Manik Bandopadhyay (Bengali: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়) was an Indian Bengali novelist and is considered one of the leading lights of modern Bangla fiction. During a short lifespan of forty-eight years, plagued simultaneously by illness and financial crisis, he produced 36 novels and 177 short-stories. His important works include Padma Nadir Majhi (The Boatman on The River Padma, 1936) and Putul Nacher Itikatha (The Puppet's Tale, 1936), Shahartali (The Suburbia, 1941) and Chatushkone (The Quadrilateral, 1948).
১৩-খানা বউয়ের গল্প। অস্বীকার করিব না, নারী হইয়া পড়িবার সুবাদে আগ্রহটা বউ ব্যতীত বরগুলির পানেই অধিক নিবদ্ধ ছিল। ১৩টি বউ ১৩ রকমের; রমণী-হৃদয় এত বিচিত্র জানিয়া আশ্চর্যান্বিত হইলাম। অথচ ১৩জন বরের পেশা বাদ রাখিয়া উল্লেখযোগ্য ভিন্ন পার্থক্য দৃষ্টিগোচর হইল না। ব্যাপারখানা দেখিয়া মনে মনে বেশ দমিয়া গেলাম। হেতু এই যে, নারী চরিত্রগুলির অত্যধিক সুস্পষ্ট প্রকাশে নিজ আবছায়া দেখিয়াই বুঝিয়া লইয়াছি, লেখক কি নিগূঢ় সত্যই না প্রকাশ করিয়া দিয়াছেন! তবে তো পুরুষদিগের মতিগুলিও মিথ্যে নয়... ইহা ভাবিয়াও মনোবেদনায় ভুগিয়াছি।
মধ্যবিত্ত সমাজে অন্তরীণ নারীর রুদ্ধ আবেগ, সীমাবদ্ধতা এবং তদ্বিপরীতে জড়িত সামাজিক চাপের গভীর বিশ্লেষণে দ্বন্দ্বে পতিত হইলাম। সংসার আদতেই সমরাঙ্গন বোধ হইল। বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের নিরীক্ষাধর্মী লেখাগুলি আমার মস্তক ঘুরাইয়া দেয়। তথাপি বইখানা আগাগোড়াই বাস্তবধর্মী। তৎকালীন সমাজের অপ্রকাশিত নারী জীবনের অবর্ণনীয় ভাবাবেগ ইহার মতো কোথাও নাই।
বইয়ের নাম দেখে যতখানি হতভম্ব হয়েছিলাম তার থেকে বেশি হয়েছি সূচিপত্র দেখে । অমুকের বউ ,তমুকের বউ , পুরো বই ভরতি শুধু বউ আর বউ । বাঙালি বউদের বৈবাহিক জীবনে কত ঝামেলা সামলাইতে হয় আর তারপরেও তারা কিভাবে সারভাইভ করে সংসার টিকিয়ে রাখে তার বিশাল আখ্যান এই বউ এর বইয়ে আছে ... খবরদার আপনার বউ কে এই বই পড়তে দিয়েন না । নাইলে কিন্তু শুধু উনুনে নয় সংসারেও জ্বলবে.........বাংলার বেশিরভাগ বউয়েরা তো গান্ধীবাদ মানে এক গালে থাপ্পড় দিলে আরেক গাল পেতে দেওয়ায় বিশ্বাসী । এই বই পড়ার পর কিন্তু মুহাম্মদ আলী তে বিশ্বাস করা শুরু করবে। তবে বাংলার বউরা এখন আগের মতো যে খুব নিরীহ আছে তাও কিন্তু না।বাতাস একটা সময়ে উল্টো দিকেও বহে । ওটা বাতাসেরও দোষ নয় আবার দিকের ও নয় । এটাই নিয়ম । আমাদের ভাড়া বাসার পাশে থাকে এক ভদ্রলোকরে চিনতাম যারে রাত এগারোটার সময় তার বউ ঝগড়া করে ঘর থেকে বের করে দিয়েছিলো । তার অপরাধ- সে রাত্রে বাড়ি ফেরার সময় অনেক গুলো কই মাছ কিনে এনেছিলো উফফফফ (দীর্ঘনিঃশ্বাসের শব্দ) ভদ্রলোক রাত তিনটা পর্যন্ত রাস্তায় পায়চারি করেছেন আর একটু পরপর বাসার নীচে গিয়ে কাতর কন্ঠে বলছিলেন ''ঘরে ঢুকতে দাও প্লিজ আর কখনো রাত করে মাছ আনবো না '' উনার এই কাকুতি মিনতি বারান্দায় দাঁড়ায়ে শুনার পর কিভাবে যেন কথাটা আমার মাথায় ঢুকে গেলো । তারপরের কয়েকদিন যেইখানেই যাই পরিস্থিতি একটু শান্ত হলেই আমার কানে বাজতো - ঘরে ঢুকতে দাও প্লিজ আর কখনো রাত করে মাছ আনবো না ঘরে ঢুকতে দাও প্লিজ আর কখনো রাত করে মাছ আনবো না ঘরে ঢুকতে দাও প্লিজ আর কখনো রাত করে মাছ আনবো না কি বীভৎস !
জগতে কেবল দু:খ, আর মানসিক জটিলতার যদি কোন শিল্পী থাকেন, তবে তিনি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মত করে অন্তর বাহির ছিড়েখুঁড়ে আপনাকে নাঙ্গা করে দিতে কেউ পারবে না, অন্তত বাংলা সাহিত্যে তো নয়ই।
আমি একটা একটা করে গল্প পড়েছি। বেশি পড়লে নেওয়া যায় না। স্নায়ুর উপর চাপ পড়ে।
বাংলার নারীজাতি লক্ষ্মীপ্রতিমা। না, ভুল বললাম, দূর্গা। একহাতে অভয় দেন, আর বাকি হাতে কিন্তু হে হে.... সুতরাং বউ সাহিত্যরসিক হলে এই বই তার হাতে দিয়েন না, কপালে কষ্ট আছে। তবে তাদের লক্ষ্মীশ্রীর পরিচয়ও আছে কিছু গল্পে।।
অনেক ভদ্রলোক নারীর মন বুঝতে চান, এই বইটি তাদের অবশ্যপাঠ্য।
আমার লেখালেখির দোষ আছে, আর আমিও খানিকটা দু:খবিলাসী। মানিক আমার কাছে আইডল৷ প্রতিটা গল্পেই এমন কোন মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা, আর্থিক সমস্যা এমনভাবে তুলে ধরেছেন যে গায়ে কাঁটা দেয়।
বইয়ের নাম দেখে হাসবেন না। ভেতরে যা আছে, তা আপনাকে শিওর বিরাট বড় বড় ধাক্কা দেবে।ম্যাচিউর হতে চান?মানিক পড়ুন।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের এক শক্তিশালী কথাশিল্পী। তাঁর রচিত বউ বইটি চমৎকার কিছু ছোটগল্প দিয়ে সাজানো। বউ বইটিতে বিভিন্ন পেশাজীবীদের বউদের নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। এমন ধরনের গল্প বোধহয় অন্য কোন লেখক বা সাহিত্যিক দ্বিতীয়বার চেষ্টা করেনি। মনস্তত্ত্ব নিয়া খেলতে পছন্দ করা লেখক প্রতিটি গল্পেই মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করেছেন। নিচে বিস্তারিত দিলাম-
১. দোকানির বউ - সরলা নামের এক বধূর গল্প, যার স্বামী শম্ভু ছোট্ট মনিহারি দোকান চালায়। শাশুড়ি,জা,দেবরের সংসারে সরলা কার্যত অবহেলিত, একলা মেয়েমানুষ হিসেবে নিজেকে ষড়যন্ত্রের শিকার ভাবে। তখন সে একাই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক চাল চালে টিকে থাকার জন্য। লেখকের চেনা স্টাইল গার্হস্থ্য পরিসরের ভেতরে একজন নারীর একাকীত্ব আর অসহায়তা নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা।
২. কেরানির বউ - মধ্যবিত্ত যৌথ পরিবারে বৌ হয়ে এলে অনেক সময় অনেক ধরণের শাসন বারণের মধ্যে পড়তে হয় নতুন বৌ কে। কেউ বলে বৌ ওখানে যেও না তো কেউ বলে ও কাজ করো না। একটু জোরে হাসলেও দোষ,কাপড় আনতে গিয়ে ছাদে একটু বেশি সময় দাঁড়ালেও দোষ। এমনি এক দমবন্ধকর পরিবেশ থেকে বের হয়ে মুক্তির নিঃশাস নেয়ার গল্প হলো এক কেরানির বউয়ের গল্প। মধ্যবিত্ত কেরানি-জীবনের টানাপোড়েনে বউয়ের মানসিক অবস্থান নিয়ে গল্প।
৩. সাহিত্যিকের বউ - আমরা যারা বই পড়ি তারা প্রায় সময়ই ফ্যান্টাসিতে ভুগী গল্পের নায়ককে নিয়ে। বাস্তব জীবনেও স্বামীর মাঝে কিংবা বয়ফ্রেন্ডের মাঝে খুঁজে বেড়াই তাদের। কিন্তু আমরা ভুলেই যাই বাস্তবতা আর গল্প কখনোই এক হয়না। সূর্যকান্ত নামের এক লেখক এবং তার তরুণী স্ত্রী অমলা। অমলা তার সাহিত্যিক স্বামীর লেখা গল্পের নায়কদের প্রেম, ভালোবাসা, ন্যায়, নীতি প্রভৃতি খুঁজে বেড়ায় স্বামীর মাঝে আর স্বামী খুঁজে বেড়ায় অন্যকিছু। লেখক এখানে বেশ গভীর মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের চিত্র এঁকেছেন, স্বামীর সৃষ্টিশীল জগতের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে অমলার নিজস্ব সরলতার দ্বন্দ্ব।
৪. বিপত্নীকের বউ - প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় বিবাহ করে রমেশ, নতুন স্ত্রী প্রতিমাকে। প্রতিমা মৃতা সতীনের স্মৃতি নিয়ে ঈর্ষায় ভোগে, অথচ সেই স্মৃতির ছবি দেখেই তার মনে এক ধরনের করুণা জন্মায়। লেখক এখানে অসাধারণ দক্ষতায় দেখিয়েছেন কীভাবে একজন জীবিত নারীকে একজন মৃত নারীর ছায়ার সাথে প্রতিনিয়ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়। ঈর্ষা, শ্রদ্ধা আর নিঃসঙ্গতার জটিল মিশ্রণে তৈরি এই গল্প।
৫. তেজী বউ - সুমতি নামের এক প্রতিবাদী স্বভাবের বউয়ের গল্প, যার তেজ পারিবারিক প্রথার বিপরীতে দাঁড়ায়। এই তেজ কোথা থেকে এলো তা ব্যাখ্যাতীত রহস্য হিসেবে রেখে লেখক দেখান একজন নারীর অবাধ্যতা আসলে তার আত্মমর্যাদারই প্রকাশ। শাশুড়ি-স্বামীর সাথে তার সংঘাত সমাজের প্রথাগত নারী-ভাবমূর্তির বিরুদ্ধে করা এক বিদ্রোহ।
৬. অন্ধের বউ - একজন দৃষ্টিহীন স্বামীর স্ত্রী হিসেবে বেঁচে থাকার শারীরিক-মানসিক জটিলতা নিয়ে এই গল্প তা নাম শুনেই অনুমান করা যায়। সীমাবদ্ধতা ও নির্ভরতার সম্পর্ক, বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্ন এটাই গল্পের মূল কথা।
৭. কুষ্ঠরোগীর বউ - যতীন ও মহাশ্বেতার গল্প, যেখানে স্বামীর কুষ্ঠরোগ তাকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করলেও স্ত্রীর প্রতি নির্ভরতা বাড়িয়ে দেয়। মহাশ্বেতা নিজের ঝুঁকির কথা ভুলে গিয়ে প্রায় স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে স্বামীর সেবায়। লেখক এখানে যেমন স্বামীর প্রতি স্ত্রীর ভালোবাসা ও আত্মত্যাগ দেখায়, তেমন স্ত্রীর প্রতি স্বামীর স্বার্থপর আচরণও দেখায়।
৮. জুয়াড়ির বউ - জুয়াড়ি স্বামীর অস্থির জীবনে বউয়ের নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক সংকটের গল্প। বউ নানা রকম চেষ্টা, ছল চাতুরী করেও স্বামীকে জুয়া খেলা থেকে ফেরাতে পারেনা কিন্তু যখন স্বামীর বুঝ ফিরে আসে ততদিনে বউ নিরাসক্ত। লেখক দেখান আসক্তি কীভাবে পারিবারিক বন্ধনকে ক্ষীণ করে দেয়।
৯. পূজারির বউ - সন্তান হারানোর শোক, মাতৃত্বের অসহায় আকুলতা আর বিশ্বাসভঙ্গের এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক গল্প। কাদম্বিনী পরপর দুই সন্তান হারিয়েছে। প্রতিবেশীর শিশুর কান্নাতেও সে নিজের মৃত সন্তানদের ফিরে আসার শব্দ শুনতে পায়। একসময় তার ভেতরে প্রশ্ন জাগে যে ঈশ্বর বারবার তার কোল খালি করে দেন, তাঁকে সে কীভাবে ভালোবাসবে? যে স্বামী তার মতো করে শোক প্রকাশ করেনি, তার প্রতিও জন্ম নেয় তীব্র অভিমান ও বিদ্বেষ। লেখক এখানে কোনো অতিরঞ্জিত আবেগের আশ্রয় নেননি বরং একজন শোকাহত মায়ের মনস্তত্ত্বকে নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন।
১০. রাজার বউ - কিছু ভালোবাসা মানুষকে কাছে আনে, আবার কখনো সেই ভালোবাসাই দুজন মানুষের মাঝখানে অদৃশ্য দূরত্ব তৈরি করে। রাজার বউ তেমনই এক গল্প। যামিনী ও ভূপতির প্রেমের শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতো জ্যোৎস্নারাত, ছাদ, নিঃশব্দ পৃথিবী আর পরস্পরের প্রতি সীমাহীন আকর্ষণ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে জীবন বদলে যায়, ভূপতি রাজা হয়, সংসার ও দায়িত্বে নিজেকে ব্যস্ত রাখে আর যামিনী আটকে থেকেছে সেই পুরোনো, উন্মত্ত ভালোবাসার স্মৃতিতে। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো "দুজনেই একে অপরকে ভালোবাসে, অথচ একই সময়ে একইভাবে ভালোবাসতে পারে না"।
১১. প্রৌঢ়ের বউ - বয়স্ক রসিক ও তার তরুণী স্ত্রী সুধারানীর গল্প। বয়সের ব্যবধান, প্রথম স্ত্রী প্রমীলার স্মৃতি, আর নতুন সম্পর্কে সহজ হতে না পারার অস্বস্তি সবকিছু মিলিয়ে এটি এক করুণ চিত্র। রসিকের জীবনে প্রমীলা ছিল শুধু স্ত্রী নয় ছিল তার দীর্ঘ দাম্পত্যের অভ্যাস, সঙ্গ, ভালোবাসা আর একান্ত নির্ভরতার স্মৃতি। প্রমীলার মৃত্যুর পর জীবনে যখন সুধারানী আসে, রসিক তাকে নতুন একজন মানুষ হিসেবে দেখার বদলে বারবার প্রমীলার সঙ্গে তুলনা করতে থাকে। সুধারানীর হাসি, কান্না, অভিমান সবকিছুই তার চোখে অপরিণত, ছেলেমানুষি। গল্প যত এগোয়, ততই বোঝা যায় সমস্যা সুধারানীর মধ্যে নয়, রসিকের নিজের ভেতরেই। সে নতুন সম্পর্ককে গ্রহণ করতে পারছে না, কারণ তার মন এখনো অতীতের দাম্পত্যে আটকে আছে।
১২. সর্ববিদ্যাবিশারদের বউ - মানুষকে ভালোবাসারও কি কোনো নিয়ম আছে? ভালোবাসা কি জানা-বোঝার বিষয়, নাকি অনুভব করার?সর্ববিদ্যাবিশারদের বউ গল্পে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নিবারণ চরিত্রটির মধ্য দিয়ে এমন এক মানুষকে এঁকেছেন, যে পৃথিবীর প্রায় সবকিছু নিয়েই নিজের মতামত ও ব্যাখ্যা দিতে জানে। কিন্তু যে মানুষটি সবকিছু জানে সে কি সত্যিই ভালোবাসতে জানে? সুকুমারীর মাধ্যমে আমরা ধীরে ধীরে বুঝতে পারি নিবারণের যত্ন, আদর, নিষেধ, এমনকি ভালোবাসার মধ্যেও কোথাও যেন একটা জানার অহংকার ও নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস কাজ করে। ফলে ভালোবাসা কখনো উষ্ণ, কখনো যান্ত্রিক মনে হয়।
১৩. উদারচরিতানামের বউ - নামেই বিদ্রূপ লুকানো, গল্প উদারচরিতানামের বউ নামটি যতটা উদারতার কথা বলে, গল্পটি ততটাই নির্মমতা দেখায়। দেখায় উদারতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা স্বার্থপরতা ও বৈপরীত্য। যতীন সবার জন্য উদার পরের বিপদে টাকা খরচ করে, মানুষের পাশে দাঁড়ায়, জাত-ধনী-গরিবের ভেদাভেদ মানে না। অথচ নিজের ঘরের মানুষ, বিশেষ করে স্ত্রী শতদলবাসিনীর প্রতি তার আচরণে সেই উদারতার ছিটেফোঁটাও নেই। অন্যের দুঃখে যার হৃদয় কেঁদে ওঠে, নিজের স্ত্রীর কষ্ট তার চোখেই পড়ে না। গল্পের সবচেয়ে তীব্র দিক হলো শতদলবাসিনীর অন্তর্দ্বন্দ্ব।
ভিন্ন ধরণের গল্পের স্বাদ নিতে চাইলে যে কেউ বইটা পড়তে পারেন।
বউ,বইটি অবশেষে পড়ে শেষ করলাম।বউ বইয়ের মধ্য লেখক অনেক ধরনের বউদের নিয়ে লিখেছেন -এইখানে রাজার বউয়ের যেমন বর্ণনা আছে ঠিক তেমন জুয়াড়ির বউয়ের ও বিবরণ পাবেন। বউরা যে কত রকম ছলা কলা করে স্বামীর মন পাবার জন্য, তা এই বই না পড়লে বুজতাম না। বাঙালি মেয়েরা স্বামী বলতে অজ্ঞান কিন্তু তাই বলে কী সবাই এমন তা কিন্তু নয়। বউ মানে নারী-এই বউ সময়ের সাথে সাথে কখনো মা,শাশুড়ী, মামী কিংবা খালা নাহলে আরও কত কিছু হয় কিন্তু তার এই বউ পরিচয় টা এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে অনেক কিছু। আমরা মানুষ যেমন আলাদা, আমাদের চাওয়া পাওয়া ও আলাদা। তাই অমুকের বউ-তমুকের বউয়ের সুখে থাকার মন্ত্র ও আলাদা। নারীর মনের যাতনা-বেদনা এত সুন্দর করে তুলে ধরেছেন লেখক যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। দাম্পত্য জীবনটা অনেক জটিল, সব কিছু উপেক্ষা করে যে সহে সেই রহে। ভালো লেগেছে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের,বউ।যারা পড়তে চান তারা সময় নিয়ে পড়তে পারেন।
কোন বিষয় নিয়ে লিখতে গেলে, উক্ত বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা থাকতে হয় কিংবা ভালোভাবে বিষয়টির সাথে মিশতে হয়।
কৌতূহলবশত রুমমেইট অন্যান্য বইয়ের সাথে প্রখ্যাত লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বউ বইটিও কিনে বাসায় নিয়ে আসে। সূচি দেখেই, চোখ কপালে উঠার মতো অবস্থা। দোকানির বউ হতে শুরু করে, সাহিত্যিক কিংবা সর্ববিদ্যাবিশারদের বউ, রাজার বউ ইত্যাদি মোট ১৩ টি গল্প নিয়ে সাজানো বইটি। আপনি যদি গ্রামেই বেড়ে উঠে থাকেন, তাহলে উক্ত গল্প গুলোর প্রায়ই চারপাশের বউ(পাশের বাসার আন্টি)'র কথাবার্তা, চিন্তা-ভাবনা, রাগে-অভিমান, ঝগড়া ইত্যাদি অনেক কিছুর সাথে আশ্চর্যজনক ভাবে মিল খোঁজে পেতে বাধ্য। সব গল্পই খুব সুন্দর ভাবে সাজানো, আপনাকে পরের গল্পটাও পড়ার জন্য টেনে নিয়ে যাবে। গল্পগুলোতে দোকানি, কেরানি, সাহিত্যিক 'স্বামী' পেশা ও আচার-আচরণে, বউয়ের (মূল ভূমিকা) আচরণগত কিংবা মানসিক ভাবে কিধরনের পরিবর্তন আসে, তা ফুটিয়ে তুলার চেষ্টা করা হয়েছে।
কার 'বউ' কিরকম আচরণ করে, তা যদি জানার জন্য মৃদু পরিমাণ আগ্রহ থেকে থাকে আপনার, তাহলে বইটি পড়ুন....
বৌ নিয়ে বোধ করি প্রতিটি অবিবাহিত পুরুষের আগ্রহ থাকে যে বস্তুটা কিরূপ। আর প্রতিটি বিবাহিত পুরুষের বাস্তবতা থাকে, অতৃপ্তি থাকে। এমন না হলেও পারতো কিংবা আরেকটু ঐরূপ হলে মন্দ হতো না। তো, মানিক মহাশয় আমাদের বউ বিষয়ক বিভিন্ন দিক থেকে খুব সাহায্য করেছে। পেশা হিসেবে কোন পুরুষের বউ কেমন হতে পারে, তার এক ঝটকা মানিক বাবু তার বইতে দেখিয়ে দিয়েছেন। আর একটা কথা না বললে নয়। কেবল বউ নয়,
বউদের সাথে স্বামীদের মনস্তত্ত্বও কিছুটা বুঝতে সাহায্য করবে মানিক বাবুর “বউ”।
তো আর দেরি কেন?
হে অবিবাহিত যুবকগণ, তোমরা নিজের পেশা অনুসারে তোমাদের হবু বউ কেমন হতে পারে?
বইটি বিভিন্ন পেশাজীবীর বউদের বিভিন্ন অবস্থাতে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, অনুভুতি ,আবেগের ছোট খাটো একটি থিসিস পেপার বলা যেতে পারে। দুঃখের কথা হচ্ছে এই যে, সফটওয়্যার কর্মীর বউ নিয়ে কোন গল্প ছিল না, থাকলে একটু আগাম ধারণা নিয়ে রাখতে পারতাম🤦♂️।
ভেবেছিলাম যে হয়তো মজার কিছু ঘটনার আদলে বইটি লেখা হয়েছে। পড়ার পরে দেখলাম যে বিশাল মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার স্যাপারের সমারোহ।
উদারচরিতানামের বউ :
বাইরের মানুষের কাছে যতীন একজন উদার মানুষ। ধার করে অন্যের উপকার করবে কিন্তু স্ত্রী, বোন এর জন্যে অর্থ খরচ তো করেই না উল্টো বোনেক বোঝা মনে করে এবং চুন থেকে পান খসলেই স্ত্রীকে শাস্তি দেয়। অথচ এই যতীনই বাইরের দুনিয়ার মানুষের কাছে পূজনীয় চরিত্রের একজন ব্যক্তি।
রাজার বউ :
একজন মানুষ ভালোবাসা পাওয়ার জন্য বারংবার আকুতি জানাবার পরে যখিন দেখে যে সে ভালোবাসা পাচ্ছে না, তখন সে হাল ছেড়ে দেয়।
হাল ছেড়ে দেবার পর সেই ভালোবাসা তার পায়ের সামনে এনে রাখলেও তাতে তার কিচ্ছুটি যায় আসে না।
• একদিন হয়তো যামিনীর কল্পনা থামিয়া যাইবে, হয়ত আকুল হইয়া আজ রাত্রেই অন্ধকারে সে এই বাস্তব ভূপতিকে খুঁজিবে কিন্তু ভূপতি হয়তো জাগিয়া নাই।আবার কাল রাত্রে ভূপতি যখন আলো জ্বালিয়া অপলক চোখে তার মুখের দিকে চাহিয়া থাকিবে, সে হয়তো তখন ঘুমাইয়া আছে।একসঙ্গে তারা যে আজ পরস্পরকে দাবি করিবে তার বাধা অনেক।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি ছোটগল্পের সংকলন ‘বউ’। লেখকের জীবনের প্রথম দিককার গ্রন্থ এটি। বইটি নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই, গল্পগুলোর নাম দেখলে বই সম্পর্কে কিছুটা অনুমান করা যায়।
বইটি পড়ে আমি মানবিক দিকের নতুন কিছু দিক চেনেছি। একেকটা গল্পটি একেকটা মাত্রার, একেক জনের জীবন যাত্রার উপরে লেখা। লেখকের বলার ভঙ্গী আকর্ষণীয়। মানবীর মনের নানা দিক উঠে এসেছে বইটাতে। খুবই মজা পেয়েছি পড়ে।
জননী এবং বউ এ মানিক বন্দোপাধ্যায়ের নারীদের মনস্তাত্বিক বিষয়াবলি সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা পড়ার সময় আমার একটিবারের জন্যেও মনে হয়নি লেখক একজন পুরুষ! কি চমৎকার, কি সুন্দর সাবলীল সহজ ভাষায় একজন নারীর মনে নানান পরিস্থিতিতে কেমন ভাব হয় তা বর্ণনা করে গেলেন। বেশ ভালো!