স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের সৃষ্ট শার্লক হোমস রহস্য কাহিনির জগতে এক কিংবদন্তি চরিত্র।সারা পৃথিবীর মানুষের অতি প্রিয় চরিত্র গোয়েন্দা শার্লক হোমসের দুটি রহস্যগল্প রয়েছে এই বইয়ে। শার্লক হোমস ও তাঁর সহকারী ওয়াটসনের প্রথম পরিচয় থেকে কাহিনির শুরু। তারপর যথারীতি রহস্য ও তার সমাধান। এ-কাহিনির চরিত্রগুলো কনান ডয়েলের সৃষ্টি। কিন্তু কাহিনি অদ্রীশ বর্ধনের। যিনি বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের মুকুঠীন রাজা। গল্পের পাতায় পাতায় রহস্যজাল বুনতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। এ-কাহিনিদ্বয় মূলত কিশোরদের জন্য লেখা। তবে বড়রাও পড়বেন শিরদাঁড়া টানটান করে।
ছিপছিপে চাবুকের মতো চেহারা। তীক্ষ্ণ উজ্জ্বল দুটি চোখ। পরনে কোট-ট্রাউজার। মাথায় টুপি।মুখে পাইপ। বেহালা বাজাচ্ছেন। ছবিটা দেখলে মনে পড়ে একজনেরই কথা। গোয়েন্দা শার্লক হোমস। অদ্রীশ বর্ধনের লেখা শার্লক হোমসের দুটি রহস্য কাহিনি এই বইয়ে। যা কিশোরদের ভাল লাগবে তো বটেই। বড়রাও পড়বেন শিরদাঁড়া টানটান করে।
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ - রঞ্জন দত্ত
সূচী
শার্লক হোমসের প্রথম অ্যাডভেঞ্চার শার্লক হোমসের মিস অ্যাডভেঞ্চার
জন্ম: ১ ডিসেম্বর, ১৯৩২ | কলকাতায় | একটি শিক্ষক পরিবারে ছোট থেকেই অজানার দিকে দুর্নিবার আকর্ষণ | অ্যাডভেঞ্চারের টান জীবনে, চাকরিতে, ব্যবসায়, সাহিত্যে | চোদ্দবার চাকরি বদল | নামী একটি প্রতিষ্ঠানের পারচেস-ম্যানেজার পদে ইস্তফা দিয়ে পুরোপুরি চলে আসেন লেখার জগতে | গোয়েন্দাকাহিনী দিয়ে লেখালেখির শুরু | ' রচনারীতি র দিক থেকে শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায় এর উত্তরসুরী ' - অভিনন্দন জানিয়েছে একটি নামী সাপ্তাহিক | সেরা বিদেশী গোয়েন্দাকাহিনীকে পরিবেশন করেন বাংলায় | বিজ্ঞান, কল্পবিজ্ঞান, অতীন্দ্রিয় জগৎ, অতিপ্রাকৃত, অনুবাদ - প্রায় সব ক্ষেত্রেই পেয়েছেন স্বীকৃতি | ভারতের প্রথম কল্পবিজ্ঞান পত্রিকা 'আশ্চর্য'র ছদ্দনামী সম্পাদক | এবং সম্পাদনা করেন 'ফ্যান্টাস্টিক' | সত্যজিত রায়ের সভাপতিত্বে প্রথম 'সায়ান্স ফিকশন সিনে ক্লাব' এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক | পত্রিকা, রেডিও, ফিল্মক্লাবের মাধুঅমে কল্পবিজ্ঞানকে আন্দোলন-আকারে সংগঠিত করেন | একাধিক পুরস্কার | কিশোর জ্ঞানবিজ্ঞান ও পরপর দু-বছর 'দক্ষিণীবার্তা'র শ্রেষ্ঠগল্প পুরস্কার | অনুবাদের ক্ষেত্রে 'সুধীন্দ্রনাথ রাহা'-পুরস্কার | ভালবাসেন: বই | গানবাজনা | দেশভ্রমণ
অদ্রীশ বর্ধনের অনুবাদে আর্থার কোনান ডয়েলের মূল 'ক্যানন' তো বটেই, অ্যাড্রিয়ান কোনান ডয়েলের লেখা প্যাস্টিশও পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে। কিন্তু তাঁর নিজের লেখা প্যাস্টিশ? এই ছোট্ট বইটি তেমনই এক লেখা। এতে শার্লক হোমস ও জন ওয়াটসন একই স্কুলের ছাত্র এবং সেখানেই তারা এক অদ্ভুত রহস্যের সম্মুখীন হয়। তারপর কী হয়? গল্পটা লেখা হয়েছে সরস ও দ্রুতগামী ভঙ্গিতে। এতে ধাঁধা আছে, হেঁয়ালি আছে, সলিড রহস্যও আছে। আর আছে একটা ঘোরতর নন-ক্যাননিকাল অথচ উপভোগ্য পরিসমাপ্তি। ভালো লাগল।
প্রথমত বইটার নাম - "শার্লক হোমসের প্রথম অ্যাডভেঞ্চার"। যিনি বইটি এখানে অ্যাড করেছেন তাঁকে অনুরোধ রইল "আরও" বদলে "প্রথম" করে দিতে।
কিংবদন্তি ডিটেকটিভ চরিত্র শার্লক হোমসকে নিয়ে লেখা দুটি প্যাস্টিশ কাহিনির সংকলন এই বইটি। "শার্লক হোমসের প্রথম অ্যাডভেঞ্চার" নামক একটি উপন্যাস এবং "শার্লক হোমসের মিস্ অ্যাডভেঞ্চার" নামক একটি ছোটগল্প রয়েছে এই বইতে।
আমরা সকলেই জানি হোমস এবং ওয়াটসনের প্রথম মোলাকাত হয় কোনান ডয়েল রচিত "এ স্টাডি ইন স্কারলেট" উপন্যাসের কাহিনিতে। তখন দুজনেই ছিল প্রাপ্তবয়স্ক এবং তাদের একে অন্যের পূর্ব পরিচিতি ছিল না। কিন্তু, "শার্লক হোমসের প্রথম অ্যাডভেঞ্চার" নামক উপন্যাসে সেই ঘটনাক্রমকে নস্যাৎ করে শার্লক ওয়াটসন জুটির প্রথম মোলাকাত ঘটে তাদের স্কুলে পড়ার সময়ে। ব্যাপারটা অল্টারনেট টাইমলাইন বলে ধরে নেওয়াই বাঞ্ছনীয়! নইলে গোড়া থেকে সবটাই অর্থহীন মনে হবে।
বাড়িয়ে বলছি না। হোমস, ওয়াটসন এবং এলিজাবেথ (উক্ত জুটির স্কুলের বান্ধবী) স্কুলের ঘটনাগুলোর মধ্যে একটা সূক্ষ্ম মিল পেলাম হগওয়ার্টসের সেই বিখ্যাত ত্রয়ীর সাথে। এরপরেই মিশরের এক গুপ্ত সমিতির মারণযজ্ঞ কীভাবে শুরু হল এবং তা থামানোর জন্য কিশোর হোমস কী কী করল তার বন্ধুদের নিয়ে সেই নিয়েই গল্প এগিয়েছে। খুবই সুন্দর একটা প্লট এবং অত্যন্ত সুখপাঠ্য। শার্লকের চেনা ছন্দের গোয়েন্দা কাহিনির ভিড়ে এই প্যাস্টিশটি সত্যিই স্ট্যান্ড আউট করে।
অন্যদিকে, "শার্লক হোমসের মিস্ অ্যাডভেঞ্চার" নামক ছোটগল্পটির সংযোজন না করলেই বোধহয় ভালো ছিল। লেস্ট্রেডের জবানীতে বলা একটি শার্লক কাহিনি এটি। যাতে কিনা শার্লক পরাস্ত হয় অথবা ভুল ডিডাকশন করে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে। সবটাই হয়তোবা ঈর্ষাজনিত প্রলাপ লেস্ট্রেডের। কিন্তু একদমই জলো। এই অপ্রয়োজনীয় গল্পটির জন্য একটি তারা বাদ গেল।
যদিও বইয়ের প্রচ্ছদের ফ্ল্যাপে লেখা "কাহিনি অদ্রীশ বর্ধনের", কিন্তু কাহিনি মোটেই অদ্রীশ বর্ধনের নয়। বইয়ের প্রথম গল্পটি সরাসরি ১৯৮৫ সালের Young Sherlock Holmes চলচ্চিত্রের কাহিনির অনুবাদ (গল্পটি লিখেছিলেন Chris Columbus)। আর দ্বিতীয় গল্পটি ১৯৫২ সালে J. C. Masterman-এর লেখা "The Case of the Gifted Amateur" গল্পের অনুবাদ। গল্পগুলো যে অনুবাদ, সেটা বইটির কোথাও স্বীকার করা হয় নি। বরং দাবী করা হয়েছে "কাহিনি অদ্রীশ বর্ধনের"। এরকম চৌর্যবৃত্তির কি খুব প্রয়োজন ছিল লেখকের?