উপন্যাসটা কেনার পেছনের ঘটনাটা বলি। বইমেলায় আমার চতুর্থ দিন। স্টল থেকে স্টলে ঘুরছি। আমি বইমেলায় লিস্ট করে কোন বই কিনিনা, কারণ সারাবছর তো পছন্দ করেই কেনা হয়। মেলায় যদি নতুন কিছু পেয়ে যাই? যাইহোক, ঘুরতে ঘুরতে একটা স্টলে "সিনেমা হলের গলি" নামটা দেখে চোখ আটকে গেল। ফ্ল্যাপের কথা আর প্রথম পাতাটা পড়েও মনে ধরলল বইটা। কিনে ফেললাম। খারাপ লাগেনি পড়তে, তবে এটাকে উপন্যাস বলা যাবে না কোন ভাবেই। বরং তিনটা ছোটগল্পের সংকলন বলা যায়। আশফাক(শুরুতে ব্যর্থ প্রেমিক - শেষে সফল), বজলু(সপ্তাহে ৬ দিন নাইটগার্ড, একদিন চোর) আর রিয়াদ(মা'কে খুঁজে বেড়ানোই যার কাজ) - এই তিনজনের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে বইটা লেখা । লেখকের লেখায় জড়তা নেই, পড়তে ভালো লাগে। একদম ছোট ছোট অধ্যায়গুলোর বর্ণনা ভঙ্গীটাও ভালো ছিল। কিন্তু হতাশ হয়েছি, কারণ কোন পরিণতি নেই। ভেবেছিলাম তিনটা গল্প হয়ত একই সুতায় মিলবে, কিন্তু সেরকম কিছুই নেই। এরকম বই থেকে পরিপূর্ণ এন্ডিং আশাও করা যায় না । কিন্তু তবুও মনে হচ্ছিল যে লেখক কিছুটা হলেও প্রতারণা করছেন পাঠকদের সাথে । নামকরণ এরও তেমন স্বার্থকতা নেই। পড়ে দেখতে পারেন এই হালকা কাহিনীর বইটা দুইটা গুরুগম্ভীর বই এর মাঝে। :)
ইশতিয়াক আহমেদ এর লেখা সিনেমা হলের গলি বইটা সন্ধ্যায় শেষ করেছিলাম। কয়েকটা মানুষের গল্প, তাদের জীবনের কাহিনী, যারা বেড়ে উঠেছে সিনেমা হলের গলিতে, তাদেরকে নিয়েই মূলত উপন্যাসটা... বইটার রিভিউ ঠিক কিভাবে দেয়া যাবে , তা-ই ভাবতেছি। গুচ্ছ গুচ্ছ ঘটনা, চরিত্রকে পুঞ্জি করে এগিয়ে গেছে উপন্যাসটা। শেষ পর্যন্ত কি হবে, কি হবে, এমন একটা টান ছিল। এটা লেখকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলা চলে। তবে বইটা শেষ করে মনে হলো, চায়ে মনে হয় চিনিটা একটু কম হয়েছে। কিংবা হয়তোবা চিনি কম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্যে ভাল, তাই উনি চিনি কম তথা শেষ হয়েও হলো না, এমন একটা আবেশ রেখে গেছেন...
এই লেখাটা নিয়ে একটু বেশিই আশাবাদী ছিলাম । অন্তত গতবার তার আদর্শলিপি পড়ার পরে মনে হয়েছিল এই বইটাও নিশ্চয়ই ভাল হবে । আশা পূরন না হলেও বলবো যে একেবারে নিরাশ করে নি লেখক । যদিও লম্বা কাহিনী তবে কাহিনীটা তিনটি গল্পের সমন্বয় মনে হয়েছে । তিনজন আলাদা আলাদা মানুষের গল্প । খুব সাধারন তিনজন মানুষ । তিনজনের সাথে তিনজনের কোন সম্পর্ক নেই । বইটার এই জিনিসটাই আমার একটু ভাল লাগে নি ।
একজন বৈচিত্রহীন নাইট গার্ড জীবন যে নিজের জীবনে খানিকটা উত্তেজনা আনতে নিয়ম করে প্রতি শনিবার চুরি করতে যান । আরেকটা গল্পে দুই ভাই যে কিনা সৎমায়ের কাছে মানুষ । যাদের মনে ধারনা ছিল যে মা মানেই মনে হয় তাদের সৎমায়ের মত । কিন্তু একদিন জানতে পারে যে তাদের আসল মা এখনও জীবিত আছে তখন থেকেই বড় ভাই তাদের মাকে খুজা শুরু করে । নানার কবরের কাছে বসে থাকে এই আশায় যে যদি কোন দিন তার মা তার নানার কবরে আসে তার একটা সময়ে একটা ক্লু পেয়ে যায় । এগিয়ে চলে কাহনী ।
তিন নাম্বার কাহিনী হচ্ছে এক যুবকের যে ভালবাসে এক মেয়েকে কিন্তু সে মেয়ে তাকে মোটেই পাত্তা দেয় না । তারপর হঠাৎ করেই যুবকের ফোনে আসে প্রাণনাসের হুমকি ! সেটা জানতে পেরেই মেয়ের খানিকটা মায়া হয় যুবকের জন্য । তবে কাহিনী এখানে অন্য দিকে মোড় নেয় ।
এই মোটামুটি তিনটা কাহিনী । কাহিনীতে প্রবাহ ভাল, পড়তে বিরক্ত লাগে নি । তবে একে বারে পূর্ন সন্তুষ্টিও আসে নি ।