খুনের দায় এড়াতে প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর বন্ধুর সাথে এক অজপাড়াগাঁয়ে গা ঢাকা দিতে এসে আরো বড় বিপদে পড়ে গেল শিল্পপতির ছেলে জামশেদ। একের পর এক গ্রামবাসি খুন হচ্ছে অজানা কোনোকিছুর হাতে। জামশেদের প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর বন্ধুর মতে, এটা সেই কিংবদন্তির শ্বাপদ যা গ্রামের পাশে রহস্যময় জঙ্গলে বাস করছে শত বছর ধরে। সত্যিই কি তাই? নাকি সবছিুর ব্যাখ্যা আরো জটিল? জঙ্গলের ভেতরের পুরনো মন্দিরে অবশেষে কার মুখোমুখি হতে হলো? অপার্থিব শ্বাপদের, নাকি সেই অসীম ক্ষমতাধরের, যে অন্ধকার জগতের রাজপুত্র, অমরত্বের চাবি যার হাতের মুঠোয়, লৌকিক পৃথিবীর অলৌকিক অধিশ্বর হয়ে উঠতে যার দরকার আর মাত্র একটা...
এই রহস্য উদঘাটন করতে হলে ডুব দিতে হবে কোনোমতে প্রাণ হাতে নিয়ে ফেরা একজনের অবিশ্বাস্য জবানবন্দীর গভীরে।
নাবিল মুহতাসিমের প্রথম মৌলিক উপন্যাস, হরর-থ্রিলার শ্বাপদ সনে পাঠককে ভিন্ন ধরণের একটি গল্পের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে।
৩.৫ স্টারস প্রথমে ভালো দিকগুলোর কথা বলি: ভয় পেতে চাইলে বইটা পড়তে পারেন। প্যারানরমাল কতগুলো সীন এর বর্ণণা অসম্ভব রকম ভালো লেগেছে পারফেক্ট ডিটেইলিং এর কারণে। সীনগুলোর স্লো বিল্ডাপ ভালো লাগাটাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ঝরঝরে লেখনীর কারনে পড়তেও খারাপ লাগেন কোথাও। কাহিনীর শুরু থেকে ১৫০ পাতা পর্যন্ত স্লো(সংগত কারণেই)। কিন্তু এর পরের পাতাগুলোই উড়ে উড়ে গিয়েছি । লেখক ডাক্তার, তাই মেডিকেল টার্মস এর ব্যাবহার করেছেন জায়গামত, ওটাও ভালো লেগেছে । ইংরেজি শব্দের ব্যবহার কিছুটা বেশী হলেও, আমার কাছে চলনসই লেগেছে ক্যারেক্টার গুলোর ভিত্তিতে। খারাপ লাগা প্রায় নেই বললেই চলে, কিন্তু আমার কাছে মূল প্লটটা একটু দূর্বল লেগেছে। আরেকটু ভালো এক্সিকিউশন হতে পারত, আশা করি লেখকের সামনের বইগুলোতে তাই হবে। :) ভাল একটা বইয়েরর জন্যে ধন্যবাদ।
বন্ধুর কথা ভুলব বলি শ্বাপদ সনে আইলাম চলি । সয়না জ্বালা, তুমি বিনে চইল্লাম আমি শ্বাপদ সনে ।।
▪️▪️▪️
শ্বাপদের শাব্দিক অর্থ সারমেয়ের পা; অন্য কথায়, হিংস্র জন্তু–মানুষও হতে পারে। সনে অর্থ সাথে, সঙ্গে। তার মানে কোনো হিংস্র কিছুর সাথে কেউ একজন কোথাও যাচ্ছে! (শিরোনাম ব্যাখ্যা আমার উর্বর মস্তিষ্কের অনুর্বর কল্পনাও হতে পারে!!) শুনতেই কেমন রোম-শিরশিরে প্লট না? একটুখানি হরর, অনেকখানি হ্যালুসিনেশন, আর শয়তানের উপাসনা ও চক্রীয় ষড়যন্ত্র—দেশি থ্রিলারে নতুন স্বাদ দিয়েছে।
নাবিল মুহতাসিমের প্রথম বই ছিল এটা। সেইক্ষেত্রে পাঠক হিসেবে খুবই সন্তুষ্ট হয়েছি পড়ে। এ রকম দুই লেয়ারের গল্পের শেষের মোড় নাটকীয় না হলে জমে না, লেখক সেদিকে কেয়ারফুল ছিলেন এটা দেখেই পড়াশেষের আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে গেল।
গল্প কেমন লাগল? সেসব পরের কথা। আসল কথা হচ্ছে গল্পে কী হলো? এবং এই প্রশ্নে কবি নীরব! পুরো বই পড়ে শেষমেশ গিয়ে মনে হয়েছে, সত্যিই তো! কী হলো?
গল্প খারাপ লাগেনি। নাবিল সাহেবের লেখার হাত ভাল, বর্ণনা বেশ সুন্দর। তবে কয়েক যায়গায় একই বর্ণনা ফেরত এসেছে। সেগুলো অবশ্য সতর্ক সম্পাদনায় শুধরে ফেলা সম্ভব, তাই লেখককে দোষ দিচ্ছি না। কিন্তু একটা বিষয়ে লেখককে দোষ দেব, কিংবা অনুরধ করব। সেটা হলো, গল্পে শব্দের ইংরেজি উচ্চারণ ব্যবহারটা কমাতে হবে। প্রচুর ইংরেজি উচ্চারণের শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, যেগুলোর বাংলা সমার্থক কিছু দেয়া গেল হয়তো ভবিষ্যতের লেখক/লেখকদের উপকার হতে পারত, একটা আলাদা ষ্ট্যাণ্ডার্ড হতে পারত। আশাকরি পরবর্তীতে লেখক এদিকে নজর দেবেন।
প্রথমে ভেবেছিলাম গল্প শুরু হয়েছে দেরীতে, মূল কাহিনী আরাম্ভ হতে পেরিয়ে গেছে বইয়ের অর্ধেক। শেষ গিয়ে বুঝলাম, নাহ, আসলে কাহিনী শুরু হয়েছে শুরুতেই, কিন্তু শেষ যেটা হয়েছে সেটা আদেও শেষ কিনা তা গল্পে পরিষ্কার করা হয়নি! এই ব্যাপারটা রহস্যময়! একবার মনে হচ্ছে গল্প শেষ, আবার মনে হচ্ছে না, আবার মনে হচ্ছে না! শেষ কীভাবে?!
বইয়ের শেষ তিরিশ পাতা উড়ে উড়ে পড়েছি। প্রথমদিকেও গতি ছিল, তবে অতটা না। বইয়ের মাঝামাঝি একটা দুর্দান্ত কার চেজ দৃশ্য রয়েছে, যা চমৎকার বর্ণনায় তুলে ধরা হয়েছে। রয়েছে দুর্দান্ত কিছু টুইস্ট।
কাহিনী বিন্যাস ভালই, তবে মূল চরিত্র কখন ঘোরে চলে যাচ্ছে, আবার কখন বাস্তবে, কখন অবাস্তবে এই জিনিসগুলো আরও একটু ভেঙ্গে দেখাতে পারলে ভাল হত, অর্থাৎ ওসব প্যারাগ্রাফের শুরুতে কিছু একটা চিহ্ন ব্যবহার করা যেতে পারত, এবং সেটা করলে ভাল হত।
যেটা বলছিলাম। জীবনে খুব কম বইই মনে হয় রাতে টর্চের আলোয় শেষ করেছি! এই বইয়ের শেষ পাঁচ ছয় পাতা এভাবেই পড়েছি, মোবাইলে আলো জানিয়ে, কেন না আমার ঘরের লাইট বাধ্য হয়ে বন্ধ করে দিতে হয়েছি, অথচ বইটা শেষ না করে ঘুমাতে ইচ্ছে করছিল না! সুতরাং কাহিনীতে কি পরিমান ডুবে গিয়েছিলাম বোঝাই যাচ্ছে!
নাবিল মুহতাসিম আরও ভাল ভাল গল্প লিখবেন আশা রইল, এবং অবশ্যই আরও বড় পরিসরে লিখবেন। গল্পের চরিত্রায়ন এই বইয়ের সবথেকে শক্তিশালী দিক। প্রতিটি চরিত্র আলাদা করে বিশেষ এবং তাদের স্বভাব থেকে শুরু করে সবকিছু অনন্য। গ্রামের ভাষার দারুণ প্রয়োগও চোখে লাগার মত। এছাড়াও এসেছে বিভিন্ন মেডিক্যাল ট্রামের দ্বারা গল্পের সমৃদ্ধকরণের ব্যাপারটি। বিশেষ করে কেন মাংস মাছ, শাক সব্জির তুলনায় ভাল সেই ব্যাখ্যা জীবনেও ভুলব না!
শুক্রবার। বেলা ১১ টা। চারদিক নিঃস্তব্ধ। আমি একা ঘরের এক কোণার সর্ব আলোকিত রুমে বসে আছি। তারপর পড়া শুরু করলাম "শ্বাপদ সনে"। আর বাকিটা... ইতিহাস!
কাহিনীসংক্ষেপঃ বড়লোকের বখে যাওয়া সন্তান যাকে বলে আরকি, জামশেদ ঠিক তাই। ইন্টারন্যাশনাল গোল্ড মেডেলিস্ট শুটার। বন্ধুর সাথে ইনভেস্টিগেশনে যায় এক গ্রামে যেখানে গরু-ছাগল থেকে শুরু করে মানুষের লাশ পড়ছে। গুজব শোনা যায়, এ সবই এক পিশাচের কাজ। কিন্তু বাস্তবিক অর্থেই কে রয়েছে এর পেছনে??
পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ আমি ডার্ক ফ্যান্টাসি কিংবা হরর- যা-ই বলুন, এই জনরার বিরাট বড় ভক্ত। হরর জিনিসটাকে আমি অসম্ভব রকমের ভালোবাসি। যেমন ধরুন- রাতে বাথরুমে যাওয়ার সময় নিজে নিজে ভাবি- জানালার ওপাশ থেকে এখন কেউ অদ্ভুত স্বরে আমাকে ডাকবে কিংবা একা একা ঘুমালে নিজে থেকেই চিন্তা করি, 'আচ্ছা, আ���ি যদি এখন ভয় আনার চেষ্টা করি তবে কি সে আসবে? খাটের নিচ থেকে সে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে আমার দিকে, মুহূর্তের জন্য দম বন্ধ হয়ে আসে। এটার মধ্যেও মজা খুঁজে পাওয়া যায়। তা, তেমনই দুপুরের স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে চাদর মুড়ি দিয়ে এটা শুরু করেছি। আমার এক্সপেক্টেশনের বাইরে ছিল যে, এটা এই লেভেলের হরর হতে পারে।(অতিরিক্ত লেভেলের ভালো বলবো না, তবে হ্যাঁ, যতটুকু ভালো বর্ণনা দিয়েছে ততটা আশা করিনি।)
বাংলাদেশে সাধারণত হরর স্টোরিজ লেখা হয় 'ভূতের গল্প' নামে। কিন্তু এই দুটো শব্দ শুনলেই মনে পড়ে সেই চোখ নেই, কোটর থেকে রক্ত পড়া, চার পায়ে এগিয়ে আসতে থাকা সেই হাস্যকর ভূতগুলোর কথা। কিংবা, বাংলার ভূত-প্রেত-চূড়েল-স্কন্ধকাটা অয়্যারউলফও ইদানীংকালের হাস্যকর জিনিসে পরিণত হয়েছে। তাঁর ভেতর থেকেও আমি নাবিল মুনতাসিমের এই বইটা পড়ে বেশ মজা পেয়েছি।
চরিত্রায়নঃ এই বইয়ে মোটমাট কয়টা চরিত্র ছিল তা গুনে দেখতে ইচ্ছে করছে না। তবে যাদের কথা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে- জামশেদ, শিপলু, মজিদ দারোগা, খালেদুজ্জামান স্যার ব্লা ব্লা ব্লা। চরিত্রের সংখ্যা অগণিত।😑😶
আমার পুরো বই জুড়ে সবচেয়ে ভালোলাগা ক্যারেক্টর ছিল শিপলু। এমন উদ্ভট জিনিস ভালোলাগার কারণ- ডার্ক লাভার। আমি কিন্তু সত্যিই এই ক্যারেক্টার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। (যদিও বাস্তব জীবনে কখনো এমন চেইন স্মোকার চাইনা!😁) শেষের দিকে তাকে ভালো লেগেছে কিনা জিজ্ঞাসা করে লাভ নেই। লাগেনি ভালো। এমনটা হবে যে কে জানতো!!😐🤐
প্রোটাগনিস্টঃ প্রথম থেকে ভাবছিলাম, এই পচা লোকটার কথা বারবার বারবার করে লিখছে কেন? হি ডোন্ট ডিজারভ টু বি দ্য প্রোটাগনিস্ট। এরপর কাহিনী এগুচ্ছিল, আর একেকটা জট খুলছিল নিজের কাছে। বাপের টাকার জোরে বিগড়ানো জামশেদকে আমার একদমই পছন্দ হয়নি। কিন্তু বুদ্ধিমান, চতুর, শুটার- জামশেদ জোশ ছিল।
অ্যান্টাগনিস্টঃ আমার জন্য অ্যান্টাগনিস্ট হিসেবে পিশাচটা-ই পারফেক্ট ছিল। কিন্তু এরপর সব বদলে যায়। ঘুরে যায় কাহিনীর মোড়। টুইস্টের কোণে হারিয়ে যায় ভূত-টুত নামে ভং-চং যা ছিল সব। ঘরের শত্রু বিভীষণের ন্যায় আচরণ করে। লাস্ট ১৫ পৃষ্ঠার আগ পর্যন্ত আমি ভাবতে পারছিলাম না, ভিলেইন কীভাবে চেঞ্জ হয়ে যেতে পারে।
হররঃ “I know always that I am an outsider; a stranger in this century and among those who are still men.” ― H.P. Lovecraft, The Outsider
এমন 'পিচাশ'ই যদি না থাকে তাহলে আর কি-ই বা হবে। যদিও বাস্তবে পিশাচ বলতে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই; তবুও টুইস্টের আগে যতটুকু পর্যন্ত পিশাচের বর্ণনা ছিল ততটুকুই বেস্ট। হরর লাভার হিসেবে এই বইয়ে হরর এর,
রেটিং- ৩.৫/৫
থ্রিলারঃ খুব সম্ভবত থ্রিলার জিনিসটা আমার খুব একটা হজম হয়না। তাই এই বইয়ে পিশাচ সরিয়ে যখন সবকিছু মনুষ্যজাতিতে ফেরত আনলো, তখন একটু বিরক্ত লেগেছে। কেন, এই টুইস্টটা না আনলে কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেত! তাই থিলার হিসেবে এই বইয়ের,
রেটিং- ২/৫ অ্যাকচুয়ালি থ্রিলার পার্টে প্লট হোল অনেক বেশি ছিল, যার কারণে এটাকে খুব উচ্চমারগীয় থ্রিলার জ্ঞান করতে পারছি না।
প্রচ্ছদঃ ডিলান (মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, সেটা সবারই জানা কথা)। মলাটের দিকে হঠাত করে তাকালে দেখতে মোটেও ভালো লাগে না। কিন্তু খেয়াল করে দেখেছি যখন তখন এটার কিছুটা রহস্য ভেদ করতে পেরেছি বৈকি!
গল্পের মাঝে মাঝে — ব্রেক কষে কষে— মাসিক হালচালে প্রকাশিত শিপলুর কয়েক পাতার কেস স্টাডি/ ইনভেস্টিগেশনগুলোয় মূল গল্পের চেয়ে বেশি আমেজ ছিল৷ গল্পের তড়িঘড়ি পথ পরিবর্তনে হঠাৎ ঝাঁকি খেয়ে ঘুম ভাঙার মত বিরক্তি ভাব জন্মেছে৷ কন্সেন্ট্রেশন আসছিল না৷ পথের ঝাঁকি সয়ে গেছে, তাই টুইস্ট নিয়ে ঝাঁকি খেলাম না — আহামরি নয়।
প্লট বেশ ভালো, কাহিনীর গঠন আমার কাছে ভালো লেগেছে। কাহিনী বেশ লজিকাল, জোর করে ভৌতিক বানানোর চেষ্টা করে নি লেখক। কিন্তু, বেশ ভয় ভয় ভাব আছে গল্পের ভেতরে। যে ব্যপারটা একটু আক্ষেপ হয়েছে, তা হল গল্প সাজানোটা কেমন জানি বিক্ষিপ্ত, অগোছালো! সিক্রনাইজ নাই, এটা যদি ঠিক হত তাহলে গল্পটাকে ৫★ দিতাম। কিন্তু প্রথম বই হিসেবে দূর্দান্ত লিখেছেন লেখক।
আমার পড়া লেখকের বইগুলির মধ্যে এটা সেরা। বাংলায় লেখা হরর-থ্রিলার ট্রাই করতে চাইলে এটা মাস্ট রিড। আমি বইয়ের গ্রাফিক নভেল ভার্সন দিয়ে পড়া শুরু করলেও গল্পের আসল স্বাদ নিতে পাশাপাশি অরিজিনাল বইটাও পড়ি। গল্পের টুইস্ট এবং শেষে এসে সব রহস্যের জট খোলাতে লেখকের মুন্সিয়ানা ফুটে উঠেছে। মূল গল্পের মাঝে মাঝে ছোট গল্পগুলোও পুরো বইটি পড়ার এক্সপেরিয়েন্স কে এলিভেট করেছে।
প্রায় এক সপ্তাহ লাগিয়ে শেষ করলাম 'শ্বাপদ সনে'। শুনে মনে হতে পারে, বিরক্ত লেগেছে বা ধীরগতির কাহিনী বলেই এত সময় লেগেছে। আসলে তা না, বিরক্ত তো লাগেই নাই, বরং কাহিনি যথেষ্ট আকর্ষনীয় এবং গতিশীল ছিল, - ব্যস্ততার কারণেই প্রায় দুশো পৃষ্ঠার হরর থ্রিলারটা পড়তে এতটা সময় লাগল। আকর্ষনীয় কাহিনীর মত লেখনিও চমৎকার ঝরঝরে। শুরুতে একটু স্লো হলেও (সঙ্গত কারণেই) গল্প যত এগিয়েছে, গল্পের গতিও তত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শেষের পঞ্চাশ পৃষ্ঠা তো ছিল আনপুটডাউনেবল। মূল কালপ্রিটকে আড়াল করার জন্য লেখক যথেষ্ট দক্ষতার সাথে পাঠকের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছেন, তবে কাহিনীতে মূল চরিত্রসংখ্যা কম হওয়ার কারণে, চরিত্রগুলোর চরিত্র এবং কর্মকান্ড বিস্লেষন করে বিশেষ একজনের দিকে আঙ্গুল তুলতে বিশেষ সমস্যা হয় না, অন্তত আমার হয় নাই :) । সৌভাগ্যবশত (নাকি দূর্ভাগ্যবশত?) যাকে সন্দেহ করেছিলাম, শেষ পর্যন্ত সেটা মিলে যাওয়ায় ক্লাইম্যাক্সে অতটা ধাক্কা খাই নাই :( । তবে এটা ঠিক যে, মোটিভ সম্পর্কে কিছুটা ধোঁয়াশার মধ্যে ছিলাম, যেটা ধারণা করেছিলাম, সেটাও ভুল প্রমানিত হয়েছে। এবং এই জিনিসটাই পাঠকে ধরে রাখতে সক্ষম।এক কথায় বলা যায়, 'কে করছে?' এই প্রশ্নের চেয়ে বরং 'আসলে কী হচ্ছে? এবং 'কীভাবে হচ্ছে' এই প্রশ্ন দুটোই পাঠকে ধরে রাখবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। তবে সত্যি কথা বললে, এন্ডিং এ কিছুটা হলেও ডিজ্যাপয়েন্টেড হয়েছি। এমন না যে, লেখক গোঁজামিল দিয়ে শেষ করেছেন, বরং সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ভাবেই রহস্যের সমাপ্তি টেনেছেন। আসলে আমি সম্ভবত অন্য কিছু একটা আশা করছিলাম, যেটা হজম করতে আরেকটু বেগ পেতে হবে, যেটা তলপেটে কঠিন একটা পাঞ্চ দেবে, মাথাটা বোঁ বোঁ করে ঘুরবে। তবে, মূল ট্যুইস্টটা আগে থেকে ধরতে না পারলে, অনেকেরই এরকম অনুভূতি হতে পারে। বানান ভুল বা মুদ্রনপ্রমাদ তেমন একটা চোখে পড়েনি। অবশ্য বাংলা একাডেমির নতুন বানানরীতি সম্পর্কে ধারণা না থাকায়, নিশ্চিতও হতে পারছিলাম না অনেক বানান সম্পর্কে। বিশেষ করে লেখক সব জায়গাতেই 'কি' ব্যবহার করেছেন, কোথাও 'কী' ব্যবহার করেন নি। এই বিষয়টা কিছুটা বিভ্রান্তিতে ফেলেছে। এ বিষয়ে কারও ধারণা থাকলে, জানালে খুশি হব। লেখকের জন্য শুভকামনা। :)
বইটি পড়ে আমি একদম চমকে উঠেছি শেষে। হরর জনরা আমার পছন্দ না ,পড়ি না বললেই চলে। আসলে ছোটবেলায় হরর জনরার মুভি দেখলেও এখন দেখি না, এ জন্য বইও তেমনটা পড়ি না। মূল কথা এখন একটু ভয় লাগে🐸 কিন্তু রিভিউগুলো দেখে এই বই পড়া থেকে বিরত থাকতে পারি নি। ভুগতেও হয়েছে বেশ খানিকটা। বই পড়ার সময় বাইরে অনেক বাতাস হচ্ছিল, কোথায় যেন কট কট শব্দ হচ্ছিল আর আমি চমকে উঠছিলাম একটু পর পর। ডিটেইলিং বেশ ভালো ছিল। আমি ভেবেছিলাম ছোট গল্পগুলো হয়তো কাহিনীর সাথে লিংকড আপ কিন্তু তেমনটা না, এই জায়গায় একটু হতাশ হয়েছি। বইটি হররের সাথে সাথে থ্রিলার না হলে ভয় পেয়ে কাটাতে হতো দিন কয়েক।
বেশকয়েকটা ভালোরকম প্লটহোল থাকা সত্ত্বেও শ্বাপদ সনে ভালো লেগে গেল। মজার ব্যাপার হলো, একটু খেয়াল করে পড়লে একটা সময় বোঝা যায় প্লটহোলগুলো লেখক বেশ সচেতন ভাবে ঢুকিয়েছেন, যাতে শেষটায় পাঠককে প্রশ্নবিদ্ধ থাকতে হয়, 'এটা নাকি ওটা?' ঠিক কোনটা সত্য, এই ভেবে। এর বেশি কিছু বললেই স্পয়লার হয়ে যাবে।
'শ্বাপদ সনে'র পৃথিবীতে কে শ্বাপদ আর কে মানুষ, আলাদা করে চেনা যায় না। বারবার ভ্রম হতে থাকে...। এখানে কখনও মানুষই শ্বাপদের রূপ ধারণ করে, আবার কখনও শ্বাপদেরা মানুষের রূপ নিয়ে মিশে যায় মানুষের মাঝে।
যদিও "শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল প্রবাহ" টাইপ লাইনের অত্যুক্তি যথেষ্ট বিরক্ত করেছে, কিন্তু গল্পের সহজ গতিময়তার কারণে দ্রুত শেষ করতে পেরেছি। লেখকের প্রথম বই হিসেবে বেশ ভালো।
আ'ম হ্যাপি দ্যাট আই স্টারটেড রিডিং হিজ ওয়ার্কস উইদ দিস ওয়ান। বাজিকর ট্রিলজি, বিভং থাকতেও নাবিল মুহতাসিমের প্রথম মৌলিক 'শ্বাপদ সনে' দিয়ে তার লেখা পড়তে শুরু করলাম। বইটা পড়েছি কৌশিক দেবনাথের রেকমেন্ডেশনে, এবং গড়পড়তা রেটিং তুলনা করে বুঝলাম কৌশিক এবং আমার, দুজনেরই এই বইটা বেশ ভাল লেগেছে।
কিছু আড়াই রেটিং, এক তারা আর ডিজাপয়েন্টমেন্ট দেখে পাঁচ তারা দিতে একটু বোকা-বোকা লাগছিল। তারপরও আমি তা-ই দিলাম, ওভারঅল বইটা যা ডেলিভারি দিয়েছে, সেটাই পারফেক্টলি দিয়েছে সেজন্যে। প্লট আরো উন্নত হতে পারতো। তবে দুশো পেইজে ওটুকু প্লটেরই চমৎকার এগজিকিউশন দেখতে পেয়েছি।
* ক্যারেক্টার ডেভ : এই একটা ব্যাপার এই বইকে অন্য মাপে নিয়ে গেছে। মূল চরিত্রটা জ্যান্ত একটা চরিত্র। মাথাগরম, বদরাগী আর বড়লোকের অহঙ্কারী ছেলের চরিত্র। তার প্রতিটা আচরণ, চিন্তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে এই মানুষের দ্বারা এভাবেই ভাবা স্বাভাবিক, মানুষটা স্বাভাবিক কেউ না। পাঠক এই বইয়ে ইংরেজি শব্দের বহুল ব্যবহার দেখতে পাবার অভিযোগ করেছেন। এখানে এটাও লক্ষ্যনীয় যে বইটা পুরোটাই এক বা একাধিক চরিত্রের মুখে বর্ণিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে যার যেমন বাচনভঙ্গী ও শব্দচয়ন, ন্যারেশানে সেটা আসা-ই স্বাভাবিক মনে হয়েছে আমার কাছে।
* খুচরা গল্প : অনেকবারই মূল কাহিনীর ফাঁকে ফাঁকে একটা 'চেইঞ্জ অব ম্যুডে'র মতো কয়েকটা গল্প ঢুকে গেছে, একজন পার্শ্বচরিত্রের জবানে। সেগুলো বইপড়াটাতে একটু হরর মাত্রা দিয়েছে। সঙ্কটের মুহূর্তে 'চেইঞ্জ অব ম্যুড' আর লেখকের নিজস্ব স্টাইল ছাড়া আর কিছু মনে হয়নি ওগুলোকে। কিন্তু একদম শেষে বা তার আগে পাঠক বুঝতে পারবেন, ওই বিচ্ছিন্ন গল্পগুলো দিয়ে আসলে সূক্ষ্মভাবে পার্শ্বচরিত্রের ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট করা হয়েছে, এবং এই ডেভেলপমেন্ট মূলত ওই গল্পগুলোতেই পাঠক দেখতে পাবেন যতটা না মূল গল্পে তাকে দেখতে পাবেন।
* একশন সিকোয়েন্সের ডিজাইন : চমৎকার। কিশোর পাশা ইমন কেন আলাদা করে এই লেখকের প্রশংসা করেন তা বুঝতে পারলাম। এমনিতে কেপি'র একশন সিকোয়েন্স আমার কাছে পারফেক্ট এবং উপভোগ্য মনে হয়, বাংলাদেশী লেখক যত পড়েছি তার মাঝে। নাবিল মুহতাসিমের একশনগুলোও একদম চোখে ভাসার মতো। এবং চমৎকার ব্যাপার হচ্ছে, ঘটনার সময় আশপাশ-টা ঠিক কেমন ছিল, দিনের/রাতের কোন সময়টা, কেমন আলো আছে চারপাশে, এইসব ব্যাপার আলাদা করে চোখে ভেসেছে পড়ার সময়।
* ছাঁটাই : লেখক একেবারেই বেদরকারি সিকোয়েন্স রাখেননি। এটা ঘটলো, তারপর ওমুক ওমুক ঘটে আবার ওটা ঘটলো, এমন দুটা আকর্ষক ঘটনার মাঝের এই 'ওমুক ওমুক' সিকোয়েন্সগুলো ছেঁটে ফেলেছেন। সাধারণ যেকোন গল্পের ক্ষেত্রে সেটা দৃষ্টিকটু হতে পারতো, কিন্তু এই কাহিনীতে সেটা সুন্দর মানিয়ে গেছে মূল চরিত্রের অন্তঃসংঘাতের সাথে। এবং এতে তৈরী হওয়া 'খাপছাড়া ভাব'-টা বরং বলে না দিয়েও পাঠককে বুঝতে দিয়েছে, যে, সামথিং ইজ রং উইদ সামওয়ান।
বইটা সামান্য থ্রিলার এবং অনেকটুকু হরর। ভয় পাবার অথবা ছমছমে অনুভূতি পেতে চাইলে বইটা পড়তে পারেন। হরর বলতে হাউমাউখাউ আশা করবেন না একদমই।
বহুদিন পরে একখানা পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস পড়লাম। জর ফিকশন। পছন্দসই অন্ধকারাচ্ছন প্রেক্ষাপট। লেখকের প্রথম মৌলিক উপন্যাস। তবে 'শ্বাপদ সনে', তথাকথিত হরর নয়। বরঞ্চ, হরর আবহে রচিত একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। ভালোই। শেষ পর্যায়ে এসে বেশ খানিকটা হরকে গেলেও, ওভারল উপভোগ্য। আনরিলায়েবেল ন্যারেটর এবং একটি আদ্যোপান্ত ধূসর 'নায়ক' এর জন্যেই সাড়ে তিন তারা। শেষ খাতে, একটা খোলা পরিণতির আভাস দিয়েছেন লেখক। সেই সুক্ষতম প্রকোষ্ঠ গলে, আসল ও নকলের প্রকৃত বিচার করাটাই পাঠকের পরীক্ষা।
গল্পটার একটা স্ট্রং দিক হচ্ছে কিছু প্রেক্ষাপটের ডিটেইলস এতো নিখুঁত ভাবে দেয়া মনে হয়েছে যে আমি চোখের সামনেই দেখছি। গল্পের শুরুর দিকটা ভালো রকমের হরর, মাঝখান টুকু আমার কাছে খাপছাড়া এবং অগোছালো লেগেছে, আবার শেষের দিকটা বেশ ভালো।
একটা টুইস্ট ওয়ালা ভালো থ্রিলার বই পড়তে চাইলে বইটা নিঃসন্দেহে পড়ে ফেলতে পারেন।
দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কম্পিটিশনে শুটিং চ্যাম্পিয়ন জামসেদ। সে পাঁচ বছর আগের কথা। পাঁচ বছরে অনেক কিছুই বদলে যায়। এই যেমন জামসেদ এখন প্রচুর অ্যালকোহলিক। এই কারণে অলিম্পিকে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকার পরও নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি।
এর পাঁচ বছর পর যখন গল্পটা শুরু হয়, তখন তার বাবা মা রা গিয়েছে। এরপর থেকে কেমন যেন অদ্ভুত সব স্বপ্ন দেখে সে। দুঃস্বপ্ন দেখে রাতে ঘুম ভেঙে যায়। সে কি পাগল হয়ে যাচ্ছে? মনস্তত্ত্বে বড়ো ধরনের সমস্যা অবশ্যই আছে। যার জন্য সাইকিয়াট্রিকের স্মরনাপন্ন হতে হয়।
বড়লোক, বদমেজাজি জামশেদের শত্রুর অভাব থাকার কথা না। তেমন এক শত্রুর সাথে যদি তার বর্তমান প্রেমিকার যোগাযোগ থাকে, তাহলে মাথা ঠিক রাখা সম্ভব? জামশেদের মতো বদরাগী মানুষ এমন কিছু ঘটিয়ে ফেলে, তার পেছনে একদল খুনে গু ণ্ডা পেছনে লেগে থাকে। শুটিং চ্যাম্পিয়ন জামশেদ, তার হাতের নিশানা নিখুঁত। এই ভরসাতেই এক গাড়ি শত্রুকে যেভাবে নিকেষ করল, এরপর কী হবে আর ভাবতে চায় না জামশেদ।
জামশেদের বন্ধু শিপলু একজন জীবন্ত এনসাইক্লোপিডিয়া। বিশেষ করে অতিপ্রাকৃত, ভূতুড়ে বিষয়ে তার অগাধ জ্ঞান। এই বিষয় নিয়ে রিসার্চও করে প্রতিনিয়ত। একটি মাসিক পত্রিকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া অতিপ্রাকৃত, অদ্ভুত সব ঘটনার কেস স্টাডি লিখে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। মাঝেমাঝেই চিঠি পায় অদ্ভুত সব ঘটনার বিবরণসহ। রংপুর থেকেও এক চিঠি এসেছে। সেখানকার প্রত্যন্ত এক গ্রামে না-কি এমন এক প্রাণীর দেখা মিলেছে, যে মানুষখেকো। প্রাণী, না পিশাচ? আতঙ্কে আছে গ্রামবাসী। এই রহস্য সমাধান করতে তাই রংপুরে যেতে হবে শিপলুকে।
জামশেদের অঘটন ঘটানোর মুহূর্তে শিপলু ছিল সাথে। তাই তার পরামর্শ, কিছুদিনের জন্য গা ঢাকা দিতে হবে। আর সবচেয়ে বড় সুযোগ শিপলুর সাথে রংপুর যাওয়া। এতে যে মানসিক সমস্যায় আছে জামশেদ, তার জন্য হওয়া বদল হবে। নিজেকে আড়ালও করা যাবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নাহয় ফিরে আসা যাবে। তাছাড়া যে প্রাণীর কথা বলা হচ্ছে তাকে বধ করতে জামশেদকে প্রয়োজন। তার নিখুঁত নিশানাই একমাত্র ভরসা।
কিন্তু ওরা জানত না, কীসের মধ্যে ছুটে চলেছে ওরা। জামশেদ যদি জানত, এক ষড়যন্ত্রের চক্রবুহ্যে জড়িয়ে যাবে ও; তাহলে কি এই ভ্রমণে বন্ধুর সাথী হতো। গভীর এক চক্রান্ত, যার রূপরেখা অনেক আগেই আঁকা হয়ে গিয়েছে। এখন শুধু বাস্তবায়নের অপেক্ষা। যার জন্য শুধু জামশেদকেই লাগবে। কী ঘটবে সেই গভীর রাতে জঙ্গলের ভিতর? বেঁচে ফিরে আসার উপায় কি পাবে? না-কি সেখানে প্রস্তুত মৃ ত্যুর সকল আয়োজন?
▪️পাঠ প্রতিক্রিয়া :
নাবিল মুহতাসিমের সবচেয়ে জনপ্রিয় বই হিসেবে “বাজিকর ট্রিলজি” পাঠকের আস্থা অর্জন করেছে। তবে সিরিজটি প্রকাশের আগে লেখকের প্রথম বই “শ্বাপদ সনে” প্রকাশ পেয়েছিল। বইটির নামের মধ্যে একটা হরর জাতীয় অনুভূতি আছে। লেখক থেকে শুরু করে অনেক পাঠককে এই বইটিকে হরর জনরার বই হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও আমার শেষের দিকে তেমনটা মনে হয়নি। শেষের দিকে গল্প পুরোটা পুরো ১৮০° ঘুরে গিয়েছিল। সে বিষয়ে পরে আসছি।
নাবিল মুহতাসিমের সবচেয়ে ভালো বিষয় তার লেখনশৈলী, গল্প বলার ধরন। প্রথম বইতেও লেখকের লেখায় আড়ষ্টতা লক্ষ্য করা যায়নি। লেখকের লেখার ধরনে একধরনের ন্যাচারাল ভাব আছে। গল্প বলতে পারে দারুণভাবে। যদিও তার গল্প বলার ধরন ব্যতিক্রম। শুরুর দিকে ধীরে সুস্থ কাহিনি এগোয়, চরিত্রগুলোকে পরিচিত করিয়ে দেয়। চরিত্রের কর্মকাণ্ডগুলো উন্মুক্ত হয়। কাহিনি যতই এগোতে থাকে ধীরে ধীরে গল্পের গতি বৃদ্ধি পায়, শেষে এসে যেন লাগাম ছাড়া ঘোড়ার মতো ছুটতেই থাকে।
এই বইটির প্রথম একশ পৃষ্ঠা ভীষণ ধীর গতির। জামশেদকে পরিচয় করিয়ে দিতেই লেখক বেশ সময়ক্ষেপন করেছেন। গল্পের শুরুর থেকে একটা অংশ জামশেদ ও তার জীবনের গল্প। এখানে তার মানসিক অস্থিরতা প্রকাশ পায়। তাই শুরুর প্রায় একশ পৃষ্ঠায় বোঝা যায় না, গল্পটা কোনদিকে মোড় নিবে।
লেখকের বর্ণনা যেহেতু দারুণ, তিনি ঘটনার ভিজুলাইজেশন বেশ ভালো মতো তৈরি করতে পারেন। এখানে আক্রমণের কিছু দৃশ্য আছে। মনে হয়েছিল, চোখের সামনে যেন সবটা দেখছি। কাহিনি যেমনই হোক, এই বর্ণনাগুলো কারণে লেখকের লেখা পড়তে ভালো লাগে। তাছাড়া এই বইতে আপার ক্লাসের দিকেও লেখক আলোকপাত করেছে। তবে লেখকের লেখার মধ্যে ইংরেজি শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা বেশি। ইংরেজি শব্দের আধিক্য কিছুটা হলেও পড়ায় বাঁধা সৃষ্টি করেছে।
লেখক এখানে আশি, নব্বই দশকের সময়টাকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। সেই সময়ের বর্ণনা ভালো দিলেও ঠিক যথাযথ মনে হয়নি। আমার মনে হয়েছে, আরও বেটারভাবে উপস্থাপন করা যেত। সেই সময়ের রাজনৈতিক আবহ, পরিবেশ, সংস্কৃতি কিছুটা হলেও তুলে আনার সুযোগ ছিল।
আগেই বলেছি, শেষের দিকে কাহিনির গতিপথ পাল্টে যায়। হরর হিসেবে ঘটনা প্রবাহ পুরোটা থ্রিলারের আদলে রূপ নেয়। এখানে এসে কাহিনি ভালো লেগেছে। যদিও এর আগে কিছুটা মিশ্র অনুভূতি ছিল। অনেকটা জোর করে পৃষ্ঠা উল্টে গিয়েছি।
কাহিনির মাঝে মাঝে কিছু কেস স্টাডি ছিল। পড়তে ভালো লেগেছে। যদিও আমার মনে হচ্ছিল, এই কেস স্টাডিগুলো অবান্তর। কাহিনির সাথে যোগসাজশ নেই। যদিও শেষে এসে লেখক সেই ভুল প্রমাণ করেছে। পাঠকের কেস স্টাডিগুলোর সংযোগ ধরতে পারবে ঠিকঠাক। এক বিশাল যে ষড়যন্ত্রের বীজ গল্পে বপন করা হয়েছে লেখক প্রকাশের আগে তা ঘুণাক্ষরেও টের পাওয়া যায়নি। তবে গল্প বর্ণিত পুলিশের হুট করে মানবিক হয়ে ওঠা, প্রতিশোধ নেওয়ার প্রবণতা আমার ধোঁয়াশা লেগেছে। এর পেছনের ব্যাকস্টোরি আরেকটু স্পষ্ট করে তোলা যেত।
জামশেদের শ্যুটিং প্রতিযোগিতাকে লেখক সাফ কম্পিটিশন বলে আখ্যায়িত করেছেন। এখানে লেখক কিঞ্চিৎ ভুল করেছেন। সাফ প্রতিযোগিতা কেবল দক্ষিণ এশিয়ার দলগুলোর ফুটবল প্রতিযোগিতাকে বলা হয় থেকে। SAFF-এর ফুল মিনিং South Asian Football Federation. অন্যান্য খেলাসমৃদ্ধ টুর্নামেন্টকে এসএ গেমস বলে। অনেকটা অলিম্পিকের মতো দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিযোগিতা। যেখানে সব ধরনের প্রতিযোগিতা হয়। আমি জানি না আশি, নব্বই দশকে কী নামে ডাকা হতো; তবে আমার ভুল করার কথা না।
বইটা পড়ার সময় ও এর পরে আমার অনুভূতি মিশ্র। লেখকের লেখা দারুণ লেগেছে। কাহিনি শুরুর দিকে এভারেজ, এক বড়লোক বখে যাওয়া সন্তানের কথা এখানে গুরুত্ব পেয়েছে। যে বাবার মৃত্যুর পর হুট করে অঢেল সম্পত্তির মালিক। প্রচুর মদ্যপান করে, বন্ধুদের নিয়ে আসব জমায়। কাহিনি যত এগোতে থাকে তত জমজমাট হতে থাকে। আর শেষে পুরো ভিন্ন অনুভূতির সাথে লেখক পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। চমকটা ভালো লেগেছে। যদিও চমকের শেষেও চমক থাকে।
একজন যখন নিজের জবানে কাহিনি বলে, তখন কতটা সত্য আর কতটা মিথ্যে মেশানো থাকে; বোঝার উপায় থাকে না। বিশ্বাস করে নিতে হয়। জামশেদের জবানবন্দিতে উঠে আসা তার এই ঘটনা কতটুকু সত্য সেটা পাঠকের ভাবনার উপর ছেড়ে দেওয়া যায়।
বইটি শেষের দিকে কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় না। হয়তো লেখক ইচ্ছা করেই ধোঁয়াশা রেখেছেন। পাঠকের ভাবনার উপর ছেড়ে দিয়েছেন ঘটনা। তবে হরর জাতীয় উপাখ্যান হিসেবে শুরু হওয়ার পর শেষের দিকে তার কিছুই না পাওয়া একটু হতাশ করেছে। একই সাথে এই বইটাকে হরর হিসেবে আখ্যা দেওয়াটাও ভুল।
▪️পরিশেষে, আমাদের চোখের সামনে থাকে সত্য। মিথ্যে ঘুরে ফিরে বেড়ায় চারিপাশে। আসল, নকলের ভিড়ে সঠিক বিচার কর���ে না পারলে জীবন গভীর খাদের কিনারে এসে দাঁড়ায়। তাই লেখকের মতো, জামশেদের অবচেতন মন যেভাবে বলে; আমিও সেভাবে বলতে চাই — আসল নকল বিচার করো।
আমি হররের নামে এতো অখাদ্য পড়ছি যে হিসাব নাই আমার। এই বইটা বেশ ভালো, একে ঠিক হরর বলা যায় না। পুরোটাই থ্রিলার, মাঝে কিছু কিছু হরর ছোট গল্প যোগ হয়েছে। clever cover. আরেকটু মনোযোগ দিলেই বুঝে যেতাম। শেষ গল্পের শেষটুকু পড়তেই বুঝে গেছিলাম
আর জামশেদকে ড্রাগ দিয়ে রাখা হচ্ছিলো এটাও বুঝে গেছিলাম ...। আরও অনেক কিছুই প্রেডিক্ট করেছি। যাক গে। ভালোই লেগেছে। I don't think my money was wasted. বাজিকর পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।
This entire review has been hidden because of spoilers.
বইটা আমি এক বসাতে পড়ে শেষ করে ফেলেছি। ভাল বই। কিন্তু এইটাকে বড় গল্প হিসেবেও লেখক লিখতে পারতেন। মানে আমার ধারণা অতিরিক্ত কিছু বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অতিপ্রাকৃত বিষয়গুলোর গা ছমছম করা বর্ণনা খুব ভাল হয়েছে। কাহিনীর শুরু থেকে মূল গল্পে আসতে অনেক সময় লেগে গিয়ছে। লেখকের লেখার হাত খুবই ভাল। নইলে মূল গল্পে যাওয়ার আগেই হয়ত পড়া ছেড়ে দিতাম। সবমিলিয়ে সময়টা ভালই কেটে গেল।
পড়ছিলাম নাবিল মুহতাসিমের 'শ্বাপদ সনে'. চমৎকার একটা বই! গতকাল পড়ে শেষ করেছি। পুরোটা বই-ই বেশ উপভোগ্য ছিলো আসলে। নবীন লেখক নাবিল মুহতাসিমের লেখায় সবচেয়ে উপভোগ্য ব্যাপার হলো বর্ণণাভঙ্গি! যে কারণে বইটি পড়তে একটা সেকেন্ডও বোর লাগেনি। থ্রিলার গল্প শুধুমাত্র শেষে গিয়ে দুনিয়া এলোমেলো করা টুইস্ট আসবে, বাকি সময় মিডিওকোর স্টোরি হবে, এমনটা হলে বিরক্ত লাগে। এইযে বইটা ভালো লেগেছে কারণ টুইস্ট ছাড়াও এখানে গল্প আছে৷ পুরো বইটা এমন যে শেষে গিয়ে কাহিনীর সুতো সব না মেলালেও ভালো লাগতো আমার। ধরে রেখেছিলো বইটা আমাকে। যেকারণে রাত বিরাতে ঘুমাতে যাবার আগে ল্যাম্প জ্বালিয়ে পড়ে শেষ করেছিলাম।
কাহিনীর বেসিক ব্যাকগ্রাউন্ড হলো জামশেদ, এক গোল্ডমেডালিস্ট শ্যুটার, যে কিনা আবার ঢাকায় এক গোলমালে জড়ায়ে শেষে খুন করে ফেলে এক সন্ত্রাসীকে। সেই খুনের দায় থেকে বাঁচার জন্যে পালায় আসে বন্ধুর সাথে রংপুরের এক গ্রামে। সেই বন্ধু, শিপলু, আবার হলো প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর। লো বাজেট ভৌতিস্ট আরকি। এই মান্ধাতা আমলের গ্রামে আছে এক অদ্ভুত প্রাণীর উৎপাত, প্রায়ই জঙ্গল থেকে লোকালয়ে এসে মেরে যাচ্ছে মানুষ। শুরু হল জামশেদ, তার চাচাতো ভাই সামাদ, আর বন্ধু শিপলুর সেই রহস্যময় প্রানীর খোঁজে ইনভেস্টিগেশন।
কাহিনীটা খুবই সুন্দর, বাট কেমন জানি খাপছাড়া লাগলো।
বইয়ের পেসিংটাই জানি কেমন।
এই চলতেসে মেইন নায়ক জামশেদের কাহিনী, এই শুরু হয়ে গেলো ভূত এফএম স্টাইলে লেখা নায়কের বন্ধু শিপলুর প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেশনের কাহিনী। এটলিস্ট আলাদা পেজে নতুন চ্যাপ্টার করে শুরু করলেও বইটার প্রেজেন্টেশন আরেকটু সুন্দর হইতো। অনেকটাই পাতা বাড়ানোর জন্যে অন্য গল্প আনা দরকার মনে হইসে। অন্য অনেক বইয়ে থাকে না, নায়ক বা ভিলেনের ব্যাকস্টোরি? শেষে এসে কাহিনীর এন্ডিং এর সাথে এক সুতায় মিলে যায়? এই বইয়ে সেই সুতা আর মিলে নাই। অনেক বাদ্য বাজনার পরে হঠাত করে কেউ মিউট করে দিলো মনে হচ্ছে।
স্টোরিটা আনকমন। ভূত এফএম স্টাইলের প্রতিটা কাহিনীও বেশ সুন্দর। ক্লাস টেনে পড়া মেয়েটার কাহিনী বাদে। ঐ বয়সী কোন টিনেজার মেয়ে ভূতের বর্ণনা দেয়ার সময় "কামুক দৃস্টি" টাইপের ভোকাবুলারি ইউজ করবে কেমন অবাস্তব লাগলো।
মূল বা সাইড প্লট, কোনটাই তেমন এক্সট্রাওর্ডিনারি না। বইয়ের শেষে যেমন সব অতিপ্রাকৃত ব্যাপারের এক্সপ্ল্যানেশন দেয়া হলো, সেটা না থাকলেই আরো এনজয়েবল হত ব্যাপারটা। কেউ এটাকে স্পয়লার মনে করবেন না আবার, কিছুই বলি নাই তেমন :p
অনেক, অনেক বেশি ডালপালা ছড়ায় আগাইসিলো বইটা, এক্সিকিউশন এতোটা হয় নাই। অনেক প্লট থ্রেড এখনো মিলে নাই, ঘুরতেসে আমার মাথার আশেপাশে। অনেকটাই সিক্যুয়েল বইয়ের জন্যে জাল ফেলা হইসে এমন মনে হচ্ছে এখন। ব্যাটা নায়ক, দুইটা বাড়ি খাওয়ার পরেই একদম সব বুঝে গেলো, কেমনে কি বুঝে গেলো ব্যাটা সেই ক্যারেক্টার প্রোগ্রেশন বা এক্সপ্ল্যানেশন পেলাম না।
লেখক কি ডাক্তার বা ডাক্তারি পড়ছেন এমন কেউ? মেডিক্যাল- রিলেটেড অনেক প্লেসিং, অনেক শব্দের ব্যবহার দেখে তাই মনে হলো।
ওভারল, এনজয়েবল বই। দুই বসায় পড়ে শেষ করলাম। লেখকের নেক্সট বই আসলে অবশ্যই পড়বো। প্রত্যাশা আরো বেশি থাকলো এবার।
নাবিল মুহতাসিমের প্রথম মৌলিক শ্বাপদ সনে। হরর থ্রিলার জনরার গল্প। বড়লোকের সেলিব্রেটি ছেলে জামশেদ একটা ক্রাইম করে বসে। এরপর গা ঢাকা দিতে প্যারানর্মাল ইনভেস্টিগেটর বন্ধুর সাথে পাড়ি দেয় এক প্রত্যন্ত গ্রামে। যে গ্রামে নাকি এক অদ্ভুত নারকীয় পশু আক্রমন চালিয়েছে। পশুটা আসলেই কি নারকীয় নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র। এই রহস্যে সমাধানে নামে জামশেদ ও তার প্যারানর্মাল ইনভেস্টিগেটর বন্ধু শিপলু। তারা কি পারবে এই অতিপ্রাকৃত শক্তির বিরুদ্ধে? নাকি বরণ করতে হবে ভয়ঙ্কর পরিণতি?
শ্বাপদ সনে হরর থ্রিলার হিসেবে বেশ ভালোই। অনেকদিন থেকেই পড়বো পড়বো করে পড়া হচ্ছিল না। শুরুর দিকটা মানে কাহিনীর বিল্ডাপ একটু স্লো। এরপর ধীরে ধীরে কাহিনী জমতে থাকে। এই বইয়ের সবথেকে সেরা শেষাংশ। প্যারানর্মাল ইনভেস্টিগেটর শিপলুর কেস স্টাডিগুলো বেশ ভালো ছিল। কয়েকটা বেশ ভালোই ক্রিপি। গ্রামের হরর অংশগুলোও খারাপ না। তবে শেষের টুইস্টটা স্ট্রং বলা চলে। আনপ্রেডিক্টেবল। বলা যায় যে শ্বাপদ সনে ন্যাচারাল আর সুপার ন্যাচারালের এক আখ্যান। নাবিল সাহেবের কাছে এরকম হরর থ্রিলার আরো চাই।
ক্লান্ত শরীর, এবং ততোধিক ক্লান্ত মন নিয়েও ঘুম আসছিল না৷ কলকাতার কোয়ার্টারে একা ঘুমোনোর অভ্যাস নেই বলেই হয়তো এই বিপত্তি৷ কী করা যায় ভাবতে গিয়ে খেয়াল হল, অরণ্যমন থেকে কেনা একটা প্যারানর্ম্যাল থ্রিলার আমার সঙ্গে গতবার গুয়াহাটি ফেরেনি৷ ঝটপট বইটা হাতে তুলে নিলাম, আর পড়েই ফেললাম! অকপটে বলি, কাহিনিনির্মাণে কিছু শিথিলতা, এবং ভাষায় কিছু কর্কশতা ছাড়া এই উপন্যাসটা আমার অতুলনীয় লেগেছে৷ গল্প প্রথম থেকেই ছুটেছে রুদ্ধশ্বাস গতিতে৷ কী ঘটছে তা আন্দাজ করা সত্বেও সাসপেন্স বিন্দুমাত্র কমেনি৷ সর্বোপরি, প্যারানর্ম্যাল থ্রিলারের মধ্যেই যে কেস স্টাডিগুলো "গল্পের মধ্যে গল্প" হিসেবে এসেছে, সেগুলোর প্রত্যেকটাই ভয়ের গল্প হিসেবে সার্থক, যা খুব কম লেখকের হাতে হয়৷ মুগ্ধ হয়ে লেখকের পরবর্তী উপন্যাসের অপেক্ষায় রইলাম৷
প্রথম ৬০/৭০ পৃষ্ঠা টানতে খুব বেগ পেতে হয়েছে। এরপর একটু মজা পাচ্ছিলাম, কিন্তু আবারও আগের মত অবস্থা। বার বার দৃশ্য বদল খুব প্যারা দিয়েছে। কোনটা যে স্বপ্ন কোনটা বাস্তব বুঝতেও ঝামেলা লাগছিলো। কিন্তু শেষে এসে কাহিনীতে ভালোই এক টুইস্ট আনা হল, যেটা পুরো গল্পের মোড় বদলে দেয়। শেষটুকু নাহ পড়ে রেখে দিলে হয়ত বইটি সম্পর্কে একটা খারাপ ভাবনাই থেকে যেত। গল্পটাকে আরেকাটু ছোট করে গুছিয়ে লিখলে দারুন হত। শুরুর দিকে প্লট পরিবর্তনটা খুব আগোছালো লেগেছে। প্রথমেতো ভেবে নিয়েছিলাম জামশেদ সবই স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন আর বাস্তবে ঘুরপাক খেতে হয়েছে ভালোই। তবে টুকরো টুকরো ঘটনা গুলো বেশ ছিলো। বোর হতে দেয়নি সহজে।
আমার পড়া বাতিঘরের এ যাবৎ কালের সবচাইতে দূর্বল গল্প। গল্পের নেগেটিভ দিক? সবটুকুই। না আছে স্ট্রং কোন প্লট, না আছে কোন ফ্লো। জাস্ট বাতিঘর বলে পড়ছিলাম, ভেবেছিলাম শেষ মেষ কোন একটা টুইস্ট বা চমক থাকবে, কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি। লাফিয়ে লাফিয়ে এক সিন থেকে আরেক সিনে চলে যাওয়াটা ভীষণ পীড়াদায়ক ছিলো। লাস্ট দু'চার বছরে কোন বই পড়ে এত হতাশ হইনি।
নিঃসন্দেহে, thoroughly enjoy করেছি পুরো গল্পটা। কয়েকটা point এ ব্যাপার টা বলা যাক। slow burning এর কায়দায় এই Story build up টা প্রশংসনীয়। Drug এর effect, delusion যে লিখেও এত দারুণ ভাবে বোঝানো যায়, তা এখানে পড়লাম। বাস্তব আর পরাবাস্তবের thin thread এ পাঠককে শেষ পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখার এই প্রচেষ্টায় লেখক কে সাধুবাদ জানাই। আর যেটা না বললেই নয়, case study হিসেবে ছোট ভৌতিক গল্প গুলো নিয়ে এভাবে ছক্কা হাঁকাবেন, সেটা না পড়লে বোঝা সম্ভব নয়।
ভালো। বেশ ভালো। কিন্তু খুব ভালো বলবনা। সেটার কারণ গল্প শেষের টুইস্ট টা হতে পারে। প্যারানরমাল থ্রিলার আগে পড়েছিলাম। ইদানিং হরর বই পড়ার ঝোঁকে অনেক বই পড়া হরছে তার মধ্যে শ্বাপদ সনে অসম্ভব ভালো একটা হরর - থ্রিলার (!)। গল্প ফিরি। সুন্দর মেদহীন লেখা। পড়লে চরম কৌতুহল আসে আজানা এক জগৎ সম্পর্কে। লেখক সুন্দরভাবে প্যারালাল e উপস্থাপন করেছেন বর্তমান টাইমলাইন এবং চরিত্রের জীবনের খুঁটিনাটি দরকারি লিংক গুলো। ভয় টা লেখক খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন কিন্তু গল্প হিসেবে একটু দুর্বল লাগলো। সেটা ডাবল প্লট এর কারণে হোক বা শেষটা হরর হিসেবে কল্পনা করে এগিয়ে অন্য কিছু পাওয়ার জন্য কিনা বিচার সাপেক্ষ। পরবর্তী গল্প পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম। অনেক শুভেচ্ছা।
গল্পের বেস্ট পার্ট হচ্ছে শিপলুর কেস স্টাডি টা।আর শেষ দিকে টুইস্ট মিলিয়ে দারুণ উপভোগ্য একটা বই।গ্রাফিক নোভেল টা পড়া হয় নি তবে মূল বইটি পড়াত সময় গল্পের প্লট গুলো ভিজুয়ালাইজ করতে সমস্যা হয় নি কোন।