্রায় প্রতিটা গল্পে পটলা আর পঞ্চপাণ্ডব ক্লাবের ইট্রোডাকশন। পটলা বড় বাড়ির ছেলে, তার দিদিমা কথায় কথায় ক্লাবে টাকা দেন এই তথ্য প্রায় প্রতিটা গল্পেই আছে। লেখকরা নানা সময় এসব গল্প নানা পত্রিকায় লিখেছেন। ফলে এককভাবে প্রতি গল্পে হয়ত এই সূচনা-পরিচিতির প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সমগ্রে জিনিসগুলো বাহুল্য হয়ে পড়ে।
তবু, পটলা এই জনরার বেশ ভালো গল্প। উপভোগ করার মতো। এটাই বড় কথা।