Jump to ratings and reviews
Rate this book

জুবোফ্‌স্কি বুলভার

Rate this book
জুবোফ্‌স্কি বুলভার একটি সড়কের নাম। সোভিয়েত ইউনিয়নের মস্কো শহরের সেই সড়কের ধারে একসময় ছিল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ অনুবাদপ্রতিষ্ঠান প্রগতি প্রকাশন। সাহিত্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা বই তারা পৃথিবীর প্রায় ষাটটি ভাষায় অনুবাদ করে প্রকাশ করত। সেই প্রগতি প্রকাশনে অনুবাদকের কাজ নিয়ে বাংলাদেশ থেকে গিয়েছিলেন সৌমেন রায়। দেড় দশকের বেশি সময়ে তিনি বাংলায় অনুবাদ করেছেন অর্ধশতাধিক বই। তারপর একদিন বন্ধ হয়ে গেল প্রগতির সব কর্মকোলাহল। সেই স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গের কাহিনি নিয়ে এ বই।

80 pages, Hardcover

First published February 1, 2011

72 people want to read

About the author

Mashiul Alam

40 books25 followers
Mashiul Alam was born in northern Bangladesh in 1966. He graduated in journalism from the Peoples’ Friendship University of Russia in Moscow in 1993. He works at Prothom Alo, the leading Bengali daily in Bangladesh. He is the author of a dozen books including Second Night with Tanushree (a novel), Ghora Masud (a novella), Mangsher Karbar (The Meat Market, short stories), and Pakistan (short stories).

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
19 (34%)
4 stars
27 (49%)
3 stars
9 (16%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 17 of 17 reviews
Profile Image for Akhi Asma.
232 reviews465 followers
May 20, 2021
জুবোফ্স্কি বুলভার সোভিয়েত ইউনিয়নের মস্কো শহরের একটি সড়কের নাম। সেই সড়কের ধারেই ছিল সবচেয়ে বড় অনুবাদপ্রতিষ্ঠান প্রগতি প্রকাশনী। সেই প্রকাশনীতে অনেক বাঙালী অনুবাদের কাজ করতো। কিন্তু একদিন প্রকাশনী বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর শুনে সবাই। সেই একদিনের ঘটনা নিয়ে মশিউল আলম খুবই চমৎকার একটা বই লিখে ফেলেছেন।
মাত্র একদিনে কয়েকজনের হাহাকার, ছোটবেলার স্মৃতি, প্রিয়জন হারানো, প্রিয় কুকুর হারানো - সবকিছুই উঠে এসেছে খুবই মেলানকোলিক ভাবে।

আমি মনেহয় এবছরের সবচেয়ে প্রিয় বইটা পড়ে ফেলেছি। বইটা অনেক ছোট, কিন্তু আমি অনেক দেরি করে শেষ করলাম, কারণ পুরো বই জুড়ে একধরনের বিষণ্ণ সুর ভেসে বেড়াচ্ছিল, যা পড়ার পরে আমি কিছুক্ষণ বিষণ্ণতার জগতে চলে যেতাম, পরে আবার পড়তাম, এরকম করতে করতে একসময় শেষ হয়ে গেল!

সবাই মশিউল আলমকে ঘোড়ামাসুদ দিয়ে চিনলেও আমি চিনি 'প্রিসিলা'-র মাধ্যমে। মশিউল আলম অসম্ভব ভালো লেখেন।
ওয়াসি ভাইয়ের মাধ্যমে বইটার খবর পেলাম। উনাকে অনেক ধন্যবাদ। কারণ এর আগে আমি বইটার নামও শুনিনি।


Profile Image for Shuhan Rizwan.
Author 7 books1,112 followers
May 22, 2021
বহু আগে পড়া বইটাকে গুডরিডসে উঠে আসতে দেখে তারা দাগিয়ে ফেলা।

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার বেদনা 'গুড বাই লেনিন' সিনেমার মতোই ছুঁয়ে গেছিলো পড়ার সময়। পরে, যখন আবিষ্কার করেছিলাম উপন্যাসের নায়ক সৌমেন রায় আসলে আমাদের সুপরিচিত দ্বিজেন শর্মা, এবং উপন্যাসিকার প্রায় গোটা বয়ানটাই উপস্থিত কোনো একটা স্মৃতিচারণে (কার স্মৃতিচারণ, সেটা আজ আর মনে পড়ছে না। ননী ভৌমিক? না নাজমুদ্দীন হাশেম?), তখন ভালোলাগা কিছুটা কমে গিয়েছিলো।

তবে প্রগতি-রাদুগার অনুবাদের প্রতি পক্ষপাতটুকু ছোট এই উপন্যাসিকাকে চারতারা দাগানোর জন্য যথেষ্ট।
Profile Image for Salman Sakib Jishan.
274 reviews161 followers
January 17, 2022
গালভরা এই নামটা এসেছে সোভিয়েত ইউনিয়নের একটা সড়কের নাম হতে। যেখানে একটা সময় পৃথিবীবিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা প্রগতি কিংবা রাদুগার অবস্থান ছিলো। পৃথিবীর ষাটটি ভাষায় অনুবাদ করতেন তারা। আমাদের শৈশব কৈশোরে পড়া অনেক পরিচিত রাশিয়ান বই ছিলো তাঁদের অনুবাদ করা।
একদিন হঠাৎ করে বন্ধ করে দেয়া হয় এই প্রকাশনী। এতদিনের লালিত পালিত স্বপ্নের এই প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কষ্ট তাড়িয়ে বেড়ায় এর একনিষ্ঠ কর্মীদের। সৌমেন রায়, যিনি বাংলাদেশ থেকে গিয়েছিলেন, তাঁর বর্ণণায় উঠে এসেছে এই অশুভ সময়ের গল্পটি।
একজন সাহিত্যের সাথে সম্পর্কিত কিংবা সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা থাকা যেকোনো মানুষকে পোড়াবে এই ব্যাপারটা যে, হাজারখানেক বই বিক্রি/সরিয়ে না ফেলে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে কারণ তখন এর বিক্রয়মূল্য হতে গুদামভাড়া বেশি!! কোথাও নেই সাহিত্যের মর্যাদা। ক্ষুধা মেটাতে ছুটে চলছে মানুষ। এদিকে ক্যাপিটালিসম থেকে পালিয়ে বেড়ানো মানুষগুলো যারা স্তালিনের সমাজতন্ত্রের আশ্রয়ে আশ্রয় পেতে চেয়েছিলেন, তাদের চোখের সামনে ভেঙে যেতে লাগলো খোদ সোভিয়েত ইউনিয়ন।
সৌমেন রায়ের চোখে তখন কি করে পেট চলবে সেই চিন্তা থেকে স্বপ্নভঙ্গের তাড়না উড়ে বেড়াচ্ছে। তাঁর শৈশবের স্মৃতিচারণা, কর্মযজ্ঞের সময়, ননীভৌমিকের বাসায় বাঙালিদের এক হওয়া...সব উঠে এসেছে। ননী ভৌমিকের সাথে বইয়ের মাঝে দেখা হতেই কেমন যেন আপন আপন লাগছিলো। মনে হচ্ছিলো কতদিন পর পরিচিত একটা মুখ বিদেশ বিভূঁইয়ে দেখতে পেলাম। কেমন যেন একটা শূন্যতা বইটায়।

যাহ, অনেক বলে ফেলেছি। এইটুকুন একটা বই, কি গভীর আর মায়ার। মশিউল আলমের লেখার ভক্ত আমি আগে থেকেই, তবে এ-বইতে কেমন যেন মনে হল আরও কঠিনতর ভাষা, লম্বা বাক্যের ব্যবহার, নিঁখুত বিবরণির ব্যবহার ছিলো। ভালো যে লেগেছে অনেক সেটা বলাই বাহূল্য।
Profile Image for Shamsudduha Tauhid.
57 reviews7 followers
August 21, 2025
'সুপ্রভাত তাভারিশ রায়। আজ থেকে অনুবাদের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হল।'

মাত্র একটা ফোনকল। আর সাথে সাথে যবনিকা টেনে দেওয়া হল একটা স্বপ্নের।
১৯৯১ সাল। এপ্রিলের শেষাশেষি। বসন্তের পূর্বক্ষণে এমন নিষ্ঠুর নিয়তি কার জন্য অপেক্ষা করেছিল! সোভিয়েত ইউনিয়নের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন ভেঙে সেদিন খানখান হয়ে গিয়েছিল। যে কলকারখানার শ্রমিক, যে সগৌরবে নিজের পরিচয় দিতে পারত "শ্রমিক" হিসেবে। যাপন করতে পারত আর দশটা সমৃদ্ধিশালী মানুষের মতো। ভালো ফ্ল্যাট। ভালো নাগরিক সুযোগ সুবিধা। বাসা ভাড়া কাটা হতো বেতনের মাত্র ৫%।
তবু সেই সমাজে সজ্জনের সংসারের মতো আতিশয্যহীনতা ও কিছুটা অনটন লেগেই ছিল।
"মার্কসবাদ চেয়েছিল বস্তুগত সমৃদ্ধিকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যেতে যেখানে সম্পদ উপচে পড়বে, ভোগ্যদ্রব্যের অভাব বলে কিছু থাকবে না। ধনতান্ত্রিক সমাজের মানুষ যেমন ভোগবিলাস চায়, সমাজতান্ত্রিক সমাজের মানুষও যদি তারই স্বপ্ন দেখে, তবে সমাজতন্ত্রকে বৈষয়িক প্রাচুর্য সৃষ্টি করতে হবে ধনবাদী সমাজের চেয়ে অনেক অনেক বেশি। কারণ প্রাচুর্য সমানভাবে ভাগ করে দিতে হবে সব নাগরিকদের মধ্যে, পুঁজিবাদী সমাজ যার ধার ধারে না।"
"মার্কস বা লেনিন, কেউই ভাবেননি সমাজতান্ত্রিক সমাজ হবে সজ্জনের সংসারের মতো আতিশয্যহীন, যেখানে কিছু অনটন থাকা খুব স্বাভাবিক।"
সোভিয়েত ইউনিয়নের নতুন প্রজন্ম এই টানাপোড়েন মেনে নিতে পারেনি। সবাই তো আর গল্পের নায়ক সৌমেন রায়ের মতো না, যিনি এই আতিশয্যহীন সমাজকে সত্যিকারের সুখী সমাজের চিত্র কল্পনা করে নিয়েছিলেন।
ভারত ও বাংলাদেশ থেকে মস্কোতে অনুবাদের কাজে গিয়েছিলেন ননী ভৌমিক, মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায়, অরুণ সোম, হায়াৎ মামুদ, খালেদ চৌধুরী, দ্বিজেন শর্মা প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।
গল্পের নায়ক সৌমেন রায় মূলত দ্বিজেন শর্মার প্রতিরূপ। সিলেটের পাথারিয়া পাহাড়ি অঞ্চলে বেড়ে ওঠা হলেও বরিশাল, ঢাকায় কর্ম জীবন পার করেছেন। ইচ্ছে ছিল বিজ্ঞান আর লেখালেখিতে সীমাবদ্ধ থাকতে, আর দেশের গরীব ছাত্রদের পড়াতে। কিন্তু সমাজতন্ত্রকে ভালোবেসে তারা সবাই পারি দিয়েছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়ন, রাশিয়াতে।
তবু এ যেন স্বপভঙ্গের গল্প! ননী ভৌমিক তার পুত্র দিমা'র মৃত্যুর পরে মানসিক বিকারের মুখোমুখি হন। ভারতবর্ষ ত্যাগ করার আগে তাঁর লেখা উপন্যাস- ধানকানা, ধুলোমাটি খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। "ধুলোমাটি" অর্জন করেছিল বঙ্কিম সাহিত্য পুরস্কার। কিন্তু পার্টির কাজে সমাজতন্ত্রকে ভালোবেসে অনুবাদ কর্মে নিজেকে জড়িয়ে নেন। মস্কোতে অনুবাদের কাজে আসা বাংলাদেশী আর ভারতীয়দের সবচেয়ে কাছের মানুষ, অভিভাবক হিসেবে দেখা দেন ননী ভৌমিক।
ননী ভৌমিকের পাশাপাশি অন্যান্য অনুবাদকের দেখা মেলে উপন্যাসের মাঝে।
স্বল্পয়াতনের এই বইটি মাত্র একদিনের স্মৃতিচারণ, আর তাতেই ধরা পড়ে সমগ্র সোভিয়েত ইউনিয়নের রূপকল্প, উদ্দেশ্য, ভাঙন আর অনুবাদের কাজে আসা বাঙালিদের মানসিক টানাপোড়েন। এ যেন বিন্দুতে সিন্ধু।
গল্পের শুরুতে সৌমেন রায় চলে যান তার শৈশবের স্মৃতিতে। শোভা বুড়ো নিজের আদিবাসী সৃষ্টিতত্ত্ব বিশ্বাস করলেও প্রকৃতির প্রথম পাঠ তিনিই শিখিয়েছিলেন গল্পের নায়ককে। সৌমেন রায় ডারউইনীয় চিন্তায় বিশ্বাসী হলেও ইকোলজির প্রতি ভালোবাসা তৈরি করেছিলেন শোভা বুড়োই। তাই সোভিয়েত ইউনিয়নে যেখানে পুঁজির সাথে শ্রমের দ্বন্দ্ব দেখতে পায়, সেখানে তিনি প্রকৃতির সাথে মানুষের দ্বন্দ্ব দেখতে পান।

তিনি টের পেয়েছিলেন সমাজতান্ত্রিক সমাজের মৃত্যুর মুহূর্ত। যেখানে তলস্তয়, দস্তইয়েভস্কির বইয়ের পরিবর্তে নতুন প্রজন্ম আসক্ত হয়ে পড়েছিল পর্নোগ্রাফিক সাহিত্যে। ভোগবিলাসে। পশ্চিমা চাকচিক্যে সেখানে সমাজতন্ত্রের পতন রোধ করা সম্ভব হয়নি। চারপাশ জুড়ে মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের শুরু।
চিরন্তন ও সোভিয়েত সাহিত্য অনুবাদের মহাযজ্ঞ কেন্দ্র ১৭ জুবোফস্কি বুলভার যেখানে প্রগ্রেসের কেন্দ্র, তা সেদিন গুটিয়ে নিয়েছিল। রাশি রাশি পাণ্ডুলিপি যেন হয়ে উঠেছিল লাশ স্বরূপ।
তিনি শুনতে পান তার সহকর্মী ভালোদিয়ার কণ্ঠস্বর, "তাভারিশ রায়, দুঃখ পাওয়ার কিছু নেই। আমরা এক বিরাট পরীক্ষায় নেমেছিলাম। পরীক্ষা ব্যর্থ হয়েছে, তাতে কী?"

অনুভূতি -

ঔপন্যাসিক মশিউল আলম লিখেছেন হৃদয়ের গভীর থেকে, নিজে অনুভব করতে পেরেছেন এই উপমহাদেশের অসংখ্য মানুষের বেদনা যারা প্রবল অনিশ্চয়তার মাঝেও মস্কো'তে পারি জমিয়েছিলেন। অনুবাদ কর্মের মহাযজ্ঞে সামিল হতে পেরেছিলেন। গল্পের ভাষা শৈলী, সুষমা ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে। একটানে পড়ে যাওয়ার মতো উপন্যাস।
রেটিং - ৫/৫

শৈশবে রুশ লোককথা -রূপকথা, আর তলস্তয়ের কিশোর গল্পের মাধ্যমে শুরু রুশ সাহিত্যের সাথে জানাশোনা। ছবিতে দেখা যাচ্ছে শেল্ফে সাজানো থরে থরে প্রগ্রেস-রাদুগার বই। এসব বই নস্টালজিয়া। তবু কেবল নস্টালজিয়া নয়, মানবিক সাহিত্যের মেমোর‍্যান্ডাম। স্যুভেনির। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয়েছে, কিন্তু ইতিহাস মিথ্যা হয়ে যায় না। হয়ত একদিন আসবে, যেদিন সমাজতন্ত্র আরও পরিণত, আরও উৎকর্ষ হয়ে ফিরে আসবে। ততদিন কেবল অপেক্ষায়...

বইয়ের নাম - জুবোফস্কি বুলভার
লেখক- মশিউল আলম
প্রকাশনী- প্রথমা
পৃষ্ঠা সংখ্যা - ৭৯
মুদ্রিত মূল্য -১১০/
Profile Image for Swakkhar.
98 reviews26 followers
March 20, 2020
দ্বিজেন শর্মার সমাজতন্ত্রে বসবাস নামের একটা বই আছে। এটি সেটার আবেগঘন ভার্সন। সমাজতন্ত্র ও ধনতন্ত্রের সংঘাত এর সাথে মানুষ বা সমাজের বা এদের পরিণতির সম্পর্ক বাস্তব হলেও বা কী? এই যে আমাদের জীবদ্দশায় যুদ্ধ, মহামারী, দুর্ভিক্ষ ঘটে যাচ্ছে, মৃত ঈশ্বর জীবিত হয়ে সিংহাসনে বসে যাচ্ছেন, এই সবের মধ্যে মানুষ আর তার আবেগের উপন্যাস সত্য, বাকি সব ফাঁকি, এই বলে রাখলাম।
Profile Image for Sazedul Waheed Nitol.
87 reviews33 followers
February 12, 2019
বিখ্যাত প্রগতি প্রকাশনীর বইগুলো এখনো মাঝবয়েসী পাঠকদের মনে স্থায়ী আসন গেড়ে বসে আছে। সোভিয়েত পতনের পরপরই বন্ধ করে দেয়া হয় প্রকাশনীর কর্মযজ্ঞ, দূর্ভাবনা পড়েন সেখানে চাকরিরত বাঙালিরা। সেই প্রকাশনীর এক কর্মীর (যে চরিত্রটি দ্বিজেন শর্মার আদলে নির্মিত) কেবল একটি দিনের গল্প নিয়ে লিখিত উপন্যাস 'জুবোফস্কি বুলভার'। গল্পে ঘটনার ঘনঘটা নেই, তবে আবেগের উত্থান-পতন আছে; পুরো উপন্যাসে এক বিষণ্ণ সুর ছড়িয়ে আছে, যে সুর যেন তাড়িয়ে ফিরছে লেখককে।

ছোটখাট উপন্যাস, এক বসাতেই পড়ে ফেলেছি। মশিউল আলম দারুণ লেখেন- এই হলো আমার মত।
Profile Image for Debashish Chakrabarty.
108 reviews93 followers
September 24, 2020
মস্কো শহরে ১৭ জুবোফ্‌স্কি বুলভার – প্রগতি প্রকাশনীর ঠিকানা। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অনুবাদ প্রতিষ্ঠান আর কায়কারবারের ছোঁয়াচ এক সময় এসে লেগেছিল বাংলাদেশেও। অল্প বয়সেই প্রগতি-রাদুগার সুবাদে হাতে পাওয়া ঝকঝকে-ছিমছাম অনুবাদ বইগুলো যেমন চিনিয়েছে সোভিয়েত রাশিয়াকে তেমন মানবিক কত অনুভূতির সবক দিয়ে গেছে। তার জন্য দ্বিজেন শর্মা বা ননী ভৌমিকের মতো কয়েকজন অনুবাদক এমনিতেই খুব চেনা, একটু কাছের কেউ মনে হয়। তবে দ্বিজেন শর্মার প্রভাব শুধু অনুবাদেই থেমে থাকেনি। প্রাণ-প্রকৃতিকে ভালবাসার মধ্যে যে মানব জীবনের এক ধরণের পূর্ণতা আছে তা বুঝতে শিখিয়েছিলেন। গহন কোন বনের ধারে বা প্রকৃতি-মঙ্গল বা জীবনের শেষ নেই পড়লে তা টের পাওয়া যায়। একদম ঢাকা শহরের পেটের ভেতর থেকে বেড়িয়ে আসা আমি, একদম এই শহরের মতনই। হয়তো পুরোটাই এমনি থেকে যেতাম যদি না পরিচয় ঘটত দ্বিজেন শর্মার সাথে, তার জগতকে দেখবার-বুঝবার পথ ঘাটের সাথে।

এই দ্বিজেন শর্মা চলে গিয়েছিলেন মস্কোয়, নিজের দেশ-শিক্ষকতা ছেড়ে অনুবাদের মতো এক হাড় জ্বালানি চাকরি নিয়ে। নিজের দেশ, নিসর্গ, ধীরে ধীরে সাজিয়ে তোলা নটরডেম কলেজ ছেড়ে বিদেশ পারি দেয়ার কারণ কি শুধুই বৈষয়িক প্রাপ্তি? নাকি, ধনতান্ত্রিক সমাজে মানুষের মাথা তুলে না দাঁড়াতে পারা আর মানব আত্মার ধীরে ধীরে মৃত্যুর বিপরীতে – সম্পদের সুষমবণ্টন হয়েছে স্বপ্নে দেখা এমন এক রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে কাছে থেকে দেখার প্রবল ইচ্ছাটাই টেনে নিয়ে গেছে। সেই দ্বিজেন শর্মার আদলেই, সৌমেন রায়কে নিয়ে জুবোফস্কি বুলভারের গল্প। যাহোক, সেই সোভিয়েত ইউনিয়নও ভেঙ্গে পরল। তার আঁচ আগেই পেয়ে গিয়েছিলেন সবাই। স্বাভাবিকভাবেই বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে সমাজতান্ত্রিক একটা রাষ্ট্রের নিজের প্রচার-প্রচারণা-প্রোপাগান্ডার জন্য প্রতিষ্ঠিত প্রগতি প্রকাশনের মতো যন্ত্রের প্রয়োজনও ফুরিয়ে গেল। তারপর হঠাৎ একদিন টেলিফোনে সমাপ্তির ডাক। এক টেলিফোনেই সব চুকেবুকে গেলো। তারপর এক হাহাকার। সমাজতান্ত্রিক এক সমাজ-রাষ্ট্র ব্যবস্থার মহীরুহের পতনের হাহাকার। বদলে যাওয়া সমাজ আর মানুষের দিকে থাকিয়ে মনের গহীনে জমে ওঠে বিষাদ। সাথে সাথে বয়ে চলে আত্ম-সংশরের স্রোত, কি হতে পারত আর কি হয়ে গেলো তার হিসাব নিকাশ। উদ্ভিদবিজ্ঞানী হতে পারতেন, একটা জীবন কাটাতে পারতেন শিক্ষকতা করেই বা কথাসাহিত্যে ফুটিয়ে তুলতে পারেন এমন সব ফুল যেন ফুলগুলি সব কথা। তারপরও, কি এমন ঘটে গেলো যে সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো এক সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ল সে দিকে সবারই দৃষ্টি কম। কোথায় কি কোন ইঁদুর মরে ছিল, উইয়ে কি করে খেয়ে গেলো সব? এসব নিয়ে খুব কম কথাই মানুষ বলতে চায়! হাহাকারটাই বেশি। সোভিয়েত রাষ্ট্রের মৃত্যুর সাথে সাথেই কত না মানুষের, কয়েকটা প্রজন্মের আত্মায় নেমে আসে কবরের অন্ধকার। সবই কি মানুষের লোভ? সবই ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চক্রান্ত?

তারপরও জুবোফস্কি বুলভার এক মায়া। দ্বিজেন শর্মারই “গহন কোন বনের ধারে” বা “সমাজতন্ত্রে বসবাস” এর ছায়া হলেও প্রাণের খুব কাছের একটা মায়া।
Profile Image for Ayan Muhtasin.
34 reviews12 followers
Read
March 17, 2023
২০১১ সাল.. বইমেলা...
বয়স তের কি চৌদ্দ..
বই এর নাম দেখে সায়েন্স ফিকশন ভেবে প্রথমা প্রকাশনী কেনা হয় এই বই। বাসায় এসে মাথায় হাত। সায়েন্স ফিকশন জগতে ঘুরে বেড়ানো মনে তো তখন আর গণতন্ত্র সমাজতন্ত্র ঢুকে না!
এখন ঢুকে..
Profile Image for musarboijatra  .
288 reviews363 followers
September 4, 2021
১৭ জুবোফস্কি বুলোভার, মস্কো। সোভিয়েতের যে ঠিকানায় 'প্রগতি' বা 'রাদুগা' প্রকাশনী দাঁড়িয়ে ছিল, আর পৃথিবীর নানা প্রান্তের মানুষের কাছে অনুবাদে ছড়িয়ে দিচ্ছিল রুশ সাহিত্যকে। বিশেষত আমাদের দেশের অনেকের শৈশবেই রুশ উপকথা আর সাহিত্যের অনেক বড় স্থান আছে। সোভিয়েত যখন ভেঙে পড়ছিল, সে আঘাতে থেমে গেছিল প্রগতি প্রকাশনী-ও। বাংলা বিভাগে অনুবাদে রত বাঙালীরা- ননী ভৌমিক, সৌমেন রায়, সুকান্ত, নিখিল, বিজন, নীলিমা- তাঁদের মাঝে সেই আঘাত কেমন ছায়া ফেলেছিল, তা লেখক দেখিয়েছেন সৌমেন রায়ের চোখে।

কেবল রাদুগা আর অনুবাদকগণই নন, ৭৯ পৃষ্ঠার বইটাতে প্রগতি বন্ধের ঘোষণা আসার দিনটায় ঘুরে বেড়ানো হয়েছে সৌমেন রায়ের অগোছালো সব চিন্তায়। কখনো শৈশবের কথা ভাবছেন, প্রকৃতিতে বেড়ে ওঠার কথা, দারুণ প্রকৃতি-প্রেমী শোভা বুড়োর কথা। দারিদ্র‍্যের দেশে বসে ভেবেছিলেন ধনতন্ত্রী সমাজ গরীব ছেলেদের একটুকু 'সুযোগ' দেয় না করে দেখাবার, হয়তো সেটা সমাজতন্ত্রী দেশে পাওয়া যেতে পারে... আর সে আশা পুঁজি করে দেশের চাকরি ছেড়ে সোভিয়েতে অনুবাদক হয়েছিলেন।

ওই দিনটিতে ঢাকায় মীজানুর রহমানের কাছে চিঠি লিখছিলেন, অস্থির মনে একবার উদ্দেশ্যহীন ঘুরেও এসেছিলেন ননী ভৌমিকের বাড়ি থেকে, যেখানে একত্র হয়েছিলেন অন্য অনুবাদকেরা। ননী ততদিনে স্মৃতিভ্রষ্ট। এখনো প্রকাশনার ব্যস্ততা, অনুবাদের কাজ তাঁকে পোহাতে হয়, সোভিয়েত তাঁর কাছে একরকমই আছে।

রাতে ফিরে অসমাপ্ত চিঠিতে লিখলেন সৌমেন, "প্রিয় সখা মীজান, আমার ভুল হয়েছে আমি সেই বাংলাদেশ ত্যাগ করে এখানে চলে এসেছিলাম দুনিয়া জুড়ে বিপ্লব করার স্বপ্ন নিয়ে। কী হাস্যকর, তুমি ভাবতে পার! ১৯২৭ সালেই সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর বুঝতে পেরেছিলেন, স্তালিন সমাজতন্ত্র নির্মাণের যে পথ নিয়েছেন তা ব্যার্থ হবে। সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার অনেক গুরুতর ভুলত্রুটি যে আমারও নজরে পড়েনি তা নয়। কিন্তু কেন যে আমার টনক নড়েনি, কেন যে " মধ্যদিনের প্রপাত তমসাকে" সত্য বলে মানিনি, কেন যে সবকিছুকেই সোভিয়েতবিরোধী বুর্জোয়া প্রচারণা বলে প্রত্যাখ্যান করেছি, এবং শুধু ভালো উদাহরণ খুঁজে বেড়িয়েছি, কে জানে!"

এই বুড়ো বয়সে উপার্জনের উপায় কি হবে, তারচেয়ে তাঁকে সোভিয়েতের পতন আর প্রগতি'র থেমে যাওয়া অনেক আহত করেছিল। আর্থিক লাভের জন্য প্রগতি'র ভবনে গুদাম ভাড়া দেওয়া হবে, আর দাম দিয়ে বই কেনার লোক নেই বলে বস্তা ভরে পার করা হচ্ছে আমাদের প্রিয় সেসব সোভিয়েত-প্রিন্ট বইগুলোকে, ভাবা যায়?

একটু মনক্ষুন্ন হয়েছিলাম শুরুতে, কারণ, ভেবেছিলাম বইটাতে প্রগতি প্রকাশনীর ভেতরের কথা থাকবে অনেক। পরে আক্ষেপ থাকেনি। মশিউল আলম জাদুময় করে তুলেছেন পড়ার সময়টাকে। অনন্য একটা কাজ।

প্রথমা থেকে ২০১১ সনে প্রকাশিত ৭৯ পৃষ্ঠার ১১০টাকা মুদ্রিত মূল্যের বইটা সংগ্রহ করবার আগে নিশ্চিত হয়ে নিবেন যে যা পড়তে চাইছেন তা-ই পাচ্ছেন, তাহলেই আশা করছি আমার সাথে দ্বিমত করবেন না।
Profile Image for আহসানুল করিম.
Author 3 books27 followers
August 9, 2020
মুক্ত বাজারের হইহট্টগোলে বেড়ে উঠে, সমাজ আর রাজনীতির সাথে সম্পর্কহীন ক্লীব এক তারুণ্য পার করার পর, স্নায়ুযুদ্ধের মার্কিনি থ্রিলারে সোভিয়েতি ভিলেনের কড়া এক্সেন্টে হুমকি ধামকি আর পরাজয় দেখে বিনোদিত হওয়া সত্তেও আজ এখানে দাঁড়িয়ে বইটা পড়তে পড়তে সমাজতন্ত্রে পৃথিবীজোড়া বিপ্লবের স্বপ্নে বিভোর মানুষের স্বপ্ন ভাঙ্গার গল্প পড়ে বুকটা ভারি হয়ে ওঠে।
7 reviews2 followers
August 4, 2019
আমার সাম্প্রতিক পাঠ: মশিউল আলমের ছোট উপন্যাস "জুবোফস্কি বুলভার"

জুবোফস্কি বুলভার মস্কোর একটি রাস্তার নাম। অনেকের হয়তো মনে আছে সোভিয়েত ইউনিয়নের সময় এই রাস্তার ১৭ নম্বর বাড়িটিতে ছিল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ অনুবাদ প্রতিষ্ঠান প্রগতি প্রকাশনের সদর দফতর। এই ঠিকানা থেকে সাহিত্য ও জ্ঞান বিজ্ঞানের নানা বই তারা পৃথিবীর ৬০টি ভাষায় অনুবাদ করে প্রকাশ করত। সেই প্রগতি প্রকাশনে অনুবাদকের কাজ নিয়ে বাংলাদেশ থেকে গিয়েছিলেন সৌমেন রায়। দেড় দশকের বেশি সময়ে তিনি বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন অর্ধ শতাধিক বই। এই বইতে এসেছে ১৭ নম্বর জুবোফস্কি বুলভারে তাঁর সহকর্মীদের camaraderieর কথা। এসেছে রুশ ভাষা থেকে বাংলায় অনুবাদের প্রবাদপ্রতিম ননী ভৌমিক এবং অন্যান্য র্বাংলা অনুবাদকের কথা। এসেছে সোভিয়েত আমলে বিভিন্ন পেশার মানুষের অন্তরের সহজ উষ্ণতার কথা। তারপর এলো ১৯৯১ সাল। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেঙে পড়ার অল্প কিছু আগে একদিন সকালে হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল সব অনুবাদের কাজ, বন্ধ হয়ে গেল প্রগতি প্রকাশন। সমস্ত বই-পাণ্ডুলিপি সরে গিয়ে ১৭ নম্বর জুবোভস্কি বুলভারের বাড়িটি পরিবর্তিত হলো টয়োটা মোটরগাড়ির শো রুমে। সেই সব স্বপ্নের দিন ও স্বপ্নভঙ্গের কাহিনীই এই ৮০ পাতার ছোট বইটি।

প্রকাশক: বাংলাদেশের প্রথমা প্রকাশন

2011 সালের প্রথম সংস্করণের দাম ছিল 110 BD টাকা
Profile Image for Aditee.
90 reviews21 followers
February 27, 2019
মাত্র একটি দিনের গল্প, যদি 'গল্প' নাম দিতে হয়। কিন্তু এই একটি দিনের ভেতর যুগযুগান্তের হাহাকার, স্মৃতিকাতরতা, অভিমান, অনুশোচনা, ধনতন্ত্রের কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়া সাম্যের স্বপ্ন।

আমাদের ছোট্টবেলায়, আগের প্রজন্মের বুক শেলফ থেকে উদ্ধার করা, ধুলোপড়া, বরফ-সাদা পৃষ্ঠায় ছাপা মস্কো থেকে অনূদিত হয়ে আসা বইগুলো... কত পরিশ্রম, একাগ্রতা এর একেকটি শব্দের পেছনে, মৌলিক সাহিত্যের দিকে না-গিয়ে শুধু অনুবাদেই জীবন কাটিয়ে দেয়ার আত্মত্যাগ, আত্মতৃপ্তির গল্প, অনুবাদক দলের ব্যক্তিগত, সামষ্টিক সুখ-দুঃখ-বন্ধুত্ব....
সব কফিনবদ্ধ হয়ে গেলো এক সকালের ফোনে- "সুপ্রভাত তাভারিশ রায়। আজ থেকে অনুবাদের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হল।" পচন তো ধরেছিলো আগেই। ফোনটুকু শুধুমাত্র দুর্গন্ধ ছড়ানো লাশটিকে চিতায় তোলার আহবান।

এত এত বছর পর আজ যখন দেখি ঢাকা নিউমার্কেটের বইয়ের দোকানগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে একে একে ঝকঝকে চশমা, সানগ্লাস আর যাবতীয় ভোগ্যপণ্যের সম্ভারে পরিণত হয়ে চলেছে.... পুরনো, বহু বছরের পরিচিত, বয়ষ্ক বই বিক্রেতাদের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন চকচকে পোষাকে মোড়ানো তরুণ বিক্রয়কর্মীরা...
তখন মনে হয়, পুঁজিবাদের থাবার আঘাত, রক্তের দাগ সব কালেই এক। সব কালেই এক!
Profile Image for Enamul Reza.
Author 5 books177 followers
March 29, 2018
সোভিয়েত রাশিয়া, এর পতন, প্রগতি বা রাদুগার অসাধারণ সব বাংলায় অনুদিত বইগুলোর পিছনে যারা ছিলেন, এদের সম্পর্কে যাদের ধারণা আছে, জুবোফস্কি বুলভার নামের ছোট্ট বইটা তাদের মনকে ভারি করে তুলবে। ঘন্টা দেড়েকের জন্য ঘুরে আসা যাবে শীত কেটে গিয়ে বসন্ত নামা মস্কোর সেই ভাঙনকালের কিছু মুহূর্তে। মশিউল আলমের লেখা নভেলাটির নায়ক সৌমেন রায় হলেন দ্বিজেন শর্মা। এই প্রকৃতি মগ্ন মানুষটির প্রতি ভালবাসা যা ছিল, জুবোফস্কি বুলভার সেটা আরও মজবুত করলো। এভাবে স��ভিয়েত পতনের দিবানিশিতে আমার ঘুরে বেড়ানো কিছুটা নিয়তি তাড়িত। কেনইবা হঠাৎ এনিমেল ফার্ম পড়া হল, কেনইবা এখন হাতের সামনে দেখতে পাচ্ছি সোলঝেনিৎসিনের (যদিও প্রিয় লেখক শোলখভের বিরুদ্ধে এই নোবেল লরিয়েট যে ভুয়া অভিযোগ এনেছিলেন, সে কারণে তাকে অপছন্দ করি) ওয়ান ডে ইন দা লাইফ অফ ডেনিস ইভানোভিচ নড়াচড়া করছে, কে জানে। উপমহাদেশে এখনও বহু বামপন্থি স্তালিনকে দেবতা মনে করেন, গর্বাচভকে দায়ি করেন একটা মহৎ বিপ্লবের ৭০ বছরের মাথায় তা ধ্বসে যাওয়ার। কিন্তু পাঁচ বছরে গর্বাচভ যা করেছিলেন, সেটি তো স্তালিনের উত্তরাধিকার বই অন্যকিছু নয়। পতন অনিবার্য্যই ছিল।
Profile Image for Raisul Sohan.
125 reviews20 followers
March 5, 2019
উপন্যাস না বলে বড় আকারের গল্প বলাই যায়। মশিউল আলমের লেখার হাত চমৎকার। সমাজতন্ত্র নিয়ে যে স্বপ্নের আবেশে বুজে ছিলেন সৌমেন রায় তা ভঙ্গের বেদনা বিধুর বর্ণনা এই বইতে। আরও কিছু জানতে পারলে ভালো লাগতো। শেষ হইয়াও হইলো না শেষ বইটি।
Profile Image for Fahad Amin.
180 reviews8 followers
November 4, 2025
ভেঙে পড়লো সোভিয়েত ইউনিয়ন। বন্ধ হয়ে গেলো প্রগতি প্রকাশনী। আচমকাই যেন বদলে গেলো সবকিছু।

মূলতঃ সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে বইয়ে।
Profile Image for Ashiqur Rahman Tanim.
9 reviews2 followers
April 5, 2016
সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির সাথে সাথে আরো অনেক কিছুরই বিলোপসাধন হয়েছিলো। কমিউনিজম স্ট্র্যান্ড, গর্বিত শ্রমিক শ্রেণী পরিচয়ের একদল মানুষের, প্রগতি প্রকাশনী নামক এক অন্যধারার প্রকাশনীর, যারা বই প্রকাশ করতো শুধু জ্ঞান আর চিন্তা প্রসারণের স্বার্থেই! সেই প্রকাশনীতে অনেক বাঙালিও কাজ করতেন তখন। যেদিন প্রগতির দক্ষযজ্ঞ বন্ধের ঘোষণা এলো, সৌমেন রায় ফিরে তাকালেন তার অতীতের দিকে, যা সিলেটের পাহাড় থেকে থেকে জুবোফ্‌স্কি বুলভার পর্যন্ত ছড়ানো ছিটানো...

ভালো লেগেছে।
Profile Image for Nasrin.
105 reviews13 followers
Read
July 21, 2018
২০১১ সালের ভাষা প্রতিযোগে পুরষ্কার পাওয়া বই। শেলফে রাখার কথা মনেই ছিলো না। ছোটখাটো বইটা মনে হচ্ছে আবার পড়তে হবে।
Displaying 1 - 17 of 17 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.