সহজ কথায় বাচ্চাকে কিভাবে বড় করবেন এই বইয়ে সেটাই আছে। তারমানে এই না যে, এই বয়সে এটা খাওয়াবেন, ওটা খাওয়ানো যাবেনা, তা বলা হয়নি। মানবিকতার কথা বলা হয়েছে এখানে।
সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা হলেও তাসনীমের শিশুপালন সিরিজের সাথে এটার তুলনা করবো। তাসনীম যেখানে নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এক-একটা পার্ট লিখেছেন সেখানে তামান্না লিখেছেন গাইড বই স্টাইলে, উপদেশের ভঙ্গিতে, অনেকটা ধার নেয়া স্টাইলে। উনি বলেছেন তাঁর নিজের ছেলে (পালনে)র অভিজ্ঞতা এই বইয়ের সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে, কিন্তু বইয়ে তো তার ছাপ দেখি না। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা এটা করবেন, এভাবে করবেন, ব্লা, ব্লা।
বইয়ের দ্বিতীয় অংশ হচ্ছে পেডোফিলিয়া নিয়ে। ফ্ল্যাপে আছে, রাহনুমার লেখাটা উনাকে বেশ সাহায্য করেছে বইটা লিখতে। কিন্তু কথা হচ্ছে আপনি উনার থেকে কতটুকে নিলেন আর কতটুকু নিজে লিখলেন? যেটা করেছেন সেটা হচ্ছে সংক্ষিপ্তাকারে কপি করে পেইস্ট করে দিয়েছেন।
অতএব, বলতে হয়, আরো সময় নিয়ে, অনেক যত্ন করে যদি বইটা লিখা হত তবে সেটা চমৎকার হত নিঃসন্দেহে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রকাশণীর নামটা খুব সুন্দর। পাললিক সৌরভ।
এই বইটি মূলত লেখা বাবা-মায়ের জন্য, যাতে তারা তাদের শিশুদের সঠিক ভাবে গড়ে তুলতে পারেন। বাবা মায়েরা সাধারণত যেসব ভুল গুলো করে থাকেন,সেসব নিয়ে চমৎকার ভাবে আলোকপাত করা হয়েছে এখানে। চমৎকার ভাবে সহজ ভাষায় লেখিকা আমাদের সমাজের অসঙ্গতি গুলো দেখিয়েছেন, যা কোন ভাবে যাতে একটা শিশুর সাথে না ঘটে সে বিষয়ে বাবা মায়ের দৃষ্টি রাখতে বলেছেন।
তাছাড়াও,একটা রোগের কথা বলা হয়েছে। যা প্রত্যককের জানা খুব দরকার। এটা না জানার ফলে আমাদের দেশে শিশু ধর্ষন সহ নানান ধরনের শিশু অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। তাই এসব বিষয়ে বাবা মাকে সচেতন হওয়া দরকার। আর এই বই তাদের সচেতন হতে এবং শিশুকে মানসিক ভাবে সুস্থ করে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।