রবীন্দ্র এবং অবনীন্দ্র স্নেহধন্যা শ্রীমতী রানী চন্দ তাঁর মায়ের মৃত্যুর পর কলম ধরেছেন মায়ের কথা বলতে, মায়ের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া ছোট্ট গ্রাম গঙ্গাধর খোলার (যা পরে গঙ্গাধরপুর হয়ে ওঠে) অকিঞ্চিৎকর জীবনের তুচ্ছাতিতুচ্ছ প্রবহমানতার কথা বলতে। বেড়িয়েছেন অনেক; স্বামী শ্রীঅনিল চন্দের সঙ্গে, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে, শান্তিনিকেতনের নাচের দলের সঙ্গে, স্বামীর অনুমতির পরোয়া না করে জেল-ভ্রমণের ঘন রোমাঞ্চ কাহিনি, স্বামীর মৃত্যুর পর একা, অথচ কোন না কোন দলের সঙ্গী হয়ে বেরিয়ে বেড়ানোর সর্ষে তাঁকে অনবরত চালিত করেছে ভারতবর্ষের পথে-ঘাটে, আর পাঠক পেয়েছেন পরম রসের আস্বাদ। ভ্রমণের সেই সব স্তরভেদ শুরু হওয়ার আগের এই সর্বপ্রথম ভ্রমণস্মৃতি নিয়েই এই রানী-চারণ।
এ এক রূপকথার গল্প! বাংলার অতীতকালের গৌরব নিয়ে আমরা যা শুনে বড় হয়েছি, যেসব গল্পগাঁথা আজ নিতান্তই অবিশ্বাস্য মনে হয়, রানী চন্দের স্মৃতিকথা পড়ে মনে হোলো, "আরে! এগুলো সত্যিই ছিলো তবে!"জানি রানী চন্দ মুদ্রার একপিঠ দেখিয়েছেন। তার গুরু রবীন্দ্রনাথ তাকে উপদেশ দিয়েছিলেন এই বলে, "গ্রামে ভালোর দিকটা যেমন আছে খারাপ দিকও আছে। খারাপ দিকটা বাদ দিয়ে যা সুন্দর - সেইটুকুই শুধু ছবির মতো ফুটিয়ে তুলবি। গ্রামের জীবন তো আর পাবি না ফিরে।" রানী চন্দ ঠিক তাই-ই করেছেন। তার মা-র বাপের বাড়ি হচ্ছে অবিভক্ত বাংলার বিক্রমপুরের গঙ্গাধরপুর গ্রামে। বাবা মারা যাওয়ার পর ছেলেমেয়ে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে আসেন রানীর মা। এ গ্রাম যেন সরাসরি রূপকথার পাতা থেকে উঠে এসেছে! একান্নবর্তী পরিবার, গ্রামের সবাই মিলেমিশে এক হয়ে উৎসব পার্বণ পালন, নাড়ু-মোয়া-আল্পনা, বন্যা, কালবৈশাখী, বড়মামীমার পাঠশালা, নকশিকাঁথা বোনা, মাছ ধরা সহ আরো কতো যে গল্প রানী চন্দের ভাণ্ডারে! পুরো সংসারে নারীদের নীরব কর্তৃত্বের ব্যাপারটা পড়তে বেশ ভালো লাগে। মুদ্রার অপর পিঠের দারিদ্র, শোষণ, কুসংস্কারের কথা বইতে স্বীকৃতভাবেই খুব একটা নেই। কিন্তু যা আছে তা তো আর মিথ্যে নয়। নদীতে অঢেল মাছ ছিলো, নিজেদের ছিলো গরু, বাড়িতে বাড়িতে সবজির চাষ হোতো। গরিব মানুষদের অন্তত খাওয়ার কষ্ট করতে হোতো না এখানে। সব বদলে গেছে সময়ের সাথে সাথে। বইয়ের পাতায় সেই সময়, সমাজ আর মানুষগুলো জীবন্ত হয়ে থাকুক।
একদম নিখুঁত গ্রাম যাকে বলে। অবিভক্ত বাংলার বিক্রমপুরের একটা গ্রাম গঙ্গাধর খোলা, যা পরবর্তীতে নাম নেয় গঙ্গাধরপুরে। যে কোন প্রকারের নেগেটিভিটি বাদ দিলে আসলে তখনকার সময়ের বাংলার বেশিরভাগ গ্রামের চিত্র অনেকটা এমনই ছিল। বইয়ের পাতায় পাতায় যেন অন্যান্য গ্রামের মুখপাত্র হয়ে উঠে এসেছে এই গ্রামটি । রাণী চন্দের ছোটবেলাটা কেটেছে এখানে। গঙ্গাধরপুর তার মামার বাড়ি আরেক অর্থে তার মায়ের বাপের বাড়ির গ্রাম। যে কারও জীবনে শৈশবকাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিষ্পাপ চোখে যা দেখে তাই হয়ে থাকে পাথেয়। শিশু রানী চন্দের চোখে তার গ্রামের চিত্র। অসম্ভব সুন্দর। একাধারে চিত্রশিল্পী এবং লেখকা হওয়ায় বোধহয় বইটা আরও বেশি সুবিন্যস্ত এবং অনেকবেশি জীবন্ত। কখনও গ্রামে না যাওয়া কিংবা গ্রামের গল্প না শোনা মানুষটির কাছে রূপকথা বলে মনে তো হতেই পারে... তারপরেও বলব গ্রাম কেমন জানতে চাইলে এর চেয়ে বেস্ট বই আর হয় না। রাণী চন্দের নিখুঁত গ্রামে সুস্বাগতম....
এক গাঁয়ের সবগুলো মানুষ পূজা-পার্বনে, সুখে-দুঃখে- আনন্দে, আপদে-বিপদে একই পরিবারের মতন বাস করে, গোলা ভরা ধান, বিলের জলে মাছ, উঠোনময় ফুলের বাগান এরকম ছেলেবেলা আর কারো হবে না। সেই ঐশ্বর্যময় সময়ের কাল কেটে গেছে বহু আগে। সেই সকল সময়ের কথা আমরা এইরকম কিছু বইয়ের পাতায় পেতে পারি শুধু।
'স্বপ্নের মতো সুন্দর একটা বই' বললেও কম বলা হবে। সবটা রূপকথার পাতা থেকে উঠে এসেছে যেন-বা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরলস টানা বর্ণনা। একটু পরপর চোখের সীমা পেরিয়ে সুন্দর সুন্দর ছবি সরে যেতে থাকে কেবল— একটু সময় নিয়ে দেখবার ফুরসত মেলে না— শুধু রয়ে যায় একরাশ মুগ্ধতা। ভাষা নিয়ে রাণী চন্দ এঞ্জিনিয়ারিং করতে যাননি মোটেই। নেই অহেতুক উপমার ঘনঘটা কিংবা ঘনঘন স্যুরিয়ালিস্টিক আবহ তৈরির প্রবণতা অথবা নেই মন-কেমন-করা রোমান্টিক বিষণ্ণতার আল্পনা। নিরেট সাবলীল, গতিশীল গদ্য; এই নিষ্কণ্টক গতিময়তাই বইটার শক্তি এবং অলংকার দুটোই।
"ছবির মতো সুন্দর" নামক যে বিশেষণটা ব্যবহার করা হয় কোনো গ্রাম বা জনপদের সৌন্দর্য বর্ণনা করার জন্য, ঠিক তেমন এক পরিপাটি গ্রাম্য জীবনের আখ্যান দিয়েছেন রানী চন্দ। আগাগোড়াই মায়া ও স্নিগ্ধতায় মোড়া এক মায়ানগরের গল্প যেন! আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রাম বাংলা থেকে এমন দৃশ্যপট বিলুপ্তির পথে আগালেও এসব চমৎকার লেখনীর কল্যাণে অন্তত বইয়ের পাতায়, স্মৃতিতে বা কল্পনায় থেকে যাবে ছবির মতো সুন্দর জনপদের সত্যি গল্পগুলো।
রানীর মায়ের বাড়ি অবিভক্ত বাংলার বিক্রমপুরের গঙ্গাধরপুর গ্রামে।বাবা মারা যাওয়ার পর ছেলেমেয়ে নিয়ে চলে আসে বাপের বাড়িতে তার মা।শৈশব আর কৈশোরের পুরোটা সময় কাটে তার মা'র বাপের বাড়িতে।শৈশবের আর কৈশোরের সব গল্পের সূচনা ই তার মা'র বাপের বাড়িকে কেন্দ্র করে। তার মায়ের বাপের বাড়ির গল্প যেন এক রূপকথার গল্প।বাংলার অতীতকালের গৌরব নিয়ে আমরা যা শুনে বড় হয়েছি,যেসব গল্পগাঁথা আজ নিতান্তই অবিশ্বাস্য মনে হয়,রানী চন্দের স্মৃতিকথা পড়ে মনে হলো,"আরে!এগুলো সত্যিই ছিলো তবে!"জানি রানী চন্দ মুদ্রার একপিঠ দেখিয়েছেন।তার গুরু রবীন্দ্রনাথ তাকে উপদেশ দিয়েছিলেন এই বলে, "গ্রামে ভালোর দিকটা যেমন আছে খারাপ দিকও আছে।খারাপ দিকটা বাদ দিয়ে যা সুন্দর সেইটুকুই শুধু ছবির মতো ফুটিয়ে তুলবি।গ্রামের জীবন তো আর পাবি না ফিরে।"--লেখ্ লেখ্- লিখে ফেল।রানী চন্দ ঠিক তাই-ই করেছেন।তার স্মৃতির সব সুন্দর আর সুখময় কথা তিনি তুলে ধরেছেন।মুদ্রার অপরপিঠের কাহিনী তিনি তার স্মৃতিতে ঠাঁই দেন ই নি।তখনকার সময়ের গোলাভরা ধান,পুকুরভরা মাছ,গোয়াল ভরা গরু যেমনটা আমরা গল্পে শুনেছি তার মায়ের বাপের বাড়ি ঠিক তেমনটাই যেন।কোনো দুঃখের কাহিনী নেই।পুরোটা সুখস্মৃতি।অন্তত কারো খাওয়ার কষ্ট নেই।এখানে গ্রামে একান্নবর্তী পরিবার,বার মাসে তের পার্বন পালন,সবাই মিলেমিশে উৎসব পালন,নাড়ু-মোয়া-আল্পনা, মাছ ধরা,নকশিকাঁথা বুনন,বড় মামির পাঠশালা, কালবৈশাখী, বন্যা আরও কত গল্পের যে বাহার।সব স্মৃতি যেন জীবন্ত।কোথাও দুঃখের ছিটেফোঁটা নেই।পুরোটাই আনন্দের রেশ।বই পড়ার পুরো সময়টা এক ঘোরের মধ্যে ছিলাম। আজ সময়ের সাথে সাথে সব বদলে গেছে।বইয়ের পাতায় সেই সময়,সমাজ আর মানুষগুলো জীবন্ত হয়ে থাকুক।পুরো বইটা ই মায়াময় এক স্মৃতিগাঁথা যেন।।
বি.দ্র.নিজের সাথে খুব রিলেট করতে পারতেছিলাম গল্পটা।বাবার চাকরিসূত্রে আমারও শৈশব আর কৈশোরের শুরুর সময়টা মা'র বাপের বাড়ির এলাকায় কেটেছে।জীবনটা তখনই উপভোগ্য ছিল🌸এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে এক গল্প লিখে ফেলি।কিন্তু কিছু জিনিস থাকুক বুকের গহীনে🌸সব গল্প প্রকাশ্যে শোভা পায় না।গল্পটা পড়তে পড়তে বারবারই ফিরে যাচ্ছিলাম হাস্যজ্জ্বল জীবনে।শেষ অব্দি চোখের কোনায় পানি জমে গেল🙂হুট করেই মনে পড়ে গেল আমি ১ বছর ধরে গোপালগঞ্জ যাই না🙂বড় হয়ে গেছি🙂ছ���টি পেলে দৌঁড় বর্ণমালা অব্দিই...............
একটা মেয়ের জন্ম বেড়ে ওঠা তারপর চেনা পরিবেশ ছেড়ে হুট করে অচেনা এক পরিবেশে গিয়ে মানিয়ে নিয়ে জীবন অতিবাহিত করা। ছোট এক গন্ডীর মধ্যে পাকা খেতে থাকা আর তার মধ্যেই নিজের ভালো থাকাটা খুঁজে নিয়ে বেঁচে থাকা।
নদী তীরবর্তী এক গ্রামে জন্ম, সেখানেই বড় হয়ে ওঠা, বছরে দুই বার মায়ের সাথে মামার বাড়ী বেড়াতে যাওয়া। এরপর বাবার মৃত্যুতে স্থায়ী ভাবের থাকতে শুরু করা মায়ের বাবার বাড়ীতে। সেই মায়ের বাবার বাড়ীটাও ছিল নদীর তীর ঘেঁষে। পাশাপাশি একের পর এক বাড়িগুলো, যে বাড়ীর মানুষ গুলোর সাথে নিকট ও দূরসম্পর্কের কোন না কোন আত্মীয়তার বন্ধন আছে। প্রতিটি ঋতুতে ঋতু বৈচিত্রের নানা কাজ সাথে বারো মাসে তেরো পার্বণে গ্রামের প্রতিটি মানুষের সাথে যে উৎসব মুখর পরিবেশে শৈশব কৈশোর কাটানো তা কেবল তখককার সময়েই সম্ভব। এখন তা কল্পনা মাত্র।
"আমার মা'র বাপের বাড়ী" রানী চন্দের স্মৃতিকথা। রবি ঠাকুরের বার বার অনুরোধে ও তিনি তাঁর ছোট বেলার স্মৃতি টা লিখে রাখার তাগিদ অনুভব করেন নাই, কিন্তু মা মারা যাবার পর তাঁর মনে হলো পুরনো স্মৃতি টা লেখা দরকার, তারপরই তিনি স্মৃতির বহর ঘেরে মধুর এক স্মৃতিময় বই লিখলেন।
চমৎকার কিছু অনুভূতি, কল্পনার রং এ সাজানো গ্রাম ও তার পরিবেশ। প্রতিটি সম্পর্কে র মানুষগুলোর বৈচিত্র্যময় চরিত্র মিলে অসাধারণ এক বই।
পুরানো সেই দিনের কথা… কখনো ভেবেছেন, কোন বই পড়ে পুরানো, মরচে ধরা, ছেড়া খাতার কিংবা বইয়ের পাতার গন্ধ পাবেন? কোনদিন চিন্তা করেছেন কোন বই পড়তে গিয়ে নিজেকে সেই নদীর ধারে আম কুড়োতে, ফুল তুলতে দেখবেন? বই পড়তে পড়তে শিউলি কিংবা ঝোপ ধরা জবার ঘ্রাণ আপনার নাকে আসবে। তাজা মুড়ি ভাজার গন্ধে মাতোয়ারা হবেন? এই বইটা ঠিক সেরকম একটা বই। লেখকের ছোটবেলায় নানীবাড়ি বেড়াতে যাওয়া, একটা সময় গিয়ে নানী বাড়িতে তার স্থায়ী বাস। পুরো গ্রামের তুচ্ছাতিতুচ্ছ বর্ণনা লেখক তুলে ধরেছেন এই বইয়ের পাতায়। প্রতি পাতায় ছোটবেলাটা যেন জীবন্ত হয়ে উঠে আসছে, চোখের সামনে বায়স্কোপের মত একের পর এক দৃশ্য বদলে গেল। পুরো গ্রামের এ বাড়ি ও বাড়ি যেন নিজের নানীবাড়ির দৃশ্য হয়ে উঠেছে। কখন যেন লেখিকার সাথে নিজেই আম কুড়োলাম, মাছ ধরলাম কিংবা ঝুমকো জবা গাছে ঝুলে ফুল পাড়লাম। এত্ত সুন্দর একটা বই, কেন যে পড়িনি আগে। বই পড়তে পড়তে অজান্তেই কেঁদে ফেলেছি। একটা সময় নিজেও পরীক্ষা শেষে নানী বাড়ি যেতাম। কিছু ব্যাপারে প্রচন্ড মিল খুঁজে পাবেন পাঠক মাত্রই।
কিন্তু সব শেষে ওই যে, ছেলেবেলার দিন ফেলে এসে বড় হয়ে যেতে হয় আর সমস্ত কিছু হারিয়ে যায় সময়ের গহ্বরে। চাইলেও সে জীবনে ফেরা আর যায় না। অসম্ভব সুন্দর এই বইটা প্রিন্ট আউট। হার্ড কপি পেলে আমি আবার পড়ব, কে জানে বইয়ের পাতায় লুকানো আছে কোন ট্রাঙ্কের গন্ধ, যে গন্ধ ক্ষণেকের জন্য হলেও অন্য কোন সময়ে নিয়ে যাবে, যখন সত্যিকারের বেঁচে ছিলাম।
ছোট বেলায় বার্ষিক পরীক্ষার পরে যেতাম মামার বাড়ি, এই বইটির লেখার ধরন ছোট ছোট ঘটনার বিবরণ মনে করিয়ে দেয় সেই মামার বাড়ির স্মৃতি গুলো! অসাধারণ, সুন্দর এবং খুব সুখ পাঠ্য!
গ্রাম যে কারণে গ্রাম সেই চিহ্নগুলো প্রায় সবখানেই এখন আর অবশিষ্ট নেই; মাটির ঘর, পুকুরঘাট, যৌথ সংসার, পারষ্পরিক বন্ধন ইত্যাদি। আমরা যারা গ্রামে বড় হওয়ার সৌভাগ্যে- লীন চিহ্নটুকু অবশিষ্ট পেয়েছিলাম তাদের জন্য বইটা স্মৃতির চমৎকার রিভিউ হতে পারে। রানী চন্দের গদ্য এমন আকর্ষণীয় যে দৃশ্যগুলো বর্ণনায় জীবন্ত হয়ে চোখের সামনে ভাসছিল ভালো একটি সিনেমা দেখার আনন্দের মতো। গ্রাম্যজীবনের মুগ্ধতা উপজীব্য করে লেখা বাংলা সাহিত্যের দারুণ একটা বই 'আমার মা'র বাপের বাড়ি '। যাদের দিন গ্রামে কাটেনি আমার ধারণা বইটি তাদের পুরোপুরি সুখ দিতে পারবে না, তাদের স্মৃতিতে দৃশ্যের স্বল্পতার কারণে।
২০১৫’র ঘটনা। একটা বই হাতে নিয়ে লেখকের নামটা তেমন চেনা ঠেকলো না। অপরিচিত রানী চন্দের "আমার মা'র বাপের বাড়ি" পড়া শুরু করবো কী করবো না ,ভাবতে ভাবতে এক দু'পাতায় চোখ বুলিয়ে ভালো লেগে গেল। লেখার আমেজটা এমন হাসিখুশি, চট করে যা পাঠককে টেনে ধরে গোটা বইটা পড়ে নেবার তাগাদা দেয়। পড়ার একফাঁকে স্বভাববশতঃ রানী চন্দ কে কী ইত্যাদি জানবার আগ্রহে গুগল করতেই খুলে গেল পরিচয়ের দরজা। ওমা! ইনি তো একদম অপরিচিত কেউ নন। রবীন্দ্রনাথের অনুলিপিকার হিসেবে এঁর নামটি তো দেখেছি বটে। এছাড়া, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিকথামূলক বই 'ঘরোয়া' পড়ে ভালো লেগেছে। সেটার অনুলেখন এই রানী চন্দের। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ এঁকে শান্তিনিকেতনের কলাভবনে ভর্তি করিয়ে দেন। শিক্ষাগুরু হিসেবে পান নন্দলাল বসুকে। নন্দলাল বসুকে অন্য সবাই মাস্টার মশাই ডাকলেও রানী চন্দের কাছে তিনি নন্দদা। কারণ রানীর বড়দা শিল্পী মুকুল চন্দ্র দে যিনি কলকাতা সরকারি চারুকলার অধ্যক্ষ ছিলেন, তিনি নন্দলাল বসুকে নন্দদা বলে ডাকতেন। মুকুল চন্দ্রের সরকারি বাসভবনের বসবার বিশাল ঘরের মেঝেতে চারটে দাগ কাটা ঘর ছিল। যেখানে মুকুল চন্দ্র দে, যামিনী রায়, রানী চন্দ এবং নন্দলাল বসু ছবি আঁকাআঁকি করতে করতে নানান আলাপ আড্ডায় মেতে উঠতেন। প্রায় এমন হতো আলাপের ফাঁকে নন্দলাল রানীর আঁকার খাতা টেনে নিয়ে আঁকায় রং দিয়ে, বাড়তি আঁচড় কেটে ছবিটাকে প্রাণবন্ত করে ফুটিয়ে তুলতেন। পারিবারিক আবাহে নন্দলালের সাথে পরিচিত ছিলেন বলেই শান্তিনিকেতনে এই স্বনামধন্য মাস্টারমশাইটির প্রিয় ছাত্রী হবার অনায়াস সুযোগ তিনি পাননি। সেটি নিজের যোগ্যতাবলেই আদায় করে নিয়েছিলেন। একইভাবে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথের স্নেহছায়াতেও নিজের নামটি তুলে নেন আপন কর্মগুণেই। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছেও রানী চন্দ আঁকা শিখেছিলেন।
তাঁর হাতটি যে কেবল আঁকাআঁকিতেই দক্ষ না, লেখালিখিতেও সেটি সমান চলে, তার প্রমাণ "আমার মা'র বাপের বাড়ি।" স্মৃতিচারণ ধাঁচের ঝরঝরে ভাষায় লেখা এই বই। তরতরিয়ে বয়ে চলা শব্দের সে মিছিলে পাঠকের শরিক হতে সময় লাগে না। তিন মাল্লার নৌকা চেপে বিক্রমপুরের গঙ্গাধরপুর গ্রামে রানী চন্দের মামাবাড়িতে অপরিচিতের অস্বস্তিটুকু সরিয়ে দিব্যি চলে যেতে পারেন পাঠক। গ্রামের মানুষের সারল্যে ভরা আচার আচরণ এবং আন্তরিকতায় ক্ষণে ক্ষণে মুগ্ধতা জাগে কেমন। পুণি-পূর্ণশশী অর্থাৎ রানী চন্দের মা ছেলেপুলে নিয়ে গ্রামে নিজের বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই তাদের আসবার খবর মুখে মুখে চলতে থাকা বার্তায় পৌঁছে যায় তাঁর মা ভাইদের কাছে। কারণ লগি ঠেলে ঠেলে গ্রামে ঢুকতে খালের ধারে হোসেন ভাই বা অমুক খুড়োর "কার বাড়ির নাইওরি লইয়া যাও রে মাঝি?" এমন প্রশ্নে জানা হয়ে যায় পুণি বইনদি বা স্নেহের পুণি এসেছে গ্রামে। এমন আন্তরিক আচরণ গ্রামের সবার প্রতি সবার। যেকারণে এক বাড়ির আনন্দ উৎসবে অন্য বাড়ির জেগে উঠতে সংকোচের বিহ্বলতা নেই। পুজোর সময় সারা গ্রামের মানুষের যে বর্ণিল আনন্দময় ভাষ্য এই বইতে আছে সেসব আজকের যুগে কেমন জানি রূপকথার গল্প মনে হয়। অথচ এ সত্য, এমন আন্তরিকতার প্রাণ প্রাচুর্যেভরা মায়ের বাপের বাড়ির অভিজ্ঞতা রানী চন্দের।
রানী চন্দ নিজের গ্রাম বলতে জানেন তাঁর মায়ের বাপের বাড়ির গ্রাম, গঙ্গাধরপুরকে। আগে যেটি ছিল 'গঙ্গাধর-খোলা'। মামাদের লেখালেখির জোরে সেটি পরে 'পুর' হিসেবে আভিজাত্য পায়। তাঁর বাবার যে গ্রাম ছিল তা পদ্মার কড়াল গ্রাসে তলিয়ে যাওয়ায় সেখানে যাওয়া হয়নি তাঁদের। রানী চন্দের যখন চার বছর বয়স তখন তাঁর বাবা মারা যান। ঢাকায় তাঁরা থাকতেন পুরোনো ঢাকার গেণ্ডারিয়াতে। একটা সময় তার দু'ভাইকে শান্তিনিকেতনে পড়তে পাঠিয়ে, ঢাকার পাট চুকিয়ে মা তাদের নিয়ে গঙ্গাধরপুরে চলে আসেন। বড়দা মুকুল তখন বিলেতে। আগে গরমের আর পুজোর এ দুই ছুটিতেই গ্রামে মামাদের বাড়ি বেড়ানো হতো তাদের। ঢাকার পাট চুকে গেলে কলকাতা যাবার আগপর্যন্ত গ্রামেই মোটামুটি স্হায়ী আবাস হয়। গ্রামকে আরো নিবিড়ভাবে জানা হয় তাঁর সেকারণে। তাই চল্লিশ বছর পরেও এমন অনায়াস বর্ণনা লিখে যান সেসব স্মৃতির। গুরুদেব তাঁকে স্মৃতিকথা লিখবার জন্য উৎসাহের সাথে সাথে এমনটাও বলেছিলেন, " গ্রামে ভালোর দিকটা যেমন আছে খারাপ দিকও আছে। খারাপ দিকটা বাদ দিয়ে যা সুন্দর- সেটুকুই শুধু ছবির মতো ফুটিয়ে তুলবি।" হয়তো গুরুবাক্য মান্য করবার তাগিদে এ স্মৃতিকথায় তেমন কোনো তিক্ষ্ণ তিক্ততার বর্ণনা নেই। আপাত সবটাই সুন্দর, সবটাই বর্ণিল, আলোকের ঝর্ণাধারার মত যা পাঠককে রূপকথার গল্পের স্বাদ দেয় খানিক।
মায়ের বাপের বাড়ির গ্রাম তো পৃথিবীর বাইরের কোনো স্থান নয়। বহুচেষ্টাতেও অনেক সময় কিছু নির্মম সত্যি সুন্দরের আড়াল থেকে উঁকি দিয়ে যায় ঠিকই। এ বইটিতেও সেরকম কিছু নির্মম সত্যি আছে। তাই কিছুক্ষেত্রে পাঠক হয়তো ভাবতে বাধ্য হবেন, যুগ পালটে গেলেও আমাদের পরাণের গহীন কোণে সেঁটে থাকা কিছু সংষ্কার কিছুতেই মুছে যায় না, থেকেই যায়। নন্দী বাড়ির সুনোতি নামের 'কালো খেঁদি' মেয়েটা যার উদাহরণ হতে পারে। আজও আমরা গায়ের রং দিয়ে মানুষকে সুন্দর-অসুন্দরের পাল্লায় যাচাই বাছাইয়ের নোংরা কুৎসিত আচরণের ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। তাই তো ফেয়ারনেস ক্রিমের এত রমরমা বাজার বিশ্বজুড়ে। মেয়ে কালো মানেই কুৎসিত। কিন্তু পুরুষ কালো হলেও সুপুরুষও বটে! সুনোতির ভাগ্যে সেরকমই এক কালো কিন্তু সুপুরুষ বর জুটে গিয়ে তার নারী জনম সার্থক করে। সুনোতির আরেক জ্ঞাতি যার নাম খুসী, ভাগ্যক্রমে যিনি "ছিপছিপে লম্বা, গৌরবর্ণ দেহ, মাথভর্তি কোঁকড়া কালো চুল, - এককথায় খুসী সুন্দরী।" এহেন খুসীকে, পাত্রপক্ষ যখন সুনোতিকে দেখতে আসতেন লুকিয়ে রাখা হতো। পাছে তার দিকে নজর গিয়ে 'কালো খেঁদি' মেয়েটার জীবনের জন্য সবচে' মুল্যবান কর্ম বিবাহটি কেঁচে যায়। বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবো আমরা এমন ঘটনা আমাদের সমাজে আজও ঘটছে না? হরি সিংহের মেজো ছেলে কোন হৃদয়ে তার দুর্লভ রূপের অধিকারী বউটিকে গ্রামে রেখে কলকাতায় নতুন সংসার পাতে, সে নিয়েও গ্রামে ফিসফাস চলে আড়ালে। পাঠক এখানেও গোপনে, হায় রে! বলে দীর্ঘশ্বাস ছাড়বেন হয়তো। কেননা এসব আলাপের ঈঙ্গিত বউটির 'দুর্লভ রূপ', ভাবখানা এমন যেন সে রূপহীনা হলে মেজোছেলের কাজটি জায়েজ হতো!
গ্রামীণ জীবনের নানান রীতি-রেওয়াজ, পালা-পার্বণ, মানুষে মানুষে সম্পর্ক, স্বশিক্ষিত মানুষগুলোর নানান চমকপ্রদ উদ্ভাবন, সংষ্কারসহ নানান সব ঘটনার বর্ণিল চিত্র ফুটিয়ে তোলার ব্যাপারে রানী চন্দ একজন দক্ষ আঁকিয়ের মতো মনোহর ভাষার গাঁথুনীতে তাঁর মায়ের বাপের বাড়ির যে চমৎকার ছবিটি এঁকেছেন তা সত্যিই উপভোগ্য। এমন সাবলীল স্মৃতিচারণমূলক বই পড়ে নিতে পাঠকমাত্রই আগ্রহ দেখাবেন বলে বিশ্বাস। পুকুরভরা মাছ, গাছ ভরা ফল ফুলের ভীড়েও সন্তানহারা বিধবা গবিন্দের মায়ের খাওয়ার পাত ছেড়ে উঠে যেতে না পারার মর্মন্তুদ ঘটনা প্রদীপের নীচে যুথবদ্ধ অন্ধকারের কথা বলে যায় নীরবে। রানীর বড়মামীর নিরুদ্দেশ স্বামীর ভিটে আঁকড়ে থাকবার চেষ্টা যতটা না চিরন্তন নারীর প্রতিকৃতি, তারচে'ও আরো বেশি অসহায়ত্বের প্রতীক যেন বা। যার নিজস্ব কোনো পরিচয়ের স্বীকৃতি দিতে সমাজ-সংসার বড়বেশি কুণ্ঠিত, আজও যার খুব একটা রকম ফের ঘটেছে বলে মনে হয় না, বিশেষ করে গ্রামীণ সমাজে। প্রকৃতির সাথে গ্রামীণ মানুষের নিবিড় ভাব ভালোবাসা। যার উজ্বলতম উদাহরণ রানীর দিদিমা। যাঁর কাছ থেকে শৈশবে জীবনের নানান পাঠ নিয়েছেন তিনি। তাই বুঝি রানী নিজেও ঝুমকোজবা গাছটির প্রতি টান অণুভব করে ভাবেন, "কী যেন একটা কথা আছে আমাদের দুজনার দুজনকে বলবার..." , চালতা তলায় দুর্যোগের মধ্যে দাঁড়িয়েও চালতা পেকেছে টের পেয়ে যান। পুকুরে মাছের 'গাবিয়ে' ওঠা টের পেয়ে দিদিমার দৃষ্টি আকষর্ণ করতে ভোলেন না। গ্রামীণ জীবনে প্রতিটি ঋতুই যেন জনপদটিকে নিজস্ব রঙে রাঙিয়ে দিয়ে যায়। যে ঋতুর যেমন ঠমকঠামক দেখিয়ে মাত করে যায় সারল্যে ভরা মানুষগুলোর জীবন। এ বইতে জীবন ধারণের একঘেয়েমির রেশ নেই। আছে জীবনকে যাপন করবার বর্ণিল বর্ণনা। "আমার মা'র বাপের বাড়ি" বইটি নিঃসন্দেহে আনন্দপাঠ।
রানী চন্দের "আমার মা'র বাপের বাড়ী" একটি হৃদয়ছোঁয়া আত্মজীবনীমূলক রচনা, যেখানে তিনি তার শৈশব, পারিবারিক সম্পর্ক, এবং গ্রামবাংলার সংস্কৃতি তুলে ধরেছেন। বইটি মূলত লেখিকার মাতৃকুলের বাড়ির স্মৃতিচারণ, যেখানে কেবল ব্যক্তি-পরিচয় নয়, বরং সময়ে��� সঙ্গে পরিবর্তিত সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক রূপও ধরা পড়ে।
শৈশবের সরল আনন্দ, পারিবারিক বন্ধন, এবং তৎকালীন গ্রামীণ জীবনযাত্রার যে ছবি লেখিকা এঁকেছেন, তা পাঠকের মনে একধরনের নস্টালজিয়া (nostalgia) সৃষ্টি করে। বইটি পড়তে পড়তে মনে হয়, যেন নিজের চোখে দেখতে পাচ্ছি কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরবেলা, উঠোনে বসে থাকা বৃদ্ধ দাদিমা কিংবা গাছের ছায়ায় খেলতে থাকা শিশুর দল।
পাঠকের জন্য কেন পড়া উচিত?
১. যারা নস্টালজিক অনুভূতি পেতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য বইটি দারুণ এক অভিজ্ঞতা দেবে।
২. বাংলার গ্রামীণ জীবন ও সংস্কৃতি নিয়ে যারা আগ্রহী, তারা নিঃসন্দেহে এটি উপভোগ করবেন।
৩. বইটি শৈশবের সরল আনন্দ এবং পরিবারের সাথে কাটানো মধুর সময়গুলোর গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করবে।
নস্টালজিক, আবেগঘন এবং চমৎকার স্মৃতিকথা। যারা হৃদয়ছোঁয়া, জীবনঘনিষ্ঠ, এবং আবেগপূর্ণ বই পড়তে ভালোবাসেন, তাদের জন্য "আমার মা'র বাপের বাড়ী" অবশ্যই সুপারিশ করা যায়।
শৈশবের "আমার মা'র বাপের বাড়ির" যে স্মৃতিগুলো নড়ে চড়ে উঠতো মনে ভাবতাম সেসব লিখবো কখনো, শুরুও করেছিলাম। কিন্তু রানী চন্দের এই বই পড়তে পড়তে মনে হয় সবই লেখা হয়ে গেছে। জীবনে এমন বইয়ের মুখোমুখি হওয়া যেমন আনন্দের তেমনি হতাশার। আনন্দের এজন্য যে নিজের ভাষাগত ও প্রকাশগত অক্ষমতার কারণে যা লিখতে পারি নি সেটাই খুব গুছিয়ে দেখার সুযোগ হয় আর হতাশার এজন্য যে যা লিখবো ভেবেছিলাম সেটাতে পূর্ণচ্ছেদ টানতে হয়। প্রায় ছয় মাস ধরে ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে পড়া এই বই আমাকে সেই গ্রাম, বাঙালির জীবন ঘুরিয়ে আনলো যা এখন আর নাই আর ফিরেও আসবে না বলে ভাবি। আমাদের সন্তানরা এই গ্রামের স্বাদ পাবে না, হয়ত পড়েও না। নিজেকে তাই সেতুবন্ধন মনে হয়, দুইটা আলাদা যুগের ইতিহাসের, ঐতিহ্যের, স্মৃতির।
মনে হয় যেন রূপকথার রাজ্যে ছিলাম। "গোলা ভরা ধান আর পুকুর ভরা মাছ" এর যে কথা শুনেছিলাম, তারই বর্ণনা পড়লাম যেন। কেউ যদি শত বছর আগের বাংলার গ্রাম প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে চায়, তাদের জন্য অসাধারণ রেফারেন্স হবে। তবে সাথে করে এও সত্য বাংলার গরিব মুসলমান আর নিম্ন বর্ণের হিন্দুদের বর্ণনা এখানে নেই। তাদের ছাড়াও বা কম কি, তিন ভাগের এক ভাগ তো পূরণ হলো।
I am from gendaria, i am from bikrampur. Reading this felt like going back in a time machine, a sneak peek into time already left behind. I know all these places, i've been there. We will never have these days back.
না না। রাণী চন্দ এ কী করলেন। মেনে নিতে পারছি না। শীতের বিকেল যেমন হঠাৎ করে ফুরিয়ে গিয়ে সন্ধার অন্ধকারে বিলীন হয়ে যায় তেমনি মনে হলো। এ কি অমৃত আস্বাদন।এত দ্রুত কীভাবে শেষ হয়। জানি না সুধানিধির সুধা শেষ হলে চন্দ্রালোকের কোন তারতম্য ঘটে কিনা কিন্তু এই বইখানি এভাবে শেষ হয়ে গিয়ে আমাকে এক অদ্ভূত জগতের মাঝে একাকী ফেলে দিয়ে গেল যেন। প্রত্যেকটি পৃষ্ঠাই যেন আমার কথা বলছে, আমার গ্রামের কথা বলছে। আমরা রাণীর মত সম্ভ্রান্ত না হলেও কিছু কিছু ঘটনার বিবরণ হুবহু মিলে যায়, প্রতিবেশীর সাথে মামলা জেতার পর দু-তিন দিন কথা না বলা সব যেন আমার প্রতিবেশীর কথাই মনে করিয়ে দেয়। যে উপন্যাস ভাল লাগে, পড়ার পর ভাবি কেন পড়ে ফেললাম। এই অনুভূতি তো আর অনুভব করতে পারবো না। তাই একটা ভাল উপন্যাস যেভাবেই শেষ হোক আমার খারাপই লাগে। রাণী, তুমি সত্যিই সাহিত্য জগতে রাণী হয়ে রইলে আমার কাছে। এই বই পড়ার স্বাদ আমি জীবনে ভুলবো না।
This writing has an amazing essence of the age old rural life in Bangladesh. Few writers can achieve it. In fact , this writing reminds me of JasimUddin's biography "Jibon kotha" which, in my opinion, is the best book to give the proper vibe of bangali rural life. Loved the book.