বারেক কালিয়ান, বাংলাদেশের অতি বিখ্যাত চিত্রকর, যার চিত্রকর্ম বিক্রি হয় মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারে। বিদেশযাত্রার কারণে শহরের বাইরে অবস্থিত চিত্রকরের ফাঁকা বাড়িতে (পুরোপুরি ফাঁকা নয় অবশ্য) হানা দিয়ে চিত্রকর্ম চুরির পরিকল্পনা করে একটা দল। দলের সদস্যরা একেকজন একেকদিকে চৌকষ, কেউ বুদ্ধিতে, কেউ তালা খোলার এক্সপার্ট, কেউ মারামারিতে ওস্তাদ। পরিকল্পনা অনুযায়ী বারেক কালিয়ানের বাড়িতে ঢুকে পড়ে তারা, এবং অনুমিতভাবেই অপ্রত্যাশিত সব ঘটনার মুখোমুখি হয়। তবে লক্ষ্য থেকে ফেরত আসে না তারা, বরং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনে তারা। মূলত এখান থেকেই গল্পের শুরু।
গল্পে গতি আছে, টানা পড়ে ফেলা যায়। ফাইনাল ট্যুইস্টের আগে আরও অনেকগুলো ছোট ছোট অনেকগুলো ট্যুইস্ট ছিল, বেশ ভাল ছিল সেগুলো। 'ট্যুইস্ট আসছে' অনুমান করা গেলেও ট্যুইস্টের ধরনটা বোঝা যায়নি। মজার ব্যাপার হলো, ছোট ছোট ট্যুইস্টগুলো সেভাবে প্রেডিক্ট করতে না পারলেও ফাইনাল ট্যুইস্টটা বইয়ের শুরুর দিকেই প্রেডিক্ট করে ফেলেছিলাম, কাজেই যতটা ধাক্কা খাওয়ার কথা ততটা খাইনি। ছোট পরিসরে হলেও ক্যারেক্টারগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি করার চেষ্টা করেছেন, এতে চরিত্রগুলো বুঝতে সুবিধা হয়েছে। তবে আরও ডিটেইলে কাজ করার সুযোগ ছিল। মাঝে মাঝে টেনশন রিলিফ হিসেবে বিভিন্ন চরিত্রের মুখ দিয়ে বের হওয়া মজার সংলাপ আছে, উদ্দেশ্য সফল হলেও, অনেক ক্ষেত্রেই ঠিক ওই নির্দিস্ট চরিত্রসুলভ হয়নি সংলাপগুলো । স্টোরিলাইনের ক্ষেত্রেও একই কথা, কাহিনির মূল বিষয়ই প্ল্যানিং, বিভিন্ন দল এবং ব্যক্তির একাধিক ছোট-বড় প্ল্যান, পর ফাইনালি একটা মাস্টারপ্ল্যান। প্ল্যানিংএর এক্সিকিউশনের বর্ননা বেশ ডিটেইলেই এসেছে। পাশাপাশি প্ল্যানিংএর খুঁটিনাটি আরও ডিটেইলে পাওয়া গেলে ভাল লাগতো। বইটা ১৪৪ পেজেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে, এমন বাধ্যবাধকতা নিশ্চয়ই ছিল না। এছাড়া, উপেক্ষা করা যায়, এরকম ছোটখাট আরও কিছু অসঙ্গতি চোখে পড়েছে। সব মিলিয়ে মন্দ ছিল না মাস্টারপ্ল্যান। তবে, ভালর কোন শেষ নেই যেহেতু, আরও ভাল আশা করা যেতেই পারে:)