ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে চমকে উঠল বাংলাদেশের মানুষ। কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণে ছড়িয়ে পড়ল আতঙ্ক। আটঘাঁট বেঁধে মাঠে নামল সবগুলো গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদিকে দুবাইয়ে একটি গোপন মিটিংয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে কুটিল পরিকল্পনা তৈরি করল দুজন ব্যক্তি। নাম-পরিচয়হীন একজন মানুষ তাদের নির্দেশে ছদ্মবেশে প্রবেশ করল বাংলাদেশে। হাতে করে নিয়ে এসেছে এক ভয়ঙ্কর মিশন যা বদলে দেবে দেশটির ভাগ্য। ইউরোপ জুড়ে সিআইএ এক অদৃশ্য সিন্ডিকেটের খোঁজে হন্যে হয়ে বেড়াচ্ছে। এই অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী চক্রটি ধীরে ধীরে গ্রাস করে নিচ্ছে বিশ্বকে। সিআইএ তদন্ত চালিয়ে জানতে পারল বাংলাদেশের উপর এগিয়ে আসছে এক ভয়ঙ্কর দুর্যোগ। ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবিলায় শেষ পর্যন্ত এগিয়ে আসতে হল আমিন চৌধুরীকে। তার সাথে যোগ দিল চার দেয়ালের মাঝে আটকে যাওয়া শাফাত রায়হান এবং একদল তুখোড় মানুষ।
Javed Rasin (Bengali: জাবেদ রাসিন) is a Bangladeshi poet & fiction writer. He was born in Mymensingh but has raised in Dhaka from childhood. Javed completed his graduation & post-graduation in law from the University of Dhaka. He likes the charm of prosody and playing with words which fits into poetry. Shunno Pother Opekkhay (শূন্য পথের অপেক্ষায়) was his maiden published poetry.
Also the world of fiction, especially thriller & horror fiction fascinated him and he started writing in this genre. His first published thriller fiction novel was Blackgate (ব্ল্যাকগেট), co-authored with Tarim Fuad. His other works are horror novel Tomisra (তমিস্রা) & conspiracy novel Circle (সার্কেল). He continued to produce poetry and to work on fiction novels.
নির্বাচিত তরুণ প্রধানমন্ত্রী আর তাকে ঘিরে থাকা বিশ্বাসভাজন মুখোশধারী—এদের সূত্রে আল কায়েদার উত্থান—দেশের মধ্যে জঙ্গি-ঘোষিত আত্মঘাতী হামলা—বিদেশি কালো হাতের প্রবেশ—এই হামলাকে সামনে রেখে পেছনে বড় এক পরিকল্পনা... পরিশেষে সকল চক্রান্ত ভেস্তে দিতে দুঃসাহসী এক সাবেক এজেন্টের জীবনবাজি রাখা অপারেশন।
▪️▪️▪️
প্রথম বই থেকে শাফাত রায়হানের চেয়ে আমিন চৌধুরীর চরিত্রই আমাকে বেশি আকর্ষণ করেছিল। অজানা কারণে শাফাতকে নায়ক হিসেবে পছন্দ করতে পারছি না। এই বইয়ে তাই ভিলেন আনামের দিকে নজর দিলাম বেশি, কিন্তু তার এত চুপচাপ পরিণতিতে মন খারাপ হয়ে গেছে। আর একটা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র–জন হিউস্টন। ম্যালকম নামক এজেন্ট এই হিউস্টনের 'সবচেয়ে কালো অধ্যায়ের' কোনসব তথ্য নিয়ে পালিয়েছিল তা জানতে উৎসুক হলেও উত্তর মেলেনি এই বইয়ে।
আশা করছি, পরের বই আরো জমবে। কারণ সবাই যখন সব ঘটনা সামলে কাহিনীর মুখ বন্ধ করল, তখনই নায়কের ফোন বেজে উঠল এবং একটি ভারি কণ্ঠের "হ্যালো।" ......
অনেক বানান এবং বাক্য বিন্যাসে (ধর তার দেহ থেকে আলাদা হয়ে গেল) ভুল ছিল। এমনিতে বেশ। মোটামুটি সুলিখিত। ৩.৮
আমার একটা বদ অভ্যাস আছে। আমি যখন প্রচন্ড ব্যস্ত থাকি, ব্যস্ততার মাঝে বই পড়ার জন্য সময় খুঁজে বের করি, তখন কোন বই একটানা পড়ি না। হাতের কাছে ৪/৫ বই থাকে, কিছুক্ষণ এটা কিছুক্ষণ ওটা এরকম করে সব মিলিয়ে ঝুলিয়ে পড়ি। এতে আমার ব্যক্তিগত কিছু সুবিধা হয়, যেমন- কোন কাহিনীর মাঝে ডুবে থাকি না, সাসপেন্সের মাঝামাঝিতে হঠাৎ করে উঠে যেতে হলে খুব একটা আফসোস লাগে না। তাছাড়া লেখকদের মাঝেও তুলনা করতে সুবিধা হয়- কার লেখনী ভাল, কাল লেখায় গভীরতা বেশি, কে বেশি টুইস্ট দিতে পছন্দ করে, আর কে শুধুমাত্র জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে লিখে যাচ্ছে! যদি খুব প্রিয় লেখকের বই না হয় কিংবা যদি কোন বইয়ের ব্যাপারে আগে থেকেই মারাত্মক রকমের ভাল কোন রেপুটেশন না পেয়ে থাকি তাহলে এই নিয়মের ব্যত্যয় সাধারণত ঘটাই না।
জাবেদ রাসিন ও তাকরীম ফুয়াদের সার্কেল যখন আমার হাতে আসে তখন পড়ছিলাম মিনিমালিস্ট, ড্রাগোমির, ফিনিক্স আর আঁধারের যাত্রী। সার্কেল হাতে পাওয়ার পর সব কয়টি বন্ধ রেখে রুদ্ধশ্বাসে এটা পড়ে শেষ করি। কারণ, প্রথম শাফাত রায়হান সিরিজের প্রথম পর্ব ব্ল্যাকগেইট পড়ে এই দুই লেখকের এতই ভক্ত হয়ে গিয়েছিলাম যে সিরিজের দ্বিতীয় বই পড়ার জন্য অপেক্ষা করার মত ধৈর্য ছিল না।
প্রথম পর্বটা অন্য একটা বইয়ের ছায়াবলম্বনে লেখা হলেও দ্বিতীয় পর্বটি ছিল সম্পূর্ণ মৌলিক। এবং প্রথম পর্বের শেষ যেখানে ঠিক সেখান থেকেই দ্বিতীয় পর্বের শুরু। বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলো হঠাৎ করেই একটা ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে- দেশে আল-কায়দা আসছে... এবং নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতেই বেশ বড়সড় দুটো হামলাও করে তারা। এদিকে বৈশ্বিক গোপন একটি সংঘটন বাংলাদেশের সিলেট সীমান্তে পাওয়া যাওয়া ইউরিয়ামের খনি হাত করতে ব্যর্থ হয়ে সিদ্ধান্ত নেয় প্রধানমন্ত্রীকে খুন করবে। সেই লক্ষ্যে তারা একজন মাস্টার এসাসিনও পাঠায়। দুটো গ্রুপের একসাথে সক্রিয় হয়ে উঠা কি নিছক কোন কাকতাল নাকি দুটোই গভীর কোন চক্রান্তের অংশ?
দূর্দান্ত একটা স্পাই থ্রিলার ছিল সার্কেল। ভাল লেগেছে খুব। মাঝখানে কিছু কিছু জায়গায় কাহিনীর ফ্লো কিছুটা হয়ত থেমে গিয়েছিল। কিন্তু সেটা পড়তে খুব একটা সমস্যার সৃষ্টি করেনি। আশার কথা হচ্ছে বাতিঘরের এডিটিং এবং প্রুপ রিডিংয়ের মান যথেষ্ট উন্নত হয়েছে। অল্পকিছু প্রিন্টিং মিসটেক ছাড়া মারাত্মক কোন ভুল ধরা পড়েনি। এটা অবশ্যই একটা ভাল খবর। বইয়ের শেষদিকে নতুন সিক্যুয়েলের আভাসটা খুব ভাল মতই ছিল। আশা করছি তাড়াতাড়িই হাতে পাবো সেটা।
প্রচুর পড়াশোনা করে লেখা হয়েছে এই বইটি। ফলে এস্পিওনাজ তথা রাজনীতির ধূসর জগতের সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিতে লেখকদের কোনো অসুবিধে হয়নি। মুশকিল হল, পলিটিক্যাল থ্রিলারের মূল চালিকা হিসেবে একটি মহাশক্তিধর গোপন সংগঠনকে দেখালেই বইয়ের গল্প বহু-ব্যবহৃত একটা ছকে পড়ে যায়। এই বইটিতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ফলে গল্পে চরিত্ররা নানা ট্যুইস্ট দেখে চমকে উঠলেও আমার কাছে সেগুলো প্রত্যাশিতই ছিল। তবে হ্যাঁ, এই বইটি আগের বইয়ের তুলনায় সুলিখিত। এর কাহিনিতেও মৌলিকত্ব বলতে কিছুই নেই। তবু, বাংলায় এইরকম ছোট্ট ছোট্ট পা ফেলতে-ফেলতেই একদিন শাফাত রায়হান জ্যাক রায়ান হয়ে উঠবে - এই আশা রাখি।
বেশিদিন হয়নি ট্রিলজির প্রথম বই ব্ল্যাকগেট পড়েছি। এরই মাঝে সার্কেল পড়ে ফেললাম। আর এবার লেখকদ্বয় দারুণ চমকে দেবার মতো কাজ দেখিয়েছেন!
সার্কেল কী? সার্কেল হলো একটি সংগঠন, যা বিভিন্ন দেশের মাঝে প্রভাব বিস্তার করার পাশাপাশি জঙ্গিদের অর্থায়নে কাজ করছে। তাদের আরেকটা বড় কাজ হলো, পারমাণবিক শক্তির জোগান দেয়া। আর এরই ধারায় তাদের নজর পরে বাংলাদেশের জৈন্তাপুরের ইউরেনিয়াম।
কিন্তু বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বাইরের কাউকে এই সম্পদ হস্তগত করতে নারাজ। তাই তার কাছর লোকজনদের নিয়ে করা হয় গুপ্তহত্যার অভিনব এক পরিকল্পনা!
প্রচুর পরিমাণ হোমওয়ার্ক করতে হয়েছে লেখকদের। প্রথম বই থেকে লেখার মানও উন্নত হয়েছে। শাফাত রায়হান ক্যারেক্টারকেও আাগের থেকে পরিণত মনে হয়েছে। পুরো বইয়ে নিয়মিত বিরতিতে টুইস্ট দিয়েছেন। গতি ভালো। ঝুলে গিয়েছে এমন মনে হয়নি।
কয়েকটা টাইমলাইন একসাথে চলেছে। কিন্তু সময়মতো সব খোলাসা করা হয়েছে। এলোমেলো বা তারাহুরো চোখে পরেনি।
তবে, বইটির সাথে ফ্রেডারিক ফরসাইথ-এর 'দ্য ডে অব দি জ্যাকেল' এর ছায়া দেখেছি। বিশেষ করে 'নাম পরিচয়হীন' চরিত্রটির সাথে!
সব মিলিয়ে বেশ ভালো লেগেছে। এসপানিওজ থৃলার খুব একটা পড়া হয়না। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এমন 'বিশ্বাসযোগ্য' বই সত্যিই চমৎকার।
সার্কেল ট্রিলজি�� দ্বিতীয় পার্ট এটি৷ আগের বইয়ের প্লট ম্যাড়মেড়ে মনে হলেও এবার তা হয়নি। লেখক অনেক বেশী ম্যাচুরিটি লাভ করেছেন বলেই মনে হল৷ পজিটিভ দিক হচ্ছে গল্পের ব্যাপ্তি। অনেকদিক টাচ করেই গল্পটা এগিয়ে গেছে৷ শুরু দ্য ডে অফ দি জ্যাকেলের অনুরুপ মনে হয়েছে৷ পরে দিয়ে দেখলাম সেটা মিল শুধু এদ্দুরই। বাকি অংশ বাংলাদেশের সাথে মিলিয়েই করা৷ বিশ্বাসঘাতক হিসেবে যাকে অনুমান করেছিলাম সেটা অবশ্য মিলে গিয়েছে৷ শেষ দিকে ব্যাপক ধুন্দুমার আশা করলেও ঠিক সেভাবে মিলে নাই। বাট মূল কথা হল শাফাত রায়হান আর আমিন চৌধুরি আর ব্যাক ইন একশন।
শাফাত রায়হান সিরিজের প্রথম বই বের হয় গত বছরের বইমেলাতে। বেশ আলোড়নই ফেলেছিল তখনকার সময়ে। ব্রড পিট অভিনিত ‘স্পাই গেম’ মুভির দুর্দান্ত এডাপশন ছিল সেই ব্ল্যাকগেট । চারিদিকে যখন মিষ্ট্রি ,ফ্যান্টাসির জয় জয়াকার ঠিক তখনই এই দুজন লেখক আমাদের চেখে দেখার সুযোগ করে দেন এস্পিয়নাজ থ্রিলারের স্বাদ। আগের বইটি পড়েই মুলত আমি আগ্রহী হয়েছিলাম তার সিক্যুয়েল সার্কেল পড়ার জন্য। বই মেলাতে বাগানো হলেও এতদিন পড়ার ফুরসুতই মিলে নি। তাই পহেলা বৈশাখের ছুটিতে বইটা পড়ে শেষ করে ফেললাম ।
শুরুতেই প্রশ্ন আসে গল্পটি কার???
এ গল্প একজন রক্তের স্বাদ পাওয়া বাঘের যে কিনা নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে চার দেয়ালের মাঝেই, ডিজিএফআই এর স্কারলেট নামের নামে খ্যাত শাফাত রায়হানের যাকে এখন আর ফিল্ড মিশনে পাওয়া যায় না পাওয়া যায় ডাটা এ্যানালাইসিস বিভাগের ছোট্ট কেবিন টিতে ।
এ গল্প একজন দেশ প্রেমীর।ডি জি এফ আই এর প্রাক্তন চিফ আমিন চৌধুরীর।
বর্তমান ডি জি এফ আই এর ডিজি মহসীন আলীর ।
এক জন আদর্শ দেশ প্রেমী প্রধান মন্ত্রীর ।
এক জন নামহীন মাস্টার এসাসিনের গল্পও বলা যায় । যার সাথে আগেই ক্ষোভ রয়েছে তার জন্মভুমির ।
এই গল্প একটি মাইনিং কম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রনজিত সিং এর ।
আর কার????
সার্কেল নামের এক সিন্ডিকেটের যারা কিনা শুধু ক্ষমতা চায় শুধুই ক্ষমতা। আর তাইতো এদের কাছে আল-কায়েদা কিংবা একজন দেশের প্রধান মন্ত্রীর প্রানের মুল্য দাবার বোর্ডের একটি বড়ের চাইতে বেশী নয়।
প্লট হিসেবে খারাপ না সার্কেল। চরিত্র গুলোর প্রেক্ষাপট ও ছিল বেশ ভালো । কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় অনেক ভালো কিছু একেবারে মাঠে মারা যায় শুধু মাত্র ভালো প্রেজেন্টেশনের অভাবে।আর বেশী এক্সপেকটেশন বলেও একটা কথা থেকে যায় আবার।
বইয়ের মুল চরিত্র শাফাতের চরিত্র একেবারে ফিকে লেগেছে ব্ল্যাকগেটের চেয়ে।এটা কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। বইটা যেহেতু পুরোপুরিই এস্পিওনাজ থ্রিলার তাই একশনের মাত্রা টা একটু বেশীই আশা করেছিলাম। সব চেয়ে উইক লেগেছে ভাষার গঠন। পাঠককে টেনে রাখার মতো বলা না কোনো মতেই ।
আর যদি আসি টুইষ্টের কথায়। একটু মনোযোগ দিয়ে পড়লেই একেবারে ঠিক ভাবেই ধরা যাবে কালপ্রিটকে । লেখকদ্বয়ের আরেকটু মনোযোগ আশা করেছিলাম এই ব্যাপারে। অন্তুত ব্ল্যাক গেটের পড়ার পর এই দাবীটা যে কেউ ই করতে পারে।
ব্ল্যাক গেটের পর জানতাম না এটার সিকোয়েল হবে । কিন্তু সার্কেলের শেষাংশে এসে প্রিকুয়েলের যে আভাস উনারা দিয়েছেন তাতে মনে হয়েছে লেখক দ্বয়ের আগ্রহ সিরিজের দুই নাম্বার বইয়ের চাইতে তিন নাম্বার বইয়ের দিকেই বেশী রয়েছিল। তবে সে যাইহোক, যদি ঠিক ঠাক ভাবে এই দুই লেখক নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারে তবে বাতিঘরের আলোচিত সিরিজ হিসেবে শাফাত সিরিজ যে একটি বেশ ভালো ধরনের সিরিজ হতে যাচ্ছে তা আর বলার অপেক্ষাই রাখে না ।
Wow! It came as a shock to me. Only second book of the "Circle" series, but it has proved its potentiality. A complete collaboration of DGFI, RAB, Army and so on was never seen on a Bangladeshi thriller. It was also great to have some knowledge about those intelligence agencies and their activities. Including the demolition of extremist activities throughout the country was a plus point also. But it was not free from some weak plots. One could have easily guessed from the circumstances, who could be the main culprit behind extremist activities. I didn't find out any lead protagonist throughout the book. It was like a complete hotchpotch of characters doing things in different circumstances and at the end, the clues were glued together. The previous book "Blackgate" introduced us with "Shafayet Jamil", whom we find here lifeless and monotonous. So many characters from different organizations have sometimes made it hard to follow, but a reader can live with that. Expected much brutality from the antagonist. He was passionate, aggressive, cunning. But not uncontrollable energy. If that was so, we may found Shafayet much more active in the book.
সিলেট-ভারত সীমান্তে ইউরেনিয়াম পাওয়া গেছে, যা পৃথিবীতে অন্য সাধারণ ইউরেনিয়ামের চেয়েও বেশি বিশুদ্ধ। সেই ইউরেনিয়াম তোলার প্রস্তাব দেয় ভারতীয় এক কোম্পানী, কিন্তু তার আড়ালে রয়েছে এক গুপ্তসংগঠন যার অস্তিত্ব গোপন কিন্তু বিস্তার পুরো পৃথিবী জুড়ে। ইউরেনিয়াম তোলায় বাদ সাধেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। যার ফলে প্রধানমন্ত্রীর খুব কাছের মানুষকে হাত করে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করতে থাকে তারা। এইদিকে দেশের স্থিতিশীল অবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তোলে আল কায়েদা, নতুন করে আত্মপ্রকাশ করে নিজেদের। হামলা করে প্রধানমন্ত্রীর ওপর, অল্পের জন্য বেঁচে যান তিনি। কিন্তু এটাই শেষ নয়, মাঠে নামে এনএসআই, র্যাব সহ নিরাপত্তাকর্মীরা। কি হবে এরপর... থ্রিলার হিসেবে এটা ভালো ছিলো। পাঠককে পুরোটা সময় ধরে রাখবে এই বইটি। কিন্তু সেই পুরনো স্টাইল, একটি গুপ্ত সংগঠনকে দেখিয়ে টুইস্ট বানানো। টুইস্টটা প্রায় সবারই ধরে ফেলার কথা...
বইয়ের নামঃ সার্কেল লেখকঃ জাবেদ রাসিন ও তাকরীম ফুয়াদ বইয়ের ধরণঃ থ্রিলার/রোমাঞ্চপন্যাস প্রকাশকালঃ একুশে বইমেলা ২০১৬ প্রকাশনীঃ বাতিঘর প্রকাশনী পৃষ্ঠাঃ ২৭২ মূল্যঃ ২৬০ টাকা সার-সংক্ষেপঃ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে চমকে উঠল বাংলাদেশের মানুষ। কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণে ছড়িয়ে পড়ল আতঙ্ক। আটঘাঁট বেঁধে মাঠে নামল সবগুলো গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদিকে দুবাইয়ে একটি গোপন মিটিংয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে কুটিল পরিকল্পনা তৈরি করল দুজন ব্যক্তি। নাম-পরিচয়হীন একজন মানুষ তাদের নির্দেশে ছদ্মবেশে প্রবেশ করল বাংলাদেশে। হাতে করে নিয়ে এসেছে এক ভয়ঙ্কর মিশন যা বদলে দেবে দেশটির ভাগ্য। ইউরোপ জুড়ে সিআইএ এক অদৃশ্য সিন্ডিকেটের খোঁজে হন্যে হয়ে বেড়াচ্ছে। এই অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী চক্রটি ধীরে ধীরে গ্রাস করে নিচ্ছে বিশ্বকে। সিআইএ তদন্ত চালিয়ে জানতে পারল বাংলাদেশের উপর এগিয়ে আসছে এক ভয়ঙ্কর দুর্যোগ। ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবিলায় শেষ পর্যন্ত এগিয়ে আসতে হল আমিন চৌধুরীকে। তার সাথে যোগ দিল চার দেয়ালের মাঝে আটকে যাওয়া একজন এবং একদল তুখোড় মানুষ। পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ টেররিজম বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম বড় হুমকি। প্রথম প্রথম এটি মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা কিছু দেশে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে এশিয়াতেও এটির বড় রকমের প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারতের তাজমহল হোটেল, বাংলাদেশের গুলশান হামলা সেই ঘটনারই সাক্ষ্য দেয়! আলোচ্য উপন্যাসের গল্প এগিয়ে গেছে সেই রকমই একটি কাহ��নিকে ঘিরেই। গল্পের প্রথমেই দেখা যায় একজন টেরোরিস্ট নিজেকে আল-কায়দার লোক দাবী করে ছড়িয়ে দিয়েছে একটি ভিডিও। সেই সাথে বোমা হামলা! ব্যাস! গোটা দেশের গোয়েন্দা সংস্থা লেগে গেল সেই ভিডিওর মালিককে খুঁজতে। শুরু হলো এক অদৃশ্য যুদ্ধ! অন্যদিকে হঠাৎ বাংলাদেশে সিআইএ'র আগমন। পলাতক এক আসামীকে খুঁজতে এসেছে তারা। আবার আরো একদিকে চলছে আরো এক ষড়যন্ত্র। যা বাস্তবায়নে দেশে ঢুকলো নাম পরিচয়হীন দুজন লোক। তাদের কাজ খুন করা। তাদের নেক্সট টার্গেট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী! সবমিলিয়ে বেশ ভালোই রোমাঞ্চকর প্লট ফেঁদেছেন লেখক জাবেদ রাসিন ও তাকরীম ফুয়াদ। এর আগে তাদের একত্রে লেখা প্রথম উপন্যাস ব্ল্যাকগেট বেশ ভালোই পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় সার্কেল তাদের ২য় বই। আলোচ্য উপন্যাসের বেশ কিছু জায়গা আমার খুব ভালো লেগেছে। যেমন... ১. গল্পের প্লটটা বেশ ভিন্ন ও বাস্তব। বিশেষ করে বর্তমানে দেশের সমসাময়িক ঘটনাবলির সাথে কিছুটা মিল পাওয়া যায় যা পাঠকের বেশ পছন্দ হবে। ২. এই সিরিজের প্রথম উপন্যাস ব্ল্যাকগেট'এর লেখনির থেকে এই উপন্যাসে লেখনির মান বেশ উন্নত হয়েছে। এর আগের বইটিতে দুজনের লেখার ধরণ আলাদা হওয়ায় পাঠকের চোখেও কিছুটা গল্পের গতি পরিবর্তন ধরা পড়েছিল। তবে এবার সেটি হয়নি। পাঠক খুব সহজেই প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত গল্পে ঢুকে থাকতে পারবেন! ৩. গল্পে টুইস্ট ছিল ভালো ৪. গল্পের প্রধান নায়ক শাফাত রায়হানের চরিত্রায়নটা আগের থেকে কিছুটা পরিণত মনে হয়েছে যা বেশ ইতিবাচক! ৫. গল্পটি তথাকথিত স্পাই থ্রিলার থেকে বেশ আলাদা ও বাস্তবভিত্তিক! তবে গল্পের কিছু জায়গা আমার খারাপও লেগেছে। যেমন... ১. উপন্যাসের মাঝামাঝিতে কাহিনী কিছুটা স্লো হয়ে গেছে। ২. গল্পের কিছু কিছু চমকের জায়গা প্রেডিক্টেবল হয়ে গিয়েছে। ৩. গল্পে মহসীন আলীর চরিত্রটা কিছুটা অপ্রয়োজনীয় লেগেছে। এটা ছাড়াও উপন্যাসটা ভালো ভাবেই চালিয়ে নেওয়া যেত। ৪. আনাম চরিত্রটি আরো একটু স্ট্রং হতে পারতো। ভিলেন চরিত্র হিসেবে এটিকে নিয়ে আরো কাজ করা সম্ভব ছিল। সিরিয়াল কিলার হিসেবে তাকে খুব নরমাল লেগেছে! ৫. গল্পের ক্লাইম্যাক্সে আরো মশলা থাকা উচিত ছিল। আরো উত্তেজনাপূর্ণ হতে পারতো শেষের দিকটা! তবে সবকিছুর পরেও গল্পটির ফিনিশিং বেশ ভালো লেগেছে! বোঝা যায়, লেখকদ্বয়ের হাত পেকেছে! আর হ্যাঁ! বাতিঘরের বই তো, তাই বইয়ের বাঁধাই, প্রিন্ট, দাম সবই বেশ আকর্ষণীয়। বিশেষ করে প্রচ্ছদটা খুব সুন্দর হয়েছে। সে জন্য শিল্পী সুজন ভাইকে জানাই অভিনন্দন! তবে আমার ধারণা, বইটির প্রচ্ছদ শিল্পী লেখক জাবেদ রাসিন ভাই স্বয়ং। কারণ তার ডাক নাম সুজন! :) সবশেষে এটাই বলবো, বইটি পড়ে দেখুন! ভালো লাগবে! ধন্যবাদ! হ্যাপি রিডিং! :)
গল্প গতানুগতিক, 'দ্য ডে অব দি জ্যাকেল' আর আজকালকার স্পাই থ্রিলারের টিপিক্যাল উপাদানে বানানো। তবে 'ব্ল্যাকগেট' এর মতো সরাসরি কোনো বিদেশি কাহিনী অবলম্বনে নয় বলে, বাংলাদেশে এর আত্তীকরণটা বেশ ভালো হয়েছে। আর স্টোরিটেলিং এর ক্ষেত্রে 'সার্কেল' এ আগের বইটার মতো জড়তা নেই। বেশ ইমপ্রুভ করেছেন লেখকদ্বয়। ফলে বইটা বেশ উপভোগ্য আর থ্রিলিং হয়েছে। আর লেখকদ্বয় বরাবরের মতো কাহিনির জন্য বেশ রিসার্চ করেছেন। আর সেইসব তথ্য উপস্থাপনা এই বইয়ে খুব ভালোভাবে করা হয়েছে, আগেরটার মতো জোড় করে ঢোকানো হয় নি।
তবে এই বইয়ের চরিত্রায়ন তেমন একটা ভালো না, কোনো চরিত্রই তেমন বিকশিত হয় নি। শুধু ভিলেইন আনামের চরিত্রায়ন ভালো লেগেছে। 'দ্য জ্যাকেল' এর ছায়াতে চরিত্রটিকে বানানো হলেও আলাদা করে ভালো লেগেছে তার অরিজিন স্টোরিটা। অবশ্য এই ধরণের স্পাই থ্রিলার বইয়ে গল্প আর গতিই প্রাধান্য পাই, চরিত্র চাপা পরে যায়। আর লেখনীতে এখনো জড়তা আছে বেশ কিছু। অন্যদিকে, বইয়ের প্রথম ২০০ পৃষ্ঠায় গল্প বেশ ধীরে সুস্থে সুন্দরভাবে আগালেও, এরপরের ঘটনাগুলো কেমন জানি হুট করে ঘটে যাচ্ছিল। সেগুলোও একটু ধীরে সুস্থে বর্ণীত হলে ভালো হতো।
যাইহোক, 'সার্কেল' একটা উপভোগ্য স্পাই থ্রিলার বই। গল্পটা সুন্দর ক্লিফ হ্যাঙ্গারের সাথে শেষ হয়েছে। আশা করি পরবর্তী বই 'ডগমা' আরো ভালো হবে।
📚 বইয়ের নাম : সার্কেল
📚 লেখক : জাবেদ রাসিন, তাকরীম ফুয়াদ
📚 বইয়ের ধরণ : স্পাই থ্রিলার, মিলিটারি থ্রিলার, কন্সপিরেসি থ্রিলার
অনেক কিছুই বলার ছিলো। এ মূহুর্তে বড়ো কোন রিভিউ লিখতে মন চাচ্ছে না।
শুধু এটা বলি- লেখকদ্বয় যেনো সিরিজটা কন্টিনিউ করে। লেখনি ছিলো একটা পারফেক্ট এসপিওনাজ থ্রিলারের মতোই। তবে কাহিনীতে শাখা প্রশাখা বেশি জন্মে গেছে বলে ছিলার মতো টানটান ছিলো।না মাঝখানে। তবে এই শাখা প্রশাখা প্রমান করে লেখকদ্বয় অনেকদিক চিন্তা ভাবনা করে গল্প এগিয়েছেন। এটাও একটা মুন্সিয়ানা। আমাদের অনেক মৌলিক লেখকদেরই এই গুনটা দেখি না। তাদের বইয়ে কাহিনীর ফ্লো একটা নির্দিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলে, নির্দিষ্ট ঘটনাতেই বই শেষ হয়। কাহিনীর প্রয়োজনে গল্পে শাখা প্রশাখার বিস্তার কমই দেখা যায়। আমি বোধহয় ব্যাপারটা ঠিক বোঝাতে পারলাম না। যাইহোক,সার্কেল পড়লেই বুঝতে পারবেন।
বইয়ের কেন্দ্রীয় চরিত্রে শাফাতকে নিষ্প্রভ লেগেছে। এটা হতাশ করেছে। তার ভূমিকা আরো শক্তিশালী হওয়া উচিত ছিলো। তাছাড়া এসপিওনাজ থ্রিলার হিসেবে ফিল্ড একশন একটু বেশিই আশা করেছিলাম।
তবে সে যাইহোক, আমি বলে দিতে পারি এই।সিরিজ কন্টিনিউ হলে বাতিঘরের অন্যতম সেরা সিরিজ হবে। জনপ্রিয়তায় জেফরি-বাস্টার্ড সিরিজের সাথেও টক্কর দেবে ভবিষ্যতে। থ্রিলার বই লিখনি এবং উপস্থাপনায় এই লেখকদ্বয় বাতিঘরের বেস্ট রাইটার্স।
সিরিজের ১ম বইতে যেসব ভুলের দেখা পেয়েছিলাম ২য় বইতে সেসব অনেকাংশেই শুধরে নিয়েছেন লেখকদ্বয়। কাহিনী নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই ; বাস্তবতার সাথে মিল রেখে, এরকম চমৎকার ক্রাইসিস ডেভেলপমেন্ট বাস্তবিকই প্রশংসনীয়৷ এস্পিওনাজ এবং কমব্যাটের বর্ণনাগুলোও ভাল ছিল (সেগুলো আগের বইতেও মন্দ ছিলনা অবশ্য)। অন্যতম ভালোলাগার দিকটি হল, কাহিনীটি বর্ণনা করা হয়েছে একাধিক দৃষ্টিকোণ থেকে, নায়কের পাশাপাশি ভিলেনের ব্যাকস্টোরি উঠে এসেছে, তাতে ভাল-মন্দের মধ্যেকার গ্রে এরিয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে ভালোভাবে৷ ভাগ্যের সামান্য ফারাক হলেই কাহিনীর একজন মস্তবড় ভিলেন হয়ত হতে পারত নায়কদের একজন, এ বিষয়টিও মনকে নাড়া দিয়েছে। ৪.২/৫
বহুদিন পর বোধ হয় এত ভাল স্পাই থ্রিলার পড়লাম। মাসুদ রানা সিরিজ বাদেও যে দূর্দান্ত মৌলিক স্পাই থ্রিলার হতে পারে ধারনা ছিল না।এই বই নিয়ে সমলোচনার জায়গা কম।