এই গ্রন্থে সর্বমোট উনত্রিশটি নির্বাচিত প্রবন্ধ সুবিন্যাস্ত করা হয়েছে। উত্তরাধুনিকতার ধারণা, প্রবণতা, বিকাশ, নারীবাদ, উপনিবেশবাদ, কাঠামোবাদ, মার্কসবাদ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। লেখকদের মধ্যে রয়েছেন হাসান আজিজুল হক, আবুল কাসেম ফজলুল হক, তপোধীর ভট্টাচার্য, আনন্দ ঘোষ হাজরা প্রমুখ।
প্রধানত প্রাবন্ধিক। পিতা: প্রয়াত নিধুবন ঘোষ ও মাতা: ভগবতী ঘোষ। জন্ম মুন্সীগঞ্জের নয়াগাঁও-তে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। পেশা শিক্ষকতা। বর্তমানে তিনি মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে কর্মরত রয়েছেন।
অনেকেই একবাক্যে উত্তরাধুনিকতা বুঝতে চায়। তাদের জন্য বলছি, দূরে থাকুন। এ জিনিস বড়ই বিভ্রান্তিকর। উত্তর আধুনিকতা কি একটি মতাদর্শ? সংক্ষেপে বলা যায় কি? তা যায় বৈকি। অই 'মতাদর্শ' নিয়েও অনেক 'বাহাস' আছে। বাহাসটা আগে মিটাই দেখি। মতাদর্শ বলতে, গ্রামসির ভাষায়, "বিশ্ব সম্পর্কে ধারনা যা মানুষের ব্যাক্তি ও যৌথজীবনের যাবতীয় অভিব্যাক্তিতে ব্যাক্ত থাকে এবং যা আইন, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির কাজকর্মের মধ্য দিয়ে অনুচ্চারিতভাবে প্রকাশিত হয় " - (Prison Notebooks, p:328) এই উত্তর আধুনিক মাজহাবের মূল কথা হল, কোন সার্বিক জ্ঞান বা বিশ্ববিক্ষা থাকা সম্ভব নয়। বস্তু, প্রানি এবং সমাজজীবন নিয়ে কোন Grand Narrative থাকতে পারেনা। যে Discourse পৃথিবীর সবকিছুকে কোন এক সাধারণ সুত্রে গাঁথে তা Erroneous Discourse. পৃথিবীতে কোন Master Discourse নেই। আর এভাবে 'মার্ক্সবাদ' কে Erroneous Discourse হিসেবেই দেখে তাঁরা। অর্থাৎ, কেও মার্ক্সবাদ কে Grand Narrative হিসেবে দেখলে সে নির্ঘাত ভ্রান্ত।
এর পর তাঁরা আপনাকে একটা নাগরদোলায় তুলে দিয়ে বলবে, সমাজে আসলে থাকে বহু ধরনের Discourse. ধর্ম, জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ এসব কিছু নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন Discourse তৈরি হয়। প্রতিটি Discourse এ থাকে একটি কর্তৃত্বকারী অংশ বা Hegemonic Part. আবার প্রতিটি Discourse এ থাকে এক বা একাধিক Counter Discourse এর সম্ভাবনা। কর্তৃত্বকারী Discourse কে 'বিনির্মাণের' বা 'Deconstruction' এর মাধ্যমে Counter Discourse গড়ে তোলা যায়। কর্তৃত্বকারী Discourse এর অংশীদাররা হলেন সুবিধাভোগী। সুবিধাভোগীরা যাঁদের উপর কর্তৃত্ব করে সেই দলিতরাই Counter Discourse তৈরি করে ফলে সুবিধাভোগীদের ক্ষমতা হ্রাস হয় এবং 'বিদ্যমান Discourse কাঠামোর' মধ্যেই তৈরি হয় Space of Democracy. কি? পুঁজিবাদের গন্ধ পাচ্ছেন না? আমি পাচ্ছি। চলুন চা খেয়ে আসি, আলোচনা আপাতত মুলতবি থাক।