বিমল কর লিখিত রহস্য উপন্যাস হলেও এটি কিকিরা কাহিনি নয়। এই কাহিনির গোয়েন্দা নায়কটির নাম হল ভিক্টর ঘোষ। কিকিরার মতোন ভিক্টরের কোন স্পেশাল ট্যালেন্ট নেই। ভিক্টর নেহাতই এক সাধারণ প্রাইভেট এজেন্সী চালানো গোয়েন্দা।
ভিক্টরের কাছে এক কেস আসে, এক হারানো ডায়েরি খুঁজে বের করার কেস। সেই ডায়েরি এক সাহেবের। ডায়েরিতে আছে অনাবিষ্কৃত এক নতুন নীল বামন প্রজাতি মানুষের হদিশ। সেই হদিশ পেলে যে কেউ রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যাবে। ভিক্টরের কাজ হারানো ডায়েরি তথা ডায়েরিতে বর্ণিত নীল বামনের পেছনে ধাওয়া করা।
প্লটটা গোড়ার দিকে বেশ ভালোভাবেই শুরু হয়েছিল। একটা অজানা, কী হতে পারে তার বিন্দুমাত্র আইডিয়া না থাকা একটা প্লট। কিন্তু গল্প যত এগিয়েছে সবকিছু একেবারেই ধ্বসে ধ হয়ে গেছে।
প্রথমত, গোয়েন্দা ভিক্টর কিছু কিছু সময়ে একেবারেই মোটা বুদ্ধির। একটা অভিয়াস ব্যাপার সেটাও গোয়েন্দা একটা পার্শ্বচরিত্রকে জিজ্ঞেস করছে। এক জায়গায় সেই পার্শ্বচরিত্রকেই গোয়েন্দা হয়ে যেতে ভিক্টর সাজেস্ট করছে, এমনই সেই পার্শ্বচরিত্রটির বুদ্ধির বহর! মূল গোয়েন্দা চরিত্রকে এইভাবে ওভারশ্যাডো করা কোনভাবেই ভালো লাগার মতোন নয়। তারপর সব ক্লু-ই সব জায়গায় মুখ বাড়িয়ে বসে আছে কখন তদন্তকারীরা আসবে সেই অপেক্ষায়। কোন টুইস্ট নেই, কোন অসাধারণ বুদ্ধিপ্রয়োগ নেই।
এক জায়গায় একটি শব্দ সংকেত ব্রেক করার সময়ে লেখক চূড়ান্ত আলসেমির পরিচয় দিয়েছেন। সংকেতটা পুরো লিখে তারপর সেটা ব্রেক করার প্রয়োজন মনে করেননি লেখক। গোয়েন্দা শুধু ডাইরেক্ট সমাধানটাই বলছে। মানে এমন উত্তর যার প্রশ্নটাই বলা হল না! কতটা পরিশ্রম বাঁচাতে এমন লেখে মানুষ জানি না।
শেষে আসল রহস্যটাও ভেদ হল না। "কী আর হবে এসব সলভ করে? এসব তো অনর্থক পরিশ্রম!" - এরকম বলে গোয়েন্দামশাই হাল ছেড়ে দিলেন। গল্প শেষ।
এই কাহিনির রচয়িতা বিমল কর ভাবতেও খারাপ লাগে। মানে লিখতে হবেই আপনাকে বলে প্রকাশক বেত নিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থেকে বোধহয় এরকম লেখা বার করে নিয়ে আসে লেখকদের থেকে।
গোড়ার দিকটা কিছুটা ভালো লাগার জন্যই তিন তারা দিলাম। বাকিটুকুর বিচার করলে সেটা মাইনাস তিন হওয়া উচিৎ। পড়ার মতোন না।