পরের দিন ক্লাসে গিয়ে ডেস্কে ব্যাগটা রেখে যখন বের হয়ে আসছি তখন হঠাৎ লক্ষ্য করলাম একটা ছেলে হুইল চেয়ারে করে আমাদের ক্লাশে ঢুকছে। হুইল চেয়ারটা এমনভাবে চালিয়ে আনছে যে দেখে আমার মনে হতে থাকে যে হাটা এক ধরনের ঝামেলা এবং হুইল চেয়ারে চলাফেরা করার কাজটা বুঝি খুবই সহজ। ক্লাশরুমের মাঝখানে এসে সে থেমে গেল এবং আমরা সবাই তখন তাকে ঘিরে দাড়ালাম। আমি ভেবেছিলাম দেখব ছেলেটার পা নেই কিন্তু দেখলাম তার দুটো পাই বেশ ভালোমতন আছে। সেই পায়ে সে রীতিমত চকচকে জুতো-মোজা পরে আছে। পা থাকার পরও সে কেন হাটতে পারে না, তাকে কেন হুইল চেয়ারে চলাফেরা করতে হয় আমি বুঝতে পারলাম না।
Muhammed Zafar Iqbal (Bengali: মুহম্মদ জাফর ইকবাল) is one of the most famous Bangladeshi author of Science-Fiction and Children's Literature ever to grace the Bengali literary community since the country's independence in 1971. He is a professor of Computer Science & Engineering at Shahjalal University of Science and Technology (SUST). Before that, Iqbal worked as a research scientist in Bell Communication Research for six years until 1994.
Birth and Family Background: Iqbal was born on 23 December 1952 in Sylhet. His father, Foyzur Rahman Ahmed, was a police officer. In his childhood, he traveled various part of Bangladesh, because of his father's transferring job. Zafar Iqbal was encouraged by his father for writing at an early life. He wrote his first science fiction work at the age of seven. On 5 May 1971, during the liberation war of Bangladesh, the Pakistan's invading army captured his father and killed him brutally in the bank of a river.
Education: Iqbal passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1968 and HSC exam from Dhaka College in 1970. He earned his BSc in Physics from Dhaka University in 1976. In the same year Iqbal went to University of Washington to obtain his PhD and earned the degree in 1982.
Personal Life: Iqbal married Dr. Yasmeen Haque in 1978. Yasmeen is the Dean of the Life Science Department, Head of the Physics Department, Provost of the Shohid Janoni Jahanara Imam Hall and a researcher at SUST. They have two children - son Nabil and daughter Yeshim. Yeshim translated the book Amar Bondhu Rashed (Rashed, My Friend) written by her father. Iqbal's elder brother, Humayun Ahmed, was the most popular author and film-maker of Bangladesh since its independence. Humayun died after a nine-month struggle against colorectal cancer on the 19 July 2012. His younger brother, Ahsan Habib, is the editor of the satirical magazine, Unmad and one of the most reknowned cartoonist of Bangladesh.
Academic Career: After obtaining PhD degree, Iqbal worked as a post-doctoral researcher at California Institute of Technology (CalTech) from 1983 to 1988. He then joined Bell Communications Research (Bellcore), a separate corporation from the Bell Labs (now Telcordia Technologies), as a Research Scientist. He left the institute in 1994 and joined the faculty of the Department of CSE of SUST.
Literary career: Iqbal started writing stories from a very early age. Iqbal wrote his first short story at the age of seven. While studying in the Dhaka University Iqbal's story Copotronic Bhalobasa was published in a local magazine. But, a number of readers at that time felt that the story was based on a foreign story. To answer this allegation, he later rewrote the story and published the story in collection of stories named Copotronic Sukh Dukkho. Since then he is the most popular writer both in Bengali Science-Fiction and in Juvenile Leterature of the country.
Other Activities and Awards: Zafar Iqbal won the Bangla Academy Award, the highest award in literature in Bangladesh, in 2004. Iqbal also played a leading role in founding Bangladesh Mathematical Olympiad. In 2011 he won Rotary SEED Award for his contribution in field of education.
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিঃসন্দেহে খুবই সময়োপযোগী লেখা।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এমনিতেই কোন রকম জাতের ভিতরে পড়ে বলে আমার মনে হয় না। এই অজাতের শিক্ষাব্যবস্থার ভয়াবহ রূপ কম বেশি সবাই দেখে কিন্তু সাফার করে ডিজেবল মানুষেরা।
দেশ সব কিছুতেই তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে, শিক্ষার মান উন্নায়ন নিয়ে শিক্ষাবিদরা মুখে ফেনা তুলে ফেলছেন। কিন্তু এই আগানোটা সবার জন্য হচ্ছে না। একটা অংশ সেটা যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন ঠিকই অবহেলিত থেকে যাচ্ছে। হয়ত একদিন দেশ সবাইকে সাথে নিয়ে কিভাবে আগানো যায় সেটাও শিখে ফেলবে!
বইটা ভাল লাগার প্রথম কারন ছিল এইটা। ২য় কারন খুবই তুচ্ছ হাস্যকর। বইতে একটা অলিম্পিয়াড ছিল যেখানে একটা প্রশ্ন ফটিকের ছোট ভাইয়ের নাম কি। কিছুতেই মনে করতে না পারাতে ছুটি গল্পটা রিভিশন দিতে বসছিলাম। প্রিয় ছোট গল্পটা আরেকবার পড়া হয়েছে এই বইয়ের কারনে তাই ভাল লাগছে ।
সমস্যা হল এই ২ভাল লাগা মিলেও রেটিং বাড়াতে পারছে না কারন অতি সাধারন জাফর ইকবাল প্রোডাকশন। গৎবাঁধা কন্টেন্ট। জোর করে প্রাইভেট পড়ানো মাস্টার, তারে কোন না কোন ভাবে শায়েস্তা করা, একটা অলিম্পিয়াড (তাও ভাল যে ফাঁকিজুকি করে প্রাইজ পাওয়াইছে নয়ত এইটাও গৎবাঁধাই হত ) কিছুটা এডভেঞ্চার, শেষটা হ্যাপিলী এভার আফটার।
লেখকের আগের অনেক বইয়ের সাথে মিল থাকলে লেখক দায়ী না।
আমার এখন মনে আছে কালস সিক্সে উঠা সত্ত্বেও জাফর ইকবাল স্যারের কোন কিশোর উপন্যাস পড়িনি দেখে দুই বান্ধবী তাদের গোল্লা গোল্লা দুইজোড়া চোখ নিয়ে প্রায় মিনিটখানেক হা করে আমার বদনের দিকে তাকিয়ে ছিল। এরপর তাদের হতাশাকে বাতাসায় পূরণ করার জন্য ক্লাস সেভেনে উঠবার আগেই সব কিশোর উপন্যাস পড়ে শেষ করে ফেলেছিলাম স্যারের। সেই থেকে শুরু। ইদানিং তো আর আগের মজা পাইনা, তবে অনেকদিন পর 'স' তে সেন্টু পড়ে ভাল লেগেছে। আগের কোন বইয়ের সাথে তুলনা করছিনা। কারণ আমার এখন বয়সটাও তো দেখতে হবে। এই বয়সে আমার যতটুকু আনন্দ এই বই পড়ে লেগেছে, একজন কিশোর বয়সী কারো একই বই পড়ে আর বেশি লাগবার কথা। এটা সত্যি যে আগের এলিমেন্ট গুলো নেই, কিছু ক্ষেত্রে একইরকম এডভেঞ্চার প্রতি বইয়ে বলে অনেকেই অভিযোগ করেন। তবে যখন অজান্তে আমি বইটা পড়তে গিয়ে হেসে উঠেছি কিছু কিছু জায়গায় তখনই বুঝেছি নিশ্চয়ই এটা আনন্দ দিচ্ছে আমাকে।
এই সেন্টু ছেলেটা কিন্তু মহা ত্যাঁদড়। আসলেই ত্যাঁদড়। তার হুইলচেয়ারে বসবার এক একটা কারণই তো এক একটা মজার গল্প। ছেলে দুষ্টু আছে কিন্তু খুব। সে অন্যায়ের সাথে আপোষ যেমন করে পাশ করার জন্য টিচারের কাছে প্রাইভেট পড়ে আবার অন্যদিকে বেজায় টাইটও দিয়ে দেয় সুযোগ পেয়ে। এক কথায় ধোঁয়া তুলসী পাতা যে না সে কিন্তু তারপরও কেন জানি ভাল লাগে ছেলেটাকে। সাথে তার দলবল তো আছেই। আমার কিন্তু বেশ লেগেছে বইটা। আর কভারটা কি সুন্দর। আমাদের দেশ যে কি উন্নতি করেছে বইয়ের মোড়ক উপস্থাপনে এই বইটা তার একটা জলজ্যান্ত প্রমাণ। সাধারণ কিন্তু কি সুন্দর। ৫০ মিনিট ভালই কেটেছে আমার।
কথায় বলে,"নেই কাজ তো খই ভাঁজ "। কিন্তু আমার কাছে খই ভাজার উপকরণ না থাকায় জাফর ইকবাল স্যারের "স'তে সেন্টু " নিয়ে বসলাম। কোনো এক বয়েজ স্কুলের ক্লাস এইটের ছেলেদের নিয়ে কাহিনী (যখনকার কথা তখনও জেএসসি র যুগ শুরু হয় নাই কিন্তু)। সাজু,অনিক, সাচ্চু আর গুন্ডা বকর ক্লাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র। লাইক অল আদার উপন্যাস, এখানেও ক্লাসে গুন্ডা আছে যে অন্য নিরীহ ছেলেদের নির্যাতন করে। হঠাৎ ক্লাসে নতুন এক ছাত্র ভর্তি হয় (হতেই হবে, না হলে স্যারের অন্যান্য উপন্যাসগুলোর সাথে যে মিল থাকে না)।সেই ছাত্র আবার হুইল চেয়ারে চলাফেরা করে যার নাম সেন্টু (ডাকনাম) । গুন্ডা বকর কে শায়েস্তাকরণসহ নানা তেলেসমাতি কারবার দেখিয়ে খায়রুল (সেন্টু) হয়ে যায় সকলের নয়নমণি (সেন্টু) ভাইয়ারে। প্রতি স্কুলে ভালো আর মন্দ টিচার থাকা ফরয এবং স্যারের হিরোরা তাদের টিট করবে এটাও তাদের আশু কর্তব্য। তাই কর্তব্য করতে গিয়ে সেন্টুও মন্দ টিচার কে টিট করে। হিরো পুরস্কার পাবো না এটা হতে পারে? সেন্টুও বইপড়া প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেয়ে নিজের ইজ্জত রক্ষা করে। পা অবশ থাকা সত্বেও সেন্টু বীরত্বের সাথে ফুটবল খেলে দেখিয়ে দেয়, ফুটবল খেলায় পা ফ্যাক্ট নয়। ইতোমধ্যে সেন্টুর স্কুলে যাওয়ার পথ বন্ধ হলেসুস্মিতা নামক বন্ধু তার সে সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান করে এবং নটে গাছটি মুড়লো/সেন্টুর কাহিনী ফুরলো।
আমার কৈশরের একটা বড়ো সময় কেটেছে স্যারের কিশোর উপন্যাসগুলো পড়ে। আহ! কী গ্রোগ্রাসেই না গিলতাম স্যারের "হাকা রবিন,দুষ্টু ছেলের দল,দীপু নাম্বার টু,আমি তপু,রাশা,সফদর আলী কিংবা আমার বন্ধু রাশেদ"-এর মতো উপন্যাসগুলো। কিন্তু সেই একই ধরনের লেখা পড়ে আর স্বস্তি পাচ্ছি না বরং বিরক্তি উৎপাদন হচ্ছে। নতুন কিছুই পেলাম না "স'তে সেন্টু" র মাঝে। সেই পুরনো কিশোর উপন্যাসের কনসেপ্ট থেকে স্যার বের হতে পারলেন না।
আসুন আমরা সমস্বরে বলি, "স'তে সেন্টু /স'তে সুপারম্যান "
৬ মার্চ ২০১৬। আজ সন্ধ্যায় বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার এশিয়া কাপ ফাইনালের ম্যাচটি পিছিয়ে যাওয়ায় পড়তে শুরু করলাম মেলায় ধারে পাওয়া বই মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘স’তে সেন্টু’। বইটির প্রচ্ছদ অত্যন্ত মনোহর। একটা বড় চোখের ছেলে একটা হুইল চেয়ারে বসে আছে, হাতে কী যেন! বইটি উল্টালেই চমক। প্রথম ক’টি পাতা রঙিন নকশা করা কাগজের, ছোটদের জন্য বই যেমনটি হওয়া প্রয়োজন, ঠিক তেমনই।
আজকের রিভিউটি একটু ভিন্ন কায়দায় করব। বইয়ের আলোচনা কম, ব্যাকগ্রাউন্ড বেশী। আমার উন্নয়নখাতে কাজ করবার অভিজ্ঞতা ১০ বছরের মতো। বছর পাঁচেক আগে আমার পরিচয় হয় সাবরিনা আপা নামে এক তরুণীর সাথে যিনি হুইল চেয়ারে চলাফেরা করেন। সাবরিনা আপার সবচেয়ে বড় গুণ তিনি দারুণ দৃঢ়চেতা। প্রতিবন্ধীতা কী, প্রতিবন্ধীতার খুঁটিনাটি আমি জানতে পারি সাবরিনা আপা আর সালমা আপার কাছে। তারা দুজনেই বি-স্ক্যান নামে একটা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। উনাদের প্রতি আমার আগ্রহ আরও বাড়ে কারণ জাফর ইকবাল স্যার উনাদের দুইজনকেই খুব ভালো করে জানেন এবং সাবরিনা আপার নাম ভাঙিয়ে আমি জাফর ইকবাল স্যারের বেশ কাছাকাছিও গিয়েছি গত ক’বছরে।
সাবরিনা আপা এবং তার বন্ধুরা মিলে বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী মানুষদের অধিকার রক্ষার জন্য অনেকগুলো ভালো কাজ করেছেন। আমি পিছনে দাঁড়িয়ে, উনাদের সাথে থেকে সেইসব অসাধারন কাজের কিছু দেখার, শেখার চেষ্টা করেছি। তখনই সাবরিনা আপা আমাকে বলতেন জাফর ইকবাল স্যার প্রতিবন্ধী মানুষদের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করছেন এবং তিনি তাদেরকে নিয়ে একটি বই লিখবেন। ‘স’তে সেন্টু’র একটি পৃষ্টা না উল্টিয়েও আমি জানতাম এই বইটি সাবরিনা আপাদের সাথে স্যারের কমিটমেন্টের জায়গা থেকেই এসেছে, এসেছে আমাদের শিশু-কিশোরদের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার জায়গাটি পরিষ্কার করে বোঝাবার সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে।
সাবরিনা আপা’রা যে ক���টি ভালো কাজ করেছেন তার মধ্যে কয়েকটি সংক্ষেপে বলতে চাই। তারা নিয়মিত আন্দোলন করেছেন যাতে বাংলাদেশের সকল ভবনে হুইল চেয়ার ব্যবহারকারীরা প্রবেশ করতে পারেন। প্রবেশ করতে পারেন সকল প্রতীবন্ধী মানুষ। তারা ঢাকা এবং চট্টগ্রামের ২০টি ভবন খুবই বৈজ্ঞানিকভাবে পরিভ্রমণ করে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বের করেছেন ওইসব ভবনে কী কী সীমাবদ্ধতা আছে যাতে প্রতিবন্ধী মানুষরা সেইসব ভবনে প্রবেশ করতে পারেন না! সেই সব তথ্য নিয়ে তারা রিপোর্ট তৈরি করেছেন, শেয়ার করেছেন পত্রিকা, মিডিয়া এবং পলিসি মেকারদের সাথে।
উনাদের আগ্রহে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারের ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে, স্কুলগুলোতে র্যাম্প হয়েছে। বিভিন্ন ভবনে, টয়লেটে প্রতিবন্ধীবান্ধব সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তাদের উদ্দীপনায় ঢাকার একটি স্কুলে একটি মানুষ চালিত লিফট তৈরি করা হয়েছে যেটির উদ্বোধন করেছেন জাফর ইকবাল স্যার স্বয়ং। ওই অনুষ্ঠানে আমিও উপস্থিত ছিলাম।
এই কথাগুলো বলার কারণ আপনারা যখন বইটি পড়বেন তখন দেখবেন সেন্টু নামের প্রতিবন্ধী ছেলেটা যেই যেই কাজ করে, তার অনেকগুলোই জাফর ইকবাল স্যার জেনেছেন সাবরিনা আপাদের সাথে কাজ করে। বইয়ের শেষ পাতায় জাফর ইকবাল স্যার সাবরিনা আপার কথা উল্লেখ করেছেন, উল্লেখ করেছেন তার কাল্পনিক বইটির অনেক চরিত্রকেই যে তিনি আসলে বাস্তবে দেখেছেন সেই তথ্যটিও।
বরাবরের মতোই বইটি সহজ-সরল ভাষায় লেখা। এই বইটি পড়লেই বোঝা যায় স্যার চেয়েছেন আমরা একটি প্রতিবান্ধব সমাজ পাই যেখানে সকল শিশু স্কুলে যাবে কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই। আমি মনে করি স্যারের মহান এই উদ্যোগটি সফল হবে। এমন মহান উদ্যোগ নিয়ে যেবই লেখা হয় সেখানে ছোটখাট কোন ত্রুটি থাকলেই সেটি অগ্রাহ্য করতে হয়।
বইটি সবাই পড়বেন আশা করি। বিশেষত আপনার বাসার ছোট ছেলেমেয়েদের জন্য বইটি পড়া ফরজ প্রায়।
ক্লাস এইট নাইনের পরে কিশোর উপন্যাস আর পড়া হয় না । It was humorous . এখন বই পড়তে গেলে মনে হয় সব এত কমপ্লেক্স লাগে কেন , ছোট এই বইখানা পড়তে গিয়ে খেয়াল হল এখন আর সহজ জিনিস পড়ি না , পড়তে চাই না বা পড়তে ইচ্ছা হয় না বা পড়তে ভালো লাগে না বা ~ জীবন সহজ ছিল সেসময় ।
It was one of the good works by the author. After all these years I still can enjoy his new works, and that alone should explain a lot. He is iconic as ever with his literature. Yes, he has a common pattern to his books, but it's a style he himself has developed working hard. So, I don't mind so much, I just enjoy being one of his readers.
এই বইটা পড়া শুরু করি দীপনপুরে(বইয়ের দোকান) প্রথম যেদিন গেলাম সেদিন। সুপ্রিয়কে পড়ানোর সময় হয়ে গিয়েছিলো বিধায় বইয়ের মাঝখানে থাকা অবস্থায়ই চলে যেতে হয়েছিল। মাঝখানে কয়েক মাস চলে গেল। এরপর আজকে চাকরি চাপে যখন জর্জরিত, তখন ল্যাবে বসে পড়ে ফেললাম বাকিটা। বিকালটা অনেক হাসিখুশি গেলো। কিন্তু রিভিউ লিখতে এসে সবার এতো হতাশা দেখে হতাশ হয়ে গেলাম।
সত্যি বলতে কি বইটা আমার অনেক ভাল লেগেছে। হেসেছি অনেক। বাচ্চাদের বুদ্ধিদীপ্ত ডায়ালগগুলো মজার ছিল। সবচেয়ে মজা পেয়েছি জোর করে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করা স্যারকে নাস্তানাবুদ করলো যে গল্পে। সবাই টাক্কু মাথা করে ফেলার গল্পটাও ভাল লাগলো। চোখে পানি আসার মত বেশ কয়েকটা ঘটনাই আছে এখানে। পুরো গল্পটা আমি ওই বাচ্চাদের একজন হয়েই পড়ছিলাম। তাই মনে হয় বেশি ভাল লাগলো। ওই অংশটাও অনেক মজার ছিল। "আমাদের জীবন যখন তেলাপোকার জীবন হয়ে গেলো"। :D :D :D চারদিকে বাচ্চাদের নাচ, গান, আবৃত্তিতে সফল হয়ার জন্য শহুরে স্বচ্ছল বাবা-মা যে পরিমাণ চাপ দেয়, সেখানে এমন "কিছু না প্যারা" ভলান্টিয়ার বাচ্চা দরকার অনেক গুলা। নাচ, গান না শিখে এমন ঘুরাঘুরি করার মতো প্রতিষ্ঠান থাকলে মন্দ হতো না। গল্পের গঠন জাফর স্যারের আরও দশটা কিশোর উপন্যাসের মতই। অনেকে এই ক্লিশে নিয়ে বিরক্ত। বেশিরভাগ রিভিউতে তাই এসেছে দেখলাম। কিন্তু এ ধরনের আরও অনেক গল্প যেমন আঁখি ও তার বন্ধুরা(মোরশেদুল ইসলাম যেটা নিয়ে সিনেমা বানাচ্ছে) আগে পড়া সত্ত্বেও এটা ভাল লেগেছে। হুইল চেয়ারে চলাফেরা করা মানুষরা যে র্যাম্পের অভাবে স্টেজে উঠতে পারে না, এটা আমার খেয়াল ছিল না। এই ধাক্কাটা আমার জন্য দরকার ছিল। শেষের লিফটের ঘটনাটা যে বাস্তবে হয়েছে, সেটা সাবরিনা আপুকে (ভার্চুয়ালি) চেনা থাকার কারণে জানতাম। আমার মনে হয় এ ধরনের বই আরও দরকার। আমাদের বাচ্চারা যদি ছোটবেলা থেকেই অন্যের বাঁধা-বিপত্তিগুলো সম্পর্কে জানতে পারে। তাহলে তারা যখন নীতি-নির্ধারক হবে, তখন হয়তো সার্বজনীন একটা সমাজ আমরা পাবো। ফুটবলে খেলার অংশটুকু একটু অবাস্তব লেগেছে। সেটা আমার পিছিয়ে পড়া মানসিকতার জন্যই হয়তো। শেষে কোন ধরনের এডোভেঞ্চার না দেওয়ায় খুশি হয়েছি। গল্পটায় এডোভেঞ্চার দরকার ছিল না। এমন হাসিখুশিটাই দরকার ছিল। বইয়ের মূল মেসেজটা অনেক দরকারি এই বিবেচনাটুকু বাদ দিয়েও গল্পের জন্য বইটাকে ৫ এ ৪ দেব। আমার বিকালটা হাসিখুশি করার জন্য ধন্যবাদ।
অনেক অনেক দি পর খুব উপভোগ করলাম জাফর ইকবালের লেখা। কৈশরে যেমন মুগ্ধ হয়েছিলাম হাত কাটা রবিন বা দীপু নম্বর টু পড়ে, এই বইটি কেন যেন সেরকম ভাল লাগলো। পড়ে শেষ করে ফেললাম একটানে।
আমাদের সমাজে শারীরিক প্রতিবন্ধীদেরকে খুব একটা সুবিধে দেয়া হয় না যাতে করে তারা কিছুটা হলেও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। এই বইটি একটি প্রধাণ চরিত্র এক প্রতিবন্ধী ছেলে যাকে হুইল চেয়ারে থাকতে হয়। লেখক খুব মজা করে গল্পটা বলেছেন, কিন্তু ছেলেটার কষ্টটা যেন তাতে আরো অনেক বেশি ফুটে উঠেছে।
প্রিয় লেখকের এরকম আরো অনেক বই পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।
স'তে সেন্টূ দিয়ে আমার ২০১৬ সালের reading challenge শেষ করলাম। বইটা অনেক শখ করে জমায় রাখছিলাম কিন্তু আশা পূরণ করার মতো বই ছিলোনা। লেখার ধরন কেমনযেন তাড়াহুড়া করে লিখে শেষ করে ফেলার মতো। Concept ও আগের কিছু বইয়ের মতো। আমার তাতেও আপত্তি ছিলোনা লেখাটা যদি আগের বইগুলার মতো যত্ন করে লেখা হতো! বইটা পড়ে এমন আশাহত হবো বুঝিনি।
আজকে বিকেলেই ক্রেনিয়াল পড়ে হতাশ হয়ে ভাবছিলাম জাফর ইকবালের লেখা পড়ে আর সেই মজা পাই না। কিন্তু এই বই ধারনাকে বদলে দিল। লেখার মান আর নতুনত্ত চিন্তা করলে হয়ত তেমন কিছুই পাওয়া যাবে না, কিন্তু অনেক দিন পর কোনো বই পড়ে হিহি করে হাসলাম। মনটাই ভালো হয়ে গেল :)
বইয়ের বিষয়বস্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই সময়োপোযোগী। বাংলাদেশে হুইলচেয���ারে বসা একটি টিনেজ ছেলের জীবন কিভাবে কাটে, স্কুলে, ঘরে বাইরে কি কি প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয় তাকে সে সব নিয়ে জাফর ইকবালের নিজস্ব ধাঁচে লেখা। ধন্যবাদ যে কোন আজাইরা মেসেজ দেয়ার চেষ্টা করা হয়নি। বেশ সুপাঠ্য ।
মুজাইক হাতে নিলাম তাও বছর দুয়েক হবে। চার বছর আগে লেখা এ বইটা সাম্প্রতিক মুজাইকের বইগুলো থেকে বেশি ভালো ছিলো মনে হলো। হেসেছি বেশ অনেক, ভালো লেগেছে প্রতিবন্ধীদের প্রতি ছোটদের দৃষ্টি আকর্ষণ করায়।
শিক্ষাব্যবস্থার সর্বপর্যায়ে inclusive education এর ব্যবস্থা করাটা এখন বাংলাদেশের জন্যে জরুরি। গল্পের শেষে যে সাবরিনা আপার কথা বলা হয়েছে, আমি ভুল না করলে প্রায় বছর দশেক আগে তিনি অনলাইন রাইটার্স কমিউনিটি 'সচলায়তনে' হুইলচেয়ার অ্যাক্সেস, লিফট এগুলো নিয়ে লিখেছেন, এখনো কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে CRP এর মতো আরও কিছু প্রতিষ্ঠান হাতে চালিত লিফট এবং কম খরচের প্রকৌশল সমাধান নিয়ে কাজ করছে প্রতিবন্ধীদের জন্যে। হয়তো সর্বস্তরে দোকান, স্কুল, অফিস, ইউনিভার্সিটির সব বিল্ডিং-এর হুইলচেয়ার অ্যাস্কেসিবল ব্যবস্থা হওয়া খুব দূরের বিষয় না, দরকার প্রধানত মানসিকতার পরিবর্তন। এই বইটা এই জরুরি দিকটায় ছোটদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আশাকরি বড়রাও সেদিকে তাকাবে।
আর নিজে মনে হয় মোতালেব স্যারের মতো আবেগী শিক্ষক হয়ে যাচ্ছি, কথায় কথায় ছাত্রদের জ্ঞান দেই আর চোখেও পানি চলে আসে।
হুইলচেয়ারে বসে ক্লাসে এক নতুন ছাত্র আসে, তার নাম সেন্টু। সে ক্লাসে আসার আগেই ক্লাস টিচার মোতালেব স্যার সবাইকে বলেন কেউ যেন তার অসুস্থতা নিয়ে তাকে প্রশ্ন না করে বা তাকে ছোটো করে না দেখে। কিন্তু ক্লাসের ছাত্ররা প্রথম অবাক হয় তার বুদ্ধি দেখে, আর তার অসুস্থতা যেন তার জন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা ই নয়। একসময় সেন্টুর নতুন স্কুলের সব বন্ধুর সাথে বেশ ভাব হয় যায়। দুষ্ট বন্ধুকে শায়েস্তা করা,আবার সবার সাথে নিমেষে ভাব জমানো, বন্ধুদের বিপদে সাহায্য করা আরো কত সুন্দর কাজে তাদের স্কুল জীবন ভালোই কেটে যায়। শিশুকিশোর দের জন্য মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের বইয়ের কোনো তুলনা নেই এই বইটিও তেমন। আপনার পরিচিত কোনো টিনএজারদের সাজেস্ট করতে পারেন।
Quite good! Fairly well written and funny. Reminded me of some of MZI's old books (e.g. দুষ্টু ছেলের দল). I do wish the book had a bigger climactic (adventure?) story, although that didn't take too much away from it. I was relieved that while the intention of the book was clearly raising awareness, the author did not compromise entertainment. However, it lacks something compared to his older books. (Yes, I'm a sucker for nostalgia). I liked the titular character, but a lot of the other characters were indistinguishable. Nice cover art. Rating 3.5
সেন্টু একজন অসাধারণ ছেলে।সে শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও সে অনেক বুদ্ধিমান একজন ছেলে।সে তার বুদ্ধি খাটিয়ে ক্লসের সবচেয়ে মাস্তান টাইপের ছেলেটাকে যেভাবে জব্দ করেছে তা অসাধারণ ছিল।একটু একটু করে ক্লসের সবাই তার বন্ধু হয়ে ওঠে এবং ক্লস নাইনে উঠার কারণে তাদের ক্লস রুমটা থাকে দ্বিতীয় তলায়।তাই হেডস্যার সেন্টুকে ডেকে স্কুলে আসতে নিষেধ করে।ফলে কিছু দিন পর সে স্কুলে আসা বন্ধ করে দেয়। শেষমেষ তার বন্ধুরা তাকে আবার স্কুলে ফিরিয়ে আনে। আমার 😊 লেগেছে।
অনেকদিন পর স্যারের কোন বই পড়লাম। ছোটবেলায় ওনার বই পড়ে যেভাবে আনন্দে আটখানা হয়ে যেতাম, সেরকম কোন অনুভূতি না হলেও খুব একটা খারাপ লাগে নি। কিছু কিছু জায়গা পড়ে হাসছিলাম। লেখাটি মূলত আমাদের দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা এবং মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে ব্যাঙ্গ করে লেখা। তবে ঐ তো, পুরনো সব কনসেপ্ট মিলিয়ে মিশিয়ে লেখা আর কি! আর শেষটা পছন্দ হয় নি, হুট করে শেষ করে দেওয়া হয়েছে মনে হল। যাই হোক, যারা নতুন নতুন স্যারের লেখা পড়ছে, তাদের বেশ ভালো লাগতে পারে। :)
জাফর ইকবাল স্যারের সর্বশেষ বছরের লেখাগুলির মান নিয়ে বেশ আলোচনা সমালোচনা হয়। স'তে সেন্টুও তার বাইরে পড়ে নি। কিন্তু আমি বলতে চাই এই বইটি মোটেও খারাপ নয়। এরকম এন্টারটেইনিং কিশোর উপন্যাস আমি বেশ কমই পড়েছি। আর বিশেষ করে যারা সেন্টুর মতো একটু অস্বাভাবিক তাদের এই বই প্রচুর প্রেরণা জোগাবে।
অসম্ভব রকমের দারুণ একটা বই, বিশ/ত্রিশ টাকা দিয়ে যট্টুক মনে পড়ে পুরোনো লাইব্রেরি থেকে কিনেছিলাম। সেই ক্লাস সিক্সে থাকতে পড়েছিলাম, শেষের দিকে চোখে জল এনে দিয়েছিল! কিশোর বয়সের উপযোগী দারুণ একটা বই ছিল তখন, এখনো হয়তোবা আছে......:'-)
জাফর ইকবালের বই আমার কদাচিৎ ভালো লাগে। লেখক হিসেবে ভালো তবে মাঝে মাঝে গল্পের মূল বিষয়টি তেমন ভালো লাগে না। কিন্তু এই গল্পটা আসলেই ভালো ছিল। চমৎকার লিখেছেন এবং যথেষ্ট হাস্যকর ছিল। একজন হুইল চেয়ারে বসা ছাত্র কিভাবে নতুন বন্ধু তৈরি করল এবং তাদের সাথে যা কান্ড ঘটায় তা পড়তে বেশ মজাই লাগল।
উপন্যাসটি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী কিশোরকে নিয়ে। গল্পটার কাহিনী খুবই সাধারণ। বইয়ে লেখক বুলিইং ও কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং নতুন প্রজন্মকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও চিন্ত��শীল হতে উৎসাহ দিয়েছেন।
জাফর ইকবালের স্যারের লেখা আমার সবচেয়ে প্রিয় বই। সব পাঠকদের কাছে আমার অনুরোধ এটা অবশ্যই পড়বা। বইটি বন্ধুত্বের দিক, লেখার দিক, কাহিনী প্রত্যেক বিষয়েই A+ প্রাপ্ত।