What do you think?


স্কারলেট
ড. আইভান মেন্ডেস দাবী করছেন তার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা এমন এক অস্ত্রোপচার প্রক্রিয়া আবিস্কার করেছে, যার প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক আয়ু প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কি মানবশরীরে এই প্রক্রিয়া প্রয়োগের অনুমতি দেবে? এদিকে একদল চাইনিজ ফ্যানাটিক উঠে পড়ে লেগেছে তাদের বিরুদ্ধে। হামলা করা হচ্ছে গবেষণাকেন্দ্রে, কিডন্যাপ করা হচ্ছে বিজ্ঞানীদের। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য কি? এই প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য ফিরে যেতে হবে খ্রিষ্টের জন্মের ২০০ বছর পূর্বের প্রাচীন চিনে। কিন ডাইনেস্টির প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট কিন সি হুয়াং মৃত্যুভয়ে ভীত হয়ে পড়েছেন। যাদুকর আংকি সেং তাকে এলিক্সার অফ লাইফের সন্ধান দিল যা পান করলে মানুষ হয় অমর। সম্রাট তার বিশ্বাসভাজন রসায়নবিদ জু ফু’র নেতৃত্বে প্রায় তিন হাজার নর-নারীর একটি দলকে পাঠালেন সেই এলিক্সারের সন্ধানে। কিন্তু বছরের পর বছর চলে গেল, তারা আর ফিরে এল না। কেউ জানে না তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছিল। সমস্ত প্রশ্নের উত্তর জড়িয়ে আছে একটি মেয়ের অস্তিত্বের সাথে। মেয়েটির নাম- স্কারলেট, খুব সাদাসিধে এক তরুণী যে নিজের অজান্তেই ভালবেসে ফেলেছে একজন অভিশপ্ত মানুষকে।
- GenresThriller
160 pages, Hardcover
Published February 20, 2016
About the author
Nazim Ud Daula
27 books152 followersনাজিম উদ দৌলার জন্ম ১৯৯০ সালের ৪ নভেম্বর নানাবাড়ি কেরানীগঞ্জে। পৈত্রিক নিবাস যশোর জেলায় হলেও বেড়ে উঠেছেন ঢাকার আলো বাতাসের মাঝে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে বিবিএ ও এমবিএ শেষ করে বেশ কয়েক বছর বিজ্ঞাপনী সংস্থায় চাকরি করেছেন।বর্তমানে দেশের প্রথম সারির প্রডাকশন হাউজ আলফা আই-এ ক্রিয়েটিভ ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। লেখালেখির চর্চা অনেক দিনের। দীর্ঘসময় ধরে লিখছেন ব্লগ, ফেসবুক সহ বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে। ২০১২ সালে প্রথম গল্প “কবি” প্রকাশিত হয় কালান্তর সাহিত্য সাময়িকীতে। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৫-তে প্রকাশিত হয় তার প্রথম থ্রিলার উপন্যাস “ইনকারনেশন”। একই বছর আগস্টে প্রকাশিত হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার “ব্লাডস্টোন” তাকে এনে দেয় বিপুল পাঠকপ্রিয়তা। এ পর্যন্ত ৬টি থ্রিলার উপন্যাস ও ৩টি গল্পগ্রন্থ লিখেছেন তিনি। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট লেখায় মনোনিবেশ করেছেন। সাম্প্রতিককালে তার চিত্রনাট্যে নির্মিত "সুড়ঙ্গ" সিনেমাটি ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। শান, অপারেশন সুন্দরবন, দামাল, বুকের মধ্যে আগুন, দ্যা সাইলেন্স, লটারি-এর মতো বেশি কিছু আলোচিত সিনেমা ও ওয়েব সিরিজের চিত্রনাট্য লিখেছেন তিনি। অবসর সময় কাটে বইপড়ে, মুভি দেখে আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে। সদালাপী, হাসি খুশি আর মিশুক স্বভাবের এই মানুষটি স্বপ্ন দেখেন একটি সুন্দর বাংলাদেশের, যেখানে প্রত্যেকটি এক হয়ে মানুষ দেশ গড়ার কাজে মন দেবে।
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 13 of 13 reviews
August 28, 2025
সিরিয়াসলি, লেখকের উচিত ফিল্মি স্টাইলটা বাদ দিয়ে লেখার চেষ্টা করা। প্লটটা সুন্দর। শুধু জাস্ট অতিরিক্ত ন্যাকামিতে গল্পটা জমতে পারল না। এইসব ন্যাকামো বাদ দিয়ে যদি গল্পের গাঁথুনিতে আরো বেশি শব্দ খরচ করতেন তাহলে মেবি আরো ভালো হতো। থ্রিলার সূলভ টান টান উত্তেজনা নেই, না থাকলেও সমস্যা ছিল না; যদি চরিত্রগুলোর কর্মকাণ্ড কিংবা সংলাপ এত অদ্ভুত না হতো। হতাশ আসলে। তবে লেখকের পড়াশোনার প্রচেষ্টা ভালো লেগেছে। যতটা পড়েছেন সবটাই জানানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু যথাযথ লিখনশৈলীর অভাবে সেটা ভালো ইমপ্যাক্ট ফেলতে পারল না।
February 19, 2016
সাধারণত কোনো বই অতিরিক্ত ভালো না লাগলে আমি রিভিউ লিখি না। এই বইটা তেমনই। অনেকে ভাবতে পারেনঃ বই বের হলো মাত্র একদিন আগে, এই আদমি এত তাড়াতাড়ি রিভিউ লেখলো কিভাবে? হোয়াট দ্য ফিশ...
আসলে, বইটার এডিটর হিসেবে ওটা সবার আগে আমিই পড়েছি। এবং এটা আমার সৌভাগ্য যে আমি এই বইটা এডিট করতে পেরেছি।
বইটা শুরু হয় খৃষ্টপূর্ব ২২১ সালের কাহিনী দিয়ে—তখন মাত্র চীন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কিন রাজবংশের হাতে। রাজা কিন সি হুয়াংকে—যার উপাধি হুয়াংদী—মাকড়সার জালের ন্যায় আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলল একজন মানুষের সবচেয়ে বড় ভয়টা—মৃত্যুভয়, যার কাছে মাথা নত করতে বাধ্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বীরও।
তিনি মৃত্যুকে দূরে ঠেলে দিতে চাইলেন, আর সেই লক্ষ্যেই তিনি খোঁজ করতে থাকেন অমর হওয়ার মহৌষধের। হুয়াংদী খুব শীঘ্রই জানতে পারেন এক আশ্চর্য পানীয়ের কথা, যার নাম, জিয়ানদান, দ্য এলিক্সার অফ লাইফ। এটি পাওয়া যাবে পূর্ব দিকের কোনো এক অজানা দ্বীপে যেখানে আছে পেংলাই পাহাড়। ওখানেই নিভৃতে অপেক্ষা করে আছে অমরত্বের তরল সুধা, সুযোগ্য হাতে পড়ার আশায়।
কিন্তু জিয়ানদান খুঁজতে গিয়ে ব্যর্থ হলেন সম্রাট। প্রচণ্ড হতাশ হয়ে যখন সব ছেড়েই দিচ্ছিলেন, তখনই আশার আলো হাতে নিয়ে এগিয়ে আসেন মহান রসায়নবিদ জু ফু। তিনি জানান যে তিনি পেংলাই পাহাড়ের সন্ধান জানেন। এবং সেখানে যাওয়ার জন্য তার চাই পাঁচশ লোক এবং দুইশ কুমারী নারী। বিশাল জলযানে করে পেংলাই পাহাড়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন জু ফু।
এরপরেই কাহিনী চলে আসে বর্তমানে, স্কারলেট নামে এক তরুণীর কাছে; আমাদের গল্পের প্রধান প্রটাগনিস্ট সে-ই। এই গল্পটিও তাকেই কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। অতীত এবং বর্তমান, এই দুই ভিন্ন টাইমলাইনের আলাদা দুটো ঘটনা নিয়ে প্রাণভয়ে ভীত হরিণীর বেগে দৌড়ে চলেছে কাহিনী, একটানা।
নাজিম উদ দৌলার থ্রিলার এমনিতেই এজ ইউজুয়াল থ্রিলার থেকে আলাদা হয়। এটা তো আরো ব্যতিক্রম। থ্রিল মানেই যে শুধু মারামারি নয়, এবং ওটা ছাড়াও যে টানটান উত্তেজনার অনুভূতিটা সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে দেয়া যায়, এই থ্রিলটাই তার প্রমাণ। এখানে ফাইটিং সিকোয়েন্স যে নেই, তা নয়, আছে, তবে ফাইটিং এর চেয়ে কাহিনীর গভীরতার দিকেই মনোযোগ বেশি দেয়া হয়েছে।
গল্পটা পড়তে গিয়ে যেটা আবিষ্কার করলাম, সেটা হচ্ছে, নাজিমের লেখার স্টাইল এ অনেক পরিবর্তন এসেছে। তার শব্দ ভাণ্ডার আরো সমৃদ্ধ হয়েছে, বর্ণনাভঙ্গী আরো চমৎকার হয়েছে, এবং উপমা ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে। কিছু-কিছু উপমা তো একদম মনে গিয়ে লাগে—বিশেষ করে রোম্যান্টিক সিনগুলোর বর্ণনাভঙ্গী খুব ভালো লেগেছে আমার কাছে। উদাহরণ দেই একটা। ইয়ে মানে...বাচ্চারা...দূরে গিয়ে কমিক পড়ো...
“...তারপর ঠোঁট জোড়া ঝগড়া শুরু করে, যেন সমস্ত অধিকার বুঝে নেয়ার আগে ক্লান্ত হবে না। একটা সময় আবেশে চোখ বন্ধ হয়ে আসে, ললাটে জমে কয়েক ফোঁটা জলবিন্দু, মনে হয় শরীরে রক্ত বইছে না, টগবগ করে ফুটছে...”
যেহেতু রোম্যান্টিক থ্রিলার, তাই আবেগ অনুভূতির পিলার ধরে নাড়াচাড়া দেয়া হয়েছে এখানে। এই গল্পে শুধু যুগলের প্রেম নয়, আছে এক অসহায় মায়ের শেষ চিঠি যা পড়তে গিয়ে যে কারোই মন বিষণ্ণতায় ভরে উঠবে।
উপন্যাসটা পড়ার সময় এক ধরণের বুনো অনুভূতি হবে—এই অনুভূতির সাথে আপনার পরিচয় নেই, কিন্তু ফিলিংসটা আপনার খুবই ভালো লাগবে, আরো পেতে ইচ্ছে হবে। গল্পটি পড়তে গিয়ে কখনো আপনি সমুদ্রের নোনা জলের গন্ধ পাবেন, কখনো বা প্রেমের সৌরভ আপনাকে ছুঁয়ে যাবে, কখনো একজন অসহায় মায়ের আর্তনাদ আপনাকে বিষণ্ণ করে তুলবে, কখনো বা আপনার মনের ভেতর লুকিয়ে থাকা কষ্টটাকে একটানে বের করে আনবে।
গল্পটির একদম শেষ দিকে গিয়ে অবাক হবেন আপনি; আন্দাজ করেছিলেন একরকম, কিন্তু হয়েছে আরেকরকম। আর মজাটা এখানেই। আগে থেকেই সব বুঝে গেলে মজা থাকে না, পাঠক চায় লেখক এর কাছ থেকে সারপ্রাইজড হতে। আর সেটা পেলেই সে পরিতৃপ্ত হয়। আর এই গল্পে, সেই ব্যাপারটাতে লেখক ভালোভাবেই সফল।
আবেগের কথা বলছিলাম—গল্পের একদম শেষ দিকে গিয়ে সমস্ত আবেগের বাঁধ ভেঙ্গে যাবে। মনে হবে যেন বহু যুগ ধরে বিষন্নতার নদীটাকে জোর করে ধরে রাখা বাঁধটিকে কেউ একজন একটানে খুলে ফেলেছে; বিশালদেহী দানবের ন্যায় ক্রুদ্ধ হুংকার দিতে-দিতে এগিয়ে আসছে সে, স্রোতের তোড়ে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সামনে যা আছে, সবকিছু।
এই অংশটা পড়ে আমি কেঁদেছি, অকপটে স্বীকার করি—হ্যাঁ, ছেলেরাও কাঁদে, তবে সবার সামনে নয়, লুকিয়ে...
হয়তো বা আমার ক্ষেত্রে নদীটার জলরাশির পরিমাণ অনেক-অনেক বেশিই ছিল, তাই এমন হয়েছে...মানুষ বরাবরই স্মৃতিকাতর হয়...
এবার গল্পটির ম্যাকানিজমের দিকে চোখ দেই, অর্থাৎ, লিটারারি ক্রিটিসিজমের দিকে চোখ দিচ্ছি।
পয়েন্ট অফ ভিউ: গল্পটাতে POV হিসেবে কখনো ব্যবহার করা হয়েছে থার্ড পার্সন লিমিটেড, আবার কখনো বা একজন অল নোয়িং অমনিসিয়েন্ট ন্যারেটর ন্যারেট করে গিয়েছেন, বর্ণনা দিয়েছেন এমন কিছুর, যা চরিত্রগুলোর জানার কথা নয়। মানে, মিক্সড ন্যারেটিভ মোড় টেকনিক ব্যবহার করা হয়েছে এই গল্পে।
ব্যাকস্টোরিঃ গল্পটা শুরুই হয় এই ডিভাইসটা দিয়ে।
ম্যাকগাফিনঃ প্রধান ম্যাকগাফিন যথেষ্ট শক্তিশালি। এবং তার কারণেই গল্পটার কাহিনীও বেশ যুক্তিযুক্তভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।
প্লট টুইস্টঃ সাধারণত থ্রিলার গল্প যেমন একের পর এক টুইস্ট ঘটতেই থাকে, এখানে তেমন নয়। এখানে প্রধান টুইস্ট গল্পের শেষের দিকে পাওয়া যাবে, এর আগে টুইস্ট পাওয়া যাবে না তেমন। আর সেই এক টুইস্টেই বুঝে যাবেন যে নাজিম উদ দৌলাকে কেন ‘দ্য মাস্টার অফ টুইস্ট’ বলা হয়। যারা টুইস্টে ভরপুর থ্রিল গল্প পড়তে-পড়তে ক্লান্ত, তাদের এটি অবশ্যই ভালো লাগবে। টেক দ্যট ফর এ চেঞ্জ।
টিকিং ক্লক সিনারিওঃ সাধারণত থ্রিল আর ফ্যান্টাসি গল্পগুলোতে এই ডিভাইসটা থাকে। যেমন ধরেন, পাঁচ দিনের ভেতর পৃথিবী ধংস হতে যাচ্ছে, আপনার হিরোকে এই সময়ের ভেতরেই পৃথিবীকে রক্ষা করতে হবে। এই গল্পে এই ডিভাইসের ব্যবহার নেই। যারা টিকিং ক্লক সিনারিও পড়তে-পড়তে একঘেয়েমিতে আক্রান্ত হয়ছেন, তাদের জন্য এটি অবশ্য পাঠ্য।
ফিগারেটিভ ল্যাঙ্গুয়েজঃ
সিমাইলের ব্যবহার বেশ ভালো, এবং মন ছুঁয়ে গিয়েছে, বিশেষ করে আবেগী জায়গাগুলোতে। মেটাফোর এর ব্যবহার তেমন ছিল না। অনোমেটোপিয়ার ব্যবহার ছিল যায়গামত। পার্সোনিফিকেশান এর ব্যবহার সীমিত আকারে করা হয়েছে। আর হাইপারবোল এর ব্যবহার তেমন ছিল না।
ইমেজারিঃ ইমেজারির ব্যবহার ভালো ছিল। তবে এটা পরবর্তি গল্পে আরো ভালো হবে আশা করি। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের প্রত্যেকটারই ব্যবহার চাই পরেরটাতে।
ফোরশেডোঃ ফোরশেডোর পরিমাণ একটু কম ছিল, কারণ হচ্ছে, গল্পটা টুইস্ট নির্ভর থ্রিল নয়, আগেই বলেছি। তবে যে টুইস্ট ছিল শেষে, ওটা ফোরশেডো করা হয়েছে ঠিকই। তবে ওটা ফোরশেডো করে ঠিকই আবার রেড হারিং এর প্রলেপে ঢেকে দেয়া হয়েছে, যাতে তার প্রকৃত রুপ আপনি বুঝতে না পারেন। যাতে তাকে সময়মত আসল চেহারায় আপনার সামনে উপস্থাপন করা যায়।
রেড হারিংঃ বড় লেখকদের রেড হারিং সব সময়ই মারাত্নক হয়। আর যে যত ভালোভাবে এই ডিভাইসটা ব্যবহার করতে পারে, তার পাঠক মুগ্ধ করার ক্ষমতা তত বেশি। এই গল্পে যেহেতু টুইস্ট কম, তাই রেড হারিংও একদম কম। তবে শেষের টুইস্টটার চারপাশে ভালোভাবেই রেড হারিং এর প্রলেপ দেয়া আছে—ইলেক্ট্রোপ্লেটিং এর মতো করে।
এবার শেষের দিকে কিছু কথা বলি। গল্পটাকে যথাসম্ভব ত্রুটিমুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। লেখকও দিয়েছেন তার সর্বোচ্চ, আর আমিও দিয়েছি আমার সর্বোচ্চ। আমার এখনো মনে পড়ে সেই রাতের কথা, যে রাতে আমি আর লেখক দুইজনেই ভোর সাড়ে পাঁচটা অবধি জেগে ছিলাম; সে লিখে চলছিল একাধারে—যেটুকু শেষ হয়নি, ঐটুকু—আর আমি এডিট করে যাচ্ছিলাম একটানা, রাজ্যের ঘুমকে মধ্যাঙ্গুলি দেখিয়ে। দুই রাত জেগে একটা ১৫৮ পেইজের উপন্যাস এডিট করে প্রেসে পাঠানো চাট্টিখানি কথা নয়—বরং উলটো, বুঝতেই পারছেন। তবে এইটুকু বলতে পারি, আমার এখনো পর্যন্ত করা বেস্ট এডিটিং এটা। এমনকি আমার নিজের উপন্যাসটার চেয়েও এটার এডিটিংকে আমি এগিয়ে রাখবো। তবে এত কিছুর পরেও যদি স্পেলিং মিস্টেক, বা পাংচুয়েশান অথবা স্পেসিং বা এই জাতীয় কোনো ভুল-ত্রুটি থেকে যায়, সেটার দায়ভার আমি নিচ্ছি। তবে ওরকম ভুল থাকার কথা নয়। তারপরও যদি থাকেও, ওটাকে মানবীয় ভুল হিসেবে দেখার আহবান জানাচ্ছি। দিনশেষে আমরাও মানুষ, আমাদেরও ভুল হয়।
আসলে, বইটার এডিটর হিসেবে ওটা সবার আগে আমিই পড়েছি। এবং এটা আমার সৌভাগ্য যে আমি এই বইটা এডিট করতে পেরেছি।
বইটা শুরু হয় খৃষ্টপূর্ব ২২১ সালের কাহিনী দিয়ে—তখন মাত্র চীন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কিন রাজবংশের হাতে। রাজা কিন সি হুয়াংকে—যার উপাধি হুয়াংদী—মাকড়সার জালের ন্যায় আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলল একজন মানুষের সবচেয়ে বড় ভয়টা—মৃত্যুভয়, যার কাছে মাথা নত করতে বাধ্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বীরও।
তিনি মৃত্যুকে দূরে ঠেলে দিতে চাইলেন, আর সেই লক্ষ্যেই তিনি খোঁজ করতে থাকেন অমর হওয়ার মহৌষধের। হুয়াংদী খুব শীঘ্রই জানতে পারেন এক আশ্চর্য পানীয়ের কথা, যার নাম, জিয়ানদান, দ্য এলিক্সার অফ লাইফ। এটি পাওয়া যাবে পূর্ব দিকের কোনো এক অজানা দ্বীপে যেখানে আছে পেংলাই পাহাড়। ওখানেই নিভৃতে অপেক্ষা করে আছে অমরত্বের তরল সুধা, সুযোগ্য হাতে পড়ার আশায়।
কিন্তু জিয়ানদান খুঁজতে গিয়ে ব্যর্থ হলেন সম্রাট। প্রচণ্ড হতাশ হয়ে যখন সব ছেড়েই দিচ্ছিলেন, তখনই আশার আলো হাতে নিয়ে এগিয়ে আসেন মহান রসায়নবিদ জু ফু। তিনি জানান যে তিনি পেংলাই পাহাড়ের সন্ধান জানেন। এবং সেখানে যাওয়ার জন্য তার চাই পাঁচশ লোক এবং দুইশ কুমারী নারী। বিশাল জলযানে করে পেংলাই পাহাড়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন জু ফু।
এরপরেই কাহিনী চলে আসে বর্তমানে, স্কারলেট নামে এক তরুণীর কাছে; আমাদের গল্পের প্রধান প্রটাগনিস্ট সে-ই। এই গল্পটিও তাকেই কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। অতীত এবং বর্তমান, এই দুই ভিন্ন টাইমলাইনের আলাদা দুটো ঘটনা নিয়ে প্রাণভয়ে ভীত হরিণীর বেগে দৌড়ে চলেছে কাহিনী, একটানা।
নাজিম উদ দৌলার থ্রিলার এমনিতেই এজ ইউজুয়াল থ্রিলার থেকে আলাদা হয়। এটা তো আরো ব্যতিক্রম। থ্রিল মানেই যে শুধু মারামারি নয়, এবং ওটা ছাড়াও যে টানটান উত্তেজনার অনুভূতিটা সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে দেয়া যায়, এই থ্রিলটাই তার প্রমাণ। এখানে ফাইটিং সিকোয়েন্স যে নেই, তা নয়, আছে, তবে ফাইটিং এর চেয়ে কাহিনীর গভীরতার দিকেই মনোযোগ বেশি দেয়া হয়েছে।
গল্পটা পড়তে গিয়ে যেটা আবিষ্কার করলাম, সেটা হচ্ছে, নাজিমের লেখার স্টাইল এ অনেক পরিবর্তন এসেছে। তার শব্দ ভাণ্ডার আরো সমৃদ্ধ হয়েছে, বর্ণনাভঙ্গী আরো চমৎকার হয়েছে, এবং উপমা ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে। কিছু-কিছু উপমা তো একদম মনে গিয়ে লাগে—বিশেষ করে রোম্যান্টিক সিনগুলোর বর্ণনাভঙ্গী খুব ভালো লেগেছে আমার কাছে। উদাহরণ দেই একটা। ইয়ে মানে...বাচ্চারা...দূরে গিয়ে কমিক পড়ো...
“...তারপর ঠোঁট জোড়া ঝগড়া শুরু করে, যেন সমস্ত অধিকার বুঝে নেয়ার আগে ক্লান্ত হবে না। একটা সময় আবেশে চোখ বন্ধ হয়ে আসে, ললাটে জমে কয়েক ফোঁটা জলবিন্দু, মনে হয় শরীরে রক্ত বইছে না, টগবগ করে ফুটছে...”
যেহেতু রোম্যান্টিক থ্রিলার, তাই আবেগ অনুভূতির পিলার ধরে নাড়াচাড়া দেয়া হয়েছে এখানে। এই গল্পে শুধু যুগলের প্রেম নয়, আছে এক অসহায় মায়ের শেষ চিঠি যা পড়তে গিয়ে যে কারোই মন বিষণ্ণতায় ভরে উঠবে।
উপন্যাসটা পড়ার সময় এক ধরণের বুনো অনুভূতি হবে—এই অনুভূতির সাথে আপনার পরিচয় নেই, কিন্তু ফিলিংসটা আপনার খুবই ভালো লাগবে, আরো পেতে ইচ্ছে হবে। গল্পটি পড়তে গিয়ে কখনো আপনি সমুদ্রের নোনা জলের গন্ধ পাবেন, কখনো বা প্রেমের সৌরভ আপনাকে ছুঁয়ে যাবে, কখনো একজন অসহায় মায়ের আর্তনাদ আপনাকে বিষণ্ণ করে তুলবে, কখনো বা আপনার মনের ভেতর লুকিয়ে থাকা কষ্টটাকে একটানে বের করে আনবে।
গল্পটির একদম শেষ দিকে গিয়ে অবাক হবেন আপনি; আন্দাজ করেছিলেন একরকম, কিন্তু হয়েছে আরেকরকম। আর মজাটা এখানেই। আগে থেকেই সব বুঝে গেলে মজা থাকে না, পাঠক চায় লেখক এর কাছ থেকে সারপ্রাইজড হতে। আর সেটা পেলেই সে পরিতৃপ্ত হয়। আর এই গল্পে, সেই ব্যাপারটাতে লেখক ভালোভাবেই সফল।
আবেগের কথা বলছিলাম—গল্পের একদম শেষ দিকে গিয়ে সমস্ত আবেগের বাঁধ ভেঙ্গে যাবে। মনে হবে যেন বহু যুগ ধরে বিষন্নতার নদীটাকে জোর করে ধরে রাখা বাঁধটিকে কেউ একজন একটানে খুলে ফেলেছে; বিশালদেহী দানবের ন্যায় ক্রুদ্ধ হুংকার দিতে-দিতে এগিয়ে আসছে সে, স্রোতের তোড়ে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সামনে যা আছে, সবকিছু।
এই অংশটা পড়ে আমি কেঁদেছি, অকপটে স্বীকার করি—হ্যাঁ, ছেলেরাও কাঁদে, তবে সবার সামনে নয়, লুকিয়ে...
হয়তো বা আমার ক্ষেত্রে নদীটার জলরাশির পরিমাণ অনেক-অনেক বেশিই ছিল, তাই এমন হয়েছে...মানুষ বরাবরই স্মৃতিকাতর হয়...
এবার গল্পটির ম্যাকানিজমের দিকে চোখ দেই, অর্থাৎ, লিটারারি ক্রিটিসিজমের দিকে চোখ দিচ্ছি।
পয়েন্ট অফ ভিউ: গল্পটাতে POV হিসেবে কখনো ব্যবহার করা হয়েছে থার্ড পার্সন লিমিটেড, আবার কখনো বা একজন অল নোয়িং অমনিসিয়েন্ট ন্যারেটর ন্যারেট করে গিয়েছেন, বর্ণনা দিয়েছেন এমন কিছুর, যা চরিত্রগুলোর জানার কথা নয়। মানে, মিক্সড ন্যারেটিভ মোড় টেকনিক ব্যবহার করা হয়েছে এই গল্পে।
ব্যাকস্টোরিঃ গল্পটা শুরুই হয় এই ডিভাইসটা দিয়ে।
ম্যাকগাফিনঃ প্রধান ম্যাকগাফিন যথেষ্ট শক্তিশালি। এবং তার কারণেই গল্পটার কাহিনীও বেশ যুক্তিযুক্তভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।
প্লট টুইস্টঃ সাধারণত থ্রিলার গল্প যেমন একের পর এক টুইস্ট ঘটতেই থাকে, এখানে তেমন নয়। এখানে প্রধান টুইস্ট গল্পের শেষের দিকে পাওয়া যাবে, এর আগে টুইস্ট পাওয়া যাবে না তেমন। আর সেই এক টুইস্টেই বুঝে যাবেন যে নাজিম উদ দৌলাকে কেন ‘দ্য মাস্টার অফ টুইস্ট’ বলা হয়। যারা টুইস্টে ভরপুর থ্রিল গল্প পড়তে-পড়তে ক্লান্ত, তাদের এটি অবশ্যই ভালো লাগবে। টেক দ্যট ফর এ চেঞ্জ।
টিকিং ক্লক সিনারিওঃ সাধারণত থ্রিল আর ফ্যান্টাসি গল্পগুলোতে এই ডিভাইসটা থাকে। যেমন ধরেন, পাঁচ দিনের ভেতর পৃথিবী ধংস হতে যাচ্ছে, আপনার হিরোকে এই সময়ের ভেতরেই পৃথিবীকে রক্ষা করতে হবে। এই গল্পে এই ডিভাইসের ব্যবহার নেই। যারা টিকিং ক্লক সিনারিও পড়তে-পড়তে একঘেয়েমিতে আক্রান্ত হয়ছেন, তাদের জন্য এটি অবশ্য পাঠ্য।
ফিগারেটিভ ল্যাঙ্গুয়েজঃ
সিমাইলের ব্যবহার বেশ ভালো, এবং মন ছুঁয়ে গিয়েছে, বিশেষ করে আবেগী জায়গাগুলোতে। মেটাফোর এর ব্যবহার তেমন ছিল না। অনোমেটোপিয়ার ব্যবহার ছিল যায়গামত। পার্সোনিফিকেশান এর ব্যবহার সীমিত আকারে করা হয়েছে। আর হাইপারবোল এর ব্যবহার তেমন ছিল না।
ইমেজারিঃ ইমেজারির ব্যবহার ভালো ছিল। তবে এটা পরবর্তি গল্পে আরো ভালো হবে আশা করি। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের প্রত্যেকটারই ব্যবহার চাই পরেরটাতে।
ফোরশেডোঃ ফোরশেডোর পরিমাণ একটু কম ছিল, কারণ হচ্ছে, গল্পটা টুইস্ট নির্ভর থ্রিল নয়, আগেই বলেছি। তবে যে টুইস্ট ছিল শেষে, ওটা ফোরশেডো করা হয়েছে ঠিকই। তবে ওটা ফোরশেডো করে ঠিকই আবার রেড হারিং এর প্রলেপে ঢেকে দেয়া হয়েছে, যাতে তার প্রকৃত রুপ আপনি বুঝতে না পারেন। যাতে তাকে সময়মত আসল চেহারায় আপনার সামনে উপস্থাপন করা যায়।
রেড হারিংঃ বড় লেখকদের রেড হারিং সব সময়ই মারাত্নক হয়। আর যে যত ভালোভাবে এই ডিভাইসটা ব্যবহার করতে পারে, তার পাঠক মুগ্ধ করার ক্ষমতা তত বেশি। এই গল্পে যেহেতু টুইস্ট কম, তাই রেড হারিংও একদম কম। তবে শেষের টুইস্টটার চারপাশে ভালোভাবেই রেড হারিং এর প্রলেপ দেয়া আছে—ইলেক্ট্রোপ্লেটিং এর মতো করে।
এবার শেষের দিকে কিছু কথা বলি। গল্পটাকে যথাসম্ভব ত্রুটিমুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। লেখকও দিয়েছেন তার সর্বোচ্চ, আর আমিও দিয়েছি আমার সর্বোচ্চ। আমার এখনো মনে পড়ে সেই রাতের কথা, যে রাতে আমি আর লেখক দুইজনেই ভোর সাড়ে পাঁচটা অবধি জেগে ছিলাম; সে লিখে চলছিল একাধারে—যেটুকু শেষ হয়নি, ঐটুকু—আর আমি এডিট করে যাচ্ছিলাম একটানা, রাজ্যের ঘুমকে মধ্যাঙ্গুলি দেখিয়ে। দুই রাত জেগে একটা ১৫৮ পেইজের উপন্যাস এডিট করে প্রেসে পাঠানো চাট্টিখানি কথা নয়—বরং উলটো, বুঝতেই পারছেন। তবে এইটুকু বলতে পারি, আমার এখনো পর্যন্ত করা বেস্ট এডিটিং এটা। এমনকি আমার নিজের উপন্যাসটার চেয়েও এটার এডিটিংকে আমি এগিয়ে রাখবো। তবে এত কিছুর পরেও যদি স্পেলিং মিস্টেক, বা পাংচুয়েশান অথবা স্পেসিং বা এই জাতীয় কোনো ভুল-ত্রুটি থেকে যায়, সেটার দায়ভার আমি নিচ্ছি। তবে ওরকম ভুল থাকার কথা নয়। তারপরও যদি থাকেও, ওটাকে মানবীয় ভুল হিসেবে দেখার আহবান জানাচ্ছি। দিনশেষে আমরাও মানুষ, আমাদেরও ভুল হয়।
September 10, 2022
লেখকের কল্পনা শক্তি ভাল। গল্পের প্লট টা অসাধারণ ছিল। কিন্তু লেখনিতে অনেকটা ছিনেমার কাহিনির মত লেগেছে। বাংলা ছিনেমার মত ডায়ালগ যা আসলে বোরিং লেগেছে। ফ্যান্টাসি লেখা গুলো তে ফ্যান্টাসি আনার জন্য আমার মনে হয় গল্পের মধ্যে পরিবেশ পরিস্থিতি সম্পর্কে একটু বলে নেওয়া ভাল। কিন্তু হটাৎ করে গল্পের মধ্যে মানুষ খেকো গাছ নিয়ে এসেছে যা অনেকটা গল্পটার মান কমিয়ে দিয়েছে। প্রেম কাহিনি টা বাংলা ছিনেমার মত যা মোটেও ভাল লাগে নি। কিন্তু শেষ দৃশ্য এবং একদম শেষ দৃশ্য টা বেশ ইন্টারেস্টিং। এই প্লট নিয়ে লেখক আরও স্ট্রং কিছু আনতে পারত।
September 1, 2021
An okay read. The ancient parts were intriguing; the modern aspect seemed fun at first, but soon turned dull. The end and the very end were surprising and eery though.
February 27, 2016
কাহিনী সংক্ষেপঃ
ড. আইভান মেন্ডেস দাবী করছেন তার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা এমন এক অস্ত্রোপচার প্রক্রিয়া আবিস্কার করেছে, যার প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক আয়ু প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কি মানবশরীরে এই প্রক্রিয়া প্রয়োগের অনুমতি দেবে? এদিকে একদল চাইনিজ ফ্যানাটিক উঠে পড়ে লেগেছে তাদের বিরুদ্ধে। হামলা করা হচ্ছে গবেষণাকেন্দ্রে, কিডন্যাপ করা হচ্ছে বিজ্ঞানীদের। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য কি? এই প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য ফিরে যেতে হবে খ্রিষ্টের জন্মের ২০০ বছর পূর্বের প্রাচীন চিনে। কিন ডাইনেস্টির প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট কিন সি হুয়াং মৃত্যুভয়ে ভীত হয়ে পড়েছেন। যাদুকর আংকি সেং তাকে এলিক্সার অফ লাইফের সন্ধান দিল যা পান করলে মানুষ হয় অমর। সম্রাট তার বিশ্বাসভাজন রসায়নবিদ জু ফু’র নেতৃত্বে প্রায় তিন হাজার নর-নারীর একটি দলকে পাঠালেন সেই এলিক্সারের সন্ধানে। কিন্তু বছরের পর বছর চলে গেল, তারা আর ফিরে এল না। কেউ জানে না তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছিল। সমস্ত প্রশ্নের উত্তর জড়িয়ে আছে একটি মেয়ের অস্তিত্বের সাথে। মেয়েটির নাম- স্কারলেট, খুব সাদাসিধে এক তরুণী যে নিজের অজান্তেই ভালবেসে ফেলেছে একজন অভিশপ্ত মানুষকে।
কাহিনী নিয়ে আমার বিশ্লেষণঃ
আমরা যারা চাইনিজ কিংবা হংকং এর সিনেমা দেখে থাকি তাদের কাছে রাজা কিন সি হুয়াং এর নাম অজানা নয়। ইতিহাসের ছাত্রদের কাছেও তা অজানা হওয়ার কথা নয়, কারন এই কিং সি হুয়াং চিনের মহাপ্রাচির এর নির্মাতা। কিন্তু কখনও চিন্তাও করিনি বাংলাদেশি কোন রাইটার এর লেখা বাংলা মৌলিক থ্রিলার বইতে রাজা কিং সি হুয়াং এর আগমন ঘটবে। কাজটা করে দেখিয়েছে নাজিম উদ দৌলা তার স্কারলেট বইতে।
সম্রাট কিন সি হুয়াং অমরত্ব লাভের প্রচেষ্টায় সারাজীবন কাটিয়ে দিয়েছেন এলিক্সারের সন্ধানে। শেষে এটা ওটা খেয়ে অমর হতে গিয়ে উল্টো মারা পড়েছেন বিষে। তবে স্কারলেট এর মুল কাহিনী কিন সি হুয়াংকে ঘিরে নয়। রাজা কিন সি হুয়াং তার বিশ্বস্ত রসায়নবিদ জু ফু কে পাঠিয়েছিলেন এলিক্সারের সন্ধানে। জু ফু ৩০০০ মানব-মানবীর একটি দল নিয়ে এলিক্সারের সন্ধানে গিয়ে আর ফিরে আসেন নি! কি হয়েছিল তাদের ভাগ্যে- তা কোথাও লেখা নেই। ইতিহাস বিষয়ে অভিজ্ঞদের মতামতের সাথে লেখক তার কল্পনাশক্তি মিলিয়ে তুলে এনেছেন জু ফু’র সেই দুঃসাহসিক অভিযানের কাহিনী।
তবে এই টুকু পড়ে মনে হতে পারে এটা বুঝি পুরোপুরি ইতিহাস বেইজড উপন্যাস! আসলে কিন্তু তা নয়। লেখকের আগের বই ব্লাডস্টোনের তুলনায় এই বইতে ইতিহাসের অবস্থান খুবই নগণ্য। এখানেও দুইটি আলাদা টাইম লাইনে কাহিনী এগিয়ে গিয়েছে। লেখক শুরু থেকে শেষ অবধি খ্রিষ্টের জন্মের ২০০ বছর আগে জুফুর সেই অভিযানের কাহিনী টেনে গেছেন একটা টাইম লাইনে। অন্য টাইমলাইনে স্কারলেট নামের একটি মেয়ের জীবনের হাসি আনন্দ প্রেম বেদনার মুহূর্তগুলো উঠে এসেছে। একটা সময় পর দুটো কাহিনী এক সুত্রে গাঁথা পড়েছে।
তবে উপন্যাসের মুল পটভূমি বর্তমান সময়ের লন্ডন শহর। গেডস নামে এক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করেছে মানুষের আয়ু বৃদ্ধির উপায়। কিন্তু তাদের কাজে সর্বক্ষণ বাধা দিচ্ছে এক দল চাইনিজ ফ্যানাটিক। যাদের নাম গাইছি দে জৌচি। গেডস এর প্রেসিডেন্ট আইভান মেন্ডেসের জীবনের উপর হামলা- তার বডিগার্ড র্যান্ডির ফেলে আসা অতিত- স্কারলেট নামে গেডস এর এক ল্যাব আসিস্ট্যান্ট এর নিত্যদিন- সব মিলিয়ে উপন্যাসের পরিসর অত্যন্ত ব্যপক। তবে সব কিছু ছাপিয়ে গুরুত্ববহ হয়ে উঠেছে তিন জন মানুষের জীবন- বিজ্ঞানী আইভান মেন্ডেস, তার বডিগার্ড র্যান্ডি ও স্কারলেট নামে একটি মেয়ের জীবন। বইতে আসল কাহিনীর ব্যাকগ্রাউন্ডে উঠে এসেছে লন্ডন শহরের মানুষের জীবন আচরন আর বেশ কিছু রাস্তার প্রানবন্ত বর্ণনা। সেই সাথে গল্পে গল্পে লেখক আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন বিজ্ঞানের নানান অজানা তথ্য। একটা দৃশ্যে একশন শেষ হতেই পরের দৃশ্যে পাচ্ছি রোমান্সের ছোঁয়া!
“ইতিহাস+বিজ্ঞান+ফ্যান্টাসি+ একশন+ রোমান্স” সব মিলেই উপন্যাস “স্কারলেট”।
আর এর বাইরে আর কিছু বলতে গেলে কাহিনীর চমক প্রকাশ পেয়ে যাবে। তাই আর কিছু বলছি না। তবে এতটুকু বলাই যায় যে এই বইটি ব্লাডস্টোনের চেয়ে বেশি ভাল লেগেছে আমার। বিশেষ শেষের চার পাঁচটা অধ্যায় আমার রাতের ঘুম হারাম করেছে। নাজিম উদ দৌলাকে একটা ব্রেইন দিয়েছে আল্লাহ! কিভাবে যেন কাহিনীগুলোকে মিলিয়ে দেয়! আর চমকগুলো আচমকা যেভাবে আসে, তাতে আগে থেকে টের পাওয়ার কোন উপায় থাকেনা!
শেষ কিছু কথাঃ
হ্যাটস অফ নাজিম উদ দৌলাকে, এই রকম উপন্যাস রেগুলার চাই। ভালবাসা থাকল আমার তরফ থেকে। বইটাতে আমার ব্যক্তিগত রেটিং ৪.৫/৫।
ড. আইভান মেন্ডেস দাবী করছেন তার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা এমন এক অস্ত্রোপচার প্রক্রিয়া আবিস্কার করেছে, যার প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক আয়ু প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কি মানবশরীরে এই প্রক্রিয়া প্রয়োগের অনুমতি দেবে? এদিকে একদল চাইনিজ ফ্যানাটিক উঠে পড়ে লেগেছে তাদের বিরুদ্ধে। হামলা করা হচ্ছে গবেষণাকেন্দ্রে, কিডন্যাপ করা হচ্ছে বিজ্ঞানীদের। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য কি? এই প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য ফিরে যেতে হবে খ্রিষ্টের জন্মের ২০০ বছর পূর্বের প্রাচীন চিনে। কিন ডাইনেস্টির প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট কিন সি হুয়াং মৃত্যুভয়ে ভীত হয়ে পড়েছেন। যাদুকর আংকি সেং তাকে এলিক্সার অফ লাইফের সন্ধান দিল যা পান করলে মানুষ হয় অমর। সম্রাট তার বিশ্বাসভাজন রসায়নবিদ জু ফু’র নেতৃত্বে প্রায় তিন হাজার নর-নারীর একটি দলকে পাঠালেন সেই এলিক্সারের সন্ধানে। কিন্তু বছরের পর বছর চলে গেল, তারা আর ফিরে এল না। কেউ জানে না তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছিল। সমস্ত প্রশ্নের উত্তর জড়িয়ে আছে একটি মেয়ের অস্তিত্বের সাথে। মেয়েটির নাম- স্কারলেট, খুব সাদাসিধে এক তরুণী যে নিজের অজান্তেই ভালবেসে ফেলেছে একজন অভিশপ্ত মানুষকে।
কাহিনী নিয়ে আমার বিশ্লেষণঃ
আমরা যারা চাইনিজ কিংবা হংকং এর সিনেমা দেখে থাকি তাদের কাছে রাজা কিন সি হুয়াং এর নাম অজানা নয়। ইতিহাসের ছাত্রদের কাছেও তা অজানা হওয়ার কথা নয়, কারন এই কিং সি হুয়াং চিনের মহাপ্রাচির এর নির্মাতা। কিন্তু কখনও চিন্তাও করিনি বাংলাদেশি কোন রাইটার এর লেখা বাংলা মৌলিক থ্রিলার বইতে রাজা কিং সি হুয়াং এর আগমন ঘটবে। কাজটা করে দেখিয়েছে নাজিম উদ দৌলা তার স্কারলেট বইতে।
সম্রাট কিন সি হুয়াং অমরত্ব লাভের প্রচেষ্টায় সারাজীবন কাটিয়ে দিয়েছেন এলিক্সারের সন্ধানে। শেষে এটা ওটা খেয়ে অমর হতে গিয়ে উল্টো মারা পড়েছেন বিষে। তবে স্কারলেট এর মুল কাহিনী কিন সি হুয়াংকে ঘিরে নয়। রাজা কিন সি হুয়াং তার বিশ্বস্ত রসায়নবিদ জু ফু কে পাঠিয়েছিলেন এলিক্সারের সন্ধানে। জু ফু ৩০০০ মানব-মানবীর একটি দল নিয়ে এলিক্সারের সন্ধানে গিয়ে আর ফিরে আসেন নি! কি হয়েছিল তাদের ভাগ্যে- তা কোথাও লেখা নেই। ইতিহাস বিষয়ে অভিজ্ঞদের মতামতের সাথে লেখক তার কল্পনাশক্তি মিলিয়ে তুলে এনেছেন জু ফু’র সেই দুঃসাহসিক অভিযানের কাহিনী।
তবে এই টুকু পড়ে মনে হতে পারে এটা বুঝি পুরোপুরি ইতিহাস বেইজড উপন্যাস! আসলে কিন্তু তা নয়। লেখকের আগের বই ব্লাডস্টোনের তুলনায় এই বইতে ইতিহাসের অবস্থান খুবই নগণ্য। এখানেও দুইটি আলাদা টাইম লাইনে কাহিনী এগিয়ে গিয়েছে। লেখক শুরু থেকে শেষ অবধি খ্রিষ্টের জন্মের ২০০ বছর আগে জুফুর সেই অভিযানের কাহিনী টেনে গেছেন একটা টাইম লাইনে। অন্য টাইমলাইনে স্কারলেট নামের একটি মেয়ের জীবনের হাসি আনন্দ প্রেম বেদনার মুহূর্তগুলো উঠে এসেছে। একটা সময় পর দুটো কাহিনী এক সুত্রে গাঁথা পড়েছে।
তবে উপন্যাসের মুল পটভূমি বর্তমান সময়ের লন্ডন শহর। গেডস নামে এক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করেছে মানুষের আয়ু বৃদ্ধির উপায়। কিন্তু তাদের কাজে সর্বক্ষণ বাধা দিচ্ছে এক দল চাইনিজ ফ্যানাটিক। যাদের নাম গাইছি দে জৌচি। গেডস এর প্রেসিডেন্ট আইভান মেন্ডেসের জীবনের উপর হামলা- তার বডিগার্ড র্যান্ডির ফেলে আসা অতিত- স্কারলেট নামে গেডস এর এক ল্যাব আসিস্ট্যান্ট এর নিত্যদিন- সব মিলিয়ে উপন্যাসের পরিসর অত্যন্ত ব্যপক। তবে সব কিছু ছাপিয়ে গুরুত্ববহ হয়ে উঠেছে তিন জন মানুষের জীবন- বিজ্ঞানী আইভান মেন্ডেস, তার বডিগার্ড র্যান্ডি ও স্কারলেট নামে একটি মেয়ের জীবন। বইতে আসল কাহিনীর ব্যাকগ্রাউন্ডে উঠে এসেছে লন্ডন শহরের মানুষের জীবন আচরন আর বেশ কিছু রাস্তার প্রানবন্ত বর্ণনা। সেই সাথে গল্পে গল্পে লেখক আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন বিজ্ঞানের নানান অজানা তথ্য। একটা দৃশ্যে একশন শেষ হতেই পরের দৃশ্যে পাচ্ছি রোমান্সের ছোঁয়া!
“ইতিহাস+বিজ্ঞান+ফ্যান্টাসি+ একশন+ রোমান্স” সব মিলেই উপন্যাস “স্কারলেট”।
আর এর বাইরে আর কিছু বলতে গেলে কাহিনীর চমক প্রকাশ পেয়ে যাবে। তাই আর কিছু বলছি না। তবে এতটুকু বলাই যায় যে এই বইটি ব্লাডস্টোনের চেয়ে বেশি ভাল লেগেছে আমার। বিশেষ শেষের চার পাঁচটা অধ্যায় আমার রাতের ঘুম হারাম করেছে। নাজিম উদ দৌলাকে একটা ব্রেইন দিয়েছে আল্লাহ! কিভাবে যেন কাহিনীগুলোকে মিলিয়ে দেয়! আর চমকগুলো আচমকা যেভাবে আসে, তাতে আগে থেকে টের পাওয়ার কোন উপায় থাকেনা!
শেষ কিছু কথাঃ
হ্যাটস অফ নাজিম উদ দৌলাকে, এই রকম উপন্যাস রেগুলার চাই। ভালবাসা থাকল আমার তরফ থেকে। বইটাতে আমার ব্যক্তিগত রেটিং ৪.৫/৫।
July 11, 2021
এক কথায় বলি, ফাটাফাটি ছিল
March 29, 2020
ভালো প্লট। আর কিছু ভালো লাগেনি। সিনেম্যাটিক ব্যাপার স্যাপারের অাধিক্যে কিছুটা বিরক্ত হয়েছি।
November 30, 2020
স্কারলেটকে বারবার স্কাবলেট পড়ছিলাম। অদ্ভুত!
মানুষ অমর হতে পারে এমন কিছু আসলে থাকলে একেকটা মানুষের জীবন নরক হয়ে যেতো।
মানুষ অমর হতে পারে এমন কিছু আসলে থাকলে একেকটা মানুষের জীবন নরক হয়ে যেতো।
July 6, 2021
বই - স্কারলেট
লেখক - নাজিম উদ দৌলা
জনরা - রোমাঞ্চ থ্রিলার
পৃষ্ঠা সংখ্যা - ১৭০
মুদ্রিত মূল্য - ৩২০ টাকা
প্রচ্ছদ শিল্পী - অনিমেষ মজুমদার
প্রকাশনী - আদী প্রকাশন
প্রকাশকাল - ২০১৫
রিপ্রিন্ট - জুন ২০২১
◾▪️কাহিনী সংক্ষেপঃ-
ড.আইভান মেন্ডেস। যার তত্বাবধানে একদল বিজ্ঞানীরা এমন এক যুগান্তকারী জিনিস আবিষ্কার করেন, যার প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক আয়ু থেকে দিগুন বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তার তত্বাবধানে বিজ্ঞানীদের এই আবিস্কার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কী মানব শরীরে প্রয়োগের ব্যপারটা সহজেই অনুতমতি দিয়ে দিবে? এদিকে একদল চাইনিজ ফ্যানাটিক উঠে পড়ে লেগে যায় ড.আইভান মেন্ডেসের এই আবিস্কারের পিছনে। একের পর এক অতর্কিত হামলা হয় গেডস ভবনে,গুম হয়ে যায় অনেক বিজ্ঞানী, ভবন রক্ষিতবাহিনীদের একের পর এক লাশ পড়তে থাকে........তো পাঠক,একের পর এক হামলা করা, গুম হওয়ার পিছনে চাইনিজ ফ্যানটিক দলের উদ্দেশ্য কী? কেনো তারা গেডস এর পিছনে উঠে পড়ে লেগেছে?
আর এসব প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য আমাদের যেতে হবে যিশু খ্রিষ্টের জন্মের ২০০ বছর পূর্বের প্রাচীন চিনে। চীন সাম্রাজ্য কেবল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কিন রাজবংশের হাতে। তখন প্রচীন চিনের রাজবংশের সম্রাট ছিলেন “কিন সি হুয়ান”। তার উপাধি ছিলো - হুয়াংদী। একদিন মাকড়সার জালের ন্যায় তার আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেললো “মৃত্যু ভয়”-- যার কাছে পৃথিবীর মহাবীররাও মাথা নত করতে বাধ্য হয়। এদিকে সময় যত গড়িয়ে যায় হুয়াংদীর মৃত্যুভয় দিন দিন বাড়তে থাকে।
রাজা হুয়াংদী মৃত্যুকে দূরে ঠেলে দিয়ে খুঁজতে থাকেন অমর হওয়ার মহাঔষধের। কিন্তু শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলেন। একদিন জাদুকর আংকি সিন রাজাকে আশার বানী শুনালেন। জাদুকর আংকি সিন হুয়াংদীকে অমর হওয়ার ঔষধ এর খোঁজ দিলেন। যার নাম “এলিক্সার অফ লাইফ”-- (অমর হওয়ার তরল পানীয়)। এই তরল পানি যেই পান করবে সেই হবে পৃথিবীর বুকে অমর।
প্রায় তিন হাজার নর-নারী ও যোদ্ধাদের একটি দল সম্রাট তার বিশ্বস্থ রসায়নবিদ জু'ফুর নেতৃত্বে কিন সি হুয়াং এর জন্য “এলিক্সার অফ লাইফ” নিয়ে আসার জন্য প্রাচীন চীনের পূর্বের পেংলাই পর্বতের দিকে পাঠালেন। এদিকে দিন যায়, মাস যায়, বছর পার হয়ে গেলেও তারা আর ফিরে আসেনা। আফসোস, কেউ কিছুই জানেনা তাদের সাথে কী ঘটেছিলো, কোথায় তারা হারিয়ে গিয়েছে এবং তাদের ভাগ্য কী ঘটেছিলে? আর এসব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে একটি মেয়ের অস্তিত্বের সাথে, যার নাম - স্কারলেট, যে কিনা খুব সাদাসিদে এক তরুনী, যে নিজের অজান্তেই ভালোবেসে ফেলেছে একজন অভিশপ্ত মানুষকে.......
তো পাঠক কে এই স্কারলেট? কী তার পরিচয়? রসায়নবিদ জু'ফু নেতৃত্বে সবাই কী অমরত্বের পানীয় নিয়ে শেষমেশ ফিরে আসতে পেরছিলো? এদিকে সম্রাট কিন সি হুয়ান কী পেরেছিলো জু'ফুর আনা অমরত্বের পানীয় খেয়ে অমরত্ব অর্জন করতে? চাইনিজ ফ্যনাটিক দলটির বা শেষমেশ কী হয়েছিলো? কেনো তারা ড. আইভাস মেন্ডেসকে বার বার হত্যা করে চায়? এই সব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে স্কারলেটে.....
◾▪️পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ-
গল্পের ভিতরে অ্যাকশন আছে এডভেঞ্চার আছে কিন্তু তারপরেও গল্পটা আপনার কাছে মনে হবে খুবই হালকা মেজাজের এবং টান টান উত্তেজনা ভরপুর। গল্পের আঙ্গিকে যেটা যখন দরকার ছিলো লেখক সেটা তুলে নিয়ে এসেছেন চমৎকার লেখনীতে। একটা দৃশ্য শেষ হতে না হতেই পরের দৃশ্যে পাবেন রোমাঞ্চের ছোঁয়া....
আপনারা হয়তো উপরের কাহিনী সংক্ষেপে পড়ে বুঝে ফেলেছেন এটা হয়তো কোন সম্পূর্ণ ইতিহাস নির্ভর উপন্যাস। কিন্তু আপনাদের এই ধারনাটা পুরোটাই ভুল হবে। মূলত বইটা টাইমলাইন ভিত্তিক। দুটো গল্পই দুটো টাইমলাইনে এগিয়েছে। একটা বর্তমাম, আরেকটা অতীত। বর্তমনাটা শুরু হয়েছে লন্ডনের গেডস ভবন থেকে,আর অতীতটা শুরু হয়েছে যীশু খ্রিষ্টের জন্মের দুইশো বছর পূর্বের নবগঠিত চীনা কিন রাজবংশ থেকে। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, দুটো গল্পই সমান তালে এগিয়ে নিয়েছেন লেখক। আর এই জন্যেই আরো বেশি জীবন্ত মনে হয়ে পুরো গল্পটাই চোখের সামনে ভাসতেছিলো।
মূলত গল্পের প্রটাগনিস্ট নায়িকা স্কারলেট। তাকে ঘিরেই গল্পটা অতীত এবং বর্তমানে ঘুরপাক খায়। একটা সময়ে আমি যখন গল্পের ভিতরে প্রবেশ করে যাই পুরোপুরি ভাবে,তখন খেয়াল করলাম গল্পের অতীত এবং বর্তমান দুটোই ঝড়ের বেগে দৌড়াচ্ছিলো। ১৭০ পৃষ্ঠার উপন্যাস কখন শেষ হলে গেলো বুঝতেই পারলাম না। আর এটাই হলো একজন লেখকের লেখার মূল স্বার্থকতা।বেশিরভাগই বইতে দেখা যায় দুটো টাইমলাইনের গল্প মাঝপথে এসে ঝুলে যায়, কিন্তু মজার বিষয় নাজিম ভাইয়া এই বইটার দুটো টাইমলাইন একই সাথে সমান গতিতে টানটান ভাবে এগিয়ে যায় একদম শেষ পাতা পর্যন্ত।
◾আরেকটা মজার বিষয় হচ্ছে, গল্পের শেষে এসে আপনি অনেক বড় একটি ধাক্কা খাবেন। আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না লেখক কিভাবে চমৎকার একটি টুইস্ট রেখে দিয়েছে আপনার জন্য। দুটো টাইমলাইন জুড়ে আপনি মনে মনে কী ভাবলেন আর সেটা শেষে এসে কী হলো সেটা দেখেই ''থ'' মেরে বসে থাকবেন। একদম অপ্রত্যাশিত ছিলো এটা আমার কাছে। আমরা পাঠকরা টুইস্ট পেতে পছন্দ করি। আর ভাইয়া সেই জিনিসটা মাথায় রেখেই জায়গামতো টুইস্ট ছেড়েদিলেন। এক কথায় দারুন ছিলো!👌
◾গল্পের বর্তমান টাইমলাইনে আপনি দেখতে পাবেন স্কারলেট নামের মেয়েটির জীবনের হাসি,আনন্দ, দুঃখ, প্রেম আর বেদনার এক অপূর্ব সম্মিলন। স্কারলেটের জীবনে কিছু মূহুর্ত আপনাকে যেমন আনন্দ দিবে, আবার কিছু মুহূর্ত আপনাকে কষ্ট দিবে।
অন্যদিকে অতীতের টাইমলাইনটি দেখতে পাবেন রসায়নবিদ জু'ফুর নেতৃত্বে। পাঠক,এই অতীতের টাইমলাইনে আপনি চমৎকার দুটো চরিত্র দেখতে পাবেন। আমি সিউর দুটো চরিত্র আপনার হৃদয়ে নাড়া দিয়ে উঠাবে লেখক। আপনি দেখতে পাবেন স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র ভালেবাসা প্রগাড় কথোপোকথন। দেখতে পাবেন আবেগ অনুভূতির উর্দ্ধে গিয়ে ভালোবাসা মানুষটির জন্য জীবনকে উৎসর্গ করো দেওয়ার মতো হৃদয় বিদায়ক চিত্র। আরো দেখতে পাবেন জু'ফুর চারত্রিক পদস্খলন, যে কিনা ধরে ধরে কুমারী মেয়েদেকে......
গল্পের দুটো টাইমলাইন এতো সুন্দর করে সব কিছু তুলে ধরেছেন লেখক, জাস্ট মাইন্ড ব্লোয়িং।
◾আরেকটা ব্যাপারে না বললেই নয়,আপনারা দেখতে পাবেন গল্পের বর্তমান টাইমলাইনে একজন মায়ের ছেলের প্রতি চিঠিতে লেখা তার অসহায়ত্বের করুন আকুতি। কী ইমোশন ছিলো সেটা বলে বুঝাতে পারবোনা। আপনার নিজের অজান্তেই কখন চোখ দিয়ে পানি চলে আসবে টেরই পাবেন না....!
◾ ইতিহাস,বিজ্ঞান,অ্যাকশন,এডভেঞ্চার,রোমাঞ্চ সহ সব মিলিয়ে স্কারলেট দারুন একটি নভেলা উপন্যাস মনে হলেও যেন ভিতরটা আগা গোড়ায় এক মানবিকতার অপূর্ব ছোঁয়া। তাছাড়া বইটাতে উঠে এসেছে লন্ডন শহরের কিছু প্রনবন্ত বর্ননা যেটা না বললেই নয়। লেখক এই বর্ননার ছলে দারুন ভাবে বিজ্ঞানের কিছু অজানা তথ্য পাঠকদের জানিয়ে দিয়েছেন। সেই সাথে জানিয়ে দিয়েছেন চীনের মহাপ্রচীর স্থাপনের ঘটনা।
🔳◾◾লেখক নাজিম উদ দৌলা ভাইয়াকে নিয়ে আমার কিছুই বলার নেই। ভাইয়া দারুন লিখনশৈলীতে বরাবরি আমি মুগ্ধ হই বারবার।! এই নিয়ে ভাইয়ার দুটো বই পড়ে ফেললাম। আমার প্রথম বই ছিলো ব্লাডস্টোন। মূলত বইটা পড়েই ভাইয়ার লেখার ভক্ত হয়েছি। ব্লাডস্টোন আমার পড়া সেরা একটি উপন্যাস। তাছাড়া ভাইয়া ব্লাডস্টোন বইটাতে কী দারুন ভাবে ইতিহাস ফুটিয়ে তুলেছেন আপনারা না পড়লে বুঝানো অসম্ভব, জাস্ট মাইন্ডব্লোয়িং
◾ স্কারলেট বইটাতে বানান ভুল খুব একটা চোখে পড়েনি। বইয়ের প্রচ্ছদ,বাইডিং সব মিলিয়ে দারুন ছিলো। বইটা হাতে নেওয়ার পর ফিলিংসটা পুরোই প্রিমিয়াম কোয়ালিটির। তো যারা পড়োননি তাদের জন্য দারুন একটি বই হবে স্কারলেট। আপনার যদি মন মেজাজ খারাপ থাকে,তাহলে এই বইটি নিয়ে আসে যান, এক নিমিষেই আপনার সব কিছু দূর করো দিবে বলে আমার বিশ্বাস। তাছাড়া যারা রিডার্স ব্লকে আছেন তাদের জন্য এই বইটা দারুন হবে।😍
সব কিছুর জন্য ধন্যবাদ সাজিদ ভাইয়াকে। তিনি আমাকে বইটি পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।❤️
লেখক - নাজিম উদ দৌলা
জনরা - রোমাঞ্চ থ্রিলার
পৃষ্ঠা সংখ্যা - ১৭০
মুদ্রিত মূল্য - ৩২০ টাকা
প্রচ্ছদ শিল্পী - অনিমেষ মজুমদার
প্রকাশনী - আদী প্রকাশন
প্রকাশকাল - ২০১৫
রিপ্রিন্ট - জুন ২০২১
◾▪️কাহিনী সংক্ষেপঃ-
ড.আইভান মেন্ডেস। যার তত্বাবধানে একদল বিজ্ঞানীরা এমন এক যুগান্তকারী জিনিস আবিষ্কার করেন, যার প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক আয়ু থেকে দিগুন বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তার তত্বাবধানে বিজ্ঞানীদের এই আবিস্কার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কী মানব শরীরে প্রয়োগের ব্যপারটা সহজেই অনুতমতি দিয়ে দিবে? এদিকে একদল চাইনিজ ফ্যানাটিক উঠে পড়ে লেগে যায় ড.আইভান মেন্ডেসের এই আবিস্কারের পিছনে। একের পর এক অতর্কিত হামলা হয় গেডস ভবনে,গুম হয়ে যায় অনেক বিজ্ঞানী, ভবন রক্ষিতবাহিনীদের একের পর এক লাশ পড়তে থাকে........তো পাঠক,একের পর এক হামলা করা, গুম হওয়ার পিছনে চাইনিজ ফ্যানটিক দলের উদ্দেশ্য কী? কেনো তারা গেডস এর পিছনে উঠে পড়ে লেগেছে?
আর এসব প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য আমাদের যেতে হবে যিশু খ্রিষ্টের জন্মের ২০০ বছর পূর্বের প্রাচীন চিনে। চীন সাম্রাজ্য কেবল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কিন রাজবংশের হাতে। তখন প্রচীন চিনের রাজবংশের সম্রাট ছিলেন “কিন সি হুয়ান”। তার উপাধি ছিলো - হুয়াংদী। একদিন মাকড়সার জালের ন্যায় তার আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেললো “মৃত্যু ভয়”-- যার কাছে পৃথিবীর মহাবীররাও মাথা নত করতে বাধ্য হয়। এদিকে সময় যত গড়িয়ে যায় হুয়াংদীর মৃত্যুভয় দিন দিন বাড়তে থাকে।
রাজা হুয়াংদী মৃত্যুকে দূরে ঠেলে দিয়ে খুঁজতে থাকেন অমর হওয়ার মহাঔষধের। কিন্তু শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলেন। একদিন জাদুকর আংকি সিন রাজাকে আশার বানী শুনালেন। জাদুকর আংকি সিন হুয়াংদীকে অমর হওয়ার ঔষধ এর খোঁজ দিলেন। যার নাম “এলিক্সার অফ লাইফ”-- (অমর হওয়ার তরল পানীয়)। এই তরল পানি যেই পান করবে সেই হবে পৃথিবীর বুকে অমর।
প্রায় তিন হাজার নর-নারী ও যোদ্ধাদের একটি দল সম্রাট তার বিশ্বস্থ রসায়নবিদ জু'ফুর নেতৃত্বে কিন সি হুয়াং এর জন্য “এলিক্সার অফ লাইফ” নিয়ে আসার জন্য প্রাচীন চীনের পূর্বের পেংলাই পর্বতের দিকে পাঠালেন। এদিকে দিন যায়, মাস যায়, বছর পার হয়ে গেলেও তারা আর ফিরে আসেনা। আফসোস, কেউ কিছুই জানেনা তাদের সাথে কী ঘটেছিলো, কোথায় তারা হারিয়ে গিয়েছে এবং তাদের ভাগ্য কী ঘটেছিলে? আর এসব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে একটি মেয়ের অস্তিত্বের সাথে, যার নাম - স্কারলেট, যে কিনা খুব সাদাসিদে এক তরুনী, যে নিজের অজান্তেই ভালোবেসে ফেলেছে একজন অভিশপ্ত মানুষকে.......
তো পাঠক কে এই স্কারলেট? কী তার পরিচয়? রসায়নবিদ জু'ফু নেতৃত্বে সবাই কী অমরত্বের পানীয় নিয়ে শেষমেশ ফিরে আসতে পেরছিলো? এদিকে সম্রাট কিন সি হুয়ান কী পেরেছিলো জু'ফুর আনা অমরত্বের পানীয় খেয়ে অমরত্ব অর্জন করতে? চাইনিজ ফ্যনাটিক দলটির বা শেষমেশ কী হয়েছিলো? কেনো তারা ড. আইভাস মেন্ডেসকে বার বার হত্যা করে চায়? এই সব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে স্কারলেটে.....
◾▪️পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ-
গল্পের ভিতরে অ্যাকশন আছে এডভেঞ্চার আছে কিন্তু তারপরেও গল্পটা আপনার কাছে মনে হবে খুবই হালকা মেজাজের এবং টান টান উত্তেজনা ভরপুর। গল্পের আঙ্গিকে যেটা যখন দরকার ছিলো লেখক সেটা তুলে নিয়ে এসেছেন চমৎকার লেখনীতে। একটা দৃশ্য শেষ হতে না হতেই পরের দৃশ্যে পাবেন রোমাঞ্চের ছোঁয়া....
আপনারা হয়তো উপরের কাহিনী সংক্ষেপে পড়ে বুঝে ফেলেছেন এটা হয়তো কোন সম্পূর্ণ ইতিহাস নির্ভর উপন্যাস। কিন্তু আপনাদের এই ধারনাটা পুরোটাই ভুল হবে। মূলত বইটা টাইমলাইন ভিত্তিক। দুটো গল্পই দুটো টাইমলাইনে এগিয়েছে। একটা বর্তমাম, আরেকটা অতীত। বর্তমনাটা শুরু হয়েছে লন্ডনের গেডস ভবন থেকে,আর অতীতটা শুরু হয়েছে যীশু খ্রিষ্টের জন্মের দুইশো বছর পূর্বের নবগঠিত চীনা কিন রাজবংশ থেকে। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, দুটো গল্পই সমান তালে এগিয়ে নিয়েছেন লেখক। আর এই জন্যেই আরো বেশি জীবন্ত মনে হয়ে পুরো গল্পটাই চোখের সামনে ভাসতেছিলো।
মূলত গল্পের প্রটাগনিস্ট নায়িকা স্কারলেট। তাকে ঘিরেই গল্পটা অতীত এবং বর্তমানে ঘুরপাক খায়। একটা সময়ে আমি যখন গল্পের ভিতরে প্রবেশ করে যাই পুরোপুরি ভাবে,তখন খেয়াল করলাম গল্পের অতীত এবং বর্তমান দুটোই ঝড়ের বেগে দৌড়াচ্ছিলো। ১৭০ পৃষ্ঠার উপন্যাস কখন শেষ হলে গেলো বুঝতেই পারলাম না। আর এটাই হলো একজন লেখকের লেখার মূল স্বার্থকতা।বেশিরভাগই বইতে দেখা যায় দুটো টাইমলাইনের গল্প মাঝপথে এসে ঝুলে যায়, কিন্তু মজার বিষয় নাজিম ভাইয়া এই বইটার দুটো টাইমলাইন একই সাথে সমান গতিতে টানটান ভাবে এগিয়ে যায় একদম শেষ পাতা পর্যন্ত।
◾আরেকটা মজার বিষয় হচ্ছে, গল্পের শেষে এসে আপনি অনেক বড় একটি ধাক্কা খাবেন। আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না লেখক কিভাবে চমৎকার একটি টুইস্ট রেখে দিয়েছে আপনার জন্য। দুটো টাইমলাইন জুড়ে আপনি মনে মনে কী ভাবলেন আর সেটা শেষে এসে কী হলো সেটা দেখেই ''থ'' মেরে বসে থাকবেন। একদম অপ্রত্যাশিত ছিলো এটা আমার কাছে। আমরা পাঠকরা টুইস্ট পেতে পছন্দ করি। আর ভাইয়া সেই জিনিসটা মাথায় রেখেই জায়গামতো টুইস্ট ছেড়েদিলেন। এক কথায় দারুন ছিলো!👌
◾গল্পের বর্তমান টাইমলাইনে আপনি দেখতে পাবেন স্কারলেট নামের মেয়েটির জীবনের হাসি,আনন্দ, দুঃখ, প্রেম আর বেদনার এক অপূর্ব সম্মিলন। স্কারলেটের জীবনে কিছু মূহুর্ত আপনাকে যেমন আনন্দ দিবে, আবার কিছু মুহূর্ত আপনাকে কষ্ট দিবে।
অন্যদিকে অতীতের টাইমলাইনটি দেখতে পাবেন রসায়নবিদ জু'ফুর নেতৃত্বে। পাঠক,এই অতীতের টাইমলাইনে আপনি চমৎকার দুটো চরিত্র দেখতে পাবেন। আমি সিউর দুটো চরিত্র আপনার হৃদয়ে নাড়া দিয়ে উঠাবে লেখক। আপনি দেখতে পাবেন স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র ভালেবাসা প্রগাড় কথোপোকথন। দেখতে পাবেন আবেগ অনুভূতির উর্দ্ধে গিয়ে ভালোবাসা মানুষটির জন্য জীবনকে উৎসর্গ করো দেওয়ার মতো হৃদয় বিদায়ক চিত্র। আরো দেখতে পাবেন জু'ফুর চারত্রিক পদস্খলন, যে কিনা ধরে ধরে কুমারী মেয়েদেকে......
গল্পের দুটো টাইমলাইন এতো সুন্দর করে সব কিছু তুলে ধরেছেন লেখক, জাস্ট মাইন্ড ব্লোয়িং।
◾আরেকটা ব্যাপারে না বললেই নয়,আপনারা দেখতে পাবেন গল্পের বর্তমান টাইমলাইনে একজন মায়ের ছেলের প্রতি চিঠিতে লেখা তার অসহায়ত্বের করুন আকুতি। কী ইমোশন ছিলো সেটা বলে বুঝাতে পারবোনা। আপনার নিজের অজান্তেই কখন চোখ দিয়ে পানি চলে আসবে টেরই পাবেন না....!
◾ ইতিহাস,বিজ্ঞান,অ্যাকশন,এডভেঞ্চার,রোমাঞ্চ সহ সব মিলিয়ে স্কারলেট দারুন একটি নভেলা উপন্যাস মনে হলেও যেন ভিতরটা আগা গোড়ায় এক মানবিকতার অপূর্ব ছোঁয়া। তাছাড়া বইটাতে উঠে এসেছে লন্ডন শহরের কিছু প্রনবন্ত বর্ননা যেটা না বললেই নয়। লেখক এই বর্ননার ছলে দারুন ভাবে বিজ্ঞানের কিছু অজানা তথ্য পাঠকদের জানিয়ে দিয়েছেন। সেই সাথে জানিয়ে দিয়েছেন চীনের মহাপ্রচীর স্থাপনের ঘটনা।
🔳◾◾লেখক নাজিম উদ দৌলা ভাইয়াকে নিয়ে আমার কিছুই বলার নেই। ভাইয়া দারুন লিখনশৈলীতে বরাবরি আমি মুগ্ধ হই বারবার।! এই নিয়ে ভাইয়ার দুটো বই পড়ে ফেললাম। আমার প্রথম বই ছিলো ব্লাডস্টোন। মূলত বইটা পড়েই ভাইয়ার লেখার ভক্ত হয়েছি। ব্লাডস্টোন আমার পড়া সেরা একটি উপন্যাস। তাছাড়া ভাইয়া ব্লাডস্টোন বইটাতে কী দারুন ভাবে ইতিহাস ফুটিয়ে তুলেছেন আপনারা না পড়লে বুঝানো অসম্ভব, জাস্ট মাইন্ডব্লোয়িং
◾ স্কারলেট বইটাতে বানান ভুল খুব একটা চোখে পড়েনি। বইয়ের প্রচ্ছদ,বাইডিং সব মিলিয়ে দারুন ছিলো। বইটা হাতে নেওয়ার পর ফিলিংসটা পুরোই প্রিমিয়াম কোয়ালিটির। তো যারা পড়োননি তাদের জন্য দারুন একটি বই হবে স্কারলেট। আপনার যদি মন মেজাজ খারাপ থাকে,তাহলে এই বইটি নিয়ে আসে যান, এক নিমিষেই আপনার সব কিছু দূর করো দিবে বলে আমার বিশ্বাস। তাছাড়া যারা রিডার্স ব্লকে আছেন তাদের জন্য এই বইটা দারুন হবে।😍
সব কিছুর জন্য ধন্যবাদ সাজিদ ভাইয়াকে। তিনি আমাকে বইটি পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।❤️
July 29, 2021
পরিশিষ্ট পড়ে মনে হয়েছে গল্পের নাম স্কারলেট না দিয়ে মিংঝু দিলেই হতো :3
একটা বইয়ের গ্রুপে দেখেছিলাম ঐতিহাসিক থ্রিলার। গল্পের কাহিনী এক্সিলার অফ লাইফকে কেন্দ্র করে কিন্তু সেটা নিয়ে যে ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে তাতে আহামরি কিছুই নেই।
গল্প বোরিং নয়,দ্রুত পড়ে শেষ করার মতো।স্কারলেট ও র্যান্ডির যাচ্ছেতাই সিনেম্যাটিক সংলাপ ছাড়া কাহিনী চলে একরকম।
একটা বইয়ের গ্রুপে দেখেছিলাম ঐতিহাসিক থ্রিলার। গল্পের কাহিনী এক্সিলার অফ লাইফকে কেন্দ্র করে কিন্তু সেটা নিয়ে যে ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে তাতে আহামরি কিছুই নেই।
গল্প বোরিং নয়,দ্রুত পড়ে শেষ করার মতো।স্কারলেট ও র্যান্ডির যাচ্ছেতাই সিনেম্যাটিক সংলাপ ছাড়া কাহিনী চলে একরকম।
May 31, 2017
নাজিম ভাইয়ের লিখা আমার পঠিত দ্বিতীয় বই। বই হিসেবে আহামরি ভালো নয়। তবে বেশ ভালো। প্লট সেই পুরোনো অমরত্ব। যা একেক বইতে একেক নামে প্রকাশিত। কোথাও হলি গ্রেইল তো কোথাও সাম্ভালা, আর এখানে জিয়ানদান।।
July 17, 2019
পড়তে বেশ ভালোই লাগছিলো। দুটো সমান্তরাল ঘটনা এগিয়ে যাচ্ছিলো, সাথে আমিও এগোচ্ছিলাম। কিন্তু শেষে গিয়ে কেমন একটা ঘেঁটে গেলো। যাই হোক, কয়েক বছরের ব্যবধানে 2/3 বার পড়াই যায়।
Displaying 1 - 13 of 13 reviews














