[Based on The Hunt for Atlantis by Andy McDermott]
ডক্টর লাবনী আলমকে ডুবন্ত গাড়ি থেকে উদ্ধার করেই মহা ঝামেলায় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেল মাসুদ রানা। কিংবদন্তীর সেই আটলাণ্টিসের মহামূল্যবান এক আর্টিফ্যাক্ট ক্রয় করতে ইরানে গেল ওরা। ভুলেও ভাবেনি, কবর-লুঠেরা আরাশ খানসারি টাকা তো নেবেই, খুনও করতে চাইবে ওদের। মরতে আপত্তি আছে বলে প্রাণপণে লড়ল ওরা। ইরান থেকে ফিরেই ব্রাযিল, গালফ্ অভ কেডিয, তিব্বত। জটিল রহস্যের সব গিঁঠ যখন খুলল, রানা চিনল আসল শত্রুটা কে। পৃথিবীর পঁচাশি ভাগ— অর্থাৎ, সাড়ে পাঁচ শ’ কোটি মানুষের মৃত্যু ঠেকাতে ঝাঁপ দিতে হলো ওকে মৃত্যুর মুখে। রেইভেন্সফিওর্ডের উপকূলে ভয়ঙ্কর ভাইরাস বহনকারী বিমানে উঠেই রানা বুঝল: পড়েছে উত্তপ্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুনে!
কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
বহুদিন পর মাসুদ রানা পড়া। কৈশোরকালে মনে মনে মাসুদ রানা হয়ে দেশ-বিদেশ অনেক ঘুরেছি, বিস্তর প্রেমও করেছি কাল্পনিক লাস্যময়ীদের সাথে! নীল রক্তের মাধ্যমে পুরনো স্মৃতি ঝালাই করা হলো।
মাসুদ রানার অন্যান্য বইয়ের মতো এটাও বিদেশী গল্পের রুপান্তর। প্লট ইন্টারেস্টিং এবং কাহিনী দুর্দান্ত গতিশীল। পারফেক্ট মাইকেল বে' ফিল্ম মানে হলিউডি মাসালা সিনেমার মতো উড়াধুরা একশন, ভিলেনের শয়তানি আর সুন্দ্রী নায়িকা। তবে নায়িকা লাবণী কে যথেষ্ট বাঙালিকিকরণ করা হয়েছে যা ভালো লেগেছে বেশ। ছোটবেলায় পড়লে বোধহয় পাঁচ তারকা ই দিতাম উৎসাহে, তবে এখন আর ফর্মুলা ভিত্তিক গল্প মুগ্ধ করেনা। তবে বাসে,ট্রেনে কিংবা সময় কাটাতে অবশ্যই ওয়ান টাইম রিড দেয়া যায়।
পড়ে ফেললাম অ্যান্ডি ম্যাকডারমট এর দ্য হান্ট ফর আটলান্টিসের মাসুদ রানা ভার্সন 'নীল রক্ত'। ৫৬৮ পৃষ্ঠার বইয়ের বিগ শো মার্কা সাইজ দেখে ভয় পেয়েছিলাম অবশ্য। তবে অ্যাকশন অ্যাডভেঞ্চারের মারপ্যাচে সময় কেটে গেছে ভালভাবেই। সিরিজের আগের কয়েকটা মাসুদ রানা থেকে বেশ ভাল লেগেছে এটা। দুই কাজীসাহেবের কাজ সম্পর্কে কিছু বলার দরকার আছে বলে হয় না। কাজীদ্বয়ের হাতে পড়ে অ্যান্ডিভায়া মাসুদ রানায় খাপেখাপ মিলে গিয়েছেন। বিপ্লবদার অসাধারন প্রচ্ছদ বইটাকে আরও আকর্ষণীয় বানিয়েছে। :) ৪.৮/৫...
বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের এক দুর্দান্ত দুঃসাহসী স্পাই ।যদিও কালের পরিক্রমায়ে রানার স্পাই চরিত্রটিকে এখন আর আগের মতো কাজীদার লেখনীতে দেখা যায় না কিন্তু ও কিন্তু এখনো গোপন মিশন নিয়ে ঘুরে বেড়ায় দেশ-দেশান্তরে । এখনো সেই বিচিত্রই আছে কিন্ত ওর জীবন । আগের মতোই অদ্ভুত রহস্যময় তার গতিবিধি । যার কারণে আজও এসপিওনাজ এর কিংবদন্তি বলে বলা হয় ওকে । যার হাতে নিরাপত্তার ভার দিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারেন আমেরিকার প্রেসিডেন্টও পরম নির্বিঘ্নে।
আটলান্টিস সভ্যতার কথা মনে আছে কি আপনাদের ??? এর আগে
আটলান্টিস হল পৌরাণিক মিথ অনুযায়ী সমুদ্রের অভ্যন্তরে হারিয়ে যাওয়া একটি দ্বীপ। এর প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় খৃষ্টপূর্ব ৩৬০ অব্দের প্লেটোর ডায়ালগ টাইমাউস এন্ড ক্রিটিয়াসে।
নীল রক্তের কাহিনী এই আটলান্টিসকে নিয়েই । কি ভাবছেন ?? আর হ্যা এর আগেও আটলান্টিস নিয়ে রানার আরেকটি এডভেঞ্চার ছিল , ওটা জানতে পড়তে হবে হারানো আটলান্টিস বইটি ।
এই গল্প ডক্টর লাবনী আলম নামের এক আর্কিওলজিস্ট ও তার স্বপ্নের গল্প। তার স্বপ্নের আটলান্টাসের গল্প ।কেননা এই আটলান্টিসের সাথেই জড়িয়ে আছে তার বাবা মার অন্তর্ধানের রহস্য ।
এই গল্প ডেনিয়েলসন ফাউন্ডশেনের একছত্র অধিপতি নরওয়েজিয়ান বিলিয়নেয়ার লোভিস ডেনিয়েলসন ও তার মেয়ের সেসিলি ডেনিয়েলসনের গল্প ।
এই গল্প আমাদের শখের আর্কিওলজিস্ট মাসুদ রানার আরেকটি এডভেঞ্চার উপাখ্যানের গল্প ।
ডোনাটি লুক্কা তার নেতৃত্বে একদল গুপ্ত সংঘ যারা নিজেদের ব্রাদারহুড নামে পরিচয় দিচ্ছে। যেকোনো মুল্যে আটলান্টিস রহস্য গোপন রাখতে মরিয়া ওরা । আর তাইতো ডক্টর লাবনী কে মারতেও দ্বিতীয়বার চিন্তা করেনি ডোনেটি । কিন্তু কপালের লেখন না যায় খন্ডন। যেখানে আসে মাসুদ রানা সেখানে কি লাবনীর মতো বিদূষী, সুন্দরী ও লাজুক মেয়ে কি হাডসন নদীতে ডুবে মরতে পারে । মোটেই না । নারীত্রাণ কর্তা রূপে আবির্ভাব ঘটে এম আর নাইন সাহেবের ।
যদি খালি উদ্ধার করেই কেটে পড়ত তাহলে তো মিটেই যেত ঝামেলা :3 মাসুদ সাহেব তা আর করেন নাই । উদ্ধার করছেন সাথে করে নিয়ে গিয়েছেন রেইভেন্সফিওর্ডে । ঘটনা যদিও ওই পর্যন্তই থাকতো তাহলেও হয়তো হত :/
কিন্তু আমাদের মাসুদ সাহেব তো বিপদ নিয়ে খেলতেই ভালো বাসেন কিনা । তাই বুইড়ার কথায় জড়িয়ে পড়ে নতুন এক এডভেঞ্চারে । রানা , সেসিলি , ডক্টর লাবনী আর রানার ঘনিষ্ঠ বন্ধু জ্যাঁ মউরোস কিংবদন্তীর সেই আটলান্টিসের এক আর্টিফ্যাক্টের খোঁজে ছুটে চলে ইরানে । কুফা লাগার শুরু সেখান থেকেই । জান হাতে নিয়ে পালিয়ে আসে ওরা । ইরান থেকে ফিরেই ব্রাজিল সেখানেই দেখা মেলে সমুদ্রের দেবতা পসেইডানের , যাকে আটলান্টিয়ানরা সাগর দেবতার হিসেবে জানতো ,এর পর ভাগ্য ওদের নিয়ে যায় গালফ ওভ কেডিয এবং শেষে তিব্বতে ।
অবশেষে যখন থলে থেকে যখন কালো বেড়াল বের হল তখন মাথা খারাপ হবার দশা রানার । হবেই বা না কেন এদিকে যে পৃথিবীর পঁচাশিভাগ মানুষের উপ্রে নেমে আসছে নেকলেস ওব ডেথ ।
যেহেতু রানা পুরোপুরি মৌলিক একটা সিরিজ নয় আর তাই এখানে আসলে মুল প্লট সম্বন্ধে তেমন কিছু একটা করাও যায় না । তবে সত্যি বলতে কি বিগত কয়েকটি বইয়ের তুলনায় এই বইটি রানার মান কিছু হলেও উচু করেছে বলে আমার বিশ্বাস। অনেকে বলেন রানা মৌলিক না চুরি করা । তাদের কাছে আমার কোনো প্রমান দেয়ার দরকার নেই রানা আসলে কি ?? তবে কেউ যদি বলে আমি কেন রানা পড়ি ??? কিংবা রানা পড়ার সুবিধা কি???
আচ্ছা রানাতে যে পরিমান বই এডাপ্ট হয়েছে সেই পরিমান অনুবাদ কি কারো পড়া আছে , মনে হয় না । আর আমি রানা এই জন্যই পড়ি । অনেক বিদেশী রাইটারের লেখনীর সাথে পরিচিত হচ্ছি প্রতিদিন এই রানার মাধ্যমে সেই হিসেব কে রাখবে ??? থাক প্রসঙ্গ পাল্টাই ।
আটলান্টিস নিয়ে রানাতে আগেও একটা বই এসেছে নাম ছিল হারানো আটলান্টিস । সেই হিসেবে এই নীল রক্ত ভালোই বলা যায় ।বইটাতে রানাকে আগের মতো হাস্যরসাত্বক হিসেবে পেয়েছি । সাথে পার্টনার হিসেবে জ্যাঁ মাউরোসের হিউমারও সারা বই জুড়ে ছিল বেশ উপভোগ্য । ইদানিং কালের প্রায় বইতেই এই চরিত্রের আগমন দেখতে পাচ্ছি । এঞ্জয় করিনি তা বলবো না তবে ওর জায়গায় ববি মুরল্যান্ড কে দেখতে পেলে হয়তো আরো তৃপ্ত হতাম ।
আটলান্টিস সভ্যতা , সমুদ্র দেবতা পসেইডানের মন্দির , ব্রাদারহুড নামের এক গুপ্ত সংঘ , বায়োক্যামিক্যাল ওয়েপন । প্রাচীন মিথের সাথে বর্তমানের এক অদ্ভুদ যোগসজোশ ।
লাস্ট পর্যন্ত টেনে রাখার মতো যথেষ্ট এলিমেন্ট বিদ্যমান । নীল রক্ত নতুন রানা পড়ুয়াদের কাছে কেমন লাগবে জানিনা ।তবে যারা রানার নিয়মিত পাঠক তারা বেশ উপভোগ করতে পারেন।
রেটিং ৪/৫ ( সবার রেটিং এক না :p আমার রেটিং বা রিভিউ দেখে বই কিনবেন পড়ে আমাকেই পুত করে দিতে চাইবেন তা হবে না :v )
প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে আমেরিকান মার্সেনারির সাথে তুমুল লড়াই, এরপর গাড়িসহ নদীতে ঝাঁপ, এক মেয়েকে উদ্ধার, সেখান থেকে নরওয়ে। এরপর ইরান, এক ব্যবসায়ীর কাছে মূল্যবান জিনিস দেখা, দেখার পরপরই ইরানের আর্মি এসে হাজির! এক সুন্দরীকে কেড়ে নিল ব্যবসায়ী, আরেক সুন্দরীকে কেড়ে নিল নিল আর্মি। দামাল ছেলেগুলো সব গুলি খেয়ে ত্যানাত্যানা হয়ে যাবে।
কিন্তু দামাল ছেলে বলে কথা! ওরা সবাই গুলি গ্রেনেড ফাটিয়ে নরক গুলজার করে অস্থির! আর্মিদের অনুসরণ করল ওরা। তার আগেই দাহ্য পদার্থভর্তি এক ডজন ট্রাক বিস্ফোরণ ধ্রিম ধ্রিম! ট্রেনে উঠেই দামাল ছেলেরা কামাল করে দিল। ওদের নেতৃত্বে মাসুদ রানা। এভাবেই এক মেয়ে উদ্ধার। নরওয়ের মেয়েটাকে উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশের মেয়েটাকে পচা নর্দমায় ঢোকানো হলো!
গ্রিসের ভিলেন ব্রাদারহুড নামের গোপন সংগঠনের মালিক। ব্যাটা কাউকে বাঁচতে দিবে না। লোকজন সব গেল আমাজন। জংলীদের লাথি গুঁতো খেয়ে সবার প্রাণ ওষ্ঠাগত! জলের কুমির ডাঙায় উঠে বলে আম্মু আমার খিদা লাগছে! ওদিকে হেলিকপ্টারের ডানায় দড়ি পেঁচিয়ে সাত ফুটি পালোয়ান খুন! সেখান থেকে ব্রাজিলের পানির নিচে! সমানে জাহাজ বিস্ফোরিত হচ্ছে ধ্রিম ধ্রিম! প্লেন উড়ছে, উড়োজাহাজের ভিতর আবার মোটরটরসাইকেল চলছে!
ছবির নায়ক মাসুদ রানা, বিগ বাজেট মুভির শুটিং এফডিসিতে না হয়ে হচ্ছে সারা দুনিয়ায়!
তাহলে আর দেরি কেন? পপকর্ন সাথে নীল রক্ত নিয়ে বসে পড়ুন!