কালকেতু ও ফুল্লরা
আমার পড়া সেলিনা হোসেনের লেখা প্রথম বই। ভাল লেগেছে এই জন্যে যে পৌরাণিক চরিত্র কে উপজীব্য করে লেখক রাজনীতি, সমাজ, মানব চরিত্রের অধপাতের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন পুংক্ষানুপুংক্ষভাবে। ক্ষমতালোভী মানুষের পরিনতি ন্যায্যতা পেয়েছে ( well justified ) । সমাজে অবস্থানরত এমন মানুষগুলো বাস্তবতা পেয়েছে, যারা চোখের সামনে থেকেও আড়ালে থেকে যায় আর মানুষের আশা আকাংক্ষাকে ঘুণে ধরার চিত্র ফুটে উঠেছে।
যেটা ভালো লাগেনি সেটা হলো, অতীতের পৌরাণিক চরিত্রকে অবলম্বন করে লেখক বর্তমানে পৌঁছাতে চাইলেও ধারাবাহিকতা কখনো কখনো হারিয়ে যাওয়ায় মনে হয়েছে, খেই হারিয়ে যাচ্ছে, যেমন, কলিংগ নগরীর কথা শুনতে শুনতে হঠাৎ ঢাকা শহরে লেখক পৌঁছে গেছেন, আবার কখনো বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে... আবার চরিত্র গুলোর বয়স, পেশা এসবও খুব confused করেছে।
সবচাইতে যেই চরিত্রটি আমাকে কৌতুহলী করেছে সেটি হল মজিদ আর মজিদের পারিবারিক সম্পর্কের পতন, উত্থান, পতন! মজিদ চরিত্রটিকে এখানে ভিন্নমাত্রার গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তথাপি আমার উদার কিন্তু দুর্বল ব্যক্তিত্ব বলে মনে হয়েছে। একদম শেষের দিকে মজিদের প্রতিক্রিয়া অবশেষে দেখা গেছে এছাড়া সমস্ত উপন্যাস জুড়ে নীরব পর্যবেক্ষনকারী, হতাশ, কিছুই করার নেই কিন্তু কিছু করার জন্য ভেতরে সর্বদা নিশপিশকারী (অথচ অনেক কিছুই করতে পারতো এবং করা উচিত ছিল) এমন একটি চরিত্র।
সব মিলিয়ে ভালো লেগেছে, পাঠক হিসেবে আমার চিন্তার জগৎ কে বারবার নাড়িয়ে, সমাজের একজন নাগরিক হিসেবে সামাজিক, পারিবারিক সম্পর্ক, রাজনীতি সম্পর্কে ভাবিয়ে তুলতে পারাই লেখকের স্বার্থকতা ছিল বলেই মনে করি।