আঁধার নামার অনেক আগেই ঘরের ভিতর ঢুকে দোর আটকে দিতে হয়। কুঁড়ে থেকে বের হওয়া যায় কেবল সকালে আলো হবার পর। এর একটু ব্যতিক্রম হলেই যেতে হবে মানুষখেকো সিংহের পেটে। কারণ রাতের বেলা গ্রামের ভিতরে খোলা জায়গা কিংবা কুঁড়ের সামনেই শুয়ে-বসে কাটায় জানোয়ারগুলো। তবে এই সতর্কতায়ও সব সময় রেহাই মিলছে না। কারণ দিনের বেলায়ও শিকার শুরু করে দিয়েছে মানুষখেকোগুলো। আর এ বিপদে আফ্রিকার অসহায় মানুষগুলোর পাশে এসে দাঁড়ালেন দুর্ধর্ষ শিকারি জন টেইলর। খবর পাবার সঙ্গে সঙ্গে কাজ শিকেয় তুলে ছুটে এলেন তাঁর বন্ধু আফ্রিকানদের সাহায্যে।
পর্তুগিজ পূর্ব আফ্রিকার (বর্তমান মোজাম্বিক) বিস্তীর্ণ এলাকায় পঁয়ত্রিশ বছর শিকার করেছেন জন টেইলর। মূলত ছিলেন পেশাদার হাতি শিকারি। কিন্তু মানুষখেকো সিংহ, বুনো মোষ আর হাতির পালের হামলার খবর পেয়েছেন যেখানে সেখানেই ছুটে গেছেন, আর্থিক লাভ-ক্ষতি আর বিপদের কথা চিন্তা না করেই। রুদ্ধশ্বাসে পড়ার মত বইটিতে রয়েছে মানুষখেকো সিংহ, চিতা বাঘ, গুন্ডা হাতি, বুনোমোষ, আর কুমির শিকারের অসাধারণ সাতটি কাহিনি।
John Howard "Pondoro" Taylor was a big-game hunter and ivory poacher of Irish descent. Born in Dublin as the son of a surgeon he developed an urge to go to Africa and become a professional hunter. Taylor mainly hunted for his own account and had little interest in guiding clients. His parents paid for his passage to Cape Town. In Africa he experimented extensively with different types of rifles and calibers which made him an expert in big game rifles. He is credited with developing the Taylor KO Factor, and authored several books.
Taylor's personal life in later years was one of misfortune. As an alleged homosexual, Taylor was persecuted in Africa in his latter years there and was eventually forced by local authorities to leave Africa. However, it was almost surely Pondoro's unflinching support for, and always standing up for, the black man—not any supposed sexual deviancy—that caused him to be asked to leave Africa. Taking into account his vast experience as a hunter, as well as his expertise with rifles, Taylor should have had no trouble finding a well paying job as a representative of one of the high end gunmakers in London. However, whispers alluding to Taylor's past in Africa followed him to England, and he found little work available. Taylor's last years were spent in poverty
জন টেইলর নামের এক শিকারীর লেখা বই। ১৯০৪ সালে জন্ম তাঁর। তাঁরই শিকারের গল্প। বইতে সাতটা গল্প আছে। ১৪৩ পৃষ্ঠার বই। এগুলো পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ নাকি আংশিক তা জানা নেই। তবে প্রত্যেকটা গল্পেই অল্প কথায় মূল শিকার কাহিনীর সম্পূর্ণ টানটান উত্তেজনাটা আছে। শুধুমাত্র রাজা বাদশাহদের শিকারের গল্প পড়তে পড়তে একসময় ধারণা ছিল যে মানুষ শুধু শখের বসেই শিকার করে প্রাণী মেরে ফেলে। কিন্তু মানুষকে বেঁচে থাকার জন্যও অনেক সময় শিকার করতে হয়। এই শিকারী ঠিক সেরকম আফ্রিকার বিভিন্ন গ্রামের লোকদের হিংস্র, মানুষখেকো প্রাণিদের থেকে বাঁচানোর জন্য শিকার করেন। এক দুইজন বিশ্বস্ত সাথী, কয়েকটা অস্ত্র আর প্রচন্ড রকমের তীক্ষ্ণ ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় - এর উপর ভরসা করেই বুনো মোষ, গুন্ডা হাতির পাল বা মানুষখেকো সিংহের দল সবকিছুর মোকাবিলা করেন। এর জন্য টাকা পয়সা পান না। কিন্তু শ্রদ্ধা, ভালোবাসা অনেক পান। আর জীবিকা আসে হয়তো মেরে ফেলা গুন্ডা হাতির দাঁত থেকে,বুনো মোষের মাংস থেকে নাহলে ছোট কোন ব্যবসা করে। আর যেই গ্রামে যান শিকার করতে সেখানেই ছোটখাটো কোন প্রাণী শিকার করে গ্রামের লোকদের সাথে মিলে খাবার ব্যবস্থা করেন। অনেক সময় আশেপাশের অনভিজ্ঞ শিকারীর কারণে বিপদ বেড়ে যাওয়ার ঘটনাও আছে। প্রত্যেকটা গল্পই ভালো লেগেছে। মানগুয়েন্দির বিভীষিকা গল্পে এতগুলো হাতি মেরে ফেলছে দেখে একবার খারাপ লাগতে শুরু করেছিল। আবার শুরু থেকে পড়ে আসি, দেখলাম হাতিগুলোকে মেরে ফেলা ছাড়া ওই এলাকার লোকদের শান্তির আর উপায় ছিলনা। আর নরখাদক চিতাবাঘ গল্পে ছিল চিতার মত ধূর্ত প্রাণী শিকারের চেষ্টা। মাসের পর মাস একটা নরখাদক এই শিকারীকে ঘুরিয়েছে, হাতের কাছে আসতে আসতেও চলে গেছে, ভেবেছিলাম শেষ পর্যন্ত সফল হবে। কিন্তু লেখক তার এই পরাজয়ের গল্পটাও ঠিকমতো বলে গেছেন। অনুবাদ ভাল লেগেছে। কিছু বানান ভুল ছাড়া তেমন কিছুই খারাপ চোখে পড়েনি।
আফ্রিকান জীববৈচিত্র্য ভারতবর্ষের তুলনায় অনেকটাই আলাদা। সেখানে উত্তপ্ত সূর্য, প্রচন্ড গরম, জলের অপ্রতুলতা, শক্ত পাথুরে মাটি, উঁচু এলিফেন্ট/বাফেলো ঘাস, মাতেত্তির জঙ্গল, জল ধরে রাখা বাওবাব, কষ্টসহিষ্ণু আদিবাসী আর হাজারে হাজারে হাতি বাইসন এন্টিলোপ সিংহ চিতাবাঘের উপস্থিতি আফ্রিকাকে করেছে স্বকীয়।
শিকারী জন টেইলর জীবনের বড় একটা সময় দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকায় শিকার করে কাটিয়েছেন, যা বর্তমানে মোজাম্বিক, জিম্বাবুয়ে, তানজানিয়া আর মালাউই। মূলত ছিলেন হাতিশিকারি, ক্ষেত্রবিশেষে পোচারও। হাতির দাঁত বেচে জীবিকা নির্বাহ করতেন, গোটা শিকারী জীবনে বারোশোর ওপরে হাতি মেরেছেন। বইটির একটি কাহিনী- "মানগুয়েন্দির বিভীষিকা"য় মোট ৫৬ টি হাতি মারার বিবরণ আছে। নিঃসন্দেহে আফ্রিকান হাতির সংখ্যা দ্রুত কমে আসার পেছনে তাঁর মত শ্বেতাঙ্গ শিকারীর হাত ছিল।
হাতির পাশাপাশি প্রচুর বুনো মহিষও শিকার করেছেন তিনি। বড় বড় পাল মেরেকুটে ছোট করে দিয়েছেন। তবে তাঁর এই গণহত্যার পেছনে যুক্তিও দিয়েছেন টেইলর। আফ্রিকাতে বন্য মহিষ আর হাতির পালের দ্বারা গরিব চাষাদের ফসল, ক্ষেত ধ্বংস হবার হাত থেকে রক্ষা করতেই বন্দুক তুলে নিতেন তিনি। বিশেষ করে যখন কাতারে কাতারে বুনো মহিষ উপত্যকা বেয়ে গ্রামগুলোর ক্ষেতে হামলা চালাতো, বা হাতির পাল রাতারাতি গ্রামকে গ্রাম শ্মশান করে দুর্ভিক্ষে রূপ দিত - তখনই অকুস্থলে গিয়ে প্রিয় আফ্রিকানদের ত্রাতা হতেন জন টেইলর। তাঁর ভাষায় - " ছোট্ট ছেলে-মেয়েদের চামড়ার উপর দিয়ে দেখা যাওয়া হাড়, কোটরে ঢুকে যাওয়া চোখ, আধাপেটা অনাহারে থেকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া এখনো জ্বলজ্বলে আমার স্মৃতিতে৷ এসবের জন্য দায়ী বুনো মোষ কিংবা হাতির পালের ক্ষেতের ফসল ধ্বংস করা।"
বুনো মহিষ নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে তাঁর মতামত- "কিন্তু এদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। যখনকার কথা বলা হচ্ছে তখন আফ্রিকায় এদের কোনো অভাব ছিলোনা। আর প্রাণীগুলো বংশবিস্তারও করতো ইঁদুরের মতই। আক্ষরিক অর্থে খুব বুড়ো বাদে বাকি সব মাদি মোষের সাথে বাচ্চা থাকতো।"
বইটিতে মোট সাতটি কাহিনী আছে। বেংগা আর নসুংগুর মানুষখেকো কয়েকটি নরখাদক সিংহের পাল নিয়ে লেখা। বেংগাতে তিনটি আর নসুংগুতে মোট আটটি সিংহকে নিকেশ করেন তিনি। অপরদিকে 'গুন্ডা হাতি' এক খুনী হাতি আর 'নরখাদক চিতা বাঘ' এক মানুষখেকো দানবাকৃতি চিতাবাঘ নিয়ে লেখা। এই শেষোক্ত চিতাবাঘটিকে টেইলর মারতে পারেননি। প্রতি কাহিনী তেই শিকারীর জয় হবে এমন কোনো কথা নেই। চিতাবাঘ সম্পর্কে লেখকের নিজস্ব অনেক ধারণা আছে লেখাটিতে। বিখ্যাত শিকারী জিম করবেটের উল্লেখও আছে।
'লিফুম্বার বুনো মোষ' আর 'মানগুয়েন্দির বিভীষিকা' যথাক্রমে ফসল বাঁচাতে লেখকের কেপ বাফেলো আর হাতি শিকারের কাহিনী। 'খোঁড়া আতঙ্ক' এক পা-হারানো সিংহকে নিয়ে। স্থানীয় প্রশাসকের বোকামির কারণে যে মানুষখেকোতে রূপান্তরিত হয়।
এছাড়া বইটিতে কুমির, ইমপালা, লেসার কুডু, ওয়াটার বাক, রিডবাক ইত্যাদি শিকারের কথাও আছে। আছে কিছু না জানা তথ্যও। যেমন হাতির মাতাল হওয়া, সিংহের মৃত সঙ্গীকে দেখতে আসা ও ক্যানিবলিজম, চিতাবাঘ কেনো সিংহ থেকেও বেশি ভয়ানক, মহিষের কেনো কাদায় স্নান দেয়, কুমির কিভাবে শিকার জমিয়ে রেখে পঁচায় - ইত্যাদি।
ইশতিয়াক হাসানের অনুবাদে ঐতিহ্য প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত "আফ্রিকান সাফারি"। মূল লেখক জন টেইলর। রেটিং ৪/৫।
জন টেইলর নামের এক শিকারীর লেখা বই। ১৯০৪ সালে জন্ম তাঁর। তাঁরই শিকারের গল্প। বইতে সাতটা গল্প আছে। ১৪৩ পৃষ্ঠার বই। এগুলো পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ নাকি আংশিক তা জানা নেই। তবে প্রত্যেকটা গল্পেই অল্প কথায় মূল শিকার কাহিনীর সম্পূর্ণ টানটান উত্তেজনাটা আছে। শুধুমাত্র রাজা বাদশাহদের শিকারের গল্প পড়তে পড়তে একসময় ধারণা ছিল যে মানুষ শুধু শখের বসেই শিকার করে প্রাণী মেরে ফেলে। কিন্তু মানুষকে বেঁচে থাকার জন্যও অনেক সময় শিকার করতে হয়। এই শিকারী ঠিক সেরকম আফ্রিকার বিভিন্ন গ্রামের লোকদের হিংস্র, মানুষখেকো প্রাণিদের থেকে বাঁচানোর জন্য শিকার করেন। এক দুইজন বিশ্বস্ত সাথী, কয়েকটা অস্ত্র আর প্রচন্ড রকমের তীক্ষ্ণ ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় - এর উপর ভরসা করেই বুনো মোষ, গুন্ডা হাতির পাল বা মানুষখেকো সিংহের দল সবকিছুর মোকাবিলা করেন। এর জন্য টাকা পয়সা পান না। কিন্তু শ্রদ্ধা, ভালোবাসা অনেক পান। আর জীবিকা আসে হয়তো মেরে ফেলা গুন্ডা হাতির দাঁত থেকে,বুনো মোষের মাংস থেকে নাহলে ছোট কোন ব্যবসা করে। আর যেই গ্রামে যান শিকার করতে সেখানেই ছোটখাটো কোন প্রাণী শিকার করে গ্রামের লোকদের সাথে মিলে খাবার ব্যবস্থা করেন। অনেক সময় আশেপাশের অনভিজ্ঞ শিকারীর কারণে বিপদ বেড়ে যাওয়ার ঘটনাও আছে। প্রত্যেকটা গল্পই ভালো লেগেছে। মানগুয়েন্দির বিভীষিকা গল্পে এতগুলো হাতি মেরে ফেলছে দেখে একবার খারাপ লাগতে শুরু করেছিল। আবার শুরু থেকে পড়ে আসি, দেখলাম হাতিগুলোকে মেরে ফেলা ছাড়া ওই এলাকার লোকদের শান্তির আর উপায় ছিলনা। আর নরখাদক চিতাবাঘ গল্পে ছিল চিতার মত ধূর্ত প্রাণী শিকারের চেষ্ট��। মাসের পর মাস একটা নরখাদক এই শিকারীকে ঘুরিয়েছে, হাতের কাছে আসতে আসতেও চলে গেছে, ভেবেছিলাম শেষ পর্যন্ত সফল হবে। কিন্তু লেখক তার এই পরাজয়ের গল্পটাও ঠিকমতো বলে গেছেন। অনুবাদ ভাল লেগেছে। কিছু বানান ভুল ছাড়া তেমন কিছুই খারাপ চোখে পড়েনি।