বইটা নিয়ে যে অভিযোগ শুনেছি তার মধ্যে অন্যতম হলো - এত অল্প বয়সেই আত্মজীবনী লেখা! বইটাকে আমার ঠিক সেই অর্থে আত্মজীবনী মনে হয়নি। প্রীতি তাঁর জীবনের টুকরো টুকরো স্মৃতি লিখেছেন, যা তাঁকে প্রভাবিত করেছে এবং তা ঠিক আত্মজীবনীর ফরম্যাটে নয়। প্রতিটি অধ্যায়ের একটি করে শিরোনাম রয়েছে, তার ভিতরের গল্পটা কোনোভাবেই ক্রনিকল নয়। এটা বেশ ভালো লেগেছে।
সবচেয়ে যেটা ভালো লেগেছে তা হলো অনেককিছুতেই আবেগ বর্জন করে ঘটনার বর্ণনা করতে পেরেছে, যদিও পুরো বইয়েই তাঁর আবেগ খুবই স্পষ্ট।
প্রীতি অনেক অল্প বয়স থেকে লেখালেখি ও শিল্পকলার লোকদের সাথে বেড়ে উঠেছেন। ফলে তাঁর জীবনে আসলে অনেক কিছুই বলার আছে, যেটা আমাদের অনেকেরই নেই। শুধু তাঁদের সাথে বেড়ে ওঠাই নয়, নিজেও খুব অল্প বয়সে শিল্প-সাহিত্যে পা দিয়েছেন। সেদিক দিয়ে উনিশ বসন্ত তাঁর লেখক হয়ে ওঠার গল্পও।
বইটা ও দারুণ লিখেছে, আমার কাছে এত্ত ছোট বয়সে এত্ত পরিণত লেখা দেখে অনেক ভাল লাগছে। বইটা পড়ে মনে হয়েছে, ও জীবনে যা চেয়েছে, ঈশ্বর দু হাত ভরে তাকে দিয়েছে, কোনই ঘাটতি রাখে নাই বলতে গেলে ! এইজন্যেই কি বইটার নাম উনিশ বসন্ত, তাই মনে হচ্ছে ! পুরোটা জীবন জুড়েই তার বসন্ত। অসম্ভব সব প্রভিতাবান মানুষের সান্নিধ্য সে পেয়েছে, এটা তার বিরাট প্লাস পয়েণ্ট। যা ওর চলার পথকে সুগম করেছে। ওর ব্যর্থতা বলতে শুধু ৩টা প্রেমে পরা এবং সেইখান থেকে ছাড়াছাড়িটাই ধরা যায়...
আরো দারুণ দারুণ লেখা চাই Prity এর কাছ থেকে। শুভ কামনা।