আশির আহমেদ জাপানের কিয়ুশু বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহযোগী অধ্যাপক। গবেষণা করছেন তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে। গবেষণাগার খুলেছেন বাংলাদেশে। সামাজিক সমস্যা সমাধানের গবেষণাগার। গ্রামীণ কমিউনিকেশান্সের গ্লোবাল কমিউনিকেশন সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। জন্ম সিলেটে হলেও শৈশব আর প্রাইমারি স্কুল কেটেছে মতলব থানার এখলাসপুর গ্রামে। তারপর কুমিল্লা জিলা স্কুল আর ঢাকা কলেজ। বুয়েটে অল্প কিছুদিন ক্লাস করার পর ১৯৮৮ সালের অক্টোবরে জাপান শিক্ষামন্ত্রণালয়ের বৃত্তি নিয়ে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট কলেজ অব টেকনোলজি গ্রুপের প্রথম ব্যাচের ছাত্র হিসেবে জাপানে আসেন। জাপানের ৪৭টি প্রিফেকচারের ৪৭টিই চষে বেড়িয়েছেন। বানিয়েছেন হাজারো জাপানি বন্ধু। প্রায় তিন দশকের জাপানের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাভাষীদের জন্য লিখেছেন বেশ কিছু জাপান-কাহিনী।
লেখকের জাপানে বসবাসের অভিজ্ঞতাই তুলে ধরেছেন বইটিতে। সাথে বলেছেন আমাদের সাথে তাদের কালচারের পার্থক্য। সহজ, সুখপাঠ্য, ক্ষেত্র বিশেষে হালকা হিউমেরাস। এক-দেড় ঘণ্টা লাইট রিডিং এর জন্য পারফেক্ট।
বিঃদ্রঃ বন্ধু জাকারিয়া কে ধন্যবাদ বইটি গিফট করার জন্য। বন্ধু কিনতেসিল। তখন আমি ওর থেকে ধার নিয়ে পড়ার ইচ্ছা পোষণ করসিলাম। ধারের তোয়াক্কা না করে সে কিনেই দিসে। বড়ই দিলদরিয়া মানুষ।
জাপান নিয়ে যদি আপনার আগ্রহ থেকে থাকে(যেমনটা আমার আছে), যদি জাপানে স্থায়ী কিংবা কিয়দাংশ সময় কাটানোর ইচ্ছে থেকে থাকে(যেমনটা আমার আছে), তাহলে বোধ করি বইটা আপনার ভালো লাগবে। লেখকের বর্ণনাভঙ্গি বেশ সুখপাঠ্য। একটানা পড়ে ফেলা যায়। নাক বোঁচাদের প্রতি আলাদা একটা ফ্যাসিনেশন ছোটবেলা থেকেই কাজ করে আমার, সেই লক্ষ্যেই জাপান সংক্রান্ত যে কোন কিছু পেলে পড়ে ফেলি। সে জাপানি সাহিত্য হোক কিংবা নন ফিকশন হোক। জাপান কাহিনী মূলত লেখকের দীর্ঘ জাপান জীবনের খণ্ড খণ্ড স্মৃতিচারণ। তার ব্লগ পোস্টগুলোর সংকলন। আমার মত তিনিও হুমায়ূন প্রেমী, এক জায়গায় বলেছেন যে একবার ১৮ ঘন্টা টানা ফোনে কথা বলেছেন, শুধুমাত্র হুমায়ূন আহমেদের একটা বই নিয়ে। বেশ লেগেছে আমার কাছে। আগামী খণ্ডগুলোও পড়ে ফেলবো।
বইটা তথ্যবহুল, মজার ও মন ভালো করার মতো। বাংলাদেশ ও জাপানের সাংস্কৃতিক পার্থক্যের বিষয়টাও সুন্দরভাবে এসেছে।একটাই অভিযোগ - ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে বই করার সময় প্রচুর পরিমার্জনার দরকার ছিলো।
একবসায় পড়ে ফেলার মতো বই আশির আহমেদের "জাপান কাহিনি"র পহেলা খণ্ড। ছাত্র হিসেবে জাপানে পড়তে গিয়েছিলেন লেখক। দীর্ঘদিন সেখানেই বসবাস করছেন। এই খণ্ডে প্রাধান্য পেয়েছে আশির দশকে জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়ার পর বিভিন্ন ঘটনা। যেখান থেকে ধারণা পাওয়া যায় জাপানের সমাজ ও সভ্যতা সম্পর্কে।
সূর্যোদয়ের দেশ জাপান নিয়ে আমার কৌতূহলের অন্ত নেই। তাদের দেশ, সমাজ ও লোকাচার আমি জানার আগ্রহ থেকেই বইটা পড়া। আশির আহমেদের লেখার হাত ভালো। মেদহীন গদ্য তরতরিয়ে পড়া গেছে। ছোট ছোট ঘটনা আকারে বইতে কুড়িটির বেশি কাহিনি আছে। সবচাইতে ভালো লেগেছে "সামাজিক শিক্ষা" লেখাটি। স্রেফ এই লেখাটি পড়লেও বুঝতে পারা যাবে কেন জাপান এত এগিয়ে।
ফেসবুক সেলিব্রিটিদের লেখা পারতপক্ষে পড়ি না। তবে এই বইটা পড়ে ভালো লাগল। যদিও বানান ভুলের মহড়া দৃষ্টিকটু। সিরিজের বাকি বইগুলো হাতের কাছে পেলে হয়তো কোনো অবসরে পড়বো। পহেলা খণ্ড পড়ে এখনই বাকিগুলো পড়ে ফেলার ইচ্ছা তৈরি হয়নি।
বইটা পড়ে আসলেই অনেক ভালো লাগল, জাপান আমার খুব প্রিয় একটি দেশ, ওদের কালচার আমার খুবই ভালো লাগে। আর আমি তো অনেক আগে থেকেই এনিমের ভক্ত! জীবনে কোন দেশে গিয়ে থাকার সুযোগ হলে জাপানে গিয়েই থাকব। লেখকের লেখার ধরন বেশ মজার, দ্রুত পড়ে ফেলা যায়। প্রথম বই বলেই হয়তো লেখাটা একটু এলোমেলো বা unpolished লেগেছে। আশা করছি সিরিজের অন্য বই গুলার লেখা আরো polished আর পরিপক্ব হবে।
৩.৫/৫ জাপান নিয়ে মজার সব গল্প জানা গেল। এমনিতে লেখকের গল্প বলার ভঙ্গী ভালোই। আকারেও ছোট। তাই বেশ দ্রুতই শেষ করা সম্ভব। তবে লিখাগুলো ফেসবুকের পোস্ট থেকে একত্রিত করে সংকলন করে দেয়া হয়েছে। পরিমার্জনা বোধহয় খুব বেশি করা হয়নি কারণ পড়ার সময় মনে হয় হচ্ছিল ফেসবুকে কোনো ট্রাভেল গ্রুপের পোস্ট পড়ছি। বইয়ের শেষে ফেসবুকের কতোগুলো কমেন্টের স্ক্রিনশট জুড়ে দেয়ার ব্যাপারটা বেশ হাস্যকর ঠেকল।
বইটা শুরু করেছিলাম ২-৩দিন আগে। মাত্র ৯০ পৃষ্ঠা। কিন্তু বইটই পড়াই হচ্ছেনা কতদিন... যাহোক, এই সিরিজটা নিয়ে অনেক কথা শুনেছি, অনেক ডাউট ও ছিলো। প্রথম বইতা শেষ। এত্ত মজা পেয়েছি! বেশ কিছু জায়গায় হো হো করে হেসেছি। বেশ ইনফরমেটিভ কিন্তু একেবারেই বোরিং না। সব মিলিয়ে কমপ্লিট প্যাকেজ। এখন আর ডাউট নাই, এই সিরিজ পুরোটা শেষ করব। যেহেতু প্রথমতা পড়লাম, প্রথমটা রিকোমেন্ডেড!
লেখকের রসবোধের প্রশংসা না করলেই নয়। যদিও বইটা মূলত লেখকের ব্যক্তিগত ব্লগপোস্টের সংকলন, তারপরেও পড়তে গিয়ে কখনোই bore feel করি নি। এমন সব বিষয় নিয়েও রসিকতার মাধ্যমে রূঢ় সত্যটা বলেছেন যা রীতিমত অসম্ভব বলে মনে হয়। যেমন জাপানীদের আত্বহত্যার বিষয়টি। বইয়ের প্রুফ রিডিং এর মান আরো ভাল হলে রেটিং আরো কিছু বেশী দিতাম।
লেখক জীবনের বড় একটা সময় জাপানে কাটিয়েছেন। জাপানের সমাজ ও সংস্কৃতিকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তার স্মৃতির রত্ন সম্ভারের কিছু কিছু মনিমুক্তা পাঠকদের হাতে তুলে দিয়েছেন এই বইতে।
আমাকে যদি বলা হয় প্রিয় পাঁচটা দেশের নাম বলতে তাহলে নির্দ্ধিধায় যে দেশটার নাম উপরের দিকে উঠে আসবে সে দেশটি হচ্ছে-জাপান। এ দেশের ডিসিপ্লিন থেকে শুরু করে কালচার, লিটারেচার প্রায় সবকিছুই রীতিমতো আমাকে মুগ্ধ করে। জাপান এর প্রতি এই ফ্যাসিনেশন থেকেই আশির আহমেদ এর "জাপান কাহিনি" এর প্রথম খন্ড শুরু করি।
তো "জাপানের আত্নহত্যা" এ দেশের একটা উল্লেখযোগ্য বিষয়, যেটা নিয়ে বিভিন্ন আর্টিকেল আছে। ডার্ক, সিরিয়াস ব্যাপার স্যাপার। তবে মজার ব্যাপার হলো লেখক জাপানিজদের আত্নহত্যা বিষয়ক যে কথাগুলো এখানে বলেছেন সেটা শুনে আপনারও মনে হবে, 'আত্নহত্যা নিয়ে এমন মজা করে মানুষ কথা বলতে পারে? জাপানি ভূত, ওদের ফিউনারেল এর তরিকা কিংবা কেমন হয় জাপানের শ্মশান এমন সব বিচিত্র দিক সম্পর্কে জানতে পেরেছি। লেখক মজার ছলে আরো জানিয়েছেন জাপানে তার প্রতি গ্রামবাসীদের কদর, সামাজিক শিক্ষা, উন্নতমানের সবরকম ফ্যাসিলিটি আরো নানান জিনিস। তবুও সব ভালোর ভেতরেও খারাপ থাকে। যেমন এত উন্নত দেশের কিছু কিছু অঞ্চলেও কুসংস্কার কিংবা কাস্ট সমস্যা থেকে যায়।
সবমিলিয়ে দারুন একটা ফান রিড। হিউমারাস সাথে সাথে ইনফরমেটিভ। লেখককে ধন্যবাদ সুন্দর করে গুছিয়ে অধ্যায় আকারে প্রকাশ করার জন্য। এবার সবগুলো খন্ড পড়ার ইচ্ছা আছে এক এক করে।
বইটা কিনে ভয়ে ভয়ে ছিলাম। কেমন হবে জানি না। ইতিহাস আর তথ্য ঠাসা বই হলে তো মাথায় হাত দিতে হবে। কিন্তু তেমন হয়নি। আমি যতটা আশা করেছি বইটা নিয়ে ততটাই পেয়েছি। লেখকের ২৫ বছরের জাপানে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা বইটি। ২০ টি ছোট গল্প নিয়ে। না গল্প না ভ্রমণ কাহিনী বলা যায়। না ভ্রমণ কাহিনী ও না। একে কি বলা যায়?
জানলাম জাপানে বছরে ৩৩০০০ লোক আত্মহত্যা করে! জাপানে বিল্ডিংএ ৪ তলা নেই। ৩ এর পর ৫ তলা! উন্নতদেশ অথচ কি কুসংস্কার তাদের। জাপানি সামাজিক শিক্ষা, ভাষা, জরুরী নাম্বার, টয়লেটে সব কিছু নিয়েই লেখেছেন এখানে লেখক। কখনো অবাক হবেন.. কখনো হাসবেন.. কখনো অভিভূত হবেন। শুনলে চমকে জাবেন জাপানে মৃত্যুর পরবর্তী অনুষ্ঠানিকতার খরচ প্রায় ২৫ হাজার ডলার! একটা মানুষ পুড়াতে এতো টাকা লাগে নাকি! আরো কতকিছুই না আছে এতে।
সহজ সরল ভাষায় লেখা প্রতিটি গল্পই আমার খুব ভালো লেগেছে। মাঝেমধ্যে কিছু লেখা মাথার উপর দিয়ে গেছে অবশ্য তবে সে গুলো কোন সমস্যা না। বইটি নিয়ে ঘুরে আসুন জাপান থেকে।
এই বইটির সন্ধান সবার প্রথমে পাই কল্লোল ভাইয়ের পোস্ট থেকে। কল্লোল ভাই কেম্নে কেম্নে জানি চিপা চুপা থেকে অসাধারণ বই বের করে আনেন, তখন ভারি লোভ হয়েছিলো বইটা পড়ার জন্য। কিন্তু ভ্রমণপিপাসু হয়েও ক্যান জানি ভ্রমণকাহিনী আমার প্রিয় জনরা না। তাই আর বইটা নেয়াও হয় নাই। এছাড়াও এক হুমায়ুন আহমেদ ছাড়া কারো ভ্রমনকাহিনীই আমার ভাল্লাগেনাই। সেদিন গভীর রাতে অফিসের কাজ শেষে স্ট্রেস রিলিজে বসে বসে রকমারি ঘাটছিলাম। তখন এই বইটা সামনে আসলো, আর "একটু পড়ে দেখুন" অপশনে গিয়ে আসলেই পড়ে দেখলাম! ব্যস কেল্লা ফতে! নগদে অর্ডার। একটানে একরাতে বইটি শেষ করে ফেললাম। এত সুন্দর, এত চমৎকার একটা বই! কি সুন্দর সাবলীল লেখা, চমৎকার বর্ণনা। এক্সট্রা তথ্য দিয়ে নিজেকে জাহির করা নেই, মনে হচ্ছিলো লেখকের সাথে সাথে আমিও ঘুরছি। অসাধারণ সুন্দর একটা বই।
ফেসবুকে বোধহয় অনেকেই বেশ কয়েকটি 'জাপান কাহিনি' পড়েছেন। অতঃপর ফেসবুকে পাঠকদের উৎসাহেই নাকি লেখকের বই লেখার উদ্যোগ। আমার কখনো তাঁর কাহিনি পড়া হয়নি ফেসবুকে। বেটার লেট দ্যান নেভার! পড়ে ফেললাম জাপান কাহিনি ১ম খণ্ড। খুবই সরল সরেস লেখনী। সুন্দর উপস্থাপন। লেখা পড়েই কেন যেন মনে হচ্ছিল স্টাইলটা অনেকটাই হুমায়ুন লেখনীর মত। যতই এগুলাম বুঝতে পারলাম এর কারণ। লেখক আশির আহমেদ নিঃসন্দেহে একজন হুমায়ুন ফ্যান। তাঁর লেখায় পাওয়া যায় অসংখ্য হুমায়ুনী রেফারেন্স। তা যাই হোক। জাপান নিয়ে অনেক কিছু জানলাম। আক্ষরিক অর্থে ‘অনেক কিছু’। লেখক তাঁর ২৫ বছরের জাপানি জীবনের অভিজ্ঞতার গল্প (সত্য ঘটনা) গেঁথেছেন। দুই মলাটে আবদ্ধ ২১ টা চ্যাপ্টারে উঠে এসেছে জাপানের আত্মহত্যা, ফিউনারেল পার্লার, জাপানের সামাজিক শিক্ষা, মিডিয়া, টয়লেট, হট স্প্রিং এবং আরও। আমার প্রিয় দুটি চ্যাপ্টার ছিল জাপানের সামাজিক শিক্ষা ও জাপানিজ মিডিয়া। জাপানের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আমি বরাবরই ফ্যাসিনেটেড। আহারে কত কিছু যে শেখা যায় এই জাতিটা থাকে। ভালোর উল্টো পিঠে থাকে ভালোর উল্টোটা :p জাপানেও আছে কাস্ট সমস্যা, কুসংস্কার আর বৃদ্ধাশ্রমের একাকীত্ব। বছরে ৩৩০০০ তরুণ আত্মহত্যা করেন সেখানে। জানলাম বিশ্বের সর্ববৃহৎ টয়লেট ম্যানুফ্যাকচারার জাপানিজ ‘টো-টো’ কোম্পানি সম্পর্কে। লেখক কথা প্রসঙ্গে কিছু জায়গায় এঁকেছেন বাংলাদেশের তুলনামূলক চিত্র। সেসব জায়গায় বুক চিরে বেরিয়ে এসেছে একটাই আওয়াজ, ‘আহারে! আমার দেশটা’। একদিন নিশ্চয়ই আমরা শিখবো। দেখে হোক, ঠেকে হোক, শিখবো ইন শা আল্লাহ্। ভালো বই। পাঁচে দিলাম চার। বাকি ৪ খণ্ড হাতে আছে...এগোই :D
অনেকদিন পরে ভ্রমনকাহিনী টাইপ কিছু পড়লাম। যদিও ভ্রমনকাহিনী বললে ভুল হবে, লেখক জাপানে কাটানো তার দীর্ঘসময়ের স্মৃতিচারণ করেছেন এই বইয়ে। পরে বেশ ভালো লেগেছে, ছোট ছোট কাহিনীগুলো ছিলো আগ্রহ জাগানিয়া। তবে কিছু বিষয় খারাপ লেগেছে বলতে হবে। কিছু গল্পের শেষটা ছিলো আবেগপূর্ণ, কিন্তু শেষদিকে কিছু হালকা ফেসবুকীয় লাইন যোগ করে শেষের সেই গাম্ভীর্যটুকু নষ্ট করা হয়েছে বলে আমার ধারনা। লেখক একজায়গায় লিখেছেন "একটা অমুসলিম"। যদিও বইয়ের কোথাও তাকে অন্য ধর্মের মানুষকে অশ্রদ্ধা করতে দেখিনি, তবুও এই দুটো শব্দ একসাথে বেশ দৃষ্টিকটু। জাপানের লোকেরা আমাদের মতো ভিন্ন ধর্ম কিংবা সংস্কৃতির লোকদেরকে যে সম্মান দিয়েছে, আমাদরেও উচিত অন্য ধর্ম কিংবা সংস্কৃতির মানুষকেও সেভাবেই দেখা।
২৪ তারিখ হুট করে বেশ অনাড়ম্বরভাবেই শেষ হয় আমাদের গ্র্যাজুয়েশন জার্নি৷ ঐদিন মুবা অফিস থেকে নিয়ে গেল বেংগল বই-এ। অনেক সময় নিয়ে পুরো লাইব্রেরি ঘুরে অনেক বইএর মাঝ থেকে এই বইটা আমার নিজেকে নিজে দেয়া "গ্র্যাজুয়েশন গিফট" ছিল।
আজকে অফিসের বোরিং কাজের ফাঁকে পড়তে বসে শেষ করেই ফেললাম।
বেশ মজার ভ্রমণকাহিনী। জাপানীদের ব্যাপারে অনেক জানা অজানা তথ্য জানতে পারবেন। আর লেখার ধরন অনেক এংগেজিং আর ভাষা মার্জিত। বিরক্ত হই নি এক মুহূর্তের জন্যেও। . . . ২৮ জুলাই, ২০২৫ | ঢাকা, বাংলাদেশ
২,৩,৪,৫...... এরপর বের হলাম প্রথম খন্ডের খোঁজে। সিলেটের বাতিঘর বলেছিলো খন্ড ৬ টা। আজ ��ানলাম ৮ টা। আনন্দটা বেড়ে গেল। অনেকদিন পরে একটা বইয়ের সিরিজ এভাবে গোগ্রাসে গিলছি।
এ পর্যন্ত মোট বারোটি খন্ড বেরিয়েছে। বইগুলোর সর্বপ্রথম খোঁজ পাই nahid parvez ভাইয়ের এ বছরের বই কেনার উইশ লিস্ট দেখে। নাম দেখে আগ্রহ, ইথারে ঢু মারতে দেখি লেখক সাহেব বইটার প্রথম খন্ড পুরোটা নোট আকারে টাইমলাইনে দিয়ে রেখেছেন। দুটো পার্ট পড়েই ডিসিশন নেই কালেকসন করা লাগবে। সদ্য ভার্সিটি উঠা সেল্ফ ডিপেন্ডপ্রাপ্ত ছুটো ভাইকে দিয়ে সবগুলো খন্ড রকমারি থেকে আনিয়ে নেই।
বইটি লেখক আশির আহমেদের ব্যক্তিগত ভ্রমণকাহিনী। এই বইটিতে তিনি জাপানে তার অভিজ্ঞতা, সেখানকার সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা, এবং জাপানিদের চিন্তাভাবনা ও মনোভাব সম্পর্কে বর্ণনা সাবলীল ভঙ্গিমায় বর্ণনা করেছেন। ছোট ছোট গল্পে জাপানের ভেতরের গল্প গুলো তুলে ধরেছেন। পড়তে বেশ ভালই লাগছিল।
পড়তে পড়তে একটা জিনিস খেয়াল হলো লেখক বেশ হুমায়ূন প্রেমিক। পরতে পরতে হুমায়ূন আহমেদ এর নাটক অথবা গল্পের রেফারেন্স দিচ্ছেন। জাপানিরা ভদ্র সুশীল নিয়মানুবর্তী আমরা জানি, প্রশ্ন হচ্ছে পুরো জাতির মাঝে এটা কিভাবে ছড়িয়ে পড়লো?
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে হেরে গিয়ে জাপানের সম্রাট হিরোহিতো আমেরিকার প্রতিনিধি ম্যাক আর্থারের কাছে গেলেন। প্রতীকি আইটেম হিসেবে নিয়ে গেলেন এক ব্যাগ চাল। হারাকিরি ভঙিতে হাঁটু গেড়ে মাথা পেতে দিয়ে বললেন- আমার মাথা কেটে নেন আর এই চালটুকু গ্রহণ করুন। আমার প্রজাদের রক্ষা করুন। ওরা ভাত পছন্দ করে। ওদের যেন ভাতের অভাব না হয়।
সম্রাট হিরোহিতোর এই ক্যারেক্টার আমেরিকানদের পছন্দ হলো। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের কুখ্যাত মহানায়কদের মাঝে কেবল সম্রাট হিরোহিত বিনা আঘাতে বেঁচে ছিলেন।
বলছিলাম জাপানের সামাজিক শিক্ষার কথা। সামাজিক শিক্ষা শুরু হয় কিন্ডারগার্টেন লেভেল থেকে। সর্বপ্রথম যে তিনটি শব্দ এদের শিখানো হয় তা হলো-
১) কননিচিওয়া (হ্যালো)- পরিচিত মানুষকে দেখা মাত্র "হ্যালো" বলবে।
( (২) আরিগাতোউ (ধন্যবাদ)- সমাজে বাস করতে হলে একে অপরকে উপকার করবে। তুমি যদি বিন্দুমাত্র কারো দ্বারা উপকৃত হও তাহলে "ধন্যবাদ" দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে।
(৩) গোমেননাসাই (দুঃখিত)- মানুষ মাত্রই ভুল করবে এবং সেই ভুলের জন্য ক্ষমা চাইবে।
এগুলো যে শুধু শিখানো মুখস্থ করে শিখানো হয় তা না। বাস্তবে শিক্ষকরা প্রো-এক্টিভলি সুযোগ পেলেই ব্যবহার করবেন এবং করিয়ে ছাড়বেন।
লেখক যখন জাপানে যান, উনাদের একটা কোর্স ছিলো কালচার নিয়ে। শিক্ষক একজন ছাত্র শুধু উনি! কোর্সটি পড়াতে উনার শিক্ষক ছাত্র কে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় টুর দেন। বাড়িঘর দেখতে হাই সোসাইটি গ্রামীণ পরিবেশে যাত্রা, অনসেনে গিয়ে জলকেলি কত কি! পড়তে পড়তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার এর বিডিএস কোর্সের কথা মনে পড়ছিল। যেটা ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিয়েছিলাম!
মাত্র একটি খন্ড শেষ হয়েছে। দেখি থাকতে থাকতে সবগুলো কমপ্লিট করতে পারি কিনা!
২০২২ ফিফা বিশ্বকাপে একটা দেশ ট্রফি না জিতেও মানুষের হার্ট জিতে নিয়েছিল। দেশটার নাম কি বলুনতো? হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন দেশটা হচ্ছে এশিয়ার প্রথম দিককার উন্নত দেশগুলোর একটা, জাপান! মাঝে মাঝে আপনাদের মনে হয়তো প্রশ্ন জাগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শোচনীয় অবস্থা থেকে কীভাবে জাপান এতটা উন্নতির চুড়ায় আরোহণ করতে পারলো? এর খুব সহজ সাবলীল একটা উত্তর হচ্ছে দেশটার মানুষের শৃঙ্খলা আর গোছানো জীবনযাপন। আপনি আমি যেখানে দশ বছর স্কুলে পায়চারি করেও বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ জ্ঞান ছাড়া কিছুই অর্জন করতে পারি না (আমাদের দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের এই অবস্থা) সেখানে কিন্তু জাপানের প্রাইমারি লেভেলের শিক্ষার্থীরাই আপনার আমার থেকে অনেক বেশি প্র্যাকটিকাল নলেজ অর্জন করে ফেলে। শৈশব থেকেই তারা তাদের চারপাশটাকে বুঝতে শিখে যায় একেবারে হাতেকলমে! আমাদের কৈশরের সময়কাল কাটে স্কুলে বন্ধুদের আড্ডায়, খেলার মাঠে আর পাঠ্যপুস্তক গেলা আর পরীক্ষার খাতায় উদগিরণ করে। অন্যদিকে জাপানে কিশোর বয়সেই একজন লাইফের Important Skill গুলো আয়ত্ত করে ফেলে। প্রতিটা কাজ এবং পদক্ষেপের জন্য সরকার জনগনের কাছে জবাবদিহিতা করতে বাধ্য থাকে। প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও সে দেশে মেনে চলা হয় Strict এবং কার্যকর নিয়ম-কানুন। এবার তাহলে বলুন তো উন্নতির ছোঁয়া কেন পাবে না তারা?
নব্বই দশকের শেষ দিকে পিএইচডি করতে গিয়ে জাপানের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে থেকেছেন বইয়ের লেখক আশির আহমেদ। বিভিন্ন অলিগলিতে বিচরণ করেছেন। মিশেছেন সেখানকার মানুষদের সাথে। জমিয়েছেন অনেক অনেক স্মৃতি আর মায়া। Explore করেছেন জাপানিদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং ভাষা। খুব কাছ থেকে Observe করেছেন সেখানকার মানুষদের জীবনযাত্রা। সেখানকার এসব গল্প তিনি শোনাতে চেয়েছেন আমাদেরকে। স্মৃতির ভান্ডার থেকে জাপানে থাকাকালীন সময়ের (নব্বই দশকের শেষের দিক এবং আরলি টু থাউজেন্ড) কিছু গল্পের সাথে Humour এর মিশ্রণে লেখক একটি সিরিজ নিয়ে হাজির হয়েছেন আমাদের সামনে। সিরিজটার নাম দিয়েছেন ‘জাপান কাহিনি'। সর্বমোট আটটি বই আছে এ সিরিজে। একটা বই থেকেই কতোকিছু এক্সপ্লোর করে ফেললাম জাপান সম্পর্কে! না জানি বাকি বইগুলোতে আর কি কি লুকিয়ে রাখা আছে! কোনো একদিন এক্সপ্লোর করবো ইনশাআল্লাহ।
প্রথম দেখাতে ভেবেছিলাম, এটা বুঝি ভ্রমণকাহিনি। কিন্তু না, এটা আসলে লেখকের জাপানে বসবাসের গল্প—সেই দেশকে তিনি যেমন দেখেছেন, তেমনভাবেই তুলে ধরেছেন। তবে যা-তা তথ্য নয়, বরং জাপানের সংস্কৃতির সেই সূক্ষ্ম, গভীর দিকগুলো, যা কেবল একজন দীর্ঘদিনের অভিবাসীই ধরতে পারেন। পাশাপাশি, তিনি আমাদের দেখান দুই সংস্কৃতির ফারাক, কখনও বিস্ময়ের চোখে, কখনও হালকা মজার ছলে।
কিন্তু আসল আকর্ষণ? লেখার ভঙ্গি! এমন ঝরঝরে, এত সাবলীল যে পড়তে পড়তে সময় কেটে যায় নিমেষে। আর তার সঙ্গে গল্প বলার ভেতর যে মজার ছোঁয়া, সেটা পুরো বইটাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। একদম হালকা, মজাদার, দ্রুত পড়ার জন্য একেবারে পারফেক্ট!
জাপান সম্পর্কে টুকটাক জেনেছি অনেক আগে থেকেই। সেই থেকেই জাপান সম্পর্কে একটা ইতিবাচক ধারণা ছিলো। কিন্তু লেখকের লেখনীতে সেই ধারণা আরও স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হলো। জাপানি মানুষ, রীতি, কালচারের প্রতি শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেছে। এই যে ছোট থেকে নৈতিক শিক্ষার বীজ বপন করার যে প্রক্রিয়া সবার জন্যই অনুকরণীয়। তবে সংখ্যা নিয়ে জাপানিদের যে উদ্ভট কুসংস্কার তাও নেহাত হাস্যকরই লেগেছে। এছাড়াও বৃদ্ধ বয়সে একাকিত্ম ও কম পীড়াদায়ক নয়।
ভারী কোন পড়াশোনা শুরু করার আগে, লাইট রিডিং-এর জন্য বইটা ভালো হবে। আর আমার মতো পড়া ছুটে যাওয়া পাবলিকের জন্য তো ভালো বটেই! লেখকের জাপানবাসের অভিজ্ঞতা বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে। স্পেশালি ওই ওদের আত্মহত্যা করা আর ফিউনারেলের ব্যাপারটা। না পড়লে জানতামই না যে এই রকমও হতে পারে! খুবই সহজ ভাষায় লেখা প্রত্যেকটি চ্যাপ্টার। ফেসবুক স্ট্যাটাস-ব্লগে লেখা ছোট ছোট অংশকে একত্রিত করে মূলত এই বই। তাই কেন যেন ঠিক বই-বই ফিলিংসটা আসে নি। অনেকটা ট্রিভিয়া টাইপ ছিল। অনেক নতুন ইনফরমেশন পেলাম তো তাই আর কি।
পাঠক বইটাকে 'ভ্রমণকাহিনী' ধরে থাকলে মস্ত ভুল করবেন। লেখক বইতে জাপানে বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে প্রাপ্ত নিজের অভিজ্ঞতা, জাপানের ভাষা-সংস্কৃতি, সামাজিক অবকাঠামোসহ আরো নানান বিষয় উঠিয়ে এনেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে কিভাবে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিকল্পিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা যায় তার একটা সম্যক আইডিয়া দিয়েছেন।
হুবহু ফেসবুক থেকে ছাপানোটা ঠিক হয়নি, সম্পাদনা-পরিমার্জনা বলেও একটা জিনিস আছে যেটার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। আর বইয়ের নিচে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহের জন্য 'টীকা' ব্যবহার করা হলে ভালো হতো
লেখক বুয়েটে ভর্তি হওয়ার কিছুদিন পর মনবুকাগাশো বৃত্তি নিয়ে জাপানে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পড়তে চলে যান ১৯৮৯ সালে৷ বৃত্তির প্রথম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। সেই সময়ের জাপানে তার টুকরো টুকরো অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। হুমায়ূন আহমেদ স্টাইলের লেখা, ধুপধাপ পড়ে শেষ করে ফেলা যায়।
জাপান কাহিনী লেখা শুরু হয় ফেইসবুকের পোস্ট থেকে। লেখক আশির আহমেদ জাপানে থাকাকালীন তার বিভিন্ন ঘটনা, জাপানের কালচার, সংস্কৃতি সব নিয়ে গল্প করে করে আমাদের বলতে লাগলেন। যদিও গল্প হলেও সব সত্যি। কেমন অদ্ভুত লাগে সব শুনতে,জানতে। সত্যিই পড়ে বেশ মজা পেলাম।
A really nice book for knowing Japan from an Bangladeshi's experience. Author's witty & relaxed writing made the a perfect choice for light & cozy reading. Highly recommended for both new & old readers.