Jump to ratings and reviews
Rate this book

আবুল হাসানের শ্রেষ্ঠ কবিতা

Rate this book
এই বইয়ে সংকলিত-
রাজা যায় রাজা আসে
যে তুমি হরণ করো
পৃথক পালঙ্ক
অগ্রন্থিত কবিতা

80 pages, Hardcover

First published February 1, 2006

7 people are currently reading
89 people want to read

About the author

Abul Hasan

24 books30 followers
কবি আবুল হাসান ছিলেন ষাট ও সত্তরের দশকে বাংলাদেশের প্রধান কবিদের একজন।

১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ার বর্ণিগ্রামে তাঁর জন্ম। এটি ছিল তাঁর মাতুলালয়। পৈতৃক নিবাস ছিল পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরের ঝনঝনিয়া গ্রামে। বাবা ছিলেন পুলিশ অফিসার। নাম আলতাফ হোসেন মিয়া। আবুল হাসানের প্রকৃত নাম ছিল আবুল হোসেন মিয়া। কিন্তু আবুল হাসান নামেই তিনি লেখালেখি করতেন, আর এ নামেই স্মরণীয় হয়ে আছেন।

আবুল হাসান এসএসসি পাস করেন ১৯৬৩ সালে ঢাকার আরমানিটোলা সরকারি বিদ্যালয় থেকে। তারপর বরিশালের বিএম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক। ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইংরেজিতে অনার্স পড়ছেন আর পাশাপাশি চলছে কবিতা লেখা, সাহিত্যসংগ্রাম।

এ সময়ই তাঁর সাহিত্য-চেতনা ও রাজনৈতিক-চেতনা বিকশিত হয়ে ওঠে। গণমানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখেন তিনি। ছাত্র হিসেবে ছিলেন মেধাবী। কিন্তু অনার্স পরীক্ষা দেননি। ১৯৬৯ সালে যোগ দিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের বার্তা বিভাগে। সাংবাদিকতায় মেধার পরিচয় দিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর ছিলেন গণবাংলা (১৯৭২-৭৩) এবং দৈনিক জনপদের (১৯৭৩-৭৪) সহকারী সম্পাদক। মাত্র ২২ বছর বয়স থেকেই তিনি ছিলেন খ্যাতিমান কবি, ঢাকা শহরের আলোচিত তরুণ। ব্যক্তিজীবনেও স্বকীয়তায় ভাস্বর প্রেম, দ্রোহ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে। ১৯৭০ সালে এশীয় কবিতা প্রতিযোগিতায় প্রথম হন তিনি। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর কাব্যগ্রন্থ রাজা যায় রাজা আসে, ১৯৭৪-এ যে তুমি হরণ করো এবং ১৯৭৫-এ সব শেষে পৃথক পালঙ্ক

কবিতায় বলিষ্ঠ মানুষটি শারীরিকভাবে ছিলেন কিছুটা দুর্বল। হৃদযন্ত্রের সমস্যা ছিল তাঁর। অসুস্থতা তাঁকে ক্রমেই নিয়ে যেতে থাকে মৃত্যুর দিকে। ১৯৭৫ সালের ২৬ নভেম্বর কবিতা ও ভালোবাসা ছেড়ে তাঁর যাত্রা অনন্তলোকের দিকে।

তাঁর কাব্যনাট্য ওরা কয়েকজন (১৯৮৮) এবং আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ (১৯৯০) প্রকাশিত হয়েছে মৃত্যুর অনেক পর। কবিতার জন্য তিনি মরণোত্তর বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৭৫) এবং একুশে পদক (১৯৮২) পেয়েছেন। আবুল হাসানের কবিতা আধুনিক বাংলা কবিতায় নিয়ে এসেছিল নতুন সড়ক, নতুন আবহ। আধুনিক নাগরিক, মানুষের নিঃসঙ্গতা, যন্ত্রণা, মৃত্যু চেতনা, বিচ্ছিন্নতা তাঁর কলমে পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা।

কবি আবুল হাসান অনেক অবিস্মরণীয় কবিতার জনক। তিনি আজও জনপ্রিয়, বহুল পঠিত।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
13 (22%)
4 stars
31 (52%)
3 stars
13 (22%)
2 stars
2 (3%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 12 of 12 reviews
Profile Image for Rifat.
502 reviews329 followers
March 29, 2021
মানুষের হতাশা, বিষণ্নতা কিংবা একাকিত্ব এভাবে কেউ প্রকাশ করে গেছেন, ভাবি নি! একটু অন্যরকম। মানুষ ঠিক কতটা একা হতে পারে!? দুঃখ আর অসুখইবা কতটুকু স্বচ্ছতা দেয়?
"হা সুখী মানুষ, তোমরাই শুধু জানলেনা
অসুখ কত ভালো, কত চিরহরিৎ বৃক্ষের মতো শ্যামল
কত পরোপকারী, কত সুন্দর!"


কিছু কবিতা দ্রোহের যেমনটা জীবন ঘনিষ্ঠ বয়সে হয়ে থাকে; কিছু কবিতা ভালবাসার আর কিছু কবিতা অভিযোগের যেন, খুব অভিযোগ জমা ছিল স্রষ্টার কাছে কিংবা অন্য কারো কাছে; কিছু কবিতা তার স্রষ্টার বিভ্রান্তি আর বিষণ্নতাকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়। "পাখি হয়ে যায় প্রাণ" কবিতা জানিয়ে দেয় চরম নিঃসঙ্গতার কথা-
"অবশেষে জেনেছি মানুষ একা!
জেনেছি মানুষ তার চিবুকের কাছেও ভীষণ অচেনা ও একা!"

মানুষ সত্যিই এতটাই একা আর অচেনা। বিশ্বাস হয় না? আরশির কাছে যান; সময়ের প্রতিযোগিতা থেকে একটু সময় নিয়ে নিজেকে দেখুন; দেখতে থাকুন। শেষে অচেনাও লাগতে পারে! একাও হয়ে যেতে পারেন।


পৃথক পালঙ্ক নামক কাব্যগ্রন্থের উৎসর্গনামায় লেখা সুরাইয়া খানমের নাম, অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরীর শামারোখ তিনিই। ১৯৪৮ সালে জন্ম নেয়া কবি বেঁচে ছিলেন মাত্র ২৮ বছর। তারপরও "ভালোবাসার চাষাবাদ" এ কমতি রাখেন নি!
"দ্যাখো দ্যাখো, জানালায় হেমন্ত রোদ্দুরে তার কনীনিকা ফুটছে।
দ্যাখো দ্যাখো, এখন আমার কোনো দুঃখ নেই, কোনো বিষাদ নেই!
আমি তাকে নদীর মতোন এনে ঘরের বাগান করে রেখেছি, আমার
ভালোবাসাময় একটি একাকী উদ্যান করে রেখেছি তাহাকে!"


~২৯ মার্চ, ২০২১
Profile Image for Daina Chakma.
440 reviews776 followers
July 21, 2018
অবশেষে জেনেছি মানুষ একা
জেনেছি মানুষ তার চিবুকের কাছেও ভীষণ অচেনা ও একা
দৃশ্যের বিপরীতে সে পারে না একাত্ম হতে এই পৃথিবীর সাথে কোনদিনদূরে।


কবির মতো এতো গভীরভাবে একাকীত্বের স্বরূপ আর কেউ কি বুঝতে পেরেছিল?! কিংবা বাংলা ভাষায় নিঃসঙ্গতার এমন সত্য সাহসী উচ্চারণ আর কেউ কি করেছিল?!

কোনো এক ছুটির ভোরে বারান্দার মৃদুমন্দ হাওয়া গায়ে মেখে, কফির তীব্র ঘ্রাণে নাক ডুবিয়ে আবিষ্কার করেছিলাম আবুল হাসান আমার প্রিয় কবি! তবে কি আগে চিনতাম না এই মেলানকলিক কবিকে?! চিনতাম তো! এই বইয়ের প্রায় সবকটা কবিতা আগে পড়া। তবে কিনা বইয়ের পাতা উল্টিয়ে অক্ষর ছুঁয়ে তাদের পড়া হয়ে উঠেনি। পড়েছিলাম ইন্দ্রজালে। ব্লগ ঘাটতে গিয়ে কিংবা গুগল সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজে খুঁজে। একটা দুটো করে।

গোটা বিশ্ব যখন বিজয়ীদের বিজয় মিছিলে হাঁটছে আবুল হাসান অবলীলায় ভীড়ে গিয়েছিলেন সকল লাস্ট বেঞ্চারদের দলে। ওদের তীব্র হতাশাকে অক্ষরের বুলেটে পরিণত করে লিখেছেন-

ক্লাশভর্তি উজ্জ্বল সন্তান, ওরা জুড়ে দেবে ফুলস্কেফ সমস্ত কাগজ!
আমি বাজে ছেলে, আমি লাষ্ট বেঞ্চি, আমি পারবো না!


অথচ পারবো না বলেও তিনি জয় করে গেছেন সকল কাব্যপ্রেমী হৃদয়!

এই যে আমরা গতানুগতিক ধারায় জীবন কাটিয়ে দিয়ে যাচ্ছি প্রত্যেকটা দিন, সকাল থেকে রাত এর অন্যথা ভেবেছি কজন?! আমরা শুধু ছুটছি আর ছুটছি। কিসের পিছে এই লক্ষ্যহীন যাত্রা? আমরা কজন ভালো আছি? খুব ভালো আছি?!

আমাদের জীবনের অর্ধেক সময় তো আমরা
সঙ্গমে আর সন্তান উৎপাদনে শেষ কোরে দিলাম,
সুধীবৃন্দ, তবু জীবনে কয়বার বলুন তো
আমরা আমাদের কাছে বোলতে পেরেছি,

ভালো আছি, খুব ভালো আছি?
Profile Image for basri.reads.
52 reviews6 followers
October 31, 2020


অতটুকু চায়নি বালিকা !
অত শোভা, অত স্বাধীনতা !
চেয়েছিলো আরো কিছু কম,
আয়নার দাঁড়ে দেহ মেলে দিয়ে
বসে থাকা সবটা দুপুর, চেয়েছিলো
মা বকুক, বাবা তার বেদনা দেখুক !
অতটুকু চায়নি বালিকা !
অত হৈ রৈ লোক, অত ভীড়, অত সমাগম !
চেয়েছিলো আরো কিছু কম !
একটি জলের খনি
তাকে দিক তৃষ্ণা এখনি, চেয়েছিলো
একটি পুরুষ তাকে বলুক রমণী ।

__নিঃসঙ্গতা

কবিতা টা পড়া হয়েছিল সেই কবে..কবির নামও জানতে পারা এই একটি কবিতার মাধ্যমে। ইচ্ছা ছিল তার আরো কিছু কবিতা পড়ে দেখার। এই বইটিতে তার ভালো ভালো কিছু কবিতা একত্রিত করার প্রয়াস ছিল। এবং ফলাফল স্বরূপ আরো কিছু কবিতা ভালো লেগে গেলো।কবি বেঁচে ছিলেন মাত্র ২৯ বছর। এরই মাঝে অসাধারণ সব কবিতা লিখে গেছেন।


"অবশেষে জেনেছি মানুষ একা!
জেনেছি মানুষ তার চিবুকের কাছেও ভীষণ অচেনা ও একা!
দৃশ্যের বিপরীতে সে পারে না একাত্ম হতে এই পৃথিবীর সাথে কোনোদিন।”


“ঝিনুক নীরবে সহো
ঝিনুক নীরবে সহো,
ঝিনুক নীরবে সহে যাও
ভিতরে বিষের বালি, মুখ বুঁজে মুক্তা ফলাও!”






Profile Image for তান জীম.
Author 4 books285 followers
January 15, 2022
আবুল হোসেন এর দুয়েকটা কবিতা পড়লেও কাব্যগ্রন্থ পড়া হয়নি। এ বইতে বেশ কিছু দারুণ কবিতা আছে। সবই হয়তো দারুণ কিন্তু আমি কবিতা খুব একটা বুঝিনা বলে হয়তো সব দারুণ লাগেনি। যেগুলো ভালো লাগছে সেগুলো হলো-

ঝিনুক নীরবে সহো
ঝিনুক নীরবে সহো,
ঝিনুক নীরবে সহে যাও
ভিতরে বিষের বালি, মুখ বুঁজে মুক্তা ফলাও!


অতটুকু চায়নি বালিকা!
অত শোভা, অত স্বাধীনতা!
চেয়েছিলো আরো কিছু কম,
আয়নার দাঁড়ে দেহ মেলে দিয়ে
বসে থাকা সবটা দুপুর, চেয়েছিলো
মা বকুক, বাবা তার বেদনা দেখুক!
অতটুকু চায়নি বালিকা!
অত হৈ রৈ লোক, অত ভীড়, অত সমাগম!
চেয়েছিলো আরো কিছু কম!
একটি জলের খনি
তাকে দিক তৃষ্ণা এখনি, চেয়েছিলো
একটি পুরুষ তাকে বলুক রমণী।
Profile Image for Salawat Ullah.
29 reviews32 followers
December 25, 2016
“ঝিনুক নীরবে সহো
ঝিনুক নীরবে সহো,
ঝিনুক নীরবে সহে যাও
ভিতরে বিষের বালি, মুখ বুঁজে মুক্তা ফলাও!”

এই চার লাইনকে আমার মনে হয় আবুল হাসানের সকল কবিতার সারমর্ম।
March 29, 2024
অবশেষে জেনেছি মানুষ একা
জেনেছি মানুষ তার চিবুকের কাছেও ভীষণ অচেনা ও একা
দৃশ্যের বিপরীতে সে পারে না একাত্ম হতে এই পৃথিবীর সাথে কোনদিনদূরে।
Profile Image for Raihan Atahar.
120 reviews23 followers
May 4, 2018
কবি আবুল হাসানের জন্ম ১৯৪৭ সালে এবং মৃত্যু ১৯৭৫ সালে। মাত্র ২৮ বছরের জীবন। কাব্যচর্চা করেছেন মাত্র ১১ বছর।
কিন্তু এই ১১ বছরেই তিনি তাঁর প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি জীবিত থাকতে মাত্র তিনটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল- ‘রাজা যায় রাজা আসে’, ‘যে তুমি হরণ করো’ ও ‘পৃথক পালঙ্ক’। এই তিনটি কাব্যগ্রন্থ ও কিছু অগ্রন্থিত কবিতা থেকে বাছাইকৃত ৪৬টি কবিতা নিয়ে ২০০৬ সালে প্রকাশিত হয় "আবুল হাসানের শ্রেষ্ঠ কবিতা"।

আধুনিক বাংলা কবিতার চমৎকার সমাহার ঘটেছে বইটিতে। প্রতিটি কবিতাই যেন কালোত্তীর্ণ এবং জীবনঘনিষ্ঠ। এর মধ্যে "জন্ম মৃত্যু জীবনযাপন", "উচ্চারণগুলি শোকের", "অসভ্য দর্শন", "নিঃসঙ্গতা", "ধরিত্রী", "ভালোবাসার চাষাবাদ" প্রভৃতি কবিতাগুলো খুব ভাল লেগেছে। বইটির পাঠকপ্রিয়তা কামনা করছি :)
Profile Image for Forkan Alam.
13 reviews
April 6, 2023
আবুল হাসানের অধিকাংশ কবিতা-ই খাপছাড়া। একটু ভালো করে পড়লে আবিষ্কার করা যাবে জীবনানন্দের প্রভাব তাঁর কবিতায় স্পষ্ট। কোনো কোনো কবিতা পুরোপুরি কবিতা হয়ে ওঠেনি বা দুর্বল কবিতা। আবার সেই প্রভাবের বাইরে গিয়ে কোনো কোনো কবিতা কেবল-ই আবুল হাসানের। যেখানে তিনি স্বকীয় হয়ে উঠেছেন, আলো ছড়িয়েছেন। মূলোতো সেই কবিতাগুলোই কবি হিসেবে আবুল হাসানকে এখনও টিকিয়ে রেখেছে। সবার বেলায় একই কথা প্রযোজ্য। সবশেষে মানুষ যা সে ঠিক সেসবের জন্যই টিকে থাকে।

আবুল হাসানকে নিয়ে যতটুকু পড়েছি তাতে মনে হয়েছে একজন পরিণত কবি হয়ে ওঠার পূর্বেই তিনি মারা গিয়েছেন। তাই বলে তিনি যে পুরোপুরি কবি নন তা নয়; বরং কবি হিসেবে আবুল হাসানের আরো অনেককিছু দেওয়ার ছিলো। এত অল্প বয়সে চলে যাওয়ার কারণে যা তিনি দিয়ে যেতে পারেননি। প্রকৃতির নিয়মের কারণে বাঙালিও আবুল হাসান থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
Profile Image for Wasima.
86 reviews41 followers
December 29, 2020
"আমাদের জীবনের অর্ধেক সময় তো আমরা
সঙ্গমে আর সন্তান উৎপাদনে শেষ কোরে দিলাম,
সুধীবৃন্দ, তবু জীবনে কয়বার বলুন তো
আমরা আমাদের কাছে বোলতে পেরেছি,

ভালো আছি, খুব ভালো আছি?"
Profile Image for Shadin Pranto.
1,484 reviews568 followers
September 17, 2017
লিখেছেন কম। কিন্তু কবিতা বাছাইয়ে বাদ পড়েছে আরও বেশি। তারপর থাকে কি?!
Displaying 1 - 12 of 12 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.