আমার উন্মাদ জীবন নিয়ে দীর্ঘ ৯৬ পৃষ্ঠার ব্যক্তিগত কথন, মানে রীতিমতন লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ। এটা আসলেই আমার জন্যে বিরাট ব্যাপার। আরো বিরাট ব্যাপার হল এই বইয়ের কার্টুন এঁকে দিয়েছেন আহসান হাবীব স্বয়ং!
অসাধারণ বই। পড়তে খুব মজা পেয়েছি। আত্মজীবনী বা স্মৃতিকথা বরাবরই আমার পছন্দ। মেহেদী হক আমার পছন্দের মানুষ। দূর থেকে দেখেই খুব ভালো লেগেছে ওনার অনেক কথাবার্তা, কাজ। এই বইতে ওনাকে কিছুটা কাছ থেকে জানতে পারলাম। বইটা মেহেদী হক এর আত্মজীবনী নয়। উন্মাদে ওনার অভিজ্ঞতার বর্ণনা। কিন্তু লেখকের সাথে উন্মাদের সম্পর্ক এতটাই জড়ানো, যে বইটিকে মেহেদী হক এর আত্মজৈবনিক নন-ফিকশন বললে ভুল বলেছি বলবেন না হয়তো কেউ। উন্মাদ সম্পর্কে জানতে, ঢাকা কমিক্সের শুরুর কাহিনী জানতে বা নিছক কার্টুন কিংবা জীবন নিয়ে মেহেদী হকের আলোচনা পড়তে চাইলে এই বইটির জুড়ি নেই। মেহেদী হকের লেখার হাত দারূন। সাবলীল এবং পড়তে মজার। আশা করি উনি ভবিষ্যতে আরও আত্মজৈবনিক লিখা লিখবেন। মেহেদী হক যদি বাংলাদেশের কার্টুন নিয়ে কিংবা বৈশ্বিক কার্টুন, কমিক্স ইত্যাদি নিয়ে একটি প্রামাণ্য গ্রন্থের মতো লিখেন কখনো তবে সেটিও দারুণ হবে। এ ধরনের নন-ফিকশন সম্ভবত প্রকাশিত হবার প্রয়োজন রয়েছে। ওনার পরবর্তী বইগুলো পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।
Fantastic book. Vivid journey. Went from past to present in author's life; his works, achievements, fascinations and dreams. I liked the journey as whole. It's enchanting to see people achieve their dreams. And it's no sheer luck, it's hard earned with consistent work and perseverance.
মেহেদী হক ভাইয়ের ‘উন্মাদে দেড় যুগ’ বইকে উনার কার্টুনিস্ট জীবনের একপ্রকার আত্মজীবনী বলা চলে।কিভাবে উন্মাদের সাথে যুক্ত হলেন আর দেখতে দেখতে সেখানে ১৮ বছর কাটিয়ে দিলেন,তার কথামালা।কি সাবলীল আর রসাত্নক সেই বর্ণনা।অবশ্য উন্মাদ নিজেই যেখানে ইন্টারেস্টিং প্রজেক্ট,তার ইতিহাসও সেরকম ‘উন্মাদীয়’ হবে-এমনটাই স্বাভাবিক।মেহেদী হক কেবল উন্মাদের কথাই লিখেননি,সেই সাথে তুলে এনেছেন ভোরের কাগজ,বাংলার বাণীর স্যাটায়ার পেজ শুরুর গল্প। New Age, Dhakaর এডিটরিয়াল কার্টুন আঁকার দায়িত্ব পাওয়ার কথা পড়তে পড়তে এক ঝলক নুরুল কবীরকেও দেখতে পাবেন। উন্মাদের অন্দরমহলের গল্পের সাথে শুনিয়েছেন নিজের কৈশোর-তারুণ্য আর জীবনসঙ্গিনীকে খুঁজে পাওয়ার গল্প।আছে রাজনীতিকে ছোট করে চিমটি কাটতে চাওয়ার চেষ্টা।বাড়ি থেকে উন্মাদ অফিস যাওয়ার বর্ণনা পড়তে পড়তে সে সময়ের ঢাকার পরিবহনব্যবস্থাও সম্বন্ধেও একটা ধারণা হয়ে যাবে।নব্বইয়ের দশক ও নতুন শতকের রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার লাগোয়া মফস্বলের সে কি চমৎকার বর্ণনা!যেসব তরুণ ঢাকাকে চিনতে বা জানতে চান,তারা দেখবেন-ঢাকা কি দ্রুতই না বদলেছে।বইয়ের বড় একটা অংশ জুড়েই আছেন ‘বস’ আহসান হাবীবের নানা কাজকারবারের বর্ণনা।পড়তে পড়তে না হেসে উপায় নেই।উন্মাদ পরিবার তো বটেই,হুমায়ুন আহমেদ-ধ্রুব এষরাও এসেছে পার্শ্বচরিত্রের মত।উন্মাদ অফিসের অনেক বিভিন্ন ‘প্রজেক্ট’ এর মাঝ থেকেই কখনো বা সময়ের প্রয়োজন থেকেই উঠে আসে Akantis বা DHAKA Comics। গণজাগরণ মঞ্চের কারণে ২০১৩র বইমেলা যে ঠান্ডা গিয়েছিল,সেটা বোধহয় মেহেদী হক-ই প্রথম লিখলেন।সেইসাথে আজিজ মার্কেট কেন্দ্রিক আঁতেল গোষ্ঠী ও 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা' কেন্দ্রিক কমিক্স করতে চাওয়া কেউ কেউ বইটা পড়ে কিছুটা ক্ষুব্ধ হতে পারেন। :P
অরিজিনালি এটা শিক্ষামূলক কোন বই না,তারপরেও কেউ যদি 'শিক্ষামূলক' কিছু পড়ার নিয়ত করে এই বই হাতে নেন,তবে শেষ কয়েকটা পৃষ্ঠা আপনার জন্য।কিভাবে পড়ে গিয়ে উঠে দাঁড়াবেন বা ক্রিয়েটিভ আইডিয়ার লাইনে কিভাবে সারভাইভ করবেন-সেটা শিখতে পারবেন।
শেষ কবে এক সন্ধ্যায় একটা বই পড়ে শেষ করেছিলাম,মনে পড়ে না।ইনফ্যাক্ট ইদানীং কোন বই ২০০/২৫০ পেজের বেশি হলে,সেটা আর পুরোপুরি শেষ করা হয়ে উঠে না।মেহেদী হক ভাইয়ের কার্টুনের মত উনার নন-ফিকশন লেখার হাতও এত অসাধারণ যে বইটা শুরুর পরে শেষ না করে উঠতে পারিনি।মেহেদী ভাই কার্টুনের পাশাপাশি নিয়মিত লিখবেন-সেই প্রত্যাশাই করবো।
বইয়ের ইলাস্ট্রেশন করেছেন স্বয়ং আহসান হাবীব।গেল বইমেলাতেই প্রকাশিত হয়েছিল বইটি।