যারা যারা বইটা পড়েছেন তাদের কাছে আমার একটা প্রশ্ন,
এই বইয়ের নাম যে "চরিত্রহীন", কিন্তু বইয়ে চরিত্রহীন কে ছিলো? আদৌ কি কেউ ছিলো?
গল্পের মূল চরিত্র সতীশ না উপেন্দ্র তা নিয়ে আমি যদিও সন্ধিহান, তবে তাদের দুজনের বন্ধুত্ব নিয়ে একদমই নয়। তাদের এই বন্ধুত্ব কথায় নয় যেন রক্তে মিশে গেছে।
সতীশ আর সাবিত্রির নীরব প্রেমকাহিনী দিয়ে প্রথম দিকের গল্প শুরু। দুজন দুজনকে ভালোবাসে তবে দুজনের কাছেই ভালোবাসার চেয়ে আত্মসম্মান বড়। তাই একটু অভিমানেই যেন আলগা হতে থাকে সম্পর্কের সুতো। দুজনের ভেতরেই যে সমুদ্র ভালোবাসা ছিলো , চোখের জল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সেই ভালোবাসা কি পরিনতি পাবে?
বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা উপেন্দ্র, পরিচিতমহলে সে বউপাগল বলেই পরিচিত। কিন্তু স্ত্রী সুরবালার ভালোবাসার সামনে যে উপেন্দ্র যেন খড়কুটো। ছোট থেকেই সুরবালা অত্যন্ত নরম মনের। স্বামীকে সে ভগবানের মতো পুজা করে, ভালোবাসে।
একদিন একখানা পত্র পেয়ে উপেন্দ্র সতীশকে নিয়ে হাজির হয় কলকাতায় এক মৃত্যুপথযাত্রী বন্ধুর বাড়ীতে। সেখানে পরিচয় হয় বন্ধুর স্ত্রী কিরনময়ীর সাথে। এমন রূপবতী সচরাচর দেখা যায় না। প্রথমদিন তারা কিরনের সম্পর্কে বিরূপ ধারণা নিয়ে গেলেও, আস্তে আস্তে তাদের সম্পর্কটা সহজ হয়ে যায়। কিন্তু কিরন সতীশকে ছোটভাইয়ের জায়াগায় বসালেও মনে মনে উপেন্দ্রকে ভালোবেসে ফেলে। আপাতদৃষ্টিতে কিরনকে চরিত্রহীন মনে হলেও উপন্যাস পুরোটা পড়লে এ ভুলধারণা ভেঙে যাবে। তার মহত্ত্ব আর আত্মত্যাগ দেখে সত্যিই মন ভরে যায়। তবে এই উপন্যাসে শুধু কিরনময়ীই নয়, সকলেই যেন ভালোবাসা ত্যাগের প্রতিযোগিতায় নেমেছে, কে কাকে হারাতে পারবে।
উক্ত চরিত্রগুলো ছাড়াও দিবাকর, বেহারী, সরোজিনী, বিপিন, জ্যোতিষ, শশীকান্ত, প্রমুখ চরিত্রগুলোরও গল্পে যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।
চরিত্রহীন নিয়ে লিখতে শুরু যে কোথায় গিয়ে শেষ হবে সেটা আমি নিজেও জানিনে বাপু।
এখানে লিমিটেড শব্দের ভেতর লিখেছি, তাই এই বইয়ের প্রতি ভালোলাগাটা ঠিকঠাক প্রকাশ করতে পারিনি, তবে এটুকু বলি শরৎচন্দ্রের লেখা "শ্রীকান্ত"র পরে "চরিত্রহীন" হলো আমার প্রিয় উপন্যাস।