Salil Chowdhury (Bengali: সলিল চৌধুরী;19 November 1923 – 5 September 1995) was an Indian music composer, who mainly composed for Bengali, Hindi and Malayalam films. He was also a poet and a playwright. He is affectionately called Salilda by his admirers.
His musical ability was widely recognised and acknowledged in the Indian film industry. He was an accomplished composer and arranger who was proficient in several musical instruments, including flute, the piano, and the esraj. He was also widely acclaimed and admired for his inspirational and original poetry in Bengali.
একজন মানুষকে কতোভাবে আবিষ্কার করা যায়? সলিল চৌধুরী'র নাম প্রথম শুনি খুব সম্ভবত ছোটমামার কাছ থেকে। ছোটবেলা থেকেই যদিও তাঁর অসংখ্য গান উঠতে বসতে শোনা।পরবর্তীতে, একে একে জেনে রোমাঞ্চিত হই এই ভেবে যে ওগুলো সলিলদার সৃষ্টি। ভারতবর্ষীয় সঙ্গীত নিয়ে আগ্রহ থাকায় সলিলকে খুঁজে পাই বলিউড সিনেমার হিট সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে। এ আর রহমানের গুরু, কর্ণাটকী ঘরানার মায়েস্ত্রো ইলায়ারাজা ছিলেন ঐ সলিলের গিটারিস্ট। লতা মুঙ্গেশকর যাঁর সুর ধরে বাংলায় গান শুরু করেন। ভারতবর্ষে অর্কেস্ট্রেশনের জনক নীরদবরণ তাঁকে আবিষ্কার করেছিলেন স্টেজ শো’র এক সাদাসিধে বাঁশিবাদকরূপে। সাম্প্রতিককালে আমার সলিলপ্রীতির আগুন জ্বলে কবীর সুমনের নেয়া দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকার ও ‘আমার সলিল’ নামে তাঁর গানের বিশ্লেষণমূলক একটা অনুষ্ঠানে। সে আগুনে ঘি ঢালেন শিবলি ভাই, জীবন-উজ্জীবনের সন্ধান তাঁর কাছ থেকেই পাওয়া। বড় মানুষদের আত্মকথা পড়তে ভালো লাগে, এর একটা কারণ তাঁদের চোখ দিয়ে ঐ সময়টাকে দেখা যায়। সেই সাথে থাকে ফ্রি-তে আরো কত কিংবদন্তীর সাথে মিশে যাবার সুযোগ! প্রিয় বিখ্যাতদের প্রতি ফ্যান্টাসি জন্মায় অধরা থাকার অনুভূতি থেকে, এমন মানুষদের আত্মকথা সে অধরার সাথে দূরত্ব কমিয়ে আনে। সলিলের বইটি এরকম। জীবনকে খুব কাছে থেকে দেখেছেন সলিল। ছোটবেলা কেটেছে আসামের অরণ্যখচিত চা-বাগানে, দিনমজুর-কুলিকামিনদের সংস্পর্শে।খুব সাধারণ,প্রকৃতিঘেঁষা জীবন পার করে আসা মানুষটি রাজনৈতিক চেতনা লাভ করলেন কলকাতাবাস কলেজজীবনে থেকে। তখন থেকে সর্বভারতীয় নাট্য সংঘ (IPTA)-এর সাথে যুক্ত। হেমাঙ্গ বিশ্বাস, হেমন্ত মুখার্জী, দেবব্রত বিশ্বাস, সলিলের সাথে মাঠে-গঞ্জে গলায় হারমোনিয়াম বেঁধে গান করেছেন শোষিত শ্রেণিকে উদ্বুদ্ধ করতে।পুলিশের হুলিয়া তাড়া করে বেড়িয়েছেন নিষিদ্ধ কমিউনিস্ট পার্টিতে যুক্ত থাকার কারণে। শ্রমিক আন্দোলন সংগঠিত করতে ছুটে গেছেন এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে। একসময় বিপ্লবী-আন্দোলন থেকে সরে আসেন, সাম্যবাদী আদর্শচ্যুতি নয় বরঙ তখনকার নীতি-নির্ধারকদের অতিপক্কতার জন্যে। পাড়ি জমালেন বোম্বে, পরেরটুকু তো ইতিহাস। সঙ্গীত নিয়ে সলিলের জ্ঞান সুগভীর, প্রাচ্যীয় মার্গসঙ্গীত ও পাশ্চাত্য অর্কেস্ট্রেশন দুটোতেই। ইউটিউবে তাঁর একটা কর্মশালা শোনার সুযোগ হয়েছিল। বাংলা গানে (সর্বভারতেও হতে পারে, ঠিক মনে আসছেনা) সর্বপ্রথম হার্মোনাইজিং এর সার্থক ব্যবহার করেন করেন সলিল চৌধুরী। এবং যথারীতি শুরু হয় সর্ববিশারদ মানুষজনের নাসিকাকুঞ্চন ও বক্রোক্তি, কী এসব যাচ্ছেতাই দুই-তিন সুরে গান ! নতুন কোন ধারণার সাথে পরিচিত হতে গেলে পুরনো গেড়ে বসা ধারণাটি একটা Lagging সৃষ্টি করে। এর জন্যে চর্চা, সময় ও স্থিরতার সাথে নিরীক্ষার ধৈর্য দরকার, যা এতদঞ্চলের মানুষদের কোনকালেই ছিলনা, এখনও নেই। সঙ্গীত নিয়ে সলিলের ধারণা আধুনিক, ‘নিয়ে পড়ে থাকা’ গোঁড়ামিতে আবদ্ধ নয়। রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে তাঁর উক্তিটি মজার, একালেও কোন অংশে কথাটি মিছে নয়; স্বতন্ত্র সুরস্রষ্টা হিসেবে একমাত্র রবীন্দ্রনাথই এদেশে যা কিছু কৌলিন্য পেয়েছেন, কিন্তু তাঁর শান্তিনিকেতনে সঙ্গীতভবনে কি সুরসৃষ্টি সম্বন্ধে শিক্ষা দেয়া? না হয় না। রবীন্দ্রসঙ্গীত শেখানো হয় এবং কিছু হিন্দি ভজনঘট শেখানো হয়, অন্য কিছুর প্রবেশাধিকার নেই। কারণ রবীন্দ্রসঙ্গীতই হচ্ছে সমকালীন বাংলা গানের জমিনের শেষ প্রান্ত-- তারপরেই বঙ্গোপসাগর। রবীন্দ্রনাথ যে নিজে একথা বিশ্বাস করতেননা তার প্রমাণ তাঁর বহু লেখায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বিখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় সলিলের গান গাইছেন বলে শান্তিনিকেতন-ওলারা নোটিশ দেন তার গাইতে হলে শান্তিনিকেতন ছাড়তে হবে। সূর্যের চেয়ে বালি গরম পাব্লিক যুগে যুগে রাজত্ব করে গেল! অতীত স্মৃতি রোমহ্নন করা আমার একটা অবসর বিনোদন,সলিলদার লেখার সাথে আমার নিজের কিছু চিন্তা মিলে যায়। আসামের অরণ্যে জানা-অজানা নানান পাখি-পতঙ্গের ডাক, ‘৩০ এর কলকাতার স্ট্রিটলাইট ‘গ্যাসবাতি’র পোড়া ঘ্রাণ, এই ইন্দ্রিয়জাত অনুভূতিগুলো তাঁর ‘সিগ্নেচার স্মেল’। ছোটবেলা ময়মনসিংহ, আমার ভিটেবাড়িতে গেলে একটা ঘ্রাণ পেতাম, পাশে কুমোরবাড়িতে মাটিপোড়ানোর মিষ্টি ঘ্রাণ। পৃথিবীর যে প্রান্তে, যখনই থাকি না কেন ঐ ঘ্রাণ পেলে আমার ঐসময়টা মনে পড়বেই। অনেক ছোটবেলার ঘরে যখন বড় হয়ে গিয়েছেন, সিঁড়িগুলো কতো ছোট ঠেকেছে! অনেকদিন পর প্রাইমারি স্কুলের মাঠ দেখার পর একই অনূভুতি আমারো হয়, এই ছোট্ট আঙিনাটাই তখন গড়ের মাঠ মনে হতো! গ্রামের গেরস্তবাড়িতে আগের দিনে কিছু মানুষ থাকতেন, যারা ফুটফরমাশ খাটা, শিশুদের গল্পশোনানো, দেখাশোনা করা এমন কাজগুলো করতেন। সম্পর্কটা মনিব-ভৃত্য টাইপ হলেও বাড়ির শিশুদের কাছে পিতৃব্য-মাতৃব্য হিসেবেই তারা পরিচিত। আশ্রয়দাতার প্রতি তারা ভীষণ অনুগত ও বিশ্বস্ত। আমার বাবা-মা দুজনের বাড়িতেই এমন কিছু মানুষেরা থাকতেন। কীসের আশায়, কোন সুখে এমন পরাশ্রয়ী জীবন তারা স্বেচ্ছায় কাটিয়েছেন প্রজন্মান্তরে, সে ভাবলে কিছু পাইনা। সলিলদার লেখায় ওরকম গল্পবলিয়ে মানুষের কথা পেয়ে মনে আসলো। উপমহাদেশের সাম্প্রদায়িক সংঘাত আমার কাছে সবচে’ বেশি বেদনাদায়ক লাগে। মূর্তি কিংবা ভাবমূর্তিপুজোর প্রতি অন্ধতা, মানবতা ও মানবজাতিকে কতোবার যে খুন করলো তার বোধহয় ইয়ত্তা নেই, শেষও কবে হবে জানিনা। সলিল সেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় মানুষখুন চোখে অবলোকন করা মানুষ। শুধু মানবতা নয়, বহুবার হৃদয়- নিপীড়নের মধ্য দিয়েও গেছেন সলিল। কিছু লিখে গেছেন নিঃসঙ্কোচে, কিছু অনুক্ত রেখেছেন হৃদয়চেপে। বিখ্যাত হওয়া ব্যাপারটা কী খুব উপভোগ্য? মনে হয় না। এত এতবার ভেঙেচুরে যাবার পর খ্যাতি নিয়ে আত্মরতিতে ভোগার মতো বিলাসিতা কী আর থাকে?
এমন আত্মজীবনী পড়তে পারাও পাঠক হিসেবে ভীষণ আনন্দের ব্যাপার। বাংলায় এত স্বাদু গদ্যে লেখা আত্মজীবনী বড় দুর্লভ।
প্রখ্যাত সুরস্রষ্টা সলিল চৌধুরী তাঁর আত্মকথা 'জীবন উজ্জীবন' বইতে শিল্পী জীবন, রাজনৈতিক জীবনের চাইতে ঢের বেশি ছাপিয়ে গেছে ব্যক্তিজীবন নিয়ে অকপট স্বীকারোক্তি।
চা-বাগানের বাঙালি ডাক্তারবাবুর সন্তান সলিল চৌধুরী। আসামের চা বাগানে তার স্বাধীনচেতা পিতা চাকরি করতেন। সলিল চৌধুরী পড়ালেখার সুবাদে কলকাতায় বড় হয়েছেন। তবু চা-বাগানের জীবন ঘিরে নিজেদের শৈশব ও কিশোরবেলার জীবনস্মৃতি আমাকে মুগ্ধ করেছে। শিল্পী হওয়ার প্রাথমিক দিনগুলির কথা টুকরো টুকরো স্মৃতির ফ্রেমে বইতে বাঁধিয়ে রেখেছেন।
বাবা চাইতেন সলিল বড় হোক। কিন্তু সলিল চাইতেন তিনি বিপ্লবী হবেন, হবেন বিরাট শিল্পী। হঠাৎ বাবা মারা যাওয়ার কথা লিখতে গিয়ে লেখকের অনুশোচনাবোধ আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।
সলিল চৌধুরী নিজের একান্তই ব্যক্তিগত কিছু স্মৃতির কথা বইতে লিখেছেন। অত্যন্ত সততা না থাকলে কোনো বাঙালির পক্ষে এতটা অকপট হওয়া অসম্ভব। সলিল চৌধুরী হয়তো আমৃত্যু ভুলতে পারেননি সুখিয়াকে। এই বই পড়ার পর সলিল চৌধুরীকে যতদিন মনে রাখব, ততদিন স্মৃতির মণিকোঠায় স্থান থাকবে সুখিয়ার।
পেশাদার লিখিয়ে হলে নামজাদা লেখক হতেন সলিল চৌধুরী - এই কথা হলপ করে বলতে পারি। মাত্র একশ+ পাতার বইতে এত এত ঘটনা লেখা যায় তা 'জীবন উজ্জীবন' না পড়লে অজানা থেকে যেত। এজন্যই শেক্সপিয়ার সাহেব বলতেন, অল্প কথায় প্রকাশ করতে পারাই বিচক্ষণের লক্ষণ।
বইটা পড়ুন। নতুবা বাংলা সাহিত্যের অসাধারণ এক রত্ন অপঠিত থেকে যাবে।
খুব অকপট স্মৃতিকথা। যদিও জীবনের সমস্ত পর্ব ছুঁয়ে যাননি, তবুও তাঁর বেড়ে ওঠা, পারিবারিক জীবন, আসাম, সাঁওতাল, মিকিরদের কথা, প্রেম, সঙ্গীত, দ্রোহ সমস্ত কিছু পড়েই খুব ভালো লেগেছে। বলা যায়, হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। সলিল চৌধুরীর মিউজিক আমার খুব প্রিয়। বইটি পড়ে বুঝলাম তাঁর সঙ্গীতে কাদের বা কীসের প্রভাবে এত অভিনব হয়েছিল। চমৎকার।
সলিল চৌধুরীর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ জীবন উজ্জীবন এক বিস্ময়কর সুরসম্ভার, যেখানে শিল্পী কেবল নিজের কথা বলেন না, বরং এক সমগ্র সময়ের কথা তুলে ধরেন। তাঁর জীবন, দর্শন, সংগ্রাম, এবং শিল্পের বিবর্তন এই বইয়ের পাতায় প্রাণ পায়। বাংলা গণসঙ্গীতের পথিকৃৎ থেকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সুরস্রষ্টায় পরিণত হওয়া এই মহান শিল্পীর জীবনগাথা পাঠকের হৃদয়ে গভীর অনুরণন তোলে।
"আমার প্রতিবাদের ভাষা সুরে-সুরে বাঁধা..."
সলিল চৌধুরী ছিলেন সময়ের এক স্পর্ধিত কণ্ঠস্বর। তাঁর জীবনীতে উঠে এসেছে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, তেভাগা কৃষক বিদ্রোহ, এবং স্বাধীনতার পরবর্তী সমাজতাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের প্রসঙ্গ। কেবল গান বা সুর নয়, তাঁর কলমেও ফুটে উঠেছে বঞ্চিত মানুষের সংগ্রাম। আত্মজীবনীতে লেখকের রাজনৈতিক ও আদর্শগত অবস্থান স্পষ্ট, যা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত যাত্রাকেই নয়, বরং একটি সমগ্র সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে প্রতিফলিত করে।
এই বইয়ে সলিল চৌধুরীর জীবনের নানা অধ্যায়ের বর্ণনা আছে—শৈশব, যৌবন, প্রেম, সুরসৃষ্টি, চলচ্চিত্রজগতে প্রবেশ, এবং সফলতার সঙ্গে টিকে থাকার সংগ্রাম। তাঁর আত্মজীবনী ঠিক যেন এক সুরেলা ভ্রমণ, যেখানে পাঠক অনুভব করেন তাঁর শিল্পীসত্তার বিবর্তন। বিশেষ করে, তাঁর সৃষ্টিশীলতার উৎস কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, কোন কোন ঘটনা তাঁকে প্রভাবিত করেছে—এই দিকগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
"এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হতো তুমি বলো তো?"
একজন সংগীতজ্ঞের আত্মজীবনী কেবল তাঁর জীবনের ঘটনা নয়, বরং তাঁর শিল্পভাবনার গভীর অনুসন্ধানও বটে। জীবন উজ্জীবন বইটি পড়তে গিয়ে বোঝা যায়, সলিল চৌধুরীর সুর শুধুমাত্র আনন্দ বা বিনোদনের জন্য ছিল না, বরং তার মধ্যে ছিল তীক্ষ্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক বোধ। তাঁর সুরের ভেতর যেমন ছিল বিশুদ্ধ প্রেম, তেমনই ছিল বিদ্রোহ ও পরিবর্তনের বার্তা।
"আমি এখানে তুমি কোথায়, চলো একসাথে পথ চলি!"
সলিল চৌধুরীর আত্মজীবনী শুধুমাত্র অতীতের কাহিনি নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর সংগ্রামী জীবন, আদর্শ, এবং অদম্য সৃষ্টিশীলতা আমাদের শেখায়, সুর কেবল সংগীতের বিষয় নয়—এটি হতে পারে প্রতিবাদের ভাষাও। এই বইটি শুধু সলিলপ্রেমীদের জন্য নয়, বরং যে-কেউ যিনি শিল্প, সাহিত্য, বা সমাজবিজ্ঞানে আগ্রহী, তাঁদের কাছে এক মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠবে।
"এই সুন্দর স্বপ্ন যদি সত্যি না হয়, তবে কী হবে বলো!"
সলিল চৌধুরী যে কেবল সংগীতজ্ঞ ছিলেন তা নয়, তিনি ছিলেন এক দার্শনিক, এক বিপ্লবী। তাঁর লেখা এই আত্মজীবনী তাঁর দর্শন, বিশ্বাস, এবং সৃষ্টিশীলতার স্বরূপ তুলে ধরে।
জীবন উজ্জীবন নিছক আত্মজীবনী নয়, এটি এক সংগ্রামী শিল্পীর অন্তর্জীবনের সংগীত, যা পাঠকের হৃদয়ে চিরদিন অনুরণিত হবে।
পুরোনো দিনের যেকোন আধুনিক বাংলা গান যেগুলো এখনো শোনা যায়, মানুষ গুনগুনিয়ে গায়; বাজি রেখে বলা যায় তার বড় একটা অংশ সলিল চৌধুরির সুর করা এবং কোন কোন ক্ষেত্রে লেখাও বটে। সঙ্গীতের সঙ্গে ভদ্রলোকের সম্পর্ক সেই ছোটোবেলা থেকেই; বাঁশি, পিয়ানো, ক্ল্যারিওনেট প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্র বাজানো রপ্ত করেছিলেন মাত্র ছয় বছর বয়সে!
অমিত প্রতিভাধর এই সুরস্রষ্টার জীবনও কম বর্ণিল নয়। আসামের চা-বাগানে কাটানো শৈশব, কলকাতায় বড় হয়ে ওঠা থেকে যৌবনে পদার্পন, জীবনের সব পরতেই ছিল অনেক নাটকীয়তা। কমিউনিস্ট পার্টি করেছেন, গলায় হারমোনিয়াম ঝুলিয়ে মাঠে মাঠে ঘুরে গান গেয়েছেন কৃষকদের সাথে, বিপ্লবী নাটক রচনা করে, প্রতিবাদী গান গেয়ে পুলিশের তাড়া খেয়েছেন আবার বোম্বাই চলচ্চিত্রে সংগীতায়োজন করে প্রবল প্রাচূর্য্যের মুখও দেখেছেন। তার জীবন ছিল তার গানগুলোর মতোই বর্ণিল সব সুরের সমাপাতন। ঘটনাবহুল বলে তো অব্যশই সাথে বইটি সুখপাঠ্য লেখার গুণেও, যদিও প্রথম অংশ বাদে বাকিটা শ্রুতিলেখিত তবে শ্রুতিলেখক কিন্নর রায়, সলিল চৌধুরির গল্প বলার স্টাইল অক্ষুণ্ণ রাখতে পেরেছেন।
মূল “জীবন উজ্জীবন” বইয়ের সাথে ছোট বড় এগারোটি লেখা এবং দুটি সাক্ষাৎকার নিয়ে বর্তমান সংস্করণটি সংকলিত হয়েছে। সলিল চৌধুরীর জীবন অত্যন্ত আকর্ষণীয় ছিল, আত্মজৈবনিক রচনা যাদের আগ্রহের জায়গা তাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য একটি বই।