এখন যারা মস্ত শরীরের হাট্টাকাট্টা একেকজন, আধপাকা চুল, মুটিয়ে যাওয়া মাঝবয়সী বা ভারিক্কী, পক্ককেশ, আধবুড়ো, তারাও তো একসময় ছোট ছিল; দুষ্টুমি করতো, বড়দের কথা না শুনে শাস্তি পেতো।
হ্যাঁ, আমাদের এই গম্ভীর দাপুটে বাবারাই..।
এই গল্পগুলো সাশা নামের এক এইটুকুনি মেয়ের বাবার সেই ছোট্টবেলা নিয়ে।
বাবার ছেলেবেলার সব হেরে যাওয়ার গল্প, বোকামি আর শুধু ছেলেমানুষি অংশটার কথা-ই এসেছে বইতে। আর আছে ভুল করে করে অথবা ভুলের ঘোরে পড়ে শেখা নানা সত্যিকারের কথার মানে শেখার কথা।
ছোট্ট বাবার পদ্য লিখতে শেখা, বিচ্ছিরি কুকুরকে পোষ মানানো, দাঁতের ডাক্তারের হাতে অ্যায়সা কামড় বসিয়ে তাকে খেপিয়ে দেওয়া, যখন-তখনের বোকাটে রাগ, রঙিন বল নিয়ে খেলার সঙ্গীদের সঙ্গে হিংসুটেপনা, ইস্কুলে যেতে শেখা, লিখতে শেখা, শেখা ছবি আঁকা আর না শিখতে চাওয়া পিয়ানো বাজানোর গল্প। বাবা শিখেছিল আবৃত্তি, বিচ্ছু ছেলের মতো মাঝপথে ট্রাম থামিয়ে দেওয়া। ভীষণ ভালবেসে শিখেছিল পিংপং খেলা..অথচ জেদ করে জার্মান ভাষাটা তার আর শেখাই হলো না। শেখা হলো না বড়াই করাও, করতে নেই বলে। কাঠের কাজের ক্লাসে বাবা শিখেছিল নিজের হাতে টুল বানানোর কায়দা, রচনা লিখতে গিয়েও তাই।
নিজের হাতে নিজের কাজ না করলে কেউ তা ঠিকঠাক শিখবেই বা কী করে, তাই না?
বাবার কাছে সেসময়ে সবচেয়ে শক্ত ছিল একটা প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। বড় হয়ে কী হতে চাও?
একই প্রশ্ন শুনে শুনেই আমরাও বড় হই। ঠিক কী কী করলে বড় হওয়া যায় আসলে নাদের আলী, মাথা ঘরের ছাদ ফুঁড়ে আকাশ ছুঁলে, তবে?
গাদাগুচ্ছের নোট গিলে, জিপিএ ফাইভ বাগিয়ে, 'বড়' হয়ে শুধু ডাক্তার, মোক্তার কিংবা ট্রিপল ই' ইঞ্জিনিয়ার নয়-- সবার আগে হতে হবে খাঁটি মানুষ। সেটাই আসলে সবচেয়ে বড় কথা।
সাশার বাবাও সেটা জেনেছিল, সেই ছোট্টবেলাতেই।
ব্যাংকার মা চাইতেন তার মতো হই। কারো মতো হতে চাইনি, শুধু জলদি বড় হতে চাইতাম। এখন শুধু ভাবি, কেন যে খামোখা বড় হতে গেলাম!
জীবনের দুর্লভতম সুখের সময় আসলে শৈশব।
টাইমমেশিনে ভ্রমণবিলাসিতার কল্পগল্প ছাড়াই যেই বইগুলো আমাকে হারানো শৈশবের নিখাদ স্বাদ ফিরিয়ে দেয়, সেইসব লেখক এবং অনুবাদকদের কাছে আক্ষরিক অর্থেই কৃতজ্ঞ হয়ে থাকি।