Shahed Ali (Bengali: শাহেদ আলী) was one of the leading short story writers of Bangladesh and is considered to be one of the literary giants of his time in the realm of Bengali literature. He was also an educator, a progressive Islamic thinker, a journalist, editor of multiple magazines and one of the founders of the Islamic Organization named "Tamaddun Mazlish." He is most famous for his short story "Jibrailer Dana" (Gabriel's wings) which has been translated in English by his daughter, novelist Dilruba Zeenat Ara.
Awards......... Bangla Academy Award (1964) Ekushe Padak (1989) Tamgha I Imtiaz (1969) Language movement Award (1981) Nasiruddin Gold medal (1985) Islamic Foundation Award (1986) Jallalabad Club Award (1988) Jallalabad Club Forum February 21 and independence award (1990) Bangladesh National student award (England) (1991) Bangladesh Islamic School (Dubai) literature award (1992) Poet Forrukah Memorial Award (1997) Ragib Rabeya Shitta award (1998)
একেবারেই খাঁটি। মাটিঘেঁষা শাহেদ আলী কিছু আরোপের চেষ্টা করেন নি, না কাহিনিতে, না ভাষায়। আফসোস, বাংলা একাডেমিতে কাজ না করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে কাজ করায় তাঁর মূল্যায়ন হুজুগে বাঙালি করতে পারে নি। এত শক্তিশালী নারী চরিত্র! আর ধর্মান্ধতার বিপরীতে এতটা কঠোর আদর্শ! শাহেদ আলীর মতন লেখক কি আজো পাওয়া যাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে? বা নিদেনপক্ষে গোটা বাংলাদেশের ইসলাম-মনা মানুষের মাঝে?
মোট সাত টি গল্প নিয়ে লেখক শাহেদ আলীর এই গল্প গ্রন্থ "জিবরাইলের ডানা"।
গ্রাম বাংলার জীবনযাত্রা যতোটা প্রবল ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন ঠিক ততোটাই তুলে এনেছের ধর্মান্ধতার চিত্র। মাটির কাছাকাছি বসবাস করা মানুষ তাদের অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতা র পাশাপাশি শিক্ষা ও চিকিৎসার যে অভাব তা এই সময়ে দাঁড়িয়ে অনুভব করা সম্ভব না হলেও লেখকের লেখায় তা জীবন্ত হয়ে ধরা দিয়েছে। প্রতিটি গল্প বিষয় বৈচিত্র্য ও চারিত্রিক কাঠামো আলাদা হলেও প্রায় সব গল্পেই ধর্মীয় দিক উঠে এসেছে। ধর্মান্ধতা ও কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে একটা সুষ্ঠ সুন্দর আদর্শ সমাজ ব্যবস্থার চিত্র লেখক এঁকেছিলেন।
বাংলা সাহিত্যে আমাদের বাংলাদেশের লেখকদের বেশ কিছু বই হারিয়ে যেতে যেতেও এখনও হারিয়ে যায়নি--এই বইটা তার মধ্যে একটা। দারুণ কিছু গল্প নিয়ে " জিবরাইলের ডানা"।
ভোর ৫.৪৫, গ্রামের বাজারে দাঁড়িয়ে আছি। দোকানপাট সব বন্ধ। একটা সুন্দর বাতাস বইছে। সকালের এই স্নিগ্ধ বাতাসে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি ৩০টা প্লাস্টিকের চেয়ার, ৩টা ফ্যান, আর একটা মাইকের জন্য। মাইকিং করা হবে ছোট চাচার মৃত্যুসংবাদ। পায়ের কাছে ঘুরঘুর করছে হাজারখানেক চড়ুই, তিনটি ছাগল। বুঝতে পারছিনা দৃশ্যটা অলৌকিক সুন্দরের, নাকি মন খারাপের। ঢাকায় থাকি বলে চেহারা-আবরকের জৌলুস দেখে, ভ্যানে চড়ে যেতে যেতে দু চারটি সালাম উড়ে আসে। অবাক হয়ে মাথা নাড়ি। ভালো লাগতে লাগতে লাগেনা। গ্রামের মানুষ তো অতও সরল নয়।
বিনা নোটিশে উড়ে এসেছিলাম ঢাকা থেকে, ব্যাগের ভেতর ছিল আধখোলা একটা পার্সেল। পার্সেলের ভেতর বই, বইয়ের নাম 'জিবরাইলের ডানা'। অনেক খুঁজে বের করা শাহেদ আলীর বই। কিন্তু আজরাইলের কার্যকলাপের ভেতর বসে জিবরাইলের ডানা নিয়ে চিন্তা করতে ইচ্ছা করছিলনা। তবুও তিনদিন পর কিভাবে কিভাবে যেন একটা গল্প পড়া হয়ে গেল। গল্পের নাম 'নানীর ইন্তেকাল'। গল্পটা পড়ে আমি স্তম্ভিত হয়ে যাই। কিন্তু তবুও বাকি বইটা আমার আর পড়া হয়ে ওঠেনা। আক্ষরিক অর্থেই বাকিটা পড়া হয় আমার নানীর ইন্তেকালের কোন একপক্ষ সময়কাল পর।
সাতটি গল্প। যার মাঝে 'জিবরাইলের ডানা' গল্পটি খুব সম্ভবতঃ আমারক পঠিত শ্রেষ্ঠতম ছোটগল্পের একটা হয়ে থাকবে বাকি জীবন। বাকি গল্পগুলোর মাঝে 'ফসল তোলার কাহিনী', 'নানীর ইন্তেকাল', 'আতশী' গল্পগুলোও খুব ভালো লেগেছে। শাহেদ আলী বাংলা সাহিত্যের একজন বিস্মৃতপ্রায় লেখক। গ্রামবাংলার মানুষের চরিত্রের এতটা কাছে যেতে পেরেছেন খুব কম লেখকই। কিন্তু শাহেদ আলীর লেখা এবং শব্দের ব্যবহার প্রথমেই আপনাকে হাত তুলে থামাবে। লেখায় প্রচুর আরবি-ফারসি-উর্দু ভাষার ছড়াছড়ি। লোহু, আজল, নসিহৎ, কুশিশ, কেতাব, বিমার-আযারী, কমবখত...ইত্যাদি নানান শব্দ আর বইয়ের শিরোনাম আপনাকে জানান দেবে আপনি একটি ইসলাম-মনা লেখকের ছোটগল্পের বই পড়ছেন। সিলেক্টিভ লিবারেলরা তখন নাক কুঁচকে আর বইটি পড়বেন না। রেখে দিবেন। এখানেই আমার ধারণা তাতে অনেক বড় মিস করবেন।
কারণ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সচিব অধ্যাপক শাহেদ আলী ইসলামিক চিন্তাবিদ হলেও, মাটি ঘেষা প্রান্তিক মানুষদের গল্প যেভাবে বলেছেন, যেই সাইকোলজি সামনে এনেছেন, শক্তিমান সাহিত্যিক ছাড়া এমন লেখা পাওয়া বিরল। তাঁর আরেকটি বড় পরিচয়-তিনি একজন ভাষাসৈনিক। গল্পে আরবি ফারসি উর্দু শব্দের যত প্রভাবই থাকুক, তিনি বেছে নিয়েছেন বাংলা ভাষাকেই। 'তমুদ্দিন মজলিস'-এর নাম শুনেছেন তো? তিনি ছিলেন তার সাধারন সম্পাদক।
১৯৫৩ সালে প্রথম প্রকাশিত এই বইতে সবচাইতে আশ্চর্যের ব্যাপার এর নারী চরিত্রগুলো। গল্পগুলোতে কোনো রাখঢাক নেই- ধর্মান্ধতা, নির্যাতন, পুরুষতান্ত্রিকতা, অবিচার নিয়ে কোনো রঙচরানো হয়নি, গল্প যতটাই বর্ণণামাধুর্যে মন্ডিত থাকুক। গল্পে পুরুষের হাতে পিড়িত হচ্ছে প্রতিটি নারী চরিত্র, কিন্ত কি অদম্য মনোবল! 'আতশী' গল্পের নির্যাতিতা মালেকা চরিত্রটিকে মনে হয় কোনো এ পুরাণ থেকে উঠে আসা কোনো দেবী বা মার্গারেট অ্যাটউডে'র কোনো চরিত্র।
হয়তো সকলের সমান ভালো লাগবেনা, কিন্তু নিঃসন্দেহে আলোচনার যোগ্য এই বইটি।