Various is the correct author for any book with multiple unknown authors, and is acceptable for books with multiple known authors, especially if not all are known or the list is very long (over 50).
If an editor is known, however, Various is not necessary. List the name of the editor as the primary author (with role "editor"). Contributing authors' names follow it.
Note: WorldCat is an excellent resource for finding author information and contents of anthologies.
প্রচ্ছদ পছন্দ হওয়ায় বইটা কেনা । শেষ গল্পে নাম বৃষ্টি আর নক্ষত্র । ছাতার পটে আকাশের সাথে মিলিয়ে নক্ষত্র আঁকিয়ে ছোট্ট একট ছেলেকে নিয়ে লেখা । শুরুটা ভালো লাগে নি / ভিন্ন রকম অনুবাদের কারনে গল্পে ঢুবে যেতে সময় সময় লেগেছে । কিন্তু সম্পূর্নটা মিলিয়ে ভালো লেগেছে ।
মূল বইটা ছিলো ছোট চাচা আর ফুপুর নিজেদের, আমার হাতে আসে ক্লাস ফোর বা ফাইভে। এই বইটা আমার পড়া অন্যতম মনে দাগ কাটা বই। মিশকাদের পরিজ রান্নার কাহিনি পড়ে যেমন হাসতে পেটে খিল ধরেছে, 'শুনছি ঘাস বাড়ছে' তেমন খুব সাধারণ একটা সবুজ বসন্তের দিন কত উজ্জ্বল আর গভীর হতে পারে তা উপলব্ধি করিয়েছিলো, আর বৃষ্টির দিনে কালো ছাতা হাতে কেউ বাসে চড়লে আমি এখনো ভাবি হয়তো তার ছাতার ভেতর পিঠে পিন দিয়ে ফুটো করে নক্ষত্রেরা তৈরি আছে... ওল্যার আঁকা মৌমাছি কপি করতে পারতাম এক সময়ে... আমার ঘরের দেয়ালে বেশ কিছু ছিলো...
কাজিনের বড় বড় বইয়ের স্তুপে পেয়েছিলাম বইটা। মলাট ময়লায় বিবর্ণ। তবুও কভারের নকশা ছাড়াও কিছু লেখা তখনো ঘোলাটে মলাটে শ্বাস ফেলছে। পাতা ওলটাতে লাগলাম। এক জায়গায় ছাপ্পা মারা 'আলী আহমদ চুনকা স্মৃতি পাঠাগার, নারায়ণগঞ্জ'। লাইব্রেরি থেকে বই এনে ফেরত না দেয়ার অভ্যাস বেশ পুরনো এবং নিয়মিত চর্চিত অভ্যাস আমাদের দেশে। এটা তারই ফসল। যাহোক, পড়ে ফেললাম। তখন পর্যন্ত আমার পড়ার দৌড় ছিলো রূপকথা, ঈশপের গল্প, হাসির গল্প ও বাঙালীদের ছেলে ভুলানো সব বই পর্যন্ত। কিন্তু এটায় এসে নতুন কিছু পেলাম। গল্পগুলো সাদামাটা। সুয়োরাণী দুয়োরাণীর গল্প নেই, গল্প শেষে মোটাদাগে নীতিকথা নেই, রাক্ষস আর কূটমানব বধের আখ্যান নেই। তবুও কী যেন আছে! মানুষের স্বপ্ন, আশা এগুলো সহজেই দু ভাগে ভাগ করে ফেলা যায়। বাস্তব বা সম্ভব, এবং অবাস্তব বা অসম্ভব। কিশোরদের বেলায়ও তাই। এই সংকলনের গল্পগুলো সোভিয়েত দেশের কিশোর-কিশোরীদের বাস্তব স্বপ্ন, আশা, আকাঙখা, দুষ্টুমি, হতাশা নিয়ে লেখা। ছেলে ভুলানো 'ঠাকুরমার ঝুলি' বা 'ঠাকুরদার ঝুলি'র প্রভাব এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেন নি আমাদের ভাষার প্রায় অর্ধেক শিশু-কিশোর সাহিত্যিক। তাই এই বইটা পাঠকদের কাছে আলাদাই ঠেকবে। উঁচু সাহিত্যিক মানের জন্য নয়, বরং গল্পের প্রতিপাদ্যের কারণে।
দশজন লেখকের দশটি লেখা স্থান পেয়েছে। কোনোটা আঙ্গিকগত ভাবে কোনোটার সাথে মিলবে না এটাই স্বাভাবিক। মিলটুকু যা, ওই ওখানে, অস্বাভাবিক বা অবাস্তব কিছু নেই।
.
মিশকার রান্না-বান্না: বাপ-মায়ের অনুপস্থিতিতে নিজেদের খাবার নিজেই রান্নার ভার পড়লো দুটো ছেলের ওপর। প্রথমে সোজা মনে করলেও, আস্তে আস্তে বুঝতে পারলো মোটেই সোজা নয় ও কাজটি।
যখন যেটা: ছোট ছোট কয়েকটা গল্পের সমন্বরে এও এক সংকলন। এখানে আছে মাস্টারমশাইয়ের কথা, ইশকুলে দুষ্টুমির কথা। সিন্দুকে কুমড়ো, পাখি আর বিউগল বাজাতে গিয়ে গলদঘর্ম হবার কাহিনী।
মৌমাছি: পোষা মৌমাছি নাকি কামড়ে দেয় না! নিশ্চিতে মধুর চাক ভাঙতে গেলো দুই বন্ধু। তারপর?
সাগরের প্রজাপতি: দেশ বড়ো হলে বৈচিত্র্যময় হবার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। জানার থাকে অনেক কিছু। উৎসুক এক নাতি আর তার দাদুর গল্প।
'শুনছি, ঘাস বাড়ছে....': ঘাস বাড়ে সে তো সবাই জানি। মাঠে কান পেতে শুনেছে কে কবে!
ত্যুলকা: ছোট্ট নীল চোখের এক মেয়ে ইউলকা। তার মাথায়ই গিয়ে ঢুকলো সাগরের সব চিন্তা। ওসব আর কারো মাথায় ঢোকে না কেন!
মাম্বেতের টুপি: টুপি কখনো হয় কাজের, কখনো গর্বের। এ গল্প টুকু মাম্বেত আর তার টুপির।
সার্কাসের মেয়ে: সার্কাসে নীল গোলার উপর খেলা দেখায় একটি মেয়ে। আর তার সবচে' বড় ভক্তটি গ্যালারিতে।
ছেলেটার জন্য রঙ: আঁকার খুব শখ ছেলেটার। রঙ হয় নি বলে মন খারাপ করে প্লেনে বসে বসে সবকিছু আঁকিয়ের দৃষ্টিতে দেখছে।
বৃষ্টি আর নক্ষত্র: বৃষ্টির দিনে বাড়ি থেকে পালাচ্ছে এক কিশোর। এই নিয়ে গল্প। কিশোরটিরও গল্প আছে, নক্ষত্রের। দুয়ে মিলে বৃষ্টি আর নক্ষত্র।
.
এই মজার বইটি খালামণির হাত ঘুরে একসময় আমার হয়ে যায়। কতবার পড়েছি মনে নেই। ছুটিগুলোর অনেকগুলোই কাটতো দুই কুকুর কইবাগার আর আকতাইলাকের সঙ্গে। শাদা শাদা দাঁতের নেকড়েগুলোর হাত থেকে ভেড়ার পালকে রক্ষার পরে মাম্বেতের সাথে দেখেছি স্পুৎনিক। বৃষ্টির দিনে যেন নিমগ্ন হয়েছিলাম কোনো ছাতায় তারা আঁকতে। খড়িমাটি হলে চলে, ভালো হয় যদি সুঁই থাকে। মিশকাদের সঙ্গে ক্ষুধার্ত পেটে রান্নাবান্না করতে গিয়ে গলদঘর্ম হবার স্মৃতি এখনো অমলিন। বিউগল বাজানোর এত ঝক্কি দেখে স্কুলে বিউগল বাজিয়েদের ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে তবেই বিউগল বাজাতে গিয়েছিলাম। একবাক্স রঙের জন্য সে আকুতিও পুরনো হবার নয়। এই রিভিউ লেখার প্রায় সাত বছর আগে শেষবার পড়েছিলাম বইটা। এর কিছুদিন পরেই আমার কালেকশন থেকে বইটা হারিয়ে যায়। পরশুদিন পড়া বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো মনে করতে আমাকে খাবি খেতে হয়। কিন্তু এতদিন আগে পড়া বইয়ের গল্পগুলোর নাম আর চরিত্রগুলো ঠিকই মনে আছে। তারপরও পিডিএফ ভার্সন থেকে সূচিপত্রটা এক নজর দেখে নিলাম। বয়স্ক বা তরুণ পাঠকদের কাছে কতটুকু ভালো লাগবে তা নিয়ে আমি সন্দিহান। তবে কিশোরদের জন্য ভালো লাগার মতই একটা বই। ভেতরে চমৎকার সব চিত্র। সোভিয়েত বইগুলো এখন দুর্লভ। তবে পিডিএফ পাওয়া যায় অনলাইনে। প্রিন্ট করাও মামুলি ব্যাপার। ছোটো ভাইবোন বা সন্তানের হাতে সেটা তুলে দেওয়ার ইচ্ছাই যথেষ্ট।
'যাচ্ছ কোথায়?আমাদের আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকো',উদ্বিগ্ন হয়ে বলল খোকা।
শেষ গল্প বৃষ্টি আর নক্ষত্র পড়ছিলাম,আর কল্পনা করছিলাম। ভাবছিলাম,আগে কোনও গল্প পড়ে কল্পনাগুলো এতটা রঙিন বলে মনে হয়নি। কি মিষ্টি হয় রাশিয়ান শিশুসাহিত্য! বাংলা ভাষার সাথে বোধহয় রাশিয়ান ভাষার গভীর কোন ভালবাসা আছে,অনুবাদের পরেও আদর কমেনা। ননী ভৌমিকের জন্য ভালবাসা।
শিশুতোষ গল্পগুলো এমনই হওয়া উচিত। গল্পগুলো পড়লে মনে হয় এগুলো শিশুদের জন্য শুধু নয়, শিশুমনের গভীর থেকে লেখা। যে শৈশবকে বহুদিন আগে হারিয়ে ফেলেছি - সে যেন গল্পের মাঝে মূর্ত হয়ে উঠেছে। প্রতিটি গল্প শিশুর সরল, কৌতূহলের চোখে দুনিয়াকে দেখতে বাধ্য করবে। সোভিয়েত যুগের এই রাশান সাহিত্য অনুবাদগুলোকে আসলেই মিস করি।