কালো অক্ষর তো মৃত, জীবন্ত তো সেই যাতে মিলে রক্তের স্পন্দন বা অনুভূতির সঞ্চালন। কিন্তু এই অক্ষরের মাঝেও যে আলুপুরি আলুর মতো পুরে দেওয়া যায় এক বিশাল ক্যানভাস, সংগ্রামের আর মানবতার ক্ষরায় ফেটে চৌচির তৃষ্ণার মাটিতে গজিয়ে ওঠা জীবনাভিলাষী অঙ্কুর, সে স্বাধীনতার আশাবাদের তার এক বিরল নিদর্শন এই কাব্যঃ তোমাকে অভিবাদন, প্রিয়তমা।
এমন তো সময় আসে যখন মানুষের কান্নায় কাঁদে নিসর্গ, মাটি ও মানুষ এক ভাষায় কথা বলে, হয়ে ওঠে বিদ্রোহী।
‘আবাল্য তোমার যে নিসর্গ ছিলো নিদারুণ নির্বিকার,/
সুরক্ষিত দুর্গের মতন আমাদের প্রতিরোধে সে হলো সহায়,/
ব্ল্যাক আউট অমান্য করে তুমি দিগন্তে জ্বেলে দিলে /
বিদ্রোহী পূর্ণিমা।’
--[ব্ল্যাক আউটের পূর্ণিমায়]
অথবা সংগ্রাম? সে তো একদিনের নয়, চলমান আর সর্বব্যাপী।
‘ধ্বংসস্তূপের পাশে, ভোরের আলোয়/
একটা বিকলাঙ্গ ভায়োলিনের মতো-দেখলাম তে-রাস্তার মোড়ে/
সমস্ত বাংলাদেশ পড়ে আছে আর সেই কিশোর,...’
--[নিষিদ্ধ জার্নাল থেকে]
বেদনা বা সংগ্রামে কবি কি একেবারেই নির্বিকার, নিরস্ত্র বা ভাগ্যসন্ধানী? সে উত্তর ও মেলে;
‘হে আমার শব্দমালা, তুমি কি এখনও বৃষ্টি-ভেজা/
বিব্রত কাকের মতো/
আমার ক্ষমতাহীন ডাইরির পাতার ভেতরে বসে নিঃশব্দে ঝিমুবে,/
তা’হলে তোমার ধ্যানে আবাল্য দুর্নাম কিনে আমি/
অনর্থক বড়াই করেছি।/
মধ্যরাত্রি পর্যন্ত অনিদ্রা আর অস্থির জাগরণ ছাড়া তুমি কিছু নও,...’
--[কবিতা, অক্ষম অস্ত্র আমার]
এই কাব্য বহির্জগতের, বুকে এক সমুদ্র দেশপ্রেম এবং কপালে স্বাধীনতা নামক সর্বজনীন কিন্তু দূরহ স্বপ্নের পটি বেঁধে এক আত্মসচেতন, আধুনিক আর বিশ্বনাগরিক কবির চেতনালিপি।
‘বাতাসে উড়িয়ে টাই/
ব্রিফকেস হাতে ‘গুডবাই’ বলে দাঁড়াবো না/
টিকিট কেনার কাউন্টারে কোনোদিন--/
ভুলেও যাবো না আমি এয়ারপোর্টের দিকে/
দৌড়ুতে-দৌড়ুতে, জানি, ধরবো না/
মেঘ-ছোঁয়া ভিন্নদেশগামী কোনো প্লেন।’
--[একুশের স্বীকারোক্তি]